<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0" xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/" xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/">
	<channel>
		<title><![CDATA[Forums.Likebd.Com - ভালোবাসার গল্প]]></title>
		<link>http://forums.likebd.com/</link>
		<description><![CDATA[Forums.Likebd.Com - http://forums.likebd.com]]></description>
		<pubDate>Wed, 28 Oct 2026 11:17:29 +0000</pubDate>
		<generator>MyBB</generator>
		<item>
			<title><![CDATA[একটা গল্প হতে পারত]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=3286</link>
			<pubDate>Tue, 02 Jan 2018 09:39:46 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=839">Abir</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=3286</guid>
			<description><![CDATA['একটা গল্প হতে পারত'<br />
প্রেক্ষাপট শীতের রাত, ৯টার মত বাজে। বাইরে<br />
প্রচুর কুয়াশা।রাস্তায় মানুষজনের উপস্থিতি একদম-ই<br />
নেই। এমনি এক রাতে জনৈক বন্ধুর ফোন।<br />
রিসিভ করেই<br />
-দোস্ত কই তুই?<br />
-বাসায়, কেন?<br />
-দোস্ত বিশাল সমস্যা<br />
-কি সমস্যা?<br />
-ফোনে বলা যাবে না<br />
-তো ফোন দিয়েছিস কেন?<br />
-আরে তুই নিচে নাম। তোর বাসার নিচে দাড়ায়<br />
আছি।<br />
-এত রাতে কি করিস?<br />
-আরে নাম না! বিশাল সমস্যা দোস্ত।<br />
বন্ধুর বিশাল সমস্যার সংক্ষিপ্ত ভয়াবহতার আচ<br />
পেয়ে বাসার নিচে নামলাম। বন্ধুকে দেখেই প্রথমে<br />
শক খাবার মত অবস্থা হল। যে ছেলে সামান্য পাশের<br />
বাসায় গেলে ফেইস ওয়াশ দিয়ে দু'বার মুখ ধুয়ে,<br />
ইস্ত্রি করা জামাকাপড় পড়ে বের হয় সে ছেলে<br />
আজ জরাগ্রস্থ। ইস্ত্রি করা জামাকাপড় দূরে থাক,<br />
শীতের রাতে নিজেকে কোনরকম বস্ত্রাবৃত করে<br />
এসেছে । বুঝলাম সমস্যা সিরিয়াস।<br />
জিজ্ঞাসা করলাম কি হয়েছে?<br />
সে আহত গলায় বলল, 'রাগ করেছে!'<br />
-তোর গার্ল-ফ্রেন্ড?<br />
-তাছাড়া আর কে করবে?<br />
-কি বলেছে সে?<br />
-আর যোগাযোগ রাখবে না।<br />
-কেন?<br />
-আমি মজা করেই বলেছিলাম তোমাকে আর<br />
ভালবাসি না<br />
-ও আচ্ছা<br />
-ও আচ্ছা মানে? সমস্যার সমাধান কি?<br />
-বাসার সামনে গিয়ে কান ধরে উঠবস করবি দু'বার।<br />
দেখবি সব ঠিকঠাক<br />
-ওই কি কস? ছিঃ ছিঃ<br />
-যা, বাড়ি যা তাহলে<br />
-ও দোস্ত এমন করিস ক্যান? করব উঠবস।<br />
-হুম, যা এখন বাড়ি যা<br />
-কি বলিস দোস্ত? এখন-ই চল। কান ধরব!<br />
-ওই এত রাতে! কি বলিস? সম্ভব না। কালকে!<br />
জনৈক বন্ধু কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, 'প্লিজ চল না<br />
আজকেই যাই। কাল গেলে দেরী হয়ে যাবে। চল না<br />
দোস্ত!'<br />
বুঝলাম কান না ধরলে ছেলের ঘুম হবে না রাতে।<br />
অগত্যা যেতেই হল অত রাতে।<br />
শীতের রাত , চারিদিকে ঘন কুয়াশা বৃষ্টির মত<br />
পড়ছে। কুয়াশায় আবৃত একটা শহর। আমরা দাঁড়িয়ে<br />
আছি আমার বন্ধুর গার্ল-ফ্রেন্ডের একদম বাসার<br />
সামনে। চারতলা বাসার দু'তলায় তারা থাকে।দুতলার<br />
বারান্দা থেকে রাস্তার পথচারীদের স্পষ্ট দেখতে<br />
পাওয়া যায়।<br />
তাকে বারবার ফোন দেওয়া হচ্ছে, সে রিসিভ করছে<br />
না। ফোনের ডিসপ্লেতে পুনঃপুন ভেসে ওঠা 'no<br />
answer' দেখে আমার মেজাজও কুয়াশাময় হতে লাগল।<br />
অবশেষে ছত্রিশবার রিং হবার পর বালিকা ফোন<br />
ধরল। ধরেই ধমকের সুরে বলল 'কি ব্যাপার? ফোন<br />
দিয়েছ কেন? তোমাকে না ফোন দিতে নিষেধ<br />
করেছি।'<br />
বলেই ফোনটা কেটে দিল। এদিকে আমার বন্ধুর<br />
অবস্থা শোচনীয় পর্যায় অনেক আগেই পার করে<br />
ফেলে এখন বিপদসীমায় এসে ঠেকেছে।<br />
মেয়েকে আবার ফোন লাগানো হল। চতুর্থবারে সে<br />
ফোন রিসিভ করল। আমার বন্ধু কাঁদোকাঁদো গলায়<br />
বলল, 'একটু বারান্দায় আসো না?'<br />
তার এতটা মায়াময় কন্ঠ আগে কখনো শুনি নি। ইচ্ছে<br />
করছিল নিজেই বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াই।<br />
অতঃপর জগতের অন্যান্য মেয়েদের মতই রাগ<br />
অভিমান পর্ব হাল্কা করে মেয়ে বারান্দায় এসে<br />
দাঁড়াল। বারান্দায় এসেই বড়সড় ধাক্কা খেল। তার<br />
বাসার নিচে দাঁড়িয়ে দুটো মানুষ সাইজের গরু।<br />
যাদের খেয়েদেয়ে কাজ করার মত কিছু নেই জন্য এই<br />
হাড় কাঁপানো শীতে বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। বন্ধুকে<br />
ইশারা করলাম। সে কান ধরল, ফোন কানে লাগানোই<br />
ছিল। কান ধরে ওঠাবসা করতে করতে বলল, 'তুমি<br />
ক্ষমা না করলে আমি এরকম ওঠাবসা করতেই থাকব।'<br />
মেয়ের বুঝতে কিছুটা সময় লাগল, কি চলছে। তারপর<br />
ফিক করে হেসে দিল। এরপর হাসতে হাসতে গড়াগড়ি<br />
খাবার মত অবস্থা। জগতের অন্যান্য প্রেমিকার মতই<br />
সেও প্রেমিকের কাছে নিজেকে সমর্পণ করল।<br />
আমি পকেটে হাত দিলাম। ফোনটা বের করলাম।<br />
নাহ! ফোন বা মেসেজ কিছুই নেই। কিছু মানুষ আশায়<br />
বুক বেধে থাকে, জানে পূরণ হবে না সেগুলো। তবুও<br />
হঠাত করে অসম্ভব কিছু একটা ঘটে যাবে এই আশায়<br />
থাকে। ইনবক্সের শেষ মেসেজটা চেক করলাম। একদা<br />
কেউ দিয়েছিল, 'তোমার সাথে আমার মিলছে না<br />
তপু। এডজাজটমেন্ট আর ভালবাসা এক না। তুমি<br />
তোমার মত কাউকে খুঁজে নিও। নিজের খেয়াল<br />
রেখো। ভালো থেকো তপু।'<br />
ভালো থাকা ব্যাপারটা খুব অদ্ভুত। কাউকে ভাল<br />
থাকতে বলার অর্থ সে জীবন থেকে চলে যাচ্ছে।<br />
কিছু স্মৃতি রেখে যাচ্ছে। রাত শেষে সেই<br />
স্মৃতিগুলো ঘুম কেড়ে নিবে। 'ভালো থেকো' এই<br />
ছোট্ট কথায় অনেক বড় সত্য লুকিয়ে আছে। ওপাশের<br />
মানুষটা আর কখনো খোজ নিবে না। রাতে বাসার<br />
বাইরে থাকলে অস্থির হবে না। সে একটা কথার<br />
মাধ্যমেই অনেক দূরে চলে গেছে, অনেকটাই দূরে।<br />
বারান্দায় দাঁড়িয়ে মেধা। সে হাসছে। কান ধরে<br />
দাঁড়িয়ে নিলয়। সে বোকা বোকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে<br />
আছে। পাশে দাঁড়িয়ে আমি যার বাম পাশে বিশাল<br />
শূন্যতা সৃষ্টিকারী মানুষটা একবার কান ধরার<br />
অভাবেই চলে গেছে। হয়ত সে আজ একটা মেসেজ<br />
দিত, 'এত রাতে বাইরে কি কর? বাসায় যাও।'<br />
কুয়াশায় আবৃত একটা শহর। ঘুমিয়ে অধিকাংশ<br />
নগরবাসী। ল্যাম্পপোস্ট-এর মৃদু আলোয় একটা অস্পষ্ট<br />
অবয়ব ভেসে ওঠে। সে কান ধরে দাঁড়িয়ে আছে....<br />
.<br />
------সাকিব রাদ<br />
post: হেমন্তে বর্ষায় আমি]]></description>
			<content:encoded><![CDATA['একটা গল্প হতে পারত'<br />
প্রেক্ষাপট শীতের রাত, ৯টার মত বাজে। বাইরে<br />
প্রচুর কুয়াশা।রাস্তায় মানুষজনের উপস্থিতি একদম-ই<br />
নেই। এমনি এক রাতে জনৈক বন্ধুর ফোন।<br />
রিসিভ করেই<br />
-দোস্ত কই তুই?<br />
-বাসায়, কেন?<br />
-দোস্ত বিশাল সমস্যা<br />
-কি সমস্যা?<br />
-ফোনে বলা যাবে না<br />
-তো ফোন দিয়েছিস কেন?<br />
-আরে তুই নিচে নাম। তোর বাসার নিচে দাড়ায়<br />
আছি।<br />
-এত রাতে কি করিস?<br />
-আরে নাম না! বিশাল সমস্যা দোস্ত।<br />
বন্ধুর বিশাল সমস্যার সংক্ষিপ্ত ভয়াবহতার আচ<br />
পেয়ে বাসার নিচে নামলাম। বন্ধুকে দেখেই প্রথমে<br />
শক খাবার মত অবস্থা হল। যে ছেলে সামান্য পাশের<br />
বাসায় গেলে ফেইস ওয়াশ দিয়ে দু'বার মুখ ধুয়ে,<br />
ইস্ত্রি করা জামাকাপড় পড়ে বের হয় সে ছেলে<br />
আজ জরাগ্রস্থ। ইস্ত্রি করা জামাকাপড় দূরে থাক,<br />
শীতের রাতে নিজেকে কোনরকম বস্ত্রাবৃত করে<br />
এসেছে । বুঝলাম সমস্যা সিরিয়াস।<br />
জিজ্ঞাসা করলাম কি হয়েছে?<br />
সে আহত গলায় বলল, 'রাগ করেছে!'<br />
-তোর গার্ল-ফ্রেন্ড?<br />
-তাছাড়া আর কে করবে?<br />
-কি বলেছে সে?<br />
-আর যোগাযোগ রাখবে না।<br />
-কেন?<br />
-আমি মজা করেই বলেছিলাম তোমাকে আর<br />
ভালবাসি না<br />
-ও আচ্ছা<br />
-ও আচ্ছা মানে? সমস্যার সমাধান কি?<br />
-বাসার সামনে গিয়ে কান ধরে উঠবস করবি দু'বার।<br />
দেখবি সব ঠিকঠাক<br />
-ওই কি কস? ছিঃ ছিঃ<br />
-যা, বাড়ি যা তাহলে<br />
-ও দোস্ত এমন করিস ক্যান? করব উঠবস।<br />
-হুম, যা এখন বাড়ি যা<br />
-কি বলিস দোস্ত? এখন-ই চল। কান ধরব!<br />
-ওই এত রাতে! কি বলিস? সম্ভব না। কালকে!<br />
জনৈক বন্ধু কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, 'প্লিজ চল না<br />
আজকেই যাই। কাল গেলে দেরী হয়ে যাবে। চল না<br />
দোস্ত!'<br />
বুঝলাম কান না ধরলে ছেলের ঘুম হবে না রাতে।<br />
অগত্যা যেতেই হল অত রাতে।<br />
শীতের রাত , চারিদিকে ঘন কুয়াশা বৃষ্টির মত<br />
পড়ছে। কুয়াশায় আবৃত একটা শহর। আমরা দাঁড়িয়ে<br />
আছি আমার বন্ধুর গার্ল-ফ্রেন্ডের একদম বাসার<br />
সামনে। চারতলা বাসার দু'তলায় তারা থাকে।দুতলার<br />
বারান্দা থেকে রাস্তার পথচারীদের স্পষ্ট দেখতে<br />
পাওয়া যায়।<br />
তাকে বারবার ফোন দেওয়া হচ্ছে, সে রিসিভ করছে<br />
না। ফোনের ডিসপ্লেতে পুনঃপুন ভেসে ওঠা 'no<br />
answer' দেখে আমার মেজাজও কুয়াশাময় হতে লাগল।<br />
অবশেষে ছত্রিশবার রিং হবার পর বালিকা ফোন<br />
ধরল। ধরেই ধমকের সুরে বলল 'কি ব্যাপার? ফোন<br />
দিয়েছ কেন? তোমাকে না ফোন দিতে নিষেধ<br />
করেছি।'<br />
বলেই ফোনটা কেটে দিল। এদিকে আমার বন্ধুর<br />
অবস্থা শোচনীয় পর্যায় অনেক আগেই পার করে<br />
ফেলে এখন বিপদসীমায় এসে ঠেকেছে।<br />
মেয়েকে আবার ফোন লাগানো হল। চতুর্থবারে সে<br />
ফোন রিসিভ করল। আমার বন্ধু কাঁদোকাঁদো গলায়<br />
বলল, 'একটু বারান্দায় আসো না?'<br />
তার এতটা মায়াময় কন্ঠ আগে কখনো শুনি নি। ইচ্ছে<br />
করছিল নিজেই বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াই।<br />
অতঃপর জগতের অন্যান্য মেয়েদের মতই রাগ<br />
অভিমান পর্ব হাল্কা করে মেয়ে বারান্দায় এসে<br />
দাঁড়াল। বারান্দায় এসেই বড়সড় ধাক্কা খেল। তার<br />
বাসার নিচে দাঁড়িয়ে দুটো মানুষ সাইজের গরু।<br />
যাদের খেয়েদেয়ে কাজ করার মত কিছু নেই জন্য এই<br />
হাড় কাঁপানো শীতে বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। বন্ধুকে<br />
ইশারা করলাম। সে কান ধরল, ফোন কানে লাগানোই<br />
ছিল। কান ধরে ওঠাবসা করতে করতে বলল, 'তুমি<br />
ক্ষমা না করলে আমি এরকম ওঠাবসা করতেই থাকব।'<br />
মেয়ের বুঝতে কিছুটা সময় লাগল, কি চলছে। তারপর<br />
ফিক করে হেসে দিল। এরপর হাসতে হাসতে গড়াগড়ি<br />
খাবার মত অবস্থা। জগতের অন্যান্য প্রেমিকার মতই<br />
সেও প্রেমিকের কাছে নিজেকে সমর্পণ করল।<br />
আমি পকেটে হাত দিলাম। ফোনটা বের করলাম।<br />
নাহ! ফোন বা মেসেজ কিছুই নেই। কিছু মানুষ আশায়<br />
বুক বেধে থাকে, জানে পূরণ হবে না সেগুলো। তবুও<br />
হঠাত করে অসম্ভব কিছু একটা ঘটে যাবে এই আশায়<br />
থাকে। ইনবক্সের শেষ মেসেজটা চেক করলাম। একদা<br />
কেউ দিয়েছিল, 'তোমার সাথে আমার মিলছে না<br />
তপু। এডজাজটমেন্ট আর ভালবাসা এক না। তুমি<br />
তোমার মত কাউকে খুঁজে নিও। নিজের খেয়াল<br />
রেখো। ভালো থেকো তপু।'<br />
ভালো থাকা ব্যাপারটা খুব অদ্ভুত। কাউকে ভাল<br />
থাকতে বলার অর্থ সে জীবন থেকে চলে যাচ্ছে।<br />
কিছু স্মৃতি রেখে যাচ্ছে। রাত শেষে সেই<br />
স্মৃতিগুলো ঘুম কেড়ে নিবে। 'ভালো থেকো' এই<br />
ছোট্ট কথায় অনেক বড় সত্য লুকিয়ে আছে। ওপাশের<br />
মানুষটা আর কখনো খোজ নিবে না। রাতে বাসার<br />
বাইরে থাকলে অস্থির হবে না। সে একটা কথার<br />
মাধ্যমেই অনেক দূরে চলে গেছে, অনেকটাই দূরে।<br />
বারান্দায় দাঁড়িয়ে মেধা। সে হাসছে। কান ধরে<br />
দাঁড়িয়ে নিলয়। সে বোকা বোকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে<br />
আছে। পাশে দাঁড়িয়ে আমি যার বাম পাশে বিশাল<br />
শূন্যতা সৃষ্টিকারী মানুষটা একবার কান ধরার<br />
অভাবেই চলে গেছে। হয়ত সে আজ একটা মেসেজ<br />
দিত, 'এত রাতে বাইরে কি কর? বাসায় যাও।'<br />
কুয়াশায় আবৃত একটা শহর। ঘুমিয়ে অধিকাংশ<br />
নগরবাসী। ল্যাম্পপোস্ট-এর মৃদু আলোয় একটা অস্পষ্ট<br />
অবয়ব ভেসে ওঠে। সে কান ধরে দাঁড়িয়ে আছে....<br />
.<br />
------সাকিব রাদ<br />
post: হেমন্তে বর্ষায় আমি]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[তাসনিম লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছে ছেলেটাকে]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=3285</link>
			<pubDate>Tue, 02 Jan 2018 09:36:00 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=839">Abir</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=3285</guid>
			<description><![CDATA[তাসনিম লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছে ছেলেটাকে।<br />
বলা চলে ছেলেটার পেছন পাশটা। আরো স্পষ্ট<br />
করে বললে বলতে হয় ছেলেটার চুলগুলো। বাসের<br />
জানালা দিয়ে ঢোকা সকালের স্নিগ্ধ<br />
বাতাসে তাসনিমের নিজের চুলগুলোই উড়ছে।<br />
চোখের উপর বারবার চুল পড়ায় রীতিমত বিরক্ত<br />
হচ্ছে সে। তবুও ছেলেটার চুলে চোখ পড়তেই বিরক্ত<br />
উধাও হয়ে যাচ্ছে। ব্যপারটা তাসনিমের<br />
ভালো লাগছে। "উফ"<br />
বাড়ী থেকে আজ সকালে ফোন এসেছিলো।<br />
জরুরী তলবে ডাকা হয়েছে তাকে। কারনটা স্পষ্ট<br />
করে বলা না হলেও ৩ বছরের ছোট<br />
ভাগ্নী সামিয়াকে ফোন<br />
করে কারনটা জানতে পেরেছে তাসনিম। আজ<br />
রাত্রে ছেলেপক্ষ তাকে দেখতে আসবে।<br />
হঠাৎ ঝাঁকি খেয়ে বাসটা থেমে যায়।<br />
জানতে পারে বাসের চাকা পাংচার। সারতে একটু<br />
সময় নেবে। খুব বিরক্ত লাগে তাসনিমের।<br />
এইতো আর মিনিট বিশেক পরেই সিরাজগঞ্জ।<br />
প্রায় সবাই নেমে গেছে বাস থেকে। ভীড়ের<br />
মাঝে সেই অদ্ভুত সুন্দর চুলের<br />
অধিকারী ছেলেটাকেও দেখা যাচ্ছে। উচ্চতায়<br />
পাঁচ ফুট নয় হবে। খারাপ না।<br />
মনে মনে ভাবলো তাসনিম।<br />
একা বাসে বসে থাকতে মোটেও<br />
ভালো লাগছে না তাসনিমের।<br />
কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না ।<br />
কিছুক্ষণ পরই ছেলেটাকে বাসের<br />
দিকে আসতে দেখলো সে। ছেলেটা বাসে উঠার<br />
সময় প্রথমবারের মত স্পস্টভাবে সামন<br />
থেকে তাকে দেখলো তাসনিম। কেমন জানি এক<br />
অদ্ভুত মুগ্ধটা পেয়ে বসলো তাসনিমকে।<br />
অবাক হয়ে ছেলেটাকে দেখছে তাসনিম। চোখ<br />
দুটি এত সুন্দর কেনো। নিজেকেই প্রশ্ন<br />
করলো তাসনিম। ওর ইচ্ছে করছে মায়াকারা ওই<br />
গভীর চোখ দুটিতে ডুব দিতে।<br />
তাসনিমকে অবাক করে দিয়ে তার দিকে চেয়েই<br />
হাসছে ছেলেটা। অপ্রস্তুত হয়ে গেলো তাসনিম।<br />
চোখ নামিয়ে নিলো।<br />
ছেলেটা হঠাৎ তাসনিমকে উদ্দেশ্য<br />
করে জিজ্ঞাসা করে উঠলো, 'আর খানিকটা মাত্র<br />
পথ। তার মধ্যে একি ঝামেলা বলুন তো ?'<br />
তাসনিম হঠাৎ এই প্রশ্ন শুনে হকচকিয়ে গেছে।<br />
ছেলেটার কন্ঠস্বর এত চমৎকার, এত সুন্দর.......!!<br />
কি জবাব দেবে ভেবে পেলো না তাসনিম। তার<br />
সর্দি লেগেছে। যে বাজে শোনাচ্ছে কন্ঠস্বর। এমন<br />
অমৃতসম কন্ঠের সামনে তার কথা বলতেও<br />
লজ্জা লাগছে। শুধু মিষ্টি করে একটু<br />
হেসে মাথা নামিয়ে ফেললো সে।<br />
ছেলেটা একটু হেসে আবার বললো,<br />
'চুলটা বেঁধে আসলেই পারতেন।'<br />
খানিকটা লজ্জা পেয়ে আবার শুধু<br />
মিষ্টি করে হেসে দিলো তাসনিম।<br />
না হেসে উপায়ও নেই। মুখে তো কথা নেই ।<br />
সর্দি যা লেগছে। বারবার টিস্যুর স্মরনাপন্ন<br />
হতে হচ্ছে তাকে।<br />
এর মধ্যে বাসের লোকজন আসতে লাগলো।<br />
বেশি সময় লাগেনি বাস ঠিক করতে। বাস<br />
আবারো চলা শুরু করলো। আবারো সেই বাতাস।<br />
কিন্তু কেনো যেনো তাসনিম আর<br />
তাকাতে পারছিলো না ছেলেটার সুন্দর চুলের<br />
দিকে। বারবার হাত দিয়ে নিজের চুলগুলোই ঠিক<br />
করতে লাগলো সে। মনে মনে ভাবলো সত্যিই<br />
তো তাড়াহুড়ায় চুল বাঁধা হয়নি। কি রকম<br />
বাজে দেখাচ্ছে এলোমেলো চুল কে জানে।<br />
বাস থামলে তাসনিম<br />
কোনোদিকে না তাকিয়ে সোজা নেমে গেলো।<br />
রিক্সা নিয়ে বাসায় পৌছাতে পৌছাতে দুপুর<br />
পেরিয়ে গেল। বাড়িতে পৌঁছানোর সাথে সাথেই<br />
তার কাছে সামিয়া দৌঁড়ে এলো।<br />
সম্পর্কে খালা ভাগ্নি হলেও বান্ধবির মতই ওদের<br />
সম্পর্ক টা।<br />
'জানিস আজ বাস এ এতো সুন্দর<br />
একটা ছেলে দেখেছি,চুলগুলো কি যে সুন্দর '<br />
একে একে পুরো কাহিনি বলল ও সামিয়া কে।<br />
সব<br />
শুনে সামিয়া হাসতে হাসতে গড়াগড়ি দিতে লাগল।<br />
এতো হাসছে কেন মেয়েটা ভেবে পেল<br />
না তাসনিম।<br />
'পাগলের মতো হাসছিস কেন?'<br />
'ওমা হাসব না। খালামনি আমার এই প্রথম ক্রাশ<br />
খেয়েছে। খেল তো খেল সেদিন যেদিন<br />
তাকে পাত্র দেখতে আসবে।হিহিহি।'<br />
চমকে উঠল যেন তাসনিম।সত্যি তো।ছেলেটার<br />
কথা এতোই ভাবছিল যে ভুলেই গিয়েছিল কেন<br />
সে আজ বাড়ি এসেছে।<br />
মনে পড়তেই নিজের ওপর রাগ লাগতে শুরু করল তার।<br />
কেন সে বারবার ছেলেটার কথা ভাবছে।জোর<br />
করে দুর করে দিল ছেলেটার মুখ।<br />
----<br />
সন্ধার কিছু আগে পাত্র পক্ষ এলো।কিছুক্ষণ পর<br />
তাসনিম এর ডাক পড়ল নিচে।<br />
সামিয়া তাকে হাল্কা করে সাজিয়ে দিয়েছে।<br />
জলপাই কালার শাড়ির সাথে হাত বোঝাই<br />
চুরি,পনিটেইল করা চুল আর কপালে ছোট্ট টিপ।<br />
কাজল দিয়ে দিতে চেয়েছিল সামিয়া কিন্তু<br />
তাসনিম মানা করে দেয়।কেন যেন মনে হচ্ছে আজ<br />
তাকে কাঁদতে হবে ।<br />
চায়ের ট্রে হাতে নিচে নামল তাসনিম।ওপর<br />
থেকে খেয়াল করেছে তিনজন এসেছে।সামিয়ার<br />
থেকে জানা ছেলে আর ছেলের মা বাবা।<br />
চা নামিয়ে রেখে সালাম দিল তাসনিম। ছেলের<br />
মা তাকে বসতে বলল।মাথা নিচু<br />
করে বসে আছে সে।<br />
'কেমন আছ গো মা?'<br />
ছেলের বাবার প্রশ্নে মুখ তুলে তাকাল তাসনিম।<br />
'জি আলহামদুলিল্লাহ ' উত্তর<br />
করতে করতে আড়চোখে ছেলের দিকে তাকাল<br />
তাসনিম।<br />
চোখ স্থির হয়ে গেল তার।<br />
এ কি দেখছে সে।এই তো সেই চুল,সেই চোখ।<br />
হ্যাঁ বাসে দেখা সেই ছেলেটিই।<br />
ছেলেটিও তার<br />
দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে।<br />
মাথা আবারো নামিয়ে ফেলল তাসনিম।<br />
মাথা রিতিমত ঘুরছে।এ কি করে সম্ভব।এতো ভাল<br />
ভাগ্য তার?<br />
'মেয়ের সম্পর্কে তো সবি জানি।দেখার<br />
বাকি ছিল শুধু দেখে নিলাম।লক্ষী মা আমাদের।<br />
আমাদের বিশেষ কিছু আর বলার নেই।<br />
তবে ছেলে মেয়ে যদি আলাদা কথা বলতে চায়<br />
তবে এখন বলতেই পারে'।<br />
ছেলের বাবার কথায় আবারো চমকে মুখ<br />
তুলে তাকাল তাসনিম।<br />
-----<br />
কিছুক্ষণ পর,তাসনিম এর রুমের বারান্দায়<br />
দাঁড়িয়ে দুজন।<br />
'অবাক হয়েছেন আমাকে দেখে? '<br />
-'হুম'আপনি হননি বুঝি? '<br />
: ' না তো।প্লান করেই তো আপনার<br />
বাসে উঠেছিলাম।এ জন্য আপনার<br />
ভাগনি সামিয়াকে থ্যাংকস,অনেক হেল্প<br />
করেছে আমাকে।'<br />
হা হয়ে গেল তাসনিম। সামিয়া টা এত্তো পাজি।<br />
কি বলবে ভেবে পেল না সে।<br />
'চলুন নিচে যাওয়া যাক।বাতাস বইছে আর আপনার<br />
মেবি ঠান্ডা লেগেছে।' বলতে বলতে হঠাৎ আংগুল<br />
দিয়ে তাসনিমের চুল এলোমেলো করে দেয়<br />
ছেলেটা।শিউরে ওঠে তাসনিম।<br />
'আপনার এলোমেলো চুলের প্রেমে পরে গেছিলাম<br />
তখন।মাঝে মাঝে আপনার<br />
পরিপাটি করে আচড়ানো চুল<br />
এলোমেলো করে দিলে কি খুব রাগ করবেন? '<br />
উত্তরে মাথা টা হাল্কা নেড়ে নিচু হয়ে যায়<br />
তাসনিম। ছেলেটা কি জানে তাসনিম নিজেও<br />
ছেলেটার চুলের প্রেমে পরেছে।কেন যেন খুব<br />
কান্না পাচ্ছে তার।আনন্দের কান্না। ভাজ্ঞিস<br />
চোখে কাজল আঁকা হয়নি।<br />
.<br />
----Wamia Nahar<br />
post:হেমন্তে বর্ষায় আমি]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[তাসনিম লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছে ছেলেটাকে।<br />
বলা চলে ছেলেটার পেছন পাশটা। আরো স্পষ্ট<br />
করে বললে বলতে হয় ছেলেটার চুলগুলো। বাসের<br />
জানালা দিয়ে ঢোকা সকালের স্নিগ্ধ<br />
বাতাসে তাসনিমের নিজের চুলগুলোই উড়ছে।<br />
চোখের উপর বারবার চুল পড়ায় রীতিমত বিরক্ত<br />
হচ্ছে সে। তবুও ছেলেটার চুলে চোখ পড়তেই বিরক্ত<br />
উধাও হয়ে যাচ্ছে। ব্যপারটা তাসনিমের<br />
ভালো লাগছে। "উফ"<br />
বাড়ী থেকে আজ সকালে ফোন এসেছিলো।<br />
জরুরী তলবে ডাকা হয়েছে তাকে। কারনটা স্পষ্ট<br />
করে বলা না হলেও ৩ বছরের ছোট<br />
ভাগ্নী সামিয়াকে ফোন<br />
করে কারনটা জানতে পেরেছে তাসনিম। আজ<br />
রাত্রে ছেলেপক্ষ তাকে দেখতে আসবে।<br />
হঠাৎ ঝাঁকি খেয়ে বাসটা থেমে যায়।<br />
জানতে পারে বাসের চাকা পাংচার। সারতে একটু<br />
সময় নেবে। খুব বিরক্ত লাগে তাসনিমের।<br />
এইতো আর মিনিট বিশেক পরেই সিরাজগঞ্জ।<br />
প্রায় সবাই নেমে গেছে বাস থেকে। ভীড়ের<br />
মাঝে সেই অদ্ভুত সুন্দর চুলের<br />
অধিকারী ছেলেটাকেও দেখা যাচ্ছে। উচ্চতায়<br />
পাঁচ ফুট নয় হবে। খারাপ না।<br />
মনে মনে ভাবলো তাসনিম।<br />
একা বাসে বসে থাকতে মোটেও<br />
ভালো লাগছে না তাসনিমের।<br />
কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না ।<br />
কিছুক্ষণ পরই ছেলেটাকে বাসের<br />
দিকে আসতে দেখলো সে। ছেলেটা বাসে উঠার<br />
সময় প্রথমবারের মত স্পস্টভাবে সামন<br />
থেকে তাকে দেখলো তাসনিম। কেমন জানি এক<br />
অদ্ভুত মুগ্ধটা পেয়ে বসলো তাসনিমকে।<br />
অবাক হয়ে ছেলেটাকে দেখছে তাসনিম। চোখ<br />
দুটি এত সুন্দর কেনো। নিজেকেই প্রশ্ন<br />
করলো তাসনিম। ওর ইচ্ছে করছে মায়াকারা ওই<br />
গভীর চোখ দুটিতে ডুব দিতে।<br />
তাসনিমকে অবাক করে দিয়ে তার দিকে চেয়েই<br />
হাসছে ছেলেটা। অপ্রস্তুত হয়ে গেলো তাসনিম।<br />
চোখ নামিয়ে নিলো।<br />
ছেলেটা হঠাৎ তাসনিমকে উদ্দেশ্য<br />
করে জিজ্ঞাসা করে উঠলো, 'আর খানিকটা মাত্র<br />
পথ। তার মধ্যে একি ঝামেলা বলুন তো ?'<br />
তাসনিম হঠাৎ এই প্রশ্ন শুনে হকচকিয়ে গেছে।<br />
ছেলেটার কন্ঠস্বর এত চমৎকার, এত সুন্দর.......!!<br />
কি জবাব দেবে ভেবে পেলো না তাসনিম। তার<br />
সর্দি লেগেছে। যে বাজে শোনাচ্ছে কন্ঠস্বর। এমন<br />
অমৃতসম কন্ঠের সামনে তার কথা বলতেও<br />
লজ্জা লাগছে। শুধু মিষ্টি করে একটু<br />
হেসে মাথা নামিয়ে ফেললো সে।<br />
ছেলেটা একটু হেসে আবার বললো,<br />
'চুলটা বেঁধে আসলেই পারতেন।'<br />
খানিকটা লজ্জা পেয়ে আবার শুধু<br />
মিষ্টি করে হেসে দিলো তাসনিম।<br />
না হেসে উপায়ও নেই। মুখে তো কথা নেই ।<br />
সর্দি যা লেগছে। বারবার টিস্যুর স্মরনাপন্ন<br />
হতে হচ্ছে তাকে।<br />
এর মধ্যে বাসের লোকজন আসতে লাগলো।<br />
বেশি সময় লাগেনি বাস ঠিক করতে। বাস<br />
আবারো চলা শুরু করলো। আবারো সেই বাতাস।<br />
কিন্তু কেনো যেনো তাসনিম আর<br />
তাকাতে পারছিলো না ছেলেটার সুন্দর চুলের<br />
দিকে। বারবার হাত দিয়ে নিজের চুলগুলোই ঠিক<br />
করতে লাগলো সে। মনে মনে ভাবলো সত্যিই<br />
তো তাড়াহুড়ায় চুল বাঁধা হয়নি। কি রকম<br />
বাজে দেখাচ্ছে এলোমেলো চুল কে জানে।<br />
বাস থামলে তাসনিম<br />
কোনোদিকে না তাকিয়ে সোজা নেমে গেলো।<br />
রিক্সা নিয়ে বাসায় পৌছাতে পৌছাতে দুপুর<br />
পেরিয়ে গেল। বাড়িতে পৌঁছানোর সাথে সাথেই<br />
তার কাছে সামিয়া দৌঁড়ে এলো।<br />
সম্পর্কে খালা ভাগ্নি হলেও বান্ধবির মতই ওদের<br />
সম্পর্ক টা।<br />
'জানিস আজ বাস এ এতো সুন্দর<br />
একটা ছেলে দেখেছি,চুলগুলো কি যে সুন্দর '<br />
একে একে পুরো কাহিনি বলল ও সামিয়া কে।<br />
সব<br />
শুনে সামিয়া হাসতে হাসতে গড়াগড়ি দিতে লাগল।<br />
এতো হাসছে কেন মেয়েটা ভেবে পেল<br />
না তাসনিম।<br />
'পাগলের মতো হাসছিস কেন?'<br />
'ওমা হাসব না। খালামনি আমার এই প্রথম ক্রাশ<br />
খেয়েছে। খেল তো খেল সেদিন যেদিন<br />
তাকে পাত্র দেখতে আসবে।হিহিহি।'<br />
চমকে উঠল যেন তাসনিম।সত্যি তো।ছেলেটার<br />
কথা এতোই ভাবছিল যে ভুলেই গিয়েছিল কেন<br />
সে আজ বাড়ি এসেছে।<br />
মনে পড়তেই নিজের ওপর রাগ লাগতে শুরু করল তার।<br />
কেন সে বারবার ছেলেটার কথা ভাবছে।জোর<br />
করে দুর করে দিল ছেলেটার মুখ।<br />
----<br />
সন্ধার কিছু আগে পাত্র পক্ষ এলো।কিছুক্ষণ পর<br />
তাসনিম এর ডাক পড়ল নিচে।<br />
সামিয়া তাকে হাল্কা করে সাজিয়ে দিয়েছে।<br />
