<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0" xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/" xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/">
	<channel>
		<title><![CDATA[Forums.Likebd.Com - হৃদয় স্পর্শকাতর গল্প]]></title>
		<link>http://forums.likebd.com/</link>
		<description><![CDATA[Forums.Likebd.Com - http://forums.likebd.com]]></description>
		<pubDate>Fri, 23 Oct 2026 00:53:37 +0000</pubDate>
		<generator>MyBB</generator>
		<item>
			<title><![CDATA[অপূর্নতা]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2175</link>
			<pubDate>Wed, 22 Feb 2017 04:23:01 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2175</guid>
			<description><![CDATA[--------------অপূর্নতা--------------<br />
চোখ বন্ধ করে দাড়িয়ে আছি।দূর থেকে ট্রেন আসার<br />
শব্দ শুনতে পাচ্ছি।এমন সময় ফোনটা বেজে উঠল।<br />
অনিচ্ছা শত্বেও রিসিভ করলাম<br />
-ওই কুত্তা কই তুই?<br />
ওই তুই ট্রেন রাস্তায় এত রাতে কি করছিস।মরার জন্য<br />
যাস নাই তো? (আফসানা)<br />
-(কোমনে যে বুইঝা ফালাইলো)<br />
কি যে কস তুই।মরবো ক্যান।<br />
কয়েকটা ফ্রেরেন্ডের সাথে ঘুরতে আসছিলাম।<br />
-ভাল হয়ছে।এখন রাস্তা থেকে সর না হলে সকালে<br />
তোর বডিটা আলুভত্তা মার্কা অবস্হায় পাওয়া<br />
যাবে।<br />
-(হাই হাই আর এতটু হইলেই তো ট্রেনটা আমার উপর<br />
দিয়ে চইলা যাইত।যাক বাচছি।)<br />
ওই কুত্তি আমি কি মরার জন্য আসছি নাকি যে<br />
সুইসাইড করবো।<br />
তা হটাত আমাকে এত রাতে ফোন করার কারন?<br />
-ক্যান অন্য মেয়ে ফোন দেওয়ার কথা ছিল?<br />
-না।আপনি তো অল টাইমই মিস কল দেন।আজ হটাত<br />
ডাইরেক্ট কল দিলেন তো তাই বললাম।নিশ্চই কোন<br />
বিশাল ব্যাপার ট্যাপার আছে?<br />
-তোরে কি আমি স্বাদে আর কুত্তা বলি।তুই জীকনেও<br />
ভাল হবি না।<br />
তুই এখুনি আমার বাসার সামনে চলে আয়।<br />
-ক্যান?<br />
এখন পারবো না।ফ্রেন্ডের সাথে আছি।তোর<br />
বয়ফ্রেন্ড রে ডাক না?<br />
-ও আসলে কি আর তোরে কইতাম কুত্তা।যদি না<br />
আসিস তবে তোরে কাল পুকুরের জলে চুবামু কইলাম।<br />
রাখলাম আমি।<br />
ডেনজারাস মেয়ে।সো কোন রিক্স না নেওয়াই<br />
উত্তম।<br />
-ওই কুত্তি আমি আসছি।<br />
তুই কই?<br />
-দাড়া আমি আসতেছি।<br />
-ওকে।<br />
-কি রে এত রাতে ডাকলি কেন?<br />
-আইসক্রিম খেতে যাবো তাই।<br />
-এত রাতে?<br />
-হ্যা।এই জন্যই তো তোকে ডাকলাম।একা যেতে<br />
পারবো না তো তাই।<br />
-তুই কি এখনও ছোট আসিস না কি।আর এত রাতে<br />
আইসক্রিম কই পাবি?<br />
-আরে চল তো।যে কোন একটা দোকান তো খোলা<br />
থাকবেই।হাটতে হাটতে পেয়ে যাবো।চলতো তুই।<br />
-ওকে চল।<br />
-কত দুর তো আসলাম একটা দোকানও খোলা নেই।চল<br />
ফিরে যাই।<br />
-আছে।ওই দেখ সামনে একটা দোকান খোলা আছে।<br />
চল চল।<br />
নে টাকা দে।(আফছানা)<br />
-আমার কাছে নেই।<br />
আর আমি কি আইসক্রিম খাইতে চাইছিলাম না কি? -<br />
ভাইয়া ও টাকা দেবে।<br />
-মামা দিয়ে দাও।<br />
সারা জীবন তো তোমাকেই দিতে হবে।এখন থেকেই<br />
দেওয়া প্রাকটিস করো মামা।(দোকানদার)<br />
-এই নেন।<br />
-আহ! দোকনদার যা বললো যদি সত্যি হতো তাহলে<br />
খুব ভাল হতো।<br />
-ওই কুত্তা উনি তো না জেনেই বলেছেন।আর আমার<br />
তো বয়ফ্রেন্ড আছে।<br />
-হুম।যদি ওই বয়ফ্রেন্ডটা আমি হতে পারতাম।<br />
-কত্তো সখ!<br />
তুই আমাকে কোন দিনও পাবি না।সো আমার জন্য<br />
অপেক্ষা না করে অন্য মেয়ে খোজ।<br />
-দেখি কি করা যাই।<br />
আচ্ছা প্রথম প্রেম কেউ ভুলতে পারে না তাই না?<br />
-হ্যা।।প্রথম প্রেম মানুষ সারা জীবন মনে রাখে।<br />
চাইলেও ভুলতে পারে না।জীবনের প্রথম চাওয়াটা<br />
যেমন দামী তেমনা প্রথম প্রেম ও তার জীবনে<br />
তেমনটাই দামী।আর রাফসান আমার জীবনের প্রথম<br />
প্রেম।<br />
-ওই ডায়লগ দেওয়া বন্ধ কর।তোর বাসা চলে আসছে।<br />
-হুম।।<br />
অনেক থ্যাকস দোস্ত।আসি।<br />
-ওকে।।<br />
সকালে ঘুমাচ্ছি এমন সময় আফসানার ফোন।<br />
-ওই কুত্তা কি করিস?<br />
-ঘুমোচ্ছিলাম।<br />
কি হয়েছে বল?<br />
-দোস্ত সমস্যাই পড়েছি।<br />
-কি সমস্যা বল।<br />
-কয়েকটা ছেলে ডিস্টাব করছে।<br />
ওই গুলা যাতে ডিস্টাব না করে সেই ব্যাবস্থা করতে<br />
হবে।<br />
-ওকে।।আসছি।।<br />
-দোস্ত ওই গুলারে যা দিলি না।আর জীবনেও কোন<br />
মেয়েকে ডিস্টাব করতে সাহস পাবে না।<br />
-হুম।।<br />
-দোস্ত ওই মেয়েটাকে দেখ।<br />
-কোথাই?<br />
-তোর পিছনে দেখ।কত্তো কিউট মেয়েটা।তোর<br />
সাথে দারুন মানাবে।<br />
-দুরো।।কেমন জানি দেখতে।এই মেয়েকে তোর পছন্দ<br />
হলো?<br />
-তোর চোখে সমস্যা আছে।<br />
ডাক্তার দেখা বুঝলি?<br />
কেমন মেয়ে তোর পছন্দ বলতো?<br />
-ঠিক তোর মতো।<br />
-দোস্ত এটা সম্ভব না।তুই আমাকে ভুলে যা।<br />
-আচ্ছা তুই বলেছিলি না যে জীবনের প্রথম প্রেম<br />
কেউ ভুলতে পারেনা।সারা জীবন মনে রাখে।<br />
চাইলেও ভুলতে পারে না।<br />
তাহলে আমি কিভাবে ভুলবো বল?<br />
-দোস্ত আমার রাফসানের সাথে দেখা করার কথা<br />
আছে।আমি আজ উঠলাম।<br />
আসলেই পৃথিবীটাই গোল।কেমন যেন একটা চক্রের<br />
মতো। যেখানে সবার ভালবাসা পূর্নতা পাই না।আর<br />
সেই অপূর্ন ভালবাসার মধ্যে না হয় আমার ভালবাসা<br />
ও অপূর্ন থাকুক।<br />
.<br />
লেখা :- নামহীন মানব (Ashik AHMED sHagor)<br />
Repost:হেমন্তে বর্ষায় আমি]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[--------------অপূর্নতা--------------<br />
চোখ বন্ধ করে দাড়িয়ে আছি।দূর থেকে ট্রেন আসার<br />
শব্দ শুনতে পাচ্ছি।এমন সময় ফোনটা বেজে উঠল।<br />
অনিচ্ছা শত্বেও রিসিভ করলাম<br />
-ওই কুত্তা কই তুই?<br />
ওই তুই ট্রেন রাস্তায় এত রাতে কি করছিস।মরার জন্য<br />
যাস নাই তো? (আফসানা)<br />
-(কোমনে যে বুইঝা ফালাইলো)<br />
কি যে কস তুই।মরবো ক্যান।<br />
কয়েকটা ফ্রেরেন্ডের সাথে ঘুরতে আসছিলাম।<br />
-ভাল হয়ছে।এখন রাস্তা থেকে সর না হলে সকালে<br />
তোর বডিটা আলুভত্তা মার্কা অবস্হায় পাওয়া<br />
যাবে।<br />
-(হাই হাই আর এতটু হইলেই তো ট্রেনটা আমার উপর<br />
দিয়ে চইলা যাইত।যাক বাচছি।)<br />
ওই কুত্তি আমি কি মরার জন্য আসছি নাকি যে<br />
সুইসাইড করবো।<br />
তা হটাত আমাকে এত রাতে ফোন করার কারন?<br />
-ক্যান অন্য মেয়ে ফোন দেওয়ার কথা ছিল?<br />
-না।আপনি তো অল টাইমই মিস কল দেন।আজ হটাত<br />
ডাইরেক্ট কল দিলেন তো তাই বললাম।নিশ্চই কোন<br />
বিশাল ব্যাপার ট্যাপার আছে?<br />
-তোরে কি আমি স্বাদে আর কুত্তা বলি।তুই জীকনেও<br />
ভাল হবি না।<br />
তুই এখুনি আমার বাসার সামনে চলে আয়।<br />
-ক্যান?<br />
এখন পারবো না।ফ্রেন্ডের সাথে আছি।তোর<br />
বয়ফ্রেন্ড রে ডাক না?<br />
-ও আসলে কি আর তোরে কইতাম কুত্তা।যদি না<br />
আসিস তবে তোরে কাল পুকুরের জলে চুবামু কইলাম।<br />
রাখলাম আমি।<br />
ডেনজারাস মেয়ে।সো কোন রিক্স না নেওয়াই<br />
উত্তম।<br />
-ওই কুত্তি আমি আসছি।<br />
তুই কই?<br />
-দাড়া আমি আসতেছি।<br />
-ওকে।<br />
-কি রে এত রাতে ডাকলি কেন?<br />
-আইসক্রিম খেতে যাবো তাই।<br />
-এত রাতে?<br />
-হ্যা।এই জন্যই তো তোকে ডাকলাম।একা যেতে<br />
পারবো না তো তাই।<br />
-তুই কি এখনও ছোট আসিস না কি।আর এত রাতে<br />
আইসক্রিম কই পাবি?<br />
-আরে চল তো।যে কোন একটা দোকান তো খোলা<br />
থাকবেই।হাটতে হাটতে পেয়ে যাবো।চলতো তুই।<br />
-ওকে চল।<br />
-কত দুর তো আসলাম একটা দোকানও খোলা নেই।চল<br />
ফিরে যাই।<br />
-আছে।ওই দেখ সামনে একটা দোকান খোলা আছে।<br />
চল চল।<br />
নে টাকা দে।(আফছানা)<br />
-আমার কাছে নেই।<br />
আর আমি কি আইসক্রিম খাইতে চাইছিলাম না কি? -<br />
ভাইয়া ও টাকা দেবে।<br />
-মামা দিয়ে দাও।<br />
সারা জীবন তো তোমাকেই দিতে হবে।এখন থেকেই<br />
দেওয়া প্রাকটিস করো মামা।(দোকানদার)<br />
-এই নেন।<br />
-আহ! দোকনদার যা বললো যদি সত্যি হতো তাহলে<br />
খুব ভাল হতো।<br />
-ওই কুত্তা উনি তো না জেনেই বলেছেন।আর আমার<br />
তো বয়ফ্রেন্ড আছে।<br />
-হুম।যদি ওই বয়ফ্রেন্ডটা আমি হতে পারতাম।<br />
-কত্তো সখ!<br />
তুই আমাকে কোন দিনও পাবি না।সো আমার জন্য<br />
অপেক্ষা না করে অন্য মেয়ে খোজ।<br />
-দেখি কি করা যাই।<br />
আচ্ছা প্রথম প্রেম কেউ ভুলতে পারে না তাই না?<br />
-হ্যা।।প্রথম প্রেম মানুষ সারা জীবন মনে রাখে।<br />
চাইলেও ভুলতে পারে না।জীবনের প্রথম চাওয়াটা<br />
যেমন দামী তেমনা প্রথম প্রেম ও তার জীবনে<br />
তেমনটাই দামী।আর রাফসান আমার জীবনের প্রথম<br />
প্রেম।<br />
-ওই ডায়লগ দেওয়া বন্ধ কর।তোর বাসা চলে আসছে।<br />
-হুম।।<br />
অনেক থ্যাকস দোস্ত।আসি।<br />
-ওকে।।<br />
সকালে ঘুমাচ্ছি এমন সময় আফসানার ফোন।<br />
-ওই কুত্তা কি করিস?<br />
-ঘুমোচ্ছিলাম।<br />
কি হয়েছে বল?<br />
-দোস্ত সমস্যাই পড়েছি।<br />
-কি সমস্যা বল।<br />
-কয়েকটা ছেলে ডিস্টাব করছে।<br />
ওই গুলা যাতে ডিস্টাব না করে সেই ব্যাবস্থা করতে<br />
হবে।<br />
-ওকে।।আসছি।।<br />
-দোস্ত ওই গুলারে যা দিলি না।আর জীবনেও কোন<br />
মেয়েকে ডিস্টাব করতে সাহস পাবে না।<br />
-হুম।।<br />
-দোস্ত ওই মেয়েটাকে দেখ।<br />
-কোথাই?<br />
-তোর পিছনে দেখ।কত্তো কিউট মেয়েটা।তোর<br />
সাথে দারুন মানাবে।<br />
-দুরো।।কেমন জানি দেখতে।এই মেয়েকে তোর পছন্দ<br />
হলো?<br />
-তোর চোখে সমস্যা আছে।<br />
ডাক্তার দেখা বুঝলি?<br />
কেমন মেয়ে তোর পছন্দ বলতো?<br />
-ঠিক তোর মতো।<br />
-দোস্ত এটা সম্ভব না।তুই আমাকে ভুলে যা।<br />
-আচ্ছা তুই বলেছিলি না যে জীবনের প্রথম প্রেম<br />
কেউ ভুলতে পারেনা।সারা জীবন মনে রাখে।<br />
চাইলেও ভুলতে পারে না।<br />
তাহলে আমি কিভাবে ভুলবো বল?<br />
-দোস্ত আমার রাফসানের সাথে দেখা করার কথা<br />
আছে।আমি আজ উঠলাম।<br />
আসলেই পৃথিবীটাই গোল।কেমন যেন একটা চক্রের<br />
মতো। যেখানে সবার ভালবাসা পূর্নতা পাই না।আর<br />
সেই অপূর্ন ভালবাসার মধ্যে না হয় আমার ভালবাসা<br />
ও অপূর্ন থাকুক।<br />
.<br />
লেখা :- নামহীন মানব (Ashik AHMED sHagor)<br />
Repost:হেমন্তে বর্ষায় আমি]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[মাঝেমাঝে ভালোবাসা হয়ে যায় অর্থহীন, বিক্রি হয়ে যায় স্বার্থের কাছে ।]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2154</link>
			<pubDate>Tue, 21 Feb 2017 17:23:36 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2154</guid>
			<description><![CDATA[মাঝেমাঝে ভালোবাসা হয়ে যায় অর্থহীন, বিক্রি হয়ে যায় স্বার্থের কাছে ।<br />
.<br />
লেখা- Gazi Parvez <br />
.<br />
কথায় বলে দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম কেউ বুঝেনা । তেমনি যখন কেউ ভালোবাসে, তার ভালোবাসার দাম দেয়না । আর যখন ভালোবাসার মানুষটি অবহেলার শিকার হয়ে দূরে চলে যায়,,তখন বুঝে কাউকে অবহেলার মর্ম ।<br />
.<br />
দুনিয়ার মানুষগুলো বড় অদ্ভুত । যাকে আপনি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসবেন, সে আপনাকে কষ্ট দিবে এবং অবহেলা করবে । তার কাছে আপনার কোনো দাম থাকবেনা ।<br />
.<br />
হ্যা হয়তো সে আপনাকে অনেক সময় বলবে, তোমাকে ছাড়া আমি বাঁঁচবো না, তুমি আমার সব,, তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করার আগে আমি আত্মহত্যা করবো । কিন্তু বাস্তব ঠিক তার উল্টো, দিব্যি ভালো থাকে অন্যের সাথে । ভালো থাকবেনা কেনো, সে মানুষটা আপনাকে তো মন থেকে কখনো ভালো বাসেই নাই ।<br />
.<br />
বারবার যখন তার সাথে কথা বলতে চাইবেন, তখন সে নিজেকে অনেক কিছু মনে করবে । অবহেলা করে দূরে সরিয়ে দিবে আপনাকে । তাই নিজে থেকে দূরে থাকাই ভালো । <br />
.<br />
আমার এক বন্ধু, একটি মেয়েকে খুব ভালোবাসে । কিন্তু ৩ বছর তার ভালোবাসা ছিলো এক তরফা । মেয়েটি রাজি ছিলোনা । ৩ বছর পর মেয়েটি রাজি হলো । কিন্তু এই ৩ বছর আমার বন্ধু কতটা অবহেলার শিকার হয়েছে, তা একমাত্র সে ই বলতে পারবে ।<br />
.<br />
কথায় আছে,, অতিরিক্ত অবহেলা মানুষকে অনেক পাষণ্ড করে তোলে । আবার কাউকে মাত্রাতিরিক্ত ভালোবাসা দেখাতে নেই, মাথায় উঠে নাঁঁচবে ।<br />
.<br />
ভালোবাসার মানুষকে অবহেলা করতে নেই, আপনার সামান্য,অবহেলায় হয়তো সে নিজের অনেক বড় ক্ষতি করে ফেলতে পারে । <br />
.<br />
ভালোবাসা বেচে থাকে যুগ যুগ ধরে, কিন্তু ভালোবাসার মানুষটি অনেক সময় দূরে সরে যায় নিজ স্বার্থে । <br />
.<br />
লেখা- Gazi Parvez]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[মাঝেমাঝে ভালোবাসা হয়ে যায় অর্থহীন, বিক্রি হয়ে যায় স্বার্থের কাছে ।<br />
.<br />
লেখা- Gazi Parvez <br />
.<br />
কথায় বলে দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম কেউ বুঝেনা । তেমনি যখন কেউ ভালোবাসে, তার ভালোবাসার দাম দেয়না । আর যখন ভালোবাসার মানুষটি অবহেলার শিকার হয়ে দূরে চলে যায়,,তখন বুঝে কাউকে অবহেলার মর্ম ।<br />
.<br />
দুনিয়ার মানুষগুলো বড় অদ্ভুত । যাকে আপনি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসবেন, সে আপনাকে কষ্ট দিবে এবং অবহেলা করবে । তার কাছে আপনার কোনো দাম থাকবেনা ।<br />
.<br />
হ্যা হয়তো সে আপনাকে অনেক সময় বলবে, তোমাকে ছাড়া আমি বাঁঁচবো না, তুমি আমার সব,, তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করার আগে আমি আত্মহত্যা করবো । কিন্তু বাস্তব ঠিক তার উল্টো, দিব্যি ভালো থাকে অন্যের সাথে । ভালো থাকবেনা কেনো, সে মানুষটা আপনাকে তো মন থেকে কখনো ভালো বাসেই নাই ।<br />
.<br />
বারবার যখন তার সাথে কথা বলতে চাইবেন, তখন সে নিজেকে অনেক কিছু মনে করবে । অবহেলা করে দূরে সরিয়ে দিবে আপনাকে । তাই নিজে থেকে দূরে থাকাই ভালো । <br />
.<br />
আমার এক বন্ধু, একটি মেয়েকে খুব ভালোবাসে । কিন্তু ৩ বছর তার ভালোবাসা ছিলো এক তরফা । মেয়েটি রাজি ছিলোনা । ৩ বছর পর মেয়েটি রাজি হলো । কিন্তু এই ৩ বছর আমার বন্ধু কতটা অবহেলার শিকার হয়েছে, তা একমাত্র সে ই বলতে পারবে ।<br />
.<br />
কথায় আছে,, অতিরিক্ত অবহেলা মানুষকে অনেক পাষণ্ড করে তোলে । আবার কাউকে মাত্রাতিরিক্ত ভালোবাসা দেখাতে নেই, মাথায় উঠে নাঁঁচবে ।<br />
.<br />
ভালোবাসার মানুষকে অবহেলা করতে নেই, আপনার সামান্য,অবহেলায় হয়তো সে নিজের অনেক বড় ক্ষতি করে ফেলতে পারে । <br />
.<br />
ভালোবাসা বেচে থাকে যুগ যুগ ধরে, কিন্তু ভালোবাসার মানুষটি অনেক সময় দূরে সরে যায় নিজ স্বার্থে । <br />
.<br />
লেখা- Gazi Parvez]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[শেষ বয়সে]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2153</link>
			<pubDate>Tue, 21 Feb 2017 17:23:08 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2153</guid>
			<description><![CDATA[" শেষ বয়সে "<br />
.<br />
লেখাঃ এন্তাজুল হক (রনি)<br />
...<br />
....<br />
"" কি ব্যাপার চলে আসলে যে ?<br />
.<br />
আমি মুখে কিছুই বললাম না শুধু এক<br />
নজরে চেয়ে আছি নুযাইফার<br />
দিকে ! এই মুখ টার দিকে তাকালে<br />
আমি সব ভুলে যাই।কোথায় যেন<br />
একটা চেহারাই মিল খুজে পাই।<br />
.<br />
আমার তাকানো দেখে নুযাইফা<br />
আমার থেকে চোখ নামিয়ে<br />
নিচের দিকে তাকিয়ে রহিলো।এই<br />
মেয়েটা এমনই আমি যখন নুযাইফার<br />
দিকে তাকায় তখন মেয়েটা চোখ<br />
নামিয়ে ফেলে।নুযাইফাকে<br />
মেয়ে বললে চলে না ।এক রকম<br />
বৃদ্ধাই বলাই চলে। বয়সতো আর কম<br />
হয়নি,, আমার থেকে দশ বছরের<br />
ছোট হবে।আমার বয়স যদি সত্তর<br />
হয় তা হলে নুযাইফার বয়স হবে ষাট<br />
বছর """।<br />
.<br />
কয়দিন আগে আমার ছেলেরা<br />
