<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0" xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/" xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/">
	<channel>
		<title><![CDATA[Forums.Likebd.Com - ইসলামিক গল্প]]></title>
		<link>http://forums.likebd.com/</link>
		<description><![CDATA[Forums.Likebd.Com - http://forums.likebd.com]]></description>
		<pubDate>Sat, 10 Oct 2026 10:42:59 +0000</pubDate>
		<generator>MyBB</generator>
		<item>
			<title><![CDATA[যখন কোন মুসলিম নামধারী মেয়েকে বলতে শুনা যায় যে-]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2556</link>
			<pubDate>Wed, 01 Mar 2017 11:53:20 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2556</guid>
			<description><![CDATA[যখন কোন মুসলিম নামধারী মেয়েকে বলতে শুনা যায়<br />
যে-<br />
"আমার বয়ফ্রেন্ডটা খুব ধার্মিক। সে নিয়মিত নামাজ<br />
পড়ে,<br />
কুরআন পড়ে।<br />
আই অ্যামরিয়েলি প্রাউড অব হিম!<br />
" আবার যখন কোন মুসলিম নামধারী ছেলেকে বলতে<br />
শুনা যায় যে-<br />
"আমার গার্লফ্রেন্ডটা খুব ভালো, ইসলামিক<br />
মাইন্ডেড! সে হিজাব পরে,<br />
পর্দা পালন করে। সী ইজ রেয়েলি নাইস ওয়ান!"<br />
---- তখন বলতে ইচ্ছে করে আচ্ছা, যে ছেলের/মেয়ের<br />
একটা গার্লফ্রেন্ড/<br />
বয়ফ্রেন্ড<br />
নামক হারাম রিলেশনশীপ থাকে। সে আবার কি করে<br />
ধার্মিক/<br />
ইসলামিক মাইন্ডেড হয়?! যে ছেলে নিয়মিত নামাজ<br />
পড়ে , কুরআন পড়ে তার তো<br />
গার্লফ্রেন্ড থাকার কথা নয় , তেমনি ভাবে একটা<br />
হিজাব পরিহিতা<br />
পর্দাশীল মেয়ের তো বয়ফ্রেন্ড থাকার কথা নয়!<br />
অনেককেই বলতে শুনি –শরীরের পোশাকটা জরুরি নয়।<br />
মনের পর্দাই বড় পর্দা!<br />
যদি মনের পর্দাই আসল পর্দা হতো, তাহলে আল্লাহ<br />
তা’আলা কখনোই পর্দার<br />
বিধান দিতেন না। বিষ্ময়ে হতবাক হই! নিজেদের<br />
সুবিধার্থে এরা কিভাবে<br />
ইসলামকে নিজের মত করে বানিয়ে নিচ্ছে!! ইসলাম<br />
তো মামার বাড়ীর আবদার নয়<br />
যে, যার যেভাবে ইচ্ছা কাটছাট করে পালন করবেন!<br />
মনে রাখবেন. ,<br />
ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত একমাত্র জীবন বিধান।<br />
এটাকে নিজের মত ব্যাখ্যা কিংবা কাটছাট করে<br />
পালন করে<br />
নিজেকে ইসলামপন্থী দাবি করার অধিকার আমাদের<br />
কারো নেই।<br />
আল্লাহ আমাদেরকে পরিপূর্ণ ইসলাম বোঝার ও পালন<br />
করার<br />
তৌফিক দান করুন।<br />
___________আমীন।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[যখন কোন মুসলিম নামধারী মেয়েকে বলতে শুনা যায়<br />
যে-<br />
"আমার বয়ফ্রেন্ডটা খুব ধার্মিক। সে নিয়মিত নামাজ<br />
পড়ে,<br />
কুরআন পড়ে।<br />
আই অ্যামরিয়েলি প্রাউড অব হিম!<br />
" আবার যখন কোন মুসলিম নামধারী ছেলেকে বলতে<br />
শুনা যায় যে-<br />
"আমার গার্লফ্রেন্ডটা খুব ভালো, ইসলামিক<br />
মাইন্ডেড! সে হিজাব পরে,<br />
পর্দা পালন করে। সী ইজ রেয়েলি নাইস ওয়ান!"<br />
---- তখন বলতে ইচ্ছে করে আচ্ছা, যে ছেলের/মেয়ের<br />
একটা গার্লফ্রেন্ড/<br />
বয়ফ্রেন্ড<br />
নামক হারাম রিলেশনশীপ থাকে। সে আবার কি করে<br />
ধার্মিক/<br />
ইসলামিক মাইন্ডেড হয়?! যে ছেলে নিয়মিত নামাজ<br />
পড়ে , কুরআন পড়ে তার তো<br />
গার্লফ্রেন্ড থাকার কথা নয় , তেমনি ভাবে একটা<br />
হিজাব পরিহিতা<br />
পর্দাশীল মেয়ের তো বয়ফ্রেন্ড থাকার কথা নয়!<br />
অনেককেই বলতে শুনি –শরীরের পোশাকটা জরুরি নয়।<br />
মনের পর্দাই বড় পর্দা!<br />
যদি মনের পর্দাই আসল পর্দা হতো, তাহলে আল্লাহ<br />
তা’আলা কখনোই পর্দার<br />
বিধান দিতেন না। বিষ্ময়ে হতবাক হই! নিজেদের<br />
সুবিধার্থে এরা কিভাবে<br />
ইসলামকে নিজের মত করে বানিয়ে নিচ্ছে!! ইসলাম<br />
তো মামার বাড়ীর আবদার নয়<br />
যে, যার যেভাবে ইচ্ছা কাটছাট করে পালন করবেন!<br />
মনে রাখবেন. ,<br />
ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত একমাত্র জীবন বিধান।<br />
এটাকে নিজের মত ব্যাখ্যা কিংবা কাটছাট করে<br />
পালন করে<br />
নিজেকে ইসলামপন্থী দাবি করার অধিকার আমাদের<br />
কারো নেই।<br />
আল্লাহ আমাদেরকে পরিপূর্ণ ইসলাম বোঝার ও পালন<br />
করার<br />
তৌফিক দান করুন।<br />
___________আমীন।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[[ইসলামিক গল্প] নবী রাসূলগণ কাফিরদের যে অলৌকিক দৃশ্যগুলো দেখিয়েছিলেন!]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2322</link>
			<pubDate>Fri, 24 Feb 2017 03:15:41 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2322</guid>
			<description><![CDATA[আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.), হযরত মুসা (আ.) এবং নূহু (আ.) মহানআল্লাহ তায়ালার নির্দেশে কাফিরদের বিভিন্ন অলৈাকিক দৃশ্য দেখিয়েছেন। নবী রাসূলদের এমন দৃশ্যকে আরবি ভাষায় ‘মযিজা’ বলা হয়।<br />
<br />
মক্কার কাফেররা শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে বিশ্বাস স্থাপনের শর্তস্বরূপ কয়েকটি অলৌকিক কাজ (মুজিযা) সম্পাদনের দাবি করে। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে কারিমের সূরা বনি ইসরাইলে বিশদ বর্ণনা এসেছে। সেখানে তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো ছিল—<br />
<br />
১. কখনও আমরা আপনার ওপর ঈমান আনব না, যতক্ষণ না আপনি আমাদের জন্য এই জমিন থেকে এক প্রস্রবন (ঝরণা) প্রবাহিত না করবে।<br />
<br />
২. খেজুরের অথবা আঙ্গুরের একটা বাগান তৈরি, তাতে অসংখ্যা নদী-নালা বইয়ে দিবে।<br />
<br />
৩. কিয়ামতের আলামত স্বরূপ আসমানকে টুকরো টুকরো করে ফেলা এবং তাদের (কাফেরদের) সমানে স্বয়ং আল্লাহ ও ফেরেশতাদের এনে দাঁড় করানো।<br />
<br />
মক্কার কাফেরদের এসব দাবির বিষয়ে সূরা বনি ইসরাইলে অারও বলা হয়েছে, কিংবা থাকবে আপনার স্বর্ণ নির্মিত ঘর; অথবা আপনি আরোহন করবেন আসমানে- কাফেরদের এমনসব উদ্ভট দাবীর প্রেক্ষিতে আল্লাহতায়ালা হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে আদেশ করেন, ‘বল! মহান পবিত্র আমার মালিক (আল্লাহতায়ালা) আমিতো কেবল (তার পক্ষ থেকে) একজন মানুষ, একজন রাসূল বৈ কিছুই নই।<br />
<br />
’কামেল বুজুর্গদের দ্বারা অলৌকিক কার্য সম্পাদন হলে তাকে কারামাত বলা হয়। আর নবীরা আল্লাহতায়ালার হুকুমে প্রচলিত সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম যা করেন সেটা মুজিযা।<br />
<br />
মুজিযা মূলতঃ নবী-রাসূলের সত্যতা প্রমাণের জন্য আল্লাহর সাক্ষ্য। বিষয়টি এভাবেও বলা যায়, যিনি আল্লাহর নবী বলে দাবি করেন, তার সত্যতা প্রমাণ করাই মুজিযার উদ্দেশ্য। তবে ওই মুজিযা—<br />
<br />
১. আল্লাহর দিকে আহবান বা বিশ্বাস স্থাপনের উদ্দেশ্যে হতে হবে।<br />
<br />
২. কাজটি প্রচলিত সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম হবে।<br />
<br />
৩. অনুরূপ কাজ অন্যের পক্ষে অসম্ভব হতে হবে।<br />
<br />
৪. এমন ব্যক্তির দ্বারা কাজটি হতে হবে যিনি নিজেকে নবী বলে দাবি করেন।<br />
<br />
৫. তার ঘোষণার সমর্থন জ্ঞাপন হবে।<br />
<br />
৬. মুজিযা নবীর দাবির পরিপন্থী হবে না।<br />
<br />
বর্তমানে আর কেউ কোনো মুজিযা প্রদর্শন করতে পারবে না। কেউ আশ্চর্যজনক কিছু করলে বা করে দেখালে সেটা হবে তার কারামত। কারণ মুজিযা নবী-রাসূলদের সঙ্গে সম্পর্কিত। যেহেতু দুনিয়ায় নবী আগমনের ধারা বন্ধ তাই মুজিযাও বন্ধ। প্রত্যেক নবীর কোনো না কোনো মুজিযা ছিল।<br />
<br />
সাধারণ মুজিযার বাইরে আল্লাহতায়ালা কোনো কোনো নবী-রাসূলকে বিশেষ মুজিযাও প্রদান করেছিলেন। যেমন- হজরত মুসা (আ.)-এর লাঠি ও হাত উজ্জ্বল হয়ে যাওয়া।<br />
<br />
হজরত মূসা (আ.) যখন তার লাঠিটি মাটিতে নিক্ষেপ করতেন, তখন তা প্রকাণ্ড অজগরের রূপ ধারণ করত। আবার যখন তিনি সেটি ধরতেন, তখন তা লাঠিতে রূপান্তরিত হতো। অনুরূপভাবে তিনি তার ডান হাত বগলে দাবিয়ে যখন বের করতেন, তখন উক্ত হাত এক বিশেষ ধরণের আলো বা রশ্মি বের হয়ে চারিদিক আলোকিত করে ফেলত। এটাই ছিল মূসা (আ.)-এর মুজিযা।<br />
<br />
হজরত মুসা (আ.)-এর অন্যান্য মুজিযাগুলো হলো—<br />
<br />
১. মাঠির আঘাতে লোহিত সাগরের পানিকে বিভক্ত করে বনি ইসরাইলিদের জন্য রাস্তা তৈরি করে দেয়া।<br />
<br />
২. পাথর খণ্ডের মধ্যে হতে বনি ইসরাইলের বারটি গোত্রের জন্য বারটি ঝর্ণা প্রবাহিত করা।<br />
<br />
৩. আসমান হতে মান্না-সালওয়া (বিশেষ আসমানী খাদ্য) নাজিল হওয়া প্রভৃতি অন্যতম।<br />
<br />
হজরত ঈসা (আ.)-এর মুজিযা বা আলৌকিক ঘটনা হল—<br />
<br />
১. দূরারোগ্য ব্যাধি আরোগ্য করা।<br />
<br />
২. মৃতকে জীবিত করা।<br />
<br />
৩. মাটি দিয়ে পাখি তৈরি করে উড়িয়ে দেয়া।<br />
<br />
৪. অন্ধকে দৃষ্টিদান।<br />
<br />
৫. বোবাকে বাকশক্তি দান।<br />
<br />
৬. কুষ্ঠকে আরোগ্য করা।<br />
<br />
শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে বহু আলৌকিক ঘটনার ছাড়াও যে সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিযা প্রদান করা হয়েছে, সেটা হলো পবিত্র কোরআনে কারিম।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.), হযরত মুসা (আ.) এবং নূহু (আ.) মহানআল্লাহ তায়ালার নির্দেশে কাফিরদের বিভিন্ন অলৈাকিক দৃশ্য দেখিয়েছেন। নবী রাসূলদের এমন দৃশ্যকে আরবি ভাষায় ‘মযিজা’ বলা হয়।<br />
<br />
মক্কার কাফেররা শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে বিশ্বাস স্থাপনের শর্তস্বরূপ কয়েকটি অলৌকিক কাজ (মুজিযা) সম্পাদনের দাবি করে। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে কারিমের সূরা বনি ইসরাইলে বিশদ বর্ণনা এসেছে। সেখানে তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো ছিল—<br />
<br />
১. কখনও আমরা আপনার ওপর ঈমান আনব না, যতক্ষণ না আপনি আমাদের জন্য এই জমিন থেকে এক প্রস্রবন (ঝরণা) প্রবাহিত না করবে।<br />
<br />
২. খেজুরের অথবা আঙ্গুরের একটা বাগান তৈরি, তাতে অসংখ্যা নদী-নালা বইয়ে দিবে।<br />
<br />
৩. কিয়ামতের আলামত স্বরূপ আসমানকে টুকরো টুকরো করে ফেলা এবং তাদের (কাফেরদের) সমানে স্বয়ং আল্লাহ ও ফেরেশতাদের এনে দাঁড় করানো।<br />
<br />
মক্কার কাফেরদের এসব দাবির বিষয়ে সূরা বনি ইসরাইলে অারও বলা হয়েছে, কিংবা থাকবে আপনার স্বর্ণ নির্মিত ঘর; অথবা আপনি আরোহন করবেন আসমানে- কাফেরদের এমনসব উদ্ভট দাবীর প্রেক্ষিতে আল্লাহতায়ালা হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে আদেশ করেন, ‘বল! মহান পবিত্র আমার মালিক (আল্লাহতায়ালা) আমিতো কেবল (তার পক্ষ থেকে) একজন মানুষ, একজন রাসূল বৈ কিছুই নই।<br />
<br />
’কামেল বুজুর্গদের দ্বারা অলৌকিক কার্য সম্পাদন হলে তাকে কারামাত বলা হয়। আর নবীরা আল্লাহতায়ালার হুকুমে প্রচলিত সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম যা করেন সেটা মুজিযা।<br />
<br />
মুজিযা মূলতঃ নবী-রাসূলের সত্যতা প্রমাণের জন্য আল্লাহর সাক্ষ্য। বিষয়টি এভাবেও বলা যায়, যিনি আল্লাহর নবী বলে দাবি করেন, তার সত্যতা প্রমাণ করাই মুজিযার উদ্দেশ্য। তবে ওই মুজিযা—<br />
<br />
১. আল্লাহর দিকে আহবান বা বিশ্বাস স্থাপনের উদ্দেশ্যে হতে হবে।<br />
<br />
২. কাজটি প্রচলিত সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম হবে।<br />
<br />
৩. অনুরূপ কাজ অন্যের পক্ষে অসম্ভব হতে হবে।<br />
<br />
৪. এমন ব্যক্তির দ্বারা কাজটি হতে হবে যিনি নিজেকে নবী বলে দাবি করেন।<br />
<br />
৫. তার ঘোষণার সমর্থন জ্ঞাপন হবে।<br />
<br />
৬. মুজিযা নবীর দাবির পরিপন্থী হবে না।<br />
<br />
বর্তমানে আর কেউ কোনো মুজিযা প্রদর্শন করতে পারবে না। কেউ আশ্চর্যজনক কিছু করলে বা করে দেখালে সেটা হবে তার কারামত। কারণ মুজিযা নবী-রাসূলদের সঙ্গে সম্পর্কিত। যেহেতু দুনিয়ায় নবী আগমনের ধারা বন্ধ তাই মুজিযাও বন্ধ। প্রত্যেক নবীর কোনো না কোনো মুজিযা ছিল।<br />
<br />
সাধারণ মুজিযার বাইরে আল্লাহতায়ালা কোনো কোনো নবী-রাসূলকে বিশেষ মুজিযাও প্রদান করেছিলেন। যেমন- হজরত মুসা (আ.)-এর লাঠি ও হাত উজ্জ্বল হয়ে যাওয়া।<br />
<br />
হজরত মূসা (আ.) যখন তার লাঠিটি মাটিতে নিক্ষেপ করতেন, তখন তা প্রকাণ্ড অজগরের রূপ ধারণ করত। আবার যখন তিনি সেটি ধরতেন, তখন তা লাঠিতে রূপান্তরিত হতো। অনুরূপভাবে তিনি তার ডান হাত বগলে দাবিয়ে যখন বের করতেন, তখন উক্ত হাত এক বিশেষ ধরণের আলো বা রশ্মি বের হয়ে চারিদিক আলোকিত করে ফেলত। এটাই ছিল মূসা (আ.)-এর মুজিযা।<br />
<br />
হজরত মুসা (আ.)-এর অন্যান্য মুজিযাগুলো হলো—<br />
<br />
১. মাঠির আঘাতে লোহিত সাগরের পানিকে বিভক্ত করে বনি ইসরাইলিদের জন্য রাস্তা তৈরি করে দেয়া।<br />
<br />
২. পাথর খণ্ডের মধ্যে হতে বনি ইসরাইলের বারটি গোত্রের জন্য বারটি ঝর্ণা প্রবাহিত করা।<br />
<br />
৩. আসমান হতে মান্না-সালওয়া (বিশেষ আসমানী খাদ্য) নাজিল হওয়া প্রভৃতি অন্যতম।<br />
<br />
হজরত ঈসা (আ.)-এর মুজিযা বা আলৌকিক ঘটনা হল—<br />
<br />
১. দূরারোগ্য ব্যাধি আরোগ্য করা।<br />
<br />
২. মৃতকে জীবিত করা।<br />
<br />
৩. মাটি দিয়ে পাখি তৈরি করে উড়িয়ে দেয়া।<br />
<br />
৪. অন্ধকে দৃষ্টিদান।<br />
<br />
৫. বোবাকে বাকশক্তি দান।<br />
<br />
৬. কুষ্ঠকে আরোগ্য করা।<br />
<br />
শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে বহু আলৌকিক ঘটনার ছাড়াও যে সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিযা প্রদান করা হয়েছে, সেটা হলো পবিত্র কোরআনে কারিম।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[[ইসলামিক গল্প] জুতা চোর (শিয়া ও সুন্নী)]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2321</link>
			<pubDate>Fri, 24 Feb 2017 03:15:15 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2321</guid>
			<description><![CDATA[শিয়া আলেমগন সুন্নি আলেমদের চ্যালেঞ্জ<br />
<br />
করেছেন। বিরাট বিতর্ক অনুষ্ঠানের আয়োজন<br />
<br />
করা হল। চারদিকে অসংখ্য শিয়া ও সুন্নী জনতা।<br />
<br />
কিন্তু কোন সুন্নি আলেমের দেখা নাই।<br />
<br />
সুন্নী জনতা লজ্জায় মাথা নত করে রইলো।<br />
<br />
শিয়া আলেমগন একতরফা ভাবে নিজেদের বিজয়ী ঘোষনা করে অনুষ্ঠান শেষ করার উদ্যোগ নিলো।<br />
<br />
এমন সময় দেখা গেল একজন লোক জনতার পেছন থেকে নীল লুঙ্গি, সাদা টুপি ও মার্কিন কোর্তা গায়ে দিয়ে মঞ্চের দিকে এগিয়া আসছেন। ইনিই মওলানা কাসেম (রঃ )। সবার দৃষ্টি মওলানা কাসেম(রঃ ) –এর দিকে। মওলানা সাহেব পায়ের জুতা বগলে চেপে রেখেছেন।<br />
<br />
সবাই বললো, “হুজুর জুতা জোড়া এক পাশে রেখে দেন”।<br />
<br />
মওলানা সাহেব বললেন “না, এখানে জুতা রাখা যাবে না। শিয়ারা জুতা চুরি করে।“<br />
<br />
শিয়া আলেমগন অবাক ও উত্তেজিত হয়ে বললেন, “কোথায় দেখেছেন শিয়াদের জুতা চুরি করতে? কি প্রমান আছে আপনার কাছে?”<br />
<br />
মওলানা সাহেবঃ কেন রাসুলুল্লাহ (সাঃ ) এর মজলিস থেকে একজন<br />
<br />
শিয়া ব্যক্তি জুতা চুরি করেছিলেন।<br />
<br />
শিয়া আলেমগনঃ কি বলেন! রাসুলুল্লাহ (সাঃ )<br />
<br />
এর যামানায় শিয়া মতবাদ চালুই হয় নাই, শিয়া ব্যক্তি আসবে কোথা থেকে? আপনি ইতিহাসের কিছু জানেন?<br />
<br />
মওলানা সাহেবঃ মাফ করবেন, আমি ভুল বলেছি,<br />
<br />
রাসুলুল্লাহ (সাঃ ) এর যামানায় নয়, ছাহাবাদের যামানায়। ছাহাবারা তালিমে মশগুল ছিলেন এমন সময় একজন শিয়া ব্যক্তি তাদের জুতা চুরি করেছিলেন।<br />
<br />
শিয়া আলেমগনঃ মিথ্যা কথা। ছাহাবাদের যামানায়ও শিয়া মতবাদ চালু হয় নাই। সেই সময় কোন শিয়া ছিলোনা।<br />
<br />
মওলানা সাহেবঃ তাহলে এটি তাবেয়ীনদের যামানার ঘটনা।<br />
<br />
শিয়া আলেমগনঃ অসম্ভব! তাবেয়ীনদের সময়ও কোন শিয়া ছিলোনা।<br />
<br />
মওলানা সাহেবঃ তাহলে নিশ্চই ঘটনাটি তাবে-<br />
<br />
তাবেয়ীনদের যামানার।<br />
<br />
শিয়া আলেমগনঃ ইতিহাস সাক্ষী যে এই<br />
<br />
চারটি যামানার কোনটিতেই শিয়া ছিলোনা।<br />
<br />
কারন শিয়া মতবাদ চালু হয়েছে এই চার যামানার অনেক পরে। সুতরাং শিয়াগন জুতা চুরি করতেই পারে না।<br />
<br />
মওলানা সাহেবঃ এই চার যামানার কথা বললেন, এর সাথে আমাদের কি সম্পর্ক বলতে পারেন?<br />
<br />
শিয়া আলেমগনঃ নিশ্চই বলতে পারি। এই চার যামানায় দেয়া ব্যাখ্যার ভিত্তিতেই আমরা মুসলমান। এর পরে দেয়া সব ব্যাখ্যাই<br />
<br />
বাতিল ও আবর্জনায় নিক্ষিপ্ত।<br />
<br />
মওলানা সাহেবঃ কিন্তু একটু আগেই না আপনারা বললেন এই চার যামানায় কোন শিয়া ছিলোনা। তাহলে কি আপনারা সেই মতবাদ গ্রহন করেন নাই যা ওই চার যামানার পরে সৃষ্টি হয়েছে। আপনাদের মত অনুসারেই যা বাতিল ও আবর্জনায় নিক্ষিপ্ত?<br />
<br />
শিয়া আলেমগন নির্বাক হয়ে গেলেন, তারা মাথা নিচু করে বসে রইলেন। এমন কি জনতাও স্তব্ধ হয়ে বসে রইলো।<br />
<br />
মওলানা সাহেব বগল থেকে জুতা বাহির করে পায়ে দিলেন। বিনয়ের সাথে ধীর কিন্তু দৃঢ় পদক্ষেপে জলসা থেকে বের হয়ে গেলেন।<br />
<br />
তিনি অনেক দূর চলে গেলেন, তখনও শিয়া আলেমগন নির্বাক আর জনতা স্তব্ধ হয়ে বসে রই]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[শিয়া আলেমগন সুন্নি আলেমদের চ্যালেঞ্জ<br />
<br />
করেছেন। বিরাট বিতর্ক অনুষ্ঠানের আয়োজন<br />
<br />
করা হল। চারদিকে অসংখ্য শিয়া ও সুন্নী জনতা।<br />
<br />
কিন্তু কোন সুন্নি আলেমের দেখা নাই।<br />
<br />
সুন্নী জনতা লজ্জায় মাথা নত করে রইলো।<br />
<br />
শিয়া আলেমগন একতরফা ভাবে নিজেদের বিজয়ী ঘোষনা করে অনুষ্ঠান শেষ করার উদ্যোগ নিলো।<br />
<br />
এমন সময় দেখা গেল একজন লোক জনতার পেছন থেকে নীল লুঙ্গি, সাদা টুপি ও মার্কিন কোর্তা গায়ে দিয়ে মঞ্চের দিকে এগিয়া আসছেন। ইনিই মওলানা কাসেম (রঃ )। সবার দৃষ্টি মওলানা কাসেম(রঃ ) –এর দিকে। মওলানা সাহেব পায়ের জুতা বগলে চেপে রেখেছেন।<br />
<br />
সবাই বললো, “হুজুর জুতা জোড়া এক পাশে রেখে দেন”।<br />
<br />
মওলানা সাহেব বললেন “না, এখানে জুতা রাখা যাবে না। শিয়ারা জুতা চুরি করে।“<br />
<br />