জলপাই কালার শাড়ির সাথে হাত বোঝাই<br />
চুরি,পনিটেইল করা চুল আর কপালে ছোট্ট টিপ।<br />
কাজল দিয়ে দিতে চেয়েছিল সামিয়া কিন্তু<br />
তাসনিম মানা করে দেয়।কেন যেন মনে হচ্ছে আজ<br />
তাকে কাঁদতে হবে ।<br />
চায়ের ট্রে হাতে নিচে নামল তাসনিম।ওপর<br />
থেকে খেয়াল করেছে তিনজন এসেছে।সামিয়ার<br />
থেকে জানা ছেলে আর ছেলের মা বাবা।<br />
চা নামিয়ে রেখে সালাম দিল তাসনিম। ছেলের<br />
মা তাকে বসতে বলল।মাথা নিচু<br />
করে বসে আছে সে।<br />
'কেমন আছ গো মা?'<br />
ছেলের বাবার প্রশ্নে মুখ তুলে তাকাল তাসনিম।<br />
'জি আলহামদুলিল্লাহ ' উত্তর<br />
করতে করতে আড়চোখে ছেলের দিকে তাকাল<br />
তাসনিম।<br />
চোখ স্থির হয়ে গেল তার।<br />
এ কি দেখছে সে।এই তো সেই চুল,সেই চোখ।<br />
হ্যাঁ বাসে দেখা সেই ছেলেটিই।<br />
ছেলেটিও তার<br />
দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে।<br />
মাথা আবারো নামিয়ে ফেলল তাসনিম।<br />
মাথা রিতিমত ঘুরছে।এ কি করে সম্ভব।এতো ভাল<br />
ভাগ্য তার?<br />
'মেয়ের সম্পর্কে তো সবি জানি।দেখার<br />
বাকি ছিল শুধু দেখে নিলাম।লক্ষী মা আমাদের।<br />
আমাদের বিশেষ কিছু আর বলার নেই।<br />
তবে ছেলে মেয়ে যদি আলাদা কথা বলতে চায়<br />
তবে এখন বলতেই পারে'।<br />
ছেলের বাবার কথায় আবারো চমকে মুখ<br />
তুলে তাকাল তাসনিম।<br />
-----<br />
কিছুক্ষণ পর,তাসনিম এর রুমের বারান্দায়<br />
দাঁড়িয়ে দুজন।<br />
'অবাক হয়েছেন আমাকে দেখে? '<br />
-'হুম'আপনি হননি বুঝি? '<br />
: ' না তো।প্লান করেই তো আপনার<br />
বাসে উঠেছিলাম।এ জন্য আপনার<br />
ভাগনি সামিয়াকে থ্যাংকস,অনেক হেল্প<br />
করেছে আমাকে।'<br />
হা হয়ে গেল তাসনিম। সামিয়া টা এত্তো পাজি।<br />
কি বলবে ভেবে পেল না সে।<br />
'চলুন নিচে যাওয়া যাক।বাতাস বইছে আর আপনার<br />
মেবি ঠান্ডা লেগেছে।' বলতে বলতে হঠাৎ আংগুল<br />
দিয়ে তাসনিমের চুল এলোমেলো করে দেয়<br />
ছেলেটা।শিউরে ওঠে তাসনিম।<br />
'আপনার এলোমেলো চুলের প্রেমে পরে গেছিলাম<br />
তখন।মাঝে মাঝে আপনার<br />
পরিপাটি করে আচড়ানো চুল<br />
এলোমেলো করে দিলে কি খুব রাগ করবেন? '<br />
উত্তরে মাথা টা হাল্কা নেড়ে নিচু হয়ে যায়<br />
তাসনিম। ছেলেটা কি জানে তাসনিম নিজেও<br />
ছেলেটার চুলের প্রেমে পরেছে।কেন যেন খুব<br />
কান্না পাচ্ছে তার।আনন্দের কান্না। ভাজ্ঞিস<br />
চোখে কাজল আঁকা হয়নি।<br />
.<br />
----Wamia Nahar<br />
post:হেমন্তে বর্ষায় আমি]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[ছোবল]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=3284</link>
			<pubDate>Tue, 02 Jan 2018 09:34:51 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=839">Abir</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=3284</guid>
			<description><![CDATA[ছোবল<br />
Written by:Tanjina Akter Tania(হিমাদ্রির মেঘ)<br />
..<br />
অামার পিচ্চি মামনিটা ইদানিং ভারি দুষ্ট হয়ে<br />
গেছে।সবকিছুই ঠিকঠাক মত করে শুধু স্কুলে যেতে<br />
চায়না।স্কুলে যাওয়ার জন্য বললেই নাদুস নুদুস গাল<br />
দুটো ফুলিয়ে ভূতোম প্যাঁচা হয়ে যায় একেবারে।আর<br />
চোখ বেয়ে অনর্গল পানি পড়।মেয়েটা একেবারে<br />
আমার মতন হয়েছে।ছোটবেলায় আমিও স্কুলে যেতে<br />
চাইতাম না।মা অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে পাঠাতেন।এত<br />
বছর পর আল্লাহ আমাকেও এমন একটা মেয়ে<br />
দিয়েছেন মনে হয় এই ভেবেই যে আমি যেন কিছুটা<br />
হলেও বুঝতে পারি যে বাচ্চারা স্কুলে না গেলে<br />
মায়েদের কতটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়।<br />
.<br />
আমার মেয়েটার বয়স আট বছর।এবার ক্লাস থ্রিতে<br />
পড়ে।এতদিন স্কুলে যেতে ও কোন আপত্তি করতোনা।<br />
কিন্তু এই থ্রিতে উঠার পর থেকেই ও আর স্কুলে<br />
যেতে চাচ্ছেনা।আবার পড়ায় খুব মনযোগ ওর।কেবল<br />
স্কুলে যেতে বললেই যত সমস্যা।ওর বাবাই ওর জন্য<br />
প্রতিদিন কোন আইসক্রিম নিয়ে আসে আর বলে যে<br />
স্কুলে যাওয়ার সময় আইসক্রিমটা দেবে আর স্কুলে<br />
না গেলে দেবেনা।কোন আইসক্রিম ওর অনেক প্রিয়।<br />
ওর কথা হচ্ছে যে ওর আইসক্রিম লাগবেনা তবু ও<br />
স্কুলে যাবেনা।এই মেয়টা স্কুল কামাই করায়<br />
আমাকেও এক ধাপ ছাড়িয়ে গেছে।যা হোক বাচ্চা<br />
মানুষ।হয়তো বয়সের তুলনায় পড়াশুনার চাপটা একটু<br />
বেশী পড়ে গেছে ওর উপর তাই এমন করে।ওকে<br />
বুঝিয়ে শুনিয়ে আদর<br />
দিয়েই বশ করতে হবে।ওর সবচেয়ে দুর্বল জায়গা<br />
হচ্ছে ওর বাবাই।বাবাই ছাড়া মেয়েটা আমার কিছুই<br />
বোঝেনা।আমার থেকেও সে তার বাবাকে বেশী<br />
ভালবাসে।ওর ভাষ্যমতে ওর বাবাই হচ্ছে পৃথিবীর সব<br />
থেকে ভাল বাবাই।বাবাই বাসায় না থাকলে<br />
আমাকে একেবারে অস্থির করে ফেলে তাথৈ<br />
(আমার মেয়ের নাম)একটু পর পর সে বাবাইয়ের সাথে<br />
ফোনে কথা বলতে চাইবে।এই যে কত করে বোঝাই<br />
যে বাবাই ব্যস্ত থাকে অফিসে।বার বার ফোন<br />
দিলে সে বিরক্ত বোধ করতে পারে।কিন্তু না।সে<br />
কিছুতেই এই কথা শুনতে রাজী না।সে বলে, বাবাই<br />
বলেছে আমার যতবার বাবাইয়ের সাথে কথা বলতে<br />
মন চাইবে আমি যেন ততবারই ফোন দেই।পরক্ষনই<br />
আবার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষজনের মত কোমড়ে হাত<br />
দিয়ে বলবে<br />
-আমি হচ্ছি বাবাইয়ের মা।কেন আম্মু তুমি কি শুননা<br />
যে,বাবাই আমাকে ছোট আম্মু বলে ডাকে।মা ফোন<br />
করলে কি ছেলে বিরক্তবোধ করতে পারে?<br />
.<br />
আমি আমার মেয়ের মুখের পাকা পাকা কথা শুনে<br />
মুখ টিপে হাসি।এই বয়সেই বড্ড বেশী পেকে<br />
গিয়েছে ও।ওর বাবাকে বলে ও একটা চশমা আনিয়ে<br />
নিয়েছে।বড় বড় ছেলেদের মায়েদের নাকি চশমা<br />
পড়তে হয়।নাহলে নাকি মায়ের মত লাগেনা।ও<br />
সাড়াদিন এমন সব আজব আজব কথা বলেনা যে<br />
নিজেই হতবাক হয়ে বসে থাকি।<br />
.<br />
তাথৈ এর বাবাই রাতে বসে টিভি দেখছিল।ও দৌড়ে<br />
এসে বাবাইয়ের<br />
কোলে এসে বসলো।ও কোলে বসতেই সাইফ(আমার<br />
হাজব্যান্ড) চমকে উঠে বললো<br />
-মামনি তুমি ঘুমাওনি?<br />
-বাবাই,তুমি আজ বাসায় ফিরে আমার কপালে চুম<br />
খাওনি কেন?<br />
সাইফ এবার জিভে কামড় বসালো।মেয়ে যে তাকে<br />
আজ আচ্ছামত ধোলাই দিবে সেটা সে বোঝতে<br />
পেরে গিয়েছে।আমতা আমতা করে বললো<br />
-ইয়ে না মানে,আমি ভেবেছিলাম তুমি ঘুমিয়ে<br />
গিয়েছ।<br />
-আমি ঘুমিয়ে গেলে বুঝি তুমি আমাকে চুম দিতে<br />
পারনা?আসলে তুমি আমাকে একটুও ভালবাস না।সব<br />
দেখানো ভালবাসা।<br />
আমি আলুভর্তা মাখাতে মাখাতে আড়চোখে বাপ<br />
বেটীর কান্ড দেখে মুখ টিপে হাসছিলাম।<br />
.<br />
সাইফ এবার মেয়ের মুখটা দুহাতে তোলে ধরে বললো<br />
-ছিঃ মা।এভাবে বলেনা।আমি তোমাকে এত্তগুলো<br />
ভালবাসি।তুমিনা আমার মা হও।আমিকি তোমার<br />
থেকে বেশী ভাল আর কাউকে বাসতে পার।<br />
তাথৈ এবার অভিমানী মুড নিয়ে বললো<br />
-হুম পারো।তুমি আম্মুকে আমার থেকে বেশী<br />
ভালবাস।কারন তুমি আম্মুকে ঘুমের মধ্যেও কপালে<br />
চুম খাও।<br />
.<br />
এবার শুধু সাইফ না সাথে আমিও লজ্জা পেয়ে<br />
গেলাম।সাইফ বোকার মত আমার দিকে আর আমি<br />
সাইফের দিকে তাকালাম।<br />
.<br />
সকাল বেলায় সাইফ তাথৈকে পড়াচ্ছে।প্রতিদিন<br />
সকালে সাইফ ওকে পড়ায় আর আমি কিচেনে রান্না<br />
করি।রাতের বেলায় আমি পড়াই তাথৈকে।সাইফ<br />
ওকে পড়াচ্ছে ঠিকই কিন্তু ওর পড়ায় মন বসছেনা।ও<br />
কেবল বার বার<br />
ফ্রিজ থেকে কোন আইসক্রিম বের করে দিতে<br />
বলছে।সাইফ না পেরে ওকে ফ্রিজ থেকে আইসক্রিম<br />
বের করে দিল।<br />
যেহেতু ও আইসক্রিম খেয়ে ফেলেছে তাই আজ তার<br />
স্কুলে না গেলেও চলবে।কেননা এই আইসক্রিমের<br />
লোভ দেখিয়েই ওকে স্কুলে পাঠানো হয়।কোন কোন<br />
দিন অবশ্য আইসক্রিমেও কাজ হয়না।বলে যে<br />
আইসক্রিম লাগবেনা ওর তবুও স্কুলে যাবেনা।<br />
.<br />
যেহেতু আইসক্রিম আজ খেয়ে ফেলেছে তাই আজ<br />
আর সে স্কুলে যাবেনা বলে বায়না ধরেছে।আমি<br />
আর ওর বাবাই অনেক বলে কয়ে ওকে রাজী করালাম<br />
স্কুলে যেতে।তবে ও একটা শর্ত জুরে দিল স্কুলে<br />
যেতে।যদি ওর বাবাই ওকে আজ স্কুলে নিয়ে যায়<br />
আবার স্কুল থেকে নিয়ে আসে তবেই সে স্কুলে<br />
যাবে।ওর ফ্রেন্ডসদের বাবারা নাকি মাঝে মাঝে<br />
তাদের স্কুলে দিয়ে যায় কিন্তু ওকে রোজ কেন ওর<br />
আম্মুই নিয়ে যাবে!আজ বাবাইকে ওকে স্কুলে নিয়ে<br />
যেতে হবে। এই যে ওর বাবাই ওকে বুঝালো যে<br />
তাকে স্কুলে ছাড়তে গেলে তার বাবার অফিস<br />
যেতে লেট হয়ে যাবে তবু সে শুনলো না।<br />
.<br />
সাইফ অতঃপর মেয়ের জেদের কাছে হার মানলো।<br />
সে তাথৈকে স্কুলে দিয়ে আসলো আবার নিয়েও<br />
আসলো।<br />
.<br />
আমি দরজা খুলে বাপ বেটীকে দেখেতো রীতিমত<br />
টাস্কি খেয়ে গেলাম।দুজনের গায়েই নোংড়া<br />
কাঁদাপানির দাগ। সাইফ খুব হাসছে কিন্তু কিছু<br />
বলছেনা।শুধু বললো<br />
-তোমার মেয়েকে<br />
জিজ্ঞাসা কর।আমি তাথৈকে কিছু জিজ্ঞাসা<br />
করার আগেই তাথৈ বলে বসলো<br />
-জানো আম্মু!বাবাই যখন আমাকে স্কুলে আনতে গেল<br />
তখন বাবাইয়ের গায়ে কাঁদাপানি লেগে ছিল।<br />
আজতো প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে।ড্রেনের পানি আর<br />
বৃষ্টির পানিতে রাস্তা ভর্তি হয়ে গিয়েছে।<br />
বাবাইয়ের নাকি আমার স্কুলে যাওয়ার সময় শরীরে<br />
কাঁদাপানি লেগেছে।বাবাইয়ের গায়ে কাঁদাপানি<br />
লাগায় বাবাই রিক্সাতে উঠে আমাকে দূরে বসিয়ে<br />
রেখেছিল।কিছুতেই বাবাইয়ের সাথে মিশতে<br />
দিচ্ছিল না।তাই আমি রিক্সাওয়ালা আংকেলকে<br />
রিক্সা থামাতে বললাম আর উনি রিক্সা থামাতেই<br />
আমি রাস্তায় নেমে গায়ে কাঁদাপানি লাগিয়ে<br />
নিলাম যাতে করে আমি বাবাইয়ের সাথে মিশে<br />
বসতে পারি।বাবাইয়ের থেকে দূরে বসতে আমার<br />
ভাল লাগছিল না।<br />
.<br />
মেয়ের কথা শুনে আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম।এতটুকু<br />
মেয়ের মাথায় কি বুদ্ধি আর ওর বাবাইয়ের জন্য ওর<br />
মনে কি পরিমান ভালবাসা!<br />
.<br />
রাতে শুয়ার সময় তাথৈ বায়না করবে ও বাবাই আর<br />
আম্মুর মাঝে শুবে আর ও যতক্ষন সজাগ থাকবে ততক্ষন<br />
আমাদের ওর সাথে কথা বলতে হবে।<br />
ঘুমের ঘোরে যখন তাথৈ তার ছোট ছোট হাত পা<br />
আমার পেটের উপর তুলে রাখে তখন ভীষন ভাল<br />
লাগে আমার।মেয়েটা মাঝে মাঝে আমাকে আর ওর<br />
বাবাকে একসাথে বসিয়ে মুখে তোলে খাইয়ে দেয়।<br />
আমি আর সাইফ ব্যাপারটা খুব উপভোগ<br />
করি।আগে ওর বাবার টাই আমি বেঁধে দিতাম এখন<br />
তাথৈ আমাকে সেটা করতে দেয়না।ও চেয়ারে<br />
দাড়িয়ে ওর ছোট ছোট হাত দিয়ে ওর বাবার গলায়<br />
টাই বেঁধে দেয়।আমাকে তাগেদা দিয়ে ওর<br />
বাবাইয়ের শার্ট প্যান্ট ধোঁয়ায়,ইস্ত্রি করায় তারপর<br />
ওর বাবাই অফিস যাওয়ার সময় ওগুলো নিজ হাতে<br />
খাটের উপর এনে রাখে।ওর বাবা অফিসে যাবার<br />
সময় একবার ওকে কপালে চুম দিয়ে যায় আরেকবার<br />
অফিস থেকে এসে চুম খায়।কোনদিন যদি এই রুটিন<br />
মিস হয়ে যায় তবেই ওর বাবাইর খবর আছে।<br />
.<br />
অামার তাথৈ মাকে নিয়ে ভালই কাটছিল<br />
অামাদের দিন শুধু স্কুলে যাওয়া নিয়েই ছিল ওর যত<br />
প্রবলেম।অাজ সকালে ওর বাবাই রাগ করেতো ওর<br />
গালে একটা থাপ্পরই বসিয়ে দিল।অামিতো নিজের<br />
চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না।যে মেয়ে<br />
ওর এত প্রিয় সেই মেয়েকে কি করে ও মারতে<br />
পারলো!এ নিয়ে ওর সাথে খুব ঝগড়া করলাম।<br />
.<br />
সেদিন রাতে ও বাসায় ফিরলো একটু দেরী করে।<br />
এসে দেখে তাথৈ ঘুমিয়ে পড়েছে।তাথৈকে জড়িয়ে<br />
ধরে ও খুব কান্না করছিল।বোধ হয় মেয়েকে সকালে<br />
মারার জন্য ওর সারাটা দিন খুব খারাপ কেটেছে।<br />
বড্ড অাদরের মেয়েতো।মেয়েটা অাজ অামার<br />
ড্রয়িং করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছে।ও এই বয়সেই<br />
অনেক ভাল অার্ট করে।অামি ওর ড্রয়িং খাতা অার<br />
পেন্সিলগুলো গুছাতে গেলাম ওমনি একটা অদ্ভুদ<br />
অার্ট দেখে অামার চোখ অাটকে গেল ঐটাতে।<br />
অামি বিস্ময় অার ভয়ার্ত চোখ নিয়ে অার্টটার<br />
দিকে তাকালাম।সেখানে একটা পুরুষ মানুষের ছবি<br />
অাঁকা যার জিভটে কিছুটা বের করা অার তার<br />
সামনে পিচ্চি একটা মেয়ে।লোকটা মেয়েটার<br />
জামার চেইনে হাত দিচ্ছে।লোকটার পাশে তাথৈ<br />
লিখেছে এটা সুবীর স্যার।উনি একজন পঁচা লোক।<br />
অার পিচ্চি মেয়েটার পাশে লিখা এটা তাথৈ।<br />
তাথৈ একটা লক্ষী মেয়ে।অার্টটা দেখে অামার<br />
অকাশ মাটি যেন এক হয়ে গেল।স্তব্দ হয়ে গেলাম<br />
অামি।অামার চোখের সামনে একবার ভেসে উঠতে<br />
লাগলো অামার মেয়ের মিষ্টি হাসি অারেকবার ঐ<br />
শিক্ষকের কালো লোমশ হাত।চোখ দুটো অামার<br />
পানিতে ভরে উঠলো অার বুকটা ভয়ে ধুক ধুক করে<br />
উঠলো।এই জন্যই তাহলে অামার মেয়ে এখন স্কুলে<br />
যেতে চায়না?<br />
.<br />
না এর একটে বিহীত করতেই হবে।নিজেকে বড়<br />
অপরাধী মনে হচ্ছে অাজ।অামার মেয়ের সাথে<br />
অামার অারও ফ্রিলি সম্পর্ক গড়ে তোলা দরকার<br />
ছিল।মেয়েকে ঠান্ডা মাথায় জিজ্ঞাসা করা<br />
উচিত ছিল কেন ও স্কুলে যেতে চায়না।মেয়ের এই<br />
শোচনীয় অবস্থার জন্য নিজেদেরই দায়ী মনে হচ্ছে।<br />
যাহোক যা হবার হয়েছে।এর একটা এস্পার ওস্পার<br />
করতেই হবে।ঐ শিক্ষককে উপযুক্ত শাস্তি না দিলে<br />
অারও অনেক লোভাতুর দৃষ্টির ছোবলে পড়তে হবে<br />
এরকম অারও অনেক তাথৈকে।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[ছোবল<br />
Written by:Tanjina Akter Tania(হিমাদ্রির মেঘ)<br />
..<br />
অামার পিচ্চি মামনিটা ইদানিং ভারি দুষ্ট হয়ে<br />
গেছে।সবকিছুই ঠিকঠাক মত করে শুধু স্কুলে যেতে<br />
চায়না।স্কুলে যাওয়ার জন্য বললেই নাদুস নুদুস গাল<br />
দুটো ফুলিয়ে ভূতোম প্যাঁচা হয়ে যায় একেবারে।আর<br />
চোখ বেয়ে অনর্গল পানি পড়।মেয়েটা একেবারে<br />
আমার মতন হয়েছে।ছোটবেলায় আমিও স্কুলে যেতে<br />
চাইতাম না।মা অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে পাঠাতেন।এত<br />
বছর পর আল্লাহ আমাকেও এমন একটা মেয়ে<br />
দিয়েছেন মনে হয় এই ভেবেই যে আমি যেন কিছুটা<br />
হলেও বুঝতে পারি যে বাচ্চারা স্কুলে না গেলে<br />
মায়েদের কতটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়।<br />
.<br />
আমার মেয়েটার বয়স আট বছর।এবার ক্লাস থ্রিতে<br />
পড়ে।এতদিন স্কুলে যেতে ও কোন আপত্তি করতোনা।<br />
কিন্তু এই থ্রিতে উঠার পর থেকেই ও আর স্কুলে<br />
যেতে চাচ্ছেনা।আবার পড়ায় খুব মনযোগ ওর।কেবল<br />
স্কুলে যেতে বললেই যত সমস্যা।ওর বাবাই ওর জন্য<br />
প্রতিদিন কোন আইসক্রিম নিয়ে আসে আর বলে যে<br />
স্কুলে যাওয়ার সময় আইসক্রিমটা দেবে আর স্কুলে<br />
না গেলে দেবেনা।কোন আইসক্রিম ওর অনেক প্রিয়।<br />
ওর কথা হচ্ছে যে ওর আইসক্রিম লাগবেনা তবু ও<br />
স্কুলে যাবেনা।এই মেয়টা স্কুল কামাই করায়<br />
আমাকেও এক ধাপ ছাড়িয়ে গেছে।যা হোক বাচ্চা<br />
মানুষ।হয়তো বয়সের তুলনায় পড়াশুনার চাপটা একটু<br />
বেশী পড়ে গেছে ওর উপর তাই এমন করে।ওকে<br />
বুঝিয়ে শুনিয়ে আদর<br />
দিয়েই বশ করতে হবে।ওর সবচেয়ে দুর্বল জায়গা<br />
হচ্ছে ওর বাবাই।বাবাই ছাড়া মেয়েটা আমার কিছুই<br />
বোঝেনা।আমার থেকেও সে তার বাবাকে বেশী<br />
ভালবাসে।ওর ভাষ্যমতে ওর বাবাই হচ্ছে পৃথিবীর সব<br />
থেকে ভাল বাবাই।বাবাই বাসায় না থাকলে<br />
আমাকে একেবারে অস্থির করে ফেলে তাথৈ<br />
(আমার মেয়ের নাম)একটু পর পর সে বাবাইয়ের সাথে<br />
ফোনে কথা বলতে চাইবে।এই যে কত করে বোঝাই<br />
যে বাবাই ব্যস্ত থাকে অফিসে।বার বার ফোন<br />
দিলে সে বিরক্ত বোধ করতে পারে।কিন্তু না।সে<br />
কিছুতেই এই কথা শুনতে রাজী না।সে বলে, বাবাই<br />
বলেছে আমার যতবার বাবাইয়ের সাথে কথা বলতে<br />
মন চাইবে আমি যেন ততবারই ফোন দেই।পরক্ষনই<br />
আবার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষজনের মত কোমড়ে হাত<br />
দিয়ে বলবে<br />
-আমি হচ্ছি বাবাইয়ের মা।কেন আম্মু তুমি কি শুননা<br />
যে,বাবাই আমাকে ছোট আম্মু বলে ডাকে।মা ফোন<br />
করলে কি ছেলে বিরক্তবোধ করতে পারে?<br />
.<br />
আমি আমার মেয়ের মুখের পাকা পাকা কথা শুনে<br />
মুখ টিপে হাসি।এই বয়সেই বড্ড বেশী পেকে<br />
গিয়েছে ও।ওর বাবাকে বলে ও একটা চশমা আনিয়ে<br />
নিয়েছে।বড় বড় ছেলেদের মায়েদের নাকি চশমা<br />
পড়তে হয়।নাহলে নাকি মায়ের মত লাগেনা।ও<br />
সাড়াদিন এমন সব আজব আজব কথা বলেনা যে<br />
নিজেই হতবাক হয়ে বসে থাকি।<br />
.<br />
তাথৈ এর বাবাই রাতে বসে টিভি দেখছিল।ও দৌড়ে<br />
এসে বাবাইয়ের<br />
কোলে এসে বসলো।ও কোলে বসতেই সাইফ(আমার<br />
হাজব্যান্ড) চমকে উঠে বললো<br />
-মামনি তুমি ঘুমাওনি?<br />
-বাবাই,তুমি আজ বাসায় ফিরে আমার কপালে চুম<br />
খাওনি কেন?<br />
সাইফ এবার জিভে কামড় বসালো।মেয়ে যে তাকে<br />
আজ আচ্ছামত ধোলাই দিবে সেটা সে বোঝতে<br />
পেরে গিয়েছে।আমতা আমতা করে বললো<br />
-ইয়ে না মানে,আমি ভেবেছিলাম তুমি ঘুমিয়ে<br />
গিয়েছ।<br />
-আমি ঘুমিয়ে গেলে বুঝি তুমি আমাকে চুম দিতে<br />
পারনা?আসলে তুমি আমাকে একটুও ভালবাস না।সব<br />
দেখানো ভালবাসা।<br />
আমি আলুভর্তা মাখাতে মাখাতে আড়চোখে বাপ<br />
বেটীর কান্ড দেখে মুখ টিপে হাসছিলাম।<br />
.<br />
সাইফ এবার মেয়ের মুখটা দুহাতে তোলে ধরে বললো<br />
-ছিঃ মা।এভাবে বলেনা।আমি তোমাকে এত্তগুলো<br />
ভালবাসি।তুমিনা আমার মা হও।আমিকি তোমার<br />
থেকে বেশী ভাল আর কাউকে বাসতে পার।<br />
তাথৈ এবার অভিমানী মুড নিয়ে বললো<br />
-হুম পারো।তুমি আম্মুকে আমার থেকে বেশী<br />
ভালবাস।কারন তুমি আম্মুকে ঘুমের মধ্যেও কপালে<br />
চুম খাও।<br />
.<br />
এবার শুধু সাইফ না সাথে আমিও লজ্জা পেয়ে<br />
গেলাম।সাইফ বোকার মত আমার দিকে আর আমি<br />
সাইফের দিকে তাকালাম।<br />
.<br />
সকাল বেলায় সাইফ তাথৈকে পড়াচ্ছে।প্রতিদিন<br />
সকালে সাইফ ওকে পড়ায় আর আমি কিচেনে রান্না<br />
করি।রাতের বেলায় আমি পড়াই তাথৈকে।সাইফ<br />
ওকে পড়াচ্ছে ঠিকই কিন্তু ওর পড়ায় মন বসছেনা।ও<br />
কেবল বার বার<br />
ফ্রিজ থেকে কোন আইসক্রিম বের করে দিতে<br />
বলছে।সাইফ না পেরে ওকে ফ্রিজ থেকে আইসক্রিম<br />
বের করে দিল।<br />
যেহেতু ও আইসক্রিম খেয়ে ফেলেছে তাই আজ তার<br />
স্কুলে না গেলেও চলবে।কেননা এই আইসক্রিমের<br />
লোভ দেখিয়েই ওকে স্কুলে পাঠানো হয়।কোন কোন<br />
দিন অবশ্য আইসক্রিমেও কাজ হয়না।বলে যে<br />
আইসক্রিম লাগবেনা ওর তবুও স্কুলে যাবেনা।<br />
.<br />
যেহেতু আইসক্রিম আজ খেয়ে ফেলেছে তাই আজ<br />
আর সে স্কুলে যাবেনা বলে বায়না ধরেছে।আমি<br />
আর ওর বাবাই অনেক বলে কয়ে ওকে রাজী করালাম<br />
স্কুলে যেতে।তবে ও একটা শর্ত জুরে দিল স্কুলে<br />
যেতে।যদি ওর বাবাই ওকে আজ স্কুলে নিয়ে যায়<br />
আবার স্কুল থেকে নিয়ে আসে তবেই সে স্কুলে<br />
যাবে।ওর ফ্রেন্ডসদের বাবারা নাকি মাঝে মাঝে<br />
তাদের স্কুলে দিয়ে যায় কিন্তু ওকে রোজ কেন ওর<br />
আম্মুই নিয়ে যাবে!আজ বাবাইকে ওকে স্কুলে নিয়ে<br />
যেতে হবে। এই যে ওর বাবাই ওকে বুঝালো যে<br />
তাকে স্কুলে ছাড়তে গেলে তার বাবার অফিস<br />
যেতে লেট হয়ে যাবে তবু সে শুনলো না।<br />
.<br />
সাইফ অতঃপর মেয়ের জেদের কাছে হার মানলো।<br />
সে তাথৈকে স্কুলে দিয়ে আসলো আবার নিয়েও<br />
আসলো।<br />
.<br />
আমি দরজা খুলে বাপ বেটীকে দেখেতো রীতিমত<br />
টাস্কি খেয়ে গেলাম।দুজনের গায়েই নোংড়া<br />
কাঁদাপানির দাগ। সাইফ খুব হাসছে কিন্তু কিছু<br />
বলছেনা।শুধু বললো<br />
-তোমার মেয়েকে<br />
জিজ্ঞাসা কর।আমি তাথৈকে কিছু জিজ্ঞাসা<br />
করার আগেই তাথৈ বলে বসলো<br />
-জানো আম্মু!বাবাই যখন আমাকে স্কুলে আনতে গেল<br />
তখন বাবাইয়ের গায়ে কাঁদাপানি লেগে ছিল।<br />
আজতো প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে।ড্রেনের পানি আর<br />
বৃষ্টির পানিতে রাস্তা ভর্তি হয়ে গিয়েছে।<br />
বাবাইয়ের নাকি আমার স্কুলে যাওয়ার সময় শরীরে<br />
কাঁদাপানি লেগেছে।বাবাইয়ের গায়ে কাঁদাপানি<br />
লাগায় বাবাই রিক্সাতে উঠে আমাকে দূরে বসিয়ে<br />
রেখেছিল।কিছুতেই বাবাইয়ের সাথে মিশতে<br />
দিচ্ছিল না।তাই আমি রিক্সাওয়ালা আংকেলকে<br />
রিক্সা থামাতে বললাম আর উনি রিক্সা থামাতেই<br />
আমি রাস্তায় নেমে গায়ে কাঁদাপানি লাগিয়ে<br />
নিলাম যাতে করে আমি বাবাইয়ের সাথে মিশে<br />
বসতে পারি।বাবাইয়ের থেকে দূরে বসতে আমার<br />
ভাল লাগছিল না।<br />
.<br />
মেয়ের কথা শুনে আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম।এতটুকু<br />
মেয়ের মাথায় কি বুদ্ধি আর ওর বাবাইয়ের জন্য ওর<br />
মনে কি পরিমান ভালবাসা!<br />
.<br />
রাতে শুয়ার সময় তাথৈ বায়না করবে ও বাবাই আর<br />
আম্মুর মাঝে শুবে আর ও যতক্ষন সজাগ থাকবে ততক্ষন<br />
আমাদের ওর সাথে কথা বলতে হবে।<br />
ঘুমের ঘোরে যখন তাথৈ তার ছোট ছোট হাত পা<br />
আমার পেটের উপর তুলে রাখে তখন ভীষন ভাল<br />
লাগে আমার।মেয়েটা মাঝে মাঝে আমাকে আর ওর<br />
বাবাকে একসাথে বসিয়ে মুখে তোলে খাইয়ে দেয়।<br />
আমি আর সাইফ ব্যাপারটা খুব উপভোগ<br />
করি।আগে ওর বাবার টাই আমি বেঁধে দিতাম এখন<br />
তাথৈ আমাকে সেটা করতে দেয়না।ও চেয়ারে<br />
দাড়িয়ে ওর ছোট ছোট হাত দিয়ে ওর বাবার গলায়<br />
টাই বেঁধে দেয়।আমাকে তাগেদা দিয়ে ওর<br />
বাবাইয়ের শার্ট প্যান্ট ধোঁয়ায়,ইস্ত্রি করায় তারপর<br />
ওর বাবাই অফিস যাওয়ার সময় ওগুলো নিজ হাতে<br />
খাটের উপর এনে রাখে।ওর বাবা অফিসে যাবার<br />
সময় একবার ওকে কপালে চুম দিয়ে যায় আরেকবার<br />
অফিস থেকে এসে চুম খায়।কোনদিন যদি এই রুটিন<br />
মিস হয়ে যায় তবেই ওর বাবাইর খবর আছে।<br />
.<br />
অামার তাথৈ মাকে নিয়ে ভালই কাটছিল<br />
অামাদের দিন শুধু স্কুলে যাওয়া নিয়েই ছিল ওর যত<br />
প্রবলেম।অাজ সকালে ওর বাবাই রাগ করেতো ওর<br />
গালে একটা থাপ্পরই বসিয়ে দিল।অামিতো নিজের<br />
চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না।যে মেয়ে<br />
ওর এত প্রিয় সেই মেয়েকে কি করে ও মারতে<br />
পারলো!এ নিয়ে ওর সাথে খুব ঝগড়া করলাম।<br />
.<br />
সেদিন রাতে ও বাসায় ফিরলো একটু দেরী করে।<br />
এসে দেখে তাথৈ ঘুমিয়ে পড়েছে।তাথৈকে জড়িয়ে<br />
ধরে ও খুব কান্না করছিল।বোধ হয় মেয়েকে সকালে<br />
মারার জন্য ওর সারাটা দিন খুব খারাপ কেটেছে।<br />
বড্ড অাদরের মেয়েতো।মেয়েটা অাজ অামার<br />
ড্রয়িং করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছে।ও এই বয়সেই<br />
অনেক ভাল অার্ট করে।অামি ওর ড্রয়িং খাতা অার<br />
পেন্সিলগুলো গুছাতে গেলাম ওমনি একটা অদ্ভুদ<br />
অার্ট দেখে অামার চোখ অাটকে গেল ঐটাতে।<br />
অামি বিস্ময় অার ভয়ার্ত চোখ নিয়ে অার্টটার<br />
দিকে তাকালাম।সেখানে একটা পুরুষ মানুষের ছবি<br />
অাঁকা যার জিভটে কিছুটা বের করা অার তার<br />
সামনে পিচ্চি একটা মেয়ে।লোকটা মেয়েটার<br />
জামার চেইনে হাত দিচ্ছে।লোকটার পাশে তাথৈ<br />
লিখেছে এটা সুবীর স্যার।উনি একজন পঁচা লোক।<br />
অার পিচ্চি মেয়েটার পাশে লিখা এটা তাথৈ।<br />
তাথৈ একটা লক্ষী মেয়ে।অার্টটা দেখে অামার<br />
অকাশ মাটি যেন এক হয়ে গেল।স্তব্দ হয়ে গেলাম<br />
অামি।অামার চোখের সামনে একবার ভেসে উঠতে<br />
লাগলো অামার মেয়ের মিষ্টি হাসি অারেকবার ঐ<br />
শিক্ষকের কালো লোমশ হাত।চোখ দুটো অামার<br />
পানিতে ভরে উঠলো অার বুকটা ভয়ে ধুক ধুক করে<br />
উঠলো।এই জন্যই তাহলে অামার মেয়ে এখন স্কুলে<br />
যেতে চায়না?<br />
.<br />
না এর একটে বিহীত করতেই হবে।নিজেকে বড়<br />
অপরাধী মনে হচ্ছে অাজ।অামার মেয়ের সাথে<br />
অামার অারও ফ্রিলি সম্পর্ক গড়ে তোলা দরকার<br />
ছিল।মেয়েকে ঠান্ডা মাথায় জিজ্ঞাসা করা<br />
উচিত ছিল কেন ও স্কুলে যেতে চায়না।মেয়ের এই<br />
শোচনীয় অবস্থার জন্য নিজেদেরই দায়ী মনে হচ্ছে।<br />
যাহোক যা হবার হয়েছে।এর একটা এস্পার ওস্পার<br />