আমাকে নিতে বৃদ্ধাআশ্রমে<br />
এসেছিল।আমি যেতে চাইলাম না তবু<br />
ও ছেলেদের জোড়াজুড়িতে<br />
আমাকে যেতে হলো।যাওয়ার<br />
আগে নুযাইফার সাথে দেখা করলাম,<br />
বললাম চলে যাচ্ছি সময় হলে<br />
আপনাকে দেখে যাবো।দেখলাম<br />
নুযাইফার চোখে পানি চিকচিক<br />
করছে,<br />
এতোদিন ধরে ওদের সাথে ছিলাম<br />
তাই হয়তো একটু মন কাঁদছে মনে<br />
হয়।<br />
.<br />
বাড়িতে গিয়ে প্রথম দিন ভালো<br />
কাটলো, সবাই ভালো ব্যবহার<br />
করলে ও পরের দিন থেকে আবার<br />
আগের মতো সবাই খারাপ আচারন<br />
শুরু করছে।নুযাইফার কথা বার বার<br />
মনেপড়তেছে শেষ বয়সে<br />
এসে<br />
বন্ধুর মতো ছিলাম, জানিনা নুযাইফার<br />
এখন কিআবস্তা।এখানে ছেলে আর<br />
ছেলের বউ এর আচারণ সুবিদা মনে<br />
হচ্ছে না।<br />
তাই চলে গেলাম আবার<br />
বৃদ্ধাআশ্রমে।বৃদ্ধাআশ্রমে এসে<br />
নুযাইফারর সাথে দেখা হাওয়ার সাথে<br />
সাথে উপরে কথাটাই বললো..।<br />
.<br />
আমার চুপ থাকা দেখে নুযাইফা আবার<br />
বললো,,?<br />
.<br />
" কি বলবেনা কি কারণে চলে এলে<br />
আবার"<br />
.<br />
নুযাইফারর সাথে আমার পরিচয় হয়<br />
বৃদ্ধাআশ্রমে।আমি আর আমার সহ<br />
পাঠিরা মিলে গল্প করতেছি<br />
বৃদ্ধাআশ্রমে।দেখলাম একটা পিকঅাপ<br />
এসেছে একটা বৃদ্ধা মহিলা সহ তখন<br />
আজাদ ভাই ডাক দিল বললো,,<br />
রনি সাহেব তোমরা এদিকে একটু<br />
আসবে কিছু মালপত্র ধরতে হবে।<br />
যখন মালপত্র নামাতে লাগলাম তখন<br />
একটা মহিলা এসে বললো আমি ও<br />
আপনাদের সাহায্য করি,,আমরা বললাম<br />
না,,আমরাই পারবো।<br />
.<br />
মালপত্র নামানো শেষে আমার<br />
কাছে এসে বললো আমার নাম<br />
নুযাইফা, আজ থেকে আমি ও<br />
থাকবো আপনাদের সাথে।আমি কিছুই<br />
বললাম না মনে মনে ভাবি মেয়েটা<br />
একদম রিমার মতো।রিমা হলো আমার<br />
স্ত্রী।মারা গেল প্রায় পাঁচ বছর<br />
হবে।আমার আবার একটা সমস্যা<br />
আছে কেউ আমাকে প্রশ্ন<br />
করলে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে<br />
তারপর প্রশ্নটার উওর দিয়। নুযাইফা<br />
বললো আপনি কিছু বলছেন না<br />
কেন,,?আমি বললাম আমি রনি মাহমুদ<br />
এখানে আছি প্রায় চার বছর হলো।<br />
--নুযাইফা বললো আপনার আর কেউ<br />
নেই,,,?<br />
--আছে ছেলে মেয়ে সবই<br />
আছে।<br />
--- আপনার স্ত্রী আছে ?<br />
--ছিল এখন বেছে নেই মারা<br />
গেছে।<br />
.<br />
আমার স্ত্রী রিমা মারা যাওয়ার পর আমি<br />
একেবারে ভেঙ্গে পড়েছি।কয়<br />
এক মাস ভালো কাটলে ও পরের<br />
থেকে ছেলের আচারণ<br />
ছেলের বউ এর আচারণ পাল্টে<br />
যাচ্ছে. দিন দিন আমি যেন তাদের<br />
বোঝা হয়ে যাচ্ছি।তার কয়দিন পরে<br />
ছেলে আর মেয়েদের<br />
ডেকে জায়গা সম্পদ টাকা পয়সা সব<br />
সমান ভাবে ভাগ করে দিয়ে আমি<br />
বৃদ্ধাআশ্রমে চলে আসি।।<br />
কথা বলার এক পর্যায়ে জানতে<br />
পারলাম নুযাইফার ও একিই সমস্যা।নুযাইফার<br />
স্বামী মারা যাওয়ার পর সমস্ত টাকা<br />
পয়সা ছেলে মেয়েদের দিয়ে<br />
এই<br />
বৃদ্ধাআশ্রমে চলে আসে, একটু<br />
সুখ শান্তিতে থাকার জন্য।তখন<br />
থেকেই নুযাইফার সাথে<br />
পথ চলা, আমরা দুইজন খুব ভালো বন্ধু<br />
হয়ে গেলাম,,আসলে নুযাইফা<br />
চেহারাই সাথে রিমার চেহারার সাথে<br />
কিছুটা মিল আছে...।<br />
"নুযাইফার কথায় বাস্তবে ফিরলাম।<br />
"কি হলো কোথায় হারিয়ে<br />
গেলে।<br />
.<br />
এই মেয়েটা একদম রিমার মতো।<br />
যে কোনো কিছু প্রশ্ন করলে<br />
উওর দেওয়া ছাড়া আর থামেই না।আমি<br />
বললাম এমনি চলে আসলাম।এমনি নাকি<br />
অন্য কোনো কারণ আছে।।<br />
এই মেয়েটা একদম রিমার মতো<br />
ফাজিল।আমি বললাম কারণতো একটাই<br />
আছে।নুযাইফা দিকে তাকিয়ে বললাম<br />
আমার এই বান্ধবী কে ছাড়া থাকতে<br />
পারছি না।এ কি বুড়া বয়সে আমার<br />
প্রেমে পড়লে নাকি।পড়লে ও<br />
পড়তে পারি তাতে ক্ষতি কি।এইটা বলার<br />
সাথে সাথে নুযাইফা আমাকে জড়িয়ে<br />
ধরলো।<br />
.<br />
এই নুযাইফা সাবাই দেখছেতো<br />
দেখলে দেখুক। এই বুড়া বয়সে<br />
যতদিন বেচে থাকি ততদিন তোমার<br />
সঙ্গেই কাটাবো।<br />
আমার কেমন জানি লাগে শেষ<br />
বয়সে এসে আমি আবার প্রেমে<br />
পড়লাম। ভাবতেই আমার অবাক লাগে।<br />
যাক অন্তত বুড়া বয়সে একজন সঙ্গি<br />
পেলাম।।<br />
...<br />
...সমাপ্ত....]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[" শেষ বয়সে "<br />
.<br />
লেখাঃ এন্তাজুল হক (রনি)<br />
...<br />
....<br />
"" কি ব্যাপার চলে আসলে যে ?<br />
.<br />
আমি মুখে কিছুই বললাম না শুধু এক<br />
নজরে চেয়ে আছি নুযাইফার<br />
দিকে ! এই মুখ টার দিকে তাকালে<br />
আমি সব ভুলে যাই।কোথায় যেন<br />
একটা চেহারাই মিল খুজে পাই।<br />
.<br />
আমার তাকানো দেখে নুযাইফা<br />
আমার থেকে চোখ নামিয়ে<br />
নিচের দিকে তাকিয়ে রহিলো।এই<br />
মেয়েটা এমনই আমি যখন নুযাইফার<br />
দিকে তাকায় তখন মেয়েটা চোখ<br />
নামিয়ে ফেলে।নুযাইফাকে<br />
মেয়ে বললে চলে না ।এক রকম<br />
বৃদ্ধাই বলাই চলে। বয়সতো আর কম<br />
হয়নি,, আমার থেকে দশ বছরের<br />
ছোট হবে।আমার বয়স যদি সত্তর<br />
হয় তা হলে নুযাইফার বয়স হবে ষাট<br />
বছর """।<br />
.<br />
কয়দিন আগে আমার ছেলেরা<br />
আমাকে নিতে বৃদ্ধাআশ্রমে<br />
এসেছিল।আমি যেতে চাইলাম না তবু<br />
ও ছেলেদের জোড়াজুড়িতে<br />
আমাকে যেতে হলো।যাওয়ার<br />
আগে নুযাইফার সাথে দেখা করলাম,<br />
বললাম চলে যাচ্ছি সময় হলে<br />
আপনাকে দেখে যাবো।দেখলাম<br />
নুযাইফার চোখে পানি চিকচিক<br />
করছে,<br />
এতোদিন ধরে ওদের সাথে ছিলাম<br />
তাই হয়তো একটু মন কাঁদছে মনে<br />
হয়।<br />
.<br />
বাড়িতে গিয়ে প্রথম দিন ভালো<br />
কাটলো, সবাই ভালো ব্যবহার<br />
করলে ও পরের দিন থেকে আবার<br />
আগের মতো সবাই খারাপ আচারন<br />
শুরু করছে।নুযাইফার কথা বার বার<br />
মনেপড়তেছে শেষ বয়সে<br />
এসে<br />
বন্ধুর মতো ছিলাম, জানিনা নুযাইফার<br />
এখন কিআবস্তা।এখানে ছেলে আর<br />
ছেলের বউ এর আচারণ সুবিদা মনে<br />
হচ্ছে না।<br />
তাই চলে গেলাম আবার<br />
বৃদ্ধাআশ্রমে।বৃদ্ধাআশ্রমে এসে<br />
নুযাইফারর সাথে দেখা হাওয়ার সাথে<br />
সাথে উপরে কথাটাই বললো..।<br />
.<br />
আমার চুপ থাকা দেখে নুযাইফা আবার<br />
বললো,,?<br />
.<br />
" কি বলবেনা কি কারণে চলে এলে<br />
আবার"<br />
.<br />
নুযাইফারর সাথে আমার পরিচয় হয়<br />
বৃদ্ধাআশ্রমে।আমি আর আমার সহ<br />
পাঠিরা মিলে গল্প করতেছি<br />
বৃদ্ধাআশ্রমে।দেখলাম একটা পিকঅাপ<br />
এসেছে একটা বৃদ্ধা মহিলা সহ তখন<br />
আজাদ ভাই ডাক দিল বললো,,<br />
রনি সাহেব তোমরা এদিকে একটু<br />
আসবে কিছু মালপত্র ধরতে হবে।<br />
যখন মালপত্র নামাতে লাগলাম তখন<br />
একটা মহিলা এসে বললো আমি ও<br />
আপনাদের সাহায্য করি,,আমরা বললাম<br />
না,,আমরাই পারবো।<br />
.<br />
মালপত্র নামানো শেষে আমার<br />
কাছে এসে বললো আমার নাম<br />
নুযাইফা, আজ থেকে আমি ও<br />
থাকবো আপনাদের সাথে।আমি কিছুই<br />
বললাম না মনে মনে ভাবি মেয়েটা<br />
একদম রিমার মতো।রিমা হলো আমার<br />
স্ত্রী।মারা গেল প্রায় পাঁচ বছর<br />
হবে।আমার আবার একটা সমস্যা<br />
আছে কেউ আমাকে প্রশ্ন<br />
করলে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে<br />
তারপর প্রশ্নটার উওর দিয়। নুযাইফা<br />
বললো আপনি কিছু বলছেন না<br />
কেন,,?আমি বললাম আমি রনি মাহমুদ<br />
এখানে আছি প্রায় চার বছর হলো।<br />
--নুযাইফা বললো আপনার আর কেউ<br />
নেই,,,?<br />
--আছে ছেলে মেয়ে সবই<br />
আছে।<br />
--- আপনার স্ত্রী আছে ?<br />
--ছিল এখন বেছে নেই মারা<br />
গেছে।<br />
.<br />
আমার স্ত্রী রিমা মারা যাওয়ার পর আমি<br />
একেবারে ভেঙ্গে পড়েছি।কয়<br />
এক মাস ভালো কাটলে ও পরের<br />
থেকে ছেলের আচারণ<br />
ছেলের বউ এর আচারণ পাল্টে<br />
যাচ্ছে. দিন দিন আমি যেন তাদের<br />
বোঝা হয়ে যাচ্ছি।তার কয়দিন পরে<br />
ছেলে আর মেয়েদের<br />
ডেকে জায়গা সম্পদ টাকা পয়সা সব<br />
সমান ভাবে ভাগ করে দিয়ে আমি<br />
বৃদ্ধাআশ্রমে চলে আসি।।<br />
কথা বলার এক পর্যায়ে জানতে<br />
পারলাম নুযাইফার ও একিই সমস্যা।নুযাইফার<br />
স্বামী মারা যাওয়ার পর সমস্ত টাকা<br />
পয়সা ছেলে মেয়েদের দিয়ে<br />
এই<br />
বৃদ্ধাআশ্রমে চলে আসে, একটু<br />
সুখ শান্তিতে থাকার জন্য।তখন<br />
থেকেই নুযাইফার সাথে<br />
পথ চলা, আমরা দুইজন খুব ভালো বন্ধু<br />
হয়ে গেলাম,,আসলে নুযাইফা<br />
চেহারাই সাথে রিমার চেহারার সাথে<br />
কিছুটা মিল আছে...।<br />
"নুযাইফার কথায় বাস্তবে ফিরলাম।<br />
"কি হলো কোথায় হারিয়ে<br />
গেলে।<br />
.<br />
এই মেয়েটা একদম রিমার মতো।<br />
যে কোনো কিছু প্রশ্ন করলে<br />
উওর দেওয়া ছাড়া আর থামেই না।আমি<br />
বললাম এমনি চলে আসলাম।এমনি নাকি<br />
অন্য কোনো কারণ আছে।।<br />
এই মেয়েটা একদম রিমার মতো<br />
ফাজিল।আমি বললাম কারণতো একটাই<br />
আছে।নুযাইফা দিকে তাকিয়ে বললাম<br />
আমার এই বান্ধবী কে ছাড়া থাকতে<br />
পারছি না।এ কি বুড়া বয়সে আমার<br />
প্রেমে পড়লে নাকি।পড়লে ও<br />
পড়তে পারি তাতে ক্ষতি কি।এইটা বলার<br />
সাথে সাথে নুযাইফা আমাকে জড়িয়ে<br />
ধরলো।<br />
.<br />
এই নুযাইফা সাবাই দেখছেতো<br />
দেখলে দেখুক। এই বুড়া বয়সে<br />
যতদিন বেচে থাকি ততদিন তোমার<br />
সঙ্গেই কাটাবো।<br />
আমার কেমন জানি লাগে শেষ<br />
বয়সে এসে আমি আবার প্রেমে<br />
পড়লাম। ভাবতেই আমার অবাক লাগে।<br />
যাক অন্তত বুড়া বয়সে একজন সঙ্গি<br />
পেলাম।।<br />
...<br />
...সমাপ্ত....]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[#ভাষা_দিবসের_গল্প]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2148</link>
			<pubDate>Tue, 21 Feb 2017 17:20:10 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2148</guid>
			<description><![CDATA[#ভাষা_দিবসের_গল্প<br />
=================================<br />
বায়ান্নের রবি<br />
মুড়ি......মুড়ি......<br />
ঝাল চানাচুর.....চানাচুর বলে ক্যাম্পাস মাতিয়ে রাখে ছেলেটা,ভারি মিষ্টি দেখতে।<br />
যখন সামনে দাড়িয়ে দাদা বলে ডাক দেয়, তখন শত অনিচ্ছাও মুড়ি খাওয়া আটকাতে পারে না।<br />
ওর নাম রবি।।ক্যাম্পাসে প্রথম যেদিন এসেছি সেদিন অবধি দেখছি তবে আরো ছোট ছিল তখন। মায়াবী আর হাসিমাখা মুখ দিয়ে পুরো ক্যাম্পাসের প্রিয়মুখ সে। বয়সটা আনুমানিক চোদ্দ পনের হবে এখন, হালকা কালো গোফও দেখা যায়। রবির তেমন কেউ নেই দুনিয়ায়!<br />
জিজ্ঞেস করলে বলে "রেলস্টেশন থেকে এক দাদাভাই আমাকে এখানে এনেছে।<br />
পরিচয় বলতে নিজের নাম ছাড়া কিছুই নেই!<br />
রবি এ ক্যাম্পাসেরই একজন; ঘুমোয় হলের এক বাবুর্চি চাচার সাথে।<br />
কদিন ধরে রবিকে কম দেখা যায়। সন্ধ্যায় দেখা হতেই বললো দাদা তুমি উর্দু ভাষা জানো?<br />
অবাক চোখে রবির দিকে তাকিয়ে!<br />
জবাব না দিয়ে নিজের রুমে ফিরে গেলাম।ঘুম আসছে না রবির প্রশ্নটা দারুন ভাবাচ্ছে আমায়।<br />
হল জুরে চলছে ২১ তারিখের প্রস্তুতি। সবারই এককথা বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা চাই, তাই ২১ তারিখের ধর্মঘট সফল করতে হবে।<br />
২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শুনছি ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে ; সব ধরনের সভা,মিছিল, শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সন্ধ্যায় হলে ঢুকতেই টান টান উত্তেজনা। <br />
সকাল হতেই বেরিয়ে পরলাম মিছিলে, সবাই সমস্বরে মিছিল করছে "রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই"।একটা পরিচিত কিশোর কন্ঠস্বর ভেসে আসছে বাম দিক থেকে তাকিয়ে আমি অবাক! রবি একটা ফেস্টুন হাতে লাফাচ্ছে আর মিছিল করছে।<br />
কিছুদূর এগোতেই আনন্দটা নিভে গেল!<br />
পুলিশ ধর্মঘট ঠেকাতে ঢাকা মেডিকেলের সামনে মিছিলে বেপরোয়া গুলি চালায়; একটা গুলি রবিকে স্তিমিত করে দিল!<br />
শহীদ হয়েছে অনেকেই,<br />
একটা রবিও উবে গেছে!<br />
তৈরি হয়েছে মিনার, হয়তো মিনারের কোন এক স্তম্ভে হাতছানি দিচ্ছে একটা স্নিগ্ধ রবি।<br />
লেখকঃ মাহমুদুল হাসান<br />
মহত্মা অশ্বিনীকুমার হল, বিএম কলেজ,বরিশাল।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[#ভাষা_দিবসের_গল্প<br />
=================================<br />
বায়ান্নের রবি<br />
মুড়ি......মুড়ি......<br />
ঝাল চানাচুর.....চানাচুর বলে ক্যাম্পাস মাতিয়ে রাখে ছেলেটা,ভারি মিষ্টি দেখতে।<br />
যখন সামনে দাড়িয়ে দাদা বলে ডাক দেয়, তখন শত অনিচ্ছাও মুড়ি খাওয়া আটকাতে পারে না।<br />
ওর নাম রবি।।ক্যাম্পাসে প্রথম যেদিন এসেছি সেদিন অবধি দেখছি তবে আরো ছোট ছিল তখন। মায়াবী আর হাসিমাখা মুখ দিয়ে পুরো ক্যাম্পাসের প্রিয়মুখ সে। বয়সটা আনুমানিক চোদ্দ পনের হবে এখন, হালকা কালো গোফও দেখা যায়। রবির তেমন কেউ নেই দুনিয়ায়!<br />
জিজ্ঞেস করলে বলে "রেলস্টেশন থেকে এক দাদাভাই আমাকে এখানে এনেছে।<br />
পরিচয় বলতে নিজের নাম ছাড়া কিছুই নেই!<br />
রবি এ ক্যাম্পাসেরই একজন; ঘুমোয় হলের এক বাবুর্চি চাচার সাথে।<br />
কদিন ধরে রবিকে কম দেখা যায়। সন্ধ্যায় দেখা হতেই বললো দাদা তুমি উর্দু ভাষা জানো?<br />
অবাক চোখে রবির দিকে তাকিয়ে!<br />
জবাব না দিয়ে নিজের রুমে ফিরে গেলাম।ঘুম আসছে না রবির প্রশ্নটা দারুন ভাবাচ্ছে আমায়।<br />
হল জুরে চলছে ২১ তারিখের প্রস্তুতি। সবারই এককথা বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা চাই, তাই ২১ তারিখের ধর্মঘট সফল করতে হবে।<br />
২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শুনছি ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে ; সব ধরনের সভা,মিছিল, শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সন্ধ্যায় হলে ঢুকতেই টান টান উত্তেজনা। <br />
সকাল হতেই বেরিয়ে পরলাম মিছিলে, সবাই সমস্বরে মিছিল করছে "রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই"।একটা পরিচিত কিশোর কন্ঠস্বর ভেসে আসছে বাম দিক থেকে তাকিয়ে আমি অবাক! রবি একটা ফেস্টুন হাতে লাফাচ্ছে আর মিছিল করছে।<br />
কিছুদূর এগোতেই আনন্দটা নিভে গেল!<br />
পুলিশ ধর্মঘট ঠেকাতে ঢাকা মেডিকেলের সামনে মিছিলে বেপরোয়া গুলি চালায়; একটা গুলি রবিকে স্তিমিত করে দিল!<br />
শহীদ হয়েছে অনেকেই,<br />
একটা রবিও উবে গেছে!<br />
তৈরি হয়েছে মিনার, হয়তো মিনারের কোন এক স্তম্ভে হাতছানি দিচ্ছে একটা স্নিগ্ধ রবি।<br />
লেখকঃ মাহমুদুল হাসান<br />
মহত্মা অশ্বিনীকুমার হল, বিএম কলেজ,বরিশাল।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[অসুস্থ মেয়ের প্রতি ভালোবাসায় জরিয়ে পড়লো ছেলেটি অতঃপর]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2091</link>
			<pubDate>Tue, 21 Feb 2017 13:57:08 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2091</guid>
			<description><![CDATA[আজ রাতে যে মেয়েটি মারা<br />
যাবে তার<br />
পছন্দের ফুল জবা। তার ক্যাবিনে<br />
অনেক<br />
গুলো জবা ফুল সাজিয়ে রাখা<br />
হয়েছে।আমি<br />
রনি ।কুমিল্লা মেডিকেল<br />
কলেজের<br />
সামনে আমার বন্ধু জনির একটা<br />
ফার্মেসি<br />
আছে ।আমি প্রায়ই ওখানে গিয়ে<br />
আড্ডা<br />
মারতাম ।মেয়েটির সাথে আমার<br />
পরিচয় ছয়<br />
মাস আগে । ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে<br />
মেয়েটির । ওর এক আত্মীয় এসেছিলো<br />
ওষুধ<br />
নিতে । কথায় কথায় মেয়েটিরসম্পরকে<br />
সব শুনলাম । মেয়েটির নাম জান্নাত । ছয়<br />
মাস<br />
আগে বিয়ে ঠিকহয়েছিলো এক ধনী<br />
ব্যাবসায়ীর সাথে কিন্তু অসুস্থ হওয়ার<br />