শিয়া আলেমগন অবাক ও উত্তেজিত হয়ে বললেন, “কোথায় দেখেছেন শিয়াদের জুতা চুরি করতে? কি প্রমান আছে আপনার কাছে?”<br />
<br />
মওলানা সাহেবঃ কেন রাসুলুল্লাহ (সাঃ ) এর মজলিস থেকে একজন<br />
<br />
শিয়া ব্যক্তি জুতা চুরি করেছিলেন।<br />
<br />
শিয়া আলেমগনঃ কি বলেন! রাসুলুল্লাহ (সাঃ )<br />
<br />
এর যামানায় শিয়া মতবাদ চালুই হয় নাই, শিয়া ব্যক্তি আসবে কোথা থেকে? আপনি ইতিহাসের কিছু জানেন?<br />
<br />
মওলানা সাহেবঃ মাফ করবেন, আমি ভুল বলেছি,<br />
<br />
রাসুলুল্লাহ (সাঃ ) এর যামানায় নয়, ছাহাবাদের যামানায়। ছাহাবারা তালিমে মশগুল ছিলেন এমন সময় একজন শিয়া ব্যক্তি তাদের জুতা চুরি করেছিলেন।<br />
<br />
শিয়া আলেমগনঃ মিথ্যা কথা। ছাহাবাদের যামানায়ও শিয়া মতবাদ চালু হয় নাই। সেই সময় কোন শিয়া ছিলোনা।<br />
<br />
মওলানা সাহেবঃ তাহলে এটি তাবেয়ীনদের যামানার ঘটনা।<br />
<br />
শিয়া আলেমগনঃ অসম্ভব! তাবেয়ীনদের সময়ও কোন শিয়া ছিলোনা।<br />
<br />
মওলানা সাহেবঃ তাহলে নিশ্চই ঘটনাটি তাবে-<br />
<br />
তাবেয়ীনদের যামানার।<br />
<br />
শিয়া আলেমগনঃ ইতিহাস সাক্ষী যে এই<br />
<br />
চারটি যামানার কোনটিতেই শিয়া ছিলোনা।<br />
<br />
কারন শিয়া মতবাদ চালু হয়েছে এই চার যামানার অনেক পরে। সুতরাং শিয়াগন জুতা চুরি করতেই পারে না।<br />
<br />
মওলানা সাহেবঃ এই চার যামানার কথা বললেন, এর সাথে আমাদের কি সম্পর্ক বলতে পারেন?<br />
<br />
শিয়া আলেমগনঃ নিশ্চই বলতে পারি। এই চার যামানায় দেয়া ব্যাখ্যার ভিত্তিতেই আমরা মুসলমান। এর পরে দেয়া সব ব্যাখ্যাই<br />
<br />
বাতিল ও আবর্জনায় নিক্ষিপ্ত।<br />
<br />
মওলানা সাহেবঃ কিন্তু একটু আগেই না আপনারা বললেন এই চার যামানায় কোন শিয়া ছিলোনা। তাহলে কি আপনারা সেই মতবাদ গ্রহন করেন নাই যা ওই চার যামানার পরে সৃষ্টি হয়েছে। আপনাদের মত অনুসারেই যা বাতিল ও আবর্জনায় নিক্ষিপ্ত?<br />
<br />
শিয়া আলেমগন নির্বাক হয়ে গেলেন, তারা মাথা নিচু করে বসে রইলেন। এমন কি জনতাও স্তব্ধ হয়ে বসে রইলো।<br />
<br />
মওলানা সাহেব বগল থেকে জুতা বাহির করে পায়ে দিলেন। বিনয়ের সাথে ধীর কিন্তু দৃঢ় পদক্ষেপে জলসা থেকে বের হয়ে গেলেন।<br />
<br />
তিনি অনেক দূর চলে গেলেন, তখনও শিয়া আলেমগন নির্বাক আর জনতা স্তব্ধ হয়ে বসে রই]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[[ইসলামিক গল্প] মহানবী (সা.) মৃত্যুর সময়ের একটি সত্য ঘটনা!]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2320</link>
			<pubDate>Fri, 24 Feb 2017 03:14:48 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2320</guid>
			<description><![CDATA[নবীজির মৃত্যুর সময় জিবরাইল (আ.) আসলেন, এসে নবীজিকে সালাম দিলেন, আর বল্লেন হে আল্লাহ‘র রাসুল। আল্লাহ আপনাকে সালাম দিয়েছে, আর জানতে চেয়েছে আপনি কেমন আছেন। আল্লাহ সব জানেন তার পরও আপনি কেমন আছেন সেটা আপনার মুখ থেকে জানতে চেয়েছেন।<br />
<br />
নবীজি (সা.) বললেন, আমি বড়ই কষ্টের ভিতর আছি, অসুস্হ অবস্থায় আছি। তখন জিবরাইল (আ.) বললেন, ইয়া রাসুলল্লাহ (সা.) আমার সাথে আজ একজন নতুন ফেরেশতা এসেছে, যে ফেরেশতা কোন মানুষের কাছে আসার জন্য কোন দিন অনুমতি চায় নাই, আর কোনদিন অনুমতি চাইবেও না, শুধু আপনার অনুমতি চায় আপনার কাছে আসার জন্য।<br />
<br />
আর সে ফেরেস্তার নাম মালাকুল মউত, মালাকুল মউত রাসুলের (সা) অনুমতি নিয়ে রাসুলের (সা.) জান মোবারকের কাছে এসে সালাম দিলেন, বললেন ইয়া রাসুলল্লাহ(সা.), আমি আদম (আ.) থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত যত মানুষের জান কবচ করেছি, আর কেয়ামত পর্যন্ত যত মানুষের জান কবচ করবো কারো কাছে অনুমতি চাইনি আর চাওয়াও আমার লাগবে না, কিন্তু আজকে আসার সময় আল্লাহ বলেছেন আমি যেন আপনার অনুমতি চাই, নবীজি বললেন মালাকুল মউত আমি যদি অনুমতি না দেই? মালাকুল মউত বলে ইয়া রাসুলল্লাহ আল্লাহ বলেছেন যদি অনুমতি না পাও ফিরে এসো।<br />
<br />
‘আল্লাহু আকবার’]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[নবীজির মৃত্যুর সময় জিবরাইল (আ.) আসলেন, এসে নবীজিকে সালাম দিলেন, আর বল্লেন হে আল্লাহ‘র রাসুল। আল্লাহ আপনাকে সালাম দিয়েছে, আর জানতে চেয়েছে আপনি কেমন আছেন। আল্লাহ সব জানেন তার পরও আপনি কেমন আছেন সেটা আপনার মুখ থেকে জানতে চেয়েছেন।<br />
<br />
নবীজি (সা.) বললেন, আমি বড়ই কষ্টের ভিতর আছি, অসুস্হ অবস্থায় আছি। তখন জিবরাইল (আ.) বললেন, ইয়া রাসুলল্লাহ (সা.) আমার সাথে আজ একজন নতুন ফেরেশতা এসেছে, যে ফেরেশতা কোন মানুষের কাছে আসার জন্য কোন দিন অনুমতি চায় নাই, আর কোনদিন অনুমতি চাইবেও না, শুধু আপনার অনুমতি চায় আপনার কাছে আসার জন্য।<br />
<br />
আর সে ফেরেস্তার নাম মালাকুল মউত, মালাকুল মউত রাসুলের (সা) অনুমতি নিয়ে রাসুলের (সা.) জান মোবারকের কাছে এসে সালাম দিলেন, বললেন ইয়া রাসুলল্লাহ(সা.), আমি আদম (আ.) থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত যত মানুষের জান কবচ করেছি, আর কেয়ামত পর্যন্ত যত মানুষের জান কবচ করবো কারো কাছে অনুমতি চাইনি আর চাওয়াও আমার লাগবে না, কিন্তু আজকে আসার সময় আল্লাহ বলেছেন আমি যেন আপনার অনুমতি চাই, নবীজি বললেন মালাকুল মউত আমি যদি অনুমতি না দেই? মালাকুল মউত বলে ইয়া রাসুলল্লাহ আল্লাহ বলেছেন যদি অনুমতি না পাও ফিরে এসো।<br />
<br />
‘আল্লাহু আকবার’]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[[ইসলামিক গল্প] ছামুদ জাতির ধ্বংস]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2319</link>
			<pubDate>Fri, 24 Feb 2017 03:14:27 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2319</guid>
			<description><![CDATA[ছামুদ জাতির আরবের অন্তর্গত হজর ও ওয়াদিলকোর অঞ্চলে বাস করতো। তারা পাথর কেটে সুন্দর গৃহ নির্মাণ করতে জানতো। জীবজন্তু মারবার জন্যে পাথর কেটে আশ্চর্য রকম অস্ত্রশস্ত্র তৈরী করতো। এদের মধ্যে কতক শ্রেণীর লোক পাহাড়ের গুহায় বাস করতো।<br />
<br />
এরা আল্লাহতা’লাকে মানতো। যা কিছু বড় এবং অদ্ভুত তাদের চক্ষে লাগতো তারই প্রতিমূর্তি পাথর দ্বারা তৈরী করে পূজা করতো। তাছাড়া দিনরাত ঝগড়া ও দাঙ্গাহাঙ্গামা নিয়ে থাকতো। আল্লাহতা’লা তাদের মধ্যে হযরত ছালেহকে নবীরূপে পাঠালেন।<br />
<br />
হযরত ছালেহ তাদের ডেকে বললেনঃ ভাইসব খোদা তোমাদের এই মাটি হতে সৃষ্টি করেছেন, আবার এই মাটিতেই লয় করবেন। তাঁর কতা একবার ভেবে দেখ, তিনি ছাড়া তোমাদের কাছে আমি পরমার্থিক আলো নিয়ে এসেছি। মনে করে দেখ আদ জাতি হযরত হুদের কথা শোনেনি –এজন্য তারা কিরূপভাবে তোমাদের সামনেই ধ্বংস হয়ে গেলো। যার কৃপায় এই পাহাড়ের ওপরে এমন সুন্দর গৃহ নির্মাণ করে বাস করছো তার কথা একবার চিন্তা করো।<br />
<br />
একদল লোক তাঁর কথায় বিশ্বাস স্থাপন করলো। কিন্তু যারা অর্থশালী, বলশালী এবং নিজেদের খুব গণ্যমান্য ব্যক্তি বলে মনে করতো, তারা তাঁর কথায় কর্ণপাত মাত্র করলো না। বরঞ্চ তাঁরা হিতোপদেশে উত্যক্ত হয়ে তারা তাঁর প্রতি খড়গহস্ত হয়ে উঠলো এবং দিনরাত ষড়যন্ত্র করতে লাগলো, কি করে হযরত ছালেহ ও তাঁর অনুরগবর্গকে আক্রমণ করলো, কিন্তু আল্লাহর অনুগ্রহে তাদের সকল অভিযান ব্যর্থ হয়ে গেলো। ছালেহ ও তার অনুচরবর্গ অক্ষত দেহে রক্ষা পেলো, কিন্তু আতায়িগণ সদলে ধ্বংস হলো।<br />
<br />
ছামুদেরা বিধ্বস্ত হলে কাফেররা অক্ষত অধিকতর প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠলো। তারা ছালেহকে মারবার জন্যে বদ্ধপরিকর হয়ে সুযোগ খুঁজতে লাগলো। সামাজিকভাবে তাঁকে লোকচক্ষে হেয় করবার জন্য সর্বাদ উপহাস ও বিদ্রূপ করতে লাগলো। তাদের মধ্য হতে কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি ছালেহকে ডেকে বললেনঃ তুমি যে আল্লাহর নবীরূপে আমাদের কাছে এসেছো বলছো, কি করে আমরা বুঝতে পারবো যে, তুমি সত্যই আল্লাহর পয়গম্বর।<br />
<br />
ছালেহ তখন আল্লাহ পাকের কাছে আরজ করতে লাগলেন। আল্লাহ তার প্রার্থনা কবুল করলেন এবং নিকটবর্তী পাহাড় দ্বিখণ্ডিত করে তার মধ্যে থেকে একটা উট বের করে তার কাছে পাঠিয়ে দিলেন।<br />
<br />
ছালেহ সেই উটকে নিয়ে কাফেরদের কাছে গেলেন। বললেনঃ তোমরা আমার কাছে তাঁর চিহ্ন দেখতে চেয়েছো তাই খোদাতা’লা এই উটটিকে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছেন। তোমরা কেউ এর অনিষ্ট করো না, বরং একে ঘাস ও পানি দিও। এর প্রতি অত্যাচার করলে খোদার গজব (রোষ) তোমাদের ওপর পতিত হবে।<br />
<br />
কাফেররা উটটিকে দেখে হো-হো করে হেসে উঠলো। তারা মনে করলো এটা একটা সামান্য জন্তু ছাড়া আর কিছুই নয়, ছালেহ শুধু তাদের ভয় দেখাবার জন্য এটিকে এনেছে। খোদার প্রেরিত কোন চিহ্নই এর গায়ে নেই। এ রকম উট তো তারা হামেশাই জবেহ করে ভক্ষণ করছে! একে যদি নিত্য খাদ্য ও পানি দেওয়া হয় তাহলে তাদের জন্তুগুলো আধপেটা খেয়ে মরার শামিল হয়ে পড়বে। তার চেয়ে এই উটটিকে রাত্রিকালে হত্যা করে সকলে ফলার করবে।<br />
<br />
উটটিকে বধ করেও যখন তাদের কোন অনিষ্ট হলো না, তখন তারা আনন্দে নৃত্য করতে লাগলো। তাহারা হযরত ছালেহকে নিষ্ঠুরভাবে বিদ্রূপ করতে লাগলো। অবশেষে এমন দুর্গতি তাঁর করলো যে, দেশে বাস করা তাঁর দায় হয়ে উঠলো। তিনি নিরুপায় হয়ে আল্লাহতা’লার কাছে দুই হাত তুলে প্রার্থনা করতে লাগলেনঃ হে করুণাময়, হে দ্বীন-দুনিয়ার মালিক। আমি কিছুতেই এদের ভ্রম ঘুচাতে পারলাম না। তুমি যদি এদের শাস্তি না দাও, তবে হয়তো শীঘ্রই এরা আমাদের বধ করবে। তুমি উপযুক্ত বিচার করো।<br />
<br />
তাঁর প্রার্থনা আল্লাহ মঞ্জুর করলেন।<br />
<br />
এই ঘটনার তিন দিন পরে রাত্রিশেষে ভীষণ ভূমিকম্প আরম্ভ হলো। অবিশ্বাসী ছামুদদের ঘরবাড়ি সব ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো এবং তারাও সেই ভগ্নাস্তূপের নিচে সমাধি লাভ করলো। পৃথিবীর বুকে জীবিত রইলেন হযরত ছালেহ ও তাঁর অনুচরবর্গ।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[ছামুদ জাতির আরবের অন্তর্গত হজর ও ওয়াদিলকোর অঞ্চলে বাস করতো। তারা পাথর কেটে সুন্দর গৃহ নির্মাণ করতে জানতো। জীবজন্তু মারবার জন্যে পাথর কেটে আশ্চর্য রকম অস্ত্রশস্ত্র তৈরী করতো। এদের মধ্যে কতক শ্রেণীর লোক পাহাড়ের গুহায় বাস করতো।<br />
<br />
এরা আল্লাহতা’লাকে মানতো। যা কিছু বড় এবং অদ্ভুত তাদের চক্ষে লাগতো তারই প্রতিমূর্তি পাথর দ্বারা তৈরী করে পূজা করতো। তাছাড়া দিনরাত ঝগড়া ও দাঙ্গাহাঙ্গামা নিয়ে থাকতো। আল্লাহতা’লা তাদের মধ্যে হযরত ছালেহকে নবীরূপে পাঠালেন।<br />
<br />
হযরত ছালেহ তাদের ডেকে বললেনঃ ভাইসব খোদা তোমাদের এই মাটি হতে সৃষ্টি করেছেন, আবার এই মাটিতেই লয় করবেন। তাঁর কতা একবার ভেবে দেখ, তিনি ছাড়া তোমাদের কাছে আমি পরমার্থিক আলো নিয়ে এসেছি। মনে করে দেখ আদ জাতি হযরত হুদের কথা শোনেনি –এজন্য তারা কিরূপভাবে তোমাদের সামনেই ধ্বংস হয়ে গেলো। যার কৃপায় এই পাহাড়ের ওপরে এমন সুন্দর গৃহ নির্মাণ করে বাস করছো তার কথা একবার চিন্তা করো।<br />
<br />
একদল লোক তাঁর কথায় বিশ্বাস স্থাপন করলো। কিন্তু যারা অর্থশালী, বলশালী এবং নিজেদের খুব গণ্যমান্য ব্যক্তি বলে মনে করতো, তারা তাঁর কথায় কর্ণপাত মাত্র করলো না। বরঞ্চ তাঁরা হিতোপদেশে উত্যক্ত হয়ে তারা তাঁর প্রতি খড়গহস্ত হয়ে উঠলো এবং দিনরাত ষড়যন্ত্র করতে লাগলো, কি করে হযরত ছালেহ ও তাঁর অনুরগবর্গকে আক্রমণ করলো, কিন্তু আল্লাহর অনুগ্রহে তাদের সকল অভিযান ব্যর্থ হয়ে গেলো। ছালেহ ও তার অনুচরবর্গ অক্ষত দেহে রক্ষা পেলো, কিন্তু আতায়িগণ সদলে ধ্বংস হলো।<br />
<br />
ছামুদেরা বিধ্বস্ত হলে কাফেররা অক্ষত অধিকতর প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠলো। তারা ছালেহকে মারবার জন্যে বদ্ধপরিকর হয়ে সুযোগ খুঁজতে লাগলো। সামাজিকভাবে তাঁকে লোকচক্ষে হেয় করবার জন্য সর্বাদ উপহাস ও বিদ্রূপ করতে লাগলো। তাদের মধ্য হতে কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি ছালেহকে ডেকে বললেনঃ তুমি যে আল্লাহর নবীরূপে আমাদের কাছে এসেছো বলছো, কি করে আমরা বুঝতে পারবো যে, তুমি সত্যই আল্লাহর পয়গম্বর।<br />
<br />
ছালেহ তখন আল্লাহ পাকের কাছে আরজ করতে লাগলেন। আল্লাহ তার প্রার্থনা কবুল করলেন এবং নিকটবর্তী পাহাড় দ্বিখণ্ডিত করে তার মধ্যে থেকে একটা উট বের করে তার কাছে পাঠিয়ে দিলেন।<br />
<br />
ছালেহ সেই উটকে নিয়ে কাফেরদের কাছে গেলেন। বললেনঃ তোমরা আমার কাছে তাঁর চিহ্ন দেখতে চেয়েছো তাই খোদাতা’লা এই উটটিকে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছেন। তোমরা কেউ এর অনিষ্ট করো না, বরং একে ঘাস ও পানি দিও। এর প্রতি অত্যাচার করলে খোদার গজব (রোষ) তোমাদের ওপর পতিত হবে।<br />
<br />
কাফেররা উটটিকে দেখে হো-হো করে হেসে উঠলো। তারা মনে করলো এটা একটা সামান্য জন্তু ছাড়া আর কিছুই নয়, ছালেহ শুধু তাদের ভয় দেখাবার জন্য এটিকে এনেছে। খোদার প্রেরিত কোন চিহ্নই এর গায়ে নেই। এ রকম উট তো তারা হামেশাই জবেহ করে ভক্ষণ করছে! একে যদি নিত্য খাদ্য ও পানি দেওয়া হয় তাহলে তাদের জন্তুগুলো আধপেটা খেয়ে মরার শামিল হয়ে পড়বে। তার চেয়ে এই উটটিকে রাত্রিকালে হত্যা করে সকলে ফলার করবে।<br />
<br />
উটটিকে বধ করেও যখন তাদের কোন অনিষ্ট হলো না, তখন তারা আনন্দে নৃত্য করতে লাগলো। তাহারা হযরত ছালেহকে নিষ্ঠুরভাবে বিদ্রূপ করতে লাগলো। অবশেষে এমন দুর্গতি তাঁর করলো যে, দেশে বাস করা তাঁর দায় হয়ে উঠলো। তিনি নিরুপায় হয়ে আল্লাহতা’লার কাছে দুই হাত তুলে প্রার্থনা করতে লাগলেনঃ হে করুণাময়, হে দ্বীন-দুনিয়ার মালিক। আমি কিছুতেই এদের ভ্রম ঘুচাতে পারলাম না। তুমি যদি এদের শাস্তি না দাও, তবে হয়তো শীঘ্রই এরা আমাদের বধ করবে। তুমি উপযুক্ত বিচার করো।<br />
<br />
তাঁর প্রার্থনা আল্লাহ মঞ্জুর করলেন।<br />
<br />
এই ঘটনার তিন দিন পরে রাত্রিশেষে ভীষণ ভূমিকম্প আরম্ভ হলো। অবিশ্বাসী ছামুদদের ঘরবাড়ি সব ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো এবং তারাও সেই ভগ্নাস্তূপের নিচে সমাধি লাভ করলো। পৃথিবীর বুকে জীবিত রইলেন হযরত ছালেহ ও তাঁর অনুচরবর্গ।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[[ইসলামিক গল্প] রুটি চোরের পরিনতি]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2318</link>
			<pubDate>Fri, 24 Feb 2017 03:13:26 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2318</guid>
			<description><![CDATA[এক ব্যক্তি হযরত ঈসা (আঃ)-এর সাথে সফরে রওয়ানা হলো।<br />
<br />
হযরত ঈসা (আঃ)-এর সাথে তিনটি রুটি ছিল। একটা নদীর তীরে পৌছে তিনি আহার করলেন এবং পানি পান করার জন্যে নদীতে গেলেন। ফিরে এসে দেখেন অবশিষ্ট রুটিটি নেই। তিনি সে লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, “রুটি কে নিয়েছে?”<br />
<br />
লোকটি বললো, “আমি জানিনা।”<br />
<br />
হযরত ঈসা (আঃ) লোকটিকে নিয়ে আবার রওয়ানা হলেন। রাস্তা চলতে চলতে যখন ক্ষুধার উদ্যেক হলো তখন তিনি দূরে একটি হরিণী দেখলেন। হরিণীর সঙ্গে দুটি বাচ্ছা ছিল। তিনি একটি বাচ্ছাকে ডাকলেন।<br />
<br />
বাচ্ছাটি কাছে আসলো। তিনি বাচ্ছাটিকে জবাই করলেন এবং গোশত ভূনা করে সে লোকটিকে নিয়ে আহার করলেন। অতঃপর বললেন, “আলালহর হুকুমে জীবিত হয়ে যাও।” সঙ্গে সঙ্গে হরিণের বাচ্ছা জীবিত হয়ে চলে গেল।<br />
<br />
হযরত ঈসা (আঃ) লোকটিকে বললেন, “এ হরিণের বাচ্ছা জীবিত হয়ে যাওয়ার মোজেযা যিনি দেখালেন তাঁর কসম দিয়ে বলছি, তুমি বল রুটিটি কে নিয়েছে?।<br />
<br />
লোকটি বললো, “আমি জানি না।”<br />
<br />
হযরত ঈসা (আঃ) লোকটিকে নিয়ে আবার রওয়ানা হলেন। পাহাড় থেকে ঝর্না হয়ে নেমে আসা একটি নদী সামনে পড়লো। তিনি লোকটির হাত ধরে পানির উপর হেঁটে নদী পার হলেন।<br />
<br />
অতঃপর তিনি বললেন, “যিনি বিনা নৌকায় নদী পার হওয়ার এ মোজেযা দেখালেন তার কসম দিয়ে বলছি, তুমি বল রুটি কে নিয়েছে?”<br />
<br />
লোকটি আগের এ জবাব দিল, “আমি জানিনা।”<br />
<br />
হযরত ঈসা (আঃ) এক জঙ্গলের কাছে পৌঁছে বালি জমা করলেন।<br />
<br />
যখন এক বিরাট বালির স্তূপ হয়ে গেল তখন সে স্তূপ কে লক্ষ্য করে বললেন, “আল্লাহর হুকুমে সোনা হয়ে যাও।”<br />
<br />
তখনই বালির স্তূপ টি সোনায় পরিণত হয়ে গেল।<br />
<br />
হুযরত ঈসা (আঃ) সে সোনাকে তিন ভাগ করলেন এবং লোকটিকে লক্ষ্য করে বললেন,<br />
<br />
“এ তিন ভাগ সোনার মধ্যে এক অংশ আমার, আর এক অংশ তোমার এবং অপর অংশটি যে রুটি নিয়েছে তার।”<br />
<br />
একথা শুনে লোকটি বলে উঠলো, “রুটি তো আমিই নিয়েছিলাম।”<br />
<br />
হযরত ঈসা (আঃ) বললেন, তাহলে সব সোনাই তোমাকে দিলাম; এ বলে লোকতা থেকে পৃথক হয়ে চলে গেলেন।<br />
<br />
লোকটি তিন ভাগ সোনার সবগুলোর মালিক হয়ে মনের আনন্দে জঙ্গলের ধারেই অবস্থান করতে লাগলো। এমন সময় দুই ব্যক্তি এসে তার সোনা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যে তাকে হত্যা করতে উদ্যত হলো।<br />
<br />
লোকটি বললো, “লড়াই করলে হেরে যাওয়ার ভয় সবারই আছে।<br />
<br />
তাই লারাই না করে এসো আমরা এ সোনা সমান তিন ভাগ করে নেই।<br />
<br />
তোমরা একজন বাজারে গিয়ে কিছু খাবার নিয়ে এসো। ক্ষুধা নিবৃত্তি করার সোনা ভাগ করব ।”<br />
<br />
সুতরাং লোকটির প্রস্তাবে তারা রাজি হলো এবং সে দুজনের মধ্যে একজন খাবার আনতে বাজারে গেল এবং মনে মনে ভাবলো, খাবারের মধ্যে বিষ মিশিয়ে দিলে এ দুজন মারা যাবে সমস্ত সোনা আমার হয়ে যাবে। এ ভেবে সে খাবারের মধ্যে বিষ মিশিয়ে দিল।<br />
<br />
এদিক এরা দুজনে পরামর্শ করলো, এ তৃতীয় ব্যক্তিটিকে যদি মেরে ফেলা হয় তবে সমস্ত সোনা তাদের দুই জনের ভাগে বেশী করে পড়বে।<br />
<br />
তাই লোকটি বাজার থেকে ফিরে আসতেই তাকে মেরে ফেলতে হবে।<br />
<br />
সুতরাং লোকটি যখন খাবার নিয়ে ফিরে আসলো তখন দুজন মিলে তাকে হত্যা করলো এবং মনের আনন্দে খাবার খেতে লাগলো। খাবার খাওয়া শেষ হতে না হতেই বিষের প্রতিক্রিয়ায় দুজন সেখানে মৃত্যুবরণ করলো।<br />
<br />
সোনার তিনটি স্তূপই সেখানে পড়ে রইল। কেউ না পেল না। তিন জনের লাশই সোনার স্তূপের পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রইলো।<br />
<br />
ঘটনা ক্রমে হযরত ঈসা (আঃ) আবার সে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি এ দৃশ্য দেখে সবাইকে ডেকে বললেন, “দেখ সম্পদের হাকীকত এই।<br />