করতেই হবে।ঐ শিক্ষককে উপযুক্ত শাস্তি না দিলে<br />
অারও অনেক লোভাতুর দৃষ্টির ছোবলে পড়তে হবে<br />
এরকম অারও অনেক তাথৈকে।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[অজানা এক অনুভূতি লিখা: ইচ্ছে ঘুড়ি]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=3283</link>
			<pubDate>Tue, 02 Jan 2018 09:33:48 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=839">Abir</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=3283</guid>
			<description><![CDATA[অজানা এক অনুভূতি<br />
লিখা: ইচ্ছে ঘুড়ি (কষ্টের<br />
নীড়)<br />
একা একা বসে হেডফোন<br />
কানে দিয়ে আমার favorite গান<br />
গুলো শুনেছি আর<br />
জানালা দিয়ে বাইরের<br />
কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশটা দেখছি।<br />
ইদানিং মাঝ রাতে আকাশ<br />
দেখাটা খুব একটা রুটিন মাপিক<br />
হয়ে গেছে।<br />
নিজেকে একা মনে হলেই<br />
হয়তো গান শুনি নাহয় মুক্ত আকাশ<br />
দেখি। বিশাল ওই আকাশটাও আমার<br />
কাছে একা লাগে।<br />
রাতে চাঁদ দেখতে আমার খুব<br />
ভালো লাগে। এক সময় নিয়মিত চাঁদ<br />
দেখতাম কিন্তু এখন আর পারি না।<br />
স্বার্থপর এই পৃথিবীতে আর<br />
ভালো লাগেনা। অসহ্য লাগচ্ছে সব<br />
কিছু।<br />
এখানে যার আছে তার সবই আছে,<br />
আর যার নেই তার কিছুই নেই। একদল<br />
আছে চাইলেও পায়না, আর একদল<br />
আছে না চাইতেই সব পেয়ে যায়।<br />
এমনটা কেনো হয়?????<br />
why????]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[অজানা এক অনুভূতি<br />
লিখা: ইচ্ছে ঘুড়ি (কষ্টের<br />
নীড়)<br />
একা একা বসে হেডফোন<br />
কানে দিয়ে আমার favorite গান<br />
গুলো শুনেছি আর<br />
জানালা দিয়ে বাইরের<br />
কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশটা দেখছি।<br />
ইদানিং মাঝ রাতে আকাশ<br />
দেখাটা খুব একটা রুটিন মাপিক<br />
হয়ে গেছে।<br />
নিজেকে একা মনে হলেই<br />
হয়তো গান শুনি নাহয় মুক্ত আকাশ<br />
দেখি। বিশাল ওই আকাশটাও আমার<br />
কাছে একা লাগে।<br />
রাতে চাঁদ দেখতে আমার খুব<br />
ভালো লাগে। এক সময় নিয়মিত চাঁদ<br />
দেখতাম কিন্তু এখন আর পারি না।<br />
স্বার্থপর এই পৃথিবীতে আর<br />
ভালো লাগেনা। অসহ্য লাগচ্ছে সব<br />
কিছু।<br />
এখানে যার আছে তার সবই আছে,<br />
আর যার নেই তার কিছুই নেই। একদল<br />
আছে চাইলেও পায়না, আর একদল<br />
আছে না চাইতেই সব পেয়ে যায়।<br />
এমনটা কেনো হয়?????<br />
why????]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[একটি না পাওয়া ভালোবাসার সমাপ্তি]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=3282</link>
			<pubDate>Tue, 02 Jan 2018 09:32:47 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=839">Abir</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=3282</guid>
			<description><![CDATA[ছেলেটার নাম অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে।।<br />
মেয়েটার নাম এখন মনে নাই। তারা দুই জন ইন্টারে একই<br />
ক্লাসে পড়ে ।ছেলেটা ক্লাসের প্রথম দিন<br />
মেয়েটাকে দেখে ভালোবেসে ফেলে।<br />
ছেলেটা মেয়েটাকে ভালোবাসতো এটা কেউ<br />
জানতো না এমনকি মেয়েটা ও না। কয়েকদিন পর ক্লাসের<br />
সবাই জেনে যায় ছেলেটা মেয়েটাকে ভালোবাসে ।<br />
দেখতে দেখতে কেটে যায় অনেক দিন। তারপর<br />
কম্পিউটার একটি কোর্সে তার বন্ধুদের সাথে ছেলেটা<br />
ভর্তি হয়। সেখানে মেয়েটা ও ভর্তি হয়। কম্পিউটার<br />
ক্লাসে বন্ধুদের সাথে দুষ্টামি করতে করতে কখন যে<br />
ছয় মাস চলে যায় তা টের ও পেল না। কিন্তুু মেয়েটাকে<br />
ছেলেটা এখনো বলেনি আমি তোমাকে ভালোবাসি।<br />
তারপর তার বন্ধুরা সবাই বলে তুই মেয়েটাকে তোর<br />
জীবনের চাইতে অনেক ভালোবাসিস তাকে বলে দেয়<br />
তুই তাকে ভালোবাসিস । তারপর ছেলেটা সিদ্ধান্ত নিল<br />
মেয়েটাকে প্রপোজ করবে। কিন্তুু কিভাবে করবে<br />
বুজতে পারছে না। হঠাৎ একজন বন্ধু ছেলেটাকে<br />
মেয়েটার নাম্বার দিল। ছেলেটা মেয়েটাকে কল দিয়ে<br />
তার ভালোবাসার কথা বললো কিন্তুু মেয়েটা ছেলেটাকে<br />
পাত্তা দিলো না। ছেলেটা তার হাত কেটে মেয়েটার নাম<br />
তার হাতে লেখে। ছেলেটা তার জীবনের চাইতে ও<br />
মেয়েটাকে অনেক ভালোবাসতো। কিন্তুু মেয়েটা<br />
ছেলেটাকে বুঝতে পারলো না। ছেলেটা<br />
মেয়েটাকে যখন তার ভালোবাসার কথা আবার বলে। তখন<br />
মেয়েটা ছেলেটাকে বলে এটা নাকি আবেগের<br />
ভালোবাসা বিবেগের না। তখন ছেলেটার কান্না কে<br />
দেখে। ছেলেটা পড়া-শুনা ঠিক মত করে না। পড়তে<br />
বসলে মেয়েটার কথা তার মনে হয়। খাওয়া-দাওয়া ঠিক মত<br />
করে না । ঘুম ও ঠিক মত যায় না। দেখতে দেখতে কবে<br />
যে এক বছর চলে গেল তা টের ও পেল না ছেলেটা।<br />
রমজান মাস চলে আসলো। কলেজ ও বন্ধ দিল এক মাস দশ<br />
দিন। ছেলেটা মেয়েটাকে এক নজর দেখার জন্য<br />
প্রত্যেক দিন কলেজে যেত। এখন কলেজ ও বন্ধ<br />
ছেলেটা মেয়েটাকে তো আর দেখতে পাবে না<br />
এখন কি করবে বুঝতে পারছে না। তাই ছেলেটা তার এক<br />
বান্ধুবীর কাছে মেয়েটার ছবি চাইলো কিন্তুু তার বান্ধুবী<br />
তাকে মেয়েটার ছবি দিল না। ছেলেটা মেয়েটা এক নজর<br />
দেখার জন্য পাগলের মত হয়ে গিয়েছিল। কি আর করা<br />
ছেলেটা মেয়েটাকে এক নজর দেখার জন্য মেয়েটার<br />
বাড়ি গিয়েছিল। অনেক চেষ্টার পর ও মেয়েটাকে পাওয়া<br />
যায়নি। সেইদিন ভরাকান্ত মন নিয়ে ছেলেটা ফিরে আসে।<br />
তিন-চার দিন পর ছেলেটা আবার মেয়েটার বাড়ি যায়। সেই দিন<br />
মেয়েটার সাথে তার দেখা হয় এবং অনেক কথা হয়।<br />
মেয়েটার সাথে দেখা করে আসার পর ছেলেটা লম্বা<br />
একটা ঘুম দেয়। অনেক দিন পর ছেলেটা ঘুম গেল। তারপর<br />
ছেলেটা মেয়েটার একটা ছবি সংগ্রহ করে ছবিটা<br />
দেখতো আর ছবিটার সাথে কথা বলতো। রমজান মাস শেষ<br />
হয়ে গেল। ঈদ ও শেষ কলেজ ও খুলেছে। কিন্তুু<br />
মেয়েটা কলেজে এখন আর আগের মত আসে না। কারণ<br />
মেয়েটার আব্বু অসুস্থ তার আব্বুকে ঢাকায় একটা হাসপাতালে<br />
ভর্তি করছে। তার আব্বু সুস্থ হয়ে বাড়ি আসলো। কিন্তুু<br />
মেয়েটা তুবু ও কলেজে আসে না। কলেজে আসলে<br />
ও এক দিন দুই দিন আসে। হঠাৎ একদিন সন্ধ্যায় ছেলেটার<br />
মোবাইলে মেসেজ আসে। মেসেজটা দেখে<br />
ছেলেটার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। মেসেজটা<br />
ছিল এইরকম, ফাতেমার বিয়ে দশ তারিখ।<br />
তখন ছেলেটার কান্না কে দেখে। ছেলেটা লুকিয়ে<br />
লুকিয়ে কাদে। সবার সামনে হাসি-খুশি থাকে ছেলেটা। কিন্তুু<br />
ভিতরে তার বুক ফেটে যাচ্ছে সেটা কাউকে বুজতে<br />
দিচ্ছে না।কিন্তু কি আর করা ছেলেটার যে আর কিছু করার<br />
নেই। ছেলেটা শেষ যেদিন দেখেছিল মেয়েটাকে<br />
কলেজে দেখেছিল সেইদিন ছেলেটার কি অবস্তা<br />
হয়েছিল সেটা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। মেয়েটার<br />
বিয়ের আর যে কয়দিন ছিল ছেলেটা পাগলের মত হয়ে<br />
গিয়েছিল। এখন আর যে কিছুই করার নেই। মেয়েটার<br />
যেদিন সন্ধা হলুদ সেদিন ছেলেটা সবাইকে মোবাইল<br />
করে গান শুনায়। গানটা ছিল এরকম<br />
“ওরে মাটি হব মাটি<br />
কেন কর কান্নাকাটি<br />
আতর আনো , লোবান আনো<br />
সাজাও আমায় পরিপাটি”<br />
সবাইকে একটা মেসেজ দিয়ে সবার থেকে মাপ ছেয়ে<br />
নিয়েছে ছেলেটা।অনেকেই মনে করেছে<br />
ছেলেটা শয়তানি করে। কিন্তু কি থেকে কি হয়ে গেল<br />
কেউ কল্পনা ও করতে পারলো না। মেয়েটার যেদিন<br />
বিয়ে সেইদিন ছেলেটা অবস্তা খুব খারাপ ছিল। মেয়েটা<br />
বিয়ের দিন যে সময় গোসল করেছিল ছেলেটা ও সেই<br />
সময় গোসল করেছিল। মেয়েটা যে সময় টুকটুকে লাল<br />
শাড়ি পড়েছিল। ছেলেটা ও সেই যে সময় দপদপে সাদা<br />
কাপড় পড়েছিল।মেয়েটা যে সময় গাড়ি করে তার শুশুর বাড়ি<br />
যাচিছল। ছেলেটা ও সেই যে সময় খাটনি করে কবরের<br />
দিকে যাচিছল। মেয়েটা গেল বাসর ঘরে আর ছেলেটা ও<br />
তখন চলে যায় এমন এক দেশে যেখান থেকে কেউ<br />
আর কোনোদিন ফিরে আসতে পারে না। আর কোনদিন<br />
ছেলেটা বলবে না আমি তোমাকে ভালোবাসি।<br />
আর কোনদিন তোমার জন্য অপেক্ষা করবে না।<br />
আর কোন দিন তোমার কলেজে আসা পথের দিকে<br />
চেয়ে থাকবে না।<br />
আর কোনদিন তোমাকে এক নজর দেখার জন্য পাগলের<br />
মত কোথায় ও ছুটে যাবে না।<br />
<br />
post: হেমন্তে বর্ষায় আমি]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[ছেলেটার নাম অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে।।<br />
মেয়েটার নাম এখন মনে নাই। তারা দুই জন ইন্টারে একই<br />
ক্লাসে পড়ে ।ছেলেটা ক্লাসের প্রথম দিন<br />
মেয়েটাকে দেখে ভালোবেসে ফেলে।<br />
ছেলেটা মেয়েটাকে ভালোবাসতো এটা কেউ<br />
জানতো না এমনকি মেয়েটা ও না। কয়েকদিন পর ক্লাসের<br />
সবাই জেনে যায় ছেলেটা মেয়েটাকে ভালোবাসে ।<br />
দেখতে দেখতে কেটে যায় অনেক দিন। তারপর<br />
কম্পিউটার একটি কোর্সে তার বন্ধুদের সাথে ছেলেটা<br />
ভর্তি হয়। সেখানে মেয়েটা ও ভর্তি হয়। কম্পিউটার<br />
ক্লাসে বন্ধুদের সাথে দুষ্টামি করতে করতে কখন যে<br />
ছয় মাস চলে যায় তা টের ও পেল না। কিন্তুু মেয়েটাকে<br />
ছেলেটা এখনো বলেনি আমি তোমাকে ভালোবাসি।<br />
তারপর তার বন্ধুরা সবাই বলে তুই মেয়েটাকে তোর<br />
জীবনের চাইতে অনেক ভালোবাসিস তাকে বলে দেয়<br />
তুই তাকে ভালোবাসিস । তারপর ছেলেটা সিদ্ধান্ত নিল<br />
মেয়েটাকে প্রপোজ করবে। কিন্তুু কিভাবে করবে<br />
বুজতে পারছে না। হঠাৎ একজন বন্ধু ছেলেটাকে<br />
মেয়েটার নাম্বার দিল। ছেলেটা মেয়েটাকে কল দিয়ে<br />
তার ভালোবাসার কথা বললো কিন্তুু মেয়েটা ছেলেটাকে<br />
পাত্তা দিলো না। ছেলেটা তার হাত কেটে মেয়েটার নাম<br />
তার হাতে লেখে। ছেলেটা তার জীবনের চাইতে ও<br />
মেয়েটাকে অনেক ভালোবাসতো। কিন্তুু মেয়েটা<br />
ছেলেটাকে বুঝতে পারলো না। ছেলেটা<br />
মেয়েটাকে যখন তার ভালোবাসার কথা আবার বলে। তখন<br />
মেয়েটা ছেলেটাকে বলে এটা নাকি আবেগের<br />
ভালোবাসা বিবেগের না। তখন ছেলেটার কান্না কে<br />
দেখে। ছেলেটা পড়া-শুনা ঠিক মত করে না। পড়তে<br />
বসলে মেয়েটার কথা তার মনে হয়। খাওয়া-দাওয়া ঠিক মত<br />
করে না । ঘুম ও ঠিক মত যায় না। দেখতে দেখতে কবে<br />
যে এক বছর চলে গেল তা টের ও পেল না ছেলেটা।<br />
রমজান মাস চলে আসলো। কলেজ ও বন্ধ দিল এক মাস দশ<br />
দিন। ছেলেটা মেয়েটাকে এক নজর দেখার জন্য<br />
প্রত্যেক দিন কলেজে যেত। এখন কলেজ ও বন্ধ<br />
ছেলেটা মেয়েটাকে তো আর দেখতে পাবে না<br />
এখন কি করবে বুঝতে পারছে না। তাই ছেলেটা তার এক<br />
বান্ধুবীর কাছে মেয়েটার ছবি চাইলো কিন্তুু তার বান্ধুবী<br />
তাকে মেয়েটার ছবি দিল না। ছেলেটা মেয়েটা এক নজর<br />
দেখার জন্য পাগলের মত হয়ে গিয়েছিল। কি আর করা<br />
ছেলেটা মেয়েটাকে এক নজর দেখার জন্য মেয়েটার<br />
বাড়ি গিয়েছিল। অনেক চেষ্টার পর ও মেয়েটাকে পাওয়া<br />
যায়নি। সেইদিন ভরাকান্ত মন নিয়ে ছেলেটা ফিরে আসে।<br />
তিন-চার দিন পর ছেলেটা আবার মেয়েটার বাড়ি যায়। সেই দিন<br />
মেয়েটার সাথে তার দেখা হয় এবং অনেক কথা হয়।<br />
মেয়েটার সাথে দেখা করে আসার পর ছেলেটা লম্বা<br />
একটা ঘুম দেয়। অনেক দিন পর ছেলেটা ঘুম গেল। তারপর<br />
ছেলেটা মেয়েটার একটা ছবি সংগ্রহ করে ছবিটা<br />
দেখতো আর ছবিটার সাথে কথা বলতো। রমজান মাস শেষ<br />
হয়ে গেল। ঈদ ও শেষ কলেজ ও খুলেছে। কিন্তুু<br />
মেয়েটা কলেজে এখন আর আগের মত আসে না। কারণ<br />
মেয়েটার আব্বু অসুস্থ তার আব্বুকে ঢাকায় একটা হাসপাতালে<br />
ভর্তি করছে। তার আব্বু সুস্থ হয়ে বাড়ি আসলো। কিন্তুু<br />
মেয়েটা তুবু ও কলেজে আসে না। কলেজে আসলে<br />
ও এক দিন দুই দিন আসে। হঠাৎ একদিন সন্ধ্যায় ছেলেটার<br />
মোবাইলে মেসেজ আসে। মেসেজটা দেখে<br />
ছেলেটার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। মেসেজটা<br />
ছিল এইরকম, ফাতেমার বিয়ে দশ তারিখ।<br />
তখন ছেলেটার কান্না কে দেখে। ছেলেটা লুকিয়ে<br />
লুকিয়ে কাদে। সবার সামনে হাসি-খুশি থাকে ছেলেটা। কিন্তুু<br />
ভিতরে তার বুক ফেটে যাচ্ছে সেটা কাউকে বুজতে<br />
দিচ্ছে না।কিন্তু কি আর করা ছেলেটার যে আর কিছু করার<br />
নেই। ছেলেটা শেষ যেদিন দেখেছিল মেয়েটাকে<br />
কলেজে দেখেছিল সেইদিন ছেলেটার কি অবস্তা<br />
হয়েছিল সেটা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। মেয়েটার<br />
বিয়ের আর যে কয়দিন ছিল ছেলেটা পাগলের মত হয়ে<br />
গিয়েছিল। এখন আর যে কিছুই করার নেই। মেয়েটার<br />
যেদিন সন্ধা হলুদ সেদিন ছেলেটা সবাইকে মোবাইল<br />
করে গান শুনায়। গানটা ছিল এরকম<br />
“ওরে মাটি হব মাটি<br />
কেন কর কান্নাকাটি<br />
আতর আনো , লোবান আনো<br />
সাজাও আমায় পরিপাটি”<br />
সবাইকে একটা মেসেজ দিয়ে সবার থেকে মাপ ছেয়ে<br />
নিয়েছে ছেলেটা।অনেকেই মনে করেছে<br />
ছেলেটা শয়তানি করে। কিন্তু কি থেকে কি হয়ে গেল<br />
কেউ কল্পনা ও করতে পারলো না। মেয়েটার যেদিন<br />
বিয়ে সেইদিন ছেলেটা অবস্তা খুব খারাপ ছিল। মেয়েটা<br />
বিয়ের দিন যে সময় গোসল করেছিল ছেলেটা ও সেই<br />
সময় গোসল করেছিল। মেয়েটা যে সময় টুকটুকে লাল<br />
শাড়ি পড়েছিল। ছেলেটা ও সেই যে সময় দপদপে সাদা<br />
কাপড় পড়েছিল।মেয়েটা যে সময় গাড়ি করে তার শুশুর বাড়ি<br />
যাচিছল। ছেলেটা ও সেই যে সময় খাটনি করে কবরের<br />
দিকে যাচিছল। মেয়েটা গেল বাসর ঘরে আর ছেলেটা ও<br />
তখন চলে যায় এমন এক দেশে যেখান থেকে কেউ<br />
আর কোনোদিন ফিরে আসতে পারে না। আর কোনদিন<br />
ছেলেটা বলবে না আমি তোমাকে ভালোবাসি।<br />
আর কোনদিন তোমার জন্য অপেক্ষা করবে না।<br />
আর কোন দিন তোমার কলেজে আসা পথের দিকে<br />
চেয়ে থাকবে না।<br />
আর কোনদিন তোমাকে এক নজর দেখার জন্য পাগলের<br />
মত কোথায় ও ছুটে যাবে না।<br />
<br />
post: হেমন্তে বর্ষায় আমি]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[লাভ ডায়রি: যে ভালোবাসায় হার মেনে যায় সব দুরত্ব]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=3162</link>
			<pubDate>Tue, 29 Aug 2017 09:17:21 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=3162</guid>
			<description><![CDATA[ভালোবাসার গল্প বলতেই আমরা বুঝি ভালোলাগা, ভালোবাসা, কম-বেশি কিছুটা সময় প্রেমের পর একটা ঝলমলে ভালবাসার গল্প। বিয়ের পরের গল্পটা কেমন? পরিবার থেকে অ্যারেঞ্জ করে যাদের বিয়ে হয়, তাদের বুঝি ভালোবাসা নেই জীবনে? আছে অবশ্যই। আর তাই আজকের লাভ ডায়েরি একটি অ্যারেঞ্জড ম্যারেজকে ঘিরে, যেখানে ভালোবাসার শুরুটা হয়েছে বিয়েরও অনেক পরে!<br />
<br />
মীম-রাকিব ০১<br />
<br />
আজকের গল্পের নায়িকা হলেন তানজিনা আফরোজ মীম। আর সময়টা হলো ২০১২ সাল। তখন তিনি বয়সে ছিলেন খুবই ছোট, মাত্র দশম শ্রেণীতে পড়ছিলেন। এই বয়সে বিয়ে তো দুরের কথা, ভালোবাসার কথাও মাথায় আসেনি তার কখনো। <br />
<br />
এই সময়েই দৃশ্যপট পরিবর্তন, তার জীবনে আগমন রাকিবুল ইসলামের। মীমের মায়ের প্রিয় বান্ধবী ছিলেন রাকিবুল ইসলামের খালা, তাই মেয়ে দেখার সময়ে প্রথমেই তার খোঁজ নেওয়া হয়। কিন্তু বয়স অনেক কম থাকায় পরপর দুই বার তাতে না করে দেন মীমের পরিবার। অবশেষে বিয়েটা হয় ঠিকই, মীম কিছু বুঝে ওঠার আগেই। বিয়ের দুদিন আগে তারা হঠাৎ মেয়ে দেখতে আসেন, সে সময়ে রাকিবকে প্রথম এক পলক দেখেন মীম।<br />
<br />
মীম-রাকিব ০২<br />
<br />
খারাপ লাগেনি মানুষটিকে। কিন্তু বিয়ে ব্যাপারটাই তার কাছে অনেক নতুন। সবার ওপরে খুব রাগ হচ্ছিলো মীমের। দুজনের বয়স অল্প হবার কারণে প্রথম প্রথম রাকিবকে একেবারেই পাত্তা দিতেন না মীম। ঠিকমতো কথা বলতেন না, ভালো করে তাকিয়ে দেখেন না, এমনকি বকাঝকা করতেও ছাড়েন না!<br />
<br />
এমন করলে অনেক মানুষই হয়তো বিরক্ত হয়ে যেত স্ত্রীর ওপরে, পাল্টা দুর্ব্যবহার করতো। কিন্তু রাকিব তা করেননি। কোনোদিন খারাপ ব্যবহার তো দুরের কথা, স্ত্রীকে দিয়েছেন অসীম ধৈর্যের পরিচয়, পাশে থেকেছেন বন্ধুর মতো। <br />
<br />
মীম-রাকিব ০৪<br />
<br />
তখনো মীম বুঝে উঠতে পারেননি ভালোবাসা শেকড় ছড়াচ্ছে তার হৃদয়ে।বিয়ের ৫ মাসের মাথায় রাকিব ইটালি চলে গেলেন চাকরির জন্য। তখনই মীম টের পান, ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছেন নিপাট এই ভদ্রলোকটিকে। বিয়ের আগে কখনো ভালোবাসা বুঝেই উঠতে পারেননি, কাউকে ভালোলাগেনি, ছিলেন অনেকটা যন্ত্রের মতো। কখনো ভাবেননি তাকে কেউ ভালোবাসবে। তাকে একটু একটু করে ভালোবাসায় ডুবিয়ে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন এই মানুষটিই।  <br />
<br />
বিয়ের পর ৫ বছর ভীষণ কষ্টে ছিলেন তারা। কারণ রাকিব ছিলেন ইটালিতে আর মীম বাংলাদেশে। ভালোবাসার মানুষটির থেকে এতটা সময় দূরে থাকার যন্ত্রণা বলে বোঝানো যায় না। ভালোবাসার পুরোটাই ছিল ফোন নির্ভর। কিন্তু দুরত্ব আর সময় তার ভালোবাসাকে ম্লান করেনি, করেছে আরও গাড়। এখন মীম ইটালিতে, সাজাচ্ছেন নিজের ছোট্ট সংসারটি। <br />
<br />
মীম-রাকিব<br />
<br />
টোনাটুনির ছোট্ট সংসার সাজাতে গিয়ে মীম বুঝেছেন, ভালো প্রেমিক ও ভালো বন্ধু হিসেবে স্বামীকে পেয়ে কতটা ভাগ্যবতী তিনি। তাই তিনিও সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করে মানুষটিকে খুশি রাখার। তার সংসারে কোনো অভিযোগের সুযোগই আসে না! অ্যারেঞ্জড ম্যারেজকে যারা ভাবে লাভ ম্যারেজের তুলনায় কম বর্ণীল, তাদের ভুল প্রমাণ করে দেয় মীম ও রাকিবের এই ভালোবাসা।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[ভালোবাসার গল্প বলতেই আমরা বুঝি ভালোলাগা, ভালোবাসা, কম-বেশি কিছুটা সময় প্রেমের পর একটা ঝলমলে ভালবাসার গল্প। বিয়ের পরের গল্পটা কেমন? পরিবার থেকে অ্যারেঞ্জ করে যাদের বিয়ে হয়, তাদের বুঝি ভালোবাসা নেই জীবনে? আছে অবশ্যই। আর তাই আজকের লাভ ডায়েরি একটি অ্যারেঞ্জড ম্যারেজকে ঘিরে, যেখানে ভালোবাসার শুরুটা হয়েছে বিয়েরও অনেক পরে!<br />
<br />
মীম-রাকিব ০১<br />
<br />
আজকের গল্পের নায়িকা হলেন তানজিনা আফরোজ মীম। আর সময়টা হলো ২০১২ সাল। তখন তিনি বয়সে ছিলেন খুবই ছোট, মাত্র দশম শ্রেণীতে পড়ছিলেন। এই বয়সে বিয়ে তো দুরের কথা, ভালোবাসার কথাও মাথায় আসেনি তার কখনো। <br />
<br />
এই সময়েই দৃশ্যপট পরিবর্তন, তার জীবনে আগমন রাকিবুল ইসলামের। মীমের মায়ের প্রিয় বান্ধবী ছিলেন রাকিবুল ইসলামের খালা, তাই মেয়ে দেখার সময়ে প্রথমেই তার খোঁজ নেওয়া হয়। কিন্তু বয়স অনেক কম থাকায় পরপর দুই বার তাতে না করে দেন মীমের পরিবার। অবশেষে বিয়েটা হয় ঠিকই, মীম কিছু বুঝে ওঠার আগেই। বিয়ের দুদিন আগে তারা হঠাৎ মেয়ে দেখতে আসেন, সে সময়ে রাকিবকে প্রথম এক পলক দেখেন মীম।<br />
<br />
মীম-রাকিব ০২<br />
<br />
খারাপ লাগেনি মানুষটিকে। কিন্তু বিয়ে ব্যাপারটাই তার কাছে অনেক নতুন। সবার ওপরে খুব রাগ হচ্ছিলো মীমের। দুজনের বয়স অল্প হবার কারণে প্রথম প্রথম রাকিবকে একেবারেই পাত্তা দিতেন না মীম। ঠিকমতো কথা বলতেন না, ভালো করে তাকিয়ে দেখেন না, এমনকি বকাঝকা করতেও ছাড়েন না!<br />
<br />
এমন করলে অনেক মানুষই হয়তো বিরক্ত হয়ে যেত স্ত্রীর ওপরে, পাল্টা দুর্ব্যবহার করতো। কিন্তু রাকিব তা করেননি। কোনোদিন খারাপ ব্যবহার তো দুরের কথা, স্ত্রীকে দিয়েছেন অসীম ধৈর্যের পরিচয়, পাশে থেকেছেন বন্ধুর মতো। <br />
<br />
মীম-রাকিব ০৪<br />
<br />
তখনো মীম বুঝে উঠতে পারেননি ভালোবাসা শেকড় ছড়াচ্ছে তার হৃদয়ে।বিয়ের ৫ মাসের মাথায় রাকিব ইটালি চলে গেলেন চাকরির জন্য। তখনই মীম টের পান, ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছেন নিপাট এই ভদ্রলোকটিকে। বিয়ের আগে কখনো ভালোবাসা বুঝেই উঠতে পারেননি, কাউকে ভালোলাগেনি, ছিলেন অনেকটা যন্ত্রের মতো। কখনো ভাবেননি তাকে কেউ ভালোবাসবে। তাকে একটু একটু করে ভালোবাসায় ডুবিয়ে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন এই মানুষটিই।  <br />
<br />
বিয়ের পর ৫ বছর ভীষণ কষ্টে ছিলেন তারা। কারণ রাকিব ছিলেন ইটালিতে আর মীম বাংলাদেশে। ভালোবাসার মানুষটির থেকে এতটা সময় দূরে থাকার যন্ত্রণা বলে বোঝানো যায় না। ভালোবাসার পুরোটাই ছিল ফোন নির্ভর। কিন্তু দুরত্ব আর সময় তার ভালোবাসাকে ম্লান করেনি, করেছে আরও গাড়। এখন মীম ইটালিতে, সাজাচ্ছেন নিজের ছোট্ট সংসারটি। <br />
<br />
মীম-রাকিব<br />
<br />
টোনাটুনির ছোট্ট সংসার সাজাতে গিয়ে মীম বুঝেছেন, ভালো প্রেমিক ও ভালো বন্ধু হিসেবে স্বামীকে পেয়ে কতটা ভাগ্যবতী তিনি। তাই তিনিও সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করে মানুষটিকে খুশি রাখার। তার সংসারে কোনো অভিযোগের সুযোগই আসে না! অ্যারেঞ্জড ম্যারেজকে যারা ভাবে লাভ ম্যারেজের তুলনায় কম বর্ণীল, তাদের ভুল প্রমাণ করে দেয় মীম ও রাকিবের এই ভালোবাসা।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[ভালোবাসা অমর হয়ে রয়]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2573</link>
			<pubDate>Thu, 09 Mar 2017 04:09:37 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=561">মোঃ আলমামুন আলম আরজু</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2573</guid>
			<description><![CDATA[এই পৃথিবীতে একজন আরেকজনকে ভালোবাসবে এটাই স্বাভাবিক।কিন্তু যদি সেই ভালোবাসা অন্য কেউ এসে কেড়ে নেয়।তখন ও কিন্তু ভালোবাসার মানুষকে ভুলা যায় না।<br /><!-- start: postbit_attachments_attachment -->
<br /><!-- start: attachment_icon -->
<img src="http://forums.likebd.com/images/attachtypes/image.png" title="JPG Image" border="0" alt=".jpg" />
<!-- end: attachment_icon -->&nbsp;&nbsp;<a href="attachment.php?aid=88" target="_blank" title="">ট.jpg</a> (Size: 11.39 KB / Downloads: 1)
<!-- end: postbit_attachments_attachment -->]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[এই পৃথিবীতে একজন আরেকজনকে ভালোবাসবে এটাই স্বাভাবিক।কিন্তু যদি সেই ভালোবাসা অন্য কেউ এসে কেড়ে নেয়।তখন ও কিন্তু ভালোবাসার মানুষকে ভুলা যায় না।<br /><!-- start: postbit_attachments_attachment -->
<br /><!-- start: attachment_icon -->
<img src="http://forums.likebd.com/images/attachtypes/image.png" title="JPG Image" border="0" alt=".jpg" />
<!-- end: attachment_icon -->&nbsp;&nbsp;<a href="attachment.php?aid=88" target="_blank" title="">ট.jpg</a> (Size: 11.39 KB / Downloads: 1)
<!-- end: postbit_attachments_attachment -->]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[গল্পঃ প্রেম নেই]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2555</link>
			<pubDate>Wed, 01 Mar 2017 11:48:46 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2555</guid>
			<description><![CDATA[নিশাতকে কড়া ধমক দিয়ে চুপচাপ<br />
দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছি। স্থান,<br />
বাড়ির<br />
ছাদ। সময়, অপরাহ্নের সবে শুরু।<br />
বাতাস বইছে, বাতাসে বসন্তের<br />
মনোমূগ্ধকর সজীব ঘ্রাণ। আকাশে<br />
চনমনে রোদ। যতটা না বাতাস বইছে<br />
রোদ পড়ছে তারচেয়ে বেশি। তবু এই<br />
গরমে ছাদে দাঁড়িয়ে থাকতে দারুণ<br />
লাগছে। আমার পাশে এখনও নিশাত<br />
দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটা ভীষণ চঞ্চল<br />
প্রকৃতির, দুষ্টুমির ছলে আমার<br />
হাতের সিগারেটে একটান দিতে<br />
চেয়েছিল। এজন্যই তাকে ধমক<br />
দিয়েছি। হঠাৎ আমার ঠোঁট থেকে সে<br />
সিগারেট কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে<br />
দিলো।<br />
-&gt; এটা কী হল? (আমি)<br />
-&gt; প্রতিশোধ নিলাম, আপনি আমায়<br />
ধমক দেবেন আর আমি চুপ করে<br />
থাকব নাকি?<br />
(নিশাত)<br />
-&gt; প্রতিশোধ নেয়া হয়েছে? এবার<br />
দয়া করে যাও।<br />
-&gt; যাব না।<br />
-&gt; ঠিক আছে, আমিই চলে যাচ্ছি।<br />
আমি পা বাড়াতেই সে আমার হাতটি<br />
ধরলো। চেয়ে রইলো আমার মুখের<br />