কারণে বিয়েটা ভেঙে যায় ।যাই<br />
হোক<br />
আমি মেয়েটাকে দেখতে<br />
মেডিকেলের<br />
ভিতর গেলাম ।আহ্...! এতো সুন্দর<br />
মেয়েটা<br />
মারা যাবে ভাবতেই পারছি না ।<br />
মুখের<br />
দিকে তাকালে চোখ ফেরানো যায়<br />
না ।<br />
ওরা এতো মায়াবি মুখ কেমন যানি<br />
মলিন<br />
হয়ে আছে । জান্নাতের বাবা<br />
মায়ের<br />
সাথে কথা বললাম । ভদ্রলোক সরকারি<br />
চাকরি করেন । একটাই মেয়ে ওনার খুব<br />
আদরের ।কিছুক্ষণ পরে ডাক্তার এসে<br />
বলল<br />
জান্নাতকে রক্ত দিতে হবে ।ওর<br />
রক্তের<br />
গ্রুপের সাথে আমার মিল আছে তাই<br />
কোনকিছু না ভেবেই বললাম আমি<br />
রক্ত<br />
দিবো ।এভাবেই আমি প্রতিদিন<br />
ওদের<br />
খোজ খবর নিতে শুরু করলাম । আমাদের<br />
মধ্যে একটা ভালো সম্পর্কও তৈরি<br />
হলো ।<br />
একটা মৃত্যপথ যাত্রী মেয়ের সাথে<br />
এভাবে<br />
সম্পর্কে জরানোটা হয়ত অস্তযাওয়া<br />
সূর্যের<br />
দিকে তাকিয়ে দিনটাকে চাওয়ার<br />
মতন ।<br />
কিন্তু ভালোবাসা তো আর বলে কয়ে<br />
আসেনা..!!!একসময় জান্নাতের<br />
শারীরিক<br />
অবস্হা আরও খারাপ হয়ে গেলো,<br />
চোখের<br />
নিচে কালি জমে গেছে । ডাক্তার<br />
বলেছে<br />
হয়ত আর সপ্তাহ খানেক টিকবে ।আমি<br />
জান্নাত কে ছেরে কোথাও যেতাম<br />
না ।<br />
সারাক্ষণ ওর পাশে থাকতাম ।<br />
সারারাত<br />
না ঘুমিয়ে ওর পাশে বসে থাকতাম ।<br />
মাথায় হাত বুলিয়ে দিতাম, খাইয়ে<br />
দিতাম,<br />
ওর সাথে গল্প বলে সময় কাটাতাম । এই<br />
ছয়মাসে আমার শরীরটা খারাপ<br />
হয়েগেছে<br />
।আজ রাতে জান্নাত মারা যাবে,<br />
আমি<br />
জবা ফুল এনে ওর কেবিনটা সাজিয়ে<br />
দিয়েছি । ।আমাকে সাজাতে<br />
দেখে ও<br />
অস্ফট্ট গলায় বলল,আমাকে আজ বিদায়<br />
দিবেন তাইনা,জানেন এ কয়দিনে<br />
আপনাকে<br />
ভালোবেসে ফেলেছি । আমার খুব<br />
বাচতে<br />
ইচ্ছা করছে ।বুকটা ফেটে যাচ্ছিল<br />
আমার ।<br />
কিন্তু আমি কাঁদিনি ।আমার পাশে<br />
এসে<br />
একটু বসবেন?আপনাকে একটু শেষবারের<br />
মত<br />
দেখবো...আমি বললাম হুম....আমার<br />
হাতটা ও<br />
শক্ত করে ধরে রাখলো আর বলল,<br />
আমাকে<br />
একটু শক্ত করে ধরে রাখুন খুব কষ্ট হচ্ছে<br />
আমার ।আমি আর সহ্য করতে পারলাম<br />
না,<br />
ওকে বুকের মধ্যে জরিয়ে নিয়ে হাউ<br />
মাউ<br />
করে বাচ্চাদের মতো কেঁদে<br />
ফেললাম।আজ<br />
সৃষ্টি কর্তার কাছে কাকুতি মিনতি<br />
করে<br />
বলতে ইচ্ছে হচ্ছে ওকে সুস্হ করে দাও ।<br />
সারারাত আমার বুকের মধ্যেই<br />
জরিয়ে<br />
রেখেছিলাম । মাঝে মাঝে ওর<br />
নাকে হাত<br />
দিয়ে পরীক্ষা করে দেখছিলাম<br />
নিশ্বাস<br />
টা চলছে কিনা । আমি ওকে<br />
জাগিয়ে<br />
রাখার চেষ্টা করেছি ।ঘুমিয়ে<br />
গেলে যদি<br />
না জাগে ।রাত চারটা বাজে... হঠাৎ<br />
ও<br />
প্রলপবলতে থাকে, আমাকে বলে<br />
জানালারকাছে কেউ একজন এসেছে<br />
।<br />
আমিবললাম ,কই কেউ নেইতো ।ও বলল ,<br />
হা<br />
একজন এসেছে । হয়ত কেউএসেছিলো,<br />
হয়ত<br />
আজরাইল । আমাকেএকটু পানি<br />
খাওয়াবেন ।<br />
আমি ওকে পানি খাওয়ানোর আগেই<br />
ওচিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে গেলো ।কলমের<br />
কালি<br />
দিয়েই সাদা কাগজেযে<br />
ভালোবাসার<br />
গল্পটা লিখতে হবে,এমন কোন কথা<br />
নেই<br />
...কোন কোন ভালোবাসার গল্প<br />
চোখেরজলের স্বচ্ছ রঙ দিয়ে লেখা<br />
থাকেঘুমানোর বালিশটার গায়ে<br />
...ঠোঁটের<br />
কোণে মুচকি হাসির ফাঁকে কিংবা<br />
দুহাত<br />
তুলে কাউকে প্রতিনিয়ত চাইতে<br />
থাকার<br />
প্রার্থনায় অনেক গল্প লুকানো<br />
থাকে,,,<br />
.<br />
( গল্পটি কেমন লাগলো কমেন্ট করতে ভুলবেন না<br />
কিন্তু....)]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[আজ রাতে যে মেয়েটি মারা<br />
যাবে তার<br />
পছন্দের ফুল জবা। তার ক্যাবিনে<br />
অনেক<br />
গুলো জবা ফুল সাজিয়ে রাখা<br />
হয়েছে।আমি<br />
রনি ।কুমিল্লা মেডিকেল<br />
কলেজের<br />
সামনে আমার বন্ধু জনির একটা<br />
ফার্মেসি<br />
আছে ।আমি প্রায়ই ওখানে গিয়ে<br />
আড্ডা<br />
মারতাম ।মেয়েটির সাথে আমার<br />
পরিচয় ছয়<br />
মাস আগে । ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে<br />
মেয়েটির । ওর এক আত্মীয় এসেছিলো<br />
ওষুধ<br />
নিতে । কথায় কথায় মেয়েটিরসম্পরকে<br />
সব শুনলাম । মেয়েটির নাম জান্নাত । ছয়<br />
মাস<br />
আগে বিয়ে ঠিকহয়েছিলো এক ধনী<br />
ব্যাবসায়ীর সাথে কিন্তু অসুস্থ হওয়ার<br />
কারণে বিয়েটা ভেঙে যায় ।যাই<br />
হোক<br />
আমি মেয়েটাকে দেখতে<br />
মেডিকেলের<br />
ভিতর গেলাম ।আহ্...! এতো সুন্দর<br />
মেয়েটা<br />
মারা যাবে ভাবতেই পারছি না ।<br />
মুখের<br />
দিকে তাকালে চোখ ফেরানো যায়<br />
না ।<br />
ওরা এতো মায়াবি মুখ কেমন যানি<br />
মলিন<br />
হয়ে আছে । জান্নাতের বাবা<br />
মায়ের<br />
সাথে কথা বললাম । ভদ্রলোক সরকারি<br />
চাকরি করেন । একটাই মেয়ে ওনার খুব<br />
আদরের ।কিছুক্ষণ পরে ডাক্তার এসে<br />
বলল<br />
জান্নাতকে রক্ত দিতে হবে ।ওর<br />
রক্তের<br />
গ্রুপের সাথে আমার মিল আছে তাই<br />
কোনকিছু না ভেবেই বললাম আমি<br />
রক্ত<br />
দিবো ।এভাবেই আমি প্রতিদিন<br />
ওদের<br />
খোজ খবর নিতে শুরু করলাম । আমাদের<br />
মধ্যে একটা ভালো সম্পর্কও তৈরি<br />
হলো ।<br />
একটা মৃত্যপথ যাত্রী মেয়ের সাথে<br />
এভাবে<br />
সম্পর্কে জরানোটা হয়ত অস্তযাওয়া<br />
সূর্যের<br />
দিকে তাকিয়ে দিনটাকে চাওয়ার<br />
মতন ।<br />
কিন্তু ভালোবাসা তো আর বলে কয়ে<br />
আসেনা..!!!একসময় জান্নাতের<br />
শারীরিক<br />
অবস্হা আরও খারাপ হয়ে গেলো,<br />
চোখের<br />
নিচে কালি জমে গেছে । ডাক্তার<br />
বলেছে<br />
হয়ত আর সপ্তাহ খানেক টিকবে ।আমি<br />
জান্নাত কে ছেরে কোথাও যেতাম<br />
না ।<br />
সারাক্ষণ ওর পাশে থাকতাম ।<br />
সারারাত<br />
না ঘুমিয়ে ওর পাশে বসে থাকতাম ।<br />
মাথায় হাত বুলিয়ে দিতাম, খাইয়ে<br />
দিতাম,<br />
ওর সাথে গল্প বলে সময় কাটাতাম । এই<br />
ছয়মাসে আমার শরীরটা খারাপ<br />
হয়েগেছে<br />
।আজ রাতে জান্নাত মারা যাবে,<br />
আমি<br />
জবা ফুল এনে ওর কেবিনটা সাজিয়ে<br />
দিয়েছি । ।আমাকে সাজাতে<br />
দেখে ও<br />
অস্ফট্ট গলায় বলল,আমাকে আজ বিদায়<br />
দিবেন তাইনা,জানেন এ কয়দিনে<br />
আপনাকে<br />
ভালোবেসে ফেলেছি । আমার খুব<br />
বাচতে<br />
ইচ্ছা করছে ।বুকটা ফেটে যাচ্ছিল<br />
আমার ।<br />
কিন্তু আমি কাঁদিনি ।আমার পাশে<br />
এসে<br />
একটু বসবেন?আপনাকে একটু শেষবারের<br />
মত<br />
দেখবো...আমি বললাম হুম....আমার<br />
হাতটা ও<br />
শক্ত করে ধরে রাখলো আর বলল,<br />
আমাকে<br />
একটু শক্ত করে ধরে রাখুন খুব কষ্ট হচ্ছে<br />
আমার ।আমি আর সহ্য করতে পারলাম<br />
না,<br />
ওকে বুকের মধ্যে জরিয়ে নিয়ে হাউ<br />
মাউ<br />
করে বাচ্চাদের মতো কেঁদে<br />
ফেললাম।আজ<br />
সৃষ্টি কর্তার কাছে কাকুতি মিনতি<br />
করে<br />
বলতে ইচ্ছে হচ্ছে ওকে সুস্হ করে দাও ।<br />
সারারাত আমার বুকের মধ্যেই<br />
জরিয়ে<br />
রেখেছিলাম । মাঝে মাঝে ওর<br />
নাকে হাত<br />
দিয়ে পরীক্ষা করে দেখছিলাম<br />
নিশ্বাস<br />
টা চলছে কিনা । আমি ওকে<br />
জাগিয়ে<br />
রাখার চেষ্টা করেছি ।ঘুমিয়ে<br />
গেলে যদি<br />
না জাগে ।রাত চারটা বাজে... হঠাৎ<br />
ও<br />
প্রলপবলতে থাকে, আমাকে বলে<br />
জানালারকাছে কেউ একজন এসেছে<br />
।<br />
আমিবললাম ,কই কেউ নেইতো ।ও বলল ,<br />
হা<br />
একজন এসেছে । হয়ত কেউএসেছিলো,<br />
হয়ত<br />
আজরাইল । আমাকেএকটু পানি<br />
খাওয়াবেন ।<br />
আমি ওকে পানি খাওয়ানোর আগেই<br />
ওচিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে গেলো ।কলমের<br />
কালি<br />
দিয়েই সাদা কাগজেযে<br />
ভালোবাসার<br />
গল্পটা লিখতে হবে,এমন কোন কথা<br />
নেই<br />
...কোন কোন ভালোবাসার গল্প<br />
চোখেরজলের স্বচ্ছ রঙ দিয়ে লেখা<br />
থাকেঘুমানোর বালিশটার গায়ে<br />
...ঠোঁটের<br />
কোণে মুচকি হাসির ফাঁকে কিংবা<br />
দুহাত<br />
তুলে কাউকে প্রতিনিয়ত চাইতে<br />
থাকার<br />
প্রার্থনায় অনেক গল্প লুকানো<br />
থাকে,,,<br />
.<br />
( গল্পটি কেমন লাগলো কমেন্ট করতে ভুলবেন না<br />
কিন্তু....)]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[এক মিনিটের গল্প - শেষ অশ্রু]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=220</link>
			<pubDate>Tue, 10 Jan 2017 08:41:04 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=220</guid>
			<description><![CDATA[বাইরে প্রচন্ড হিমশীতল ঠান্ডা। এমন ঠাণ্ডা আগে আর কখনো পড়েনি। অফিসে প্রবেশের মুখে হতদরিদ্র একটি মেয়ে ফুলের তোড়া বিক্রী করে। বয়স দশ অথবা এগারো।মেয়েটির সাথে আরো কয়েকজন। কিন্তু নাম না জানা এ মেয়েটি একেবারে নাছোড়বান্দা।প্রতিদিন আমার গাড়ী পর্যন্ত আসে।কাকুতি মিনতি করে, একসময় ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায়। আমি দেখেও না দেখার ভান করি।মেয়েটির শত অনুনয় আমার হৃদয় স্পর্শ করেনা।<br />
<br />
<br />
<br />
একদিন প্রচন্ড জ্যামে আটকে আছি। আজ নিশ্চিত অফিস দেরি হয়ে যাবে। কোনোরকমে গাড়ি পার্ক করে, দ্রুত গতিতে হেঁটে আসছি। দেখি সেই নাছোড়বান্দা ফুলওয়ালা মেয়েটি।<br />
<br />
<br />
<br />
স্যার একটা ফুল নেন। একটা ফুল নেন না গো স্যার। আপনার পায়ে ধরি। বলতে বলতে দেখি, মেয়েটি আমার পলিশ করা জুতোয় নখের আঁচড় লাগিয়ে দিয়েছে।আমার ইচ্ছে করে, মেয়েটির গালে প্রচন্ড জোরে একটা চড় বসিয়ে দেই। এই সব ছোটলোক ইতর শ্রেণীর মানুষের কাছে যে পরিচ্ছন্নতা আর সময়ের কোনো মূল্য নেই।<br />
<br />
<br />
<br />
প্রায় এক মাসের ছুটি কাটাতে আমি আটলান্টা আসি। নির্ধূম আনন্দে কীভাবে যে একমাস কেটে গেলো টেরই পেলাম না।স্মৃতির আঁজলায় সুখ বন্দী করে ফিরে আসি সেই পুরনো অফিসে। দেখি, সেই ছেলেমেয়েরা আজো ফুলের পসরা নিয়ে বসে আছে। আমি ওদের সামনে দিয়ে হেঁটে যাই।<br />
<br />
<br />
<br />
কয়েকজন খুব অনুনয় করে- ফুল কিনবেন স্যার? একেবারে তাজা লাল, সুগন্ধী ফুল।<br />
<br />
<br />
<br />
কিন্তু আগের সেই মেয়েটির যেন আমার প্রতি অথবা ওর ফুল বিক্রির প্রতি আর তেমন কোনো আগ্রহ নেই।কেমন যেন অবহেলা। পুরো সপ্তাহটাই এভাবে গেলো। ভাবলাম ,হয়তোবা মেয়েটির পারসোনালিটি গ্রু করেছে। আমি নিজের মতো কাজে ডুবে যাই।<br />
<br />
<br />
<br />
কিছুদিন পর আমার কৌতূহল হলো । কথা বলার লোভ সামলাতে পারলামনা। কাছে গিয়ে বললাম-আচ্ছা বলতো ,তুমি আর আমার কাছে আগের মতো ফুল বিক্রির চেষ্টা করোনা। কী ব্যাপার?<br />
<br />
<br />
<br />
মেয়েটি কেমন যেন উদাস। কী এক নিদারুণ অবহেলায় হেঁয়ালী দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে সাজানো ফুলের তোড়াগুলোর দিকে। আমার পাণে মুখ তোলে থাকালে যেন ওর ধ্যানের ব্যাঘাত ঘটবে।<br />
<br />
<br />
<br />
আমার আগ্রহ এতে আরো বাড়ে।<br />
<br />
<br />
<br />
অনেক পীড়াপিড়িতে বলে, গত ছ মাস যাবত আমার মা অসুস্থ। হাসপাতালে শুয়ে আছে। বাবা অনেক আগেই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। ভাই আর আমি শেষরাতে ওঠে ফুলের মালা আর ফুলের তোড়া বানাই। আর আমি তা বিক্রি করে মায়ের চিকিৎসার টাকা জমাই। আমাদের একসময় বড় বেশী টাকার দরকার ছিলো স্যার।<br />
<br />
<br />
<br />
আমি বললাম , ছিলো মানে কি ?এখন বুঝি আর টাকার দরকার নেই।<br />
<br />
মেয়েটি এবার ডুকরে কেঁদে ওঠে। কান্না জড়ানো কন্ঠে বলে -আছে। তবে এতো বেশীর আর দরকার নেই।<br />
<br />
<br />
<br />
আমার মা -গত সপ্তাহে আমাকে আর আমার ভাইকে ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে গিয়ে উনি নিজেই এখন এক অদেখা বাগানের ফুল হয়ে গেছেন। এখন চাইলে আমি আপনাকে একবারে মুফতই ফুলের তোড়া দিতে পারি। কোনো টাকা দিতে হবেনা। কেউ নিলে ভালো,আর যদি সব বিক্রি নাও হয়,তাও ভালো। আমি বাড়ি ফিরার পথে বিক্রি না হওয়া ফুলগুলো প্রতিদিন আমার মায়ের কবরে রেখে দিয়ে শূণ্য ঘরে চলে যাই।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[বাইরে প্রচন্ড হিমশীতল ঠান্ডা। এমন ঠাণ্ডা আগে আর কখনো পড়েনি। অফিসে প্রবেশের মুখে হতদরিদ্র একটি মেয়ে ফুলের তোড়া বিক্রী করে। বয়স দশ অথবা এগারো।মেয়েটির সাথে আরো কয়েকজন। কিন্তু নাম না জানা এ মেয়েটি একেবারে নাছোড়বান্দা।প্রতিদিন আমার গাড়ী পর্যন্ত আসে।কাকুতি মিনতি করে, একসময় ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায়। আমি দেখেও না দেখার ভান করি।মেয়েটির শত অনুনয় আমার হৃদয় স্পর্শ করেনা।<br />
<br />
<br />
<br />
একদিন প্রচন্ড জ্যামে আটকে আছি। আজ নিশ্চিত অফিস দেরি হয়ে যাবে। কোনোরকমে গাড়ি পার্ক করে, দ্রুত গতিতে হেঁটে আসছি। দেখি সেই নাছোড়বান্দা ফুলওয়ালা মেয়েটি।<br />
<br />
<br />
<br />
স্যার একটা ফুল নেন। একটা ফুল নেন না গো স্যার। আপনার পায়ে ধরি। বলতে বলতে দেখি, মেয়েটি আমার পলিশ করা জুতোয় নখের আঁচড় লাগিয়ে দিয়েছে।আমার ইচ্ছে করে, মেয়েটির গালে প্রচন্ড জোরে একটা চড় বসিয়ে দেই। এই সব ছোটলোক ইতর শ্রেণীর মানুষের কাছে যে পরিচ্ছন্নতা আর সময়ের কোনো মূল্য নেই।<br />
<br />
<br />
<br />
প্রায় এক মাসের ছুটি কাটাতে আমি আটলান্টা আসি। নির্ধূম আনন্দে কীভাবে যে একমাস কেটে গেলো টেরই পেলাম না।স্মৃতির আঁজলায় সুখ বন্দী করে ফিরে আসি সেই পুরনো অফিসে। দেখি, সেই ছেলেমেয়েরা আজো ফুলের পসরা নিয়ে বসে আছে। আমি ওদের সামনে দিয়ে হেঁটে যাই।<br />
<br />
<br />
<br />
কয়েকজন খুব অনুনয় করে- ফুল কিনবেন স্যার? একেবারে তাজা লাল, সুগন্ধী ফুল।<br />
<br />
<br />
<br />
কিন্তু আগের সেই মেয়েটির যেন আমার প্রতি অথবা ওর ফুল বিক্রির প্রতি আর তেমন কোনো আগ্রহ নেই।কেমন যেন অবহেলা। পুরো সপ্তাহটাই এভাবে গেলো। ভাবলাম ,হয়তোবা মেয়েটির পারসোনালিটি গ্রু করেছে। আমি নিজের মতো কাজে ডুবে যাই।<br />
<br />
<br />
<br />
কিছুদিন পর আমার কৌতূহল হলো । কথা বলার লোভ সামলাতে পারলামনা। কাছে গিয়ে বললাম-আচ্ছা বলতো ,তুমি আর আমার কাছে আগের মতো ফুল বিক্রির চেষ্টা করোনা। কী ব্যাপার?<br />
<br />
<br />
<br />
মেয়েটি কেমন যেন উদাস। কী এক নিদারুণ অবহেলায় হেঁয়ালী দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে সাজানো ফুলের তোড়াগুলোর দিকে। আমার পাণে মুখ তোলে থাকালে যেন ওর ধ্যানের ব্যাঘাত ঘটবে।<br />
<br />
<br />
<br />
আমার আগ্রহ এতে আরো বাড়ে।<br />
<br />
<br />
<br />
অনেক পীড়াপিড়িতে বলে, গত ছ মাস যাবত আমার মা অসুস্থ। হাসপাতালে শুয়ে আছে। বাবা অনেক আগেই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। ভাই আর আমি শেষরাতে ওঠে ফুলের মালা আর ফুলের তোড়া বানাই। আর আমি তা বিক্রি করে মায়ের চিকিৎসার টাকা জমাই। আমাদের একসময় বড় বেশী টাকার দরকার ছিলো স্যার।<br />
<br />
<br />
<br />
আমি বললাম , ছিলো মানে কি ?এখন বুঝি আর টাকার দরকার নেই।<br />
<br />
মেয়েটি এবার ডুকরে কেঁদে ওঠে। কান্না জড়ানো কন্ঠে বলে -আছে। তবে এতো বেশীর আর দরকার নেই।<br />
<br />
<br />
<br />
আমার মা -গত সপ্তাহে আমাকে আর আমার ভাইকে ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে গিয়ে উনি নিজেই এখন এক অদেখা বাগানের ফুল হয়ে গেছেন। এখন চাইলে আমি আপনাকে একবারে মুফতই ফুলের তোড়া দিতে পারি। কোনো টাকা দিতে হবেনা। কেউ নিলে ভালো,আর যদি সব বিক্রি নাও হয়,তাও ভালো। আমি বাড়ি ফিরার পথে বিক্রি না হওয়া ফুলগুলো প্রতিদিন আমার মায়ের কবরে রেখে দিয়ে শূণ্য ঘরে চলে যাই।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[‘একজন খারাপ বাবার চিঠি’]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=219</link>