<br />
এর লোভ থেকে নিজেকে বাঁচাও।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[এক ব্যক্তি হযরত ঈসা (আঃ)-এর সাথে সফরে রওয়ানা হলো।<br />
<br />
হযরত ঈসা (আঃ)-এর সাথে তিনটি রুটি ছিল। একটা নদীর তীরে পৌছে তিনি আহার করলেন এবং পানি পান করার জন্যে নদীতে গেলেন। ফিরে এসে দেখেন অবশিষ্ট রুটিটি নেই। তিনি সে লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, “রুটি কে নিয়েছে?”<br />
<br />
লোকটি বললো, “আমি জানিনা।”<br />
<br />
হযরত ঈসা (আঃ) লোকটিকে নিয়ে আবার রওয়ানা হলেন। রাস্তা চলতে চলতে যখন ক্ষুধার উদ্যেক হলো তখন তিনি দূরে একটি হরিণী দেখলেন। হরিণীর সঙ্গে দুটি বাচ্ছা ছিল। তিনি একটি বাচ্ছাকে ডাকলেন।<br />
<br />
বাচ্ছাটি কাছে আসলো। তিনি বাচ্ছাটিকে জবাই করলেন এবং গোশত ভূনা করে সে লোকটিকে নিয়ে আহার করলেন। অতঃপর বললেন, “আলালহর হুকুমে জীবিত হয়ে যাও।” সঙ্গে সঙ্গে হরিণের বাচ্ছা জীবিত হয়ে চলে গেল।<br />
<br />
হযরত ঈসা (আঃ) লোকটিকে বললেন, “এ হরিণের বাচ্ছা জীবিত হয়ে যাওয়ার মোজেযা যিনি দেখালেন তাঁর কসম দিয়ে বলছি, তুমি বল রুটিটি কে নিয়েছে?।<br />
<br />
লোকটি বললো, “আমি জানি না।”<br />
<br />
হযরত ঈসা (আঃ) লোকটিকে নিয়ে আবার রওয়ানা হলেন। পাহাড় থেকে ঝর্না হয়ে নেমে আসা একটি নদী সামনে পড়লো। তিনি লোকটির হাত ধরে পানির উপর হেঁটে নদী পার হলেন।<br />
<br />
অতঃপর তিনি বললেন, “যিনি বিনা নৌকায় নদী পার হওয়ার এ মোজেযা দেখালেন তার কসম দিয়ে বলছি, তুমি বল রুটি কে নিয়েছে?”<br />
<br />
লোকটি আগের এ জবাব দিল, “আমি জানিনা।”<br />
<br />
হযরত ঈসা (আঃ) এক জঙ্গলের কাছে পৌঁছে বালি জমা করলেন।<br />
<br />
যখন এক বিরাট বালির স্তূপ হয়ে গেল তখন সে স্তূপ কে লক্ষ্য করে বললেন, “আল্লাহর হুকুমে সোনা হয়ে যাও।”<br />
<br />
তখনই বালির স্তূপ টি সোনায় পরিণত হয়ে গেল।<br />
<br />
হুযরত ঈসা (আঃ) সে সোনাকে তিন ভাগ করলেন এবং লোকটিকে লক্ষ্য করে বললেন,<br />
<br />
“এ তিন ভাগ সোনার মধ্যে এক অংশ আমার, আর এক অংশ তোমার এবং অপর অংশটি যে রুটি নিয়েছে তার।”<br />
<br />
একথা শুনে লোকটি বলে উঠলো, “রুটি তো আমিই নিয়েছিলাম।”<br />
<br />
হযরত ঈসা (আঃ) বললেন, তাহলে সব সোনাই তোমাকে দিলাম; এ বলে লোকতা থেকে পৃথক হয়ে চলে গেলেন।<br />
<br />
লোকটি তিন ভাগ সোনার সবগুলোর মালিক হয়ে মনের আনন্দে জঙ্গলের ধারেই অবস্থান করতে লাগলো। এমন সময় দুই ব্যক্তি এসে তার সোনা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যে তাকে হত্যা করতে উদ্যত হলো।<br />
<br />
লোকটি বললো, “লড়াই করলে হেরে যাওয়ার ভয় সবারই আছে।<br />
<br />
তাই লারাই না করে এসো আমরা এ সোনা সমান তিন ভাগ করে নেই।<br />
<br />
তোমরা একজন বাজারে গিয়ে কিছু খাবার নিয়ে এসো। ক্ষুধা নিবৃত্তি করার সোনা ভাগ করব ।”<br />
<br />
সুতরাং লোকটির প্রস্তাবে তারা রাজি হলো এবং সে দুজনের মধ্যে একজন খাবার আনতে বাজারে গেল এবং মনে মনে ভাবলো, খাবারের মধ্যে বিষ মিশিয়ে দিলে এ দুজন মারা যাবে সমস্ত সোনা আমার হয়ে যাবে। এ ভেবে সে খাবারের মধ্যে বিষ মিশিয়ে দিল।<br />
<br />
এদিক এরা দুজনে পরামর্শ করলো, এ তৃতীয় ব্যক্তিটিকে যদি মেরে ফেলা হয় তবে সমস্ত সোনা তাদের দুই জনের ভাগে বেশী করে পড়বে।<br />
<br />
তাই লোকটি বাজার থেকে ফিরে আসতেই তাকে মেরে ফেলতে হবে।<br />
<br />
সুতরাং লোকটি যখন খাবার নিয়ে ফিরে আসলো তখন দুজন মিলে তাকে হত্যা করলো এবং মনের আনন্দে খাবার খেতে লাগলো। খাবার খাওয়া শেষ হতে না হতেই বিষের প্রতিক্রিয়ায় দুজন সেখানে মৃত্যুবরণ করলো।<br />
<br />
সোনার তিনটি স্তূপই সেখানে পড়ে রইল। কেউ না পেল না। তিন জনের লাশই সোনার স্তূপের পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রইলো।<br />
<br />
ঘটনা ক্রমে হযরত ঈসা (আঃ) আবার সে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি এ দৃশ্য দেখে সবাইকে ডেকে বললেন, “দেখ সম্পদের হাকীকত এই।<br />
<br />
এর লোভ থেকে নিজেকে বাঁচাও।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[[ইসলামিক গল্প] পিতামাতাকে অসন্তুষ্ট করার পরিণাম…]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2317</link>
			<pubDate>Fri, 24 Feb 2017 03:12:55 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2317</guid>
			<description><![CDATA[ইমাম তাবরানী ও ইমাম আহমাদ একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন । রাসুল (সাঃ) এর যুগে আলকামা নামে মদীনায় এক যুবক বাস করতো । সে নামায, রোযা ও সদকার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার ইবাদাত বন্দেগীতে অতিশয় অধ্যবসায় সহকারে লিপ্ত থাকতো । একবার সে কঠিন রোগে আক্রান্ত হলো । তার স্ত্রী রাসুল (সাঃ) এর কাছে খবর পাঠালো যে, “আমার সামী আলকামা মুমূর্ষ অবস্থায় আছে । হে রাসুল, আমি আপনাকে তার অবস্থা জানানো জরুরী মনে করেছি ।” রাসুল (সাঃ) তৎক্ষণাত হযরত আম্মার, সুহাইব ও বিলাল (রাঃ) কে তার কাছে পাঠালেন । তাদেরকে বলে দিলেন যে, “তোমরা তার কাছে গিয়ে তাকে কলেমায়ে শাহাদাৎ পড়াও ।” তারা গিয়ে দেখলেন, আলকামা মুমূর্ষ অবস্থায় রয়েছে ।<br />
<br />
তাই তারা তাকে “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু” পড়াতে চেষ্টা করতে লাগলেন । কিন্তু সে কোন মতেই কলেমা উচ্চারণ করতে পারছিল না । অগত্যা তারা রাসুল (সাঃ) কে খবর পাঠালেন যে, আলকামার মুখে কলেমা উচ্চারিত হচ্ছে না । যে ব্যক্তি এই সংবাদ নিয়ে গিয়েছিলেন, তার কাছে রাসুল (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলেনঃ “আলকামার পিতামাতার মধ্যে কেউ কি জীবিত আছে?” সে বললোঃ “হে রাসুল, তার কেবল বৃদ্ধা মা বেচে আছে ।” রাসুল (সাঃ) তৎক্ষনাত তাকে আলকামার মায়ের কাছে পাঠালেন এবং বললেনঃ “তাকে গিয়ে বল যে, তুমি যদি রাসুল (সাঃ) এর কাছে যেতে পার তবে চল, নচেত অপেক্ষা কর, তিনি তোমার সাথে সাক্ষাত করতে আসছেন ।” দূত আলকামার মায়ের কাছে উপস্থিত হয়ে রাসুল (সাঃ) যা বলেছিলেন যা বলেছিলেন তা জানালে আলকামার মা বললেনঃ “রাসুল (সাঃ) এর জন্য আমার প্রাণ উৎসর্গ হোক । তার কাছে বরং আমিই যাবো ।” বৃদ্ধা লাঠি ভর দিয়ে রাসুল (সাঃ) এর কাছে এসে সালাম করলেন । রাসুল (সাঃ) সালামের জবাব দিয়ে বললেনঃ “ওহে আলকামার মা, আমাকে আপনি সত্য কথা বলবেন ।<br />
<br />
আর যদি মিথ্যা বলেন, তবে আল্লাহর কাছ থেকে আমার কাছে ওহি আসবে । বলুন তো, আপনার ছেলে আলকামার স্বভাব চরিত্র কেমন ছিল?” বৃদ্ধা বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসুল, সে প্রচুর পরিমাণে নামায, রোযা ও সদকা আদায় করতো ।” রাসুল (সাঃ) বললেনঃ তার প্রতি আপনার মনোভাব কী? বৃদ্ধা বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসুল, আমি তার প্রতি অসন্তুষ্ট ।” রাসুল (সাঃ) বললেন, “কেন?” বৃদ্ধা বললেনঃ “সে তার স্ত্রীকে আমার ওপর অগ্রাধিকার দিত এবং আমার আদেশ অমান্য করতো ।” রাসুল (সাঃ) বললেনঃ “আলকামার মায়ের অসন্তোষ হেতু কলেমা উচ্চারণে আলকামার জিহবা আড়ষ্ট হয়ে গেছে ।” তারপর রাসুল (সাঃ) বললেনঃ “হে বিলাল, যাও, আমার জন্য প্রচুর পরিমাণে কাষ্ঠ যোগাড় করে নিয়ে এসো ।”<br />
<br />
বৃদ্ধা বললেনঃ “হে আল্লাহর রসুল, কাষ্ঠ দিয়ে কি করবেন?” রাসুল (সাঃ) বললেনঃ “আমি ওকে আপনার সামনেই আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেব ।” বৃদ্ধা বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসুল । আমার সামনেই আমার ছেলেকে আগুন দিয়ে পোড়াবেন । তা আমি সহ্য করতে পারবো না ।” রাসুল (সাঃ) বললেনঃ “ওহে আলকামার মা, আল্লাহর আযাব এর চেয়েও কঠোর এবং দীর্ঘস্থায়ী । এখন আপনি যদি চান যে, আল্লাহ আপনার ছেলেকে মাফ করে দিক, তাহলে তাকে আপনি মাফ করে দিন এবং তার ওপর সন্তুষ্ট হয়ে যান । নচেত যে আল্লাহর হাতে আমার প্রাণ তার কসম, যতক্ষণ আপনি তার ওপর অসন্তুষ্ট থাকবেন, ততক্ষণ নামায-রোযা ও সদকা দিয়ে আলকামার কোন লাভ হবে না ।”<br />
<br />
একথা শুনে আলকামার মা বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসুল, আমি আল্লাহকে, আল্লাহর ফেরেশতাদেরকে এবং এখানে যে সকল মুসলমান উপস্থিত, তাদের সকলকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি আমার ছেলে আলকামার ওপর সন্তুষ্ট হয়ে গিয়েছি ।” রাসুল (সাঃ) বললেনঃ “ওহে বিলাল, এবার আলকামার কাছে যাও । দেখ, সে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলতে পারে কি না । কেননা আমার মনে হয়, আলকামার মা আমার কাছে কোন লাজলজ্জা না রেখে যথারথ কথাই বলেছে ।” হযরত বিলাল (রাঃ) তৎক্ষনাত গেলেন । শুনতে পেলেন, ঘরের ভেতর থেকে আলকামা উচ্চসরে উচ্চারণ করছে “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ” । অতঃপর বিলাল গৃহে প্রবেশ করে উপস্থিত জনতাকে বললেনঃ শুনে রাখ, আলকামার মা অসন্তুষ্ট থাকার কারণে সে প্রথমে কলেমা উচ্চারণ করতে পারে নি ।<br />
<br />
পরে তিনি সন্তুষ্ট হয়ে যাওয়ায় তার জিহবা কলেমা উচ্চারণে সক্ষম হয়েছে । অতঃপর আলকামা সেই দিনই মারা যায় এবং রাসুল (সাঃ) নিজে উপস্থিত হয়ে তার গোসল ও কাফনের নির্দেশ দেন, জানাজার নামায পড়ান এবং দাফনে শরীক হন । অতঃপর তার কবরে দাঁড়িয়ে রাসুল (সাঃ) বলেনঃ “হে আনসার ও মুহাজেরগণ! যে ব্যক্তি মায়ের ওপর স্ত্রীকে অগ্রাধিকার দেয় তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাগণ ও সকল মানুষের অভিসম্পাত! আল্লাহ তার পক্ষে কোন সুপারিশ কবুল করবেন না । কেবল তওবা করে ও মায়ের প্রতি সদব্যবহার করে তাকে সন্তুষ্ট করলেই নিস্তার পাওয়া যাবে । মনে রাখবে, মায়ের সন্তুষ্টিতেই আল্লাহর সন্তোষ এবং মায়ের অসন্তোষেই আল্লাহর অসন্তোষ ।”]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[ইমাম তাবরানী ও ইমাম আহমাদ একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন । রাসুল (সাঃ) এর যুগে আলকামা নামে মদীনায় এক যুবক বাস করতো । সে নামায, রোযা ও সদকার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার ইবাদাত বন্দেগীতে অতিশয় অধ্যবসায় সহকারে লিপ্ত থাকতো । একবার সে কঠিন রোগে আক্রান্ত হলো । তার স্ত্রী রাসুল (সাঃ) এর কাছে খবর পাঠালো যে, “আমার সামী আলকামা মুমূর্ষ অবস্থায় আছে । হে রাসুল, আমি আপনাকে তার অবস্থা জানানো জরুরী মনে করেছি ।” রাসুল (সাঃ) তৎক্ষণাত হযরত আম্মার, সুহাইব ও বিলাল (রাঃ) কে তার কাছে পাঠালেন । তাদেরকে বলে দিলেন যে, “তোমরা তার কাছে গিয়ে তাকে কলেমায়ে শাহাদাৎ পড়াও ।” তারা গিয়ে দেখলেন, আলকামা মুমূর্ষ অবস্থায় রয়েছে ।<br />
<br />
তাই তারা তাকে “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু” পড়াতে চেষ্টা করতে লাগলেন । কিন্তু সে কোন মতেই কলেমা উচ্চারণ করতে পারছিল না । অগত্যা তারা রাসুল (সাঃ) কে খবর পাঠালেন যে, আলকামার মুখে কলেমা উচ্চারিত হচ্ছে না । যে ব্যক্তি এই সংবাদ নিয়ে গিয়েছিলেন, তার কাছে রাসুল (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলেনঃ “আলকামার পিতামাতার মধ্যে কেউ কি জীবিত আছে?” সে বললোঃ “হে রাসুল, তার কেবল বৃদ্ধা মা বেচে আছে ।” রাসুল (সাঃ) তৎক্ষনাত তাকে আলকামার মায়ের কাছে পাঠালেন এবং বললেনঃ “তাকে গিয়ে বল যে, তুমি যদি রাসুল (সাঃ) এর কাছে যেতে পার তবে চল, নচেত অপেক্ষা কর, তিনি তোমার সাথে সাক্ষাত করতে আসছেন ।” দূত আলকামার মায়ের কাছে উপস্থিত হয়ে রাসুল (সাঃ) যা বলেছিলেন যা বলেছিলেন তা জানালে আলকামার মা বললেনঃ “রাসুল (সাঃ) এর জন্য আমার প্রাণ উৎসর্গ হোক । তার কাছে বরং আমিই যাবো ।” বৃদ্ধা লাঠি ভর দিয়ে রাসুল (সাঃ) এর কাছে এসে সালাম করলেন । রাসুল (সাঃ) সালামের জবাব দিয়ে বললেনঃ “ওহে আলকামার মা, আমাকে আপনি সত্য কথা বলবেন ।<br />
<br />
আর যদি মিথ্যা বলেন, তবে আল্লাহর কাছ থেকে আমার কাছে ওহি আসবে । বলুন তো, আপনার ছেলে আলকামার স্বভাব চরিত্র কেমন ছিল?” বৃদ্ধা বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসুল, সে প্রচুর পরিমাণে নামায, রোযা ও সদকা আদায় করতো ।” রাসুল (সাঃ) বললেনঃ তার প্রতি আপনার মনোভাব কী? বৃদ্ধা বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসুল, আমি তার প্রতি অসন্তুষ্ট ।” রাসুল (সাঃ) বললেন, “কেন?” বৃদ্ধা বললেনঃ “সে তার স্ত্রীকে আমার ওপর অগ্রাধিকার দিত এবং আমার আদেশ অমান্য করতো ।” রাসুল (সাঃ) বললেনঃ “আলকামার মায়ের অসন্তোষ হেতু কলেমা উচ্চারণে আলকামার জিহবা আড়ষ্ট হয়ে গেছে ।” তারপর রাসুল (সাঃ) বললেনঃ “হে বিলাল, যাও, আমার জন্য প্রচুর পরিমাণে কাষ্ঠ যোগাড় করে নিয়ে এসো ।”<br />
<br />
বৃদ্ধা বললেনঃ “হে আল্লাহর রসুল, কাষ্ঠ দিয়ে কি করবেন?” রাসুল (সাঃ) বললেনঃ “আমি ওকে আপনার সামনেই আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেব ।” বৃদ্ধা বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসুল । আমার সামনেই আমার ছেলেকে আগুন দিয়ে পোড়াবেন । তা আমি সহ্য করতে পারবো না ।” রাসুল (সাঃ) বললেনঃ “ওহে আলকামার মা, আল্লাহর আযাব এর চেয়েও কঠোর এবং দীর্ঘস্থায়ী । এখন আপনি যদি চান যে, আল্লাহ আপনার ছেলেকে মাফ করে দিক, তাহলে তাকে আপনি মাফ করে দিন এবং তার ওপর সন্তুষ্ট হয়ে যান । নচেত যে আল্লাহর হাতে আমার প্রাণ তার কসম, যতক্ষণ আপনি তার ওপর অসন্তুষ্ট থাকবেন, ততক্ষণ নামায-রোযা ও সদকা দিয়ে আলকামার কোন লাভ হবে না ।”<br />
<br />
একথা শুনে আলকামার মা বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসুল, আমি আল্লাহকে, আল্লাহর ফেরেশতাদেরকে এবং এখানে যে সকল মুসলমান উপস্থিত, তাদের সকলকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি আমার ছেলে আলকামার ওপর সন্তুষ্ট হয়ে গিয়েছি ।” রাসুল (সাঃ) বললেনঃ “ওহে বিলাল, এবার আলকামার কাছে যাও । দেখ, সে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলতে পারে কি না । কেননা আমার মনে হয়, আলকামার মা আমার কাছে কোন লাজলজ্জা না রেখে যথারথ কথাই বলেছে ।” হযরত বিলাল (রাঃ) তৎক্ষনাত গেলেন । শুনতে পেলেন, ঘরের ভেতর থেকে আলকামা উচ্চসরে উচ্চারণ করছে “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ” । অতঃপর বিলাল গৃহে প্রবেশ করে উপস্থিত জনতাকে বললেনঃ শুনে রাখ, আলকামার মা অসন্তুষ্ট থাকার কারণে সে প্রথমে কলেমা উচ্চারণ করতে পারে নি ।<br />
<br />
পরে তিনি সন্তুষ্ট হয়ে যাওয়ায় তার জিহবা কলেমা উচ্চারণে সক্ষম হয়েছে । অতঃপর আলকামা সেই দিনই মারা যায় এবং রাসুল (সাঃ) নিজে উপস্থিত হয়ে তার গোসল ও কাফনের নির্দেশ দেন, জানাজার নামায পড়ান এবং দাফনে শরীক হন । অতঃপর তার কবরে দাঁড়িয়ে রাসুল (সাঃ) বলেনঃ “হে আনসার ও মুহাজেরগণ! যে ব্যক্তি মায়ের ওপর স্ত্রীকে অগ্রাধিকার দেয় তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাগণ ও সকল মানুষের অভিসম্পাত! আল্লাহ তার পক্ষে কোন সুপারিশ কবুল করবেন না । কেবল তওবা করে ও মায়ের প্রতি সদব্যবহার করে তাকে সন্তুষ্ট করলেই নিস্তার পাওয়া যাবে । মনে রাখবে, মায়ের সন্তুষ্টিতেই আল্লাহর সন্তোষ এবং মায়ের অসন্তোষেই আল্লাহর অসন্তোষ ।”]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[[ইসলামিক গল্প] খলিফা হারুনুর রশীদ ও এক নাস্তিকের গল্প!]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2316</link>
			<pubDate>Fri, 24 Feb 2017 03:11:58 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2316</guid>
			<description><![CDATA[একবার খলিফা হারুনুর রশীদের নিকট এক নাস্তিক এসে বললেন যে, "আপনার সাম্রাজ্যে এমন কোন জ্ঞানী ব্যক্তিকে ডাকুন, আমি তাকে তর্ক করে প্রমান করে দেব যে এই পৃথিবীর কোন স্রষ্টা নেই । এগুলো নিজে নিজে সৃষ্টি হয়েছে এবং আপনা থেকেই চলে ।" খলিফা হারুনুর রশীদ কিছুক্ষন ভেবে একটি চিরকুট মারফত ইমাম আবু হানিফাকে ডাকলেন ও এই নাস্তিকের সাথে বিতর্কে অংশ নিতে অনুরোধ করলেন । ইমাম আবু হানিফা খবর পাঠালেন যে, তিনি আগামীকাল যোহরের সময় আসবেন, খলিফার প্রাসাদে নামায পড়ে তারপর বির্তকে অংশ নেবেন ।<br />
<br />
পরদিন যোহরের নামাযের সময় খলিফা, তার সভাসদবর্গ ওনাস্তিকটি অপেক্ষা করতে লাগল। কিন্তু যোহরের নামায তো দূরের কথা আসর শেষ হয়ে গেল তিনি মাগরীবের নামাযের সময় আসলেন । নাস্তিকটি তাঁর কাছে এত দেরীতে আসার কারন জানতে চাইল।<br />
<br />
তিনি বললেন, "আমি দজলা নদীর ওপারে বাস করি । আমি খলীফার দাওয়াত পেয়ে নদীতে এসে দেখি কোন নৌকা নেই । অনেকক্ষন অপেক্ষা করেও কোন নৌকা পেলাম না । সহসা আমি দেখলাম একটি গাছ আপনা-আপনি উপড়ে পড়ল । তারপর সেটি নিজ থেকেই তক্তায় পরিনত হল । তারপরএটি নিজে নিজে একটি নৌকায় পরিনত হল । অত:পর আমি এটায় চড়ে বসলাম । নৌকাটি নিজে নিজে চলতে চলতে আমাকে এপারে পৌছিয়ে দিল ।<br />
<br />
নাস্তিকটি একথা শুনে হো হো করে হেসে ফেলল । তারপর বলল, "ইমাম সাহেব আমাকে কি বোকা পেয়েছেন যে আমি এমন গাজাখুরি গল্প বিশ্বাস করব ? একটা গাছ আপনা থেকে নৌকায় পরিনত হবে এটা কি করে সম্ভব ?"<br />
<br />
ইমাম আবু হানিফা বললেন, "ওহে নাস্তিক সাহেব ! একটা গাছ যদি আপনা থেকে নৌকায় পরিনত না হতে পারে এবং নদী পরাপার না হতে পারে, তাহলে কিভাবে এই বিশাল আকাশ, চন্দ্র- সূর্য-নক্ষত্র আপনা-আপনি তৈরী হতে এবং চালু থাকতে পারে ?" নাস্তিকটি লা-জওয়াব হয়ে মুখ কাচুমাচু করে বিদায় নিল । খলিফা হারুনুর রশীদ তাঁর তাৎক্ষনিক জবাবে মুগ্ধ হয়ে ইমাম সাহেব কে সসম্মানে বিদায় দিলেন। সুবহানাল্লাহ]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[একবার খলিফা হারুনুর রশীদের নিকট এক নাস্তিক এসে বললেন যে, "আপনার সাম্রাজ্যে এমন কোন জ্ঞানী ব্যক্তিকে ডাকুন, আমি তাকে তর্ক করে প্রমান করে দেব যে এই পৃথিবীর কোন স্রষ্টা নেই । এগুলো নিজে নিজে সৃষ্টি হয়েছে এবং আপনা থেকেই চলে ।" খলিফা হারুনুর রশীদ কিছুক্ষন ভেবে একটি চিরকুট মারফত ইমাম আবু হানিফাকে ডাকলেন ও এই নাস্তিকের সাথে বিতর্কে অংশ নিতে অনুরোধ করলেন । ইমাম আবু হানিফা খবর পাঠালেন যে, তিনি আগামীকাল যোহরের সময় আসবেন, খলিফার প্রাসাদে নামায পড়ে তারপর বির্তকে অংশ নেবেন ।<br />
<br />