দিকে। তার সেই চাহনিতে আমি<br />
খানিকটা দেউলিয়া হয়ে গেলাম,<br />
পরমুহূর্তেই নিজেকে সামলে নিয়ে<br />
বলি, হাত ধরছ কেন তুমি?<br />
-&gt; আমার ইচ্ছা হয়েছে তাই।<br />
-&gt; আমারও কিন্তু ইচ্ছা-অনিচ্ছা বলে<br />
একটা ব্যাপার আছে।<br />
-&gt; কী করবেন আপনি, চড় মারবেন?<br />
আমি নির্বিকার গলায় বলি, হ্যা<br />
দরকার হলে তাও করতে পারি।<br />
-&gt; পারলে তাই করুন।<br />
সে নরম কন্ঠে বলে, তাতে অন্তত<br />
আমার গালে আপনার হাতের স্পর্শ<br />
থাকবে।<br />
আমি বিব্রত হয়ে বলি, নিশাত,<br />
তোমার সমস্যা কী?<br />
-&gt; আমি নিজেও জানি না। মনে হয়<br />
আমি আপনার প্রেমে পড়েছি।<br />
এটা বলেই সে ছুটে গিয়ে ছাদ থেকে<br />
প্রস্থান করলো। আর আমি অবাক<br />
হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।<br />
.<br />
পরদিনের ঘটনা। সকালবেলা<br />
বারান্দায় দাঁড়িয়ে টবে লাগানো<br />
ফুলগাছগুলোয় পানি স্প্রে করছি,<br />
তখন বসার ঘর থেকে মা নাম ধরে<br />
ডাকলো, এই জামিল, এদিকে আয়<br />
তো বাবা।<br />
আমি বসার ঘরে গিয়ে দেখি<br />
সেখানে<br />
মা আর পাশের ফ্ল্যাটের আন্টি<br />
অর্থাৎ নিশাতের মা একসাথে বসে<br />
আড্ডা দিচ্ছেন। আমাকে দেখে<br />
আন্টি বলেন, কেমন আছ খোকা?<br />
-&gt; জ্বী ভাল। আপনি ভাল আছেন<br />
তো?<br />
-&gt; আছি তো কোনোরকম...<br />
মেয়েটাকে নিয়ে চিন্তায় আছি।<br />
-&gt; কেন, নিশাত আবার কী করলো<br />
আন্টি?<br />
-&gt; কিছুই না। আসলে ওর সামনে<br />
ম্যাট্টিক পরীক্ষা তো তাই চিন্তায়<br />
আছি।<br />
-&gt; ও আচ্ছা।<br />
-&gt; তুমি তো খোকা অনেক ভাল<br />
ছাত্র, ওকে একটু পড়িয়ে দেখো<br />
তো, কেমন?<br />
আমার মাথায় তখন কী কাজ করছিল<br />
কে জানে, সরাসরি 'হ্যা' বলে<br />
দিলাম।<br />
এরজন্য নিজের ওপর যারপরনাই<br />
বিরক্ত হলাম। কিন্তু কী আর করা<br />
কথা তো ফিরিয়ে নিতে পারি না।<br />
.<br />
একদিন সন্ধ্যায় নিশাতকে পড়াতে<br />
গেলাম। ওর শোবার ঘরের পড়ার<br />
টেবিলে মুখোমুখি বসে ঘরটাতে<br />
ভালমত চোখ বুলিয়ে নিতে লাগলাম,<br />
যদিও তার কোনো দরকার ছিল না।<br />
জাস্ট কৌতূহল আর কী। মেয়েদের<br />
ঘর যেমনি গোছানো হয় নিশাতের<br />
ঘরও তেমন। ঘরের বিছানার<br />
বেডশীটটা চমৎকার, একেবারে<br />
আকাশের মত নীল রঙের, ঘরের<br />
দেয়ালে হৃত্বিক রোশন থেকে শুরু<br />
করে টম ক্রুজের ছবি পর্যন্ত আছে।<br />
দেয়ালের একটি জায়গায় নিশাত<br />
লিখে রেখেছে---এখানে আমিই বস।<br />
ঘরটা দেখে বেশ ভাল লাগলো। আমি<br />
ঘরের সাজসজ্জা থেকে দৃষ্টি<br />
ফিরিয়ে এনে এবার টেবিলে<br />
দৃষ্টিটাকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা<br />
করি। অযথাই একটা বলপয়েন্ট কলম<br />
হাতে তুলে নিয়ে বলি, তাহলে<br />
পড়াশোনা শুরু করা যাক?<br />
-&gt; ঠিক আছে।<br />
-&gt; কোন সাবজেক্ট তোমার সবচেয়ে<br />
কঠিন মনে হয়?<br />
-&gt; ম্যাথ।<br />
-&gt; তুমি নিশ্চয় সায়েন্সে?<br />
-&gt; আপনি বুঝি জানেন না?<br />
-&gt; হুম জানি। এম্নি বললাম আর কী।<br />
তা ম্যাথের মধ্যে বেশি কঠিন লাগে<br />
কোনটা?<br />
-&gt; হাইয়ার ম্যাথ।<br />
-&gt; হুম। হাইয়ার ম্যাথের কোন অংক<br />
বেশি জটিল লাগে?<br />
নিশাত বিরক্ত হয়ে বলে, উফ, বড্ড<br />
প্রশ্ন করতে পারেন আপনি।<br />
আমি হাসতে হাসতে হাইয়ার ম্যাথ<br />
সাবজেক্টটা হাতে তুলে নিই, বলি,<br />
তাই না?<br />
-&gt; হুম।<br />
আমি বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে<br />
বলি, বীজগণিত, ত্রিকোণমিতি,<br />
জ্যামিতি। শুরুতে বীজগণিত করব,<br />
কেমন?<br />
-&gt; না, আগে ত্রিকোণমিতি।<br />
-&gt; ঠিক আছে, তাই হোক। বলো তো<br />
ট্যারা লম্বা ভূত অর্থ কী?<br />
-&gt; ট্যান ইকুয়াল টু লম্ব ভাগ ভূমি।<br />
-&gt; গুড। ট্যান নাইনটি ডিগ্রীর মান<br />
বলো।<br />
সে বলতে পারল না। এরপর<br />
বীজগণিতের একটা সূত্রও<br />
জিজ্ঞেস করলাম, সেটাতেও ভাড়ে<br />
মা ভবানী। আমার মনটা সামান্য<br />
খারাপ হয়ে গেল। অংক আমার কাছে<br />
প্রিয় সাবজেক্ট। যার আয়ত্তে<br />
অংক নেই তাকে আমি বোকা বলে<br />
ধরে নিই। নিশাত বোকা নয়।<br />
তারমানে<br />
সে অমনোযোগী। আমি কি পারব<br />
তাকে ঠিকমত পড়াতে? প্রশ্নটা<br />
নাগালের বাইরে থাকায় খানিকটা<br />
বিভ্রান্ত হয়ে যায় আমি।<br />
.<br />
অবশ্য পরবর্তীতে এই বিভ্রান্তি<br />
কেটে গেল যখন লক্ষ্য করি নিশাত<br />
দ্রুত শিখতে পারে। তার এই গুণ দেখে<br />
আমার মাঝে উৎসাহের সঞ্চার ঘটে।<br />
আমি আগ্রহ নিয়ে তাকে পড়াতে<br />
থাকি। একঘন্টা পড়ায়, এই<br />
একঘন্টায় অবশ্য সে এদিক-ওদিক<br />
করে পনের-বিশ মিনিট অযথাই নষ্ট<br />
করে দেয়। যেমন সেদিন পড়ানোর<br />
ফাঁকে তার মুঠোফোন বেজে ওঠে।<br />
সে বলে, লিলির এসএমএস। আমার<br />
বান্ধবী, একটু রিপ্লাই দিই প্লীজ।<br />
-&gt; পারমিশন চাইছ?<br />
-&gt; হুম।<br />
আমি হেসে বলি, ঠিক আছে।<br />
নিশাত রিপ্লাই দিতে দিতে হঠাৎ<br />
খানিকটা হেসে ফেলে। হাসলে<br />
মেয়েটার গালে টোল পড়ে। দেখতে<br />
ভারী মিষ্টি লাগে তখন। সেদিন<br />
রাতে<br />
শুধুই তার টোল পড়া হাসিমুখটা<br />
চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। এক<br />
অন্যরকম শিহরণে রাতটা সেদিন<br />
জেগেই কাটিয়ে দিই। বুঝতে পারি<br />
একটু একটু করে আমি তার প্রতি<br />
দুর্বল হচ্ছি। কিন্তু মনের ভাবটা<br />
প্রকাশ করতে না পারায় নিজেই<br />
নিজের কাছে অসহায় বনে যায়।<br />
.<br />
পরদিন বিকালে বাইরে থেকে<br />
বাড়িতে<br />
ফিরছিলাম, তখন দেখি রিকশায় করে<br />
নিশাত আসছে। তার পাশে একটি<br />
সমবয়সী ছেলে বসে আছে। দুজনের<br />
হাতে দুটি চকবার। দুজনেই একে-<br />
অন্যের দিকে তাকিয়ে হাসছে। খুব<br />
আপসেট হয়ে পড়েছিলাম দৃশ্যটি<br />
দেখে। সন্ধ্যায় পড়াতে গিয়ে মুখটা<br />
বিরস করে রাখি। নিশাতকে দুটা অংক<br />
করতে দিয়েছি, সে অংক করার ফাঁকে<br />
বলে, আপনি আজ আমাকে একটি<br />
ছেলের সাথে দেখেছেন, তাই না?<br />
-&gt; হ্যা।<br />
-&gt; আপনি খুব অবাক হয়ে তাকিয়ে<br />
ছিলেন আমার দিকে। আসলে এতটা<br />
অবাক হবার কিছু নেই, তাহসান<br />
আমার শুধুই বন্ধু। এর বেশি কিছু না।<br />
আমি লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে বলি,<br />
লেখো, তুমি লেখো।<br />
-&gt; প্লীজ, বাবা-মাকে কিছু বলবেন না।<br />
-&gt; আমি আবার কী বলব? আজব!<br />
নিশাত চুপচাপ লিখতে শুরু করে। আর<br />
আমিও মনে মনে বিশ্বাস করে নিই<br />
যে, নিশাতের জীবনে এখনো কেউ<br />
আসেনি। কাজেই আমি এন্ট্রি নিতে<br />
পারি।<br />
.<br />
পড়ানো শেষ করে ছাদে এসে<br />
দাঁড়িয়েছি। আকাশে আজ চাঁদ নেই<br />
তাই অগণিত তারার মাঝে দৃষ্টি<br />
মেলে<br />
রেখেছি। সেইসাথে মনে মনে<br />
নিশাতকে কীভাবে প্রেম নিবেদন<br />
করব তা ঝালাই করে নিতে থাকি।<br />
সেসময় খুব মিস করছিলাম<br />
নিশাতকে। আহা, সে যদি পাশে<br />
থাকতো এসময়। পরক্ষণে এই ভেবে<br />
নিজেকে স্বান্তনা দিলাম যে, আজ<br />
দেখা হয়নি তো কী হয়েছে কাল<br />
পড়াবার সময় তো দেখা হবে। কিন্তু<br />
না, আমার ভাবনার সাথে বাস্তবতা<br />
প্রতারণা করলো। পরদিনই জানতে<br />
পারি নিশাত একটা ছেলের সাথে<br />
পালিয়ে গেছে। নিশাতের মায়ের<br />
আহাজারি দেখে আমি ব্যস্ত হয়ে<br />
শহরের বুকে তাকে খুঁজতে বের হই।<br />
কিন্তু সে লাপাত্তাই থেকে যায়।<br />
খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তাহসান<br />
নামের ছেলেটির সাথেই সে<br />
পালিয়েছে।<br />
.<br />
আমি ভাবতাম আমার মাঝে আবেগ<br />
কম, সহজে দুঃখ-কষ্ট পাই না। এটা<br />
যে কত বড় ভুল ধারণা তা নিশাতের<br />
পালিয়ে যাওয়াতেই প্রমাণ হল। আজ<br />
আমি বড্ড ভেঙে পড়েছি। মনটাকে<br />
শক্ত রাখতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে<br />
যায়<br />
বারবার। কোনোদিকে এখন আর<br />
মনোযোগও নেই। বাড়ি থেকে বিয়ের<br />
জন্য চাপ দিচ্ছে, কিন্তু আমি<br />
নির্বিকার। ভাবছি, বিয়ে নামক<br />
সামাজিক প্রথাটি এড়িয়ে যাব।<br />
কষ্টের স্বাদ নিয়েই বেঁচে থাকব।<br />
কষ্টই হোক আজ আমার<br />
নিত্যসঙ্গী।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[নিশাতকে কড়া ধমক দিয়ে চুপচাপ<br />
দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছি। স্থান,<br />
বাড়ির<br />
ছাদ। সময়, অপরাহ্নের সবে শুরু।<br />
বাতাস বইছে, বাতাসে বসন্তের<br />
মনোমূগ্ধকর সজীব ঘ্রাণ। আকাশে<br />
চনমনে রোদ। যতটা না বাতাস বইছে<br />
রোদ পড়ছে তারচেয়ে বেশি। তবু এই<br />
গরমে ছাদে দাঁড়িয়ে থাকতে দারুণ<br />
লাগছে। আমার পাশে এখনও নিশাত<br />
দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটা ভীষণ চঞ্চল<br />
প্রকৃতির, দুষ্টুমির ছলে আমার<br />
হাতের সিগারেটে একটান দিতে<br />
চেয়েছিল। এজন্যই তাকে ধমক<br />
দিয়েছি। হঠাৎ আমার ঠোঁট থেকে সে<br />
সিগারেট কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে<br />
দিলো।<br />
-&gt; এটা কী হল? (আমি)<br />
-&gt; প্রতিশোধ নিলাম, আপনি আমায়<br />
ধমক দেবেন আর আমি চুপ করে<br />
থাকব নাকি?<br />
(নিশাত)<br />
-&gt; প্রতিশোধ নেয়া হয়েছে? এবার<br />
দয়া করে যাও।<br />
-&gt; যাব না।<br />
-&gt; ঠিক আছে, আমিই চলে যাচ্ছি।<br />
আমি পা বাড়াতেই সে আমার হাতটি<br />
ধরলো। চেয়ে রইলো আমার মুখের<br />
দিকে। তার সেই চাহনিতে আমি<br />
খানিকটা দেউলিয়া হয়ে গেলাম,<br />
পরমুহূর্তেই নিজেকে সামলে নিয়ে<br />
বলি, হাত ধরছ কেন তুমি?<br />
-&gt; আমার ইচ্ছা হয়েছে তাই।<br />
-&gt; আমারও কিন্তু ইচ্ছা-অনিচ্ছা বলে<br />
একটা ব্যাপার আছে।<br />
-&gt; কী করবেন আপনি, চড় মারবেন?<br />
আমি নির্বিকার গলায় বলি, হ্যা<br />
দরকার হলে তাও করতে পারি।<br />
-&gt; পারলে তাই করুন।<br />
সে নরম কন্ঠে বলে, তাতে অন্তত<br />
আমার গালে আপনার হাতের স্পর্শ<br />
থাকবে।<br />
আমি বিব্রত হয়ে বলি, নিশাত,<br />
তোমার সমস্যা কী?<br />
-&gt; আমি নিজেও জানি না। মনে হয়<br />
আমি আপনার প্রেমে পড়েছি।<br />
এটা বলেই সে ছুটে গিয়ে ছাদ থেকে<br />
প্রস্থান করলো। আর আমি অবাক<br />
হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।<br />
.<br />
পরদিনের ঘটনা। সকালবেলা<br />
বারান্দায় দাঁড়িয়ে টবে লাগানো<br />
ফুলগাছগুলোয় পানি স্প্রে করছি,<br />
তখন বসার ঘর থেকে মা নাম ধরে<br />
ডাকলো, এই জামিল, এদিকে আয়<br />
তো বাবা।<br />
আমি বসার ঘরে গিয়ে দেখি<br />
সেখানে<br />
মা আর পাশের ফ্ল্যাটের আন্টি<br />
অর্থাৎ নিশাতের মা একসাথে বসে<br />
আড্ডা দিচ্ছেন। আমাকে দেখে<br />
আন্টি বলেন, কেমন আছ খোকা?<br />
-&gt; জ্বী ভাল। আপনি ভাল আছেন<br />
তো?<br />
-&gt; আছি তো কোনোরকম...<br />
মেয়েটাকে নিয়ে চিন্তায় আছি।<br />
-&gt; কেন, নিশাত আবার কী করলো<br />
আন্টি?<br />
-&gt; কিছুই না। আসলে ওর সামনে<br />
ম্যাট্টিক পরীক্ষা তো তাই চিন্তায়<br />
আছি।<br />
-&gt; ও আচ্ছা।<br />
-&gt; তুমি তো খোকা অনেক ভাল<br />
ছাত্র, ওকে একটু পড়িয়ে দেখো<br />
তো, কেমন?<br />
আমার মাথায় তখন কী কাজ করছিল<br />
কে জানে, সরাসরি 'হ্যা' বলে<br />
দিলাম।<br />
এরজন্য নিজের ওপর যারপরনাই<br />
বিরক্ত হলাম। কিন্তু কী আর করা<br />
কথা তো ফিরিয়ে নিতে পারি না।<br />
.<br />
একদিন সন্ধ্যায় নিশাতকে পড়াতে<br />
গেলাম। ওর শোবার ঘরের পড়ার<br />
টেবিলে মুখোমুখি বসে ঘরটাতে<br />
ভালমত চোখ বুলিয়ে নিতে লাগলাম,<br />
যদিও তার কোনো দরকার ছিল না।<br />
জাস্ট কৌতূহল আর কী। মেয়েদের<br />
ঘর যেমনি গোছানো হয় নিশাতের<br />
ঘরও তেমন। ঘরের বিছানার<br />
বেডশীটটা চমৎকার, একেবারে<br />
আকাশের মত নীল রঙের, ঘরের<br />
দেয়ালে হৃত্বিক রোশন থেকে শুরু<br />
করে টম ক্রুজের ছবি পর্যন্ত আছে।<br />
দেয়ালের একটি জায়গায় নিশাত<br />
লিখে রেখেছে---এখানে আমিই বস।<br />
ঘরটা দেখে বেশ ভাল লাগলো। আমি<br />
ঘরের সাজসজ্জা থেকে দৃষ্টি<br />
ফিরিয়ে এনে এবার টেবিলে<br />
দৃষ্টিটাকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা<br />
করি। অযথাই একটা বলপয়েন্ট কলম<br />
হাতে তুলে নিয়ে বলি, তাহলে<br />
পড়াশোনা শুরু করা যাক?<br />
-&gt; ঠিক আছে।<br />
-&gt; কোন সাবজেক্ট তোমার সবচেয়ে<br />
কঠিন মনে হয়?<br />
-&gt; ম্যাথ।<br />
-&gt; তুমি নিশ্চয় সায়েন্সে?<br />
-&gt; আপনি বুঝি জানেন না?<br />
-&gt; হুম জানি। এম্নি বললাম আর কী।<br />
তা ম্যাথের মধ্যে বেশি কঠিন লাগে<br />
কোনটা?<br />
-&gt; হাইয়ার ম্যাথ।<br />
-&gt; হুম। হাইয়ার ম্যাথের কোন অংক<br />
বেশি জটিল লাগে?<br />
নিশাত বিরক্ত হয়ে বলে, উফ, বড্ড<br />
প্রশ্ন করতে পারেন আপনি।<br />
আমি হাসতে হাসতে হাইয়ার ম্যাথ<br />
সাবজেক্টটা হাতে তুলে নিই, বলি,<br />
তাই না?<br />
-&gt; হুম।<br />
আমি বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে<br />
বলি, বীজগণিত, ত্রিকোণমিতি,<br />
জ্যামিতি। শুরুতে বীজগণিত করব,<br />
কেমন?<br />
-&gt; না, আগে ত্রিকোণমিতি।<br />
-&gt; ঠিক আছে, তাই হোক। বলো তো<br />
ট্যারা লম্বা ভূত অর্থ কী?<br />
-&gt; ট্যান ইকুয়াল টু লম্ব ভাগ ভূমি।<br />
-&gt; গুড। ট্যান নাইনটি ডিগ্রীর মান<br />
বলো।<br />
সে বলতে পারল না। এরপর<br />
বীজগণিতের একটা সূত্রও<br />
জিজ্ঞেস করলাম, সেটাতেও ভাড়ে<br />
মা ভবানী। আমার মনটা সামান্য<br />
খারাপ হয়ে গেল। অংক আমার কাছে<br />
প্রিয় সাবজেক্ট। যার আয়ত্তে<br />
অংক নেই তাকে আমি বোকা বলে<br />
ধরে নিই। নিশাত বোকা নয়।<br />
তারমানে<br />
সে অমনোযোগী। আমি কি পারব<br />
তাকে ঠিকমত পড়াতে? প্রশ্নটা<br />
নাগালের বাইরে থাকায় খানিকটা<br />
বিভ্রান্ত হয়ে যায় আমি।<br />
.<br />
অবশ্য পরবর্তীতে এই বিভ্রান্তি<br />
কেটে গেল যখন লক্ষ্য করি নিশাত<br />
দ্রুত শিখতে পারে। তার এই গুণ দেখে<br />
আমার মাঝে উৎসাহের সঞ্চার ঘটে।<br />
আমি আগ্রহ নিয়ে তাকে পড়াতে<br />
থাকি। একঘন্টা পড়ায়, এই<br />
একঘন্টায় অবশ্য সে এদিক-ওদিক<br />
করে পনের-বিশ মিনিট অযথাই নষ্ট<br />
করে দেয়। যেমন সেদিন পড়ানোর<br />
ফাঁকে তার মুঠোফোন বেজে ওঠে।<br />
সে বলে, লিলির এসএমএস। আমার<br />
বান্ধবী, একটু রিপ্লাই দিই প্লীজ।<br />
-&gt; পারমিশন চাইছ?<br />
-&gt; হুম।<br />
আমি হেসে বলি, ঠিক আছে।<br />
নিশাত রিপ্লাই দিতে দিতে হঠাৎ<br />
খানিকটা হেসে ফেলে। হাসলে<br />
মেয়েটার গালে টোল পড়ে। দেখতে<br />
ভারী মিষ্টি লাগে তখন। সেদিন<br />
রাতে<br />
শুধুই তার টোল পড়া হাসিমুখটা<br />
চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। এক<br />
অন্যরকম শিহরণে রাতটা সেদিন<br />
জেগেই কাটিয়ে দিই। বুঝতে পারি<br />
একটু একটু করে আমি তার প্রতি<br />
দুর্বল হচ্ছি। কিন্তু মনের ভাবটা<br />
প্রকাশ করতে না পারায় নিজেই<br />
নিজের কাছে অসহায় বনে যায়।<br />
.<br />
পরদিন বিকালে বাইরে থেকে<br />
বাড়িতে<br />
ফিরছিলাম, তখন দেখি রিকশায় করে<br />
নিশাত আসছে। তার পাশে একটি<br />
সমবয়সী ছেলে বসে আছে। দুজনের<br />
হাতে দুটি চকবার। দুজনেই একে-<br />
অন্যের দিকে তাকিয়ে হাসছে। খুব<br />
আপসেট হয়ে পড়েছিলাম দৃশ্যটি<br />
দেখে। সন্ধ্যায় পড়াতে গিয়ে মুখটা<br />
বিরস করে রাখি। নিশাতকে দুটা অংক<br />
করতে দিয়েছি, সে অংক করার ফাঁকে<br />
বলে, আপনি আজ আমাকে একটি<br />
ছেলের সাথে দেখেছেন, তাই না?<br />
-&gt; হ্যা।<br />
-&gt; আপনি খুব অবাক হয়ে তাকিয়ে<br />
ছিলেন আমার দিকে। আসলে এতটা<br />
অবাক হবার কিছু নেই, তাহসান<br />
আমার শুধুই বন্ধু। এর বেশি কিছু না।<br />
আমি লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে বলি,<br />
লেখো, তুমি লেখো।<br />
-&gt; প্লীজ, বাবা-মাকে কিছু বলবেন না।<br />
-&gt; আমি আবার কী বলব? আজব!<br />
নিশাত চুপচাপ লিখতে শুরু করে। আর<br />
আমিও মনে মনে বিশ্বাস করে নিই<br />
যে, নিশাতের জীবনে এখনো কেউ<br />
আসেনি। কাজেই আমি এন্ট্রি নিতে<br />
পারি।<br />
.<br />
পড়ানো শেষ করে ছাদে এসে<br />
দাঁড়িয়েছি। আকাশে আজ চাঁদ নেই<br />
তাই অগণিত তারার মাঝে দৃষ্টি<br />
মেলে<br />
রেখেছি। সেইসাথে মনে মনে<br />
নিশাতকে কীভাবে প্রেম নিবেদন<br />
করব তা ঝালাই করে নিতে থাকি।<br />
সেসময় খুব মিস করছিলাম<br />
নিশাতকে। আহা, সে যদি পাশে<br />
থাকতো এসময়। পরক্ষণে এই ভেবে<br />
নিজেকে স্বান্তনা দিলাম যে, আজ<br />
দেখা হয়নি তো কী হয়েছে কাল<br />
পড়াবার সময় তো দেখা হবে। কিন্তু<br />
না, আমার ভাবনার সাথে বাস্তবতা<br />
প্রতারণা করলো। পরদিনই জানতে<br />
পারি নিশাত একটা ছেলের সাথে<br />
পালিয়ে গেছে। নিশাতের মায়ের<br />
আহাজারি দেখে আমি ব্যস্ত হয়ে<br />
শহরের বুকে তাকে খুঁজতে বের হই।<br />
কিন্তু সে লাপাত্তাই থেকে যায়।<br />
খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তাহসান<br />
নামের ছেলেটির সাথেই সে<br />
পালিয়েছে।<br />
.<br />
আমি ভাবতাম আমার মাঝে আবেগ<br />
কম, সহজে দুঃখ-কষ্ট পাই না। এটা<br />
যে কত বড় ভুল ধারণা তা নিশাতের<br />
পালিয়ে যাওয়াতেই প্রমাণ হল। আজ<br />
আমি বড্ড ভেঙে পড়েছি। মনটাকে<br />
শক্ত রাখতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে<br />
যায়<br />
বারবার। কোনোদিকে এখন আর<br />
মনোযোগও নেই। বাড়ি থেকে বিয়ের<br />
জন্য চাপ দিচ্ছে, কিন্তু আমি<br />
নির্বিকার। ভাবছি, বিয়ে নামক<br />
সামাজিক প্রথাটি এড়িয়ে যাব।<br />
কষ্টের স্বাদ নিয়েই বেঁচে থাকব।<br />
কষ্টই হোক আজ আমার<br />
নিত্যসঙ্গী।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[গল্প: আমি নিষ্ঠুর, আমি পাষণ্ড]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2178</link>
			<pubDate>Wed, 22 Feb 2017 04:24:34 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2178</guid>
			<description><![CDATA[গল্প: আমি নিষ্ঠুর, আমি পাষণ্ড<br />
লেখা: Julfikar Hossen<br />
.<br />
বিয়ের আগের দিনের ঘটনা :<br />
কালকে একটা মেয়ে আমাকে বলেছিল, আমি নাকি<br />
পৃথিবীর সব থেকে নিষ্ঠুর,পাষণ্ড মানুষ। আমি কোনো<br />
কথা বলিনি। এমন কি তার পথ চেয়ে দেখিনি, সে<br />
কেমন ভাবে হাঁটতে হাঁটতে লোকালয়ের মাঝে<br />
হারিয়ে গেছে। একটুও দেখতে ইচ্ছে করেনি । এটা<br />
কি আমার নিষ্ঠুরতার পরিচয় না? যাকে নিয়ে সপ্ন<br />
দেখেছিলাম তাকে আজ "একটি মেয়ে" সম্বোধন<br />
করছি। এতে কি প্রমাণ হয় না আমি নিষ্ঠুর? হ্যা<br />
আমি সত্যি নিষ্ঠুর।<br />
.<br />
মেয়েটি নীপা। এসেছিল পালিয়ে যাবার<br />
জন্য,আমাকে বিয়ে করে মা বাবা, সমাজ ও সন্মান<br />
এর কথা না ভেবে পালিয়ে যেতে চেয়েছিল। আমি<br />
না বলে দিয়েছিলাম।কারন আমি নিষ্ঠুর। আমি<br />
হয়তো নীপাকে সুখে রাখতে পারতাম,যেমনটি সে<br />
চেয়েছিল। কিন্তু আমি চাই না সে সুখ।যে সুখ<br />
সমাজের চোখে খারাপ।যে সুখ জন্মদাতা বাবা<br />
,গর্ভধারিণী মা কে কাঁদাতে পারে। যে সুখ<br />
তিলেতিলে গোড়ে ওঠা সন্মান কে এক নিমিষে<br />
ধূলিকণায় পরিণত করে।চাই না সে সুখ। অনেকেই<br />
হয়তো তিরস্কার করে বলবেন.. মেয়েটিকে সপ্ন<br />
দেখিয়েছিলি ক্যান? সপ্ন দেখানোর আগে কোথায়<br />
ছিল তোর সমাজ চেতনা,সন্মান? এই প্রশ্নের উত্তর<br />
আমার কাছে নেই।<br />
তবে আমি যতেষ্ঠ চেষ্টা করেছিলাম। মা-বাবা কে<br />
দিয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তার মা-<br />
বাবার এক কথা "তাঁদের মেয়ের যেখানে বিয়ে ঠিক<br />
হয়েছে, সেখানেই সুখে থাকবে।এ নিয়ে কাওকে<br />
ভাবতে হবে না। " যাঁদের মনে মেয়ের সুখ থাকা<br />
নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই, মেয়ের ভবিষ্যৎ জীবন<br />
নিয়ে যাদের এত বিশ্বাস। তাঁদের আর কিভাবে<br />
আটকাব? তাঁদের বিশ্বাস কে আরও মজবুত করতে<br />
আমি নিষ্ঠুর হয়েছি।নীপাকে বলিনি " আমি নিষ্ঠুর<br />
না। তোমার বাসায় প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলাম।<br />
অনেক চেষ্টা করেছি।কিন্তু তোমাকে পাই নি।<br />
ক্ষমা করে দিও"। কঠোর ভাষায় বলেছি " যা হয়েছে,<br />
সেটা অতীত। আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারব না।"<br />
কথা গুলো বলার সময় আমার চোখে ভালবাসার ছাপ<br />
ছিল না,ছিল নিষ্ঠুর একজন পুরুষের ছাপ।আমি<br />
চেয়েছিলাম সে আমাকে ঘ্রিণা করুক,ভূলে যাক,মা-<br />
বাবার ইচ্ছে পূরণ করুক।এতে যদি আমি নিষ্ঠুর হয়ে<br />
থাকি, তো আমি নিষ্ঠুর।ও অনেক কেঁদেছিল ,আমি<br />
কাঁদি নি।কাঁদতে চাই ও না।<br />
.<br />
বিয়ের দিনের ঘটনা :<br />
এখন প্রায় সন্ধা।আমি দাঁড়িয়ে আছি নীপার বাসা<br />
থেকে একটু দূরে, রাস্তার পাশে। কান্নার শব্দ শোনা<br />
যাচ্ছে। কিন্তু এই কান্না কিছু সময়ের, কিছুদিনের।<br />
দুঃখ গুলো জল হয়ে বের হচ্ছে। যদি সৃষ্টিকর্তা চোখ<br />
থেকে জলের বদলে রক্ত বের হওয়ার নিয়ম করতেন,<br />
যদি দুঃখের তীব্রতা অনুযায়ী সেই রক্ত গাঢ় হতো।<br />
তাহলে নীপাদের চোখ দিয়ে কেমন রক্ত বের<br />
হতো,হিসাব করা বেশ কঠিন। এমন নিয়ম হলে হয়তো<br />
বুঝতে পারতাম নীপা আমাকে ছেড়ে সুখে থাকবে<br />
কি-না।<br />
.<br />
কিন্তু আমি যদি নীপাকে নিয়ে পালাতাম তাহলে<br />
এই দুঃখগুলো পাথর হয়ে বেধে থাকত হৃদপিন্ডের<br />
উপরে। তখন দুঃখগুলো তরল হয়ে বের হতো না।<br />
.<br />
সাক, সাক করে রাস্তা দিয়ে কয়েকটা গাড়ি চলে<br />
গেল। বুকের ভেতরে কিছু হলো কি-না বুঝতে পারলাম<br />
না।তবে চোখ দুটো ব্যথা করছিল। কিন্তু তরল বস্তুটা<br />
বের হলো না। কারন আমি নিষ্ঠুর, আমি পাষণ্ড।<br />
Repost:হেমন্তে বর্ষায় আমি]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[গল্প: আমি নিষ্ঠুর, আমি পাষণ্ড<br />
লেখা: Julfikar Hossen<br />
.<br />
বিয়ের আগের দিনের ঘটনা :<br />
কালকে একটা মেয়ে আমাকে বলেছিল, আমি নাকি<br />
পৃথিবীর সব থেকে নিষ্ঠুর,পাষণ্ড মানুষ। আমি কোনো<br />
কথা বলিনি। এমন কি তার পথ চেয়ে দেখিনি, সে<br />
কেমন ভাবে হাঁটতে হাঁটতে লোকালয়ের মাঝে<br />
হারিয়ে গেছে। একটুও দেখতে ইচ্ছে করেনি । এটা<br />
কি আমার নিষ্ঠুরতার পরিচয় না? যাকে নিয়ে সপ্ন<br />
দেখেছিলাম তাকে আজ "একটি মেয়ে" সম্বোধন<br />
করছি। এতে কি প্রমাণ হয় না আমি নিষ্ঠুর? হ্যা<br />
আমি সত্যি নিষ্ঠুর।<br />
.<br />
মেয়েটি নীপা। এসেছিল পালিয়ে যাবার<br />
জন্য,আমাকে বিয়ে করে মা বাবা, সমাজ ও সন্মান<br />
এর কথা না ভেবে পালিয়ে যেতে চেয়েছিল। আমি<br />
না বলে দিয়েছিলাম।কারন আমি নিষ্ঠুর। আমি<br />
হয়তো নীপাকে সুখে রাখতে পারতাম,যেমনটি সে<br />
চেয়েছিল। কিন্তু আমি চাই না সে সুখ।যে সুখ<br />
সমাজের চোখে খারাপ।যে সুখ জন্মদাতা বাবা<br />
,গর্ভধারিণী মা কে কাঁদাতে পারে। যে সুখ<br />
তিলেতিলে গোড়ে ওঠা সন্মান কে এক নিমিষে<br />
ধূলিকণায় পরিণত করে।চাই না সে সুখ। অনেকেই<br />
হয়তো তিরস্কার করে বলবেন.. মেয়েটিকে সপ্ন<br />
দেখিয়েছিলি ক্যান? সপ্ন দেখানোর আগে কোথায়<br />
ছিল তোর সমাজ চেতনা,সন্মান? এই প্রশ্নের উত্তর<br />
আমার কাছে নেই।<br />
তবে আমি যতেষ্ঠ চেষ্টা করেছিলাম। মা-বাবা কে<br />
দিয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তার মা-<br />
বাবার এক কথা "তাঁদের মেয়ের যেখানে বিয়ে ঠিক<br />
হয়েছে, সেখানেই সুখে থাকবে।এ নিয়ে কাওকে<br />
ভাবতে হবে না। " যাঁদের মনে মেয়ের সুখ থাকা<br />
নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই, মেয়ের ভবিষ্যৎ জীবন<br />
নিয়ে যাদের এত বিশ্বাস। তাঁদের আর কিভাবে<br />
আটকাব? তাঁদের বিশ্বাস কে আরও মজবুত করতে<br />
আমি নিষ্ঠুর হয়েছি।নীপাকে বলিনি " আমি নিষ্ঠুর<br />
না। তোমার বাসায় প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলাম।<br />
অনেক চেষ্টা করেছি।কিন্তু তোমাকে পাই নি।<br />
ক্ষমা করে দিও"। কঠোর ভাষায় বলেছি " যা হয়েছে,<br />
সেটা অতীত। আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারব না।"<br />