			<pubDate>Tue, 10 Jan 2017 08:40:43 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=219</guid>
			<description><![CDATA[বাবু,<br />
<br />
তুই হয়তো জানিস না অফিসের হাজার কাজের ফাঁকে একটুখানি অবসর পেলেই আমি তোকে চিঠি লিখতে বসি। কিন্তু কেনো যেনো একটি চিঠিও তোকে দেওয়া হয় না। সব জমা পড়ে থাকে আমার ডায়েরিতে। আমি চাই না তুই আমার ভেতরের আবেগ, অনুভূতিগুলো দেখ। তুই সবসময় আমাকে খুব নিষ্ঠুর ভাবিস, তা আমি জানি। মনে মনে অনেক গালি দিস তোর বাবাকে। কিন্তু তুই হয়তো এটা জানিস না যে তোর এই বাবাটা তোর শত গালি সত্ত্বেও তোকে ঠিক ততটাই ভালোবাসে ঠিক যতটা ভালোবেসেছিলো তোর জন্মের সময়।<br />
<br />
<br />
<br />
তুই জানিস, তোকে যখন আমি প্রথম কোলে নিয়েছিলাম তখন তোর চেয়ে বেশি আমিই কেঁদেছিলাম। ডক্টররা আমাকে দেখে হাসতে হাসতে বলেছিলেন, বেলাল সাহেব আপনাকে দেখে তো মনে হচ্ছে কিছুক্ষণ আগে আপনারই জন্ম হল। আর কত কাঁদবেন? বেবিটাকেও একটু কাঁদতে দিন। তবুও আমি কেঁদে চলেছি ছোট্ট বাচ্চার মত আর কিছুক্ষণ পরপরই তোর ছোট্ট কপালে চুমু খাচ্ছি। তোকে আমি সবসময় আমার কোলে করে নিয়ে বেড়াতাম, মনে আছে? আর তুই কতবার যে আমার শার্টের বুকপকেট জলভর্তি করেছিস, তা তো গুনেও শেষ করা যাবে না।<br />
<br />
<br />
<br />
শুধু কি তাই? তুই যে কত চঞ্চল ছিলি তা আমি বলে বোঝাতে পারবো না। খালি কোল থেকে নামতে চাইতি। আমি বারণ করতাম।আর তুই হাত পা ছুঁড়ে আমার গালে চড় মারতি। একবার তো আমার চোখে এমন গুতো দিয়েছিলি যে পরে চোখ ব্যান্ডেজ করতে হয়েছিলো।<br />
<br />
<br />
<br />
তুই মনে হয় ভাবতি, তোর বাবাটা খুব খারাপ। কিন্তু তুই কখনো এটা ভাবতি না যে তোকে কোল থেকে নামালে তুই পড়ে যাবি, ব্যথা পাবি। কত শত ভয়ে তোর বাবার মনটা চুপসে যেতো! তাই তো তোর বাবাটা সারাজীবন তোর কাছে খারাপই থেকে গেলো রে!<br />
<br />
<br />
<br />
তোর প্রথম স্কুলে যাওয়ার কথা মনে আছে, বাবু? তুই আমার কোলে উঠে কত প্রশ্ন করেছিলি— ‘বাবা, বাবা, স্যাররা আমাকে মারবে না তো, আমি পড়া পারবো তো?’ আর আমি একটু পর পর তোর গালে চুমু খাচ্ছিলাম আর বলছিলাম আমার বাবুটা সব পারবে।<br />
<br />
<br />
<br />
তোর বয়স তখন তখন সাত বছর। তুই অনেক জেদ ধরলি ফুটবলের জন্য। আমি তো দিবোইনা। তুইও তোর জেদে অটল। শেষমেশ বাধ্য হয়ে একটা ফুটবল কিনেই দিলাম। সবসময় তোর সাথে সাথে থাকতাম। পাছে আবার ফুটবল নিয়ে খেলতে গিয়ে ব্যথা পাস। এমনিতেই যে শুকনা ছিলি তুই। ছিলি কি এখনো তো শুকনাই আছিস। একদিন ফুটবল খেলতে খেলতে তুই মাথা ঘুরে পড়ে গেলি। আর আমার সে কি দৌঁড়াদৌঁড়ি! পরে আমি তো রাগ করে তোর ফুটবলটাই চাকু দিয়ে কেটে ফেলেছিলাম। আর আবারও তোর চোখে হয়ে গেলাম পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ বাবা। কিন্তু এই খারাপের মধ্যে একটা ভালো লাগা আছে, জানিস? আছে তোর প্রতি আমার অসীম ভালোবাসা। তাই তো আমি তোর কাছে সারাজীবন খারাপ বাবা হয়েই থাকতে চাই।<br />
<br />
<br />
<br />
আস্তে আস্তে তুই বড় হতে থাকলি আর আমার ভয় আরো বেড়ে যেতে লাগলো। চোখের আড়াল হলেই হাজারো শঙ্কায় বুকটা কেঁপে ওঠে তোর কোন বিপদ হল না তো। আর আমার এই ভয়ের কারণে তুই বঞ্চিত হলি অনেক কিছু থেকে। আশেপাশের নানা ঘটনা দেখে অনেক শঙ্কিত হয়ে যেতাম, এই না এগুলো আমার বাবুকে স্পর্শ করে। তোকে সবসময় বিপদ থেকে বাঁচিয়ে রাখতে আমার মনটা খালি আনচান করত। আর তোকে এই বিপদ থেকে দূরে রাখতে গিয়ে আমার মুখের কথা যথেষ্ট ছিল না, একদিন তোকে শাসন করা শুরু করলাম। আমি আরো খারাপ হয়ে গেলাম তোর কাছে। তুই যত বড় হচ্ছিস, আমি ততই খারাপ হচ্ছি। কিন্তু বিশ্বাস কর বাবু, এই খারাপ হওয়ায় আমার কোন দুঃখ নেই, নেই কোন আফসোস। তবে বুকটা কান্নায় ফেটে যেতে থাকে, যখন তুই আমার সাথে<br />
<br />
অভিমান করে ভালো করে কথা বলিস না। কত রাত যে আমি তোর পাশে বসে কাটিতেছি, তুই হয়তো জানিসই না।<br />
<br />
<br />
<br />
তুই তোর মাকে বলতি, ‘মা, মা, বাবা আমাকে মেরে কি খুব মজা পায়?’ আমি আড়ালে কথাগুলো শুনতাম আর চোখের পানি ফেলতাম। তুই কখনো আমার চোখে পানি দেখিস নি। ভাবতি তোর বাবার কোন মন নেই। কিন্তু তুই তো জানিসই না যে তোর বাবার মনটা এতো নরম যে সবসময়ই তোর বিপদের শঙ্কায় থাকে।<br />
<br />
<br />
<br />
বাবু, তুই বড় হচ্ছিস। কিন্তু আজও আমার কাছে সেই ছোট্ট বাবুটিই আছিস। এখনও তোকে কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে তোর হাতের আলতো চড় খেতে। ইচ্ছে করে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে বলতে, ‘আমার বাবুটাকে আমি অনেক ভালোবাসি। পৃথিবীর সব ভালোবাসা এনে একখানে জড়ো করলেও আমার ভালোবাসার সমতুল্য হতে পারবে না। অনেক ভালোবাসি বাবু তোকে! অনেক ভালোবাসি!’<br />
<br />
<br />
<br />
ইতি,<br />
<br />
তোর খারাপ বাবা]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[বাবু,<br />
<br />
তুই হয়তো জানিস না অফিসের হাজার কাজের ফাঁকে একটুখানি অবসর পেলেই আমি তোকে চিঠি লিখতে বসি। কিন্তু কেনো যেনো একটি চিঠিও তোকে দেওয়া হয় না। সব জমা পড়ে থাকে আমার ডায়েরিতে। আমি চাই না তুই আমার ভেতরের আবেগ, অনুভূতিগুলো দেখ। তুই সবসময় আমাকে খুব নিষ্ঠুর ভাবিস, তা আমি জানি। মনে মনে অনেক গালি দিস তোর বাবাকে। কিন্তু তুই হয়তো এটা জানিস না যে তোর এই বাবাটা তোর শত গালি সত্ত্বেও তোকে ঠিক ততটাই ভালোবাসে ঠিক যতটা ভালোবেসেছিলো তোর জন্মের সময়।<br />
<br />
<br />
<br />
তুই জানিস, তোকে যখন আমি প্রথম কোলে নিয়েছিলাম তখন তোর চেয়ে বেশি আমিই কেঁদেছিলাম। ডক্টররা আমাকে দেখে হাসতে হাসতে বলেছিলেন, বেলাল সাহেব আপনাকে দেখে তো মনে হচ্ছে কিছুক্ষণ আগে আপনারই জন্ম হল। আর কত কাঁদবেন? বেবিটাকেও একটু কাঁদতে দিন। তবুও আমি কেঁদে চলেছি ছোট্ট বাচ্চার মত আর কিছুক্ষণ পরপরই তোর ছোট্ট কপালে চুমু খাচ্ছি। তোকে আমি সবসময় আমার কোলে করে নিয়ে বেড়াতাম, মনে আছে? আর তুই কতবার যে আমার শার্টের বুকপকেট জলভর্তি করেছিস, তা তো গুনেও শেষ করা যাবে না।<br />
<br />
<br />
<br />
শুধু কি তাই? তুই যে কত চঞ্চল ছিলি তা আমি বলে বোঝাতে পারবো না। খালি কোল থেকে নামতে চাইতি। আমি বারণ করতাম।আর তুই হাত পা ছুঁড়ে আমার গালে চড় মারতি। একবার তো আমার চোখে এমন গুতো দিয়েছিলি যে পরে চোখ ব্যান্ডেজ করতে হয়েছিলো।<br />
<br />
<br />
<br />
তুই মনে হয় ভাবতি, তোর বাবাটা খুব খারাপ। কিন্তু তুই কখনো এটা ভাবতি না যে তোকে কোল থেকে নামালে তুই পড়ে যাবি, ব্যথা পাবি। কত শত ভয়ে তোর বাবার মনটা চুপসে যেতো! তাই তো তোর বাবাটা সারাজীবন তোর কাছে খারাপই থেকে গেলো রে!<br />
<br />
<br />
<br />
তোর প্রথম স্কুলে যাওয়ার কথা মনে আছে, বাবু? তুই আমার কোলে উঠে কত প্রশ্ন করেছিলি— ‘বাবা, বাবা, স্যাররা আমাকে মারবে না তো, আমি পড়া পারবো তো?’ আর আমি একটু পর পর তোর গালে চুমু খাচ্ছিলাম আর বলছিলাম আমার বাবুটা সব পারবে।<br />
<br />
<br />
<br />
তোর বয়স তখন তখন সাত বছর। তুই অনেক জেদ ধরলি ফুটবলের জন্য। আমি তো দিবোইনা। তুইও তোর জেদে অটল। শেষমেশ বাধ্য হয়ে একটা ফুটবল কিনেই দিলাম। সবসময় তোর সাথে সাথে থাকতাম। পাছে আবার ফুটবল নিয়ে খেলতে গিয়ে ব্যথা পাস। এমনিতেই যে শুকনা ছিলি তুই। ছিলি কি এখনো তো শুকনাই আছিস। একদিন ফুটবল খেলতে খেলতে তুই মাথা ঘুরে পড়ে গেলি। আর আমার সে কি দৌঁড়াদৌঁড়ি! পরে আমি তো রাগ করে তোর ফুটবলটাই চাকু দিয়ে কেটে ফেলেছিলাম। আর আবারও তোর চোখে হয়ে গেলাম পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ বাবা। কিন্তু এই খারাপের মধ্যে একটা ভালো লাগা আছে, জানিস? আছে তোর প্রতি আমার অসীম ভালোবাসা। তাই তো আমি তোর কাছে সারাজীবন খারাপ বাবা হয়েই থাকতে চাই।<br />
<br />
<br />
<br />
আস্তে আস্তে তুই বড় হতে থাকলি আর আমার ভয় আরো বেড়ে যেতে লাগলো। চোখের আড়াল হলেই হাজারো শঙ্কায় বুকটা কেঁপে ওঠে তোর কোন বিপদ হল না তো। আর আমার এই ভয়ের কারণে তুই বঞ্চিত হলি অনেক কিছু থেকে। আশেপাশের নানা ঘটনা দেখে অনেক শঙ্কিত হয়ে যেতাম, এই না এগুলো আমার বাবুকে স্পর্শ করে। তোকে সবসময় বিপদ থেকে বাঁচিয়ে রাখতে আমার মনটা খালি আনচান করত। আর তোকে এই বিপদ থেকে দূরে রাখতে গিয়ে আমার মুখের কথা যথেষ্ট ছিল না, একদিন তোকে শাসন করা শুরু করলাম। আমি আরো খারাপ হয়ে গেলাম তোর কাছে। তুই যত বড় হচ্ছিস, আমি ততই খারাপ হচ্ছি। কিন্তু বিশ্বাস কর বাবু, এই খারাপ হওয়ায় আমার কোন দুঃখ নেই, নেই কোন আফসোস। তবে বুকটা কান্নায় ফেটে যেতে থাকে, যখন তুই আমার সাথে<br />
<br />
অভিমান করে ভালো করে কথা বলিস না। কত রাত যে আমি তোর পাশে বসে কাটিতেছি, তুই হয়তো জানিসই না।<br />
<br />
<br />
<br />
তুই তোর মাকে বলতি, ‘মা, মা, বাবা আমাকে মেরে কি খুব মজা পায়?’ আমি আড়ালে কথাগুলো শুনতাম আর চোখের পানি ফেলতাম। তুই কখনো আমার চোখে পানি দেখিস নি। ভাবতি তোর বাবার কোন মন নেই। কিন্তু তুই তো জানিসই না যে তোর বাবার মনটা এতো নরম যে সবসময়ই তোর বিপদের শঙ্কায় থাকে।<br />
<br />
<br />
<br />
বাবু, তুই বড় হচ্ছিস। কিন্তু আজও আমার কাছে সেই ছোট্ট বাবুটিই আছিস। এখনও তোকে কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে তোর হাতের আলতো চড় খেতে। ইচ্ছে করে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে বলতে, ‘আমার বাবুটাকে আমি অনেক ভালোবাসি। পৃথিবীর সব ভালোবাসা এনে একখানে জড়ো করলেও আমার ভালোবাসার সমতুল্য হতে পারবে না। অনেক ভালোবাসি বাবু তোকে! অনেক ভালোবাসি!’<br />
<br />
<br />
<br />
ইতি,<br />
<br />
তোর খারাপ বাবা]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[তুমি আর কিসারেট (সিগারেট) খাবানা।ডক্টর আঙ্কেল বলে সিগ্রারেট খেলে ক্যান্সার হয়।]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=218</link>
			<pubDate>Tue, 10 Jan 2017 08:40:22 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=218</guid>
			<description><![CDATA[রিং বাজছে ফোনে।“Ammu Calling…”. এই একটা নাম্বার আমার কাছে রেড এলার্টের মতো।চায়ের দোকানে বসে ফ্রেন্ডদের সাথে সিগারেট টানতে টানতে আড্ডা দিচ্ছিলাম।জিসান খুব রসিয়ে তার ভার্সিটির একটা মেয়ের বর্ননা দিচ্ছিলো।চিৎকার করে সবাইকে থামতে বললাম।“ঐ ব্যাটারা থাম!Ammu Calling…Ammu Calling…!!!”…<br />
<br />
<br />
<br />
এই কোড সবারই জানা।সবাই তাড়াতাড়ি মুখ লক করলো।জিসানকে মাস্টারলক করানো হলো।তার মুখটাই সবথেকে বেশি চলে।সবাই চুপ করার পর ফোন রিসিভ করলাম…<br />
<br />
<br />
<br />
-হ্যালো আম্মু…<br />
<br />
<br />
<br />
-কোথায় তুই?<br />
<br />
<br />
<br />
-এইতো আম্মু।কৌশিকদের বাসায়।<br />
<br />
<br />
<br />
-এত শব্দ কিসের?<br />
<br />
<br />
<br />
-ঐতো আম্মু,রাস্তার পাশেই কৌশিকদের বাসা।আর বোলোনা…গাড়ির শব্দে না ঘুমাতে ঘুমাতে কৌশিকের ইনসোমনিয়া হয়ে গেছে।<br />
<br />
<br />
<br />
-বাসায় ফিরবি না?<br />
<br />
<br />
<br />
-হ্যাঁ,ফিরবো তো।<br />
<br />
<br />
<br />
-কয়টা বাজে?<br />
<br />
<br />
<br />
-এই তো আম্মু…উমম সাড়ে সাতটা…<br />
<br />
<br />
<br />
-থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দিব।সাড়ে নয়টা বাজে।দশটায় গেট বন্ধ করে দিব।এর পরে আসলে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবি সারারাত।<br />
<br />
<br />
<br />
-ঠিক আছে আম্মু।এখুনি আসছি…রাখি। …যদিও বললাম তবুও আরো অন্তত এক ঘন্টা থাকার প্ল্যান।<br />
<br />
<br />
<br />
-শোন…<br />
<br />
-যতক্ষন কথা বলবা…গেট বন্ধ করার সময়ের সাথে ততক্ষন add হবে।<br />
<br />
<br />
<br />
-চোপ বেয়াদপ।যা বলছি সেটা শোন।<br />
<br />
<br />
<br />
-অলরেডি ৩ মিনিট হয়ে গেছে…১০ টা ৩…<br />
<br />
<br />
<br />
-প্রিয়তির জ্বর দুপুর থেকে…ওর জন্য কয়েকটা নাপা এক্সট্রা নিয়ে আসিস…<br />
<br />
<br />
<br />
-আম্মু একটু ধরো তো…<br />
<br />
<br />
<br />
“এই দোস্তরা থাক আমি গেলাম।প্রিয়তির জ্বর…” বলেই কারোর জবাবের অপেক্ষা না করে হাঁটা দিলাম।<br />
<br />
<br />
<br />
-হ্যাঁ আম্মু,আমি আসতেছি…বাই।<br />
<br />
<br />
<br />
কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও কোন রিকশা পেলাম না।অগত্যা হাঁটতে শুরু করলাম……।<br />
<br />
<br />
<br />
অনেকদিন পর ছুটি পেয়েছি।বাসায় এসেছি গত পরশু।অনেকদিন পর দেখছি সবকিছু।সেই চিরপরিচিত দোকানপাঠ,রাস্তাঘাট,বাড়িঘর,মাঠ,গাছ…মানুষগুলো।পরিচিত যেসব মানুষগুলোর সাথে কখনো তেমনভাবে কথাবার্তাও হয়নি তাদের সাথে কথা বলতেও ভালো লাগে।<br />
<br />
<br />
<br />
সবকিছু আমার একান্ত আপন।আমার নিজের শহর।বন্ধু,আত্মীয়-স্বজন,আব্বু-আম্মু,আর……প্রিয়তি।আমার আদরের ছোট্ট বোন।আর তার মুখের টিয়া পাখির মত সুরে “ভাইয়ামনি” ডাক।<br />
<br />
<br />
<br />
প্রিয়তি…।<br />
<br />
<br />
<br />
আমার জগৎটাকে আমি খুব সহজেই দুই ভাগে ভাগ করে ফেলতে পারি।একভাগে প্রিয়তি; অন্যভাগে বাকি সব।প্রিয়তির বয়স ৭।ক্লাস টু’তে পড়ে।চঞ্চলতার কোন ইভেন্ট অলিম্পিকে থাকলে অনায়াসে সে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম স্বর্ণপদকটা এনে দিত।তার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে সবসময় একসাথে কমপক্ষে ১০ টি বিষয় কাজ করে।তাই সে কোনটাতেই স্থির হতে পারেনা।আমাদের কলোনীর সবচেয়ে কিউট বাচ্চা সে।নিজের ছোটবোন বলে বলছি না।সবাই ওকে অনেক আদর করে।কিন্তু little princess কারো আদরই সহ্য করতে পারেননা।কেও তাকে একটু টাচ করলেই চিৎকার করে কান্নাকাটি শুরু করে।এমনকি সে আব্বুর কাছেও কখনো যেতে চায় না।প্রতিটি ব্যাপারে তার অনেক strong opinion. একবার যেটা বলবে সেটাই।<br />
<br />
<br />
<br />
বাসায় পৌঁছে কলিংবেল বাজাতেই টিয়াপাখির চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পেলাম।“Busy বিল্লি” “Busy বিল্লি”।<br />
<br />
<br />
<br />
কোনো এক ক্লান্ত দুপুরে ঝিমাতে ঝিমাতে 9XM মিউজিক চ্যানেলটা দেখছিলাম।পাশে বসে ছিল প্রিয়তি।টিভির দিকে অনেক্ষন তাকিয়ে থেকে বেশ কিছুক্ষন ভেবে সে ঘোষনা করলো আমি নাকি দেখতে কার্টুন “ভিগি বিল্লি” র মতো।“ভিগি বিল্লি” টার্মটা কোনো এক কারনে তার কাছে মনে হয়েছে “বিজি বিল্লি”।<br />
<br />
<br />
<br />
অনেক চেষ্টা করেছি তাকে বোঝাতে পারলাম না যে আমি দেখতে ওরকম না আর word টা “ভিগি বিল্লি”।<br />
<br />
<br />
<br />
কিন্তু সে মানতে নারাজ।আগেই বলেছি সব বিষয়ে তার opinion অনেক strong. তারপর থেকেই আমি তার “Busy বিল্লি”।<br />
<br />
<br />
<br />
নেহায়েৎ তার মনে গভীর ভাবের উদয় না হলে আজকাল আমাকে “ভাইয়ামনি” বলে ডাকেনা।<br />
<br />
<br />
<br />
যা হোক,বাসার গেট খোলা হলো।খোলার সাথে সাথেই দেখি টিয়াপাখি দুই হাত উঁচু করে চোখ বন্ধ করে লাফাচ্ছে।অর্থ্যাৎ “কোলে নাও”।কোলে তুলে নিতেই ছোট্ট ছোট্ট হাত দিয়ে শক্ত করে আমার গলা জড়িয়ে ধরলো।শরীর পুড়ে যাচ্ছে জ্বরে।তারপরও অস্থিরতার শেষ নেই।আম্মু দেখি পিছন পিছন ভাতের প্লেট হাতে নিয়ে ছুটছে।<br />
<br />
<br />
<br />
-খেয়ে নে মা,আর জ্বালাস না…আম্মু বলল।<br />
<br />
<br />
<br />
-নাআআআ…বলে চিৎকার করে আমাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কাঁধে মুখ লুকালো।<br />
<br />
<br />
<br />
আমি আম্মুকে ইশারা করলাম একটা।<br />
<br />
<br />
<br />
-আম্মু কি ভাত?<br />
<br />
<br />
<br />
-এইতো দুধ ভাত।<br />
<br />
<br />
<br />
-আম্মু দুষ্টিপাখিরা কি খায় যেন?<br />
<br />
<br />
<br />
-দুষ্টিপাখিরা তো দুধভাত খায়।<br />
<br />
<br />
<br />
-ও…আমাদের বাসায় তো কোনো দুষ্টিপাখি নেই।তুমি এক কাজ করো…তাসিন বাবুকে (কাজিন) খাইয়ে দিও ঐটা।তাসিন বাবু দুষ্টিপাখি হয়ে যাবে তাহলে।<br />