পরদিন যোহরের নামাযের সময় খলিফা, তার সভাসদবর্গ ওনাস্তিকটি অপেক্ষা করতে লাগল। কিন্তু যোহরের নামায তো দূরের কথা আসর শেষ হয়ে গেল তিনি মাগরীবের নামাযের সময় আসলেন । নাস্তিকটি তাঁর কাছে এত দেরীতে আসার কারন জানতে চাইল।<br />
<br />
তিনি বললেন, "আমি দজলা নদীর ওপারে বাস করি । আমি খলীফার দাওয়াত পেয়ে নদীতে এসে দেখি কোন নৌকা নেই । অনেকক্ষন অপেক্ষা করেও কোন নৌকা পেলাম না । সহসা আমি দেখলাম একটি গাছ আপনা-আপনি উপড়ে পড়ল । তারপর সেটি নিজ থেকেই তক্তায় পরিনত হল । তারপরএটি নিজে নিজে একটি নৌকায় পরিনত হল । অত:পর আমি এটায় চড়ে বসলাম । নৌকাটি নিজে নিজে চলতে চলতে আমাকে এপারে পৌছিয়ে দিল ।<br />
<br />
নাস্তিকটি একথা শুনে হো হো করে হেসে ফেলল । তারপর বলল, "ইমাম সাহেব আমাকে কি বোকা পেয়েছেন যে আমি এমন গাজাখুরি গল্প বিশ্বাস করব ? একটা গাছ আপনা থেকে নৌকায় পরিনত হবে এটা কি করে সম্ভব ?"<br />
<br />
ইমাম আবু হানিফা বললেন, "ওহে নাস্তিক সাহেব ! একটা গাছ যদি আপনা থেকে নৌকায় পরিনত না হতে পারে এবং নদী পরাপার না হতে পারে, তাহলে কিভাবে এই বিশাল আকাশ, চন্দ্র- সূর্য-নক্ষত্র আপনা-আপনি তৈরী হতে এবং চালু থাকতে পারে ?" নাস্তিকটি লা-জওয়াব হয়ে মুখ কাচুমাচু করে বিদায় নিল । খলিফা হারুনুর রশীদ তাঁর তাৎক্ষনিক জবাবে মুগ্ধ হয়ে ইমাম সাহেব কে সসম্মানে বিদায় দিলেন। সুবহানাল্লাহ]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[ইসলাম কি একটি বিজ্ঞানসম্মত ধর্ম?]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2315</link>
			<pubDate>Fri, 24 Feb 2017 03:11:18 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2315</guid>
			<description><![CDATA[এটা একটা কমন সমস্যা যে ধর্ম আর<br />
<br />
বিজ্ঞানের সংঘাত নিয়ে অনেকেই<br />
<br />
চিন্তিত থাকেন। অনেকে “ইসলাম<br />
<br />
একটা বিজ্ঞানসম্মত ধর্ম”<br />
<br />
বুলি আওড়িয়ে থাকেন বটে কিন্তু<br />
<br />
সেটা কতটা মন থেকে বলেন, সে প্রশ্ন রয়ে যায়। আমরা নাস্তিকদের<br />
<br />
কথাবার্তায় লক্ষ করি তারা প্রায়ই<br />
<br />
বিজ্ঞানের আশ্রয় নিয়ে ধর্মকে অসার<br />
<br />
প্রমাণের চেষ্টা করে। এখন<br />
<br />
কথা হচ্ছে ধর্ম আর<br />
<br />
বিজ্ঞানকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর প্রবণতা কেন এবং এ ক্ষেত্রে আমাদের<br />
<br />
বিশ্বাসের মানদণ্ড কী হওয়া উচিত। প্রথমত, মানুষের একটা সহজাত<br />
<br />
প্রবণতা আছে যে সে যা দেখে-সেটাই<br />
<br />
বিশ্বাস করে। “আমি নিজের<br />
<br />
চোখে দেখেছি”-বাক্যটা নিজের<br />
<br />
কথাকে জাস্টিফাই করার একটা কমন<br />
<br />
হাতিয়ার। একটা সহজ উদাহরণ দেওয়া যায়। যেসব ধর্মে মূর্তিপূজার<br />
<br />
বিধান আছে তারা যেসব দেবদেবীর<br />
<br />
পূজা করে তাদের মূর্তিগুলো মানুষের<br />
<br />
মত বা কোন জানোয়ারের মত করেই<br />
<br />
নির্মাণ করে। কেন? কারণ মানুষ<br />
<br />
কল্পনা করে নেয় আরাধ্য দেবদেবী এইরকমই হবে, যেহেতু<br />
<br />
সে নিজের চোখে নিজের দেহের<br />
<br />
আকৃতি বা পশুপাখির<br />
<br />
আকৃতি ছাড়া অন্যকিছু<br />
<br />
দেখতে পাচ্ছে না। নিরাকার<br />
<br />
স্রষ্টাকে যদি আকার দিতে চায় তবে মানুষ নিজের চোখের<br />
<br />
দৃষ্টিসীমার<br />
<br />
মধ্যে যা দেখে তা দিয়েই স্রষ্টার<br />
<br />
আকার কল্পনা করতে চায়-মূল<br />
<br />
ব্যাপারটা এ ই। এখন চোখের দেখায় যা বোঝা যায়<br />
<br />
তার বাইরে কোন মত<br />
<br />
গেলে স্বাভাবিকভাবেই<br />
<br />
তা মেনে নিতে কষ্ট হয়। অ্যারিস্টটল<br />
<br />
যখন বললেন সূর্য পৃথিবীর<br />
<br />
চারদিকে ঘোরে, তখন তা নিয়ে লোকে আপত্তি করে নি, কারণ<br />
<br />
চোখের দেখায় এটাই সত্য<br />
<br />
বলে মনে হয়। কিন্তু কোপারনিকাস<br />
<br />
যখন বললেন পৃথিবী সূর্যের<br />
<br />
চারদিকে ঘোরে, তখন ঘোর আপত্তি শুরু<br />
<br />
হল। কারণ এ কথা মানুষের সহজাত প্রবণতার বিরুদ্ধে যাচ্ছে। কিন্তু<br />
<br />
যখন ব্রুনো, গ্যালিলিওরা এর<br />
<br />
স্বপক্ষে যুক্তি দিলেন তখন মানুষ<br />
<br />
দেরিতে হলেও<br />
<br />
সত্যকে মেনে নিতে বাধ্য হল। বিজ্ঞানের রূপ এটাই। বিজ্ঞান<br />
<br />
সত্যের অনুসন্ধান করে, সত্যের<br />
<br />
মানদণ্ড নির্ধারণ করে না।<br />
<br />
অ্যারিস্টটল যা বলেছিলেন তখন<br />
<br />
সেটাই ছিল বিজ্ঞান, আজ<br />
<br />
আইনস্টাইনের কথাকে আমরা সত্য মানি, কাল হয়তো দেখা যাবে তা ছিল<br />
<br />
ভুল। যে জিনিস পরিবর্তনশীল<br />
<br />
তা থেকে বিশুদ্ধ জ্ঞান আহরণ সম্ভব<br />
<br />
নয়। কাজেই<br />
<br />
আল্লাহকে চিনতে হলে দরকার<br />
<br />
অপরিবর্তনশীল জ্ঞানের উৎস। কিতাবুল্লাহর দরকার সেই কারণেই<br />
<br />
ছিল। তাহলে প্রচলিত বিজ্ঞান কি স্রষ্টার<br />
<br />
অস্তিত্ব অস্বীকার করে?<br />
<br />
এখানে আমাদের মনে রাখতে হবে,<br />
<br />
প্রচলিত বিজ্ঞান যা ই বলুক<br />
<br />
সেটা আমাদের কনসার্ন না,<br />
<br />
কেননা আমরা কুরআনকে জ্ঞানের বিশুদ্ধতম উৎসরূপে স্বীকার<br />
<br />
করে নিয়েছি। তবু<br />
<br />
আমরা দেখি বিজ্ঞান<br />
<br />
স্রষ্টাকে স্বীকার<br />
<br />
করছে কি করছে না। ২ আমরা একটু লক্ষ করলে দেখতে পাব,<br />
<br />
বিজ্ঞানীরা যখন বস্তুর কোন ধর্মের<br />
<br />
কারণ নির্ণয়ে ব্যর্থ হন তখন<br />
<br />
সেটাকে “মৌলিক ধর্ম” বলে প্রচার<br />
<br />
করেন। যেমন মহাকর্ষ বল।<br />
<br />
মহাবিশ্বের যেকোন দুটি বস্তুর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ কেন থাকবে,<br />
<br />
সেটার যথার্থ কারণ ব্যাখ্যা সম্ভব<br />
<br />
হয়নি। আসলে একটা বৈজ্ঞানিক<br />
<br />
ঘটনা ব্যাখ্যা করতে গেলে আরেকটির<br />
<br />
রেফারেন্স লাগে। সেটার ব্যখ্যায়<br />
<br />
লাগে আরেকটির রেফারেন্স। এভাবে শেষ পর্যন্ত একটা জায়গায়<br />
<br />
গিয়ে আর ব্যাখ্যা দেওয়া যায়<br />
<br />
না বলেই এই “মৌলিক ধর্ম” নামক<br />
<br />
টার্মের উৎপত্তি। ক্লাস নাইনের ফিজিক্স<br />
<br />
বইয়ে লেখা ছিল পরমাণুর<br />
<br />
উৎপত্তি নাকি কত কোটি বছর আগে এক<br />
<br />
গ্রহে। আমি আমার এক শিক্ষককে প্রশ্ন<br />
<br />
করেছিলাম, তাহলে ঐ<br />
<br />
গ্রহটা কী দিয়ে তৈরি ছিল? সেটা কি পরমাণুর তৈরি নয়? আমার<br />
<br />
শিক্ষক হেসেছিলেন। আসলে বিজ্ঞান<br />
<br />
নিজেকে যতই স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাবুক<br />
<br />
না কেন, সে একটা গিয়ে থেমে যায়ই।<br />
<br />
সে তখনই এসব প্রশ্নের উত্তর<br />
<br />
দিতে পারে যখন সে একজন সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব স্বীকার<br />
<br />
করে নেয়। মৌলিক ধর্মই হোক, আর<br />
<br />
পরমাণুই হোক, মূলে গিয়ে একজন মহান<br />
<br />
সত্ত্বার সৃষ্টি হিসেবেই<br />
<br />
একে মেনে নিতে হবে, নতুবা অবান্তর<br />
<br />
সব উত্তর খুঁজে নিয়ে নিজেকে সান্ত্বনা দিতে হবে। আপনি পৃথিবীর কোন<br />
<br />
দেশে গিয়ে যদি দেখেন এমন কোন<br />
<br />
নিয়ম সবাই মানছে, যেটা আপনার<br />
<br />
দেশে নেই, বুঝতে পারবেন<br />
<br />
এটা ওদেশের আইন। যেমন আমাদের<br />
<br />
দেশে গাড়ি চলে রাস্তার বামপাশ দিয়ে, আমেরিকায় চলে ডানপাশ<br />
<br />
দিয়ে। আপনি বুঝবেন এটা আমেরিকায়<br />
<br />
আইন করে দেওয়া হয়েছে, যা সবাই<br />
<br />
মানতে বাধ্য। যদি কেউ<br />
<br />
আইনটা নির্দিষ্টরূপে তৈরি না করত,<br />
<br />
তবে ধনী-গরিব-সাদা- কালো নির্বিশেষে সবাই একই<br />
<br />
নিয়মে গাড়ি চালাত না, কখনোই না। তাহলে এবার ভেবে দেখুন, অনেক<br />
<br />
বৈজ্ঞানিক সূত্র পৃথিবীর সব বস্তুর<br />
<br />
ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।<br />
<br />
এটা কীভাবে সম্ভব হতে পারে??<br />
<br />
যেমন F=ma সূত্র মানুষের<br />
<br />
ক্ষেত্রে সত্য, তেমনি একটা লোহার টুকরার ক্ষেত্রেও সত্য।<br />
<br />
একটা পিঁপড়াকে পাহাড়ের উপর<br />
<br />
থেকে ছেড়ে দিলে সে g ত্বরণে পড়বে,<br />
<br />
আবার একটা হাতিকে ফেলে দিলেও<br />
<br />
সে একই ত্বরণে পড়বে। কী আশ্চর্য<br />
<br />
তাইনা?? এই আইনের কি স্রষ্টা নেই? কোন সে মহান সত্ত্বা যিনি এমন আইন<br />
<br />
তৈরি করলেন যা আকৃতি-ওজনে আকাশ-<br />
<br />
পাতাল পার্থক্যের হাতি আর<br />
<br />
পিঁপড়াকে একই সাথে মানতে বাধ্য<br />
<br />
করল? তিনিই কি আল্লাহ নন? বিজ্ঞান সত্যের অনুসন্ধানের<br />
<br />
চেষ্টা করে বলে বিজ্ঞানের<br />
<br />
ছাত্রদের বেশি সত্যসন্ধানী হওয়ার<br />
<br />
কথা। কিন্তু কিছু মূর্খ নিজেদের<br />
<br />
অবিশ্বাসকে বিজ্ঞান<br />
<br />
দিয়ে ঢাকতে চায়। তারা না বোঝে বিজ্ঞান,<br />
<br />
না বোঝে ধর্ম, না বোঝে দর্শন। এদের<br />
<br />
সাথে খুব বেশি যুক্তিতর্কে লিপ্ত<br />
<br />
হওয়া তাই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।<br />
<br />
তারা প্রথমে নিজেদের অবিশ্বাসের<br />
<br />
পক্ষে যুক্তি দিতে চাইবে। সাধারণত এদের কুযুক্তি বেশিক্ষণ<br />
<br />
ধোপে টেকে না। তারপর<br />
<br />
তারা ব্যক্তিগত আক্রমণ<br />
<br />
করে বসে এবং অপ্রাসংগিক<br />
<br />
কথা টেনে গালিগালাজ<br />
<br />
করে আপনাকে ট্র্যাক থেকে সরাতে চেষ্টা করে।<br />
<br />
আমি একসময় ব্লগিং করা শুরু<br />
<br />
করেছিলাম। নাস্তিকদের<br />
<br />
সাথে যুক্তি দিতে গিয়ে এই<br />
<br />
ব্যাপারগুলো লক্ষ করে সেখান<br />
<br />
থেকে সরে আসি। কেননা যে নিজের মত গায়ের জোর<br />
<br />
দিয়ে চাপাতে চাইবে আর অশালীন<br />
<br />
কথা বলে প্রসঙ্গ<br />
<br />
পাল্টাতে চাইবে তাদের<br />
<br />
সাথে বেশিক্ষণ যুক্তি দেওয়া কেবল<br />
<br />
সময়ের অপচয়, অন্তত আমি তা ই বিশ্বাস করি। ৩ এবার আসি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ<br />
<br />
আলোচনায়। বিজ্ঞান ও ধর্মের<br />
<br />
তর্কে আমাদের অবস্থান কী হবে? আমরা জানি কিছুদিন<br />
<br />
আগে জগদ্বিখ্যাত<br />
<br />
পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন<br />
<br />
হকিং স্রষ্টাকে অস্বীকার<br />
<br />
করে বসলেন। তিনি বললেন-পরকাল<br />
<br />
বলতে কিছু নেই, এটা রূপকথা মাত্র। এই নিয়ে আমাদের দেশের অনেক<br />
<br />
মুসলিমের মধ্যে হা-হুতাশ শুরু হল।<br />
<br />
অতবড় বিজ্ঞানী এমন মারাত্মক ভুল<br />
<br />
কী করে করলেন-অনেকের বোধগম্য হল<br />
<br />
না। ব্যাপারটা খুব সহজ। আপনি সত্যের<br />
<br />
সন্ধান কতটুকু পাচ্ছেন তা নির্ভর<br />
<br />
করছে আপনার জ্ঞান আহরণের উৎস কী।<br />
<br />
এখন বিজ্ঞানীরা ততক্ষণ পর্যন্ত কোন<br />
<br />
বিষয়কে স্বীকার করে নেবেন<br />
<br />
না যতক্ষন এর স্বপক্ষে প্রমাণ না পান। (যদিও ডারউইনবাদ মূলত<br />
<br />
অনুমানের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত<br />
<br />
হয়েছিল বলে জানা যায়)।<br />
<br />
এখন হকিং সাহেব তার দীর্ঘ<br />
<br />
জীবনে পরকালের অস্তিত্বের কোন<br />
<br />
প্রমাণ পান নি বলে তিনি একে বিশ্বাস<br />
<br />
করতে না ই পারেন। এতে খুব<br />
<br />
বেশি অবাক হওয়ার কোন কারণ<br />
<br />
আমি দেখি না। আমরা স্রষ্টার অস্তিত্বকে কোন<br />
<br />
বৈজ্ঞানিকের কথায় মেনে নেই নি।<br />
<br />
ইসলামের জ্ঞান এসেছে রিসালাতের<br />
<br />
ধারার মাধ্যমে, কোন সায়েন্স<br />
<br />
জার্নালে প্রকাশিত প্রবন্ধের<br />
<br />
সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নয়। কাজেই জ্ঞানের উৎসের ক্ষেত্রেই হকিং ও<br />
<br />
আমাদের মধ্যে একটা বিরাট পার্থক্য<br />
<br />
হয়ে যাচ্ছে।<br />
<br />
এতে করে সিদ্ধান্তে যে ভিন্নতা থাকবে,<br />
<br />
তা খুবই স্বাভাবিক। প্রশ্ন হল বিশুদ্ধতম উৎসের প্রয়োজন<br />
<br />
কেন হল। এখানে আমাদের<br />
<br />
মনে রাখতে হবে, বিজ্ঞান হল<br />
<br />
স্বতঃলব্ধ জ্ঞান। একটা গাড়ির<br />
<br />
চাকা কীভাবে বানালে গাড়িটা দ্রুত<br />
<br />
চলবে সেটার জন্য মানুষ তার নিজের জ্ঞানবুদ্ধি ও যুক্তি ব্যবহার<br />
<br />
করে নানা পরীক্ষানিরীক্ষার<br />
<br />
মাধ্যমে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।<br />
<br />
কিন্তু স্রষ্টার স্বরূপের ক্ষেত্রেও<br />
<br />
যদি মানুষ নিজের<br />
<br />
বুদ্ধিকে কাজে লাগাতে যেত তবে কখনোই সে পূর্ণ ধারণা পেত না।<br />
<br />
তাই সে জ্ঞানের জন্য স্বতঃলব্ধতা নয়<br />
<br />
বরং স্রষ্টার নিজের প্রেরিত<br />
<br />
জ্ঞানের প্রয়োজন ছিল। আর<br />
<br />
সে কারণেই রিসালাতের ধারার<br />
<br />
সূচনা। যেহেতু স্বতঃলব্ধ জ্ঞান মানসিকতার সাথে পরিবর্তন হয়, তাই<br />
<br />
বিজ্ঞানের পরিবর্তনশীলতা চলমান।<br />
<br />
কিন্তু স্রষ্টার জ্ঞান শুরু থেকেই পূর্ণ,<br />
<br />
তাই তাঁর প্রেরিত জ্ঞানের পরিবর্তন<br />
<br />
মানুষের সাধ্যের বাইরে। তাহলে কি স্রষ্টার বিধান<br />
<br />
অপরিবর্তনীয়? না, অপরবর্তনীয় নয়।<br />
<br />
এখন স্রষ্টার জ্ঞান পূর্ণ হলেও<br />
<br />
বিশুদ্ধতম জ্ঞান আহরণের সামর্থ্য সব<br />
<br />
যুগের মানুষের সমান ছিল না। তাই<br />
<br />
ভিন্নভিন্ন যুগের বিধান এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যা সেই<br />
<br />
যুগের মানুষের জন্য উপযুক্ত ছিল। আদম<br />
<br />
(আ) এর সময়ের মানুষের<br />
<br />
কাছে যদি ইনযিল বা কুরআন নাযিল<br />
<br />
হত তবে তারা সেটা অনুধাবন<br />
<br />
করতে সমর্থ হত না। তাই মানুষের মানসিক বিকাশ যত বেড়েছে,<br />
<br />
রিসালাতের ধারার জ্ঞান ও বিধান<br />
<br />
তত আপগ্রেডেড হয়েছে। এই ধারার<br />
<br />
সমাপ্তি কুরআনের মাধ্যমে,<br />
<br />
যেটা পূর্ণাঙ্গ এবং তাই<br />
<br />
ইসলামী শরীয়াহ এর এক্সপায়ারি ডেট আল কিয়ামাহ।<br />
<br />
রিসালাতের ধারার<br />
<br />
পরিপূর্ণতা দানের মাধ্যমে ইসলামের<br />
<br />
বিধানের পরিবর্তনশীলতা রহিত<br />
<br />
হয়ে গেছে। তদ্রুপ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, রাজনীতি,<br />
<br />
রাষ্ট্রব্যবস্থা, পররাষ্ট্রনীতিসহ<br />
<br />
যাবতীয় তাত্ত্বিক বিষয়ে মানুষের<br />
<br />
স্বতঃলব্ধ জ্ঞানের প্রয়োগ<br />
<br />
রিসালাতের ধারার মাধ্যমে বন্ধ<br />
<br />
করা হয়েছে। কেননা এইসকল বিষয়ে মানুষ নিজের জ্ঞান-<br />
<br />
বুদ্ধি দ্বারা তত্ত্ব আবিষ্কারে মগ্ন<br />
<br />
হলে তা মানবজাতির জন্য প্রভূত<br />
<br />
অকল্যাণ নিয়ে আসবে। যুদ্ধ-বিগ্রহ আর<br />
<br />
হানাহানির মূলে আছে মানুষের এই<br />
<br />
বিশুদ্ধতম জ্ঞানের উৎসকে অবহেলা করা। ইসলামের<br />
<br />
অর্থনীতিকে গ্রহণ না করায় উদ্ভুত<br />
<br />
পুঁজিবাদী ব্যবস্থার শোষণ<br />
<br />
আমরা বিশ্বজুড়ে আজ প্রত্যক্ষ করছি।<br />
<br />
ইসলামের রাষ্ট্রনীতি গ্রহণ<br />
<br />
না করায় সাম্রাজ্যবাদের করাল গ্রাসের স্বীকার আজ মানবজাতি। এর<br />
<br />
মূল কারণ একটাই, নিজেদের অপূর্ণাঙ্গ<br />
<br />
জ্ঞানের উপর অতিনির্ভরশীলতা।<br />
<br />
আল্লাহ্ যে বিধান দিয়েছেন, তার<br />
<br />
মধ্যেই কল্যাণ আছে-এ বিশ্বাসটুকু<br />
<br />
করতে না পারা। ৪ এতক্ষণ আলোচনায় আমরা এটাই<br />
<br />
বোঝাতে চেষ্টা করলাম, আল্লাহ্র<br />
<br />
থেকে আগত জ্ঞান পূর্ণ, আর মানুষের<br />
<br />
স্বতঃলব্ধ জ্ঞান অপরিপূর্ণ। আমাদের<br />
<br />
মনে রাখতে হবে যে, ইসলামের<br />
<br />
ভিত্তি যুক্তি নয়; বিজ্ঞান নয়, বিশ্বাস। কাজেই বিজ্ঞান<br />
<br />
বা যুক্তি ইসলামের পক্ষে যাক<br />
<br />
বা যাক, সেসবকে আমরা কেয়ার<br />
<br />
করি না। এটাই ঈমানের প্রথম<br />
<br />
এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কথা। রাসূল (সা) এর মিরাজের<br />
<br />
ঘটনা অবিশ্বাসীরা এককালে ‘অবাস্তব’<br />
<br />
বলে উড়িয়ে দিলেও আইনস্টাইনের<br />
<br />
থিওরি অফ রিলেটিভিটি আজ এই<br />
<br />
ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দাঁড়<br />
<br />
করাতে সমর্থ হয়েছে। তার মানে এই না যে, আধুনিক বিজ্ঞান এই<br />
<br />
ঘটনাকে প্রমাণ করতে ব্যর্থ<br />
<br />
হলে আমরা তাতে বিশ্বাস আনতাম না।<br />
<br />
আগেই বলেছি, ইসলামের<br />
<br />
ভিত্তি বিজ্ঞান নয়, বিশ্বাস। আবু<br />
<br />
বক্বর (রা) কে মক্কার কাফিররা মিরাজের ঘটনার উল্লেখ<br />
<br />
করে বলল-“এখন কি তুমি এই অবাস্তব<br />
<br />
গাঁজাখুরি কাহিনীও বিশ্বাস<br />
<br />
করবে??” আবু বক্বর কিন্তু<br />
<br />
বলেননি-“নিশ্চয়ই এর পেছনে কোন<br />
<br />
যুক্তি আছে”, তিনি বলেছেন-“রাসূল (সা) যদি এই কথা বলে থাকেন,<br />
<br />
তবে আমি তা বিশ্বাস করলাম”। এটাই ঈমানের মূল কথা। আমরা যেন<br />
<br />
আল্লাহ্র বিধানকে নিজেদের মত<br />
<br />
করে প্রমাণের<br />
<br />
চেষ্টা করে না বলি-“এটা যুক্তিযুক্ত<br />
<br />
কাজেই আমি বিশ্বাস করলাম”।<br />
<br />
বরং আমরা বলব-“আল্লাহ বলেছেন কাজেই এটা শতভাগ সঠিক, এর<br />
<br />
পেছনে যুক্তি খুঁজে পাই আর না ই<br />
<br />
পাই”। ইসলামের ভিত্তি যদি বিজ্ঞানই হত<br />
<br />
তাহলে মিরাজের বৈজ্ঞানিক<br />
<br />
ব্যাখ্যা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার<br />
<br />
সাথে সাথে এর উপরে কাফিররা ঈমান<br />
<br />
আনত, তাই নয় কি? কিন্তু তবু<br />
<br />
ওরা বলবে, ওই বোরাক আবার কীরকম জন্তু !! অমনটা তো কোনদিন দেখিনি !! লেখার শুরুতে বলেছিলাম, মানুষ<br />
<br />
সাধারণত চোখে যা দেখে তা ই<br />
<br />
বিশ্বাস করতে চায়। সে বোরাকের মত<br />
<br />
কোন জন্তু দেখেনি বলে তা বিশ্বাস<br />
<br />
করতে চায় না। সে জান্নাত-<br />
<br />
জাহান্নাম দেখেনি বলে তা বিশ্বাস করতে চায় না। এখন<br />
<br />
চিন্তা করে দেখুন,<br />
<br />
ম্যাজিশিয়ানরা স্টেজে যে ম্যাজিক<br />
<br />
দেখায়, তার আড়ালে কত কৌশল থাকে,<br />
<br />
যা আমরা চোখে দেখে বুঝতে পারি না।<br />
<br />
কিন্তু আমরা জানি এর পেছনে কোন কৌশল আছে, তাই কোন ম্যাজিক<br />
<br />
দেখে অভিভূত হলেও আমরা বলি-“এর<br />