কথা গুলো বলার সময় আমার চোখে ভালবাসার ছাপ<br />
ছিল না,ছিল নিষ্ঠুর একজন পুরুষের ছাপ।আমি<br />
চেয়েছিলাম সে আমাকে ঘ্রিণা করুক,ভূলে যাক,মা-<br />
বাবার ইচ্ছে পূরণ করুক।এতে যদি আমি নিষ্ঠুর হয়ে<br />
থাকি, তো আমি নিষ্ঠুর।ও অনেক কেঁদেছিল ,আমি<br />
কাঁদি নি।কাঁদতে চাই ও না।<br />
.<br />
বিয়ের দিনের ঘটনা :<br />
এখন প্রায় সন্ধা।আমি দাঁড়িয়ে আছি নীপার বাসা<br />
থেকে একটু দূরে, রাস্তার পাশে। কান্নার শব্দ শোনা<br />
যাচ্ছে। কিন্তু এই কান্না কিছু সময়ের, কিছুদিনের।<br />
দুঃখ গুলো জল হয়ে বের হচ্ছে। যদি সৃষ্টিকর্তা চোখ<br />
থেকে জলের বদলে রক্ত বের হওয়ার নিয়ম করতেন,<br />
যদি দুঃখের তীব্রতা অনুযায়ী সেই রক্ত গাঢ় হতো।<br />
তাহলে নীপাদের চোখ দিয়ে কেমন রক্ত বের<br />
হতো,হিসাব করা বেশ কঠিন। এমন নিয়ম হলে হয়তো<br />
বুঝতে পারতাম নীপা আমাকে ছেড়ে সুখে থাকবে<br />
কি-না।<br />
.<br />
কিন্তু আমি যদি নীপাকে নিয়ে পালাতাম তাহলে<br />
এই দুঃখগুলো পাথর হয়ে বেধে থাকত হৃদপিন্ডের<br />
উপরে। তখন দুঃখগুলো তরল হয়ে বের হতো না।<br />
.<br />
সাক, সাক করে রাস্তা দিয়ে কয়েকটা গাড়ি চলে<br />
গেল। বুকের ভেতরে কিছু হলো কি-না বুঝতে পারলাম<br />
না।তবে চোখ দুটো ব্যথা করছিল। কিন্তু তরল বস্তুটা<br />
বের হলো না। কারন আমি নিষ্ঠুর, আমি পাষণ্ড।<br />
Repost:হেমন্তে বর্ষায় আমি]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[ভাল লাগায় মোড়ানো ভালবাসা]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2177</link>
			<pubDate>Wed, 22 Feb 2017 04:23:59 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2177</guid>
			<description><![CDATA[ভাল লাগায় মোড়ানো ভালবাসা<br />
,,<br />
,,<br />
Written by:Tanjina Akter Tania<br />
(হিমাদ্রির মেঘ)<br />
,,<br />
,,<br />
অনিলকে প্রথম দেখেছিলাম আমার<br />
ভাইয়ার জন্য পাত্রী দেখতে গিয়ে।সে<br />
ছিল পাত্রীর ভাই।খুব ছোট করে কাটা<br />
খাড়া খাড়া চুল তার।গায়ের রং উজ্জল<br />
শ্যামলা।ফেস কাটিং গোল। একটা<br />
গ্যাবার্ডিন প্যান্ট আর ফোল্ডিং করে<br />
শার্ট পড়ে ছিল।আমরা সোফায়<br />
বসেছিলাম।ও আমাদের খাবার সার্ভ<br />
করছিল।ও প্যান্টের নীচে গোড়ালির<br />
কাছে কয়েকটা ভাঁজ করে রেখেছিল।<br />
খালি পায়ে যে ও ফ্লোরে<br />
হাটছিল,ওকে যে কি দারুন<br />
লাগছিল.......এক কথায় বলতে গেলে<br />
ও প্রথম দেখাতেই আমার অন্তরে ঠাঁই<br />
করে নিয়েছিল।যখন ও আমার হাতে<br />
শরবতের গ্লাস তুলে দিচ্ছিল,ওর<br />
হাতের সাথে আমার হাতের আলতো<br />
স্পর্শ লেগেছিল।আমার যেন তখন হৃদয়<br />
সাগরে ঢেউ শুরু হয়ে গিয়েছিল।লক্ষ<br />
করেছিলাম ওর হাতের নখগুলো ধবধবে<br />
সাদা।ইচ্ছে হচ্ছিল একটু ছুঁয়ে দেই ওর<br />
হাতটা আর হাতের নখগুলো।ওর শরীর<br />
থেকে একটা সুন্দর পারফিউমের ঘ্রান<br />
আসছিল।ও শরবত দেয়ার সময় আমি<br />
চুপিসারেই আস্তে করে একবার লম্বা<br />
নিঃশ্বাস নিয়ে ওর শরীরের ঘ্রানটা<br />
বুকভরে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম।ওর<br />
চুলগুলোর দিকে যতবার তাকাচ্ছিলাম<br />
মন চাচ্ছিল হাতে ওর চুলগুলো<br />
এলোমেলো করে দেই। চোখ বন্ধ করে<br />
কল্পনাও করে ফেলেছিলাম যে আমি<br />
ওর চুল এলোমেলো করে দিয়েছি আর<br />
ও রেগে গিয়ে আমাকে<br />
দৌড়োচ্ছে,আমি হাসতে হাসতে<br />
বাতাসে উড়না উড়িয়ে দৌড়াতে<br />
লাগলাম।উর্নার সাথে উড়ছিল আমার<br />
কালো ঘন চুলগুলোও ।হঠাৎই<br />
ভাবলাম,আমি দৌড়াচ্ছি কেন?কেন<br />
দৌড়াচ্ছি আমি?আমিতো ওর থেকে<br />
পালাতে চাইনা।আমিতো তার কাছে<br />
ধরাই দিতে চাই।সেটা ভেবেই যেন<br />
হাঠাৎ দাড়িয়ে গেলাম।ও দৌড়ের গতি<br />
সামলাতে না পেরে আমার গায়ের উপর<br />
এসে পড়ে যাচ্ছিল।আমি ওকে<br />
থামানোর জন্য ওর দুই বাজুতে শক্ত<br />
করে ধরলাম।ও নিজেকে কিছুটা<br />
নিয়ন্ত্রন করতে পারল।কিন্তূ পুরুটা নয়।<br />
ওর শরীরের খুব কাছাকাছি তখন আমার<br />
শরীর।ওর মুখের খুব কাছে আমার মুখ।ওর<br />
নিঃশ্বাসের বাতাস আমার চোখে মুখে<br />
আঁচড়ে পড়ছিল।আমি চোখ বন্ধ করে<br />
ছিলাম।আমার কিছু চুল তখন হাওয়ায়<br />
উড়ে উড়ে ওর নাকে মুখ স্পর্শ করছিল।<br />
কিছু চুল ওর খোঁচা খোঁচা দাড়ির সাথে<br />
আটকে গিয়েছিল।আমিও বুঝতে<br />
পারছিলাম যে ও বুক ভরে আমার চুলের<br />
ঘ্রান নেওয়ার চেষ্টা করছে।ঐটুকু চুল<br />
থেকে আর কিইবা ঘ্রান নেয়া যায়?সে<br />
পরিতৃপ্ততা পাওয়ার জন্য আস্তে<br />
আস্তে আমার হাত থেকে নিজেকে<br />
সড়িয়ে নিয়ে আমার পেছনে গিয়ে<br />
আমার দুই বাজু স্পর্শ করে আমার<br />
মাথাভর্তি চুলে নাক ডুবিয়ে চুলের<br />
ঘ্রান নিচ্ছিল।আমার দেহ মনে তখন<br />
অন্যরকম এক প্রশান্তির হাওয়া<br />
বইছিল।<br />
.<br />
কল্পনায় ব্যাঘাত ঘটল কারো এহেম<br />
এহেম কাশির শব্দে।আমি চোখ খুললাম।<br />
কল্পনা থেকে বাস্তবে<br />
ফিরলাম।যা হোক ভালই হয়েছে কল্পনা<br />
এখানে শেষ হয়ে।নতুবা আরো<br />
সাংঘাতিক কিছু ঘটে যেতে পারত।<br />
.<br />
কল্পনায় সাংঘাতিক কিছু না ঘটলেও<br />
কল্পনার জগত থেকে বেরিয়ে দেখি<br />
সবাই আমার দিকে হা করে তাকিয়ে<br />
আছে।যেন সত্যি সত্যিই সাংঘাতিক<br />
কিছু ঘটিয়ে ফেলেছি।প্রথমে মারাত্নক<br />
ভয় পেয়ে গেলাম!এদের কাছে আবার<br />
মাইন্ড রিডার যন্ত্র নেইতো!কল্পনায়<br />
যে আমি সত্যি সত্যিই সাংঘাতিক<br />
কিছু করতে যাচ্ছিলাম,সেটা এরা বুঝে<br />
ফেলে আমার দিকে এভাবে হা করে<br />
আছে নাতো?<br />
.<br />
আমার চিন্তার সমাপ্তি ঘটল শরবত<br />
সার্ভ করা আমার ভাল লাগার<br />
মানুষটার কথায়।খুব মিষ্টি করে বলছিল<br />
- শরবতটা খেয়ে নিন।<br />
ওর কথা শেষ না হতেই মা বলে উঠল<br />
-কিরে!তুই এখনো শরবত মুখেই দিলি<br />
না....সবাই তোকে শরবত পান করতে<br />
বলছে।কিন্তূ তুই কোন রেসপন্স করছিস<br />
না।কি কল্পনা করছিলি এত<br />
গভীরভাবে?<br />
.<br />
আমি একটু কেশে নিজেকে স্বাভাবিক<br />
করে বললাম<br />
-কই কিছু নাতো।এইতো খাচ্ছি<br />
বলেই ঢক ঢক করে শরবতটা পাঁচ<br />
সেকেন্ডে গিলে গ্লাসটা আমার ভাল<br />
লাগার মানুষটার হাতে ধরিয়ে দিলাম।<br />
.<br />
ঠিক তখনই কে যেন "অনিল"বলে ডাক<br />
দিল আর অমনি আমার ভাল লাগার<br />
মানুষটা রেসপন্স করল।বুঝলাম যে<br />
উনার নাম অনিল।<br />
.<br />
পাত্রী দেখা শেষে যখন ফিরে<br />
আসছিলাম তখনও আড়চোখে আমি<br />
অনিলকে দেখছিলাম।এত কিউট কেন<br />
ও?<br />
প্রথম দেখাতেই ও মনে হয় আমাকে<br />
বশীকরন করে নিয়েছে।<br />
.<br />
সেদিন বাসায় চলে গেলাম।সবার মুখেই<br />
এক কথা,এই মেয়েকে যে করেই হোক<br />
বিয়ে করাবে।<br />
.<br />
তবে বিয়ে হবে তিনমাস পর।অামার বড়<br />
চাচা অামেরিকা থেকে অাসার পর।<br />
এখন শুধু বাগদান হবে।<br />
এখন আমার মূল লক্ষ্য হচ্ছে অনিলের<br />
ফোন নাম্বার যোগাড় করা।<br />
একটু খাটা খাটনী করলে অবশ্য এটা<br />
কোন ব্যাপার না।<br />
.<br />
যেহেতু আমি এইচ এস সি<br />
পরীক্ষার্থী,প্রস্ততি কোচিং এ ভর্তি<br />
হলাম। আজ থেকে ক্লাস শুরু হচ্ছে।<br />
প্রথম দিনেই ক্লাস করতে গিয়ে<br />
টাস্কিত হলাম।পরিচালক সব টিচার<br />
ভাইয়াদের সাথে পরিচয় করিয়ে<br />
দিচ্ছিল।আর তাদের মাঝে অনিলও<br />
ছিল।আমি এটা দেখে যতটা না অবাক<br />
হয়েছি,তার থেকে বেশী আনন্দিত<br />
হয়েছি।যা হোক ঘটনা ঘটানোর<br />
শুরু এখান থেকেই করতে হবে।<br />
.<br />
দ্বিতীয় দিন যখন কোচিং এ ক্লাস<br />
করতে গেলাম(যেহেতু প্রস্ততি<br />
কোচিং,তাই সলভড ক্লাস আর<br />
কি)তখন প্রথম ক্লাসেই অনিল সাহেব<br />
এলেন প্রশ্নপত্র হাতে।সবাইকে একটা<br />
করে প্রশ্ন দিলেন।আমি প্রশ্নটা হাতে<br />
নিয়েই বললাম<br />
-ভাইয়া,এই প্রশ্নটা একটু চেঞ্জ করে<br />
দিন ।এটা কিছুটা ঝাপ্সা দেখাচ্ছে।<br />
(আসলে প্রশ্ন এতটা ঝাপ্সা ছিলনা।<br />
আমার উদ্দেশ্য উনাকে কিছুক্ষন<br />
আমার খুব কাছে দাড় করিয়ে রাখা)<br />
তারপর একটু ভনিতা করে কয়েকটা<br />
প্রশ্ন আউড়িয়ে একটা প্রশ্ন হাতে<br />
নিলাম।আর উনি আমার বেঞ্চ<br />
অতিক্রম করে যেই পেছনের বেঞ্চ<br />
অব্দি গেলেন অমনি হাতে মুখ চেপে<br />
একটা চাপা হাসি দিলাম।<br />
.<br />
একদিন পর যখন আবার ক্লাসে গেলাম<br />
তখন প্রথম ক্লাস টেষ্টের রেজাল্ট<br />
দিল।আমারতো খাতা দেখে মাথায়<br />
হাত।এত কম মার্কস পেয়েছি আমি?<br />
খাতা নিয়ে অনিলের কাছে গেলাম।<br />
রাগে তখন আমার প্রেসার লো থেকে<br />
হাই হয়ে গিয়েছে।ভালবাসার গোষ্ঠী<br />
কিলাই।মার্কস কেন কম দিবে?<br />
.<br />
অনেক্ষন উনার সাথে দাড়িয়ে দাড়িয়ে<br />
তর্ক করলাম।এটাকে অবশ্য তর্ক বলা<br />
যায়না।কারন উনি আস্তে আস্তে<br />
আমাকে বুঝাচ্ছিলেন যে কেন কম<br />
মার্কস পেয়েছি।কিন্তূ আমি খুব<br />
চেঁচাচ্ছিলাম। ভুলেই গিয়েছিলাম যে<br />
উনি আমার টীচার।আমার<br />
চিল্লাপাল্লা শুনে আরেকজন টীচার<br />
ভাইয়া রেগে<br />
গিয়ে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলল<br />
-এই বেয়াদব মেয়ে,টীচারদের সাথে<br />
কিরকম বিহেভ করতে হয় শেখনি?<br />
এই কথা বলার সাথে সাথে আমি লক্ষ<br />
করলাম যে, অনিলের চোখ মুখ লাল<br />
হয়ে গিয়েছে।ও ঐ ভাইয়াকে ধমকের<br />
স্বরে বলল<br />
-স্টপ নীলয়।ও একটা পিচ্চি মেয়ে।ভুল<br />
করতেই পারে।তাই বলে বেয়াদব বলবি?<br />
উনার ধমক খেয়ে নীলয়ের সাথে সাথে<br />
আমিও চুপ মেরে গেলাম।<br />
.<br />
তারপর উনি আমাকে বললেন<br />
-তুমি এখন যাও।তোমার সাথে পরে<br />
কথা বলছি<br />
.<br />
অনিলকে নিয়ে আমার ভাবনার জগৎ<br />
দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে।ওর প্রতি<br />
দুর্বলতাটা দিন দিন বেড়েই চলছে।<br />
আমি বুঝতে পারছি যে,ওর পাশে<br />
থেকেই আমাকে বাঁচতে হবে।নইলে<br />
অক্সিজেনের অভাবে আমি দম বন্ধ<br />
হয়ে.......<br />
.<br />
শুধু মাত্র শুক্রবার দিন আমাদের ক্লাস<br />
হয়।আর বাকী দিনগুলোতে শুধু সলভড<br />
ক্লাস।<br />
.<br />
আজ শুক্রবার।অনিল আমাদের<br />
কেমিষ্ট্রি ক্লাস নিচ্ছে। হঠাৎই ও<br />
আমাকে দাড় করিয়ে বলল<br />
-বলতো রাসায়নিক বন্ধন কাকে বলে?<br />
আমিতো অনিলকে কখনো স্যারই মনে<br />
করিনা।একেতো সে আমার হবু বিয়াই।<br />
দ্বিতীয়ত তাকে আমি ভালবাসি।ওর<br />
সাথে সবসময় দুষ্টুমি করতে ইচ্ছা করে<br />
আমার।তাই ফাজলামো করে বললাম<br />
-একটা ইয়াংছেলে আর একটা ইয়াং<br />
মেয়ের মধ্যে যদি ইয়ে থাকে তাহলে<br />
সেটাকে রসায়ন বলে।আর তারা যখন<br />
ইয়ে করে বিয়ে করে ফেলে তখন<br />
সেটাকে রাসায়নিক বন্ধন বলে।<br />
.<br />
আমার কথা শুনে সবাই হেসে ফেলল।<br />
কিন্তূ অনিল বেশ রেগে গেল আর<br />
আমাকে ধমক দিয়ে ক্লাস থেকে বের<br />
করে দিল।<br />
.<br />
আমার বাসায় এসে সেকি কান্না।আর<br />
কোচিং এ যাবনা বলে মনস্থির করলাম।<br />
.<br />
যেহেতু অনিলের বোনের সাথে<br />
ভাইয়ার বিয়ে ঠিক ছিল তাই ওদের<br />
পরিবারের সাথে আমাদের কন্টাক্ট<br />
ছিল।<br />
.<br />
আমি কোচিং এ যাইনা বলে অনিল<br />
আব্বুর কাছে ফোন দিল।আমিও সুযোগ<br />
পেয়ে বললাম<br />
- যদি অনিল ভাইয়া আমাকে নিতে<br />
আসে তাহলে যাব।কজ উনি আমাকে<br />
ক্লাস থেকে বের করে দিয়েছে।<br />
.<br />
বাবা বললেন অনিল নাকি আসতে<br />
রাজী হয়েছে।আমিতো আনন্দে<br />
আত্নহারা।খুব সাজুগুজু করে অপেক্ষা<br />
করছি অনিলের জন্য।<br />
.<br />
অনিল আসলো।আমি ওর সাথে রিক্সায়<br />
করে যাচ্ছি।কিন্তূ ও আমার সাথে<br />
কোন কথা বলছে না।ভাবলাম একটু<br />
শয়তানি না করলেতো আর কথা বলানো<br />
যাবেনা।হঠাৎই চোখে কিছু পড়েছে<br />
বলে চেঁচিয়ে উঠলাম।<br />
সাথে সাথে উনি আমার<br />
চোখের পাঁতির উপরে নীচে দু আঙ্গুল<br />
দিয়ে টানা দিয়ে খুব করে খুঁজতে<br />
লাগল যে চোখে কি পড়েছে।আমার<br />
তখন খুব আনন্দ হচ্ছিল ওকে বোকা<br />
বানিয়ে।<br />
.<br />
এভাবে কিছুদিন অতিবাহিত হল।<br />
অনিলের সাথে কোন কথা হয়না।আমার<br />
অস্বস্থি বেড়েই চলছিল।তাই কায়দা<br />
করে একদিন ক্লাস শেষে ওর কাছে<br />
ইচ্ছা করে খুড়াতে খুড়াতে গিয়ে<br />
বললাম<br />
-আমার পায়ে ব্যাথা।একটু বাসায়<br />
পৌঁছে দিয়ে আসবেন?<br />
অনিল তেমন কিছু না বলে শুধু বলল<br />
-চল।<br />
উনি একটা রিক্সা ডেকে আনলেন।<br />
আমি বললাম<br />
-আমারতো পায়ে ব্যাথা।রিক্সায় উঠব<br />
কিভাবে?<br />
-বাসা থেকে এসেছিলে কিভাবে?<br />
-আরে ব্যাথাতো কোচিং এ এসে<br />
পেয়েছি।<br />
তারপর উনি আর কথা না বাড়িয়ে<br />
আমাকে কোলে করে রিক্সায় উঠিয়ে<br />
দিল।আমি তখন মুখ টিপে হাসছিলাম।<br />
.<br />
রিক্সায় বসে আমি ওকে অনেক কিছু<br />
জিজ্ঞাসা করছিলাম।সে শুধু হ্যাঁ না<br />
তে জবাব দিয়ে যাচ্ছিল আর<br />
অন্যদিকে তাকিয়েছিল।আমার ভীষন<br />
রাগ হচ্ছিল।অবশেষে আমি বিরক্ত হয়ে<br />
বলেই ফেললাম<br />
-আপনি তাকাচ্ছেন না কেন আমার<br />
দিকে?একবার ভাল করে তাকিয়ে দেখুন<br />
আমি কত সুন্দর।<br />
.<br />
এ কথা শুনে এবার ও শব্দ করে হেসে<br />
উঠল।তারপর বলল<br />
-তুমি সুন্দর এই ভুল ধারনাটা তোমাকে<br />
কে দিয়েছে?<br />
-হোয়াট!তার মানে আপনি বলতে<br />
চাচ্ছেন আমি সুন্দর না?<br />
-অবভিয়াসলি নট।<br />
এবার আমি প্রচুর রেগে গেলাম।রেগে<br />
গিয়ে রিক্সাওয়ালাকে রিক্সা থামাতে<br />
বললাম।রিক্সা থামাতেই আমি লাফ<br />
দিয়ে নেমে গেলাম রিক্সা থেকে।<br />
.<br />
ওমনি অনিল পেছন থেকে বলল<br />
-তোমার না পায়ে ব্যাথা?<br />
আমি ঝট করেই থেমে গেলাম আর<br />
জিভে কামড় দিলাম।লজ্জায় আমার<br />
চেহাড়া লাল হয়ে গেল।কি বলব বুঝতে<br />
পারছিলাম না।আমি ঠায় দাড়ি রইলাম।<br />
কিন্তূ অনিলের দিকে তাকাতে<br />
পারছিলাম না।অনিল আবারো বলল<br />
-আমি চলে যাচ্ছি।তুমি উঠে বস<br />
রিক্সায়।<br />
.<br />
কিছুক্ষন পর রিক্সাওয়ালার ডাকে ঘুরে<br />
দাড়ালাম।রিক্সাওয়ালা বলল<br />
-আফা উডেন।<br />
.<br />
আমি রিক্সায় চড়ে বসলাম।রিক্সাওয়া<br />
লা আবারো বলল<br />
-আফা একটা কতা কই?<br />
-জ্বি বলুন।<br />
-ভাইজান কিন্তূ আপনারে অনেক<br />
বালবাসে।<br />
-আপনি বুঝলেন কিভাবে?<br />
-চখ্যের দিক চাইলেই কওন যায়।<br />
আপনে অনেক কপাইল্যা মানুষ<br />
-এ কথা বললেন কেন?<br />
-কপাইল্য না হইলে কি আর ভাইজানের<br />
মত এমন সুন্দর পোলা অপনের প্রেমে<br />
পড়ে।<br />
-তার মানে আপনিও ওর মত বলতে<br />
চাইছেন যে আমি সুন্দর না।(রেগে<br />
গিয়ে)<br />
-না না আপা।আমি হেইডা কই নাই।তয়<br />
ভাইজান কিন্তূ আপনার থাইকাউ<br />
সুন্দর।যতন কইরা দেইখা রাইখেন।<br />
আঞ্চলের লগে বাইন্ধা রাইখেন পুরা<br />
জীবন।<br />
.<br />
লোকে বলে মেয়েরা নাকি জীবনের<br />
এক তৃতীয়াংশ সময় আয়নার সামনে<br />
দাড়িয়ে কাটায়।আজকের পূর্ব পর্যন্ত<br />
আমি অবশ্য এ নিয়মের বাহিরে ছিলাম।<br />
কিন্তূ আজ থেকে মনে হয় আমিও সেই<br />
মেয়েদের কাতারে নাম লিখাতে<br />
যাচ্ছি যারা জীবনের অধিকাংশ সময়<br />
আয়নার সামনে কাটায়।<br />
.<br />
এক ঘন্টা যাবৎ আয়নার সামনে<br />
দাড়িয়ে নিজেকে ঘুড়িয়ে ফিরিয়ে<br />
দেখছি।আর মিটি মিটি হাসছি।একটূ পর<br />
পর কপালের টিপ চেঞ্জ করছি।ঠোঁটে<br />
লিপষ্টিক দিয়ে দুই ঠোঁট একসাথে ঘষা<br />
দিয়ে দু ঠোঁটেই লিপষ্টিকের সমতা<br />
আনার চেষ্টা করছি।<br />
মাঝে মাঝে বিছানায় গড়াগড়ি খাচ্ছি।<br />
উপুড় হয়ে শুয়ে দু গালে দু হাত চেপে<br />
ভাবনার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছি।তারপর<br />
আনমনেই একা একা হেসে উঠছি।<br />
কখনো বা দুহাত শূন্যে উড়িয়ে এক<br />
নাগাড়ে ঘুরছি।<br />
আমার এসব আনন্দঘন পাগলামীর কারন<br />
হচ্ছে রিক্সাওয়ালার কথাগুলো।সত্যিই<br />
কি অনিলও আমাকে ভালবাসে?<br />
তাহলে কি সত্যিই আমার ভালবাসা<br />
পরিপূর্নতা পেতে যাচ্ছে।আমি কি<br />
সত্যিই অনিলের বৌ হতে পারব?<br />
এরকম নানানও চিন্তা দোল দিয়ে<br />
যাচ্ছে আমার মনে।<br />
.<br />
দেখতে দেখতে অনেক দিন চলে গেল।<br />
আমার এইচ এস সি পরীক্ষা শেষ।<br />
এদিকে ভাইয়ার বিয়েটাও শেষ হয়ে<br />
গেল।বিয়ের দিনগুলোতে অনেক দুষ্টুমি<br />
করেছি ওর সাথে।আমার নতুন<br />
ভাবীজানও ইতিমধ্যে কিছুটা আন্দাজ<br />
করে ফেলেছে যে আমি উনার ভাইয়ের<br />
প্রতি দুর্বল।<br />
.<br />
আজ অনিল আমাদের বাসায় বেড়াতে<br />
আসবে।আমি সকাল থেকেই পুরু<br />
রান্নাঘড় দখল করে রেখেছি।কাউকে<br />
রান্নাঘরের আশেপাশে আসতে<br />
দিচ্ছিনা।যদিও আমি রান্না ঘরে<br />
সচরাচর যাইনা তবুও প্রিয় মানুষটা<br />
আসবে বলে কথা।নিজ হাতে অনেক<br />
কিছু রান্না করলাম।<br />
.<br />
অনিল আসল।ওকে খাওয়ানোর<br />
দায়িত্বটাও নিজের হাতে নিলাম।<br />
.<br />
আমি এতকিছু রান্না করলাম আর উনি<br />
কিনা সামান্য আলু ভাজি আর সর্ষে<br />
ইলিশ দিয়ে খেয়েই উঠে গেলেন।<br />
মাংশটা ছুঁয়েও দেখল না।মুড়িঘন্ট, ডাল<br />
ভুনা,সব্জিতো এভাবেই পড়ে রইল।এত<br />
শখ করে পোলাও রান্না করলাম।আর<br />
উনি সাদা ভাত খেয়েই খাওয়া শেষ<br />
করে দিলেন।<br />
.<br />
কেন যে এই বুদ্ধুরামটার জন্য এত কষ্ট<br />
করে এত কিছু রান্না করতে গেলাম?<br />
.<br />
অনিল<br />
যখন চলে যাচ্ছিল আমি বেলকনির<br />
গ্রীল ধরে ওর যাওয়ার পানে<br />
তাকিয়েছিলাম ।দেখতে দেখতে ও<br />
বাইকে চড়ে চলে গেল।ও চোখের<br />
আড়াল হওয়া মাত্র বুকের কষ্টটা<br />
অনেকগুন বেড়ে গেল।ও কি একবারও<br />
উপরে তাকিয়ে দেখতে পারল না যে<br />
একটা মেয়ে ওর ভালবাসায় পাগল হয়ে<br />
জবাই করা পাখির মত ছটফট করছে।<br />
কিভাবে ওর যাওয়ার পানে তাকিয়ে<br />
চোখের পানি ঝরাচ্ছে।ও কেন বুঝেও<br />
না বোঝার ভান করে?জেনেশুনে কেন<br />
কষ্ট দিচ্ছে ও আমাকে।<br />
.<br />
অঝড় নয়নে কাঁদছিলাম।আমার চোখের<br />
পানির সাথে তাল মিলাতেই বোধ হয়<br />
আকাশে একবার বিদ্যুৎ চমকিয়েই<br />
অঝড়ে বৃষ্টি পড়তে শুরু করল।<br />
.<br />
ওমনি আমার চোখ কে অবাক করে<br />
দিয়ে অনিলের বাইকটা আবারো<br />
আমাদের গেটের সামনে এসে দাড়াল।<br />
.<br />
অনিল আমার দিকে তাকিয়ে চিৎকার<br />
করে বলতে লাগল<br />
-নীচে নেমে এস।<br />
আমি চাপা হাসি হেসে সিঁড়ি বেয়ে<br />
দ্রুত নীচে নামলাম।<br />
ও আমার কাছে এসে বলল<br />
-ইচ্ছে ছিল কোন এক বৃষ্টি ভেজা<br />
দিনে তোমাকে ভালবাসার কথাটা<br />
বলব।বৃষ্টিও হচ্ছিল না।তাই বলাও হয়ে<br />
উঠছিল না।<br />
আমি অনেকটা আবেগ নিয়ে ওকে<br />
বললাম<br />
-তাহলে এখন বল।<br />
ও দুহাতে আমার চিবুক দুটো ধরে ওর<br />
নাক দিয়ে আমার নাকটা আলতো করে<br />
ছুঁয়ে দিয়ে বলল<br />
-ভালবাসি।<br />
আমিও ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে<br />
ফিসফিসিয়ে ফিডব্যাকটা দিয়ে<br />
দিলাম।ওর চুলগুলো বৃষ্টিতে ভেজায়<br />
আগের<br />
থেকেও কিউট লাগছিল।আমি হাত<br />
দিয়ে ওর চুলগুলো একটু এলোমেলো<br />
করে দিয়েই দৌড় দিলাম।ও আমার পিছু<br />
পিছু আমাকে দৌড়াচ্ছে।<br />
.<br />
আজ বুঝি আমার সেই কল্পনাটা সত্যি<br />
হতে চলেছে যে কল্পনাটা আমি ওকে<br />
প্রথম দিন দেখে করেছিলাম]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[ভাল লাগায় মোড়ানো ভালবাসা<br />
,,<br />
,,<br />
Written by:Tanjina Akter Tania<br />
(হিমাদ্রির মেঘ)<br />
,,<br />
,,<br />
অনিলকে প্রথম দেখেছিলাম আমার<br />
ভাইয়ার জন্য পাত্রী দেখতে গিয়ে।সে<br />
ছিল পাত্রীর ভাই।খুব ছোট করে কাটা<br />
খাড়া খাড়া চুল তার।গায়ের রং উজ্জল<br />
শ্যামলা।ফেস কাটিং গোল। একটা<br />
গ্যাবার্ডিন প্যান্ট আর ফোল্ডিং করে<br />
শার্ট পড়ে ছিল।আমরা সোফায়<br />
বসেছিলাম।ও আমাদের খাবার সার্ভ<br />
করছিল।ও প্যান্টের নীচে গোড়ালির<br />
কাছে কয়েকটা ভাঁজ করে রেখেছিল।<br />
খালি পায়ে যে ও ফ্লোরে<br />
হাটছিল,ওকে যে কি দারুন<br />
লাগছিল.......এক কথায় বলতে গেলে<br />
ও প্রথম দেখাতেই আমার অন্তরে ঠাঁই<br />
করে নিয়েছিল।যখন ও আমার হাতে<br />
শরবতের গ্লাস তুলে দিচ্ছিল,ওর<br />
হাতের সাথে আমার হাতের আলতো<br />
স্পর্শ লেগেছিল।আমার যেন তখন হৃদয়<br />
সাগরে ঢেউ শুরু হয়ে গিয়েছিল।লক্ষ<br />
করেছিলাম ওর হাতের নখগুলো ধবধবে<br />
সাদা।ইচ্ছে হচ্ছিল একটু ছুঁয়ে দেই ওর<br />
হাতটা আর হাতের নখগুলো।ওর শরীর<br />
থেকে একটা সুন্দর পারফিউমের ঘ্রান<br />
আসছিল।ও শরবত দেয়ার সময় আমি<br />
চুপিসারেই আস্তে করে একবার লম্বা<br />
নিঃশ্বাস নিয়ে ওর শরীরের ঘ্রানটা<br />
বুকভরে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম।ওর<br />
চুলগুলোর দিকে যতবার তাকাচ্ছিলাম<br />
মন চাচ্ছিল হাতে ওর চুলগুলো<br />
এলোমেলো করে দেই। চোখ বন্ধ করে<br />
কল্পনাও করে ফেলেছিলাম যে আমি<br />
ওর চুল এলোমেলো করে দিয়েছি আর<br />
ও রেগে গিয়ে আমাকে<br />
দৌড়োচ্ছে,আমি হাসতে হাসতে<br />
বাতাসে উড়না উড়িয়ে দৌড়াতে<br />
লাগলাম।উর্নার সাথে উড়ছিল আমার<br />
কালো ঘন চুলগুলোও ।হঠাৎই<br />
ভাবলাম,আমি দৌড়াচ্ছি কেন?কেন<br />
দৌড়াচ্ছি আমি?আমিতো ওর থেকে<br />
পালাতে চাইনা।আমিতো তার কাছে<br />
ধরাই দিতে চাই।সেটা ভেবেই যেন<br />
হাঠাৎ দাড়িয়ে গেলাম।ও দৌড়ের গতি<br />
সামলাতে না পেরে আমার গায়ের উপর<br />
এসে পড়ে যাচ্ছিল।আমি ওকে<br />
থামানোর জন্য ওর দুই বাজুতে শক্ত<br />
করে ধরলাম।ও নিজেকে কিছুটা<br />
নিয়ন্ত্রন করতে পারল।কিন্তূ পুরুটা নয়।<br />
ওর শরীরের খুব কাছাকাছি তখন আমার<br />
শরীর।ওর মুখের খুব কাছে আমার মুখ।ওর<br />
নিঃশ্বাসের বাতাস আমার চোখে মুখে<br />
আঁচড়ে পড়ছিল।আমি চোখ বন্ধ করে<br />
ছিলাম।আমার কিছু চুল তখন হাওয়ায়<br />
উড়ে উড়ে ওর নাকে মুখ স্পর্শ করছিল।<br />
কিছু চুল ওর খোঁচা খোঁচা দাড়ির সাথে<br />
আটকে গিয়েছিল।আমিও বুঝতে<br />
পারছিলাম যে ও বুক ভরে আমার চুলের<br />
ঘ্রান নেওয়ার চেষ্টা করছে।ঐটুকু চুল<br />
থেকে আর কিইবা ঘ্রান নেয়া যায়?সে<br />
পরিতৃপ্ততা পাওয়ার জন্য আস্তে<br />
আস্তে আমার হাত থেকে নিজেকে<br />
সড়িয়ে নিয়ে আমার পেছনে গিয়ে<br />
আমার দুই বাজু স্পর্শ করে আমার<br />
মাথাভর্তি চুলে নাক ডুবিয়ে চুলের<br />
ঘ্রান নিচ্ছিল।আমার দেহ মনে তখন<br />
অন্যরকম এক প্রশান্তির হাওয়া<br />
বইছিল।<br />
.<br />
কল্পনায় ব্যাঘাত ঘটল কারো এহেম<br />
এহেম কাশির শব্দে।আমি চোখ খুললাম।<br />
কল্পনা থেকে বাস্তবে<br />
ফিরলাম।যা হোক ভালই হয়েছে কল্পনা<br />
এখানে শেষ হয়ে।নতুবা আরো<br />
সাংঘাতিক কিছু ঘটে যেতে পারত।<br />
.<br />
কল্পনায় সাংঘাতিক কিছু না ঘটলেও<br />
কল্পনার জগত থেকে বেরিয়ে দেখি<br />
সবাই আমার দিকে হা করে তাকিয়ে<br />
আছে।যেন সত্যি সত্যিই সাংঘাতিক<br />
কিছু ঘটিয়ে ফেলেছি।প্রথমে মারাত্নক<br />
ভয় পেয়ে গেলাম!এদের কাছে আবার<br />
মাইন্ড রিডার যন্ত্র নেইতো!কল্পনায়<br />
যে আমি সত্যি সত্যিই সাংঘাতিক<br />
কিছু করতে যাচ্ছিলাম,সেটা এরা বুঝে<br />
ফেলে আমার দিকে এভাবে হা করে<br />
আছে নাতো?<br />
.<br />
আমার চিন্তার সমাপ্তি ঘটল শরবত<br />
সার্ভ করা আমার ভাল লাগার<br />
মানুষটার কথায়।খুব মিষ্টি করে বলছিল<br />
- শরবতটা খেয়ে নিন।<br />
ওর কথা শেষ না হতেই মা বলে উঠল<br />
-কিরে!তুই এখনো শরবত মুখেই দিলি<br />
না....সবাই তোকে শরবত পান করতে<br />
বলছে।কিন্তূ তুই কোন রেসপন্স করছিস<br />
না।কি কল্পনা করছিলি এত<br />
গভীরভাবে?<br />
.<br />
আমি একটু কেশে নিজেকে স্বাভাবিক<br />
করে বললাম<br />
-কই কিছু নাতো।এইতো খাচ্ছি<br />
বলেই ঢক ঢক করে শরবতটা পাঁচ<br />
সেকেন্ডে গিলে গ্লাসটা আমার ভাল<br />
লাগার মানুষটার হাতে ধরিয়ে দিলাম।<br />
.<br />
ঠিক তখনই কে যেন "অনিল"বলে ডাক<br />
দিল আর অমনি আমার ভাল লাগার<br />
মানুষটা রেসপন্স করল।বুঝলাম যে<br />
উনার নাম অনিল।<br />
.<br />
পাত্রী দেখা শেষে যখন ফিরে<br />
আসছিলাম তখনও আড়চোখে আমি<br />
অনিলকে দেখছিলাম।এত কিউট কেন<br />
ও?<br />
প্রথম দেখাতেই ও মনে হয় আমাকে<br />
বশীকরন করে নিয়েছে।<br />