<br />
<br />
<br />
-নাআ…আমি দুষ্টিপাখি…’ আমার কাঁধে মুখ লুকিয়ে রেখেই বললো।<br />
<br />
<br />
<br />
-তাহলে খেয়ে নাও বাবু।<br />
<br />
<br />
<br />
-না…খাবোনা…।<br />
<br />
<br />
<br />
আহ্লাদ করে ফুঁপিয়ে বললো।<br />
<br />
<br />
<br />
বুঝলাম জ্বরে রুচি হারিয়েছে।পকেট থেকে ক্যাডবেরি চকলেট বের করে বললাম “আম্মু ক্যাডবেরিটা তাহলে তাসিন বাবুকে দিয়ে দিও।“<br />
<br />
<br />
<br />
এবার কাজ হলো।ক্যাডবেরীর লোভে খেতে চাইল ভাত।কিন্তু আম্মুর হাতে খাবেনা।আমার হাতে খাবে।তাকে কোলে করে বসিয়ে খাওয়াতে লাগলাম।কিছুক্ষন “টম এন্ড জেরি”র গল্প করলো।তারপর কি মনে হলো সিদ্ধান্ত নিল সে নিজ হাতে খাবে।কি আর করা…ছেড়ে দিলাম তার হাতেই।যা খেল তার তিনগুন ছিটালো।নাকে মুখে দুধভাত মাখিয়ে দাঁত বের করে যখন আমার কাছে এসে বলল “খাওয়া শেষ” তখন তাকে দেখতে লাগছে একটা বিড়ালের মত।<br />
<br />
<br />
<br />
বিড়ালের মুখ ধুইয়ে দিয়ে বিছানায় নিয়ে গেলাম কোলে করে।ওষুধ খাওয়াতে গিয়ে ভাত খাওয়ানোর তিনগুন পেইন নিতে হলো।তার “মিস্টার পান্ডু” (টেডি বিয়ার) কে খুঁজে পেতে আরো কিছুক্ষন সময় ব্যয় হলো।অবশেষে little princess ঘুমানোর জন্য রেডি হলেন মিস্টার পান্ডুকে কোলের মধ্যে নিয়ে।তখনো গায়ে অনেক জ্বর।মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে দিচ্ছি।বিড়ালের মত আরো কাছে সরে এলো।আমি ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করেই যাচ্ছি।কিন্তু সে শুধু ছটফট করে।বেশ কিছুক্ষন পর নিজের ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুল মুখে পুরে নিল।ঘুমানোর পুর্বাভাস।মাথার চুলে বিলি কেটে দিতে লাগলাম।আস্তে আস্তে ওর শ্বাস-প্রশ্বাস ভারী হয়ে এলো।ঘুমিয়ে পড়লো আমার দুষ্টিপাখি।আমি সারারাত জেগে থাকলাম অর পাশে।শেষ রাতের দিকে ওর জ্বর নেমে এলো।<br />
<br />
<br />
<br />
কিছুদিন পর।<br />
<br />
<br />
<br />
রুমের দরজা ঠেলে দিয়ে বারান্দায় বসে সিগারেট টানছি।কখন যে পিচ্চিটা গুটুর গুটুর করে ঢুকে পড়েছে খেয়াল করিনি।আমার হাতে সিগারেট দেখে সে কিছুক্ষন চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো।তারপরেই তারস্বরে চিৎকার করতে যাবে, “আম…ম…” আম্মু ডাকটা ডেকে শেষ করার আগেই মুখ চেপে ধরলাম।কিছুক্ষন অনেক জোরাজুরি করল।অবশেষে না পেরে হাল ছেড়ে দিলো।আমি তাড়াতাড়ি টেবিল এর ড্রয়ার থেকে ক্যাডবেরী বের করে দিলাম।এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে রাখা লাগে।কিন্তু বোঝা গেল ঘুষ যথেষ্ট না।এখন তার সাথে ছাদে গিয়ে তার সাহেবদের কে খাওয়াতে হবে । সাহেব অর্থ্যাৎ তার কবুতররা।উপায় নেই।যেতে হলো।<br />
<br />
<br />
<br />
আমি আর ও মিলে খাওয়াতে লাগলাম।বোঝা গেল কবুতরগুলো তাদের এই পিচ্চি মালকিনকে ভালোই চিনে।ও ওদেরকে ছুটে ছুটে তাড়া করছে।ধরছে।কবুতরগুলো কিছু মনে করছে না।খাওয়ানো শেষে দুষ্টিপাখির সাথে কিছুক্ষন খেলা করতে হলো।শেষ বিকালের দিকে ওকে কোলে করে ছাদে দাঁড়িয়ে আছি।অনেক্ষন বকবক করে এখন তিনি রেস্ট নিচ্ছেন।<br />
<br />
<br />
<br />
-প্রিয়তি বাবু…<br />
<br />
<br />
<br />
-হুম…<br />
<br />
<br />
<br />
-তোমার ক্লাস পজিশান কত বাবু?<br />
<br />
<br />
<br />
প্রশস্ত একটা হাসি দিয়ে বলল “ফার্স্ট”।<br />
<br />
<br />
<br />
গাল টিপে আদর করে দিয়ে বললাম… “আমার সোনাপাখি”।<br />
<br />
<br />
<br />
অমনি সে ভ্রু কুঁচকে ফেললো।কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে আমার মুখ খাঁমচে ধরল।<br />
<br />
<br />
<br />
-এই এই,কি হলো ও ও…লাগছে তো…<br />
<br />
<br />
<br />
-আমি সোনাপাখি না…দুষ্টিপাখি বল।<br />
<br />
<br />
<br />
-আচ্ছা রে বাবা ঠিক আছে।দুষ্টিপাখি,দুষ্টিপাখি,আমার দুষ্টিপাখি।<br />
<br />
<br />
<br />
অবশেষে থামলো।আমি এবার মেকি মন খারাপ করে বললাম…<br />
<br />
<br />
<br />
-বাবু আমাকে খাঁমচে দিলা এখন কি হবে?আমি যে ব্যাথা পাইলাম…<br />
<br />
<br />
<br />
আমার দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষন কি যেন ভাবল।তারপর আমার গালে চুমু দিয়ে দিলো একটা।দুষ্টিপাখিটাকে বুকে চেপে ধরে আদর করে দিলাম।আমার এই জা্নটাকে ছেড়ে দূরে ভার্সিটিতে আমি কিভাবে থাকি সে শুধু আমিই জানি।<br />
<br />
<br />
<br />
সন্ধ্যায় তার মিস এসেছে।কিন্তু সে পড়তে চাইছে না কিছুতেই।পেট চেপে ধরে বসে আছে।আম্মু অনেক বকাবকি করছে।কিন্তু সে পেট চেপে ধরে বসেই আছে।আমি গিয়ে ওকে কোলে করে নিজের রুমে নিয়ে এলাম।জিজ্ঞাসা করলাম…<br />
<br />
<br />
<br />
-বাবু কোথায় ব্যাথা করে?<br />
<br />
<br />
<br />
-এইখানে… পেটে হাত দিয়ে দেখালো।<br />
<br />
<br />
<br />
চকলেট বের করে বললাম…”এইটা খাইলে কি প্রিয়তি বাবুর ব্যাথা ঠিক হবে?”<br />
<br />
<br />
<br />
কিন্তু ও চকলেটও খেতে চাইলো না।অবশষে আমি মিসকে চলে যেতে বললাম।ওকে আমিই পড়িয়ে নিব।কোন পর্যন্ত পড়ানো হয়েছে দেখে নিলাম।<br />
<br />
<br />
<br />
কিন্তু রাত্রে ও বমি করলো।বেশ কাহিল হয়ে পড়লো।আমরা কিছুই বুঝতে পারলাম না কেন হচ্ছে।অবশ্য ও বেশ তাড়াতাড়িই ঘুমিয়ে পড়লো।<br />
<br />
<br />
<br />
সকালবেলাতেই স্বাভাবিক।ছুটির দিন।স্বভাবসুলভ দুষ্টামিতে বাসা মাথায় করে রাখলো।<br />
<br />
<br />
<br />
ঈদটা সেবার অনেক ভালো কাটলো।দুষ্টিপাখিকে বড় একটা টেডি বিয়ার ও কিনে দিলাম।ছুটি শেষ হয়ে এল।বুকে পাথর চেপে little princess টা কে বাসায় রেখে ভার্সিটিতে চলে এলাম।<br />
<br />
.<br />
<br />
ল্যাব,assignment,class test এর চাপে যখন জর্জরিত এরকম একটা দিনে আম্মু হঠাৎ ফোন দিয়ে বলল…<br />
<br />
<br />
<br />
-“বাপ কালকে তুই বাসায় আসতে পারবি?”<br />
<br />
<br />
<br />
আম্মুর কন্ঠে কি যেন ছিল।আমি ভয় পেয়ে গেলাম…<br />
<br />
<br />
<br />
-কি হয়েছে আম্মু?<br />
<br />
<br />
<br />
-তেমন কিছু না রে…তোর আব্বু একটু অসুস্থ।কাল তো বৃহস্পতিবার।তুই চলে আয়।শনিবারে চলে যাস আবার।<br />
<br />
<br />
<br />
-আব্বুর কি হয়েছে আম্মু সত্যি করে বলো।আব্বুকে ফোনটা দাও।<br />
<br />
<br />
<br />
-নে কথা বল।<br />
<br />
<br />
<br />
আম্মু আব্বুর হাতে ফোনটা দিলেন।<br />
<br />
<br />
<br />
-হ্যাঁ বাবা,তেমন কিছু হয়নি রে।একটু অসুস্থ হয়ে পড়লাম।তুই সেই কবে গেছিস।বাসা থেকে ঘুরে যা একটু।<br />
<br />
<br />
<br />
-আব্বু তুমি ঠিক আছো তো?শরীর এখন কেমন?<br />
<br />
<br />
<br />
-আমি ঠিক আছি রে বাবা।টেনশান করিস না।তুই চলে আয়।<br />
<br />
<br />
<br />
-ঠিক আছে আব্বু।<br />
<br />
<br />
<br />
-রাখি তাহলে?<br />
<br />
<br />
<br />
-ঠিক আছে আব্বু।আমি চলে আসবো।<br />
<br />
<br />
<br />
আব্বুর একবার হার্ট-এটাক হয়েছে।না জানি আবার কি সমস্যা হল।আমি পরের দিনের অপেক্ষা না করে সেদিনই চলে গেলাম।<br />
<br />
বাসায় যখন পৌছালাম তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে।কলিংবেল চাপলাম।“বিজি বিল্লি” টাইপ কোনো চিৎকার শোনা গেল না।কয়েকবার কলিংবেল চাপার পরেও না।বাচ্চা হলেও বাসার পরিস্থিতিটা হয়ত বুঝতে পারছে প্রিয়তি।আব্বুকে ভয় পেলেও অনেক ভালোবাসে সে।তার ড্রয়িং খাতায় সে আমার পর আব্বুর ছবিই সবচেয়ে বেশি এঁকেছে।গেট খুললেন ফুপি।বাবার খবর পেয়ে মনে হয় সবাই এসেছেন।বাসায় ঢুকে অবশ্য ড্রয়িং রুমে ফুফা বাদে আর কাউকে দেখতে পেলাম না।ব্যাগ রেখে আব্বুর রুমে গিয়ে দেখি আব্বু নেই।বারান্দায় গিয়ে দেখি চেয়ারে বসে আছেন।আমাকে দেখে উঠে দাঁড়ালেন।<br />
<br />
<br />
<br />
-এসে গেছিস বাবা…<br />
<br />
<br />
<br />
-হ্যাঁ বাবা,তুমি ভালো আছো?<br />
<br />
<br />
<br />
-হ্যাঁ রে…ভালো আছি।তুই কেমন ছিলি?আসতে সমস্যা হয়নি তো কোনো?<br />
<br />
<br />
<br />
-না আব্বু।আমার কথা বাদ দাও।তোমার কি হয়েছিল সেটা বলো।<br />
<br />
<br />
<br />
বাবা চুপ করে সামনের দিকে তাকিয়ে আছেন।<br />
<br />
<br />
<br />
-আর প্রিয়তি আম্মু এরা কই?বাইরে গেছে নাকি?দেখলাম না তো।<br />
<br />
<br />
<br />
বাবা চুপ করেই আছেন।<br />
<br />
<br />
<br />
-কি হলো আব্বু,কথা বলোনা যে?<br />
<br />
<br />
<br />
আব্বু বললেন…<br />
<br />
<br />
<br />
-ঐযে…প্রিয়তি একটু অসুস্থ তো।ওকে নিয়ে একটু হসপিটালে গেছে।<br />
<br />
<br />
<br />
-মানে?????প্রিয়তির কি হয়েছে আব্বু?<br />
<br />
<br />
<br />
আস্তে আস্তে আমার কাছে সবকিছু পরিস্কার হতে থাকে।আসলে আব্বুর কিছু হয়নি।প্রিয়তির কিছু একটা হয়েছে।<br />
<br />
.<br />
<br />
-কি হয়েছে আব্বু বলো…চুপ করে আছো কেন?কোনো accident হয়েছে?আমাকে বলো…<br />
<br />
<br />
<br />
-না রে বাবা…তেমন কিছুই না।একটু সর্দি জ্বর।<br />
<br />
<br />
<br />
-আব্বু আমার কাছ থেকে লুকাবা না।বলো আমাদের প্রিয়তির কি হয়েছে?<br />
<br />
<br />
<br />
আব্বু চুপ করে থাকেন কিছুক্ষন।তারপর দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন…<br />
<br />
<br />
<br />
-বাবা শোন।প্রিয়তি একটু sick.<br />
<br />
<br />
<br />
-“আব্বু তুমি acting করবা না।বলো তুমি আমার প্রিয়তির কি হইছে…” অনিয়ন্ত্রিত ভাবে আমার চোখ বেয়ে কয়েক ফোঁটা অশ্রু নেমে আসে।<br />
<br />
<br />
<br />
আব্বু আবার কিছুক্ষন চুপ করে থাকেন।বেশ কিছু দীর্ঘশ্বাস গোপন করে বলেন…<br />
<br />
<br />
<br />
-শোন…শক্ত হ এ্কটু।প্রিয়তির লিউকেমিয়া হয়েছে।নতুন ব্লাড সেল ফর্ম করছে না।<br />
<br />
<br />
<br />
আমি হা করে আব্বুর দিকে চেয়ে থাকি।<br />
<br />
<br />
<br />
-“আব্বু প্রিয়তি একটা বাচ্চা মেয়ে……”<br />
<br />
<br />
<br />
-“শোন পাগল…এত সিরিয়াস কিছু না।ডক্টর বলেছেন কিছুদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।<br />
<br />
<br />
<br />
আমি চিৎকার করে বলি…”আমাকে শিখাবানা আব্বু।আমি জানি লিউকেমিয়া কি…”<br />
<br />
<br />
<br />
আব্বু আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন।<br />
<br />
<br />
<br />
আমি কাঁদতে কাঁদতে বলি… “আব্বু ভুল হইছে।ডাক্তাররা অনেক ভুল করে অনেক সময় তুমি জানোনা আব্বু।ওরা ভুল করেছে।প্রিয়তির কিছু হয়নি।ও তো একটা বাচ্চা মেয়ে…”<br />
<br />
<br />
<br />
আর কিছু বলতে পারিনা।গলায় আটকে যায় সবকিছু।আমার জগৎ হঠাৎ অন্ধকার হয়ে যায়।<br />
<br />
<br />
<br />
বাবা অনেক sensible মানুষ।আমাকে শকগুলা আস্তে আস্তে দিতে থাকেন।লিউকেমিয়ার প্রতিকার সম্ভব।একুশ দিন পর পর রক্ত পরিবর্তন করা লাগে।কিন্তু প্রিয়তির অনেক দেরি হয়ে গেছে।ওর blood cell গুলা খুব তাড়াতাড়ি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।Afford করা সম্ভব হচ্ছেনা।যার অর্থ আমার প্রিয়তির হাতে আর বেশিদিন সময় নাই।<br />
<br />
<br />
<br />
আমার বিশ্বাস হয় না।কোন ভাবেই না।এইতো সেদিনকার বাচ্চা।দোলনায় শুয়ে হাত নেড়ে নেড়ে খেলা করতো।আমার কোলে আসলে চোখ বড় বড় করে আমাকে দেখতো।যাই দেখত তাই মুখে দিতে চাইত।আমার কোলে এসেই চশমা ধরে টানাটানি শুরু করত।যাকে এখনো পর্যন্ত কোলে করে বাথরুমে দিয়ে না আসলে সকালে ঘুম ভাঙ্গে না।যে এখনো অরেঞ্জ ফ্লেভারের টুথপেস্ট খেয়ে ফেলে…<br />
<br />
<br />
<br />
আমি আর ভাবতে পারি না…<br />
<br />
.<br />
<br />
আব্বু আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।কেবিনে ঢোকার আগে নিজেকে পুরোপুরি শান্ত করে ফেলি।ঢুকে দেখি আমার দুষ্টিপাখি শুয়ে আছে…বিছানায় সাদা চাদর পাতা।তার উপর ছোট্ট একটা শরীর।মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে কেমন।ছোট্ট শরীরটা শুকিয়ে আরো ছোট্ট হয়ে গেছে।চোখটা তীক্ষ।কিন্তু আমাকে দেখেই সেই আগের ভঙ্গিমায় ফিক করে হাসিটা দিল।আমার বুকের ভিতর চিনচিন করে একটা ব্যাথা বেজে উঠলো।চোখে অস্থিরতা টা এখনো রয়েছে।কিন্তু হাত-পা নাড়ানোর ক্ষমতা কমে গেছে।আমার দিকে তাকিয়ে বললো…<br />
<br />
<br />
<br />
-“বিজি বিল্লি”<br />
<br />
<br />
<br />
ওর ছোট্ট মুখটা ধরে কপালে একটা চুমু দিয়ে দিলাম।ওর মাথার কাছে বসলাম।আস্তে আস্তে গুটুর গুটুর করে আমার সাথে গল্প করতে লাগলো।<br />
<br />
<br />
<br />
মামনি যে কত দুষ্টু হয়েছে।হস্পিটালে তার মিস্টার পান্ডুকে আনতে ভুলে গেছে।তাই তার ঘুম হয় না।সেকথা বলতেও ভুললো না।<br />
<br />
আমি আমার দুষ্টিপাখিটার সারা মুখে আলতো করে হাত বুলিয়ে দেই।<br />
<br />
-বাবু তোমার কিছু হবেনা।তুমি আমার দুষ্টিপাখি না?দুষ্টিপাখিদের কি কিছু হয় নাকি?কিচ্ছু হয়না।<br />
<br />
<br />
<br />
আমার বাবু ফিক করে হাসি দিয়ে বলল…<br />
<br />
<br />
<br />
-আম্মু আমাকে বলেছে ডক্টর আঙ্কেলের বাসায় আসার পর ডক্টর আঙ্কেল আমাকে অনেক পছন্দ করেছেন।তাই যেতে দিচ্ছেনা।<br />
<br />
<br />
<br />
-হ্যাঁ তাইতো সোনা।কিন্তু আমি যে তোমাকে ডক্টর আঙ্কেলের থেকেও বেশি পছন্দ করি।আমি তোমাকে তাড়াতাড়ি নিয়ে যাবো।<br />
<br />
<br />
<br />
-হুম…তুমি কিন্তু অনেকদিন থাকবা এবার…তাড়াতাড়ি চলে যাবা না…<br />
<br />
<br />
<br />
-হুম সোনা…তোমাকে ছেড়ে কোত্থাও যাবোনা…<br />
<br />
<br />
<br />
-আর স্কুলে দুষ্টু ইভন আমার মাথায় মেরেছে…তুমি ওকে মেরে দিবা…<br />
<br />
<br />
<br />
-ঠিক আছে সোনা…অনেক অনেক মেরে দিব।সাহস তো কম না…দুষ্টিপাখির গায়ে হাত তোলে।<br />
<br />
<br />
<br />
ও একটা হাসি দেয়।আমি ওর সারা মুখে চুমু দিয়ে দেই আলতো করে করে।আমার দুষ্টিপাখি আদরটা ধরতে পারে।আমার দিকে ফিরে চোখ বন্ধ করে পড়ে থাকে।<br />
<br />
<br />
<br />
সেদিন রাতে আমি বাসায় ছিলাম।রাত্রে শুনলাম প্রিয়তি বাবু রক্তবমি করেছে।পরদিন সারাদিন ছাড়া ছাড়া ভাবে জ্ঞান আসলো আর গেল।কোনো কথা বলতে পারলো না।তারপরদিন কথা বলার অবস্থা হলো।কিন্তু অনেক আস্তে আস্তে কথা বলতে লাগলো।<br />
<br />
<br />
<br />
ওর কাছে গেলাম।<br />
<br />
<br />
<br />
-দুষ্টিপাখি কেমন আছো?<br />
<br />
<br />
<br />
প্রথমে কছুক্ষন চুপ করে থাকলো।তারপর আমাকে ডেকে বললো আম্মুকে দূরে যেতে বলো।আম্মুকে দূরে যেতে বললাম…হয়নি,আরো দুরে।আরো দূরে গেলো আম্মু।<br />
<br />
<br />
<br />
প্রিয়তি আমাকে ডেকে কানে কানে বললো…<br />
<br />
<br />
<br />
-ভাইয়ামনি শোন…<br />
<br />
<br />
<br />
-বলো দুষ্টিপাখি।<br />
<br />
<br />
<br />
-তুমি আর কিসারেট (সিগারেট) খাবানা।ডক্টর আঙ্কেল বলে কিসারেট খেলে ক্যান্সার হয়।<br />
<br />
<br />
<br />
আমি প্রচন্ড কষ্টে আমার চোখের পানি আটকাই।<br />
<br />
<br />
<br />
-ঠিক আছে বাবু।আমি আর কক্ষনো কিসারেট খাবোনা।<br />
<br />
<br />
<br />
-প্রমিজ?<br />
<br />
<br />
<br />
-প্রমিজ সোনা…<br />
<br />
<br />
<br />
-না…পিঙ্ক প্রমিজ করো…<br />
<br />
<br />
<br />
-হ্যাঁ সোনা পিঙ্ক প্রমিজ।<br />
<br />
<br />
<br />
-প্রমিজ না রাখলে কিন্তু তোমার জিব্বা কালো হয়ে যাবে।<br />
<br />
<br />
<br />
-আমি রাখবো সোনা।আমি তোমার লক্ষী ভাইয়ামনি না?<br />
<br />
<br />
<br />
ও কিছুক্ষন চুপ করে থেকে দুষ্টামি হাসি দিয়ে বলে…”বিজি বিল্লি”।<br />
<br />
<br />
<br />
আবার বলে…<br />
<br />
-ভাইয়ামনি তুমি আমার মিস্টার পান্ডুকে কোলে করে ঘুমাবা বলো…<br />
<br />
<br />
<br />
আমি আমার চোখের অশ্রু বেঁধে রাখার যুদ্ধে হেরে যাই…দু’এক ফোঁটা অশ্রু বেয়ে পড়ে…<br />
<br />
<br />
<br />
-কেন রে সোনা?মিস্টার পান্ডু তো তোর কোল ছাড়া ঘুমায় না…<br />
<br />
<br />
<br />
-আমি মিস্টার পান্ডুকে বলে দিছি…ও তোমার কোলে ঘুমাবে এখন থেকে।<br />
<br />
<br />
<br />
-ঠিক আছে বাবু।আমি তোর মিস্টার পান্ডুকে কোলে করে ঘুমাবো।<br />