<br />
পেছনে কোন মারাত্মক<br />
<br />
চালাকি আছে নিশ্চয়ই”। অথচ সেই আমরাই যখন আল্লাহ্র কোন<br />
<br />
বিধান মনঃপূত হয় না তখন<br />
<br />
সেটাকে বিজ্ঞানের অপূর্ণ জ্ঞানের<br />
<br />
কষ্ঠিপাথরে যাচাই করতে বসি, অথচ<br />
<br />
এটা ভাবতে পারি না-“আল্লাহ যখন<br />
<br />
বলেছেন এর পেছনে নিশ্চয়ই কল্যাণ আছে”, যে কথা ম্যাজিশিয়ানের<br />
<br />
ক্ষেত্রে ভেবে থাকি। অর্থাৎ<br />
<br />
আমরা আল্লাহ্র<br />
<br />
কৌশলকে ম্যাজিশিয়ানের কৌশলের<br />
<br />
চেয়ে কম শক্তিধর ভেবে বসছি !! কত<br />
<br />
মূর্খ আমরা, ভাবতে পারেন?? আর নিজের চোখে না দেখা জিনিস<br />
<br />
বিশ্বাস না করা মানে চরম<br />
<br />
অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দেওয়া। ম্যাজিক<br />
<br />
দেখতে স্টেজে উঠে প্রতিনিয়ত<br />
<br />
বিভ্রান্ত হয় মানুষ, চোখের<br />
<br />
দৃষ্টি আড়ালের কলাকৌশলকে ধরতে পারে না, সেই<br />
<br />
মানুষ কিভাবে এই দুর্বল<br />
<br />
দৃষ্টিকে জ্ঞানের উৎস<br />
<br />
হিসেবে স্বীকার করতে পারে !! আমাদের অনেকেরই<br />
<br />
প্রবণতা আছে ইসলামের<br />
<br />
বিধানকে প্রচলিত বিজ্ঞান<br />
<br />
দ্বারা ব্যাখ্যা করে একে “বিজ্ঞানসম্মত”<br />
<br />
বলে প্রচার করা। এ স্বভাব বর্জনীয়।<br />
<br />
কারণ এতে দুটো বড় সমস্যা আছে। প্রথমত, ইসলামের বিধানকে বিজ্ঞান<br />
<br />
দিয়ে ব্যাখ্যা করে সেটাকে “যুক্তিযুক্ত”<br />
<br />
বলার<br />
<br />
মানে হচ্ছে পরোক্ষভাবে ইসলামকে অপূর্ণ<br />
<br />
বলে স্বীকার করা। কেননা বিজ্ঞান<br />
<br />
একটা অপূর্ণ বিষয়, আর একটা অপূর্ণাঙ্গ বিষয়<br />
<br />
দিয়ে একটা পূর্ণাঙ্গ বিষয়ের<br />
<br />
ব্যাখ্যা করা মানে পূর্ণাঙ্গ<br />
<br />
বিষয়টাকে অপমান করা। দ্বিতীয়ত, ইসলামের<br />
<br />
প্রতিটি বিধানকে বিজ্ঞানের আওতায়<br />
<br />
আনার চেষ্টা করার অভ্যাস<br />
<br />
হয়ে গেলে হঠাৎ একটা বিধান<br />
<br />
প্রচলিত বিজ্ঞানের তত্ত্বের<br />
<br />
সাথে খাপ না খেলে সে বিধানের ব্যাপারে একটা সংশয় চলে আসবে,<br />
<br />
যা ঈমানের একটা মারাত্মক ত্রুটি। কাফিররা আমাদের কাছে ঠিক এটাই<br />
<br />
চায়। তারা চায় ধর্ম পালনের<br />
<br />
ক্ষেত্রে আমরা যেন<br />
<br />
বিজ্ঞানকে সত্যের মানদণ্ড<br />
<br />
ধরে ইসলামকে বিজ্ঞান দিয়ে বোঝার<br />
<br />
চেষ্টা করি, যাতে বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে কোন বিধান<br />
<br />
বোধগম্য<br />
<br />
না হলে আমরা সেটাকে ছুড়ে ফেলে দিই<br />
<br />
(নাঊযুবিল্লাহ)।<br />
<br />
সেক্ষেত্রে তারা অনেকটা সফল। তাই<br />
<br />
দেখা যায় পাঁচওয়াক্ত নামাযের খবর না থাকলেও হিজাব কেন<br />
<br />
“বিজ্ঞানসম্মত” সে কথা প্রমাণে আজ<br />
<br />
মুসলিমরা ব্যস্ত। তেমনি কাফিরদের<br />
<br />
আবিষ্কৃত “গণতন্ত্র”, “পুঁজিবাদ”,<br />
<br />
“ধর্মনিরপেক্ষতা”<br />
<br />
ইত্যাদিকে “বিজ্ঞানসম্মত” বলে মেনে নিয়ে আল্লাহ্র দ্বীন<br />
<br />
থেকে দূরে সরে গিয়ে তাদের<br />
<br />
গোলামি করছি। যেহেতু ইসলাম পূর্ণ আর বিজ্ঞান<br />
<br />
অপূর্ণ, তাই ইসলামের<br />
<br />
ক্ষেত্রে “বিজ্ঞানসম্মত”<br />
<br />
কথাটা অর্থহীন। “বিজ্ঞানসম্মত”<br />
<br />
মানে বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত।<br />
<br />
এখন কথা হল যেটা নিজেই অপূর্ণ সেটা একটা পূর্ণ বিষয়কে প্রমাণ<br />
<br />
করার কে? ইসলামকে “বিজ্ঞানসম্মত”<br />
<br />
বলা মানে কি ইসলামের<br />
<br />
জাস্টিফিকেশনের ভারটা বিজ্ঞানের<br />
<br />
উপর ন্যাস্ত করা হয়ে যায় না??? একটা উদাহরণ দেই। আলফাজ<br />
<br />
বাংলাদেশের একজন ফুটবলার। কথিত<br />
<br />
আছে, এক ধারাভাষ্যকার<br />
<br />
বলেছিলেন-“মেসির মধ্যে আলফাজের<br />
<br />
ছায়া খুঁজে পাই”।<br />
<br />
কথাটা ব্যাপক হাস্যরসিকতার উদ্ভব করেছিল। কেন? কারণ আলফাজের<br />
<br />
চেয়ে মেসি অনেক উচুমানের<br />
<br />
খেলোয়াড় কাজেই<br />
<br />
মানদণ্ডটা আলফাজের খেলা না,<br />
<br />
মেসির খেলাই হওয়া উচিত।<br />
<br />
ভাষ্যকারের কথাটা এমন মিন করে-“আলফাজের মত হওয়ার<br />
<br />
পথে এগিয়ে যাচ্ছেন মেসি” তাই নয়<br />
<br />
কি? এটা কি মেসির অপমান নয়? ঠিক<br />
<br />
তেমনি সত্যের মাপকাঠি ইসলাম<br />
<br />
এবং পক্ষান্তরে বিজ্ঞান অপূর্ণাঙ্গ<br />
<br />
হওয়া সত্ত্বেও “ইসলাম একটি বিজ্ঞানসম্মত ধর্ম”<br />
<br />
বলাটা মেসির মধ্যে আলফাজের<br />
<br />
ছায়া খুঁজে পাওয়ারই নামান্তর। কাফির-নাস্তিক-ইসলামবিদ্বেষীদের<br />
<br />
সাথে তর্ক হলে আমরা যেন ডিফেনসিভ<br />
<br />
না হয়ে যাই। তাদের কথামত<br />
<br />
ইসলামের প্রতিটি বিধানের<br />
<br />
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে যেন<br />
<br />
ইসলামকে খাট না করি, এ ধরনের উত্তর দিয়ে যেন তাদের এন্টারটেইন<br />
<br />
না করি। “বিজ্ঞানের<br />
<br />
ভিত্তিতে পরকালের অস্তিত্ব প্রমাণ<br />
<br />
করুন” এই কথা শুনে আমরা যেন<br />
<br />
আইনস্টাইন-ম্যাক্সওয়েল<br />
<br />
ঘেঁটে পরকালের পক্ষে যুক্তি না খুঁজি, বরং তাদের পালটা প্রশ্ন<br />
<br />
করি-“আপনি আগে বিজ্ঞানের<br />
<br />
ভিত্তিতে পরকালকে অসার প্রমাণ<br />
<br />
করুন”।<br />
<br />
যুক্তির ভিত্তিতে নয়,<br />
<br />
বরং নির্দ্বিধায় আল্লাহ্র হুকুম মেনে নেওয়ার মধ্যেই<br />
<br />
আছে সত্যিকারের সাফল্য। আল্লাহ্ আমাদের মাফ করুন ও ঈমানের<br />
<br />
সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর সামর্থ্য<br />
<br />
দান করুন। পুনরুত্থানে অবিশ্বাসী বস্তুবাদীরা,<br />
<br />
যারা বলত : “আমাদের এ পার্থিব জীবনই জীবন,<br />
<br />
আমাদেরকে পুনরায় জীবিত<br />
<br />
হতে হবে না।” (সুরা আন’আম, ৬ : ২৯) “যেদিন মানুষ প্রত্যক্ষ<br />
<br />
করবে যা সে সামনে প্রেরণ<br />
<br />
করেছে এবং অবিশ্বাসীরা বলবেঃ হায় !<br />
<br />
আফসোস !<br />
<br />
আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম !!” (সূরা নাবা,<br />
<br />
৭৮ : ৪০) “কারও প্রতি জুলুম<br />
<br />
করা হবে না এবং তোমরা যা করবে,<br />
<br />
কেবল তারই প্রতিদান<br />
<br />
পাবে।” (সুরা ইয়াসীন, ৩৬ : ৫৪)]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[এটা একটা কমন সমস্যা যে ধর্ম আর<br />
<br />
বিজ্ঞানের সংঘাত নিয়ে অনেকেই<br />
<br />
চিন্তিত থাকেন। অনেকে “ইসলাম<br />
<br />
একটা বিজ্ঞানসম্মত ধর্ম”<br />
<br />
বুলি আওড়িয়ে থাকেন বটে কিন্তু<br />
<br />
সেটা কতটা মন থেকে বলেন, সে প্রশ্ন রয়ে যায়। আমরা নাস্তিকদের<br />
<br />
কথাবার্তায় লক্ষ করি তারা প্রায়ই<br />
<br />
বিজ্ঞানের আশ্রয় নিয়ে ধর্মকে অসার<br />
<br />
প্রমাণের চেষ্টা করে। এখন<br />
<br />
কথা হচ্ছে ধর্ম আর<br />
<br />
বিজ্ঞানকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর প্রবণতা কেন এবং এ ক্ষেত্রে আমাদের<br />
<br />
বিশ্বাসের মানদণ্ড কী হওয়া উচিত। প্রথমত, মানুষের একটা সহজাত<br />
<br />
প্রবণতা আছে যে সে যা দেখে-সেটাই<br />
<br />
বিশ্বাস করে। “আমি নিজের<br />
<br />
চোখে দেখেছি”-বাক্যটা নিজের<br />
<br />
কথাকে জাস্টিফাই করার একটা কমন<br />
<br />
হাতিয়ার। একটা সহজ উদাহরণ দেওয়া যায়। যেসব ধর্মে মূর্তিপূজার<br />
<br />
বিধান আছে তারা যেসব দেবদেবীর<br />
<br />
পূজা করে তাদের মূর্তিগুলো মানুষের<br />
<br />
মত বা কোন জানোয়ারের মত করেই<br />
<br />
নির্মাণ করে। কেন? কারণ মানুষ<br />
<br />
কল্পনা করে নেয় আরাধ্য দেবদেবী এইরকমই হবে, যেহেতু<br />
<br />
সে নিজের চোখে নিজের দেহের<br />
<br />
আকৃতি বা পশুপাখির<br />
<br />
আকৃতি ছাড়া অন্যকিছু<br />
<br />
দেখতে পাচ্ছে না। নিরাকার<br />
<br />
স্রষ্টাকে যদি আকার দিতে চায় তবে মানুষ নিজের চোখের<br />
<br />
দৃষ্টিসীমার<br />
<br />
মধ্যে যা দেখে তা দিয়েই স্রষ্টার<br />
<br />
আকার কল্পনা করতে চায়-মূল<br />
<br />
ব্যাপারটা এ ই। এখন চোখের দেখায় যা বোঝা যায়<br />
<br />
তার বাইরে কোন মত<br />
<br />
গেলে স্বাভাবিকভাবেই<br />
<br />
তা মেনে নিতে কষ্ট হয়। অ্যারিস্টটল<br />
<br />
যখন বললেন সূর্য পৃথিবীর<br />
<br />
চারদিকে ঘোরে, তখন তা নিয়ে লোকে আপত্তি করে নি, কারণ<br />
<br />
চোখের দেখায় এটাই সত্য<br />
<br />
বলে মনে হয়। কিন্তু কোপারনিকাস<br />
<br />
যখন বললেন পৃথিবী সূর্যের<br />
<br />
চারদিকে ঘোরে, তখন ঘোর আপত্তি শুরু<br />
<br />
হল। কারণ এ কথা মানুষের সহজাত প্রবণতার বিরুদ্ধে যাচ্ছে। কিন্তু<br />
<br />
যখন ব্রুনো, গ্যালিলিওরা এর<br />
<br />
স্বপক্ষে যুক্তি দিলেন তখন মানুষ<br />
<br />
দেরিতে হলেও<br />
<br />
সত্যকে মেনে নিতে বাধ্য হল। বিজ্ঞানের রূপ এটাই। বিজ্ঞান<br />
<br />
সত্যের অনুসন্ধান করে, সত্যের<br />
<br />
মানদণ্ড নির্ধারণ করে না।<br />
<br />
অ্যারিস্টটল যা বলেছিলেন তখন<br />
<br />
সেটাই ছিল বিজ্ঞান, আজ<br />
<br />
আইনস্টাইনের কথাকে আমরা সত্য মানি, কাল হয়তো দেখা যাবে তা ছিল<br />
<br />
ভুল। যে জিনিস পরিবর্তনশীল<br />
<br />
তা থেকে বিশুদ্ধ জ্ঞান আহরণ সম্ভব<br />
<br />
নয়। কাজেই<br />
<br />
আল্লাহকে চিনতে হলে দরকার<br />
<br />
অপরিবর্তনশীল জ্ঞানের উৎস। কিতাবুল্লাহর দরকার সেই কারণেই<br />
<br />
ছিল। তাহলে প্রচলিত বিজ্ঞান কি স্রষ্টার<br />
<br />
অস্তিত্ব অস্বীকার করে?<br />
<br />
এখানে আমাদের মনে রাখতে হবে,<br />
<br />
প্রচলিত বিজ্ঞান যা ই বলুক<br />
<br />
সেটা আমাদের কনসার্ন না,<br />
<br />
কেননা আমরা কুরআনকে জ্ঞানের বিশুদ্ধতম উৎসরূপে স্বীকার<br />
<br />
করে নিয়েছি। তবু<br />
<br />
আমরা দেখি বিজ্ঞান<br />
<br />
স্রষ্টাকে স্বীকার<br />
<br />
করছে কি করছে না। ২ আমরা একটু লক্ষ করলে দেখতে পাব,<br />
<br />
বিজ্ঞানীরা যখন বস্তুর কোন ধর্মের<br />
<br />
কারণ নির্ণয়ে ব্যর্থ হন তখন<br />
<br />
সেটাকে “মৌলিক ধর্ম” বলে প্রচার<br />
<br />
করেন। যেমন মহাকর্ষ বল।<br />
<br />
মহাবিশ্বের যেকোন দুটি বস্তুর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ কেন থাকবে,<br />
<br />
সেটার যথার্থ কারণ ব্যাখ্যা সম্ভব<br />
<br />
হয়নি। আসলে একটা বৈজ্ঞানিক<br />
<br />
ঘটনা ব্যাখ্যা করতে গেলে আরেকটির<br />
<br />
রেফারেন্স লাগে। সেটার ব্যখ্যায়<br />
<br />
লাগে আরেকটির রেফারেন্স। এভাবে শেষ পর্যন্ত একটা জায়গায়<br />
<br />
গিয়ে আর ব্যাখ্যা দেওয়া যায়<br />
<br />
না বলেই এই “মৌলিক ধর্ম” নামক<br />
<br />
টার্মের উৎপত্তি। ক্লাস নাইনের ফিজিক্স<br />
<br />
বইয়ে লেখা ছিল পরমাণুর<br />
<br />
উৎপত্তি নাকি কত কোটি বছর আগে এক<br />
<br />
গ্রহে। আমি আমার এক শিক্ষককে প্রশ্ন<br />
<br />
করেছিলাম, তাহলে ঐ<br />
<br />
গ্রহটা কী দিয়ে তৈরি ছিল? সেটা কি পরমাণুর তৈরি নয়? আমার<br />
<br />
শিক্ষক হেসেছিলেন। আসলে বিজ্ঞান<br />
<br />
নিজেকে যতই স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাবুক<br />
<br />
না কেন, সে একটা গিয়ে থেমে যায়ই।<br />
<br />
সে তখনই এসব প্রশ্নের উত্তর<br />
<br />
দিতে পারে যখন সে একজন সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব স্বীকার<br />
<br />
করে নেয়। মৌলিক ধর্মই হোক, আর<br />
<br />
পরমাণুই হোক, মূলে গিয়ে একজন মহান<br />
<br />
সত্ত্বার সৃষ্টি হিসেবেই<br />
<br />
একে মেনে নিতে হবে, নতুবা অবান্তর<br />
<br />
সব উত্তর খুঁজে নিয়ে নিজেকে সান্ত্বনা দিতে হবে। আপনি পৃথিবীর কোন<br />
<br />
দেশে গিয়ে যদি দেখেন এমন কোন<br />
<br />
নিয়ম সবাই মানছে, যেটা আপনার<br />
<br />
দেশে নেই, বুঝতে পারবেন<br />
<br />
এটা ওদেশের আইন। যেমন আমাদের<br />
<br />
দেশে গাড়ি চলে রাস্তার বামপাশ দিয়ে, আমেরিকায় চলে ডানপাশ<br />
<br />
দিয়ে। আপনি বুঝবেন এটা আমেরিকায়<br />
<br />
আইন করে দেওয়া হয়েছে, যা সবাই<br />
<br />
মানতে বাধ্য। যদি কেউ<br />
<br />
আইনটা নির্দিষ্টরূপে তৈরি না করত,<br />
<br />
তবে ধনী-গরিব-সাদা- কালো নির্বিশেষে সবাই একই<br />
<br />
নিয়মে গাড়ি চালাত না, কখনোই না। তাহলে এবার ভেবে দেখুন, অনেক<br />
<br />
বৈজ্ঞানিক সূত্র পৃথিবীর সব বস্তুর<br />
<br />
ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।<br />
<br />
এটা কীভাবে সম্ভব হতে পারে??<br />
<br />
যেমন F=ma সূত্র মানুষের<br />
<br />
ক্ষেত্রে সত্য, তেমনি একটা লোহার টুকরার ক্ষেত্রেও সত্য।<br />
<br />
একটা পিঁপড়াকে পাহাড়ের উপর<br />
<br />
থেকে ছেড়ে দিলে সে g ত্বরণে পড়বে,<br />
<br />
আবার একটা হাতিকে ফেলে দিলেও<br />
<br />
সে একই ত্বরণে পড়বে। কী আশ্চর্য<br />
<br />
তাইনা?? এই আইনের কি স্রষ্টা নেই? কোন সে মহান সত্ত্বা যিনি এমন আইন<br />
<br />
তৈরি করলেন যা আকৃতি-ওজনে আকাশ-<br />
<br />
পাতাল পার্থক্যের হাতি আর<br />
<br />
পিঁপড়াকে একই সাথে মানতে বাধ্য<br />
<br />
করল? তিনিই কি আল্লাহ নন? বিজ্ঞান সত্যের অনুসন্ধানের<br />
<br />
চেষ্টা করে বলে বিজ্ঞানের<br />
<br />
ছাত্রদের বেশি সত্যসন্ধানী হওয়ার<br />
<br />
কথা। কিন্তু কিছু মূর্খ নিজেদের<br />
<br />
অবিশ্বাসকে বিজ্ঞান<br />
<br />
দিয়ে ঢাকতে চায়। তারা না বোঝে বিজ্ঞান,<br />
<br />
না বোঝে ধর্ম, না বোঝে দর্শন। এদের<br />
<br />
সাথে খুব বেশি যুক্তিতর্কে লিপ্ত<br />
<br />
হওয়া তাই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।<br />
<br />
তারা প্রথমে নিজেদের অবিশ্বাসের<br />
<br />
পক্ষে যুক্তি দিতে চাইবে। সাধারণত এদের কুযুক্তি বেশিক্ষণ<br />
<br />
ধোপে টেকে না। তারপর<br />
<br />
তারা ব্যক্তিগত আক্রমণ<br />
<br />
করে বসে এবং অপ্রাসংগিক<br />
<br />
কথা টেনে গালিগালাজ<br />
<br />
করে আপনাকে ট্র্যাক থেকে সরাতে চেষ্টা করে।<br />
<br />
আমি একসময় ব্লগিং করা শুরু<br />
<br />
করেছিলাম। নাস্তিকদের<br />
<br />
সাথে যুক্তি দিতে গিয়ে এই<br />
<br />
ব্যাপারগুলো লক্ষ করে সেখান<br />
<br />
থেকে সরে আসি। কেননা যে নিজের মত গায়ের জোর<br />
<br />
দিয়ে চাপাতে চাইবে আর অশালীন<br />
<br />
কথা বলে প্রসঙ্গ<br />
<br />
পাল্টাতে চাইবে তাদের<br />
<br />
সাথে বেশিক্ষণ যুক্তি দেওয়া কেবল<br />
<br />
সময়ের অপচয়, অন্তত আমি তা ই বিশ্বাস করি। ৩ এবার আসি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ<br />
<br />
আলোচনায়। বিজ্ঞান ও ধর্মের<br />
<br />
তর্কে আমাদের অবস্থান কী হবে? আমরা জানি কিছুদিন<br />
<br />
আগে জগদ্বিখ্যাত<br />
<br />
পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন<br />
<br />
হকিং স্রষ্টাকে অস্বীকার<br />
<br />
করে বসলেন। তিনি বললেন-পরকাল<br />
<br />
বলতে কিছু নেই, এটা রূপকথা মাত্র। এই নিয়ে আমাদের দেশের অনেক<br />
<br />
মুসলিমের মধ্যে হা-হুতাশ শুরু হল।<br />
<br />
অতবড় বিজ্ঞানী এমন মারাত্মক ভুল<br />
<br />
কী করে করলেন-অনেকের বোধগম্য হল<br />
<br />
না। ব্যাপারটা খুব সহজ। আপনি সত্যের<br />
<br />
সন্ধান কতটুকু পাচ্ছেন তা নির্ভর<br />
<br />
করছে আপনার জ্ঞান আহরণের উৎস কী।<br />
<br />
এখন বিজ্ঞানীরা ততক্ষণ পর্যন্ত কোন<br />
<br />
বিষয়কে স্বীকার করে নেবেন<br />
<br />
না যতক্ষন এর স্বপক্ষে প্রমাণ না পান। (যদিও ডারউইনবাদ মূলত<br />
<br />
অনুমানের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত<br />
<br />
হয়েছিল বলে জানা যায়)।<br />
<br />
এখন হকিং সাহেব তার দীর্ঘ<br />
<br />
জীবনে পরকালের অস্তিত্বের কোন<br />
<br />
প্রমাণ পান নি বলে তিনি একে বিশ্বাস<br />
<br />
করতে না ই পারেন। এতে খুব<br />
<br />
বেশি অবাক হওয়ার কোন কারণ<br />
<br />
আমি দেখি না। আমরা স্রষ্টার অস্তিত্বকে কোন<br />
<br />
বৈজ্ঞানিকের কথায় মেনে নেই নি।<br />
<br />
ইসলামের জ্ঞান এসেছে রিসালাতের<br />
<br />
ধারার মাধ্যমে, কোন সায়েন্স<br />
<br />
জার্নালে প্রকাশিত প্রবন্ধের<br />
<br />
সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নয়। কাজেই জ্ঞানের উৎসের ক্ষেত্রেই হকিং ও<br />
<br />
আমাদের মধ্যে একটা বিরাট পার্থক্য<br />
<br />
হয়ে যাচ্ছে।<br />
<br />
এতে করে সিদ্ধান্তে যে ভিন্নতা থাকবে,<br />
<br />
তা খুবই স্বাভাবিক। প্রশ্ন হল বিশুদ্ধতম উৎসের প্রয়োজন<br />
<br />
কেন হল। এখানে আমাদের<br />
<br />
মনে রাখতে হবে, বিজ্ঞান হল<br />
<br />
স্বতঃলব্ধ জ্ঞান। একটা গাড়ির<br />
<br />
চাকা কীভাবে বানালে গাড়িটা দ্রুত<br />
<br />
চলবে সেটার জন্য মানুষ তার নিজের জ্ঞানবুদ্ধি ও যুক্তি ব্যবহার<br />
<br />
করে নানা পরীক্ষানিরীক্ষার<br />
<br />
মাধ্যমে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।<br />
<br />
কিন্তু স্রষ্টার স্বরূপের ক্ষেত্রেও<br />
<br />
যদি মানুষ নিজের<br />
<br />
বুদ্ধিকে কাজে লাগাতে যেত তবে কখনোই সে পূর্ণ ধারণা পেত না।<br />
<br />
তাই সে জ্ঞানের জন্য স্বতঃলব্ধতা নয়<br />
<br />
বরং স্রষ্টার নিজের প্রেরিত<br />
<br />
জ্ঞানের প্রয়োজন ছিল। আর<br />
<br />
সে কারণেই রিসালাতের ধারার<br />
<br />
সূচনা। যেহেতু স্বতঃলব্ধ জ্ঞান মানসিকতার সাথে পরিবর্তন হয়, তাই<br />
<br />
বিজ্ঞানের পরিবর্তনশীলতা চলমান।<br />
<br />
কিন্তু স্রষ্টার জ্ঞান শুরু থেকেই পূর্ণ,<br />
<br />
তাই তাঁর প্রেরিত জ্ঞানের পরিবর্তন<br />
<br />
মানুষের সাধ্যের বাইরে। তাহলে কি স্রষ্টার বিধান<br />
<br />
অপরিবর্তনীয়? না, অপরবর্তনীয় নয়।<br />
<br />
এখন স্রষ্টার জ্ঞান পূর্ণ হলেও<br />
<br />
বিশুদ্ধতম জ্ঞান আহরণের সামর্থ্য সব<br />
<br />
যুগের মানুষের সমান ছিল না। তাই<br />
<br />
ভিন্নভিন্ন যুগের বিধান এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যা সেই<br />
<br />