.<br />
সেদিন বাসায় চলে গেলাম।সবার মুখেই<br />
এক কথা,এই মেয়েকে যে করেই হোক<br />
বিয়ে করাবে।<br />
.<br />
তবে বিয়ে হবে তিনমাস পর।অামার বড়<br />
চাচা অামেরিকা থেকে অাসার পর।<br />
এখন শুধু বাগদান হবে।<br />
এখন আমার মূল লক্ষ্য হচ্ছে অনিলের<br />
ফোন নাম্বার যোগাড় করা।<br />
একটু খাটা খাটনী করলে অবশ্য এটা<br />
কোন ব্যাপার না।<br />
.<br />
যেহেতু আমি এইচ এস সি<br />
পরীক্ষার্থী,প্রস্ততি কোচিং এ ভর্তি<br />
হলাম। আজ থেকে ক্লাস শুরু হচ্ছে।<br />
প্রথম দিনেই ক্লাস করতে গিয়ে<br />
টাস্কিত হলাম।পরিচালক সব টিচার<br />
ভাইয়াদের সাথে পরিচয় করিয়ে<br />
দিচ্ছিল।আর তাদের মাঝে অনিলও<br />
ছিল।আমি এটা দেখে যতটা না অবাক<br />
হয়েছি,তার থেকে বেশী আনন্দিত<br />
হয়েছি।যা হোক ঘটনা ঘটানোর<br />
শুরু এখান থেকেই করতে হবে।<br />
.<br />
দ্বিতীয় দিন যখন কোচিং এ ক্লাস<br />
করতে গেলাম(যেহেতু প্রস্ততি<br />
কোচিং,তাই সলভড ক্লাস আর<br />
কি)তখন প্রথম ক্লাসেই অনিল সাহেব<br />
এলেন প্রশ্নপত্র হাতে।সবাইকে একটা<br />
করে প্রশ্ন দিলেন।আমি প্রশ্নটা হাতে<br />
নিয়েই বললাম<br />
-ভাইয়া,এই প্রশ্নটা একটু চেঞ্জ করে<br />
দিন ।এটা কিছুটা ঝাপ্সা দেখাচ্ছে।<br />
(আসলে প্রশ্ন এতটা ঝাপ্সা ছিলনা।<br />
আমার উদ্দেশ্য উনাকে কিছুক্ষন<br />
আমার খুব কাছে দাড় করিয়ে রাখা)<br />
তারপর একটু ভনিতা করে কয়েকটা<br />
প্রশ্ন আউড়িয়ে একটা প্রশ্ন হাতে<br />
নিলাম।আর উনি আমার বেঞ্চ<br />
অতিক্রম করে যেই পেছনের বেঞ্চ<br />
অব্দি গেলেন অমনি হাতে মুখ চেপে<br />
একটা চাপা হাসি দিলাম।<br />
.<br />
একদিন পর যখন আবার ক্লাসে গেলাম<br />
তখন প্রথম ক্লাস টেষ্টের রেজাল্ট<br />
দিল।আমারতো খাতা দেখে মাথায়<br />
হাত।এত কম মার্কস পেয়েছি আমি?<br />
খাতা নিয়ে অনিলের কাছে গেলাম।<br />
রাগে তখন আমার প্রেসার লো থেকে<br />
হাই হয়ে গিয়েছে।ভালবাসার গোষ্ঠী<br />
কিলাই।মার্কস কেন কম দিবে?<br />
.<br />
অনেক্ষন উনার সাথে দাড়িয়ে দাড়িয়ে<br />
তর্ক করলাম।এটাকে অবশ্য তর্ক বলা<br />
যায়না।কারন উনি আস্তে আস্তে<br />
আমাকে বুঝাচ্ছিলেন যে কেন কম<br />
মার্কস পেয়েছি।কিন্তূ আমি খুব<br />
চেঁচাচ্ছিলাম। ভুলেই গিয়েছিলাম যে<br />
উনি আমার টীচার।আমার<br />
চিল্লাপাল্লা শুনে আরেকজন টীচার<br />
ভাইয়া রেগে<br />
গিয়ে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলল<br />
-এই বেয়াদব মেয়ে,টীচারদের সাথে<br />
কিরকম বিহেভ করতে হয় শেখনি?<br />
এই কথা বলার সাথে সাথে আমি লক্ষ<br />
করলাম যে, অনিলের চোখ মুখ লাল<br />
হয়ে গিয়েছে।ও ঐ ভাইয়াকে ধমকের<br />
স্বরে বলল<br />
-স্টপ নীলয়।ও একটা পিচ্চি মেয়ে।ভুল<br />
করতেই পারে।তাই বলে বেয়াদব বলবি?<br />
উনার ধমক খেয়ে নীলয়ের সাথে সাথে<br />
আমিও চুপ মেরে গেলাম।<br />
.<br />
তারপর উনি আমাকে বললেন<br />
-তুমি এখন যাও।তোমার সাথে পরে<br />
কথা বলছি<br />
.<br />
অনিলকে নিয়ে আমার ভাবনার জগৎ<br />
দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে।ওর প্রতি<br />
দুর্বলতাটা দিন দিন বেড়েই চলছে।<br />
আমি বুঝতে পারছি যে,ওর পাশে<br />
থেকেই আমাকে বাঁচতে হবে।নইলে<br />
অক্সিজেনের অভাবে আমি দম বন্ধ<br />
হয়ে.......<br />
.<br />
শুধু মাত্র শুক্রবার দিন আমাদের ক্লাস<br />
হয়।আর বাকী দিনগুলোতে শুধু সলভড<br />
ক্লাস।<br />
.<br />
আজ শুক্রবার।অনিল আমাদের<br />
কেমিষ্ট্রি ক্লাস নিচ্ছে। হঠাৎই ও<br />
আমাকে দাড় করিয়ে বলল<br />
-বলতো রাসায়নিক বন্ধন কাকে বলে?<br />
আমিতো অনিলকে কখনো স্যারই মনে<br />
করিনা।একেতো সে আমার হবু বিয়াই।<br />
দ্বিতীয়ত তাকে আমি ভালবাসি।ওর<br />
সাথে সবসময় দুষ্টুমি করতে ইচ্ছা করে<br />
আমার।তাই ফাজলামো করে বললাম<br />
-একটা ইয়াংছেলে আর একটা ইয়াং<br />
মেয়ের মধ্যে যদি ইয়ে থাকে তাহলে<br />
সেটাকে রসায়ন বলে।আর তারা যখন<br />
ইয়ে করে বিয়ে করে ফেলে তখন<br />
সেটাকে রাসায়নিক বন্ধন বলে।<br />
.<br />
আমার কথা শুনে সবাই হেসে ফেলল।<br />
কিন্তূ অনিল বেশ রেগে গেল আর<br />
আমাকে ধমক দিয়ে ক্লাস থেকে বের<br />
করে দিল।<br />
.<br />
আমার বাসায় এসে সেকি কান্না।আর<br />
কোচিং এ যাবনা বলে মনস্থির করলাম।<br />
.<br />
যেহেতু অনিলের বোনের সাথে<br />
ভাইয়ার বিয়ে ঠিক ছিল তাই ওদের<br />
পরিবারের সাথে আমাদের কন্টাক্ট<br />
ছিল।<br />
.<br />
আমি কোচিং এ যাইনা বলে অনিল<br />
আব্বুর কাছে ফোন দিল।আমিও সুযোগ<br />
পেয়ে বললাম<br />
- যদি অনিল ভাইয়া আমাকে নিতে<br />
আসে তাহলে যাব।কজ উনি আমাকে<br />
ক্লাস থেকে বের করে দিয়েছে।<br />
.<br />
বাবা বললেন অনিল নাকি আসতে<br />
রাজী হয়েছে।আমিতো আনন্দে<br />
আত্নহারা।খুব সাজুগুজু করে অপেক্ষা<br />
করছি অনিলের জন্য।<br />
.<br />
অনিল আসলো।আমি ওর সাথে রিক্সায়<br />
করে যাচ্ছি।কিন্তূ ও আমার সাথে<br />
কোন কথা বলছে না।ভাবলাম একটু<br />
শয়তানি না করলেতো আর কথা বলানো<br />
যাবেনা।হঠাৎই চোখে কিছু পড়েছে<br />
বলে চেঁচিয়ে উঠলাম।<br />
সাথে সাথে উনি আমার<br />
চোখের পাঁতির উপরে নীচে দু আঙ্গুল<br />
দিয়ে টানা দিয়ে খুব করে খুঁজতে<br />
লাগল যে চোখে কি পড়েছে।আমার<br />
তখন খুব আনন্দ হচ্ছিল ওকে বোকা<br />
বানিয়ে।<br />
.<br />
এভাবে কিছুদিন অতিবাহিত হল।<br />
অনিলের সাথে কোন কথা হয়না।আমার<br />
অস্বস্থি বেড়েই চলছিল।তাই কায়দা<br />
করে একদিন ক্লাস শেষে ওর কাছে<br />
ইচ্ছা করে খুড়াতে খুড়াতে গিয়ে<br />
বললাম<br />
-আমার পায়ে ব্যাথা।একটু বাসায়<br />
পৌঁছে দিয়ে আসবেন?<br />
অনিল তেমন কিছু না বলে শুধু বলল<br />
-চল।<br />
উনি একটা রিক্সা ডেকে আনলেন।<br />
আমি বললাম<br />
-আমারতো পায়ে ব্যাথা।রিক্সায় উঠব<br />
কিভাবে?<br />
-বাসা থেকে এসেছিলে কিভাবে?<br />
-আরে ব্যাথাতো কোচিং এ এসে<br />
পেয়েছি।<br />
তারপর উনি আর কথা না বাড়িয়ে<br />
আমাকে কোলে করে রিক্সায় উঠিয়ে<br />
দিল।আমি তখন মুখ টিপে হাসছিলাম।<br />
.<br />
রিক্সায় বসে আমি ওকে অনেক কিছু<br />
জিজ্ঞাসা করছিলাম।সে শুধু হ্যাঁ না<br />
তে জবাব দিয়ে যাচ্ছিল আর<br />
অন্যদিকে তাকিয়েছিল।আমার ভীষন<br />
রাগ হচ্ছিল।অবশেষে আমি বিরক্ত হয়ে<br />
বলেই ফেললাম<br />
-আপনি তাকাচ্ছেন না কেন আমার<br />
দিকে?একবার ভাল করে তাকিয়ে দেখুন<br />
আমি কত সুন্দর।<br />
.<br />
এ কথা শুনে এবার ও শব্দ করে হেসে<br />
উঠল।তারপর বলল<br />
-তুমি সুন্দর এই ভুল ধারনাটা তোমাকে<br />
কে দিয়েছে?<br />
-হোয়াট!তার মানে আপনি বলতে<br />
চাচ্ছেন আমি সুন্দর না?<br />
-অবভিয়াসলি নট।<br />
এবার আমি প্রচুর রেগে গেলাম।রেগে<br />
গিয়ে রিক্সাওয়ালাকে রিক্সা থামাতে<br />
বললাম।রিক্সা থামাতেই আমি লাফ<br />
দিয়ে নেমে গেলাম রিক্সা থেকে।<br />
.<br />
ওমনি অনিল পেছন থেকে বলল<br />
-তোমার না পায়ে ব্যাথা?<br />
আমি ঝট করেই থেমে গেলাম আর<br />
জিভে কামড় দিলাম।লজ্জায় আমার<br />
চেহাড়া লাল হয়ে গেল।কি বলব বুঝতে<br />
পারছিলাম না।আমি ঠায় দাড়ি রইলাম।<br />
কিন্তূ অনিলের দিকে তাকাতে<br />
পারছিলাম না।অনিল আবারো বলল<br />
-আমি চলে যাচ্ছি।তুমি উঠে বস<br />
রিক্সায়।<br />
.<br />
কিছুক্ষন পর রিক্সাওয়ালার ডাকে ঘুরে<br />
দাড়ালাম।রিক্সাওয়ালা বলল<br />
-আফা উডেন।<br />
.<br />
আমি রিক্সায় চড়ে বসলাম।রিক্সাওয়া<br />
লা আবারো বলল<br />
-আফা একটা কতা কই?<br />
-জ্বি বলুন।<br />
-ভাইজান কিন্তূ আপনারে অনেক<br />
বালবাসে।<br />
-আপনি বুঝলেন কিভাবে?<br />
-চখ্যের দিক চাইলেই কওন যায়।<br />
আপনে অনেক কপাইল্যা মানুষ<br />
-এ কথা বললেন কেন?<br />
-কপাইল্য না হইলে কি আর ভাইজানের<br />
মত এমন সুন্দর পোলা অপনের প্রেমে<br />
পড়ে।<br />
-তার মানে আপনিও ওর মত বলতে<br />
চাইছেন যে আমি সুন্দর না।(রেগে<br />
গিয়ে)<br />
-না না আপা।আমি হেইডা কই নাই।তয়<br />
ভাইজান কিন্তূ আপনার থাইকাউ<br />
সুন্দর।যতন কইরা দেইখা রাইখেন।<br />
আঞ্চলের লগে বাইন্ধা রাইখেন পুরা<br />
জীবন।<br />
.<br />
লোকে বলে মেয়েরা নাকি জীবনের<br />
এক তৃতীয়াংশ সময় আয়নার সামনে<br />
দাড়িয়ে কাটায়।আজকের পূর্ব পর্যন্ত<br />
আমি অবশ্য এ নিয়মের বাহিরে ছিলাম।<br />
কিন্তূ আজ থেকে মনে হয় আমিও সেই<br />
মেয়েদের কাতারে নাম লিখাতে<br />
যাচ্ছি যারা জীবনের অধিকাংশ সময়<br />
আয়নার সামনে কাটায়।<br />
.<br />
এক ঘন্টা যাবৎ আয়নার সামনে<br />
দাড়িয়ে নিজেকে ঘুড়িয়ে ফিরিয়ে<br />
দেখছি।আর মিটি মিটি হাসছি।একটূ পর<br />
পর কপালের টিপ চেঞ্জ করছি।ঠোঁটে<br />
লিপষ্টিক দিয়ে দুই ঠোঁট একসাথে ঘষা<br />
দিয়ে দু ঠোঁটেই লিপষ্টিকের সমতা<br />
আনার চেষ্টা করছি।<br />
মাঝে মাঝে বিছানায় গড়াগড়ি খাচ্ছি।<br />
উপুড় হয়ে শুয়ে দু গালে দু হাত চেপে<br />
ভাবনার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছি।তারপর<br />
আনমনেই একা একা হেসে উঠছি।<br />
কখনো বা দুহাত শূন্যে উড়িয়ে এক<br />
নাগাড়ে ঘুরছি।<br />
আমার এসব আনন্দঘন পাগলামীর কারন<br />
হচ্ছে রিক্সাওয়ালার কথাগুলো।সত্যিই<br />
কি অনিলও আমাকে ভালবাসে?<br />
তাহলে কি সত্যিই আমার ভালবাসা<br />
পরিপূর্নতা পেতে যাচ্ছে।আমি কি<br />
সত্যিই অনিলের বৌ হতে পারব?<br />
এরকম নানানও চিন্তা দোল দিয়ে<br />
যাচ্ছে আমার মনে।<br />
.<br />
দেখতে দেখতে অনেক দিন চলে গেল।<br />
আমার এইচ এস সি পরীক্ষা শেষ।<br />
এদিকে ভাইয়ার বিয়েটাও শেষ হয়ে<br />
গেল।বিয়ের দিনগুলোতে অনেক দুষ্টুমি<br />
করেছি ওর সাথে।আমার নতুন<br />
ভাবীজানও ইতিমধ্যে কিছুটা আন্দাজ<br />
করে ফেলেছে যে আমি উনার ভাইয়ের<br />
প্রতি দুর্বল।<br />
.<br />
আজ অনিল আমাদের বাসায় বেড়াতে<br />
আসবে।আমি সকাল থেকেই পুরু<br />
রান্নাঘড় দখল করে রেখেছি।কাউকে<br />
রান্নাঘরের আশেপাশে আসতে<br />
দিচ্ছিনা।যদিও আমি রান্না ঘরে<br />
সচরাচর যাইনা তবুও প্রিয় মানুষটা<br />
আসবে বলে কথা।নিজ হাতে অনেক<br />
কিছু রান্না করলাম।<br />
.<br />
অনিল আসল।ওকে খাওয়ানোর<br />
দায়িত্বটাও নিজের হাতে নিলাম।<br />
.<br />
আমি এতকিছু রান্না করলাম আর উনি<br />
কিনা সামান্য আলু ভাজি আর সর্ষে<br />
ইলিশ দিয়ে খেয়েই উঠে গেলেন।<br />
মাংশটা ছুঁয়েও দেখল না।মুড়িঘন্ট, ডাল<br />
ভুনা,সব্জিতো এভাবেই পড়ে রইল।এত<br />
শখ করে পোলাও রান্না করলাম।আর<br />
উনি সাদা ভাত খেয়েই খাওয়া শেষ<br />
করে দিলেন।<br />
.<br />
কেন যে এই বুদ্ধুরামটার জন্য এত কষ্ট<br />
করে এত কিছু রান্না করতে গেলাম?<br />
.<br />
অনিল<br />
যখন চলে যাচ্ছিল আমি বেলকনির<br />
গ্রীল ধরে ওর যাওয়ার পানে<br />
তাকিয়েছিলাম ।দেখতে দেখতে ও<br />
বাইকে চড়ে চলে গেল।ও চোখের<br />
আড়াল হওয়া মাত্র বুকের কষ্টটা<br />
অনেকগুন বেড়ে গেল।ও কি একবারও<br />
উপরে তাকিয়ে দেখতে পারল না যে<br />
একটা মেয়ে ওর ভালবাসায় পাগল হয়ে<br />
জবাই করা পাখির মত ছটফট করছে।<br />
কিভাবে ওর যাওয়ার পানে তাকিয়ে<br />
চোখের পানি ঝরাচ্ছে।ও কেন বুঝেও<br />
না বোঝার ভান করে?জেনেশুনে কেন<br />
কষ্ট দিচ্ছে ও আমাকে।<br />
.<br />
অঝড় নয়নে কাঁদছিলাম।আমার চোখের<br />
পানির সাথে তাল মিলাতেই বোধ হয়<br />
আকাশে একবার বিদ্যুৎ চমকিয়েই<br />
অঝড়ে বৃষ্টি পড়তে শুরু করল।<br />
.<br />
ওমনি আমার চোখ কে অবাক করে<br />
দিয়ে অনিলের বাইকটা আবারো<br />
আমাদের গেটের সামনে এসে দাড়াল।<br />
.<br />
অনিল আমার দিকে তাকিয়ে চিৎকার<br />
করে বলতে লাগল<br />
-নীচে নেমে এস।<br />
আমি চাপা হাসি হেসে সিঁড়ি বেয়ে<br />
দ্রুত নীচে নামলাম।<br />
ও আমার কাছে এসে বলল<br />
-ইচ্ছে ছিল কোন এক বৃষ্টি ভেজা<br />
দিনে তোমাকে ভালবাসার কথাটা<br />
বলব।বৃষ্টিও হচ্ছিল না।তাই বলাও হয়ে<br />
উঠছিল না।<br />
আমি অনেকটা আবেগ নিয়ে ওকে<br />
বললাম<br />
-তাহলে এখন বল।<br />
ও দুহাতে আমার চিবুক দুটো ধরে ওর<br />
নাক দিয়ে আমার নাকটা আলতো করে<br />
ছুঁয়ে দিয়ে বলল<br />
-ভালবাসি।<br />
আমিও ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে<br />
ফিসফিসিয়ে ফিডব্যাকটা দিয়ে<br />
দিলাম।ওর চুলগুলো বৃষ্টিতে ভেজায়<br />
আগের<br />
থেকেও কিউট লাগছিল।আমি হাত<br />
দিয়ে ওর চুলগুলো একটু এলোমেলো<br />
করে দিয়েই দৌড় দিলাম।ও আমার পিছু<br />
পিছু আমাকে দৌড়াচ্ছে।<br />
.<br />
আজ বুঝি আমার সেই কল্পনাটা সত্যি<br />
হতে চলেছে যে কল্পনাটা আমি ওকে<br />
প্রথম দিন দেখে করেছিলাম]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[গল্প : কল্পনা বিলাস।]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2176</link>
			<pubDate>Wed, 22 Feb 2017 04:23:35 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2176</guid>
			<description><![CDATA[আমি চুপচাপ বসে আছি।<br />
জায়গাটা বিয়ের আসর। প্রিয়তি নামের<br />
একটা অনিন্যসুন্দর মেয়ে আজ জীবনের নতুন<br />
একটি অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।<br />
আমি বসে আছি প্রিয়তির সামনে। প্রিয়তির<br />
মাথায় ঘোমটা, ঘোমটার সামনে দিয়ে<br />
টিকলির এক অংশ বাইরে বেরিয়ে পড়েছে।<br />
প্রিয়তির মুখখানি ঠিকমত দেখা যাচ্ছে না।<br />
তার হাতে কাঁচের চুড়ি রিনিঝিনি মাদকতা<br />
ছড়াচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে।<br />
আমি না তাকিয়েও বুঝতে পারলাম প্রিয়তির<br />
চোখে পানি। ওর সমুদ্রের মত গভীর চোখে দু<br />
ফোঁটা বিশুদ্ধ অশ্রু। আমার খুব জিজ্ঞেস<br />
করতে ইচ্ছা করছে, "অ্যাই শোন, বিয়ের<br />
আসরে মেয়েরা কাঁদে কেন বল তো?"<br />
আমার মাথায় টোপর। গায়ে সাদা<br />
পাঞ্জাবী। নার্ভাসনেস কাটানোর জন্য<br />
আমি একটু পরপরই হেসে উঠছি। আমার<br />
একগাদা নিকটসম্পর্কীয় ও দূরসম্পর্কীয় হবু<br />
শ্যালিকারা মাঝে মাঝে কটমট করে<br />
তাকাচ্ছে। তাদের দৃষ্টি অনুভূতিহীন। দেখে<br />
মনে হয় একটু আগেও কেঁদেছে তারা, এখন মন<br />
শক্ত করছে।<br />
কি রে ভাই? এ কোন বাড়িতে বিয়ে করতে<br />
আসলাম? সব কাঁদুনির দল! বিয়ের পর তো<br />
জ্বালিয়ে খাবে দেখছি!<br />
শাহেদ গম্ভীর মুখে হাঁটাহাঁটি করছে। তার<br />
চোখ লাল, খুব গভীরভাবে কিছু একটা ভাবছে<br />
সে। আমি অবাক হয়ে দেখলাম, শাহেদের<br />
পরনেও সাদা পাঞ্জাবী। ও তো অন্য কিছু<br />
পরে ছিল, চেঞ্জ করল কখন?<br />
প্রিয়তি মাটির দিকে তাকিয়ে আছে। আমি<br />
ভাবছি। আজ থেকে তিন বছর আগে প্রিয়তির<br />
সাথে আমার প্রথম দেখা। প্রকৃতি এই ক্ষুদ্র<br />
নাটকটি মঞ্চস্থ করেছিল অনেকটা দুর্ঘটনার<br />
মত করে।<br />
টিএসসি ক্যাম্পাসে আমি আর প্রিয়তি। কেউ<br />
কাউকে চিনি না। হঠাৎ চোখাচোখি।<br />
একবার। দুবার। তিনবার।<br />
মেয়েদের সাথে চোখাচোখি হলে<br />
ছেলেদেরই নামিয়ে নেওয়ার নিয়ম। জীবনে<br />
গত বাইশটি বছর নিষ্ঠার সাথে নিয়মটি<br />
মেনে আসলেও, সেদিন মানতে পারলাম না।<br />
তাকিয়ে রইলাম। প্রিয়তিও কি একটা<br />
অজ্ঞাত কারণে চোখ নামাতে পারল না। ও<br />
বোধহয় ভুলেই গেছে কোন ছেলে তাকিয়ে<br />
থাকলে মেয়েদেরই একসময় চোখ নামিয়ে<br />
নিতে হয়।<br />
ফলাফলে যা হবার তাই হল। আমরা জুটি হয়ে<br />
চুটিয়ে স্বপ্ন দেখতে লাগলাম। প্রথম<br />
পরিচয়ের আড়াই বছর পরে এক সুন্দর বিকেলে<br />
বাদাম খেতে খেতে আমরা পরস্পরের<br />
জীবনসঙ্গী হতে রাজি হয়ে গেলাম।<br />
আমি প্রিয়তির ছবি মায়ের কোলে ছুঁড়ে<br />
ফেলে বললাম, এই মেয়েকে তোমার পুত্রবধূ<br />
করতে চাই।<br />
মা প্রথমে ছেলের এহেন কর্মকাণ্ডে ঈষৎ<br />
রাগান্বিত, অতঃপর আনন্দিত এবং অতঃপর<br />
উত্তেজিত হয়ে সাথে সাথে রাজি হয়ে<br />
গেলেন। হবেন নাই বা কেন? এই ছবিটির<br />
মেয়ের মত সুন্দর মেয়ে যে উনি জীবনে<br />
দেখেন নি এটা আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে<br />
পারি।<br />
দুইপক্ষ রাজি হল। এনগেজমেন্ট নামক একটা<br />
অর্থহীন সামাজিকতা আমাকে পালন করতে<br />
হল অনেকটা প্রিয়তির অনুরোধেই। তার সব<br />
বান্ধবীর নাকি এনগেজমেন্ট করে বিয়ে<br />
হয়েছে, সে-ই বা কি দোষ করল!<br />
বিয়ের দিন ধার্য হল। মুরুব্বিরা শুভদিন দেখে<br />
বিয়ের দিন ঠিক করলেন। অফিসের কাজে<br />
আমি আর বন্ধু কাম কলিগ শাহেদ চট্টগ্রাম<br />
গিয়েছিলাম, আগের দিন বাস না পেয়ে আজই<br />
দুপুরের বাসে উঠলাম। রাতে বিয়ে।<br />
ঠিক সেই মুহূর্তে প্রকৃতির আবার আমায় নিয়ে<br />
খেলতে ইচ্ছা হল। আমাদের বাস এক্সিডেন্ট<br />
করল। তেমন কিছু না, আটত্রিশজনের মধ্যে<br />
দশজন মাত্র আহত, হাসপাতালে নেবার পথে<br />
একজন শুধু নিহত। তেমন কিছু না।<br />
ঢাকা-চিটাগং হাইওয়েতে সামান্য একটা<br />
এক্সিডেন্ট প্রিয়তির বিয়েতে কোনরূপ<br />
প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হল।<br />
প্রিয়তির হাতে শোভা পেতে লাগল আগে<br />
থেকে কিনে রাখা কাঁচের রিনিঝিনি চুড়ি,<br />
হবুবধূর নির্দিষ্ট আসনে শোভা পেতে লাগল<br />
প্রিয়তি নিজেই।<br />
শাহেদের চোখ ভয়াবহ লাল। তাকে জোর<br />
করে আমার পাশে বসানো হয়েছে। শাহেদ<br />
মাঝে মাঝে পাঞ্জাবীর হাতা দিয়ে চোখ<br />
মুছছে। আরে গাধা, কাঁদবে তো তোর হবু<br />
ভাবী, তুই কাঁদবি ক্যান?<br />
একটু পরে টুপিঅলা কাজি সাহেব এলেন।<br />
কাজি সাহেবের গা দিয়ে আতরের ভুরভুর গন্ধ<br />
বেরুচ্ছে। কাজি সাহেবের রেট কত জানা হয়<br />
নি। জানতে হবে। একদিন গভীর রাতে চমকে<br />
দিয়ে বলতে হবে, "আইজুদ্দিন, তোমার রেট<br />
কত?"<br />
কাজি সাহেব প্রিয়তির পাশে বসেছেন।<br />
প্রিয়তিকে কিছু একটা বলা হচ্ছে। সে মাথা<br />
নিচু করে শুনছে। তার কোলের উপর তার<br />
চোখের গভীর আকাশ থেকে ফোঁটায় ফোঁটায়<br />
বৃষ্টি ঝরছে।<br />
আমি বিড়বিড় করে বললাম, "প্রিয়তি কবুল<br />
বল। কবুল বল"।<br />
প্রিয়তির গলা থেকে চি চি করে আওয়াজ<br />
বেরুল। কবুল। কাজি সাহেব প্রটোকলধারী<br />
মানুষ, প্রটোকল মেনেই বললেন, মা, শুনতে<br />
পাই না। বয়স হইছে তো। আবার বলেন, কবুল?<br />
প্রিয়তি আবার চি চি করে কিছু একটা বলে<br />
উঠল। একটু পরে আবারও। মেয়েরা তাকে<br />
সান্ত্বনা দিচ্ছে। আরে ব্যাটা সান্ত্বনা<br />
দেবার কি আছে, বাহবা দে।<br />
কাজি সাহেব এবার আমার দিকে আসছেন।<br />
এই রে, শাহেদ আবার টোপর পড়ল কখন? গাধা,<br />
বিয়ের দিন বর ছাড়া কেউ টোপর পরে? গাধা<br />
একটা। এইজন্যেই গাধাটার বিয়ে হয় না।<br />
কাজি সাহেব শাহেদের দিকে এগিয়ে<br />
যাচ্ছেন। শাহেদ শব্দ করে শিশুর মত কাঁদছে।<br />
আমি আস্তে করে কাজি সাহেবের জন্য<br />
জায়গা ছেড়ে দিলাম। ঢাকা-চিটাগং<br />
রোডের একমাত্র নিহত ব্যক্তি ছিলাম আমি।<br />
পৃথিবীর জায়গাগুলো শুধু জীবিত ব্যক্তিদের<br />
জন্য। মৃত ব্যক্তিদের জন্য কোন জায়গা নেই।<br />
মৃত্যুদূতের কাছ থেকে চেয়ে নেয়া সময়<br />
ফুরিয়ে গেছে। শেষ হয়েছে আমার শেষ<br />
কল্পনাবিলাস। আমি মিলিয়ে যাচ্ছি শূন্যে।<br />
প্রিয়তি কাঁদছে। শাহেদ কাঁদছে। প্রিয়তি<br />
আর শাহেদের সোনালী ভবিষ্যতে<br />
স্যান্ডউইচড হয়ে বসে গেছি আমি। আমার<br />
কথা ভেবে এই অদ্ভুত সুন্দর জুটি বিয়ের প্রথম<br />
কয়েক বছর কষ্ট পাবে, এই ভেবে কেমন একটা<br />
বুক এফোঁড় ওফোঁড় করা কষ্ট পাচ্ছি আমি<br />
নিজেই।<br />
তবে, সময় যেমন ফুরায়, কান্নাও তেমনি।<br />
ফুরিয়ে যায়। যাক ফুরিয়ে। শাহেদ আর<br />
প্রিয়তি সুখে থাক। শান্তিতে থাক। তারা<br />
কারো জন্য চোখের জল না ফেলুক। তারা<br />
কারো কথা ভেবে কষ্ট না পাক। তাদের<br />
অ্যানিভার্সারি নিছক কাকতালীয় ভাবে<br />
অগুরুত্বপূর্ণ কারো মৃত্যুদিবসের সাথে মিলে<br />
গেছে বলে সেদিন তারা ভালোবাসার<br />
উৎসবে মত্ত হতে সংকোচ বোধ না করুক।<br />
তাদের সন্তান গভীর রাতে আকাশের দিকে<br />
তাকিয়ে নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্ট কোন<br />
তারাকে তাদের অদেখা আঙ্কেল না ভাবুক।<br />
গভীর আগ্রহে আকাশের দিকে তাকিয়ে<br />
জিজ্ঞেস না করুক, "আঙ্কেল আঙ্কেল, দূরের<br />
দেশে কেমন আছো তুমি?"<br />
.<br />
লিখেছেন : Ahsan Bin Rakib<br />
Repost:হেমন্তে বর্ষায় আমি]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[আমি চুপচাপ বসে আছি।<br />
জায়গাটা বিয়ের আসর। প্রিয়তি নামের<br />
একটা অনিন্যসুন্দর মেয়ে আজ জীবনের নতুন<br />
একটি অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।<br />
আমি বসে আছি প্রিয়তির সামনে। প্রিয়তির<br />
মাথায় ঘোমটা, ঘোমটার সামনে দিয়ে<br />
টিকলির এক অংশ বাইরে বেরিয়ে পড়েছে।<br />
প্রিয়তির মুখখানি ঠিকমত দেখা যাচ্ছে না।<br />
তার হাতে কাঁচের চুড়ি রিনিঝিনি মাদকতা<br />
ছড়াচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে।<br />
আমি না তাকিয়েও বুঝতে পারলাম প্রিয়তির<br />
চোখে পানি। ওর সমুদ্রের মত গভীর চোখে দু<br />
ফোঁটা বিশুদ্ধ অশ্রু। আমার খুব জিজ্ঞেস<br />
করতে ইচ্ছা করছে, "অ্যাই শোন, বিয়ের<br />
আসরে মেয়েরা কাঁদে কেন বল তো?"<br />
আমার মাথায় টোপর। গায়ে সাদা<br />
পাঞ্জাবী। নার্ভাসনেস কাটানোর জন্য<br />
আমি একটু পরপরই হেসে উঠছি। আমার<br />
একগাদা নিকটসম্পর্কীয় ও দূরসম্পর্কীয় হবু<br />
শ্যালিকারা মাঝে মাঝে কটমট করে<br />
তাকাচ্ছে। তাদের দৃষ্টি অনুভূতিহীন। দেখে<br />
মনে হয় একটু আগেও কেঁদেছে তারা, এখন মন<br />
শক্ত করছে।<br />
কি রে ভাই? এ কোন বাড়িতে বিয়ে করতে<br />
আসলাম? সব কাঁদুনির দল! বিয়ের পর তো<br />
জ্বালিয়ে খাবে দেখছি!<br />
শাহেদ গম্ভীর মুখে হাঁটাহাঁটি করছে। তার<br />
চোখ লাল, খুব গভীরভাবে কিছু একটা ভাবছে<br />
সে। আমি অবাক হয়ে দেখলাম, শাহেদের<br />
পরনেও সাদা পাঞ্জাবী। ও তো অন্য কিছু<br />
পরে ছিল, চেঞ্জ করল কখন?<br />
প্রিয়তি মাটির দিকে তাকিয়ে আছে। আমি<br />
ভাবছি। আজ থেকে তিন বছর আগে প্রিয়তির<br />
সাথে আমার প্রথম দেখা। প্রকৃতি এই ক্ষুদ্র<br />
নাটকটি মঞ্চস্থ করেছিল অনেকটা দুর্ঘটনার<br />
মত করে।<br />
টিএসসি ক্যাম্পাসে আমি আর প্রিয়তি। কেউ<br />
কাউকে চিনি না। হঠাৎ চোখাচোখি।<br />
একবার। দুবার। তিনবার।<br />
মেয়েদের সাথে চোখাচোখি হলে<br />
ছেলেদেরই নামিয়ে নেওয়ার নিয়ম। জীবনে<br />
গত বাইশটি বছর নিষ্ঠার সাথে নিয়মটি<br />
মেনে আসলেও, সেদিন মানতে পারলাম না।<br />
তাকিয়ে রইলাম। প্রিয়তিও কি একটা<br />
অজ্ঞাত কারণে চোখ নামাতে পারল না। ও<br />
বোধহয় ভুলেই গেছে কোন ছেলে তাকিয়ে<br />
থাকলে মেয়েদেরই একসময় চোখ নামিয়ে<br />
নিতে হয়।<br />
ফলাফলে যা হবার তাই হল। আমরা জুটি হয়ে<br />
চুটিয়ে স্বপ্ন দেখতে লাগলাম। প্রথম<br />
পরিচয়ের আড়াই বছর পরে এক সুন্দর বিকেলে<br />
বাদাম খেতে খেতে আমরা পরস্পরের<br />
জীবনসঙ্গী হতে রাজি হয়ে গেলাম।<br />
আমি প্রিয়তির ছবি মায়ের কোলে ছুঁড়ে<br />
ফেলে বললাম, এই মেয়েকে তোমার পুত্রবধূ<br />
করতে চাই।<br />
মা প্রথমে ছেলের এহেন কর্মকাণ্ডে ঈষৎ<br />
রাগান্বিত, অতঃপর আনন্দিত এবং অতঃপর<br />
উত্তেজিত হয়ে সাথে সাথে রাজি হয়ে<br />
গেলেন। হবেন নাই বা কেন? এই ছবিটির<br />
মেয়ের মত সুন্দর মেয়ে যে উনি জীবনে<br />
দেখেন নি এটা আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে<br />
পারি।<br />
দুইপক্ষ রাজি হল। এনগেজমেন্ট নামক একটা<br />
অর্থহীন সামাজিকতা আমাকে পালন করতে<br />
হল অনেকটা প্রিয়তির অনুরোধেই। তার সব<br />
বান্ধবীর নাকি এনগেজমেন্ট করে বিয়ে<br />
হয়েছে, সে-ই বা কি দোষ করল!<br />
বিয়ের দিন ধার্য হল। মুরুব্বিরা শুভদিন দেখে<br />
বিয়ের দিন ঠিক করলেন। অফিসের কাজে<br />
আমি আর বন্ধু কাম কলিগ শাহেদ চট্টগ্রাম<br />
গিয়েছিলাম, আগের দিন বাস না পেয়ে আজই<br />
দুপুরের বাসে উঠলাম। রাতে বিয়ে।<br />
ঠিক সেই মুহূর্তে প্রকৃতির আবার আমায় নিয়ে<br />
খেলতে ইচ্ছা হল। আমাদের বাস এক্সিডেন্ট<br />
করল। তেমন কিছু না, আটত্রিশজনের মধ্যে<br />
দশজন মাত্র আহত, হাসপাতালে নেবার পথে<br />
একজন শুধু নিহত। তেমন কিছু না।<br />
ঢাকা-চিটাগং হাইওয়েতে সামান্য একটা<br />