<br />
<br />
<br />
-আর তাসিন বাবুকে দুষ্টিপাখি বানাবা না।আমি দুষ্টিপাখি…আম্মু বারবার তাসিন বাবুকে দুষ্টিপাখি বানিয়ে দেয়…<br />
<br />
<br />
<br />
বলতে বলতে আমার প্রিয়তি বাবুর চোখ থেকে মুক্তার মতো কয়েকফোঁটা অশ্রু ঝরে পড়ে।ছোট্ট পবিত্র এই বাচ্চাটার অশ্রু সহ্য করার ক্ষমতা আমার ছিলনা।দু’হাতে অর ছোট্ট মুখটা ধরে কপালে একটা চুমু দিয়ে দৌড়ে চলে এলাম বাইরে।<br />
<br />
<br />
<br />
পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেটটা ছুড়ে ফেলে পা দিয়ে সজোরে রাস্তার সাথে পিশলাম।চোখ থেকে অনবরত পানি পড়েই যাচ্ছে…আকাশের দিকে তাকালাম…সপ্তম আসমানে আল্লাহ বলে একজন আছেন।যিনি সকল ক্ষমতার অধিকা্রী…তার কাছে মিনতি করে বললাম…হে আল্লাহ।এই অবুঝ নিষ্পাপ পরীর মত শিশুটি তো জীবনে কোনো পাপ করেনি।তবে কিসের শাস্তি তুমি ওকে দিচ্ছ?ও তো একটা ফেরেস্তা…ছোট্ট ফেরেস্তাটার কষ্ট যে আমি নিতে পারছিনা আর খোদা।আমি সিগারেট খাই…নামাজ পড়িনা।অনেক পাপ করি…তুমি ওর বদলে আমাকে তুলে নাও… কিন্তু আমার ছোট্ট নিষ্পাপ দুষ্টিপাখিটাকে ফিরিয়ে দাও।<br />
<br />
<br />
<br />
আমার মত পাপী বান্দার মিনতি শোনার প্রয়োজন হয়তো আল্লাহ বোধ করেননি।……আমার দুষ্টিপাখিটা তাই উড়ে গিয়ে আকাশের তারা হয়ে জ্বলজ্বল করে জ্বলতে থাকে।<br />
<br />
<br />
<br />
আমার পাশের বাসায় পরীর মত ছোট্ট একটা বাচ্চা ছিল।অনেক অস্থির,চঞ্চল আর মিষ্টি।বারান্দায় বসে ওর ছোটাছুটি আর খেলা করে বেড়ানো দেখতাম আর ভাবতাম…ইশ!আমার যদি একটা বোন থাকতো।কিছুদিন আগে মেয়েটার লিউকেমিয়া হয়।ছোট্ট বয়সেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়।যানিনা আল্লাহ পাহাড় সমান পাপ করে ফেলা মানুষগুলকে রেখে কেন ফেরেশতাগুলোকে এত আগে আগে তুলে নেন।শুনেছি আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাদের আগে আগে তুলে নেন নিজের কাছে।সেজন্যই হয়তোবা হবে।তবুও আল্লাহর কাছে আমার প্রার্থনা…আল্লাহ,অন্ধকারাচ্ছন্ন এই দুনিয়ায় ফেরেশতার মত শিশুরাই আলোর উৎস।তুমি ফুলগুলোকে আমাদের কাছ থেকে এত তাড়াতাড়ি তুলে নিওনা।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[রিং বাজছে ফোনে।“Ammu Calling…”. এই একটা নাম্বার আমার কাছে রেড এলার্টের মতো।চায়ের দোকানে বসে ফ্রেন্ডদের সাথে সিগারেট টানতে টানতে আড্ডা দিচ্ছিলাম।জিসান খুব রসিয়ে তার ভার্সিটির একটা মেয়ের বর্ননা দিচ্ছিলো।চিৎকার করে সবাইকে থামতে বললাম।“ঐ ব্যাটারা থাম!Ammu Calling…Ammu Calling…!!!”…<br />
<br />
<br />
<br />
এই কোড সবারই জানা।সবাই তাড়াতাড়ি মুখ লক করলো।জিসানকে মাস্টারলক করানো হলো।তার মুখটাই সবথেকে বেশি চলে।সবাই চুপ করার পর ফোন রিসিভ করলাম…<br />
<br />
<br />
<br />
-হ্যালো আম্মু…<br />
<br />
<br />
<br />
-কোথায় তুই?<br />
<br />
<br />
<br />
-এইতো আম্মু।কৌশিকদের বাসায়।<br />
<br />
<br />
<br />
-এত শব্দ কিসের?<br />
<br />
<br />
<br />
-ঐতো আম্মু,রাস্তার পাশেই কৌশিকদের বাসা।আর বোলোনা…গাড়ির শব্দে না ঘুমাতে ঘুমাতে কৌশিকের ইনসোমনিয়া হয়ে গেছে।<br />
<br />
<br />
<br />
-বাসায় ফিরবি না?<br />
<br />
<br />
<br />
-হ্যাঁ,ফিরবো তো।<br />
<br />
<br />
<br />
-কয়টা বাজে?<br />
<br />
<br />
<br />
-এই তো আম্মু…উমম সাড়ে সাতটা…<br />
<br />
<br />
<br />
-থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দিব।সাড়ে নয়টা বাজে।দশটায় গেট বন্ধ করে দিব।এর পরে আসলে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবি সারারাত।<br />
<br />
<br />
<br />
-ঠিক আছে আম্মু।এখুনি আসছি…রাখি। …যদিও বললাম তবুও আরো অন্তত এক ঘন্টা থাকার প্ল্যান।<br />
<br />
<br />
<br />
-শোন…<br />
<br />
-যতক্ষন কথা বলবা…গেট বন্ধ করার সময়ের সাথে ততক্ষন add হবে।<br />
<br />
<br />
<br />
-চোপ বেয়াদপ।যা বলছি সেটা শোন।<br />
<br />
<br />
<br />
-অলরেডি ৩ মিনিট হয়ে গেছে…১০ টা ৩…<br />
<br />
<br />
<br />
-প্রিয়তির জ্বর দুপুর থেকে…ওর জন্য কয়েকটা নাপা এক্সট্রা নিয়ে আসিস…<br />
<br />
<br />
<br />
-আম্মু একটু ধরো তো…<br />
<br />
<br />
<br />
“এই দোস্তরা থাক আমি গেলাম।প্রিয়তির জ্বর…” বলেই কারোর জবাবের অপেক্ষা না করে হাঁটা দিলাম।<br />
<br />
<br />
<br />
-হ্যাঁ আম্মু,আমি আসতেছি…বাই।<br />
<br />
<br />
<br />
কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও কোন রিকশা পেলাম না।অগত্যা হাঁটতে শুরু করলাম……।<br />
<br />
<br />
<br />
অনেকদিন পর ছুটি পেয়েছি।বাসায় এসেছি গত পরশু।অনেকদিন পর দেখছি সবকিছু।সেই চিরপরিচিত দোকানপাঠ,রাস্তাঘাট,বাড়িঘর,মাঠ,গাছ…মানুষগুলো।পরিচিত যেসব মানুষগুলোর সাথে কখনো তেমনভাবে কথাবার্তাও হয়নি তাদের সাথে কথা বলতেও ভালো লাগে।<br />
<br />
<br />
<br />
সবকিছু আমার একান্ত আপন।আমার নিজের শহর।বন্ধু,আত্মীয়-স্বজন,আব্বু-আম্মু,আর……প্রিয়তি।আমার আদরের ছোট্ট বোন।আর তার মুখের টিয়া পাখির মত সুরে “ভাইয়ামনি” ডাক।<br />
<br />
<br />
<br />
প্রিয়তি…।<br />
<br />
<br />
<br />
আমার জগৎটাকে আমি খুব সহজেই দুই ভাগে ভাগ করে ফেলতে পারি।একভাগে প্রিয়তি; অন্যভাগে বাকি সব।প্রিয়তির বয়স ৭।ক্লাস টু’তে পড়ে।চঞ্চলতার কোন ইভেন্ট অলিম্পিকে থাকলে অনায়াসে সে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম স্বর্ণপদকটা এনে দিত।তার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে সবসময় একসাথে কমপক্ষে ১০ টি বিষয় কাজ করে।তাই সে কোনটাতেই স্থির হতে পারেনা।আমাদের কলোনীর সবচেয়ে কিউট বাচ্চা সে।নিজের ছোটবোন বলে বলছি না।সবাই ওকে অনেক আদর করে।কিন্তু little princess কারো আদরই সহ্য করতে পারেননা।কেও তাকে একটু টাচ করলেই চিৎকার করে কান্নাকাটি শুরু করে।এমনকি সে আব্বুর কাছেও কখনো যেতে চায় না।প্রতিটি ব্যাপারে তার অনেক strong opinion. একবার যেটা বলবে সেটাই।<br />
<br />
<br />
<br />
বাসায় পৌঁছে কলিংবেল বাজাতেই টিয়াপাখির চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পেলাম।“Busy বিল্লি” “Busy বিল্লি”।<br />
<br />
<br />
<br />
কোনো এক ক্লান্ত দুপুরে ঝিমাতে ঝিমাতে 9XM মিউজিক চ্যানেলটা দেখছিলাম।পাশে বসে ছিল প্রিয়তি।টিভির দিকে অনেক্ষন তাকিয়ে থেকে বেশ কিছুক্ষন ভেবে সে ঘোষনা করলো আমি নাকি দেখতে কার্টুন “ভিগি বিল্লি” র মতো।“ভিগি বিল্লি” টার্মটা কোনো এক কারনে তার কাছে মনে হয়েছে “বিজি বিল্লি”।<br />
<br />
<br />
<br />
অনেক চেষ্টা করেছি তাকে বোঝাতে পারলাম না যে আমি দেখতে ওরকম না আর word টা “ভিগি বিল্লি”।<br />
<br />
<br />
<br />
কিন্তু সে মানতে নারাজ।আগেই বলেছি সব বিষয়ে তার opinion অনেক strong. তারপর থেকেই আমি তার “Busy বিল্লি”।<br />
<br />
<br />
<br />
নেহায়েৎ তার মনে গভীর ভাবের উদয় না হলে আজকাল আমাকে “ভাইয়ামনি” বলে ডাকেনা।<br />
<br />
<br />
<br />
যা হোক,বাসার গেট খোলা হলো।খোলার সাথে সাথেই দেখি টিয়াপাখি দুই হাত উঁচু করে চোখ বন্ধ করে লাফাচ্ছে।অর্থ্যাৎ “কোলে নাও”।কোলে তুলে নিতেই ছোট্ট ছোট্ট হাত দিয়ে শক্ত করে আমার গলা জড়িয়ে ধরলো।শরীর পুড়ে যাচ্ছে জ্বরে।তারপরও অস্থিরতার শেষ নেই।আম্মু দেখি পিছন পিছন ভাতের প্লেট হাতে নিয়ে ছুটছে।<br />
<br />
<br />
<br />
-খেয়ে নে মা,আর জ্বালাস না…আম্মু বলল।<br />
<br />
<br />
<br />
-নাআআআ…বলে চিৎকার করে আমাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কাঁধে মুখ লুকালো।<br />
<br />
<br />
<br />
আমি আম্মুকে ইশারা করলাম একটা।<br />
<br />
<br />
<br />
-আম্মু কি ভাত?<br />
<br />
<br />
<br />
-এইতো দুধ ভাত।<br />
<br />
<br />
<br />
-আম্মু দুষ্টিপাখিরা কি খায় যেন?<br />
<br />
<br />
<br />
-দুষ্টিপাখিরা তো দুধভাত খায়।<br />
<br />
<br />
<br />
-ও…আমাদের বাসায় তো কোনো দুষ্টিপাখি নেই।তুমি এক কাজ করো…তাসিন বাবুকে (কাজিন) খাইয়ে দিও ঐটা।তাসিন বাবু দুষ্টিপাখি হয়ে যাবে তাহলে।<br />
<br />
<br />
<br />
-নাআ…আমি দুষ্টিপাখি…’ আমার কাঁধে মুখ লুকিয়ে রেখেই বললো।<br />
<br />
<br />
<br />
-তাহলে খেয়ে নাও বাবু।<br />
<br />
<br />
<br />
-না…খাবোনা…।<br />
<br />
<br />
<br />
আহ্লাদ করে ফুঁপিয়ে বললো।<br />
<br />
<br />
<br />
বুঝলাম জ্বরে রুচি হারিয়েছে।পকেট থেকে ক্যাডবেরি চকলেট বের করে বললাম “আম্মু ক্যাডবেরিটা তাহলে তাসিন বাবুকে দিয়ে দিও।“<br />
<br />
<br />
<br />
এবার কাজ হলো।ক্যাডবেরীর লোভে খেতে চাইল ভাত।কিন্তু আম্মুর হাতে খাবেনা।আমার হাতে খাবে।তাকে কোলে করে বসিয়ে খাওয়াতে লাগলাম।কিছুক্ষন “টম এন্ড জেরি”র গল্প করলো।তারপর কি মনে হলো সিদ্ধান্ত নিল সে নিজ হাতে খাবে।কি আর করা…ছেড়ে দিলাম তার হাতেই।যা খেল তার তিনগুন ছিটালো।নাকে মুখে দুধভাত মাখিয়ে দাঁত বের করে যখন আমার কাছে এসে বলল “খাওয়া শেষ” তখন তাকে দেখতে লাগছে একটা বিড়ালের মত।<br />
<br />
<br />
<br />
বিড়ালের মুখ ধুইয়ে দিয়ে বিছানায় নিয়ে গেলাম কোলে করে।ওষুধ খাওয়াতে গিয়ে ভাত খাওয়ানোর তিনগুন পেইন নিতে হলো।তার “মিস্টার পান্ডু” (টেডি বিয়ার) কে খুঁজে পেতে আরো কিছুক্ষন সময় ব্যয় হলো।অবশেষে little princess ঘুমানোর জন্য রেডি হলেন মিস্টার পান্ডুকে কোলের মধ্যে নিয়ে।তখনো গায়ে অনেক জ্বর।মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে দিচ্ছি।বিড়ালের মত আরো কাছে সরে এলো।আমি ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করেই যাচ্ছি।কিন্তু সে শুধু ছটফট করে।বেশ কিছুক্ষন পর নিজের ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুল মুখে পুরে নিল।ঘুমানোর পুর্বাভাস।মাথার চুলে বিলি কেটে দিতে লাগলাম।আস্তে আস্তে ওর শ্বাস-প্রশ্বাস ভারী হয়ে এলো।ঘুমিয়ে পড়লো আমার দুষ্টিপাখি।আমি সারারাত জেগে থাকলাম অর পাশে।শেষ রাতের দিকে ওর জ্বর নেমে এলো।<br />
<br />
<br />
<br />
কিছুদিন পর।<br />
<br />
<br />
<br />
রুমের দরজা ঠেলে দিয়ে বারান্দায় বসে সিগারেট টানছি।কখন যে পিচ্চিটা গুটুর গুটুর করে ঢুকে পড়েছে খেয়াল করিনি।আমার হাতে সিগারেট দেখে সে কিছুক্ষন চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো।তারপরেই তারস্বরে চিৎকার করতে যাবে, “আম…ম…” আম্মু ডাকটা ডেকে শেষ করার আগেই মুখ চেপে ধরলাম।কিছুক্ষন অনেক জোরাজুরি করল।অবশেষে না পেরে হাল ছেড়ে দিলো।আমি তাড়াতাড়ি টেবিল এর ড্রয়ার থেকে ক্যাডবেরী বের করে দিলাম।এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে রাখা লাগে।কিন্তু বোঝা গেল ঘুষ যথেষ্ট না।এখন তার সাথে ছাদে গিয়ে তার সাহেবদের কে খাওয়াতে হবে । সাহেব অর্থ্যাৎ তার কবুতররা।উপায় নেই।যেতে হলো।<br />
<br />
<br />
<br />
আমি আর ও মিলে খাওয়াতে লাগলাম।বোঝা গেল কবুতরগুলো তাদের এই পিচ্চি মালকিনকে ভালোই চিনে।ও ওদেরকে ছুটে ছুটে তাড়া করছে।ধরছে।কবুতরগুলো কিছু মনে করছে না।খাওয়ানো শেষে দুষ্টিপাখির সাথে কিছুক্ষন খেলা করতে হলো।শেষ বিকালের দিকে ওকে কোলে করে ছাদে দাঁড়িয়ে আছি।অনেক্ষন বকবক করে এখন তিনি রেস্ট নিচ্ছেন।<br />
<br />
<br />
<br />
-প্রিয়তি বাবু…<br />
<br />
<br />
<br />
-হুম…<br />
<br />
<br />
<br />
-তোমার ক্লাস পজিশান কত বাবু?<br />
<br />
<br />
<br />
প্রশস্ত একটা হাসি দিয়ে বলল “ফার্স্ট”।<br />
<br />
<br />
<br />
গাল টিপে আদর করে দিয়ে বললাম… “আমার সোনাপাখি”।<br />
<br />
<br />
<br />
অমনি সে ভ্রু কুঁচকে ফেললো।কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে আমার মুখ খাঁমচে ধরল।<br />
<br />
<br />
<br />
-এই এই,কি হলো ও ও…লাগছে তো…<br />
<br />
<br />
<br />
-আমি সোনাপাখি না…দুষ্টিপাখি বল।<br />
<br />
<br />
<br />
-আচ্ছা রে বাবা ঠিক আছে।দুষ্টিপাখি,দুষ্টিপাখি,আমার দুষ্টিপাখি।<br />
<br />
<br />
<br />
অবশেষে থামলো।আমি এবার মেকি মন খারাপ করে বললাম…<br />
<br />
<br />
<br />
-বাবু আমাকে খাঁমচে দিলা এখন কি হবে?আমি যে ব্যাথা পাইলাম…<br />
<br />
<br />
<br />
আমার দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষন কি যেন ভাবল।তারপর আমার গালে চুমু দিয়ে দিলো একটা।দুষ্টিপাখিটাকে বুকে চেপে ধরে আদর করে দিলাম।আমার এই জা্নটাকে ছেড়ে দূরে ভার্সিটিতে আমি কিভাবে থাকি সে শুধু আমিই জানি।<br />
<br />
<br />
<br />
সন্ধ্যায় তার মিস এসেছে।কিন্তু সে পড়তে চাইছে না কিছুতেই।পেট চেপে ধরে বসে আছে।আম্মু অনেক বকাবকি করছে।কিন্তু সে পেট চেপে ধরে বসেই আছে।আমি গিয়ে ওকে কোলে করে নিজের রুমে নিয়ে এলাম।জিজ্ঞাসা করলাম…<br />
<br />
<br />
<br />
-বাবু কোথায় ব্যাথা করে?<br />
<br />
<br />
<br />
-এইখানে… পেটে হাত দিয়ে দেখালো।<br />
<br />
<br />
<br />
চকলেট বের করে বললাম…”এইটা খাইলে কি প্রিয়তি বাবুর ব্যাথা ঠিক হবে?”<br />
<br />
<br />
<br />
কিন্তু ও চকলেটও খেতে চাইলো না।অবশষে আমি মিসকে চলে যেতে বললাম।ওকে আমিই পড়িয়ে নিব।কোন পর্যন্ত পড়ানো হয়েছে দেখে নিলাম।<br />
<br />
<br />
<br />
কিন্তু রাত্রে ও বমি করলো।বেশ কাহিল হয়ে পড়লো।আমরা কিছুই বুঝতে পারলাম না কেন হচ্ছে।অবশ্য ও বেশ তাড়াতাড়িই ঘুমিয়ে পড়লো।<br />
<br />
<br />
<br />
সকালবেলাতেই স্বাভাবিক।ছুটির দিন।স্বভাবসুলভ দুষ্টামিতে বাসা মাথায় করে রাখলো।<br />
<br />
<br />
<br />
ঈদটা সেবার অনেক ভালো কাটলো।দুষ্টিপাখিকে বড় একটা টেডি বিয়ার ও কিনে দিলাম।ছুটি শেষ হয়ে এল।বুকে পাথর চেপে little princess টা কে বাসায় রেখে ভার্সিটিতে চলে এলাম।<br />
<br />
.<br />
<br />
ল্যাব,assignment,class test এর চাপে যখন জর্জরিত এরকম একটা দিনে আম্মু হঠাৎ ফোন দিয়ে বলল…<br />
<br />
<br />
<br />
-“বাপ কালকে তুই বাসায় আসতে পারবি?”<br />
<br />
<br />
<br />
আম্মুর কন্ঠে কি যেন ছিল।আমি ভয় পেয়ে গেলাম…<br />
<br />
<br />
<br />
-কি হয়েছে আম্মু?<br />
<br />
<br />
<br />
-তেমন কিছু না রে…তোর আব্বু একটু অসুস্থ।কাল তো বৃহস্পতিবার।তুই চলে আয়।শনিবারে চলে যাস আবার।<br />
<br />
<br />
<br />
-আব্বুর কি হয়েছে আম্মু সত্যি করে বলো।আব্বুকে ফোনটা দাও।<br />
<br />
<br />
<br />
-নে কথা বল।<br />
<br />
<br />
<br />
আম্মু আব্বুর হাতে ফোনটা দিলেন।<br />
<br />
<br />
<br />
-হ্যাঁ বাবা,তেমন কিছু হয়নি রে।একটু অসুস্থ হয়ে পড়লাম।তুই সেই কবে গেছিস।বাসা থেকে ঘুরে যা একটু।<br />
<br />
<br />
<br />
-আব্বু তুমি ঠিক আছো তো?শরীর এখন কেমন?<br />
<br />
<br />
<br />
-আমি ঠিক আছি রে বাবা।টেনশান করিস না।তুই চলে আয়।<br />
<br />
<br />
<br />
-ঠিক আছে আব্বু।<br />
<br />
<br />
<br />
-রাখি তাহলে?<br />
<br />
<br />
<br />
-ঠিক আছে আব্বু।আমি চলে আসবো।<br />
<br />
<br />
<br />
আব্বুর একবার হার্ট-এটাক হয়েছে।না জানি আবার কি সমস্যা হল।আমি পরের দিনের অপেক্ষা না করে সেদিনই চলে গেলাম।<br />
<br />
বাসায় যখন পৌছালাম তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে।কলিংবেল চাপলাম।“বিজি বিল্লি” টাইপ কোনো চিৎকার শোনা গেল না।কয়েকবার কলিংবেল চাপার পরেও না।বাচ্চা হলেও বাসার পরিস্থিতিটা হয়ত বুঝতে পারছে প্রিয়তি।আব্বুকে ভয় পেলেও অনেক ভালোবাসে সে।তার ড্রয়িং খাতায় সে আমার পর আব্বুর ছবিই সবচেয়ে বেশি এঁকেছে।গেট খুললেন ফুপি।বাবার খবর পেয়ে মনে হয় সবাই এসেছেন।বাসায় ঢুকে অবশ্য ড্রয়িং রুমে ফুফা বাদে আর কাউকে দেখতে পেলাম না।ব্যাগ রেখে আব্বুর রুমে গিয়ে দেখি আব্বু নেই।বারান্দায় গিয়ে দেখি চেয়ারে বসে আছেন।আমাকে দেখে উঠে দাঁড়ালেন।<br />
<br />
<br />
<br />
-এসে গেছিস বাবা…<br />
<br />
<br />
<br />
-হ্যাঁ বাবা,তুমি ভালো আছো?<br />
<br />
<br />
<br />