যুগের মানুষের জন্য উপযুক্ত ছিল। আদম<br />
<br />
(আ) এর সময়ের মানুষের<br />
<br />
কাছে যদি ইনযিল বা কুরআন নাযিল<br />
<br />
হত তবে তারা সেটা অনুধাবন<br />
<br />
করতে সমর্থ হত না। তাই মানুষের মানসিক বিকাশ যত বেড়েছে,<br />
<br />
রিসালাতের ধারার জ্ঞান ও বিধান<br />
<br />
তত আপগ্রেডেড হয়েছে। এই ধারার<br />
<br />
সমাপ্তি কুরআনের মাধ্যমে,<br />
<br />
যেটা পূর্ণাঙ্গ এবং তাই<br />
<br />
ইসলামী শরীয়াহ এর এক্সপায়ারি ডেট আল কিয়ামাহ।<br />
<br />
রিসালাতের ধারার<br />
<br />
পরিপূর্ণতা দানের মাধ্যমে ইসলামের<br />
<br />
বিধানের পরিবর্তনশীলতা রহিত<br />
<br />
হয়ে গেছে। তদ্রুপ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, রাজনীতি,<br />
<br />
রাষ্ট্রব্যবস্থা, পররাষ্ট্রনীতিসহ<br />
<br />
যাবতীয় তাত্ত্বিক বিষয়ে মানুষের<br />
<br />
স্বতঃলব্ধ জ্ঞানের প্রয়োগ<br />
<br />
রিসালাতের ধারার মাধ্যমে বন্ধ<br />
<br />
করা হয়েছে। কেননা এইসকল বিষয়ে মানুষ নিজের জ্ঞান-<br />
<br />
বুদ্ধি দ্বারা তত্ত্ব আবিষ্কারে মগ্ন<br />
<br />
হলে তা মানবজাতির জন্য প্রভূত<br />
<br />
অকল্যাণ নিয়ে আসবে। যুদ্ধ-বিগ্রহ আর<br />
<br />
হানাহানির মূলে আছে মানুষের এই<br />
<br />
বিশুদ্ধতম জ্ঞানের উৎসকে অবহেলা করা। ইসলামের<br />
<br />
অর্থনীতিকে গ্রহণ না করায় উদ্ভুত<br />
<br />
পুঁজিবাদী ব্যবস্থার শোষণ<br />
<br />
আমরা বিশ্বজুড়ে আজ প্রত্যক্ষ করছি।<br />
<br />
ইসলামের রাষ্ট্রনীতি গ্রহণ<br />
<br />
না করায় সাম্রাজ্যবাদের করাল গ্রাসের স্বীকার আজ মানবজাতি। এর<br />
<br />
মূল কারণ একটাই, নিজেদের অপূর্ণাঙ্গ<br />
<br />
জ্ঞানের উপর অতিনির্ভরশীলতা।<br />
<br />
আল্লাহ্ যে বিধান দিয়েছেন, তার<br />
<br />
মধ্যেই কল্যাণ আছে-এ বিশ্বাসটুকু<br />
<br />
করতে না পারা। ৪ এতক্ষণ আলোচনায় আমরা এটাই<br />
<br />
বোঝাতে চেষ্টা করলাম, আল্লাহ্র<br />
<br />
থেকে আগত জ্ঞান পূর্ণ, আর মানুষের<br />
<br />
স্বতঃলব্ধ জ্ঞান অপরিপূর্ণ। আমাদের<br />
<br />
মনে রাখতে হবে যে, ইসলামের<br />
<br />
ভিত্তি যুক্তি নয়; বিজ্ঞান নয়, বিশ্বাস। কাজেই বিজ্ঞান<br />
<br />
বা যুক্তি ইসলামের পক্ষে যাক<br />
<br />
বা যাক, সেসবকে আমরা কেয়ার<br />
<br />
করি না। এটাই ঈমানের প্রথম<br />
<br />
এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কথা। রাসূল (সা) এর মিরাজের<br />
<br />
ঘটনা অবিশ্বাসীরা এককালে ‘অবাস্তব’<br />
<br />
বলে উড়িয়ে দিলেও আইনস্টাইনের<br />
<br />
থিওরি অফ রিলেটিভিটি আজ এই<br />
<br />
ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দাঁড়<br />
<br />
করাতে সমর্থ হয়েছে। তার মানে এই না যে, আধুনিক বিজ্ঞান এই<br />
<br />
ঘটনাকে প্রমাণ করতে ব্যর্থ<br />
<br />
হলে আমরা তাতে বিশ্বাস আনতাম না।<br />
<br />
আগেই বলেছি, ইসলামের<br />
<br />
ভিত্তি বিজ্ঞান নয়, বিশ্বাস। আবু<br />
<br />
বক্বর (রা) কে মক্কার কাফিররা মিরাজের ঘটনার উল্লেখ<br />
<br />
করে বলল-“এখন কি তুমি এই অবাস্তব<br />
<br />
গাঁজাখুরি কাহিনীও বিশ্বাস<br />
<br />
করবে??” আবু বক্বর কিন্তু<br />
<br />
বলেননি-“নিশ্চয়ই এর পেছনে কোন<br />
<br />
যুক্তি আছে”, তিনি বলেছেন-“রাসূল (সা) যদি এই কথা বলে থাকেন,<br />
<br />
তবে আমি তা বিশ্বাস করলাম”। এটাই ঈমানের মূল কথা। আমরা যেন<br />
<br />
আল্লাহ্র বিধানকে নিজেদের মত<br />
<br />
করে প্রমাণের<br />
<br />
চেষ্টা করে না বলি-“এটা যুক্তিযুক্ত<br />
<br />
কাজেই আমি বিশ্বাস করলাম”।<br />
<br />
বরং আমরা বলব-“আল্লাহ বলেছেন কাজেই এটা শতভাগ সঠিক, এর<br />
<br />
পেছনে যুক্তি খুঁজে পাই আর না ই<br />
<br />
পাই”। ইসলামের ভিত্তি যদি বিজ্ঞানই হত<br />
<br />
তাহলে মিরাজের বৈজ্ঞানিক<br />
<br />
ব্যাখ্যা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার<br />
<br />
সাথে সাথে এর উপরে কাফিররা ঈমান<br />
<br />
আনত, তাই নয় কি? কিন্তু তবু<br />
<br />
ওরা বলবে, ওই বোরাক আবার কীরকম জন্তু !! অমনটা তো কোনদিন দেখিনি !! লেখার শুরুতে বলেছিলাম, মানুষ<br />
<br />
সাধারণত চোখে যা দেখে তা ই<br />
<br />
বিশ্বাস করতে চায়। সে বোরাকের মত<br />
<br />
কোন জন্তু দেখেনি বলে তা বিশ্বাস<br />
<br />
করতে চায় না। সে জান্নাত-<br />
<br />
জাহান্নাম দেখেনি বলে তা বিশ্বাস করতে চায় না। এখন<br />
<br />
চিন্তা করে দেখুন,<br />
<br />
ম্যাজিশিয়ানরা স্টেজে যে ম্যাজিক<br />
<br />
দেখায়, তার আড়ালে কত কৌশল থাকে,<br />
<br />
যা আমরা চোখে দেখে বুঝতে পারি না।<br />
<br />
কিন্তু আমরা জানি এর পেছনে কোন কৌশল আছে, তাই কোন ম্যাজিক<br />
<br />
দেখে অভিভূত হলেও আমরা বলি-“এর<br />
<br />
পেছনে কোন মারাত্মক<br />
<br />
চালাকি আছে নিশ্চয়ই”। অথচ সেই আমরাই যখন আল্লাহ্র কোন<br />
<br />
বিধান মনঃপূত হয় না তখন<br />
<br />
সেটাকে বিজ্ঞানের অপূর্ণ জ্ঞানের<br />
<br />
কষ্ঠিপাথরে যাচাই করতে বসি, অথচ<br />
<br />
এটা ভাবতে পারি না-“আল্লাহ যখন<br />
<br />
বলেছেন এর পেছনে নিশ্চয়ই কল্যাণ আছে”, যে কথা ম্যাজিশিয়ানের<br />
<br />
ক্ষেত্রে ভেবে থাকি। অর্থাৎ<br />
<br />
আমরা আল্লাহ্র<br />
<br />
কৌশলকে ম্যাজিশিয়ানের কৌশলের<br />
<br />
চেয়ে কম শক্তিধর ভেবে বসছি !! কত<br />
<br />
মূর্খ আমরা, ভাবতে পারেন?? আর নিজের চোখে না দেখা জিনিস<br />
<br />
বিশ্বাস না করা মানে চরম<br />
<br />
অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দেওয়া। ম্যাজিক<br />
<br />
দেখতে স্টেজে উঠে প্রতিনিয়ত<br />
<br />
বিভ্রান্ত হয় মানুষ, চোখের<br />
<br />
দৃষ্টি আড়ালের কলাকৌশলকে ধরতে পারে না, সেই<br />
<br />
মানুষ কিভাবে এই দুর্বল<br />
<br />
দৃষ্টিকে জ্ঞানের উৎস<br />
<br />
হিসেবে স্বীকার করতে পারে !! আমাদের অনেকেরই<br />
<br />
প্রবণতা আছে ইসলামের<br />
<br />
বিধানকে প্রচলিত বিজ্ঞান<br />
<br />
দ্বারা ব্যাখ্যা করে একে “বিজ্ঞানসম্মত”<br />
<br />
বলে প্রচার করা। এ স্বভাব বর্জনীয়।<br />
<br />
কারণ এতে দুটো বড় সমস্যা আছে। প্রথমত, ইসলামের বিধানকে বিজ্ঞান<br />
<br />
দিয়ে ব্যাখ্যা করে সেটাকে “যুক্তিযুক্ত”<br />
<br />
বলার<br />
<br />
মানে হচ্ছে পরোক্ষভাবে ইসলামকে অপূর্ণ<br />
<br />
বলে স্বীকার করা। কেননা বিজ্ঞান<br />
<br />
একটা অপূর্ণ বিষয়, আর একটা অপূর্ণাঙ্গ বিষয়<br />
<br />
দিয়ে একটা পূর্ণাঙ্গ বিষয়ের<br />
<br />
ব্যাখ্যা করা মানে পূর্ণাঙ্গ<br />
<br />
বিষয়টাকে অপমান করা। দ্বিতীয়ত, ইসলামের<br />
<br />
প্রতিটি বিধানকে বিজ্ঞানের আওতায়<br />
<br />
আনার চেষ্টা করার অভ্যাস<br />
<br />
হয়ে গেলে হঠাৎ একটা বিধান<br />
<br />
প্রচলিত বিজ্ঞানের তত্ত্বের<br />
<br />
সাথে খাপ না খেলে সে বিধানের ব্যাপারে একটা সংশয় চলে আসবে,<br />
<br />
যা ঈমানের একটা মারাত্মক ত্রুটি। কাফিররা আমাদের কাছে ঠিক এটাই<br />
<br />
চায়। তারা চায় ধর্ম পালনের<br />
<br />
ক্ষেত্রে আমরা যেন<br />
<br />
বিজ্ঞানকে সত্যের মানদণ্ড<br />
<br />
ধরে ইসলামকে বিজ্ঞান দিয়ে বোঝার<br />
<br />
চেষ্টা করি, যাতে বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে কোন বিধান<br />
<br />
বোধগম্য<br />
<br />
না হলে আমরা সেটাকে ছুড়ে ফেলে দিই<br />
<br />
(নাঊযুবিল্লাহ)।<br />
<br />
সেক্ষেত্রে তারা অনেকটা সফল। তাই<br />
<br />
দেখা যায় পাঁচওয়াক্ত নামাযের খবর না থাকলেও হিজাব কেন<br />
<br />
“বিজ্ঞানসম্মত” সে কথা প্রমাণে আজ<br />
<br />
মুসলিমরা ব্যস্ত। তেমনি কাফিরদের<br />
<br />
আবিষ্কৃত “গণতন্ত্র”, “পুঁজিবাদ”,<br />
<br />
“ধর্মনিরপেক্ষতা”<br />
<br />
ইত্যাদিকে “বিজ্ঞানসম্মত” বলে মেনে নিয়ে আল্লাহ্র দ্বীন<br />
<br />
থেকে দূরে সরে গিয়ে তাদের<br />
<br />
গোলামি করছি। যেহেতু ইসলাম পূর্ণ আর বিজ্ঞান<br />
<br />
অপূর্ণ, তাই ইসলামের<br />
<br />
ক্ষেত্রে “বিজ্ঞানসম্মত”<br />
<br />
কথাটা অর্থহীন। “বিজ্ঞানসম্মত”<br />
<br />
মানে বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত।<br />
<br />
এখন কথা হল যেটা নিজেই অপূর্ণ সেটা একটা পূর্ণ বিষয়কে প্রমাণ<br />
<br />
করার কে? ইসলামকে “বিজ্ঞানসম্মত”<br />
<br />
বলা মানে কি ইসলামের<br />
<br />
জাস্টিফিকেশনের ভারটা বিজ্ঞানের<br />
<br />
উপর ন্যাস্ত করা হয়ে যায় না??? একটা উদাহরণ দেই। আলফাজ<br />
<br />
বাংলাদেশের একজন ফুটবলার। কথিত<br />
<br />
আছে, এক ধারাভাষ্যকার<br />
<br />
বলেছিলেন-“মেসির মধ্যে আলফাজের<br />
<br />
ছায়া খুঁজে পাই”।<br />
<br />
কথাটা ব্যাপক হাস্যরসিকতার উদ্ভব করেছিল। কেন? কারণ আলফাজের<br />
<br />
চেয়ে মেসি অনেক উচুমানের<br />
<br />
খেলোয়াড় কাজেই<br />
<br />
মানদণ্ডটা আলফাজের খেলা না,<br />
<br />
মেসির খেলাই হওয়া উচিত।<br />
<br />
ভাষ্যকারের কথাটা এমন মিন করে-“আলফাজের মত হওয়ার<br />
<br />
পথে এগিয়ে যাচ্ছেন মেসি” তাই নয়<br />
<br />
কি? এটা কি মেসির অপমান নয়? ঠিক<br />
<br />
তেমনি সত্যের মাপকাঠি ইসলাম<br />
<br />
এবং পক্ষান্তরে বিজ্ঞান অপূর্ণাঙ্গ<br />
<br />
হওয়া সত্ত্বেও “ইসলাম একটি বিজ্ঞানসম্মত ধর্ম”<br />
<br />
বলাটা মেসির মধ্যে আলফাজের<br />
<br />
ছায়া খুঁজে পাওয়ারই নামান্তর। কাফির-নাস্তিক-ইসলামবিদ্বেষীদের<br />
<br />
সাথে তর্ক হলে আমরা যেন ডিফেনসিভ<br />
<br />
না হয়ে যাই। তাদের কথামত<br />
<br />
ইসলামের প্রতিটি বিধানের<br />
<br />
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে যেন<br />
<br />
ইসলামকে খাট না করি, এ ধরনের উত্তর দিয়ে যেন তাদের এন্টারটেইন<br />
<br />
না করি। “বিজ্ঞানের<br />
<br />
ভিত্তিতে পরকালের অস্তিত্ব প্রমাণ<br />
<br />
করুন” এই কথা শুনে আমরা যেন<br />
<br />
আইনস্টাইন-ম্যাক্সওয়েল<br />
<br />
ঘেঁটে পরকালের পক্ষে যুক্তি না খুঁজি, বরং তাদের পালটা প্রশ্ন<br />
<br />
করি-“আপনি আগে বিজ্ঞানের<br />
<br />
ভিত্তিতে পরকালকে অসার প্রমাণ<br />
<br />
করুন”।<br />
<br />
যুক্তির ভিত্তিতে নয়,<br />
<br />
বরং নির্দ্বিধায় আল্লাহ্র হুকুম মেনে নেওয়ার মধ্যেই<br />
<br />
আছে সত্যিকারের সাফল্য। আল্লাহ্ আমাদের মাফ করুন ও ঈমানের<br />
<br />
সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর সামর্থ্য<br />
<br />
দান করুন। পুনরুত্থানে অবিশ্বাসী বস্তুবাদীরা,<br />
<br />
যারা বলত : “আমাদের এ পার্থিব জীবনই জীবন,<br />
<br />
আমাদেরকে পুনরায় জীবিত<br />
<br />
হতে হবে না।” (সুরা আন’আম, ৬ : ২৯) “যেদিন মানুষ প্রত্যক্ষ<br />
<br />
করবে যা সে সামনে প্রেরণ<br />
<br />
করেছে এবং অবিশ্বাসীরা বলবেঃ হায় !<br />
<br />
আফসোস !<br />
<br />
আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম !!” (সূরা নাবা,<br />
<br />
৭৮ : ৪০) “কারও প্রতি জুলুম<br />
<br />
করা হবে না এবং তোমরা যা করবে,<br />
<br />
কেবল তারই প্রতিদান<br />
<br />
পাবে।” (সুরা ইয়াসীন, ৩৬ : ৫৪)]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স:) এর জান্নাত সম্পর্কে ৪০টি কথা]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2314</link>
			<pubDate>Fri, 24 Feb 2017 03:10:34 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2314</guid>
			<description><![CDATA[আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আমাদের জন্য জান্নাত সম্পর্কে ভবিষ্যত বাণী করে গিয়েছেন। আসুন জেনে নেই জান্নাত সম্পর্কে আমাদের প্রিয় নবী<br />
<br />
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর বাণীগুলিঃ<br />
<br />
<img src="http://2.bp.blogspot.com/-t5f-pmYacOM/Vixqw52_bAI/AAAAAAAAAJU/TV7bDLez13w/s1600/is%2B%25285%2529.jpg" loading="lazy"  alt="[Image: is%2B%25285%2529.jpg]" class="mycode_img" /><br />
<br />
১) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর<br />
<br />
উম্মতের মধ্য মধ্য থেকে ৭০ হাজার ব্যক্তি বিনা<br />
<br />
হিসেবে জান্নাতে যাবে।- [আহমদ, তিরমিজী,<br />
<br />
ইবনে মাজাহ- আবু ওমামা (রা.)]<br />
<br />
২) যারা রাতে আরামের বিছানা থেকে নিজেদের<br />
<br />
পার্শ্বদেশকে দূরে রেখেছিল, এমন অল্প<br />
<br />
সংখ্যক লোক বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ<br />
<br />
করবে। অবশিষ্ট সকল মানুষ হতে হিসেব নেয়ার<br />
<br />
নির্দেশ করা হবে। [বায়হাকি- আসমা (রা.)]<br />
<br />
৩) জান্নাতে জান্নাতবাসীরা প্রতি জুমাবারে<br />
<br />
বাজারে মিলিত হবে এবং জান্নাতে<br />
<br />
জান্নাতবাসীদের রূপ-সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।<br />
<br />
[মুসলিম- আনাস রা.)]<br />
<br />
৪) জান্নাতের স্তর হবে ১০০টি এবং জান্নাতের<br />
<br />
সর্বোচ্চ স্তর জান্নাতুল ফেরদাউস। যখন<br />
<br />
তোমরা আল্লাহর কাছে জান্নাত চাইবে তখন<br />
<br />
জান্নাতুল ফেরদাউস চাইবে। [তিরমিজী ওবাই<br />
<br />
ইবনে সামেত (রা.)]<br />
<br />
৫) জান্নাত সমস্ত পৃথিবী থেকে উত্তম।<br />
<br />
(মুয়াত্তা- আবু হুরাইরা (রা.)<br />
<br />
৬) জান্নাতবাসীনী কোন নারী (হুর) যদি<br />
<br />
পৃথিবীর দিকে উঁকি দেয়, তবে গোটা জগত<br />
<br />
আলোকিত হয়ে যাবে এবং আসমান জমীনের<br />
<br />
মধ্যবর্তী স্থান সুগন্ধিতে মোহিত হয়ে যাবে।<br />
<br />
তাদের মাথার উরনাও গোটা দুনিয়া ও তার সম্পদরাশি<br />
<br />
থেকে উত্তম। [বুখারী- আনাস (রা.)]<br />
<br />
৭) জান্নাতে একটি চাবুক রাখার পরিমাণ জায়গা গোটা<br />
<br />
দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তা থেকে<br />
<br />
উত্তম। [মুয়াত্তা- আবু হুরাইরা (রা.)]<br />
<br />
৮) জান্নাতের একটি গাছের নিচের ছায়ায় কোন<br />
<br />
সাওয়ারী যদি ১০০ বছরও সাওয়ার করে তবুও তার<br />
<br />
শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না।<br />
<br />
[বুখারী, মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.)]<br />
<br />
৯) জান্নাতে মুক্তা দিয়ে তৈরী ৬০ মাইল লম্বা<br />
<br />
একটি তাঁবু থাকবে। জান্নাতের পাত্র ও সামগ্রী<br />
<br />
হবে সোনা ও রুপার। [বুখারী, মুসলিম আবু মুসা<br />
<br />
(রা.)]<br />
<br />
১০) পূর্ণিমা চাঁদের মতো রূপ ধারণ করে তারা<br />
<br />
জান্নাতে প্রবেশ করবে। (ক) তাদের অন্তরে<br />
<br />
কোন্দল ও হিংসা বিদ্বেষ থাকবে না। (খ) তারা<br />
<br />
কখনো রোগাক্রান্ত হবে না। (গ) তাদের<br />
<br />
পেশাব পায়খানা হবে না। (ঘ) তারা থুথু ফেলবে না।<br />
<br />
(ঙ) তাদের নাক দিয়ে ময়লা ঝরবে না। (চ)<br />
<br />
তাদের চিরুনী হবে সোনার চিরুনী। (ছ)<br />
<br />
তাদের ধুনীর জ্বালানী হবে আগরের। (জ)<br />
<br />
তাদের গায়ের গন্ধ হবে কস্তুরির মতো সুগন্ধি।<br />
<br />
(ঝ) তাদের স্বভাব হবে এক ব্যক্তির ন্যায়। (ঞ)<br />
<br />
তাদের শাররীক গঠন হবে (আদী পিতা) আদম<br />
<br />
(আ<img src="http://forums.likebd.com/images/smilies/smile.png" alt="Smile" title="Smile" class="smilie smilie_1" /> এর ন্যয়। [বুখারী, মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.)]<br />
<br />
১১) জান্নাতীদের খাবারগুলো ঢেকুর এবং<br />
<br />
মিশকঘ্রাণযুক্ত ঘর্ম দ্বারা নি:শেষ হয়ে যাবে।<br />
<br />
[বুখারী, মুসলিমযাবির (রা.)]<br />
<br />
১২) জান্নাতীরা সুখে শান্তিতে স্বাচ্ছন্দ্যে<br />
<br />
ডুবে থাকবে। হতাসা দুশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনা থাকবে না।<br />
<br />
পোশাক পরিচ্ছেদ ময়লা হবে না, পুরাতন হবে না।<br />
<br />
তাদের যৌবনও নিঃশেষ হবে না। [মুসলিম আবু হুরায়রা<br />
<br />
(রা.)]<br />
<br />
১৩) জান্নাতবাসীরা সব সময় জীবিত থাকবে।<br />
<br />
কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। সব সময় যুবক<br />
<br />
থাকবে বৃদ্ধ হবে না। [মুসলিম আবু সাঈদ (রা.)]<br />
<br />
১৪) জান্নাতে (এমন) এক দল প্রবেশ করবে,<br />
<br />
যাদের অন্তর হবে পাখিদের অন্তরের মতো।<br />
<br />
[মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.)]<br />
<br />
১৫) জান্নাতবাসীদের প্রতি আল্লাহ বলবেন,<br />
<br />
আমি তোমাদের উপর সন্তুষ্টি দান করেছি,<br />
<br />
তোমাদের উপর আর কখনো অসন্তুষ্ট হবো<br />
<br />
না। [বুখারী, মুসলিমআবু সাঈদ (রা.)]<br />
<br />
১৬) জান্নাতের নহরে পরিণত হবে- সায়হান,<br />
<br />
জায়হান, ফোরাত ও নীল নদী। [মুসলিম – আবু<br />
<br />
হুরায়রা (রা.)]<br />
<br />
১৭) জান্নাতে বান্দার আশা আকাঙ্খার দ্বিগুণ দেয়া<br />
<br />
হবে। [মুসলিম – আবু হুরায়রা (রা.)]<br />
<br />
১৮) জান্নাতের দরওয়াজা ৪০ বছরের দুরত্বে<br />
<br />
সমান, এমন এক দিন আসবে যে তাও ভরপুর হয়ে<br />
<br />
যাবে। [মুসলিম-উতবা ইবনে খাজওয়ান (রা.)]<br />
<br />
১৯) জান্নাতের ইট স্বর্ণ ও রোপ্য দ্বারা তৈরী।<br />
<br />
কঙ্কর হলো মনি মুক্তা, আর মসল্লা হলো<br />
<br />
সুগন্ধীময় কস্তুরী। [তিরমিজী – আবু হুরায়রা<br />
<br />
(রা.)]<br />
<br />
২০) জান্নাতের সকল গাছের কা- হবে সোনার।<br />
<br />
[তিরমিজী – আবু হুরায়রা (রা.)]<br />
<br />
২১) জান্নাতের ১০০ টি স্তর আছে, দু’স্তরের<br />
<br />
মধ্যে ব্যবধান শত বছরের। [(তিরমিজী – আবু<br />
<br />
হুরায়রা (রা.)]<br />
<br />
২২) জান্নাতের ১০০ স্তরের যে কোন এক<br />
<br />
স্তরে সারা বিশ্বের সকল লোক একত্রিত<br />
<br />
হলেও তা যথেষ্ট হবে। [তিরমিজী আবু সাঈদ<br />
<br />
(রা.)]<br />
<br />
২৩) জান্নাতের উচ্চ বিছানা (সুরুরুম মারফুআ) আসমান<br />
<br />
জমীনর মধ্যবর্তী ব্যবধানের পরিমাণ- ৫০০ শত<br />
<br />
বছরের পথ। [তিরমিজী আবু সাঈদ (রা.)]<br />
<br />
২৪) জান্নাত প্রত্যেক ব্যক্তিকে ১০০ পুরুষের<br />
<br />