এক্সিডেন্ট প্রিয়তির বিয়েতে কোনরূপ<br />
প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হল।<br />
প্রিয়তির হাতে শোভা পেতে লাগল আগে<br />
থেকে কিনে রাখা কাঁচের রিনিঝিনি চুড়ি,<br />
হবুবধূর নির্দিষ্ট আসনে শোভা পেতে লাগল<br />
প্রিয়তি নিজেই।<br />
শাহেদের চোখ ভয়াবহ লাল। তাকে জোর<br />
করে আমার পাশে বসানো হয়েছে। শাহেদ<br />
মাঝে মাঝে পাঞ্জাবীর হাতা দিয়ে চোখ<br />
মুছছে। আরে গাধা, কাঁদবে তো তোর হবু<br />
ভাবী, তুই কাঁদবি ক্যান?<br />
একটু পরে টুপিঅলা কাজি সাহেব এলেন।<br />
কাজি সাহেবের গা দিয়ে আতরের ভুরভুর গন্ধ<br />
বেরুচ্ছে। কাজি সাহেবের রেট কত জানা হয়<br />
নি। জানতে হবে। একদিন গভীর রাতে চমকে<br />
দিয়ে বলতে হবে, "আইজুদ্দিন, তোমার রেট<br />
কত?"<br />
কাজি সাহেব প্রিয়তির পাশে বসেছেন।<br />
প্রিয়তিকে কিছু একটা বলা হচ্ছে। সে মাথা<br />
নিচু করে শুনছে। তার কোলের উপর তার<br />
চোখের গভীর আকাশ থেকে ফোঁটায় ফোঁটায়<br />
বৃষ্টি ঝরছে।<br />
আমি বিড়বিড় করে বললাম, "প্রিয়তি কবুল<br />
বল। কবুল বল"।<br />
প্রিয়তির গলা থেকে চি চি করে আওয়াজ<br />
বেরুল। কবুল। কাজি সাহেব প্রটোকলধারী<br />
মানুষ, প্রটোকল মেনেই বললেন, মা, শুনতে<br />
পাই না। বয়স হইছে তো। আবার বলেন, কবুল?<br />
প্রিয়তি আবার চি চি করে কিছু একটা বলে<br />
উঠল। একটু পরে আবারও। মেয়েরা তাকে<br />
সান্ত্বনা দিচ্ছে। আরে ব্যাটা সান্ত্বনা<br />
দেবার কি আছে, বাহবা দে।<br />
কাজি সাহেব এবার আমার দিকে আসছেন।<br />
এই রে, শাহেদ আবার টোপর পড়ল কখন? গাধা,<br />
বিয়ের দিন বর ছাড়া কেউ টোপর পরে? গাধা<br />
একটা। এইজন্যেই গাধাটার বিয়ে হয় না।<br />
কাজি সাহেব শাহেদের দিকে এগিয়ে<br />
যাচ্ছেন। শাহেদ শব্দ করে শিশুর মত কাঁদছে।<br />
আমি আস্তে করে কাজি সাহেবের জন্য<br />
জায়গা ছেড়ে দিলাম। ঢাকা-চিটাগং<br />
রোডের একমাত্র নিহত ব্যক্তি ছিলাম আমি।<br />
পৃথিবীর জায়গাগুলো শুধু জীবিত ব্যক্তিদের<br />
জন্য। মৃত ব্যক্তিদের জন্য কোন জায়গা নেই।<br />
মৃত্যুদূতের কাছ থেকে চেয়ে নেয়া সময়<br />
ফুরিয়ে গেছে। শেষ হয়েছে আমার শেষ<br />
কল্পনাবিলাস। আমি মিলিয়ে যাচ্ছি শূন্যে।<br />
প্রিয়তি কাঁদছে। শাহেদ কাঁদছে। প্রিয়তি<br />
আর শাহেদের সোনালী ভবিষ্যতে<br />
স্যান্ডউইচড হয়ে বসে গেছি আমি। আমার<br />
কথা ভেবে এই অদ্ভুত সুন্দর জুটি বিয়ের প্রথম<br />
কয়েক বছর কষ্ট পাবে, এই ভেবে কেমন একটা<br />
বুক এফোঁড় ওফোঁড় করা কষ্ট পাচ্ছি আমি<br />
নিজেই।<br />
তবে, সময় যেমন ফুরায়, কান্নাও তেমনি।<br />
ফুরিয়ে যায়। যাক ফুরিয়ে। শাহেদ আর<br />
প্রিয়তি সুখে থাক। শান্তিতে থাক। তারা<br />
কারো জন্য চোখের জল না ফেলুক। তারা<br />
কারো কথা ভেবে কষ্ট না পাক। তাদের<br />
অ্যানিভার্সারি নিছক কাকতালীয় ভাবে<br />
অগুরুত্বপূর্ণ কারো মৃত্যুদিবসের সাথে মিলে<br />
গেছে বলে সেদিন তারা ভালোবাসার<br />
উৎসবে মত্ত হতে সংকোচ বোধ না করুক।<br />
তাদের সন্তান গভীর রাতে আকাশের দিকে<br />
তাকিয়ে নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্ট কোন<br />
তারাকে তাদের অদেখা আঙ্কেল না ভাবুক।<br />
গভীর আগ্রহে আকাশের দিকে তাকিয়ে<br />
জিজ্ঞেস না করুক, "আঙ্কেল আঙ্কেল, দূরের<br />
দেশে কেমন আছো তুমি?"<br />
.<br />
লিখেছেন : Ahsan Bin Rakib<br />
Repost:হেমন্তে বর্ষায় আমি]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[নদীর পাড়ের সেই মেয়েটি অতঃপর]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2159</link>
			<pubDate>Tue, 21 Feb 2017 17:26:16 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2159</guid>
			<description><![CDATA[নদীর পাড়ের সেই মেয়েটি অতঃপর<br />
অব্যক্ত ভালোবাসা লেখক-Md Jasim uddin<br />
Shuvo<br />
(ক্ষুদ্র লেখক)<br />
সোনালী ধান কাটার মৌসুমে গ্রামের<br />
লোকজন একবারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তখন<br />
আমাদের বাসায় কলেজ কিংবা<br />
বিশ্ববিদ্যালয়<br />
পড়ুয়া ছেলে থাকলে তাকেউ তার<br />
বাবাকে<br />
সাহায্য করতে ধান কাটার কাজে<br />
যোগদান<br />
করতে হয়।<br />
আমরা গ্রামের ছেলেরা এ গুনটাতে<br />
সবচেয়ে এগিয়ে থাকি শহরের<br />
ছেলেদের থেকে।<br />
ধান কাটার সিজন একবার শুরু হয়ে গেলে<br />
আমারা ও লেগে পড়ি ধান কাটার<br />
কাজে তখন আমরা ভাবি না যে,আমি<br />
কলেজে<br />
পড়ি কিংবা ভারসিটিতে সবাই<br />
একসাথে<br />
..শ্রমিকদের সাথে কাজে লেগে যাই।<br />
যাইহোক আমি,গ্রামের অন্য ছেলেদের<br />
ন্যায় আমিও কাজে লেগে যাই<br />
বাবাকে<br />
সাহায্য করতে।<br />
প্রতিদিন একটি নদীর পাড় ধরে যেতে<br />
আমার গন্তব্যস্থলে যেখান ধান কেঁটে<br />
ধান মাড়াই করা হয়।<br />
তো ঐখানকার এক ব্যক্তি যাকে আমি<br />
আংকেল বলে ডাকি তাদের ধান<br />
মাড়াইয়ের<br />
আমাদের ধান মাড়াইয়ের জায়খা<br />
থেকে<br />
একটু দুরে,বলে রাখা ভালো ঐখান থেকে<br />
আমাদের বাসার দুরত্ব প্রায় ৩০থেকে<br />
৩৫<br />
মিনিটের মতো হবে। প্রতিদিনের<br />
ন্যায় আজকেও যাচ্ছি ধান মাড়াইয়ের<br />
কাজে পথি পথে সেই আংকেলের সাথে<br />
দেখা তাদের ধান মাড়ায়ের জায়গায়<br />
সাথে তার মেয়ে।<br />
আমি আগেও জেনেছি আংকেলের একটি<br />
মেয়ে আছে,মেয়েটি তার নানু বাসায়<br />
থেকে<br />
লেখাপড়া করে,এই সেই মেয়ে নাম সুমি।<br />
মেয়েটির সাথে তখনো কথা হয়নি।<br />
মেয়েটার চেহাড়ায় কেমন জানি এক<br />
ধরনের মায়া আছে সেটা মুখে বলে শেষ<br />
করা যাবে না।<br />
যাইহোক প্রতিদিন মেয়েটি সাথে<br />
দেখা হতো কিন্ত মুখে কথা হতো না শুধু<br />
চোখাচোখি হতো।<br />
একদিন আমাদের ধান মাড়াইয়ের সময়<br />
ভালো লাগছিলো না বলে শুয়ে আছি<br />
তখন দেখলাম আমার সেই আংকেল আর<br />
তার মেয়ে সুমি আমাদের পাশ দিয়ে<br />
যাচ্ছে,উল্লেখ্য ঐখানে তাদের ধানের<br />
ক্ষেত আছে।<br />
আমি তখন জাগ্রত ছিলাম মেয়েটিকে<br />
দেখে আমি ঘুমের অভিনয় করলাম, দেখি<br />
মেয়েটি আমার দিকে অপলক দৃষ্টিতে<br />
তাকিয়ে আছে!!<br />
একদিন সাইকেল নিয়ে আসছিলাম,তখন<br />
জনশূন্য এলাকায় মেয়েটির সাথে দেখা,<br />
সে এক আটি ধান নিয়ে আসছে। আমি শুধু<br />
বললাম...এতো কাজ করলে খাবে কে<br />
তোমার??<br />
কিছু বললো না শুধু একটা মুচকি হাসি<br />
দিয়ে চলে গেল।<br />
আমি তো পুরাই থ হয়ে গেলাম যে<br />
মেয়েটার<br />
হাসি দেখে।আর ভাবতে লাগলাম<br />
মেয়েদের হাসি এতো সুন্দর হতে পারে,<br />
আমি তখনি সুমির হাসির প্রেমে পড়ে<br />
গেলাম আর মনের ভেতর গাইতে<br />
লাগলো.....<br />
--কি নামে ডাকবো যে তোমায় --নীল<br />
জোসনা<br />
--এক চিলতে রোধ হয়ে আর হেসো না --<br />
যদি তোমায় ছুঁতে পারি<br />
--দেব মেঘের সাথে আরি<br />
--শুধু মন আকাশে হাওয়ায় ভেসে --ছুটে<br />
আসো না<br />
--কি নামে ডাকবো তোমায়......<br />
আর কিছুদিন চলে গেলে আমাদের কাজ<br />
হয়ে যায় তখন আমারা একবারে চলে<br />
আসি যেখান থেকে কিন্ত মন পড়ে<br />
থাকে যেখানে।<br />
তারপর থেকে আমার কাজ না সত্তেও<br />
আমি সেখানে যেতাম বেশীভাগ সময়<br />
সুমির সাথে দেখা হতো না। একদিন<br />
জানে পারলাম সুমি জানতে পারলাম<br />
সুমি তার নানু বাসায় চলে গেছে। .<br />
এর মধ্যে একটি বছর কেটে গেছে। আমার<br />
ছোট বোনের এস এস সি পরীক্ষা চলছে।<br />
ও একটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম<br />
সুমি তখন দশম শেণ্রীতে পড়তো<br />
তারমানে সেও এখন এস এস সি পরীক্ষা<br />
দিতেছে।<br />
আপনারা নিশ্চয় জানেন এ পরীক্ষা এক<br />
থানায় থেকে অন্য থানায় গিয়ে দিতে<br />
হয়।<br />
তো ছোট বোনকে যে থানায়<br />
বিদ্যালয়ে<br />
পরীক্ষা হবে সে বিদ্যালয়ের আশে<br />
পাশে<br />
বাসা ভাড়া করে দিয়ে এলাম। আমি শুধু<br />
পরীক্ষার আগের দিন বিকালে যেতাম<br />
লেখাপড়া বুঝিয়ে দিতে আর ছোট<br />
বোনকে পরীক্ষা কেন্দ্রে দিয়ে<br />
পরীক্ষা<br />
শেষ না পর্যন্ত অপেক্ষা করে,পরীক্ষা<br />
শেষ<br />
হলে প্রশ্ন কেমন হয়েছে দেখে নিজ<br />
বাসায়<br />
চলে আসতাম।<br />
তো গত 09-02-2017 তারিখে ছোট<br />
বোনকে পরীক্ষার কেন্দ্রে ঢুকিয়ে<br />
ভাবলাম<br />
একটু ঘুরে আসি,তখন দেখি সেই আংকেল<br />
পরীক্ষা কেন্দের গেটের সামনে<br />
দাঁড়িয়ে।<br />
সেই আংকেল মানে সুমির বাবা। সুমির<br />
বাবা এখানে কেন বললে সুমির বাবা<br />
বলে সুমি এখানে পরীক্ষা দিতেছে। .<br />
তখন চোখের সামনে গত একটি বছর আগের<br />
সুমির হাসিটুকু ভেসে উঠে। ১টি বছর পর<br />
আবার দেখা হবে তারসাথে ভাবতেই<br />
কেমন জানি লাগছে। আমি আগে<br />
জানতাম না যে সুমি এখানে পরীক্ষা<br />
দিতেছে।অপেক্ষা করতে থাকলাম কখন<br />
পরীক্ষা দিয়ে বের হয়। পরীক্ষা শেষ<br />
দলে দলে ছাএ ছাত্রি বের হচ্ছে গেট<br />
দিয়ে,দেখলাম আমার ছোট বোন বের<br />
হচ্ছে।বোন বললাম তুই তোর বান্দবীদের<br />
নিয়ে রুমে যা আমি একটু পড়ে<br />
আসতেছি।বোন আমার কিছুদুর গিয়ে<br />
আবার এসে আমাকে টানটানতে<br />
মার্কেটে নিয়ে গেল এবং এটা কিনে<br />
দে ওটা কিনে দে।এটা ওটা কিনতে<br />
অনেক<br />
দেরী হয়ে গেল,একটু পর কেন্দ্রে এসে<br />
দেখি কেন্দ্র পুরাই ফাঁকা। হতাশ মনে<br />
চলে আসলাম নিজ বাসায়। তারপর আবার<br />
১১-০২-২০১৭ তারিখে গেলাম পরীক্ষা<br />
দেখতে,বোনের গনিত পরীক্ষা তারপর<br />
আবার মনে ইচ্ছা জেগেছে সুমিকে<br />
দেখার।এতোদিন দেখবো তাকে,তাকে<br />
ভুলে<br />
গেলেও ভুলতে পারিনাই তার মায়া<br />
মাখা<br />
হাসিটাকে ভুলতে পারিনাই তার<br />
পলকহীন<br />
চেয়ে থাকা দৃষ্টিকে। ১২-০২-২০১৭ আর<br />
মাএ কয়েক মূহুত্ব বাকী তাই দেখতে<br />
পারবো আমার<br />
যতনে আগলে রাখা হাসিটুকুর<br />
মালিকটাকে<br />
দেখতে পাবো নদীর পাড়ের সেই<br />
মেয়েটিকে।<br />
ঘন্টা বাঁজতে শুরু করলো মানে পরীক্ষা<br />
শেষ কিন্ত আমার মনের ভিতর ঘন্টা<br />
বাঁজতে শুরু<br />
করলো।<br />
আচ্ছা আমাকে কি সুমি চিনতে পারবে!<br />
গেট দিয়ে ছাএ ছাত্রি বের হচ্ছে,ছোট<br />
বোনকে<br />
রুমে যেতে বললে চলে গেল। দেখি<br />
আংকেল সুমির জন্য অপেক্ষা করতেছে<br />
সাথে আমি ও যোগ দিলাম তবে একটু<br />
দুরে গিয়ে।<br />
সব ছাএ ছাত্রি চলে যাচ্ছে কিন্ত সুমি<br />
কই?<br />
ঠিক তখনি দেখি সুমি গেট দিয়ে বের<br />
হচ্ছে,<br />
আগের চেয়ে অনেক সুন্দর হয়েছে,ইচ্ছে<br />
করছে<br />
সুমিকে জড়িয়ে ধরি,বলি ভালবাসি<br />
তোমাকে।কিন্ত আমার দ্বারা এসব<br />
সম্ভব নয়।<br />
দেখলাম সুমি আমার দিকে এগিয়ে<br />
আসছে,আমার দিকে নয় কারণ আমি<br />
রাস্তার কোনে দাঁড়িয়ে ছিলাম আর<br />
সুমি সে রাস্তা দিয়ে<br />
এগিয়ে আসছিলো।<br />
আমার পাশ কাটিয়ে চলে গেল মুখটা<br />
কিছুটা ভার করে,জানিনা কিসের জন্য<br />
সুমির মুখটা ভার করে রাখলো পরীক্ষা<br />
খারাপ হলো না<br />
অন্য কোন ব্যপারে নাকি আমাকে<br />
দেখার<br />
পরে বুঝতে পারলাম না।<br />
সুমি চলে যাচ্ছে তাকিয়ে আছি তার<br />
চলে যাওয়ার দিকে।<br />
সুমি চলে গেল আমি ঠাঁয় দাঁড়িয়ে<br />
রইলাম<br />
সেখানে আর ভাবতে লাগলাম সত্যিই<br />
আমি<br />
একটা অর্করমার ঢেঁকি আমাকে কিছু<br />
হবে<br />
না।আমি শুধু দুর থেকে ভালবাসতে<br />
জানি<br />
ভালবাসার নামক কথা গুলো বলা আমার<br />
দ্বারা সম্ভব না আর আগামিতেও সম্ভব<br />
হবে না।সুমি আমি ভালবাসবো তোমার<br />
হাসিটাকে,ভালবাসবো তোমাকে তবে<br />
দুর থেকে।<br />
মনে রেখো দেখা হবে সেই নদীর পাড়ে<br />
সেই<br />
চিরচেনা জায়গায় শুধু বলা হবে না<br />
আমার ভালবাসার সেই অব্যক্ত কথা<br />
গুলি।<br />
-------সমাপ্ত------]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[নদীর পাড়ের সেই মেয়েটি অতঃপর<br />
অব্যক্ত ভালোবাসা লেখক-Md Jasim uddin<br />
Shuvo<br />
(ক্ষুদ্র লেখক)<br />
সোনালী ধান কাটার মৌসুমে গ্রামের<br />
লোকজন একবারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তখন<br />
আমাদের বাসায় কলেজ কিংবা<br />
বিশ্ববিদ্যালয়<br />
পড়ুয়া ছেলে থাকলে তাকেউ তার<br />
বাবাকে<br />
সাহায্য করতে ধান কাটার কাজে<br />
যোগদান<br />
করতে হয়।<br />
আমরা গ্রামের ছেলেরা এ গুনটাতে<br />
সবচেয়ে এগিয়ে থাকি শহরের<br />
ছেলেদের থেকে।<br />
ধান কাটার সিজন একবার শুরু হয়ে গেলে<br />
আমারা ও লেগে পড়ি ধান কাটার<br />
কাজে তখন আমরা ভাবি না যে,আমি<br />
কলেজে<br />
পড়ি কিংবা ভারসিটিতে সবাই<br />
একসাথে<br />
..শ্রমিকদের সাথে কাজে লেগে যাই।<br />
যাইহোক আমি,গ্রামের অন্য ছেলেদের<br />
ন্যায় আমিও কাজে লেগে যাই<br />
বাবাকে<br />
সাহায্য করতে।<br />
প্রতিদিন একটি নদীর পাড় ধরে যেতে<br />
আমার গন্তব্যস্থলে যেখান ধান কেঁটে<br />
ধান মাড়াই করা হয়।<br />
তো ঐখানকার এক ব্যক্তি যাকে আমি<br />
আংকেল বলে ডাকি তাদের ধান<br />
মাড়াইয়ের<br />
আমাদের ধান মাড়াইয়ের জায়খা<br />
থেকে<br />
একটু দুরে,বলে রাখা ভালো ঐখান থেকে<br />
আমাদের বাসার দুরত্ব প্রায় ৩০থেকে<br />
৩৫<br />
মিনিটের মতো হবে। প্রতিদিনের<br />
ন্যায় আজকেও যাচ্ছি ধান মাড়াইয়ের<br />
কাজে পথি পথে সেই আংকেলের সাথে<br />
দেখা তাদের ধান মাড়ায়ের জায়গায়<br />
সাথে তার মেয়ে।<br />
আমি আগেও জেনেছি আংকেলের একটি<br />
মেয়ে আছে,মেয়েটি তার নানু বাসায়<br />
থেকে<br />
লেখাপড়া করে,এই সেই মেয়ে নাম সুমি।<br />
মেয়েটির সাথে তখনো কথা হয়নি।<br />
মেয়েটার চেহাড়ায় কেমন জানি এক<br />
ধরনের মায়া আছে সেটা মুখে বলে শেষ<br />
করা যাবে না।<br />
যাইহোক প্রতিদিন মেয়েটি সাথে<br />
দেখা হতো কিন্ত মুখে কথা হতো না শুধু<br />
চোখাচোখি হতো।<br />
একদিন আমাদের ধান মাড়াইয়ের সময়<br />
ভালো লাগছিলো না বলে শুয়ে আছি<br />
তখন দেখলাম আমার সেই আংকেল আর<br />
তার মেয়ে সুমি আমাদের পাশ দিয়ে<br />
যাচ্ছে,উল্লেখ্য ঐখানে তাদের ধানের<br />
ক্ষেত আছে।<br />
আমি তখন জাগ্রত ছিলাম মেয়েটিকে<br />
দেখে আমি ঘুমের অভিনয় করলাম, দেখি<br />
মেয়েটি আমার দিকে অপলক দৃষ্টিতে<br />
তাকিয়ে আছে!!<br />
একদিন সাইকেল নিয়ে আসছিলাম,তখন<br />
জনশূন্য এলাকায় মেয়েটির সাথে দেখা,<br />
সে এক আটি ধান নিয়ে আসছে। আমি শুধু<br />
বললাম...এতো কাজ করলে খাবে কে<br />
তোমার??<br />
কিছু বললো না শুধু একটা মুচকি হাসি<br />
দিয়ে চলে গেল।<br />
আমি তো পুরাই থ হয়ে গেলাম যে<br />
মেয়েটার<br />
হাসি দেখে।আর ভাবতে লাগলাম<br />
মেয়েদের হাসি এতো সুন্দর হতে পারে,<br />
আমি তখনি সুমির হাসির প্রেমে পড়ে<br />
গেলাম আর মনের ভেতর গাইতে<br />
লাগলো.....<br />
--কি নামে ডাকবো যে তোমায় --নীল<br />
জোসনা<br />
--এক চিলতে রোধ হয়ে আর হেসো না --<br />
যদি তোমায় ছুঁতে পারি<br />
--দেব মেঘের সাথে আরি<br />
--শুধু মন আকাশে হাওয়ায় ভেসে --ছুটে<br />
আসো না<br />
--কি নামে ডাকবো তোমায়......<br />
আর কিছুদিন চলে গেলে আমাদের কাজ<br />
হয়ে যায় তখন আমারা একবারে চলে<br />
আসি যেখান থেকে কিন্ত মন পড়ে<br />
থাকে যেখানে।<br />
তারপর থেকে আমার কাজ না সত্তেও<br />
আমি সেখানে যেতাম বেশীভাগ সময়<br />
সুমির সাথে দেখা হতো না। একদিন<br />
জানে পারলাম সুমি জানতে পারলাম<br />
সুমি তার নানু বাসায় চলে গেছে। .<br />
এর মধ্যে একটি বছর কেটে গেছে। আমার<br />
ছোট বোনের এস এস সি পরীক্ষা চলছে।<br />
ও একটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম<br />
সুমি তখন দশম শেণ্রীতে পড়তো<br />
তারমানে সেও এখন এস এস সি পরীক্ষা<br />
দিতেছে।<br />
আপনারা নিশ্চয় জানেন এ পরীক্ষা এক<br />
থানায় থেকে অন্য থানায় গিয়ে দিতে<br />
হয়।<br />
তো ছোট বোনকে যে থানায়<br />
বিদ্যালয়ে<br />
পরীক্ষা হবে সে বিদ্যালয়ের আশে<br />
পাশে<br />
বাসা ভাড়া করে দিয়ে এলাম। আমি শুধু<br />
পরীক্ষার আগের দিন বিকালে যেতাম<br />
লেখাপড়া বুঝিয়ে দিতে আর ছোট<br />
বোনকে পরীক্ষা কেন্দ্রে দিয়ে<br />
পরীক্ষা<br />
শেষ না পর্যন্ত অপেক্ষা করে,পরীক্ষা<br />
শেষ<br />
হলে প্রশ্ন কেমন হয়েছে দেখে নিজ<br />
বাসায়<br />
চলে আসতাম।<br />
তো গত 09-02-2017 তারিখে ছোট<br />
বোনকে পরীক্ষার কেন্দ্রে ঢুকিয়ে<br />
ভাবলাম<br />
একটু ঘুরে আসি,তখন দেখি সেই আংকেল<br />
পরীক্ষা কেন্দের গেটের সামনে<br />
দাঁড়িয়ে।<br />
সেই আংকেল মানে সুমির বাবা। সুমির<br />
বাবা এখানে কেন বললে সুমির বাবা<br />
বলে সুমি এখানে পরীক্ষা দিতেছে। .<br />
তখন চোখের সামনে গত একটি বছর আগের<br />
সুমির হাসিটুকু ভেসে উঠে। ১টি বছর পর<br />
আবার দেখা হবে তারসাথে ভাবতেই<br />
কেমন জানি লাগছে। আমি আগে<br />
জানতাম না যে সুমি এখানে পরীক্ষা<br />
দিতেছে।অপেক্ষা করতে থাকলাম কখন<br />
পরীক্ষা দিয়ে বের হয়। পরীক্ষা শেষ<br />
দলে দলে ছাএ ছাত্রি বের হচ্ছে গেট<br />
দিয়ে,দেখলাম আমার ছোট বোন বের<br />
হচ্ছে।বোন বললাম তুই তোর বান্দবীদের<br />
নিয়ে রুমে যা আমি একটু পড়ে<br />
আসতেছি।বোন আমার কিছুদুর গিয়ে<br />
আবার এসে আমাকে টানটানতে<br />
মার্কেটে নিয়ে গেল এবং এটা কিনে<br />
দে ওটা কিনে দে।এটা ওটা কিনতে<br />
অনেক<br />
দেরী হয়ে গেল,একটু পর কেন্দ্রে এসে<br />
দেখি কেন্দ্র পুরাই ফাঁকা। হতাশ মনে<br />
চলে আসলাম নিজ বাসায়। তারপর আবার<br />
১১-০২-২০১৭ তারিখে গেলাম পরীক্ষা<br />
দেখতে,বোনের গনিত পরীক্ষা তারপর<br />
আবার মনে ইচ্ছা জেগেছে সুমিকে<br />
দেখার।এতোদিন দেখবো তাকে,তাকে<br />
ভুলে<br />
গেলেও ভুলতে পারিনাই তার মায়া<br />
মাখা<br />
হাসিটাকে ভুলতে পারিনাই তার<br />
পলকহীন<br />
চেয়ে থাকা দৃষ্টিকে। ১২-০২-২০১৭ আর<br />
মাএ কয়েক মূহুত্ব বাকী তাই দেখতে<br />
পারবো আমার<br />
যতনে আগলে রাখা হাসিটুকুর<br />
মালিকটাকে<br />
দেখতে পাবো নদীর পাড়ের সেই<br />
মেয়েটিকে।<br />
ঘন্টা বাঁজতে শুরু করলো মানে পরীক্ষা<br />
শেষ কিন্ত আমার মনের ভিতর ঘন্টা<br />
বাঁজতে শুরু<br />
করলো।<br />
আচ্ছা আমাকে কি সুমি চিনতে পারবে!<br />
গেট দিয়ে ছাএ ছাত্রি বের হচ্ছে,ছোট<br />
বোনকে<br />
রুমে যেতে বললে চলে গেল। দেখি<br />
আংকেল সুমির জন্য অপেক্ষা করতেছে<br />
সাথে আমি ও যোগ দিলাম তবে একটু<br />
দুরে গিয়ে।<br />
সব ছাএ ছাত্রি চলে যাচ্ছে কিন্ত সুমি<br />
কই?<br />
ঠিক তখনি দেখি সুমি গেট দিয়ে বের<br />
হচ্ছে,<br />
আগের চেয়ে অনেক সুন্দর হয়েছে,ইচ্ছে<br />
করছে<br />
সুমিকে জড়িয়ে ধরি,বলি ভালবাসি<br />
তোমাকে।কিন্ত আমার দ্বারা এসব<br />
সম্ভব নয়।<br />
দেখলাম সুমি আমার দিকে এগিয়ে<br />
আসছে,আমার দিকে নয় কারণ আমি<br />
রাস্তার কোনে দাঁড়িয়ে ছিলাম আর<br />
সুমি সে রাস্তা দিয়ে<br />
এগিয়ে আসছিলো।<br />
আমার পাশ কাটিয়ে চলে গেল মুখটা<br />
কিছুটা ভার করে,জানিনা কিসের জন্য<br />
সুমির মুখটা ভার করে রাখলো পরীক্ষা<br />
খারাপ হলো না<br />
অন্য কোন ব্যপারে নাকি আমাকে<br />
দেখার<br />
পরে বুঝতে পারলাম না।<br />
সুমি চলে যাচ্ছে তাকিয়ে আছি তার<br />
চলে যাওয়ার দিকে।<br />
সুমি চলে গেল আমি ঠাঁয় দাঁড়িয়ে<br />
রইলাম<br />
সেখানে আর ভাবতে লাগলাম সত্যিই<br />
আমি<br />
একটা অর্করমার ঢেঁকি আমাকে কিছু<br />
হবে<br />
না।আমি শুধু দুর থেকে ভালবাসতে<br />
জানি<br />
ভালবাসার নামক কথা গুলো বলা আমার<br />
দ্বারা সম্ভব না আর আগামিতেও সম্ভব<br />
হবে না।সুমি আমি ভালবাসবো তোমার<br />
হাসিটাকে,ভালবাসবো তোমাকে তবে<br />
দুর থেকে।<br />
মনে রেখো দেখা হবে সেই নদীর পাড়ে<br />
সেই<br />
চিরচেনা জায়গায় শুধু বলা হবে না<br />
আমার ভালবাসার সেই অব্যক্ত কথা<br />
গুলি।<br />
-------সমাপ্ত------]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[আমি নদীর পাশে বসে গান গাইতেছি।]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2158</link>
			<pubDate>Tue, 21 Feb 2017 17:25:52 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2158</guid>
			<description><![CDATA[আমি নদীর পাশে বসে গান গাইতেছি।<br />
তোমাকে ভালোবাসি রে বন্ধু....<br />
কিন্তু কোথায় থেকে এসে একটা মেয়ে বলে<br />
এই ফাজিল কোথাকার পোলা....<br />
মেয়ে= তুই এখন আমাকে কি বললি রে।<br />
তুই আমাকে চিনস কে আমি?<br />
*<br />
*<br />
তামিম= ওই নদীর পাড়ের পেত্নী তোরে আমি<br />
চিনব কেন? তুই কে এমন মহারানী<br />
যে তোকে আমি চিনতে হবে।<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= মুখ দিয়া এখন কি বলেছিলে তুই।<br />
তুই তো আমাকে দেখে এ কথা টা বলেছিলে<br />
তাই না।<br />
*<br />
*<br />
তামিম= হি হি হি।<br />
হা হা হা হা।<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= হাসিস কেন?<br />
*<br />
*<br />
তামিম= আরে তোর মুখ দেখে।তুই রাগলে তোর<br />
মুখ পচা টাইপের পেঁপের মতো হয়ে যায়।<br />
তোর মুখে অনেক মায়া আছে রে।মায়া আছে।<br />
আমি পাগল হয়ে গেলাম।<br />
তোরে রাগলে অনেক কিউট পেত্নী লাগে রে।<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= কি!!<br />
এই পোলা।<br />
তুই আমার সামনে দাঁড়িয়ে আমাকে এইসব<br />
আজেবাজে কথা বলিস।<br />
তোর সাহস তো কম না।<br />
*<br />
*<br />
তামিম= শুন আমি তোকে দেখে গান<br />
গাইছিলাম না।<br />
এমনি এই গান টা গাইছিলাম।<br />
আর যখন তুই আমাকে বললি আমি তোকে দেখে<br />
গান গাইতে ছিলাম।<br />
তখন আমার অনেক রাগ উঠে গিয়েছিল।<br />
তাই তোকে এসব কথা বলছি।<br />
তুই রাগ করিস না ।<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= ঠিক আছে।<br />
তামিম= আচ্ছা তোমার বাড়ি কোন গ্রাম?<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= কেন?<br />
*<br />
*<br />
তামিম= এমনি।<br />
একটু তোমাদের গ্রামে গিয়ে ঘুরে আসতাম।<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে = আচ্ছা তোমার মতলব তো কিছু একটা<br />
আছে।<br />
*<br />
*<br />
তামিম= আরে মতলব কিছু নাই।<br />
তুমি অনেক সুন্দর।<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= এই কথা আমাকে সবাই বলে।<br />
তুমি নতুন করে বলা লাগবে না।<br />
আর শুন আমি অনেক সুন্দরি।<br />
আমি জানি।<br />
*<br />
*<br />
তামিম= তা তো আমি দেখতেই পাচ্ছি।<br />
কি সুন্দর।<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= কি সুন্দর মানে?<br />
*<br />
*<br />
তামিম= আরে তুমি মোটেই সুন্দর না।<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= শুন আমি সুন্দর কি না সুন্দর না তুমি<br />
বলা লাগবে না।<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
আমি তামিম এই গ্রামে আমার বসবাস।<br />
আমি একটু দুষ্টু টাইপের।দুষ্টু বলতে সে রকম<br />
কিছু না। মানে বোঝেন না সবার সাথে<br />
হাসি,আড্ডা দেই, ঘুরি এসব কাজ।<br />
আমার মনে মাঝে কোনো মেয়ের ছবি ছিল<br />
না।<br />
কোনো মেয়েকে আমি আমার মনের ঘরে<br />
জায়গা দেই নি।<br />
কেমনে দিমু বলেন ভালোই লাগে নি তাই<br />
হয়তো কোনো মেয়ে আমার মনের ঘর নিজের<br />
ঘর অধিকার করতে পারে নি।<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
না আমি ভুল। আমার মনের ঘরে এখন সে বাস<br />
করে। তার মুখখানা শুধু আমার চোখে ভেসে<br />
উঠে। আমার হৃদয়ের ঘরে তার বসবাস। আমি<br />
তার মায়াবী মুখখানা দেখে তাকে আমি<br />
ভালোবেসে ফেলেছি।<br />
আমি তাকে খোঁজে বের করব।<br />
আর আমার মনের কথা বলব।<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
আমি আবার নদীর পাশে বসে গান ধরলাম।<br />
আমি তোমার মনে ভিতর.........<br />
গান গাইতে না গাইতে মেয়ে আমার সামনে<br />
উপস্থিত।<br />
মেয়ে= এই তুমি কি শুরু করছ?<br />
আমাকে দেখে শুধু গান ধরো কেন?<br />
*<br />
*<br />
তামিম= আমি তোমাকে দেখে গান ধরলাম<br />
মানে।<br />
আমি মোটেই তোমাকে দেখে গান ধরি নি।<br />
আমি এমনেই গান ধরছি।<br />
আমি তোমার মনের ভিতর...<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= চুপ এই চুপ, একদম চুপ।<br />