-হ্যাঁ রে…ভালো আছি।তুই কেমন ছিলি?আসতে সমস্যা হয়নি তো কোনো?<br />
<br />
<br />
<br />
-না আব্বু।আমার কথা বাদ দাও।তোমার কি হয়েছিল সেটা বলো।<br />
<br />
<br />
<br />
বাবা চুপ করে সামনের দিকে তাকিয়ে আছেন।<br />
<br />
<br />
<br />
-আর প্রিয়তি আম্মু এরা কই?বাইরে গেছে নাকি?দেখলাম না তো।<br />
<br />
<br />
<br />
বাবা চুপ করেই আছেন।<br />
<br />
<br />
<br />
-কি হলো আব্বু,কথা বলোনা যে?<br />
<br />
<br />
<br />
আব্বু বললেন…<br />
<br />
<br />
<br />
-ঐযে…প্রিয়তি একটু অসুস্থ তো।ওকে নিয়ে একটু হসপিটালে গেছে।<br />
<br />
<br />
<br />
-মানে?????প্রিয়তির কি হয়েছে আব্বু?<br />
<br />
<br />
<br />
আস্তে আস্তে আমার কাছে সবকিছু পরিস্কার হতে থাকে।আসলে আব্বুর কিছু হয়নি।প্রিয়তির কিছু একটা হয়েছে।<br />
<br />
.<br />
<br />
-কি হয়েছে আব্বু বলো…চুপ করে আছো কেন?কোনো accident হয়েছে?আমাকে বলো…<br />
<br />
<br />
<br />
-না রে বাবা…তেমন কিছুই না।একটু সর্দি জ্বর।<br />
<br />
<br />
<br />
-আব্বু আমার কাছ থেকে লুকাবা না।বলো আমাদের প্রিয়তির কি হয়েছে?<br />
<br />
<br />
<br />
আব্বু চুপ করে থাকেন কিছুক্ষন।তারপর দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন…<br />
<br />
<br />
<br />
-বাবা শোন।প্রিয়তি একটু sick.<br />
<br />
<br />
<br />
-“আব্বু তুমি acting করবা না।বলো তুমি আমার প্রিয়তির কি হইছে…” অনিয়ন্ত্রিত ভাবে আমার চোখ বেয়ে কয়েক ফোঁটা অশ্রু নেমে আসে।<br />
<br />
<br />
<br />
আব্বু আবার কিছুক্ষন চুপ করে থাকেন।বেশ কিছু দীর্ঘশ্বাস গোপন করে বলেন…<br />
<br />
<br />
<br />
-শোন…শক্ত হ এ্কটু।প্রিয়তির লিউকেমিয়া হয়েছে।নতুন ব্লাড সেল ফর্ম করছে না।<br />
<br />
<br />
<br />
আমি হা করে আব্বুর দিকে চেয়ে থাকি।<br />
<br />
<br />
<br />
-“আব্বু প্রিয়তি একটা বাচ্চা মেয়ে……”<br />
<br />
<br />
<br />
-“শোন পাগল…এত সিরিয়াস কিছু না।ডক্টর বলেছেন কিছুদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।<br />
<br />
<br />
<br />
আমি চিৎকার করে বলি…”আমাকে শিখাবানা আব্বু।আমি জানি লিউকেমিয়া কি…”<br />
<br />
<br />
<br />
আব্বু আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন।<br />
<br />
<br />
<br />
আমি কাঁদতে কাঁদতে বলি… “আব্বু ভুল হইছে।ডাক্তাররা অনেক ভুল করে অনেক সময় তুমি জানোনা আব্বু।ওরা ভুল করেছে।প্রিয়তির কিছু হয়নি।ও তো একটা বাচ্চা মেয়ে…”<br />
<br />
<br />
<br />
আর কিছু বলতে পারিনা।গলায় আটকে যায় সবকিছু।আমার জগৎ হঠাৎ অন্ধকার হয়ে যায়।<br />
<br />
<br />
<br />
বাবা অনেক sensible মানুষ।আমাকে শকগুলা আস্তে আস্তে দিতে থাকেন।লিউকেমিয়ার প্রতিকার সম্ভব।একুশ দিন পর পর রক্ত পরিবর্তন করা লাগে।কিন্তু প্রিয়তির অনেক দেরি হয়ে গেছে।ওর blood cell গুলা খুব তাড়াতাড়ি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।Afford করা সম্ভব হচ্ছেনা।যার অর্থ আমার প্রিয়তির হাতে আর বেশিদিন সময় নাই।<br />
<br />
<br />
<br />
আমার বিশ্বাস হয় না।কোন ভাবেই না।এইতো সেদিনকার বাচ্চা।দোলনায় শুয়ে হাত নেড়ে নেড়ে খেলা করতো।আমার কোলে আসলে চোখ বড় বড় করে আমাকে দেখতো।যাই দেখত তাই মুখে দিতে চাইত।আমার কোলে এসেই চশমা ধরে টানাটানি শুরু করত।যাকে এখনো পর্যন্ত কোলে করে বাথরুমে দিয়ে না আসলে সকালে ঘুম ভাঙ্গে না।যে এখনো অরেঞ্জ ফ্লেভারের টুথপেস্ট খেয়ে ফেলে…<br />
<br />
<br />
<br />
আমি আর ভাবতে পারি না…<br />
<br />
.<br />
<br />
আব্বু আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।কেবিনে ঢোকার আগে নিজেকে পুরোপুরি শান্ত করে ফেলি।ঢুকে দেখি আমার দুষ্টিপাখি শুয়ে আছে…বিছানায় সাদা চাদর পাতা।তার উপর ছোট্ট একটা শরীর।মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে কেমন।ছোট্ট শরীরটা শুকিয়ে আরো ছোট্ট হয়ে গেছে।চোখটা তীক্ষ।কিন্তু আমাকে দেখেই সেই আগের ভঙ্গিমায় ফিক করে হাসিটা দিল।আমার বুকের ভিতর চিনচিন করে একটা ব্যাথা বেজে উঠলো।চোখে অস্থিরতা টা এখনো রয়েছে।কিন্তু হাত-পা নাড়ানোর ক্ষমতা কমে গেছে।আমার দিকে তাকিয়ে বললো…<br />
<br />
<br />
<br />
-“বিজি বিল্লি”<br />
<br />
<br />
<br />
ওর ছোট্ট মুখটা ধরে কপালে একটা চুমু দিয়ে দিলাম।ওর মাথার কাছে বসলাম।আস্তে আস্তে গুটুর গুটুর করে আমার সাথে গল্প করতে লাগলো।<br />
<br />
<br />
<br />
মামনি যে কত দুষ্টু হয়েছে।হস্পিটালে তার মিস্টার পান্ডুকে আনতে ভুলে গেছে।তাই তার ঘুম হয় না।সেকথা বলতেও ভুললো না।<br />
<br />
আমি আমার দুষ্টিপাখিটার সারা মুখে আলতো করে হাত বুলিয়ে দেই।<br />
<br />
-বাবু তোমার কিছু হবেনা।তুমি আমার দুষ্টিপাখি না?দুষ্টিপাখিদের কি কিছু হয় নাকি?কিচ্ছু হয়না।<br />
<br />
<br />
<br />
আমার বাবু ফিক করে হাসি দিয়ে বলল…<br />
<br />
<br />
<br />
-আম্মু আমাকে বলেছে ডক্টর আঙ্কেলের বাসায় আসার পর ডক্টর আঙ্কেল আমাকে অনেক পছন্দ করেছেন।তাই যেতে দিচ্ছেনা।<br />
<br />
<br />
<br />
-হ্যাঁ তাইতো সোনা।কিন্তু আমি যে তোমাকে ডক্টর আঙ্কেলের থেকেও বেশি পছন্দ করি।আমি তোমাকে তাড়াতাড়ি নিয়ে যাবো।<br />
<br />
<br />
<br />
-হুম…তুমি কিন্তু অনেকদিন থাকবা এবার…তাড়াতাড়ি চলে যাবা না…<br />
<br />
<br />
<br />
-হুম সোনা…তোমাকে ছেড়ে কোত্থাও যাবোনা…<br />
<br />
<br />
<br />
-আর স্কুলে দুষ্টু ইভন আমার মাথায় মেরেছে…তুমি ওকে মেরে দিবা…<br />
<br />
<br />
<br />
-ঠিক আছে সোনা…অনেক অনেক মেরে দিব।সাহস তো কম না…দুষ্টিপাখির গায়ে হাত তোলে।<br />
<br />
<br />
<br />
ও একটা হাসি দেয়।আমি ওর সারা মুখে চুমু দিয়ে দেই আলতো করে করে।আমার দুষ্টিপাখি আদরটা ধরতে পারে।আমার দিকে ফিরে চোখ বন্ধ করে পড়ে থাকে।<br />
<br />
<br />
<br />
সেদিন রাতে আমি বাসায় ছিলাম।রাত্রে শুনলাম প্রিয়তি বাবু রক্তবমি করেছে।পরদিন সারাদিন ছাড়া ছাড়া ভাবে জ্ঞান আসলো আর গেল।কোনো কথা বলতে পারলো না।তারপরদিন কথা বলার অবস্থা হলো।কিন্তু অনেক আস্তে আস্তে কথা বলতে লাগলো।<br />
<br />
<br />
<br />
ওর কাছে গেলাম।<br />
<br />
<br />
<br />
-দুষ্টিপাখি কেমন আছো?<br />
<br />
<br />
<br />
প্রথমে কছুক্ষন চুপ করে থাকলো।তারপর আমাকে ডেকে বললো আম্মুকে দূরে যেতে বলো।আম্মুকে দূরে যেতে বললাম…হয়নি,আরো দুরে।আরো দূরে গেলো আম্মু।<br />
<br />
<br />
<br />
প্রিয়তি আমাকে ডেকে কানে কানে বললো…<br />
<br />
<br />
<br />
-ভাইয়ামনি শোন…<br />
<br />
<br />
<br />
-বলো দুষ্টিপাখি।<br />
<br />
<br />
<br />
-তুমি আর কিসারেট (সিগারেট) খাবানা।ডক্টর আঙ্কেল বলে কিসারেট খেলে ক্যান্সার হয়।<br />
<br />
<br />
<br />
আমি প্রচন্ড কষ্টে আমার চোখের পানি আটকাই।<br />
<br />
<br />
<br />
-ঠিক আছে বাবু।আমি আর কক্ষনো কিসারেট খাবোনা।<br />
<br />
<br />
<br />
-প্রমিজ?<br />
<br />
<br />
<br />
-প্রমিজ সোনা…<br />
<br />
<br />
<br />
-না…পিঙ্ক প্রমিজ করো…<br />
<br />
<br />
<br />
-হ্যাঁ সোনা পিঙ্ক প্রমিজ।<br />
<br />
<br />
<br />
-প্রমিজ না রাখলে কিন্তু তোমার জিব্বা কালো হয়ে যাবে।<br />
<br />
<br />
<br />
-আমি রাখবো সোনা।আমি তোমার লক্ষী ভাইয়ামনি না?<br />
<br />
<br />
<br />
ও কিছুক্ষন চুপ করে থেকে দুষ্টামি হাসি দিয়ে বলে…”বিজি বিল্লি”।<br />
<br />
<br />
<br />
আবার বলে…<br />
<br />
-ভাইয়ামনি তুমি আমার মিস্টার পান্ডুকে কোলে করে ঘুমাবা বলো…<br />
<br />
<br />
<br />
আমি আমার চোখের অশ্রু বেঁধে রাখার যুদ্ধে হেরে যাই…দু’এক ফোঁটা অশ্রু বেয়ে পড়ে…<br />
<br />
<br />
<br />
-কেন রে সোনা?মিস্টার পান্ডু তো তোর কোল ছাড়া ঘুমায় না…<br />
<br />
<br />
<br />
-আমি মিস্টার পান্ডুকে বলে দিছি…ও তোমার কোলে ঘুমাবে এখন থেকে।<br />
<br />
<br />
<br />
-ঠিক আছে বাবু।আমি তোর মিস্টার পান্ডুকে কোলে করে ঘুমাবো।<br />
<br />
<br />
<br />
-আর তাসিন বাবুকে দুষ্টিপাখি বানাবা না।আমি দুষ্টিপাখি…আম্মু বারবার তাসিন বাবুকে দুষ্টিপাখি বানিয়ে দেয়…<br />
<br />
<br />
<br />
বলতে বলতে আমার প্রিয়তি বাবুর চোখ থেকে মুক্তার মতো কয়েকফোঁটা অশ্রু ঝরে পড়ে।ছোট্ট পবিত্র এই বাচ্চাটার অশ্রু সহ্য করার ক্ষমতা আমার ছিলনা।দু’হাতে অর ছোট্ট মুখটা ধরে কপালে একটা চুমু দিয়ে দৌড়ে চলে এলাম বাইরে।<br />
<br />
<br />
<br />
পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেটটা ছুড়ে ফেলে পা দিয়ে সজোরে রাস্তার সাথে পিশলাম।চোখ থেকে অনবরত পানি পড়েই যাচ্ছে…আকাশের দিকে তাকালাম…সপ্তম আসমানে আল্লাহ বলে একজন আছেন।যিনি সকল ক্ষমতার অধিকা্রী…তার কাছে মিনতি করে বললাম…হে আল্লাহ।এই অবুঝ নিষ্পাপ পরীর মত শিশুটি তো জীবনে কোনো পাপ করেনি।তবে কিসের শাস্তি তুমি ওকে দিচ্ছ?ও তো একটা ফেরেস্তা…ছোট্ট ফেরেস্তাটার কষ্ট যে আমি নিতে পারছিনা আর খোদা।আমি সিগারেট খাই…নামাজ পড়িনা।অনেক পাপ করি…তুমি ওর বদলে আমাকে তুলে নাও… কিন্তু আমার ছোট্ট নিষ্পাপ দুষ্টিপাখিটাকে ফিরিয়ে দাও।<br />
<br />
<br />
<br />
আমার মত পাপী বান্দার মিনতি শোনার প্রয়োজন হয়তো আল্লাহ বোধ করেননি।……আমার দুষ্টিপাখিটা তাই উড়ে গিয়ে আকাশের তারা হয়ে জ্বলজ্বল করে জ্বলতে থাকে।<br />
<br />
<br />
<br />
আমার পাশের বাসায় পরীর মত ছোট্ট একটা বাচ্চা ছিল।অনেক অস্থির,চঞ্চল আর মিষ্টি।বারান্দায় বসে ওর ছোটাছুটি আর খেলা করে বেড়ানো দেখতাম আর ভাবতাম…ইশ!আমার যদি একটা বোন থাকতো।কিছুদিন আগে মেয়েটার লিউকেমিয়া হয়।ছোট্ট বয়সেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়।যানিনা আল্লাহ পাহাড় সমান পাপ করে ফেলা মানুষগুলকে রেখে কেন ফেরেশতাগুলোকে এত আগে আগে তুলে নেন।শুনেছি আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাদের আগে আগে তুলে নেন নিজের কাছে।সেজন্যই হয়তোবা হবে।তবুও আল্লাহর কাছে আমার প্রার্থনা…আল্লাহ,অন্ধকারাচ্ছন্ন এই দুনিয়ায় ফেরেশতার মত শিশুরাই আলোর উৎস।তুমি ফুলগুলোকে আমাদের কাছ থেকে এত তাড়াতাড়ি তুলে নিওনা।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[একজন পতিতার গল্প]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=217</link>
			<pubDate>Tue, 10 Jan 2017 08:39:44 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=217</guid>
			<description><![CDATA[রাত তখন দশটা বিশ মিনিট। ফুটপাতের হোটেলের কাঠের চেয়ারে বসে আছি দুই বন্ধু; আমি আর নাসির। বসে চা,আর মোগলাই পরটা খেয়ে নাসির একটা সিগারেটে আগুন ধরিয়ে টানতে লাগলো। সিগারেটের ধোয়ায় কুন্ডলী পাকিয়ে আশপাশটা ভরে গেল। আর দুষিত বায়ুতে নিঃশ্বাস টানতে হচ্ছে দেখে খুব বিরক্ত লাগলো। কেন যে মানুষ সিগারেট খায় ? অযথাই কেন যে আশপাশের পরিবেশটাকে দূষিত করে ? বোকা লোকগুলো এর মাঝে কি সুখ খুজে পায় আমার বুঝে আসেনা।<br />
<br />
<br />
<br />
কিছুক্ষন আড্ডা দেয়ার পর দুই বন্ধু একসাথে বাড়ির উদ্দেশ্য রওয়ানা দিলাম; রাত তখন দ্বিপ্রহর। ঘন্টার কাটা বারোটা ছুই ছুই আকাশে ক্ষয়ে যাওয়া চাঁদ।”ছেড়া মেঘের ফাক ফোকর গুলিয়ে মরা জ্যোসনা এই মধ্যরাতের প্রকৃতিকে বড় অচেনা করে আনে। জলসিক্ত হাসনা হেনার গন্ধ মাদকতা ছড়ায়।<br />
<br />
<br />
<br />
এলোমেলো ভাবতে ভাবতেই হাটতে লাগলাম। বন্ধু নাসির, চলে গেল তার বাড়ির পথটি ধরে। চারদিক তখন একেবারে নিরব নিস্তব্দ; পুরো শহর তখন গভীর ঘুমে মগ্ন। দূরে নিম গাছে একটি কুক পাখি ডেকে চলছে অবিরাম। কুক পাখির ডাকটাই যেন কেমন! শুনলে গা ছম ছম করে উঠে! কেমন যেন একটা বিষাদ ও বিরহী ভাব ডাকটার মধ্যে। সেই ডাক এই শীতের রাতের নিঃস্তব্দতাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে।<br />
<br />
<br />
<br />
আমার হাতে একটি চার্জলাইট। বড় রাস্তা ছেড়ে যখন ছোট রাস্তায় পায়ে হেটে চলছি। হঠাৎ করেই; হাটা থামিয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম! মনে হল, রাস্তার একটু দূরেই কদম গাছের নিচের ঝোপ-ঝাড় গুলো বড় বেশী নড়া-চড়া করছে! একটু ভয় নিয়ে আস্তে করে এগিয়ে গেলাম। তারপর চার্জলাইটের আলো ফেলতেই একটা তরুন দেহের মত একজন মধ্যবয়সী লোক; হাঁজার মাইল বেগে ছুটে পালালো। আরো একটু এগিয়ে লাইটের আলো ফেলে দেখলাম!<br />
<br />
<br />
<br />
নাভীর উপরের অংশে কাপড় ছাড়া একটা নারীদেহ; মুখে হাত দিয়ে দুই চোখ ডেকে চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। তার ভরাট দেহ যেন বর্ষার নদীর ঢেউয়ের মত ফুলে ফুলে উঠছে! চোঁখ’টা সরিয়ে নিলাম। কি বলবো তাকে ঠিক বুঝে উঠছিলাম না।’জোরে ধমক দিলাম! এই মেয়ে তুমি কে? কিছু বুঝে উঠার আগেই নারী দেহটি ডাইব দিয়ে দুই পা জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠল।<br />
<br />
<br />
<br />
ভাইজান,আপনার আল্লাহর দোয়াই আমারে এই শহরের পতিতা বানাবেন না। আমার কোন দোষ নাই। আবার ধমক দিলাম, চুপ করো;কাপড় পরে নাও তারপর কি হয়েছে বলো? মেয়েটি পা ছেড়ে পাশের ঝোপের আড়াল থেকে শাড়ি নামক এক বস্তু গায়ে জড়িয়ে এলো যা তার রঙ হাঁরিয়েছে অনেক আগে। শাড়িতে কয়েকটি তালি লাগানোর পরেও মেয়েটির দেহ ঢাকতে ব্যর্থ হয়েছে।<br />
<br />
<br />
<br />
এরপর ফুফিয়ে ফুফিয়ে মাথা নিচু করে এসে সামনে দাঁড়াল। তাকিয়ে দেখলাম, বয়সে আমার থেকে অনেক বড় হবে তাই এবার আপনি করেই বললাম। সে মাথা নিচু করেই বলতে লাগলো। সে পাশের বাড়ির মৃত বদর আলীর ছেলে সিরাজের স্ত্রী। তার স্বামী বিদেশে কি এক কারখানায় নাকি চাকরি করে। আগে বছর খানেক পর পর বাড়ি আসত,কাপড় নিয়ে টাকা নিয়ে। কিছুদিন থাকত;তাকে আদর সোহাগ করে আবার চলে যেত। দুই’ বছর হয়ে গেল সিরাজ আর আসেনা। ওখানে সে আরেকটা বিয়ে করেছে; এখন সে আর আসবে না। সে গৃহস্থ বাড়িতে কাজ করে। অনেক যুবক এমনকি বয়স্ক বৃদ্ধরাও তাকে কুকামের প্রস্তাব দেয়। সে কোনোদিন রাজি হয়নি। অনেকবার ভেবেছে এই শহর ছেড়ে; স্বামীর ঘর ছেড়ে চলে যাবে সে। কিন্তু ঘরে অসুস্থ শ্বাশুড়িকে রেখে কিভাবে যাই ? একটি মায়া স্বরেই বলল সে।<br />
<br />
<br />
<br />
আমি অবাক হলাম! যে স্বামী তার খোজ খবর না নিয়ে আরেকটা বিয়ে করে সুখে থাকতে পারে অথচ তারি বৃদ্ধ অসুস্থ মায়ের দায়িত্বভার বহন করছে সে। আমি অবাক দৃষ্টিতে শুনতে লাগলাম তার কথাগুলো। প্রতিদিন একবেলা খেয়ে দিন কাটায় তাও আবার জোটেনা ঠিকভাবে। না খেয়ে ঘরে বসে থাকে সে। বাহিরে বেরুলেই তার জন্য খারাপ প্রস্তাব নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে অনেকেই। সে আর যায়না কাজে। নিজে না হয় না খেয়ে মরে যাব তাতে দুঃখ নেই কিন্তু বৃদ্ধ শ্বাশুড়ি ক্ষিদের জ্বালায় যখন চটপট করে তখন আর সহ্য হয়না। সবাই তাকে শাড়ি, টাকার লোভ দেখায়। কাপড়ের অভাবে অন্য কোথাও কাজের জন্য যেতে পারিনা। তাই শ্বাশুড়ির চিৎকারে আজ এই লোকটির কথায়… বলতে গিয়ে………..আবার কেঁদে উঠলো।<br />
<br />
<br />
<br />
এবার আর ধমক দিলাম না! কাছে গিয়ে আস্তে তার মাথায় হাত রাখলাম। মেয়েটি ভয়ে ভয়ে মাথাটা সোজা করলো। তার ঠোট দু’টো মাছির পাখার মত কাপছে; ভয় আর লজ্জায় মেয়েটি একখন আর কথা বলতে পারছে না। আমি বললাম,আপনি কোন চিন্তা করবেন না। এ কথা আমি কাউকে জানাবো না। কথাটি শুনে মেয়েটা একটা নিঃশ্বাস ছাড়ল। মনে হল,হয়তো বুকের উপর চাপানো একটন ওজনের একটা পাথর এইমাত্র সরে গেল।<br />
<br />
<br />
<br />
জিজ্ঞেস করলাম আপনার নাম কি?<br />
<br />
<br />
<br />
খুব বিরক্ত আর তাচ্ছিল্ল স্বরে উত্তর দিল সান্তা। আমি বললাম, চিন্তা করবেন না। এখন আপনি যান। ছিড়া,তালিযুক্ত কাপড়টাকে কোন মতে গায়ে জড়িয়ে; ক্লান্ত দেহটা বয়ে নিয়ে আস্তে আস্তে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল মেয়েটি।<br />
<br />
<br />
<br />