শক্তি দান করা হবে। [(তিরমিজ – আবু হুরায়রা (রা.)]<br />
<br />
২৫) জান্নাতবাসীগণ কেশবিহীন দাড়িবিহীন<br />
<br />
হবে। তাদের চোক সুরমায়িত হবে। [তিরমিজ –<br />
<br />
আবু হুরায়রা (রা.)]<br />
<br />
২৬) জান্নাতবাসীগণ ৩০ বা ৩৩ বছর বয়সীর<br />
<br />
মতো জান্নাতে প্রবেশ করবে। [তিরমিজী,<br />
<br />
ময়াজ ইবনে জাবাল (রা.)]<br />
<br />
ছবিঃ প্রতীকী<br />
<br />
২৭) জান্নাতে অবস্থিত কাওসার এর পানি দুধ<br />
<br />
অপেক্ষা অধিক সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি<br />
<br />
হবে। [তিরমিজীআসান (রা.)]<br />
<br />
২৮) জান্নাতবাসী উট ও ঘোড়া চাইলে দুটোই<br />
<br />
পাবে এবং তা ইচ্ছেমতো দ্রুত উড়িয়ে নিয়ে<br />
<br />
যাবে। তাতে তুমি সে সব জিনিস পাবে যা কিছু<br />
<br />
তোমার মন চাইবে এবং তোমার নয়ন জুড়াবে।<br />
<br />
[তিরমিজী-আবু বুরাইদা (রা.)]<br />
<br />
২৯) জান্নাতবাসীদের ১২০ কাতার হবে। তার<br />
<br />
মধ্যে ৮০ কাতার হবে এ উম্মতের। অবশিষ্ট ৪০<br />
<br />
কাতার হবে অন্যান্য উম্মতের। [তিরমিজী- বুরাইদা<br />
<br />
(রা.)]<br />
<br />
৩০) জান্নাতে একটি বাজার আছে সেখানে ক্রয়-<br />
<br />
বিক্রয় নেই। সেখানে নারী-পুরুষের<br />
<br />
আকৃতিসমূহ থাকবে। সুতরাং যখনই কেউ কোন<br />
<br />
আকৃতিকে পছন্দ করবে তখন সে সেই আকৃতি<br />
<br />
রূপান্তরিত হবে। [(তিরমিজী- আলী (রা.)]<br />
<br />
৩১) জান্নাতবাসীদের উপর এক খণ্ড মেঘ<br />
<br />
আচ্ছন্ন করে ফেলবে। তাদের উপর এমন<br />
<br />
সুগন্ধি বর্ষণ করবে যে, অনুরূপ সুগন্ধি তারা আর<br />
<br />
কখনো পায়নি। জান্নাতের বাজারে একজন<br />
<br />
আরেকজনের সাথে সাক্ষাত করবে এবং তার<br />
<br />
পোশাক পরিচ্ছদ দেখে আশ্চার্যান্নিত হবে।<br />
<br />
কিন্তু তার কথা শেষ হতে না হতেই সে অনুভব<br />
<br />
করবে যে, তার পোশাক তার চেয়ে আরো<br />
<br />
উত্তম হয়ে গেছে। এটা এ জন্য যে,<br />
<br />
জান্নাতে দুশ্চিন্তার কোন স্থান নেই। তাদের<br />
<br />
স্ত্রীদের কাছে ফিরে আসলে তারা বলবে<br />
<br />
তুমি আগের চেয়ে সুন্দর হয়ে ফিরে এসেছ।<br />
<br />
[তিরমিজী, ইবনে মাজাহ- সাইধ ইবনে মুসায়েব<br />
<br />
(রা.)]<br />
<br />
৩২) নিম্নমানের জান্নাতবাসীর জন্যে ৮০ হাজার<br />
<br />
খাদেম ও ৭২ জন স্ত্রী হবে। ছোট্ট বয়সী<br />
<br />
বা বৃদ্ধ বয়সী লোক মারা গেলে জান্নাতে<br />
<br />
প্রবেশের সময় ৩০ বছর বয়সী হয়ে<br />
<br />
জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ বয়স কখনো বৃদ্ধি<br />
<br />
হবে না। জান্নাতবাসীগণ যখন সন্তান কামনা<br />
<br />
করবে, তখন গর্ভ, প্রসব ও তার বয়স চাহিদা<br />
<br />
অনুযায়ী মুহূর্তের মধ্যে সংঘটিত হয়ে যাবে।<br />
<br />
[তিরমিজী, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ- আবু সাঈদ<br />
<br />
(রা.)]<br />
<br />
৩৩) জান্নাতে হুরদের সমবেত সংগীত শুনা<br />
<br />
যাবে। এমন সুরে যা আগে কখনো শুনা যায় নি।<br />
<br />
তারা বলবে-<br />
<br />
আমরা চিরদিন থাকবো, কখনো ধ্বংস হবো না।<br />
<br />
আমরা সুখে আনন্দে থাকবো, কখনো দুঃখ<br />
<br />
দুশ্চিন্তা হবে না।<br />
<br />
আমরা সব সময় সন্তুষ্ট থাকবো, কখনো<br />
<br />
নাখোশ হবো না।<br />
<br />
সুতরাং তাকে ধন্যবাদ যার জন্যে আমরা এবং<br />
<br />
আমাদের জন্য যিনি। [তিরমিজী- আলী (রা.]<br />
<br />
৩৪) জান্নাতে রয়েছে, ১. পানির সমূদ্র ২. মধুর<br />
<br />
সমুদ্র ৩. দুধের সমুদ্র ৪. শরাবের সমুদ্র। তার পর<br />
<br />
তা থেকে আরো বহু নদী প্রবাহিত হবে।-<br />
<br />
[তিরমিজী- হাকিম ইবনে মুয়াবিয়া (রা.)]<br />
<br />
৩৫) জান্নাতে একজন কৃষি কাজ করতে চাইবে।<br />
<br />
তার পর সে বীজ বপণ করবে এবং চোখের<br />
<br />
পলকে অংকুরিত হবে, পোক্ত হবে এবং ফসল<br />
<br />
কাটা হবে। এমন কি পাহাড় পরিমাণ স্তুপ হয়ে যাবে।<br />
<br />
আল্লাহ বলবেন, হে আদম সন্তান! নিয়ে যাও,<br />
<br />
কোন কিছুতেই তোমার তৃপ্তি হয়না। [বুখারী –<br />
<br />
আবু হুরায়রা (রা.)]<br />
<br />
৩৬) জান্নাতে এক ব্যক্তি ৭০টি তাকিয়ায় হেলান<br />
<br />
দিয়ে বসবে। এ শুধু তারই স্থান নির্ধারিত থাকবে।<br />
<br />
একজন মহিলা এসে সালাম দিয়ে বলবে, “আমি<br />
<br />
অতিরিক্তের অন্তর্ভুক্ত” তার পরনে রং বেরং এর<br />
<br />
৭০ খানা শাড়ী পরিহিত থাকবে এবং তার ভিতর দিয়েই<br />
<br />
তার পায়ের নলার মজা দেখা যাবে। তার মাথার<br />
<br />
মুকুটের আলো পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্তের<br />
<br />
মধ্যবর্তী স্থান রৌশনী করে দিবে। [আহমদ-<br />
<br />
আবু সাঈদ (রা.)]<br />
<br />
৩৭) জান্নাতবাসীগণ নিদ্রা যাবে না। নিদ্রাতো<br />
<br />
মৃত্যুর সহোদর আর জান্নাতবাসী মরবে না।<br />
<br />
[বায়হাকী- যাবের (রা.)]<br />
<br />
৩৮) আল্লাহ তায়ালা হিজাব বা পর্দা তোলে<br />
<br />
ফেলবেন, তখন জান্নাতবাসীরা আল্লাহর দিদার বা<br />
<br />
দর্শন লাভ করবে। আল্লাহর দর্শন লাভ ও তার<br />
<br />
দিকে তাকিয়ে থাকার চেয়ে অধিকতর প্রিয়<br />
<br />
কোন বস্তুই এযাবত তাদেরকে প্রদান করা হয়নি।<br />
<br />
[মুসলিম- সুহায়ব (রা.)]<br />
<br />
৩৯) বারা বিন আযেব (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.)<br />
<br />
বলেছেন: কবরে মুমিন বান্দার কাছে দু‘জন<br />
<br />
ফেরেশতা আসে তাকে উঠিয়ে বসাবেন। তার<br />
<br />
পর তাকে জিজ্ঞেস করবেন: তোমার রব<br />
<br />
কে? সে উত্তর দেয় আমার রব ‘আল্লাহ’। তারা<br />
<br />
জিজ্ঞেস করবেন, তোমার দ্বীন কি? সে<br />
<br />
উত্তর দেয়, আমার দ্বীন ‘ইসলাম’। তারা<br />
<br />
জিজ্ঞেস করবেন, তোমাদের মাঝে যিনি<br />
<br />
প্রেরিত হয়েছিলেন তিনি কে? সে উত্তর<br />
<br />
দেয়, তারা উত্তর দেয়, তিনি হলেন ‘আল্লাহর<br />
<br />
রাসূল’। তারা জিজ্ঞেস করবেন, তুমি এসব কিভাবে<br />
<br />
জানলে? সে উত্তর দেয়, আমি আল্লাহর কিতাব<br />
<br />
পড়েছি, তাঁর উপর ঈমান এনেছি ও তাঁকে সমর্থন<br />
<br />
করেছি। তখন আকাশ থেকে একজন<br />
<br />
ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন- আমার বান্দা সত্য<br />
<br />
বলেছে, আমার বান্দার জন্য জান্নাতের একটি<br />
<br />
বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জান্নাাতের পোশাক<br />
<br />
পরিয়ে দাও এবং তার জন্য জান্নাতের একটি দরজা<br />
<br />
খুলে দাও। তখন তা খুলে দেয়া হয়। রাসূল (সা.)<br />
<br />
বলেন: ফলে তার দিকে জান্নাতের স্নিগ্ধ বাতাস<br />
<br />
এবং সুগন্ধি আসতে থাকে। তার জন্য কবরের<br />
<br />
স্থানকে দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়।<br />
<br />
(আহমদ আবু দাউদ)<br />
<br />
৪০) যে ব্যক্তি কুরআন পড়েছে, তাকে<br />
<br />
(সমাজে কুরআনের বিধান) প্রতিষ্ঠার চেষ্টা<br />
<br />
করেছে, কুরআনে বর্ণিত হালালসমূহকে হালাল<br />
<br />
জেনে মেনেছে, হারামগুলোকে হারাম মনে<br />
<br />
করেছে। আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ<br />
<br />
করাবেন এবং তার পরিবারের জাহান্নামযোগ্য ১০<br />
<br />
জনে বিষয়ে সুপারিশ করতে পারবেন। (তিরমিযী<br />
<br />
হযরত আলী হতে)]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আমাদের জন্য জান্নাত সম্পর্কে ভবিষ্যত বাণী করে গিয়েছেন। আসুন জেনে নেই জান্নাত সম্পর্কে আমাদের প্রিয় নবী<br />
<br />
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর বাণীগুলিঃ<br />
<br />
<img src="http://2.bp.blogspot.com/-t5f-pmYacOM/Vixqw52_bAI/AAAAAAAAAJU/TV7bDLez13w/s1600/is%2B%25285%2529.jpg" loading="lazy"  alt="[Image: is%2B%25285%2529.jpg]" class="mycode_img" /><br />
<br />
১) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর<br />
<br />
উম্মতের মধ্য মধ্য থেকে ৭০ হাজার ব্যক্তি বিনা<br />
<br />
হিসেবে জান্নাতে যাবে।- [আহমদ, তিরমিজী,<br />
<br />
ইবনে মাজাহ- আবু ওমামা (রা.)]<br />
<br />
২) যারা রাতে আরামের বিছানা থেকে নিজেদের<br />
<br />
পার্শ্বদেশকে দূরে রেখেছিল, এমন অল্প<br />
<br />
সংখ্যক লোক বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ<br />
<br />
করবে। অবশিষ্ট সকল মানুষ হতে হিসেব নেয়ার<br />
<br />
নির্দেশ করা হবে। [বায়হাকি- আসমা (রা.)]<br />
<br />
৩) জান্নাতে জান্নাতবাসীরা প্রতি জুমাবারে<br />
<br />
বাজারে মিলিত হবে এবং জান্নাতে<br />
<br />
জান্নাতবাসীদের রূপ-সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।<br />
<br />
[মুসলিম- আনাস রা.)]<br />
<br />
৪) জান্নাতের স্তর হবে ১০০টি এবং জান্নাতের<br />
<br />
সর্বোচ্চ স্তর জান্নাতুল ফেরদাউস। যখন<br />
<br />
তোমরা আল্লাহর কাছে জান্নাত চাইবে তখন<br />
<br />
জান্নাতুল ফেরদাউস চাইবে। [তিরমিজী ওবাই<br />
<br />
ইবনে সামেত (রা.)]<br />
<br />
৫) জান্নাত সমস্ত পৃথিবী থেকে উত্তম।<br />
<br />
(মুয়াত্তা- আবু হুরাইরা (রা.)<br />
<br />
৬) জান্নাতবাসীনী কোন নারী (হুর) যদি<br />
<br />
পৃথিবীর দিকে উঁকি দেয়, তবে গোটা জগত<br />
<br />
আলোকিত হয়ে যাবে এবং আসমান জমীনের<br />
<br />
মধ্যবর্তী স্থান সুগন্ধিতে মোহিত হয়ে যাবে।<br />
<br />
তাদের মাথার উরনাও গোটা দুনিয়া ও তার সম্পদরাশি<br />
<br />
থেকে উত্তম। [বুখারী- আনাস (রা.)]<br />
<br />
৭) জান্নাতে একটি চাবুক রাখার পরিমাণ জায়গা গোটা<br />
<br />
দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তা থেকে<br />
<br />
উত্তম। [মুয়াত্তা- আবু হুরাইরা (রা.)]<br />
<br />
৮) জান্নাতের একটি গাছের নিচের ছায়ায় কোন<br />
<br />
সাওয়ারী যদি ১০০ বছরও সাওয়ার করে তবুও তার<br />
<br />
শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না।<br />
<br />
[বুখারী, মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.)]<br />
<br />
৯) জান্নাতে মুক্তা দিয়ে তৈরী ৬০ মাইল লম্বা<br />
<br />
একটি তাঁবু থাকবে। জান্নাতের পাত্র ও সামগ্রী<br />
<br />
হবে সোনা ও রুপার। [বুখারী, মুসলিম আবু মুসা<br />
<br />
(রা.)]<br />
<br />
১০) পূর্ণিমা চাঁদের মতো রূপ ধারণ করে তারা<br />
<br />
জান্নাতে প্রবেশ করবে। (ক) তাদের অন্তরে<br />
<br />
কোন্দল ও হিংসা বিদ্বেষ থাকবে না। (খ) তারা<br />
<br />
কখনো রোগাক্রান্ত হবে না। (গ) তাদের<br />
<br />
পেশাব পায়খানা হবে না। (ঘ) তারা থুথু ফেলবে না।<br />
<br />
(ঙ) তাদের নাক দিয়ে ময়লা ঝরবে না। (চ)<br />
<br />
তাদের চিরুনী হবে সোনার চিরুনী। (ছ)<br />
<br />
তাদের ধুনীর জ্বালানী হবে আগরের। (জ)<br />
<br />
তাদের গায়ের গন্ধ হবে কস্তুরির মতো সুগন্ধি।<br />
<br />
(ঝ) তাদের স্বভাব হবে এক ব্যক্তির ন্যায়। (ঞ)<br />
<br />
তাদের শাররীক গঠন হবে (আদী পিতা) আদম<br />
<br />
(আ<img src="http://forums.likebd.com/images/smilies/smile.png" alt="Smile" title="Smile" class="smilie smilie_1" /> এর ন্যয়। [বুখারী, মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.)]<br />
<br />
১১) জান্নাতীদের খাবারগুলো ঢেকুর এবং<br />
<br />
মিশকঘ্রাণযুক্ত ঘর্ম দ্বারা নি:শেষ হয়ে যাবে।<br />
<br />
[বুখারী, মুসলিমযাবির (রা.)]<br />
<br />
১২) জান্নাতীরা সুখে শান্তিতে স্বাচ্ছন্দ্যে<br />
<br />
ডুবে থাকবে। হতাসা দুশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনা থাকবে না।<br />
<br />
পোশাক পরিচ্ছেদ ময়লা হবে না, পুরাতন হবে না।<br />
<br />
তাদের যৌবনও নিঃশেষ হবে না। [মুসলিম আবু হুরায়রা<br />
<br />
(রা.)]<br />
<br />
১৩) জান্নাতবাসীরা সব সময় জীবিত থাকবে।<br />
<br />
কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। সব সময় যুবক<br />
<br />
থাকবে বৃদ্ধ হবে না। [মুসলিম আবু সাঈদ (রা.)]<br />
<br />
১৪) জান্নাতে (এমন) এক দল প্রবেশ করবে,<br />
<br />
যাদের অন্তর হবে পাখিদের অন্তরের মতো।<br />
<br />
[মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.)]<br />
<br />
১৫) জান্নাতবাসীদের প্রতি আল্লাহ বলবেন,<br />
<br />
আমি তোমাদের উপর সন্তুষ্টি দান করেছি,<br />
<br />
তোমাদের উপর আর কখনো অসন্তুষ্ট হবো<br />
<br />
না। [বুখারী, মুসলিমআবু সাঈদ (রা.)]<br />
<br />
১৬) জান্নাতের নহরে পরিণত হবে- সায়হান,<br />
<br />
জায়হান, ফোরাত ও নীল নদী। [মুসলিম – আবু<br />
<br />
হুরায়রা (রা.)]<br />
<br />
১৭) জান্নাতে বান্দার আশা আকাঙ্খার দ্বিগুণ দেয়া<br />
<br />
হবে। [মুসলিম – আবু হুরায়রা (রা.)]<br />
<br />
১৮) জান্নাতের দরওয়াজা ৪০ বছরের দুরত্বে<br />
<br />
সমান, এমন এক দিন আসবে যে তাও ভরপুর হয়ে<br />
<br />
যাবে। [মুসলিম-উতবা ইবনে খাজওয়ান (রা.)]<br />
<br />
১৯) জান্নাতের ইট স্বর্ণ ও রোপ্য দ্বারা তৈরী।<br />
<br />
কঙ্কর হলো মনি মুক্তা, আর মসল্লা হলো<br />
<br />
সুগন্ধীময় কস্তুরী। [তিরমিজী – আবু হুরায়রা<br />
<br />
(রা.)]<br />
<br />
২০) জান্নাতের সকল গাছের কা- হবে সোনার।<br />
<br />
[তিরমিজী – আবু হুরায়রা (রা.)]<br />
<br />
২১) জান্নাতের ১০০ টি স্তর আছে, দু’স্তরের<br />
<br />
মধ্যে ব্যবধান শত বছরের। [(তিরমিজী – আবু<br />
<br />
হুরায়রা (রা.)]<br />
<br />
২২) জান্নাতের ১০০ স্তরের যে কোন এক<br />
<br />
স্তরে সারা বিশ্বের সকল লোক একত্রিত<br />
<br />
হলেও তা যথেষ্ট হবে। [তিরমিজী আবু সাঈদ<br />
<br />
(রা.)]<br />
<br />
২৩) জান্নাতের উচ্চ বিছানা (সুরুরুম মারফুআ) আসমান<br />
<br />
জমীনর মধ্যবর্তী ব্যবধানের পরিমাণ- ৫০০ শত<br />
<br />
বছরের পথ। [তিরমিজী আবু সাঈদ (রা.)]<br />
<br />
২৪) জান্নাত প্রত্যেক ব্যক্তিকে ১০০ পুরুষের<br />
<br />
শক্তি দান করা হবে। [(তিরমিজ – আবু হুরায়রা (রা.)]<br />
<br />
২৫) জান্নাতবাসীগণ কেশবিহীন দাড়িবিহীন<br />
<br />
হবে। তাদের চোক সুরমায়িত হবে। [তিরমিজ –<br />
<br />
আবু হুরায়রা (রা.)]<br />
<br />
২৬) জান্নাতবাসীগণ ৩০ বা ৩৩ বছর বয়সীর<br />
<br />
মতো জান্নাতে প্রবেশ করবে। [তিরমিজী,<br />
<br />
ময়াজ ইবনে জাবাল (রা.)]<br />
<br />
ছবিঃ প্রতীকী<br />
<br />
২৭) জান্নাতে অবস্থিত কাওসার এর পানি দুধ<br />
<br />
অপেক্ষা অধিক সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি<br />
<br />
হবে। [তিরমিজীআসান (রা.)]<br />
<br />
২৮) জান্নাতবাসী উট ও ঘোড়া চাইলে দুটোই<br />
<br />
পাবে এবং তা ইচ্ছেমতো দ্রুত উড়িয়ে নিয়ে<br />
<br />
যাবে। তাতে তুমি সে সব জিনিস পাবে যা কিছু<br />
<br />
তোমার মন চাইবে এবং তোমার নয়ন জুড়াবে।<br />
<br />
[তিরমিজী-আবু বুরাইদা (রা.)]<br />
<br />
২৯) জান্নাতবাসীদের ১২০ কাতার হবে। তার<br />
<br />
মধ্যে ৮০ কাতার হবে এ উম্মতের। অবশিষ্ট ৪০<br />
<br />
কাতার হবে অন্যান্য উম্মতের। [তিরমিজী- বুরাইদা<br />
<br />
(রা.)]<br />
<br />
৩০) জান্নাতে একটি বাজার আছে সেখানে ক্রয়-<br />
<br />
বিক্রয় নেই। সেখানে নারী-পুরুষের<br />
<br />
আকৃতিসমূহ থাকবে। সুতরাং যখনই কেউ কোন<br />
<br />
আকৃতিকে পছন্দ করবে তখন সে সেই আকৃতি<br />
<br />
রূপান্তরিত হবে। [(তিরমিজী- আলী (রা.)]<br />
<br />
৩১) জান্নাতবাসীদের উপর এক খণ্ড মেঘ<br />
<br />
আচ্ছন্ন করে ফেলবে। তাদের উপর এমন<br />
<br />
সুগন্ধি বর্ষণ করবে যে, অনুরূপ সুগন্ধি তারা আর<br />
<br />
কখনো পায়নি। জান্নাতের বাজারে একজন<br />
<br />
আরেকজনের সাথে সাক্ষাত করবে এবং তার<br />
<br />
পোশাক পরিচ্ছদ দেখে আশ্চার্যান্নিত হবে।<br />
<br />
কিন্তু তার কথা শেষ হতে না হতেই সে অনুভব<br />
<br />
করবে যে, তার পোশাক তার চেয়ে আরো<br />
<br />
উত্তম হয়ে গেছে। এটা এ জন্য যে,<br />
<br />
জান্নাতে দুশ্চিন্তার কোন স্থান নেই। তাদের<br />
<br />
স্ত্রীদের কাছে ফিরে আসলে তারা বলবে<br />
<br />
তুমি আগের চেয়ে সুন্দর হয়ে ফিরে এসেছ।<br />
<br />
[তিরমিজী, ইবনে মাজাহ- সাইধ ইবনে মুসায়েব<br />
<br />
(রা.)]<br />
<br />
৩২) নিম্নমানের জান্নাতবাসীর জন্যে ৮০ হাজার<br />
<br />
খাদেম ও ৭২ জন স্ত্রী হবে। ছোট্ট বয়সী<br />
<br />
বা বৃদ্ধ বয়সী লোক মারা গেলে জান্নাতে<br />
<br />
প্রবেশের সময় ৩০ বছর বয়সী হয়ে<br />
<br />
জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ বয়স কখনো বৃদ্ধি<br />
<br />
হবে না। জান্নাতবাসীগণ যখন সন্তান কামনা<br />
<br />
করবে, তখন গর্ভ, প্রসব ও তার বয়স চাহিদা<br />
<br />
অনুযায়ী মুহূর্তের মধ্যে সংঘটিত হয়ে যাবে।<br />
<br />
[তিরমিজী, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ- আবু সাঈদ<br />
<br />
(রা.)]<br />
<br />
৩৩) জান্নাতে হুরদের সমবেত সংগীত শুনা<br />
<br />
যাবে। এমন সুরে যা আগে কখনো শুনা যায় নি।<br />
<br />
তারা বলবে-<br />
<br />
আমরা চিরদিন থাকবো, কখনো ধ্বংস হবো না।<br />
<br />
আমরা সুখে আনন্দে থাকবো, কখনো দুঃখ<br />
<br />
দুশ্চিন্তা হবে না।<br />
<br />
আমরা সব সময় সন্তুষ্ট থাকবো, কখনো<br />
<br />
নাখোশ হবো না।<br />
<br />
সুতরাং তাকে ধন্যবাদ যার জন্যে আমরা এবং<br />
<br />
আমাদের জন্য যিনি। [তিরমিজী- আলী (রা.]<br />
<br />
৩৪) জান্নাতে রয়েছে, ১. পানির সমূদ্র ২. মধুর<br />
<br />
সমুদ্র ৩. দুধের সমুদ্র ৪. শরাবের সমুদ্র। তার পর<br />
<br />
তা থেকে আরো বহু নদী প্রবাহিত হবে।-<br />
<br />
[তিরমিজী- হাকিম ইবনে মুয়াবিয়া (রা.)]<br />
<br />
৩৫) জান্নাতে একজন কৃষি কাজ করতে চাইবে।<br />
<br />
তার পর সে বীজ বপণ করবে এবং চোখের<br />
<br />
পলকে অংকুরিত হবে, পোক্ত হবে এবং ফসল<br />
<br />
কাটা হবে। এমন কি পাহাড় পরিমাণ স্তুপ হয়ে যাবে।<br />
<br />
আল্লাহ বলবেন, হে আদম সন্তান! নিয়ে যাও,<br />
<br />
কোন কিছুতেই তোমার তৃপ্তি হয়না। [বুখারী –<br />
<br />
আবু হুরায়রা (রা.)]<br />
<br />