*<br />
*<br />
তামিম= আমি একটা কথা তোমাকে বলতে<br />
চাই।কথাটা একদম কাটি।<br />
আমার মনের ভিতর থেকে আসবে।<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= কি কথা বল?<br />
*<br />
*<br />
তামিম= মানে আমি তোমাকে..।<br />
আচ্ছা বাদ দাও বাকী কথা আর বলি না।<br />
পরে একসময় বলব নে।<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= তুমি এখন বলবা।<br />
বাকী কি কথা বল।।<br />
*<br />
*<br />
তামিম= আপনার যে রাগ এই কথা শুনলে<br />
আমাকে আর জিন্দা রাখবেন না।<br />
কিন্তু তবুও আমাকে বলতে হবে কিন্তু এখন না<br />
অন্য একদিন।<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= এই ছ্যাঁচড়া পোলা যা বলবি তা বলে<br />
পেল নইলে আমি কিন্তু।<br />
*<br />
*<br />
তামিম= আমি তোমাকে প্রথম দেখেই<br />
ভালোবেসে ফেলেছি।<br />
(তার ধমকে।)<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= কি!<br />
*<br />
*<br />
তামিম= আমি তোমাকে সত্যি ভালোবাসি।<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= ভালোবাস ঠিক আছে।কিন্তু কোনো<br />
দিন যদি পেলে যাও।<br />
তাইলে কিন্তু মেরে পেলব।<br />
*<br />
*<br />
তামিম= হি হি হি।<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= হুহুহুহু।<br />
-গল্পের লেখক তামিম আহমেদ]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[আমি নদীর পাশে বসে গান গাইতেছি।<br />
তোমাকে ভালোবাসি রে বন্ধু....<br />
কিন্তু কোথায় থেকে এসে একটা মেয়ে বলে<br />
এই ফাজিল কোথাকার পোলা....<br />
মেয়ে= তুই এখন আমাকে কি বললি রে।<br />
তুই আমাকে চিনস কে আমি?<br />
*<br />
*<br />
তামিম= ওই নদীর পাড়ের পেত্নী তোরে আমি<br />
চিনব কেন? তুই কে এমন মহারানী<br />
যে তোকে আমি চিনতে হবে।<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= মুখ দিয়া এখন কি বলেছিলে তুই।<br />
তুই তো আমাকে দেখে এ কথা টা বলেছিলে<br />
তাই না।<br />
*<br />
*<br />
তামিম= হি হি হি।<br />
হা হা হা হা।<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= হাসিস কেন?<br />
*<br />
*<br />
তামিম= আরে তোর মুখ দেখে।তুই রাগলে তোর<br />
মুখ পচা টাইপের পেঁপের মতো হয়ে যায়।<br />
তোর মুখে অনেক মায়া আছে রে।মায়া আছে।<br />
আমি পাগল হয়ে গেলাম।<br />
তোরে রাগলে অনেক কিউট পেত্নী লাগে রে।<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= কি!!<br />
এই পোলা।<br />
তুই আমার সামনে দাঁড়িয়ে আমাকে এইসব<br />
আজেবাজে কথা বলিস।<br />
তোর সাহস তো কম না।<br />
*<br />
*<br />
তামিম= শুন আমি তোকে দেখে গান<br />
গাইছিলাম না।<br />
এমনি এই গান টা গাইছিলাম।<br />
আর যখন তুই আমাকে বললি আমি তোকে দেখে<br />
গান গাইতে ছিলাম।<br />
তখন আমার অনেক রাগ উঠে গিয়েছিল।<br />
তাই তোকে এসব কথা বলছি।<br />
তুই রাগ করিস না ।<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= ঠিক আছে।<br />
তামিম= আচ্ছা তোমার বাড়ি কোন গ্রাম?<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= কেন?<br />
*<br />
*<br />
তামিম= এমনি।<br />
একটু তোমাদের গ্রামে গিয়ে ঘুরে আসতাম।<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে = আচ্ছা তোমার মতলব তো কিছু একটা<br />
আছে।<br />
*<br />
*<br />
তামিম= আরে মতলব কিছু নাই।<br />
তুমি অনেক সুন্দর।<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= এই কথা আমাকে সবাই বলে।<br />
তুমি নতুন করে বলা লাগবে না।<br />
আর শুন আমি অনেক সুন্দরি।<br />
আমি জানি।<br />
*<br />
*<br />
তামিম= তা তো আমি দেখতেই পাচ্ছি।<br />
কি সুন্দর।<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= কি সুন্দর মানে?<br />
*<br />
*<br />
তামিম= আরে তুমি মোটেই সুন্দর না।<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= শুন আমি সুন্দর কি না সুন্দর না তুমি<br />
বলা লাগবে না।<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
আমি তামিম এই গ্রামে আমার বসবাস।<br />
আমি একটু দুষ্টু টাইপের।দুষ্টু বলতে সে রকম<br />
কিছু না। মানে বোঝেন না সবার সাথে<br />
হাসি,আড্ডা দেই, ঘুরি এসব কাজ।<br />
আমার মনে মাঝে কোনো মেয়ের ছবি ছিল<br />
না।<br />
কোনো মেয়েকে আমি আমার মনের ঘরে<br />
জায়গা দেই নি।<br />
কেমনে দিমু বলেন ভালোই লাগে নি তাই<br />
হয়তো কোনো মেয়ে আমার মনের ঘর নিজের<br />
ঘর অধিকার করতে পারে নি।<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
না আমি ভুল। আমার মনের ঘরে এখন সে বাস<br />
করে। তার মুখখানা শুধু আমার চোখে ভেসে<br />
উঠে। আমার হৃদয়ের ঘরে তার বসবাস। আমি<br />
তার মায়াবী মুখখানা দেখে তাকে আমি<br />
ভালোবেসে ফেলেছি।<br />
আমি তাকে খোঁজে বের করব।<br />
আর আমার মনের কথা বলব।<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
আমি আবার নদীর পাশে বসে গান ধরলাম।<br />
আমি তোমার মনে ভিতর.........<br />
গান গাইতে না গাইতে মেয়ে আমার সামনে<br />
উপস্থিত।<br />
মেয়ে= এই তুমি কি শুরু করছ?<br />
আমাকে দেখে শুধু গান ধরো কেন?<br />
*<br />
*<br />
তামিম= আমি তোমাকে দেখে গান ধরলাম<br />
মানে।<br />
আমি মোটেই তোমাকে দেখে গান ধরি নি।<br />
আমি এমনেই গান ধরছি।<br />
আমি তোমার মনের ভিতর...<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= চুপ এই চুপ, একদম চুপ।<br />
*<br />
*<br />
তামিম= আমি একটা কথা তোমাকে বলতে<br />
চাই।কথাটা একদম কাটি।<br />
আমার মনের ভিতর থেকে আসবে।<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= কি কথা বল?<br />
*<br />
*<br />
তামিম= মানে আমি তোমাকে..।<br />
আচ্ছা বাদ দাও বাকী কথা আর বলি না।<br />
পরে একসময় বলব নে।<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= তুমি এখন বলবা।<br />
বাকী কি কথা বল।।<br />
*<br />
*<br />
তামিম= আপনার যে রাগ এই কথা শুনলে<br />
আমাকে আর জিন্দা রাখবেন না।<br />
কিন্তু তবুও আমাকে বলতে হবে কিন্তু এখন না<br />
অন্য একদিন।<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= এই ছ্যাঁচড়া পোলা যা বলবি তা বলে<br />
পেল নইলে আমি কিন্তু।<br />
*<br />
*<br />
তামিম= আমি তোমাকে প্রথম দেখেই<br />
ভালোবেসে ফেলেছি।<br />
(তার ধমকে।)<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= কি!<br />
*<br />
*<br />
তামিম= আমি তোমাকে সত্যি ভালোবাসি।<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= ভালোবাস ঠিক আছে।কিন্তু কোনো<br />
দিন যদি পেলে যাও।<br />
তাইলে কিন্তু মেরে পেলব।<br />
*<br />
*<br />
তামিম= হি হি হি।<br />
*<br />
*<br />
মেয়ে= হুহুহুহু।<br />
-গল্পের লেখক তামিম আহমেদ]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[গল্প: দুষ্টু মেয়ের ভালোবাসা।]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2157</link>
			<pubDate>Tue, 21 Feb 2017 17:25:20 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2157</guid>
			<description><![CDATA[গল্প: দুষ্টু মেয়ের ভালোবাসা।<br />
~<br />
লেখা: কাল্পনিক আহম্মেদ ( দুষ্টু<br />
টম)<br />
~<br />
~<br />
আমি সাদিক। আমি একটি<br />
প্রাইভেট কম্পানিতে চাকুরি<br />
করছি। আমাকে প্রতি দিন<br />
মহিলা কলেজের সামনে দিয়ে<br />
অফিসে যেতে হয়। এক দিন<br />
অফিসে যাওয়ার সময় মহিলা<br />
কলেজের সামনে একটি মেয়ের<br />
সাথে ধাক্কা লাগে। তখন<br />
মেয়েটি বলল<br />
- এই যে মিষ্টার দেখে চলতে<br />
পারেন না। সাথে কি চোখ<br />
নাই? ( মেয়ে)<br />
-কেনো আপনার সাথে চোখ<br />
নেই।আপনি দেখে চলতে পারেন<br />
না।<br />
(আমি)<br />
- ওই মিষ্টার আপনার সাহস তো কম<br />
না ধাক্কা মেরে সরি না বলে<br />
উল্টা বড় বড় কথা বলছেন।( মেয়ে)<br />
- আপনি সাহসের কি দেখেছেন?<br />
মেয়ে বলে কিন্তু কিছু বলছি না।<br />
(আমি)<br />
-একটু অপেক্ষা করেন লোক<br />
ডেকে মজা দেখাচ্ছি।(মেয়ে)<br />
- লোক ডেকে কি করবেন? ( আমি)<br />
-আপনাকে জামাই আদর করবো.<br />
(মেয়ে)<br />
- কেনো আপনার বাবা কি<br />
আমার শশুড় হয় যে জামাই আদর<br />
করবেন।(আমি)<br />
- দাড়ান দেখাচ্ছি মজা।(মেয়ে)<br />
- প্লিজ কাওকে ডাকবেন না<br />
( আমি)<br />
- ওকে কাওকে ডাকবো না তবে<br />
একটা কাজ করে দিতে হবে।<br />
(মেয়ে)<br />
- কি করতে হবে।( আমি)<br />
-একটা ছেলে আমাকে বিরক্ত<br />
করে।আপনি ওই ছেলেকে বলবেন<br />
আমি আপনার gf.<br />
- আমি পারবো না।( আমি)<br />
- যদি না বলেন তাহলে<br />
আপনাকে জামাই আদর করবো।<br />
(মেেয়)<br />
-পড়ে গেছি দুষ্ট মেয়ের পালায়<br />
পাবলিকের মার খেতে না<br />
চাইলে কথা তো শুনতে হবেই।<br />
গেলাম লোকটার কাছে<br />
এই যে ভাইয়া আপনি যাকে<br />
বিরক্ত করেন সে আমার gf.<br />
কথাটি বলতেই ছেলেটি আমার<br />
দিকে তাকাই। আমি তো অবাক<br />
এই তো আমার অফিসের বস।<br />
এই মেয়ে তোমার gf আমি<br />
জানতাম না। সরি বলে বস চলে<br />
গেলো।<br />
~<br />
আমি মেয়ে টিকে বললাম আপনি<br />
যে ছেলের কথা বললেন সে<br />
আমার অফিসের বস। আল্লাহ<br />
জানে আপনার জন্য আমার চাকুরী<br />
কাল থাকে কিনা।<br />
মেয়েটি বলল তো আমি কি<br />
করবো।<br />
আমি বললাম যদি চাকুরী যায়<br />
তাহলে আপনার খবর আছে।<br />
~<br />
পরের দিন গেলাম অফিসে।<br />
অফিসের সবাই আমার দিকে<br />
অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে।<br />
কিছু বুঝতে পারছি কি হয়েছে।<br />
একটু পর এক জন এসে বলল সাদিক<br />
সাহেব বিয়ের দাওয়াত কবে<br />
পাচ্ছি। বস আমাদের সব বলেছে।<br />
আজ দুপুরে সবাই কে খাওয়াতে<br />
হবে। কি আর করার সবাই কে<br />
খাওয়াতে হল। আমার দুই হাজার<br />
টাকা খরচ হলো।<br />
~<br />
পরের দিন গেলাম কলেজের<br />
সামনে মেয়েটি কে খুজতে। একটু<br />
পরে মেয়েটি কলেজ থেকে<br />
বের হলো<br />
-এই যে শুনুন, আপনার জন্য আমার<br />
২০০০ টাকা খরচ হয়েছে ( আমি)<br />
- তো আমি কি করবো।(মেয়ে)<br />
- আমাকে আপনার<br />
ভালোবাসতে হবে। ( আমি)<br />
- পাগল নাকি বলে মেয়েটি<br />
চলে গেলো।<br />
~<br />
তারপর থেকে প্রতিদিন<br />
মেয়েটিকে দেখার জন্য<br />
কলেজের সামনে দিয়ে আসতাম।<br />
কিছু দিন পর আমার জ্বর হওয়াতে<br />
তিন দিন অফিসে যেতে<br />
পারলাম না। আমি একটি বাসায়<br />
ভাড়া থাকতাম। এক দিন<br />
বিকালে কে যেনো দরজাতে<br />
নক করছে আমি দরজা খুলে দেখি<br />
সেই মেয়ে ।<br />
- আরে আপনি আমার বাসা<br />
চিনলেন কি করে? ( আমি)<br />
- কেনো আপনি আমাকে<br />
প্রতিদিন দেখতে যেতে<br />
পারেন। আর আমি আপনার জন্য এই<br />
টুকু খোজ খবর নিতে পারবো না।<br />
কি করেন আর কোথায় থাকেন।<br />
(মেয়ে)<br />
- ওরে দুষ্টু মেয়ে তলে তলে এতো<br />
দুর।<br />
- হয়েছে হয়েছে। মুখ দেখে তো<br />
মনে হয় না সারাদিন কিছু<br />
খেয়েছেন।আমি আপনার জন্য<br />
রান্না করে এনেছি। নিজ হাতে<br />
খাওয়াবো। (মেয়ে)<br />
- তাহলে আগে বলো<br />
ভালোবাসো।(আমি)<br />
-হুম অনেক ভালোবাসি।( মেয়ে)<br />
হুম আমি ও এই দুষ্টু মেয়েকে অনেক<br />
ভালোবাসি। এই দুষ্টু মেয়েটির<br />
নাম<br />
সিফা।<br />
...................... সমাপ্তি...]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[গল্প: দুষ্টু মেয়ের ভালোবাসা।<br />
~<br />
লেখা: কাল্পনিক আহম্মেদ ( দুষ্টু<br />
টম)<br />
~<br />
~<br />
আমি সাদিক। আমি একটি<br />
প্রাইভেট কম্পানিতে চাকুরি<br />
করছি। আমাকে প্রতি দিন<br />
মহিলা কলেজের সামনে দিয়ে<br />
অফিসে যেতে হয়। এক দিন<br />
অফিসে যাওয়ার সময় মহিলা<br />
কলেজের সামনে একটি মেয়ের<br />
সাথে ধাক্কা লাগে। তখন<br />
মেয়েটি বলল<br />
- এই যে মিষ্টার দেখে চলতে<br />
পারেন না। সাথে কি চোখ<br />
নাই? ( মেয়ে)<br />
-কেনো আপনার সাথে চোখ<br />
নেই।আপনি দেখে চলতে পারেন<br />
না।<br />
(আমি)<br />
- ওই মিষ্টার আপনার সাহস তো কম<br />
না ধাক্কা মেরে সরি না বলে<br />
উল্টা বড় বড় কথা বলছেন।( মেয়ে)<br />
- আপনি সাহসের কি দেখেছেন?<br />
মেয়ে বলে কিন্তু কিছু বলছি না।<br />
(আমি)<br />
-একটু অপেক্ষা করেন লোক<br />
ডেকে মজা দেখাচ্ছি।(মেয়ে)<br />
- লোক ডেকে কি করবেন? ( আমি)<br />
-আপনাকে জামাই আদর করবো.<br />
(মেয়ে)<br />
- কেনো আপনার বাবা কি<br />
আমার শশুড় হয় যে জামাই আদর<br />
করবেন।(আমি)<br />
- দাড়ান দেখাচ্ছি মজা।(মেয়ে)<br />
- প্লিজ কাওকে ডাকবেন না<br />
( আমি)<br />
- ওকে কাওকে ডাকবো না তবে<br />
একটা কাজ করে দিতে হবে।<br />
(মেয়ে)<br />
- কি করতে হবে।( আমি)<br />
-একটা ছেলে আমাকে বিরক্ত<br />
করে।আপনি ওই ছেলেকে বলবেন<br />
আমি আপনার gf.<br />
- আমি পারবো না।( আমি)<br />
- যদি না বলেন তাহলে<br />
আপনাকে জামাই আদর করবো।<br />
(মেেয়)<br />
-পড়ে গেছি দুষ্ট মেয়ের পালায়<br />
পাবলিকের মার খেতে না<br />
চাইলে কথা তো শুনতে হবেই।<br />
গেলাম লোকটার কাছে<br />
এই যে ভাইয়া আপনি যাকে<br />
বিরক্ত করেন সে আমার gf.<br />
কথাটি বলতেই ছেলেটি আমার<br />
দিকে তাকাই। আমি তো অবাক<br />
এই তো আমার অফিসের বস।<br />
এই মেয়ে তোমার gf আমি<br />
জানতাম না। সরি বলে বস চলে<br />
গেলো।<br />
~<br />
আমি মেয়ে টিকে বললাম আপনি<br />
যে ছেলের কথা বললেন সে<br />
আমার অফিসের বস। আল্লাহ<br />
জানে আপনার জন্য আমার চাকুরী<br />
কাল থাকে কিনা।<br />
মেয়েটি বলল তো আমি কি<br />
করবো।<br />
আমি বললাম যদি চাকুরী যায়<br />
তাহলে আপনার খবর আছে।<br />
~<br />
পরের দিন গেলাম অফিসে।<br />
অফিসের সবাই আমার দিকে<br />
অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে।<br />
কিছু বুঝতে পারছি কি হয়েছে।<br />
একটু পর এক জন এসে বলল সাদিক<br />
সাহেব বিয়ের দাওয়াত কবে<br />
পাচ্ছি। বস আমাদের সব বলেছে।<br />
আজ দুপুরে সবাই কে খাওয়াতে<br />
হবে। কি আর করার সবাই কে<br />
খাওয়াতে হল। আমার দুই হাজার<br />
টাকা খরচ হলো।<br />
~<br />
পরের দিন গেলাম কলেজের<br />
সামনে মেয়েটি কে খুজতে। একটু<br />
পরে মেয়েটি কলেজ থেকে<br />
বের হলো<br />
-এই যে শুনুন, আপনার জন্য আমার<br />
২০০০ টাকা খরচ হয়েছে ( আমি)<br />
- তো আমি কি করবো।(মেয়ে)<br />
- আমাকে আপনার<br />
ভালোবাসতে হবে। ( আমি)<br />
- পাগল নাকি বলে মেয়েটি<br />
চলে গেলো।<br />
~<br />
তারপর থেকে প্রতিদিন<br />
মেয়েটিকে দেখার জন্য<br />
কলেজের সামনে দিয়ে আসতাম।<br />
কিছু দিন পর আমার জ্বর হওয়াতে<br />
তিন দিন অফিসে যেতে<br />
পারলাম না। আমি একটি বাসায়<br />
ভাড়া থাকতাম। এক দিন<br />
বিকালে কে যেনো দরজাতে<br />
নক করছে আমি দরজা খুলে দেখি<br />
সেই মেয়ে ।<br />
- আরে আপনি আমার বাসা<br />
চিনলেন কি করে? ( আমি)<br />
- কেনো আপনি আমাকে<br />
প্রতিদিন দেখতে যেতে<br />
পারেন। আর আমি আপনার জন্য এই<br />
টুকু খোজ খবর নিতে পারবো না।<br />
কি করেন আর কোথায় থাকেন।<br />
(মেয়ে)<br />
- ওরে দুষ্টু মেয়ে তলে তলে এতো<br />
দুর।<br />
- হয়েছে হয়েছে। মুখ দেখে তো<br />
মনে হয় না সারাদিন কিছু<br />
খেয়েছেন।আমি আপনার জন্য<br />
রান্না করে এনেছি। নিজ হাতে<br />
খাওয়াবো। (মেয়ে)<br />
- তাহলে আগে বলো<br />
ভালোবাসো।(আমি)<br />
-হুম অনেক ভালোবাসি।( মেয়ে)<br />
হুম আমি ও এই দুষ্টু মেয়েকে অনেক<br />
ভালোবাসি। এই দুষ্টু মেয়েটির<br />
নাম<br />
সিফা।<br />
...................... সমাপ্তি...]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[তবুও তুমি]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2149</link>
			<pubDate>Tue, 21 Feb 2017 17:20:40 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2149</guid>
			<description><![CDATA[______________তবুও তুমি<br />
.<br />
.<br />
.<br />
নীল আজ অনেক খুশী,<br />
কারণ সে ইন্টারে ভালো রেজাল্ট করতে পেরেছে।<br />
.<br />
.<br />
আজ পরীক্ষার রিজাল্ট প্রকাশ হইছে রেজাল্ট বোর্ডের<br />
প্রথম সারিতেই নীলের নাম জিপিএ ৫ আসছে।<br />
.<br />
.<br />
এই সাদা পাতায় ভালো নাম্বার আসা মানে অনেক পাওয়া,<br />
তাইতো আজ বাড়ির পথে ছুটেছে নীল।<br />
মা বাবার স্বপ্ন আমি ভালো একটা রিজাল্ট নিয়ে কোন<br />
ভার্সিটিতে ভর্তি হবো।<br />
লেখা পড়া শেষ করে ভালো একটা চাকরি তাইতো আমার মত<br />
মধ্যবিত্ত ফেমেলীর ছেলে মেয়ের বাবা মা হাজার ত্যাগ।<br />
.<br />
.<br />
আমি নীল গত ২০১০ এর এইচ এস সি পরীক্ষার্থী কিন্তু<br />
আমার পরীক্ষা দেওয়া হয়নি।<br />
দেওয়া হয়নি বলা যাবেনা আমিই পরীক্ষা দেইনি,<br />
.<br />
.<br />
শুভা আর আমি একি ক্লাসে পড়তাম।<br />
দুজনেই একসাথে এস,এস,সি দিছি,<br />
আমাদের রিলেশন এর চলছিলো প্রায় দেড় বছর।<br />
পাগলী একটা দেখতে শ্যামবর্ণ চেহারা, কথায় যেন মুক্তা<br />
ঝরে ওর একটা হাসি সব কিছু উলট পালট করে দিতে পারে।<br />
চেহারায় যেন মায়ার কোন যাদুর মন্ত্র আঠকানো আছে!<br />
.<br />
.<br />
ওর বাবা সরকারি চাকরী করে,<br />
ওর আরো দুইটা বোন আছে, ছোট ভাই দুইটা মোট পাচঁ<br />
জন।<br />
আমি আর শুভা এটাই ছিলো আমার পৃথীবি,<br />
সারা দিন ফোনে কথা ক্লাস শেষে দুপুরে মাঠে বসে গল্প<br />
কত কি,<br />
একদিন শুভা আমার একটা গিফট দিল ব্রেসলেট,<br />
আর বলল এটা তোমার জন্য দ্বিতীয় আমি, এটা হাতে পরে<br />
রাখবা আর ভাববা আমি তোমার সাথে আছি সব সময়।<br />
আর কোনদিন অন্য মেয়ের দিকে তাকালে আমার ব্রেস<br />
তোমাকে আমার কথা মনে করিয়ে দিবে।<br />
.<br />
.<br />
আসলে আজও তুমার কথা আমার মনে আছে।<br />
আর জীবনে ভুলতে পারবো বলেও মনে হয়না,<br />
জানেন...... শুভার বিয়ে হয়ে গেছে,<br />
ছেলে USA থাকে।<br />
ওর ফেমেলী হতে বিয়ে দিছে,<br />
আমি অনেক অপেক্ষা করছি ওর বিয়ের আগে শুভার।<br />
ও এসে বলবে নীল আমি এই বিয়েতে রাজী না!<br />
আমাকে জোর করে বিয়ে দিচ্ছে ফেমেলী হতে।<br />
.<br />
.<br />
গত এক বছর আমি রোম হতে বের হতাম না,<br />
রুমেই কাটতো সারা দিন।<br />
ঘুমের বড়ি ছিল আমার শুভাকে ভুলে তাকার সন্গি।<br />
একদিন শুভার ফোন এলো রাত ১ টার দিকে।<br />
অচেনা নাম্বার কিন্তু রিসিব করার পর কন্ঠটা বারিএবং চির চেনা শুভার<br />
কন্ঠ।<br />
শুভাঃ....হ্যালো নীল<br />
জী.....কে বলছেন?<br />
শুভাঃআমায় চিনতে পারছো না আমি শুভা<br />
জী....বলুন কেমন আছেন আপনি<br />
শুভাঃ নীল তোমাকে আমার কিছু কথা বলার ছিলো!<br />
জী......বলুন<br />
শুভাঃনীল আমি জানি তুমি আমাকে ক্ষমা করবেনা,<br />
তারপরও আমি তোমায় আজ কিছু কথা বলতেছি শোন।<br />
আমি বিয়েতে রাজি ছিলাম না,<br />
শুধু মাত্র আমার বাকি বোন আর ভাইদের ফিউচার এর কথা<br />
ভেবে এই বিয়েতে রাজি হইছি।<br />
জানো আমার স্বামীর আরো জি,এফ আছে,<br />
আমেরিকায় জন্ম মদ খায় মাতলামু করে।<br />
এমন কি আমার সামনে অন্য মেয়েকে নিয়ে ঘুরে কিন্তু<br />
আমি কিছুই করতে পারিনা।<br />
নীল আজকাল তোমায় অনেক মিস করি।<br />
কাদতে কাদতে.....................<br />
নীলঃআচ্ছা শুভা ঠিক আছে কেদনা!<br />
শুভাঃনীল আমি জানি তুমি আমায় অনেক ভালো বাসো, তাই<br />
একটা কথা বলছি পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও আর তোমার<br />
জীবনটা নতুন করে সাজিয়ে নিও<br />
বাই।<br />
.<br />
.<br />
হ্যা আমিও ওর ফোনের কথা গুলি রাখবো আমার জীবনটা<br />
সাজাবো,<br />
তবে আর কোন মেয়ের স্বপ্ন বুকে নিয়ে নয় আমার মা<br />
বাবার স্বপ্ন সাজাবো তাইতো শুরু করেছি আবার,<br />
দমে থেকে নয়।<br />
লেখা পড়া কম্পলিট করে আমার জন্ম হতে আমায় নিয়ে স্বপ্ন<br />
দেখা মানুষ গুলার স্বপ্ন সাজাবো.......<br />
মা বাবার স্বপ্ন।<br />
আর তার মাঝেও আছে তবুও তোমায় ভালোবাসার সৃতি।<br />
.<br />
.<br />
লেখাঃ___________( নীল ) N A]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[______________তবুও তুমি<br />
.<br />
.<br />
.<br />
নীল আজ অনেক খুশী,<br />
কারণ সে ইন্টারে ভালো রেজাল্ট করতে পেরেছে।<br />
.<br />
.<br />
আজ পরীক্ষার রিজাল্ট প্রকাশ হইছে রেজাল্ট বোর্ডের<br />
প্রথম সারিতেই নীলের নাম জিপিএ ৫ আসছে।<br />
.<br />
.<br />
এই সাদা পাতায় ভালো নাম্বার আসা মানে অনেক পাওয়া,<br />
তাইতো আজ বাড়ির পথে ছুটেছে নীল।<br />
মা বাবার স্বপ্ন আমি ভালো একটা রিজাল্ট নিয়ে কোন<br />
ভার্সিটিতে ভর্তি হবো।<br />
লেখা পড়া শেষ করে ভালো একটা চাকরি তাইতো আমার মত<br />
মধ্যবিত্ত ফেমেলীর ছেলে মেয়ের বাবা মা হাজার ত্যাগ।<br />
.<br />
.<br />
আমি নীল গত ২০১০ এর এইচ এস সি পরীক্ষার্থী কিন্তু<br />
আমার পরীক্ষা দেওয়া হয়নি।<br />
দেওয়া হয়নি বলা যাবেনা আমিই পরীক্ষা দেইনি,<br />
.<br />
.<br />
শুভা আর আমি একি ক্লাসে পড়তাম।<br />
দুজনেই একসাথে এস,এস,সি দিছি,<br />
আমাদের রিলেশন এর চলছিলো প্রায় দেড় বছর।<br />
পাগলী একটা দেখতে শ্যামবর্ণ চেহারা, কথায় যেন মুক্তা<br />
ঝরে ওর একটা হাসি সব কিছু উলট পালট করে দিতে পারে।<br />
চেহারায় যেন মায়ার কোন যাদুর মন্ত্র আঠকানো আছে!<br />
.<br />
.<br />
ওর বাবা সরকারি চাকরী করে,<br />
ওর আরো দুইটা বোন আছে, ছোট ভাই দুইটা মোট পাচঁ<br />
জন।<br />
আমি আর শুভা এটাই ছিলো আমার পৃথীবি,<br />
সারা দিন ফোনে কথা ক্লাস শেষে দুপুরে মাঠে বসে গল্প<br />
কত কি,<br />
একদিন শুভা আমার একটা গিফট দিল ব্রেসলেট,<br />
আর বলল এটা তোমার জন্য দ্বিতীয় আমি, এটা হাতে পরে<br />
রাখবা আর ভাববা আমি তোমার সাথে আছি সব সময়।<br />
আর কোনদিন অন্য মেয়ের দিকে তাকালে আমার ব্রেস<br />
তোমাকে আমার কথা মনে করিয়ে দিবে।<br />
.<br />
.<br />
আসলে আজও তুমার কথা আমার মনে আছে।<br />
আর জীবনে ভুলতে পারবো বলেও মনে হয়না,<br />
জানেন...... শুভার বিয়ে হয়ে গেছে,<br />
ছেলে USA থাকে।<br />
ওর ফেমেলী হতে বিয়ে দিছে,<br />
আমি অনেক অপেক্ষা করছি ওর বিয়ের আগে শুভার।<br />
ও এসে বলবে নীল আমি এই বিয়েতে রাজী না!<br />
আমাকে জোর করে বিয়ে দিচ্ছে ফেমেলী হতে।<br />
.<br />
.<br />
গত এক বছর আমি রোম হতে বের হতাম না,<br />
রুমেই কাটতো সারা দিন।<br />
ঘুমের বড়ি ছিল আমার শুভাকে ভুলে তাকার সন্গি।<br />
একদিন শুভার ফোন এলো রাত ১ টার দিকে।<br />
অচেনা নাম্বার কিন্তু রিসিব করার পর কন্ঠটা বারিএবং চির চেনা শুভার<br />
কন্ঠ।<br />
শুভাঃ....হ্যালো নীল<br />
জী.....কে বলছেন?<br />
শুভাঃআমায় চিনতে পারছো না আমি শুভা<br />
জী....বলুন কেমন আছেন আপনি<br />
শুভাঃ নীল তোমাকে আমার কিছু কথা বলার ছিলো!<br />
জী......বলুন<br />
শুভাঃনীল আমি জানি তুমি আমাকে ক্ষমা করবেনা,<br />
তারপরও আমি তোমায় আজ কিছু কথা বলতেছি শোন।<br />
আমি বিয়েতে রাজি ছিলাম না,<br />
শুধু মাত্র আমার বাকি বোন আর ভাইদের ফিউচার এর কথা<br />
ভেবে এই বিয়েতে রাজি হইছি।<br />
জানো আমার স্বামীর আরো জি,এফ আছে,<br />
আমেরিকায় জন্ম মদ খায় মাতলামু করে।<br />
এমন কি আমার সামনে অন্য মেয়েকে নিয়ে ঘুরে কিন্তু<br />
আমি কিছুই করতে পারিনা।<br />
নীল আজকাল তোমায় অনেক মিস করি।<br />
কাদতে কাদতে.....................<br />
নীলঃআচ্ছা শুভা ঠিক আছে কেদনা!<br />
শুভাঃনীল আমি জানি তুমি আমায় অনেক ভালো বাসো, তাই<br />
একটা কথা বলছি পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও আর তোমার<br />
জীবনটা নতুন করে সাজিয়ে নিও<br />
বাই।<br />
.<br />
.<br />
হ্যা আমিও ওর ফোনের কথা গুলি রাখবো আমার জীবনটা<br />
সাজাবো,<br />
তবে আর কোন মেয়ের স্বপ্ন বুকে নিয়ে নয় আমার মা<br />
বাবার স্বপ্ন সাজাবো তাইতো শুরু করেছি আবার,<br />
দমে থেকে নয়।<br />
লেখা পড়া কম্পলিট করে আমার জন্ম হতে আমায় নিয়ে স্বপ্ন<br />
দেখা মানুষ গুলার স্বপ্ন সাজাবো.......<br />
মা বাবার স্বপ্ন।<br />
আর তার মাঝেও আছে তবুও তোমায় ভালোবাসার সৃতি।<br />
.<br />
.<br />
লেখাঃ___________( নীল ) N A]]></content:encoded>
		</item>
	</channel>
</rss>