আমি তবুও দাঁড়িয়ে আছি-ভাবছি নিজেকে ভীষন অপরাধী মনে হল, আমি অসাধারন কেউ নই। সমাজ সংস্কারক ও নই, অতি তুচ্ছ একজন মানূষ;তবুও মনের পর্দায় জেগে উঠলো, জীবনে দেখা অনেক মহিলার কথা। যাদের কাছে শাড়ি লজ্জা নিবারনের জন্য কোন মূল্যবান বস্তু নয়। শাড়ি তাদের জন্য ফ্যাশন। টিভির পর্দায়,খবরের কাগজে, মানুষের মাঝে নিজেকে আকর্ষন করে তোলার এক উপদ্রব। কোন এক বিশেষ দিনে নিজেকে বিকশিত করে তোলার এক আবরন। আলমারীতে শোভা করে রাখা এক অহংকার। তাই আজ মনে পড়ল সেই সব শাড়ি পরিহিতাদের কথা; যাদের নামি-দামী বর্ণাঢ্য শাড়ির ঝলকানিতে চোঁখ ঝলসে গিয়েছে কিন্তু পানি আসেনি। অথচ আজ এই চেড়া-তালিযুক্ত আশি,নব্বই টাকার অতিসাধারন একটি শাড়ি,তা দেখে চোঁখে পানি চলে আসলো,কেন জানিনা।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[রাত তখন দশটা বিশ মিনিট। ফুটপাতের হোটেলের কাঠের চেয়ারে বসে আছি দুই বন্ধু; আমি আর নাসির। বসে চা,আর মোগলাই পরটা খেয়ে নাসির একটা সিগারেটে আগুন ধরিয়ে টানতে লাগলো। সিগারেটের ধোয়ায় কুন্ডলী পাকিয়ে আশপাশটা ভরে গেল। আর দুষিত বায়ুতে নিঃশ্বাস টানতে হচ্ছে দেখে খুব বিরক্ত লাগলো। কেন যে মানুষ সিগারেট খায় ? অযথাই কেন যে আশপাশের পরিবেশটাকে দূষিত করে ? বোকা লোকগুলো এর মাঝে কি সুখ খুজে পায় আমার বুঝে আসেনা।<br />
<br />
<br />
<br />
কিছুক্ষন আড্ডা দেয়ার পর দুই বন্ধু একসাথে বাড়ির উদ্দেশ্য রওয়ানা দিলাম; রাত তখন দ্বিপ্রহর। ঘন্টার কাটা বারোটা ছুই ছুই আকাশে ক্ষয়ে যাওয়া চাঁদ।”ছেড়া মেঘের ফাক ফোকর গুলিয়ে মরা জ্যোসনা এই মধ্যরাতের প্রকৃতিকে বড় অচেনা করে আনে। জলসিক্ত হাসনা হেনার গন্ধ মাদকতা ছড়ায়।<br />
<br />
<br />
<br />
এলোমেলো ভাবতে ভাবতেই হাটতে লাগলাম। বন্ধু নাসির, চলে গেল তার বাড়ির পথটি ধরে। চারদিক তখন একেবারে নিরব নিস্তব্দ; পুরো শহর তখন গভীর ঘুমে মগ্ন। দূরে নিম গাছে একটি কুক পাখি ডেকে চলছে অবিরাম। কুক পাখির ডাকটাই যেন কেমন! শুনলে গা ছম ছম করে উঠে! কেমন যেন একটা বিষাদ ও বিরহী ভাব ডাকটার মধ্যে। সেই ডাক এই শীতের রাতের নিঃস্তব্দতাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে।<br />
<br />
<br />
<br />
আমার হাতে একটি চার্জলাইট। বড় রাস্তা ছেড়ে যখন ছোট রাস্তায় পায়ে হেটে চলছি। হঠাৎ করেই; হাটা থামিয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম! মনে হল, রাস্তার একটু দূরেই কদম গাছের নিচের ঝোপ-ঝাড় গুলো বড় বেশী নড়া-চড়া করছে! একটু ভয় নিয়ে আস্তে করে এগিয়ে গেলাম। তারপর চার্জলাইটের আলো ফেলতেই একটা তরুন দেহের মত একজন মধ্যবয়সী লোক; হাঁজার মাইল বেগে ছুটে পালালো। আরো একটু এগিয়ে লাইটের আলো ফেলে দেখলাম!<br />
<br />
<br />
<br />
নাভীর উপরের অংশে কাপড় ছাড়া একটা নারীদেহ; মুখে হাত দিয়ে দুই চোখ ডেকে চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। তার ভরাট দেহ যেন বর্ষার নদীর ঢেউয়ের মত ফুলে ফুলে উঠছে! চোঁখ’টা সরিয়ে নিলাম। কি বলবো তাকে ঠিক বুঝে উঠছিলাম না।’জোরে ধমক দিলাম! এই মেয়ে তুমি কে? কিছু বুঝে উঠার আগেই নারী দেহটি ডাইব দিয়ে দুই পা জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠল।<br />
<br />
<br />
<br />
ভাইজান,আপনার আল্লাহর দোয়াই আমারে এই শহরের পতিতা বানাবেন না। আমার কোন দোষ নাই। আবার ধমক দিলাম, চুপ করো;কাপড় পরে নাও তারপর কি হয়েছে বলো? মেয়েটি পা ছেড়ে পাশের ঝোপের আড়াল থেকে শাড়ি নামক এক বস্তু গায়ে জড়িয়ে এলো যা তার রঙ হাঁরিয়েছে অনেক আগে। শাড়িতে কয়েকটি তালি লাগানোর পরেও মেয়েটির দেহ ঢাকতে ব্যর্থ হয়েছে।<br />
<br />
<br />
<br />
এরপর ফুফিয়ে ফুফিয়ে মাথা নিচু করে এসে সামনে দাঁড়াল। তাকিয়ে দেখলাম, বয়সে আমার থেকে অনেক বড় হবে তাই এবার আপনি করেই বললাম। সে মাথা নিচু করেই বলতে লাগলো। সে পাশের বাড়ির মৃত বদর আলীর ছেলে সিরাজের স্ত্রী। তার স্বামী বিদেশে কি এক কারখানায় নাকি চাকরি করে। আগে বছর খানেক পর পর বাড়ি আসত,কাপড় নিয়ে টাকা নিয়ে। কিছুদিন থাকত;তাকে আদর সোহাগ করে আবার চলে যেত। দুই’ বছর হয়ে গেল সিরাজ আর আসেনা। ওখানে সে আরেকটা বিয়ে করেছে; এখন সে আর আসবে না। সে গৃহস্থ বাড়িতে কাজ করে। অনেক যুবক এমনকি বয়স্ক বৃদ্ধরাও তাকে কুকামের প্রস্তাব দেয়। সে কোনোদিন রাজি হয়নি। অনেকবার ভেবেছে এই শহর ছেড়ে; স্বামীর ঘর ছেড়ে চলে যাবে সে। কিন্তু ঘরে অসুস্থ শ্বাশুড়িকে রেখে কিভাবে যাই ? একটি মায়া স্বরেই বলল সে।<br />
<br />
<br />
<br />
আমি অবাক হলাম! যে স্বামী তার খোজ খবর না নিয়ে আরেকটা বিয়ে করে সুখে থাকতে পারে অথচ তারি বৃদ্ধ অসুস্থ মায়ের দায়িত্বভার বহন করছে সে। আমি অবাক দৃষ্টিতে শুনতে লাগলাম তার কথাগুলো। প্রতিদিন একবেলা খেয়ে দিন কাটায় তাও আবার জোটেনা ঠিকভাবে। না খেয়ে ঘরে বসে থাকে সে। বাহিরে বেরুলেই তার জন্য খারাপ প্রস্তাব নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে অনেকেই। সে আর যায়না কাজে। নিজে না হয় না খেয়ে মরে যাব তাতে দুঃখ নেই কিন্তু বৃদ্ধ শ্বাশুড়ি ক্ষিদের জ্বালায় যখন চটপট করে তখন আর সহ্য হয়না। সবাই তাকে শাড়ি, টাকার লোভ দেখায়। কাপড়ের অভাবে অন্য কোথাও কাজের জন্য যেতে পারিনা। তাই শ্বাশুড়ির চিৎকারে আজ এই লোকটির কথায়… বলতে গিয়ে………..আবার কেঁদে উঠলো।<br />
<br />
<br />
<br />
এবার আর ধমক দিলাম না! কাছে গিয়ে আস্তে তার মাথায় হাত রাখলাম। মেয়েটি ভয়ে ভয়ে মাথাটা সোজা করলো। তার ঠোট দু’টো মাছির পাখার মত কাপছে; ভয় আর লজ্জায় মেয়েটি একখন আর কথা বলতে পারছে না। আমি বললাম,আপনি কোন চিন্তা করবেন না। এ কথা আমি কাউকে জানাবো না। কথাটি শুনে মেয়েটা একটা নিঃশ্বাস ছাড়ল। মনে হল,হয়তো বুকের উপর চাপানো একটন ওজনের একটা পাথর এইমাত্র সরে গেল।<br />
<br />
<br />
<br />
জিজ্ঞেস করলাম আপনার নাম কি?<br />
<br />
<br />
<br />
খুব বিরক্ত আর তাচ্ছিল্ল স্বরে উত্তর দিল সান্তা। আমি বললাম, চিন্তা করবেন না। এখন আপনি যান। ছিড়া,তালিযুক্ত কাপড়টাকে কোন মতে গায়ে জড়িয়ে; ক্লান্ত দেহটা বয়ে নিয়ে আস্তে আস্তে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল মেয়েটি।<br />
<br />
<br />
<br />
আমি তবুও দাঁড়িয়ে আছি-ভাবছি নিজেকে ভীষন অপরাধী মনে হল, আমি অসাধারন কেউ নই। সমাজ সংস্কারক ও নই, অতি তুচ্ছ একজন মানূষ;তবুও মনের পর্দায় জেগে উঠলো, জীবনে দেখা অনেক মহিলার কথা। যাদের কাছে শাড়ি লজ্জা নিবারনের জন্য কোন মূল্যবান বস্তু নয়। শাড়ি তাদের জন্য ফ্যাশন। টিভির পর্দায়,খবরের কাগজে, মানুষের মাঝে নিজেকে আকর্ষন করে তোলার এক উপদ্রব। কোন এক বিশেষ দিনে নিজেকে বিকশিত করে তোলার এক আবরন। আলমারীতে শোভা করে রাখা এক অহংকার। তাই আজ মনে পড়ল সেই সব শাড়ি পরিহিতাদের কথা; যাদের নামি-দামী বর্ণাঢ্য শাড়ির ঝলকানিতে চোঁখ ঝলসে গিয়েছে কিন্তু পানি আসেনি। অথচ আজ এই চেড়া-তালিযুক্ত আশি,নব্বই টাকার অতিসাধারন একটি শাড়ি,তা দেখে চোঁখে পানি চলে আসলো,কেন জানিনা।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[ট্রেন স্টেশনের সেই মেয়েটি]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=216</link>
			<pubDate>Tue, 10 Jan 2017 08:18:34 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=216</guid>
			<description><![CDATA[কোন এক ট্রেন স্টেশনের পাশে হাঁটছিল অর্ণব, জিসান ও রনি। ওরা তিন বন্ধু, অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। প্রচণ্ড ঘোরাঘুরির নেশা। অনেক কিছু জানা যায়, শেখা যায়, নানান বর্ণের নানান পেশার মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া যায় বলেই ঘুরতে ভাল লাগে তাদের।<br />
<br />
<br />
<br />
হঠাৎ অর্ণবের চোখে ধরা পড়ল ২০-২২ বছর বয়সী এক তরুণী। কালো কেশ বাতাসে উড়িয়ে তাদের দিকেই আসছে। প্রায় কাছাকাছি এসে মেয়েটা একটা বাদামওয়ালা পিচ্চিকে ডাক দিল। অর্ণব, জিসান ও রনি বলাবলি করছিল মেয়েটা বোধহয় খারাপ। একটু পর জিসান বাদামওয়ালাকে ডাকল। বাদাম নেয়ার ফাঁকে মেয়েটির সম্পর্কে একটু জিজ্ঞেস করল।<br />
<br />
<br />
<br />
পিচ্চি বলল, আফায় খুব ভালা। আমারে দেখলেই বাদাম নেয়। তয় হুনছি খারাপ কাজ কইরা টাকা কামায়! মানষে মোটর সাইকেল, গাড়ি দিয়া আইসা লইয়া যায় আবার রাইখাও যায়। ছেলেটি বলেই যাচ্ছিল। মায়ে কইছে মানুষরে ওজনে কম বাদাম দিলে পাপ অয়। এজন্যিই ওজনে কম দেই না। তাইলে খারাপ কাজ করলে পাপ অয় না?<br />
<br />
<br />
<br />
পিচ্চিকে টাকা দিতে দিতে মেয়েটিকে ইশারা করল রনি। মেয়েটি কাছে আসল। এরা লোক দেখলেই বোঝে কে কোন উদ্দেশে কাছে ডাকছে। বেশ কিছুক্ষণ আলাপ হল। মেয়েটিও আজ কথা বলছে তরুণদের সাথে। এক একটা কথা বুকের যেখানে জমাট ব্যথা থাকে সেখান থেকে বোধহয় বের হচ্ছিল।<br />
<br />
<br />
<br />
বাল্যকালের সুখস্মৃতি হাতড়াচ্ছে মেয়েটি। আনন্দময় জীবন ছিল তার। কিছুটা পড়াশোনাও করেছিল। মাত্র ১৪ বছর বয়সে এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় বাবা মারা যায়। সেদিন সেও ছিল সাথে। ইশ্ যদি মরতাম ভালই হত। পাপ কম, হিসেব কম, সোজা স্বর্গে চলে যেতাম।<br />
<br />
<br />
<br />
মা কি করে আপনার? হঠাৎ প্রশ্ন করল জিসান। অন্যের বাসায় কাজ করে। হকচকিয়ে উত্তর দিল মেয়েটি। ১৭-১৮ বছর বয়সে মাত্র ২৫ হাজার টাকা যৌতুক দিয়ে বিয়ে দেয় আমার। মায়ের অনেক কষ্টে জমানো টাকা ছিল।<br />
<br />
<br />
<br />
বিয়ের প্রথম মাস ভালই কাটছিল। স্বামীর আদর-ভালবাসায় দুনিয়াকেই স্বর্গ মনে করছিলাম। মাসের শেষে আস্তে আস্তে ভালবাসায় ভাঁটা পড়তে থাকে। একটা চাকুরি করত। বিয়ের পরপরই ছেড়ে দিয়েছে। এখন নতুন চাকুরি খুঁজছে।<br />
<br />
<br />
<br />
মায়ের কাছ থেকে টাকা আনার জন্য জোর করত। অলস, কাজকর্ম করতে চায় না। আমি আনতে চাইনি। এক সময় বলত যেভাবে পারিস টাকা উপার্জন করবি। ভাবছিলাম হাতে টাকা নাই তাই রাগের মাথায় এমন কথা বলছে। পরে বুঝছিলাম এটাই তার মনের কথা ছিল। একদিন সন্ধ্যাবেলা আমার স্বামীই আমাকে এই ট্রেন স্টেশনে রেখে যায়!<br />
<br />
<br />
<br />
চোখযুগল ছলছল করছে মেয়েটির। স্বামীর আদেশ মানছি। পাপতো করছি না! স্বামীর কথা অমান্য করলে স্বর্গে যাব কিভাবে? এখন বাসায় গেলে দেখব সে আরামে ঘুমাচ্ছে। বড়ই সুখের সে ঘুম। রাগ নাকি অভিমান তেমনকিছু বোঝা গেল না কথাগুলোয়।<br />
<br />
<br />
<br />
একটা দীর্ঘশ্বাস! নিরবতা-নিঃস্তব্ধতা ভেঙ্গে রনি বলল, একটা শক্ত বড় ইট সংগ্রহ করতে পারবেন না? বলেই যাচ্ছে রনি। ইটটা আপনার অলস-অকর্মণ্য স্বামীর বিছানার পাশে রাখবেন। যেন সে বুঝতে না পারে। যখন সে গভীর ঘুমে থাকবে তখন ইটটা সোজা কপাল বরাবর মারবেন। এক আঘাতে মারলে ওর কষ্ট কম হবে, আপনার পাপও কম হবে।<br />
<br />
<br />
<br />
আতকে উঠল মেয়েটি। এ কী বলছেন! ও আমার স্বামী। এই বলে মেয়েটি চলে যেতে চাইল। কথাটি হয়তো তার ভাল লাগেনি। অর্ণব, জিসান, রনি কেউই থামাল না। কোনো একদিকে হাঁটা দিল মেয়েটি। অন্ধকারের দিকে, না হয় আলোর দিকে….!<br />
<br />
<br />
<br />
বিষন্ন মনে ট্রেনে উঠল ওরা তিন বন্ধু। টিকেট ছাড়াই ওঠা যায় এসব ট্রেনে! একটু পর টিকেট চেকার আসল। অধিকাংশই লোকাল বাসের মত নগদ টাকা বের করছে। টিকেট বিহীন টাকা। কার পেটে যাবে ভেবে কাজ কী অর্ণবদের?<br />
<br />
<br />
<br />
শুধু ভাবল, কারও পাপকে সমাজ ঘৃণা করে আর কারও পাপকে সমাজ গ্রহণও করে। ভাবতে ভাবতে ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছে গেল….<br />
<br />
<br />
<br />
[গল্পটি ইন্টারনেট হতে সংগ্রহিত]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[কোন এক ট্রেন স্টেশনের পাশে হাঁটছিল অর্ণব, জিসান ও রনি। ওরা তিন বন্ধু, অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। প্রচণ্ড ঘোরাঘুরির নেশা। অনেক কিছু জানা যায়, শেখা যায়, নানান বর্ণের নানান পেশার মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া যায় বলেই ঘুরতে ভাল লাগে তাদের।<br />
<br />
<br />
<br />
হঠাৎ অর্ণবের চোখে ধরা পড়ল ২০-২২ বছর বয়সী এক তরুণী। কালো কেশ বাতাসে উড়িয়ে তাদের দিকেই আসছে। প্রায় কাছাকাছি এসে মেয়েটা একটা বাদামওয়ালা পিচ্চিকে ডাক দিল। অর্ণব, জিসান ও রনি বলাবলি করছিল মেয়েটা বোধহয় খারাপ। একটু পর জিসান বাদামওয়ালাকে ডাকল। বাদাম নেয়ার ফাঁকে মেয়েটির সম্পর্কে একটু জিজ্ঞেস করল।<br />
<br />
<br />
<br />
পিচ্চি বলল, আফায় খুব ভালা। আমারে দেখলেই বাদাম নেয়। তয় হুনছি খারাপ কাজ কইরা টাকা কামায়! মানষে মোটর সাইকেল, গাড়ি দিয়া আইসা লইয়া যায় আবার রাইখাও যায়। ছেলেটি বলেই যাচ্ছিল। মায়ে কইছে মানুষরে ওজনে কম বাদাম দিলে পাপ অয়। এজন্যিই ওজনে কম দেই না। তাইলে খারাপ কাজ করলে পাপ অয় না?<br />
<br />
<br />
<br />
পিচ্চিকে টাকা দিতে দিতে মেয়েটিকে ইশারা করল রনি। মেয়েটি কাছে আসল। এরা লোক দেখলেই বোঝে কে কোন উদ্দেশে কাছে ডাকছে। বেশ কিছুক্ষণ আলাপ হল। মেয়েটিও আজ কথা বলছে তরুণদের সাথে। এক একটা কথা বুকের যেখানে জমাট ব্যথা থাকে সেখান থেকে বোধহয় বের হচ্ছিল।<br />
<br />
<br />
<br />
বাল্যকালের সুখস্মৃতি হাতড়াচ্ছে মেয়েটি। আনন্দময় জীবন ছিল তার। কিছুটা পড়াশোনাও করেছিল। মাত্র ১৪ বছর বয়সে এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় বাবা মারা যায়। সেদিন সেও ছিল সাথে। ইশ্ যদি মরতাম ভালই হত। পাপ কম, হিসেব কম, সোজা স্বর্গে চলে যেতাম।<br />
<br />
<br />
<br />
মা কি করে আপনার? হঠাৎ প্রশ্ন করল জিসান। অন্যের বাসায় কাজ করে। হকচকিয়ে উত্তর দিল মেয়েটি। ১৭-১৮ বছর বয়সে মাত্র ২৫ হাজার টাকা যৌতুক দিয়ে বিয়ে দেয় আমার। মায়ের অনেক কষ্টে জমানো টাকা ছিল।<br />
<br />
<br />
<br />
বিয়ের প্রথম মাস ভালই কাটছিল। স্বামীর আদর-ভালবাসায় দুনিয়াকেই স্বর্গ মনে করছিলাম। মাসের শেষে আস্তে আস্তে ভালবাসায় ভাঁটা পড়তে থাকে। একটা চাকুরি করত। বিয়ের পরপরই ছেড়ে দিয়েছে। এখন নতুন চাকুরি খুঁজছে।<br />
<br />
<br />
<br />
মায়ের কাছ থেকে টাকা আনার জন্য জোর করত। অলস, কাজকর্ম করতে চায় না। আমি আনতে চাইনি। এক সময় বলত যেভাবে পারিস টাকা উপার্জন করবি। ভাবছিলাম হাতে টাকা নাই তাই রাগের মাথায় এমন কথা বলছে। পরে বুঝছিলাম এটাই তার মনের কথা ছিল। একদিন সন্ধ্যাবেলা আমার স্বামীই আমাকে এই ট্রেন স্টেশনে রেখে যায়!<br />
<br />
<br />
<br />
চোখযুগল ছলছল করছে মেয়েটির। স্বামীর আদেশ মানছি। পাপতো করছি না! স্বামীর কথা অমান্য করলে স্বর্গে যাব কিভাবে? এখন বাসায় গেলে দেখব সে আরামে ঘুমাচ্ছে। বড়ই সুখের সে ঘুম। রাগ নাকি অভিমান তেমনকিছু বোঝা গেল না কথাগুলোয়।<br />
<br />
<br />
<br />
একটা দীর্ঘশ্বাস! নিরবতা-নিঃস্তব্ধতা ভেঙ্গে রনি বলল, একটা শক্ত বড় ইট সংগ্রহ করতে পারবেন না? বলেই যাচ্ছে রনি। ইটটা আপনার অলস-অকর্মণ্য স্বামীর বিছানার পাশে রাখবেন। যেন সে বুঝতে না পারে। যখন সে গভীর ঘুমে থাকবে তখন ইটটা সোজা কপাল বরাবর মারবেন। এক আঘাতে মারলে ওর কষ্ট কম হবে, আপনার পাপও কম হবে।<br />
<br />
<br />
<br />
আতকে উঠল মেয়েটি। এ কী বলছেন! ও আমার স্বামী। এই বলে মেয়েটি চলে যেতে চাইল। কথাটি হয়তো তার ভাল লাগেনি। অর্ণব, জিসান, রনি কেউই থামাল না। কোনো একদিকে হাঁটা দিল মেয়েটি। অন্ধকারের দিকে, না হয় আলোর দিকে….!<br />
<br />
<br />
<br />
বিষন্ন মনে ট্রেনে উঠল ওরা তিন বন্ধু। টিকেট ছাড়াই ওঠা যায় এসব ট্রেনে! একটু পর টিকেট চেকার আসল। অধিকাংশই লোকাল বাসের মত নগদ টাকা বের করছে। টিকেট বিহীন টাকা। কার পেটে যাবে ভেবে কাজ কী অর্ণবদের?<br />
<br />
<br />
<br />
শুধু ভাবল, কারও পাপকে সমাজ ঘৃণা করে আর কারও পাপকে সমাজ গ্রহণও করে। ভাবতে ভাবতে ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছে গেল….<br />
<br />
<br />
<br />
[গল্পটি ইন্টারনেট হতে সংগ্রহিত]]]></content:encoded>
		</item>
	</channel>
</rss>