৩৬) জান্নাতে এক ব্যক্তি ৭০টি তাকিয়ায় হেলান<br />
<br />
দিয়ে বসবে। এ শুধু তারই স্থান নির্ধারিত থাকবে।<br />
<br />
একজন মহিলা এসে সালাম দিয়ে বলবে, “আমি<br />
<br />
অতিরিক্তের অন্তর্ভুক্ত” তার পরনে রং বেরং এর<br />
<br />
৭০ খানা শাড়ী পরিহিত থাকবে এবং তার ভিতর দিয়েই<br />
<br />
তার পায়ের নলার মজা দেখা যাবে। তার মাথার<br />
<br />
মুকুটের আলো পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্তের<br />
<br />
মধ্যবর্তী স্থান রৌশনী করে দিবে। [আহমদ-<br />
<br />
আবু সাঈদ (রা.)]<br />
<br />
৩৭) জান্নাতবাসীগণ নিদ্রা যাবে না। নিদ্রাতো<br />
<br />
মৃত্যুর সহোদর আর জান্নাতবাসী মরবে না।<br />
<br />
[বায়হাকী- যাবের (রা.)]<br />
<br />
৩৮) আল্লাহ তায়ালা হিজাব বা পর্দা তোলে<br />
<br />
ফেলবেন, তখন জান্নাতবাসীরা আল্লাহর দিদার বা<br />
<br />
দর্শন লাভ করবে। আল্লাহর দর্শন লাভ ও তার<br />
<br />
দিকে তাকিয়ে থাকার চেয়ে অধিকতর প্রিয়<br />
<br />
কোন বস্তুই এযাবত তাদেরকে প্রদান করা হয়নি।<br />
<br />
[মুসলিম- সুহায়ব (রা.)]<br />
<br />
৩৯) বারা বিন আযেব (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.)<br />
<br />
বলেছেন: কবরে মুমিন বান্দার কাছে দু‘জন<br />
<br />
ফেরেশতা আসে তাকে উঠিয়ে বসাবেন। তার<br />
<br />
পর তাকে জিজ্ঞেস করবেন: তোমার রব<br />
<br />
কে? সে উত্তর দেয় আমার রব ‘আল্লাহ’। তারা<br />
<br />
জিজ্ঞেস করবেন, তোমার দ্বীন কি? সে<br />
<br />
উত্তর দেয়, আমার দ্বীন ‘ইসলাম’। তারা<br />
<br />
জিজ্ঞেস করবেন, তোমাদের মাঝে যিনি<br />
<br />
প্রেরিত হয়েছিলেন তিনি কে? সে উত্তর<br />
<br />
দেয়, তারা উত্তর দেয়, তিনি হলেন ‘আল্লাহর<br />
<br />
রাসূল’। তারা জিজ্ঞেস করবেন, তুমি এসব কিভাবে<br />
<br />
জানলে? সে উত্তর দেয়, আমি আল্লাহর কিতাব<br />
<br />
পড়েছি, তাঁর উপর ঈমান এনেছি ও তাঁকে সমর্থন<br />
<br />
করেছি। তখন আকাশ থেকে একজন<br />
<br />
ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন- আমার বান্দা সত্য<br />
<br />
বলেছে, আমার বান্দার জন্য জান্নাতের একটি<br />
<br />
বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জান্নাাতের পোশাক<br />
<br />
পরিয়ে দাও এবং তার জন্য জান্নাতের একটি দরজা<br />
<br />
খুলে দাও। তখন তা খুলে দেয়া হয়। রাসূল (সা.)<br />
<br />
বলেন: ফলে তার দিকে জান্নাতের স্নিগ্ধ বাতাস<br />
<br />
এবং সুগন্ধি আসতে থাকে। তার জন্য কবরের<br />
<br />
স্থানকে দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়।<br />
<br />
(আহমদ আবু দাউদ)<br />
<br />
৪০) যে ব্যক্তি কুরআন পড়েছে, তাকে<br />
<br />
(সমাজে কুরআনের বিধান) প্রতিষ্ঠার চেষ্টা<br />
<br />
করেছে, কুরআনে বর্ণিত হালালসমূহকে হালাল<br />
<br />
জেনে মেনেছে, হারামগুলোকে হারাম মনে<br />
<br />
করেছে। আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ<br />
<br />
করাবেন এবং তার পরিবারের জাহান্নামযোগ্য ১০<br />
<br />
জনে বিষয়ে সুপারিশ করতে পারবেন। (তিরমিযী<br />
<br />
হযরত আলী হতে)]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[এ আগুন জাহান্নামের আগুনের কয়েক হাজার ভাগের ১ভাগ মাত্র!!!]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2313</link>
			<pubDate>Fri, 24 Feb 2017 03:10:03 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2313</guid>
			<description><![CDATA[১টা ছেলে তার মসজিদের এক কোনায় বসে<br />
<br />
পড়ালেখা করে। হঠাৎ ১দিনরাতে ১টা মেয়ে এসে<br />
<br />
বলেঃ-<br />
<br />
মেয়ে: দেখেন বাইরে ডাকাতি হচ্ছে,আমায় একটু<br />
<br />
থাকতে দিন। ডাকাতি থেমে গেলেই আমি চলে<br />
<br />
যাবো।<br />
<br />
ছেলে: দেখেন আমি এই এখানে একা থেকে<br />
<br />
পড়ালেখা করি। আপনার সাথে আমাকে যদি কেউ<br />
<br />
দেখে,তাহলে আমাকে তাড়িয়ে দেবে। তার<br />
<br />
চেয়ে আপনি বরং চলে যান।<br />
<br />
মেয়ে: আমি এখন চলে গেলে আমার সম্মান<br />
<br />
হারাতে হবে। কিন্তু এখানে থাকলে আমার হয়তো<br />
<br />
কোন ক্ষতি হবেনা।ছেলেটি অনেক ভেবে<br />
<br />
মেয়েটিকে থাকতে দেয়। ডাকাতদের মারামারির পরঃ-<br />
<br />
ছেলে: চলেন আপনাকে এগিয়ে দিয়ে আসি।<br />
<br />
মেয়ে: এত রাতে? এত রাতে আমি যাবোনা। আমি<br />
<br />
সকাল হলেই চলে যাবো।<br />
<br />
ছেলে: আপনার সাথে কেউ দেখলে আমার ক্ষতি<br />
<br />
হবে। মেয়েটি কিছুতেই যেতে রাজি হলো না ।<br />
<br />
সারা রাত তারা ২ জন ২পাশে জেগে রাত কাটিয়ে<br />
<br />
দিলো। ........ কিন্তু মেয়েটি খেয়াল করে<br />
<br />
দেখলো ছেলেটি একটু পর পর আগুনে তার হাত<br />
<br />
পোড়াচ্ছে। আর যন্ত্রনায় ছটফট করছে। কিছুক্ষন<br />
<br />
পর পর সে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করছে। আযান<br />
<br />
দেওয়ার আগেঃ-<br />
<br />
ছেলে: চলেন, আর থাকা যাবেনা,আপনাকে পৌছে<br />
<br />
দিয়ে আসি।<br />
<br />
মেয়ে: যাবো, তার আগে বলেন একটু পর পর<br />
<br />
আপনি আগুনে হাত পোড়াচ্ছিলেন কেন?<br />
<br />
ছেলে: এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার।<br />
<br />
মেয়ে: না বললে যাবোনা।<br />
<br />
ছেলে: যখনি আপনার উপর আমার কু-নজর<br />
<br />
আসছিলো, তখনি আমি হাত পুড়িয়ে বলছিলাম, এ আগুন<br />
<br />
জাহান্নামের আগুনের কয়েক হাজার ভাগের ১ভাগ<br />
<br />
মাত্র!!!<br />
<br />
--সুবহান-আল্লাহ এই ভয় যেন আজ বিলীন!!! এই ভয়<br />
<br />
যেন আজ মানুষের অন্তর থেকে মুছে<br />
<br />
গেছে!!! জাহান্নামের আগুনকে প্রাধান্য দিচ্ছে<br />
<br />
আজকের সমাজ ওএর মানুষেরা। -হে আল্লাহ আমরা<br />
<br />
মহা পাপি, আমাদের সঠিক পথ দেখাও।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[১টা ছেলে তার মসজিদের এক কোনায় বসে<br />
<br />
পড়ালেখা করে। হঠাৎ ১দিনরাতে ১টা মেয়ে এসে<br />
<br />
বলেঃ-<br />
<br />
মেয়ে: দেখেন বাইরে ডাকাতি হচ্ছে,আমায় একটু<br />
<br />
থাকতে দিন। ডাকাতি থেমে গেলেই আমি চলে<br />
<br />
যাবো।<br />
<br />
ছেলে: দেখেন আমি এই এখানে একা থেকে<br />
<br />
পড়ালেখা করি। আপনার সাথে আমাকে যদি কেউ<br />
<br />
দেখে,তাহলে আমাকে তাড়িয়ে দেবে। তার<br />
<br />
চেয়ে আপনি বরং চলে যান।<br />
<br />
মেয়ে: আমি এখন চলে গেলে আমার সম্মান<br />
<br />
হারাতে হবে। কিন্তু এখানে থাকলে আমার হয়তো<br />
<br />
কোন ক্ষতি হবেনা।ছেলেটি অনেক ভেবে<br />
<br />
মেয়েটিকে থাকতে দেয়। ডাকাতদের মারামারির পরঃ-<br />
<br />
ছেলে: চলেন আপনাকে এগিয়ে দিয়ে আসি।<br />
<br />
মেয়ে: এত রাতে? এত রাতে আমি যাবোনা। আমি<br />
<br />
সকাল হলেই চলে যাবো।<br />
<br />
ছেলে: আপনার সাথে কেউ দেখলে আমার ক্ষতি<br />
<br />
হবে। মেয়েটি কিছুতেই যেতে রাজি হলো না ।<br />
<br />
সারা রাত তারা ২ জন ২পাশে জেগে রাত কাটিয়ে<br />
<br />
দিলো। ........ কিন্তু মেয়েটি খেয়াল করে<br />
<br />
দেখলো ছেলেটি একটু পর পর আগুনে তার হাত<br />
<br />
পোড়াচ্ছে। আর যন্ত্রনায় ছটফট করছে। কিছুক্ষন<br />
<br />
পর পর সে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করছে। আযান<br />
<br />
দেওয়ার আগেঃ-<br />
<br />
ছেলে: চলেন, আর থাকা যাবেনা,আপনাকে পৌছে<br />
<br />
দিয়ে আসি।<br />
<br />
মেয়ে: যাবো, তার আগে বলেন একটু পর পর<br />
<br />
আপনি আগুনে হাত পোড়াচ্ছিলেন কেন?<br />
<br />
ছেলে: এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার।<br />
<br />
মেয়ে: না বললে যাবোনা।<br />
<br />
ছেলে: যখনি আপনার উপর আমার কু-নজর<br />
<br />
আসছিলো, তখনি আমি হাত পুড়িয়ে বলছিলাম, এ আগুন<br />
<br />
জাহান্নামের আগুনের কয়েক হাজার ভাগের ১ভাগ<br />
<br />
মাত্র!!!<br />
<br />
--সুবহান-আল্লাহ এই ভয় যেন আজ বিলীন!!! এই ভয়<br />
<br />
যেন আজ মানুষের অন্তর থেকে মুছে<br />
<br />
গেছে!!! জাহান্নামের আগুনকে প্রাধান্য দিচ্ছে<br />
<br />
আজকের সমাজ ওএর মানুষেরা। -হে আল্লাহ আমরা<br />
<br />
মহা পাপি, আমাদের সঠিক পথ দেখাও।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[পবিত্র হজে আরাফাতের খুতবায় যা বললেন খতিব শায়খ ড. আবদুর রহমান সুদাইস।]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2312</link>
			<pubDate>Fri, 24 Feb 2017 03:09:36 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2312</guid>
			<description><![CDATA[সৌদি আরবের মক্কায় ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে মসজিদে নামিরায় পবিত্র হজ সম্পন্ন হয়েছে। ধবধবে সাদা ইহরাম কাপড় পরা প্রায় ১৫ লাখ মুসল্লি সেখানে জোহর ও আসরের নামাজ এক আজানে দুই ইকামতে আদায় করেন।<br />
<br />
আজ খুতবা পাঠ করেন নতুন গ্র্যান্ড মুফতি খতিব শায়খ ড. আবদুর রহমান সুদাইস। খুতবার বাংলা অনুবাদ করেছেন মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও বাংলা অনুবাদক মহিউদ্দীন ফারুকী।<br />
<br />
মহিউদ্দীন ফারুকী বলেন, খতিব শায়খ ড. আবদুর রহমান সুদাইস হামদ ও সানা এবং দরুদ পাঠের পর বলেন, ‘আমি সবাইকে তাকওয়া অর্জনের অসিয়ত করছি। হে মুসলিম জাতি, আল্লাহ তায়ালা সারা বিশ্ববাসীর জন্য অসংখ্য নবী পাঠিয়েছেন। তাঁরা মানুষকে সঠিক সরল পথ দেখিয়েছেন। সর্বশেষে আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে পাঠিয়েছেন। তিনি আল্লাহর নির্দেশে মানুষকে হেদায়েতের পথ দেখিয়েছেন।’<br />
<br />
খুতবায় বলা হয়, সম্মানিত হাজি সাহেবগণ, এই মাঠেই আমাদের নবী দাঁড়িয়েছেন। ইসলামের মূল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। জাহিলিয়াতের সব খারাপ বিষয়গুলোকে মিটিয়ে দিয়েছেন। মানবাধিকার নিয়ে কথা বলেছেন। মানুষকে অন্ধকার ও অজ্ঞতা থেকে আলো ও জ্ঞানের দিকে আহ্বান জানিয়েছেন। নারীর প্রতি সহানুভূতি এবং তাদের সব অধিকারের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে বলেছেন। এ ক্ষেত্রে সবাইকেই সতর্ক থাকতে বলেছেন।<br />
<br />
হে মুসলিম নেতৃবৃন্দ, সারা বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে একটু সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনের বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। এ বিষয় নিয়ে প্রয়োজনে আলোচনায় বসতে হবে। মসজিদে আকসাকে মুক্ত করতে হবে।<br />
<br />
হে মুসলিম তরুণ, বর্তমানে সারা বিশ্বে যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, তা হলো সন্ত্রাসবাদ। অনেক তরুণ ইসলামের মূল শিক্ষা ভুলে ভিন্ন স্থান থেকে ইসলাম শিখছে। বিভিন্নভাবে বিভীষিকা ও উগ্রবাদ ছড়াচ্ছে। অযথাই মানুষকে কাফের বলে দিচ্ছে।<br />
<br />
হে তরুণ, তোমরাই জাতির মেরুদণ্ড। অতএব, তোমরা সতর্ক হও। অন্যকে যেকোনো কিছুতেই কাফের বলা থেকে বিরত থাকো। যে কোনো বিষয় তোমরা আলেমদের কাছ থেকে গ্রহণ করো। তোমাদের কাছে অনেক প্রত্যাশা। তোমরা সুন্দর আদর্শ গ্রহণ করো। নিজেকে বিনির্মাণ করো।<br />
<br />
হে অভিভাবক ও মুরুব্বিগণ, চরিত্র প্রধান এক সম্পদ। ইসলাম এ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। পরিবারের সবার চরিত্র বিনির্মাণের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। বিশেষত বর্তমানে যে চারিত্রিক যুদ্ধ সে ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। প্রত্যেক সদস্যের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।<br />
<br />
হে ওলামায়ে কেরাম, আপনারা সবাই রাসুলের উত্তরসূরি। আপনারা মানুষকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত না করে কোরআন সুন্নাহর প্রতি উদ্বুদ্ধ করুন। মানুষকে সঠিক বিষয়টি শিক্ষা দিন।<br />
<br />
হে ইসলামের দায়ী ও আহ্বায়কগণ, আপনারা মানুষের প্রতি সহজ করুন। দলাদলি মুক্ত থাকুন। ইসলামের মূল বিষয়গুলোর দিকে ডাকুন। মানুষের প্রতি দয়া করুন, রহমত করুন।<br />
<br />
হে মিডিয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, আপনারা সতর্ক হোন। মানুষের চারিত্রিক বিষয়ে গুরুত্ব দিন। ইসলামের শিক্ষা ও দীক্ষা প্রচার করুন।<br />
<br />
হে হাজি সাহেববৃন্দ, আপনারা শুকরিয়া আদায় করুন। আল্লাহ তায়ালা আপনাদেরকে হজের জন্য কবুল করেছেন। এই আরাফাত অবস্থানের তওফিক দিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে আপনাদের জন্য যারা এই ব্যবস্থা করেছেন, তাদের জন্য দোয়া করুন। বিশেষ করে খাদেমুল হারামাই মালিক সালমানের জন্য। এবং যারা সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।<br />
<br />
হে বায়তুল্লাহর হাজি সাহেবগণ, আপনারা আরাফায় অধিক পরিমাণে দোয়া করুন। আরাফাহর দোয়া সবচেয়ে উত্তম দোয়া। এদিন আল্লাহ তায়ালা গর্ব করেন। অধিক পরিমাণে মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। এখানে জোহর আসর কসর করে জমা করুন। দোয়ায় লিপ্ত থাকুন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া করতে থাকুন। এরপর শান্তভাবে মুজদালিফার দিকে রওনা হোন। সেখানে পৌঁছে মাগরিব, এশা এক আজানে দুই ইকামতে আদায় করুন। এরপর জামারায় পাথর নিক্ষেপের জন্য যেতে থাকুন। কোরবানি করুন। মাথা চেঁচে বা ছেটে হালাল হোন। এভাবে হজের কার্যক্রম সমাপ্ত করুন।<br />
<br />
এরপর দোয়ার মাধ্যমে শায়খ খুতবা সমাপ্ত করেন।<br />
<br />
মধ্যখানে শায়খ বলেন, যে মানুষের কৃতজ্ঞতা আদায় করাও আমাদের প্রয়োজন, দীর্ঘ ৩৫ বছর এই মিম্বরে দাঁড়িয়ে শায়খ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ খুতবা দিয়েছেন, মানুষকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, নসিহত করেছেন। অসুস্থতার কারণে তিনি আজ খুতবা দিতে সক্ষম হননি। তাঁর জন্য দোয়া করি। আল্লাহ তায়ালা তাঁর ইলমে, হায়াতে বরকত দান করুন। তাঁকে সুস্থতা দান করুন।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[সৌদি আরবের মক্কায় ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে মসজিদে নামিরায় পবিত্র হজ সম্পন্ন হয়েছে। ধবধবে সাদা ইহরাম কাপড় পরা প্রায় ১৫ লাখ মুসল্লি সেখানে জোহর ও আসরের নামাজ এক আজানে দুই ইকামতে আদায় করেন।<br />
<br />
আজ খুতবা পাঠ করেন নতুন গ্র্যান্ড মুফতি খতিব শায়খ ড. আবদুর রহমান সুদাইস। খুতবার বাংলা অনুবাদ করেছেন মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও বাংলা অনুবাদক মহিউদ্দীন ফারুকী।<br />
<br />
মহিউদ্দীন ফারুকী বলেন, খতিব শায়খ ড. আবদুর রহমান সুদাইস হামদ ও সানা এবং দরুদ পাঠের পর বলেন, ‘আমি সবাইকে তাকওয়া অর্জনের অসিয়ত করছি। হে মুসলিম জাতি, আল্লাহ তায়ালা সারা বিশ্ববাসীর জন্য অসংখ্য নবী পাঠিয়েছেন। তাঁরা মানুষকে সঠিক সরল পথ দেখিয়েছেন। সর্বশেষে আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে পাঠিয়েছেন। তিনি আল্লাহর নির্দেশে মানুষকে হেদায়েতের পথ দেখিয়েছেন।’<br />
<br />
খুতবায় বলা হয়, সম্মানিত হাজি সাহেবগণ, এই মাঠেই আমাদের নবী দাঁড়িয়েছেন। ইসলামের মূল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। জাহিলিয়াতের সব খারাপ বিষয়গুলোকে মিটিয়ে দিয়েছেন। মানবাধিকার নিয়ে কথা বলেছেন। মানুষকে অন্ধকার ও অজ্ঞতা থেকে আলো ও জ্ঞানের দিকে আহ্বান জানিয়েছেন। নারীর প্রতি সহানুভূতি এবং তাদের সব অধিকারের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে বলেছেন। এ ক্ষেত্রে সবাইকেই সতর্ক থাকতে বলেছেন।<br />
<br />
হে মুসলিম নেতৃবৃন্দ, সারা বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে একটু সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনের বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। এ বিষয় নিয়ে প্রয়োজনে আলোচনায় বসতে হবে। মসজিদে আকসাকে মুক্ত করতে হবে।<br />
<br />
হে মুসলিম তরুণ, বর্তমানে সারা বিশ্বে যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, তা হলো সন্ত্রাসবাদ। অনেক তরুণ ইসলামের মূল শিক্ষা ভুলে ভিন্ন স্থান থেকে ইসলাম শিখছে। বিভিন্নভাবে বিভীষিকা ও উগ্রবাদ ছড়াচ্ছে। অযথাই মানুষকে কাফের বলে দিচ্ছে।<br />
<br />
হে তরুণ, তোমরাই জাতির মেরুদণ্ড। অতএব, তোমরা সতর্ক হও। অন্যকে যেকোনো কিছুতেই কাফের বলা থেকে বিরত থাকো। যে কোনো বিষয় তোমরা আলেমদের কাছ থেকে গ্রহণ করো। তোমাদের কাছে অনেক প্রত্যাশা। তোমরা সুন্দর আদর্শ গ্রহণ করো। নিজেকে বিনির্মাণ করো।<br />
<br />
হে অভিভাবক ও মুরুব্বিগণ, চরিত্র প্রধান এক সম্পদ। ইসলাম এ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। পরিবারের সবার চরিত্র বিনির্মাণের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। বিশেষত বর্তমানে যে চারিত্রিক যুদ্ধ সে ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। প্রত্যেক সদস্যের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।<br />
<br />
হে ওলামায়ে কেরাম, আপনারা সবাই রাসুলের উত্তরসূরি। আপনারা মানুষকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত না করে কোরআন সুন্নাহর প্রতি উদ্বুদ্ধ করুন। মানুষকে সঠিক বিষয়টি শিক্ষা দিন।<br />
<br />
হে ইসলামের দায়ী ও আহ্বায়কগণ, আপনারা মানুষের প্রতি সহজ করুন। দলাদলি মুক্ত থাকুন। ইসলামের মূল বিষয়গুলোর দিকে ডাকুন। মানুষের প্রতি দয়া করুন, রহমত করুন।<br />
<br />
হে মিডিয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, আপনারা সতর্ক হোন। মানুষের চারিত্রিক বিষয়ে গুরুত্ব দিন। ইসলামের শিক্ষা ও দীক্ষা প্রচার করুন।<br />
<br />
হে হাজি সাহেববৃন্দ, আপনারা শুকরিয়া আদায় করুন। আল্লাহ তায়ালা আপনাদেরকে হজের জন্য কবুল করেছেন। এই আরাফাত অবস্থানের তওফিক দিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে আপনাদের জন্য যারা এই ব্যবস্থা করেছেন, তাদের জন্য দোয়া করুন। বিশেষ করে খাদেমুল হারামাই মালিক সালমানের জন্য। এবং যারা সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।<br />
<br />
হে বায়তুল্লাহর হাজি সাহেবগণ, আপনারা আরাফায় অধিক পরিমাণে দোয়া করুন। আরাফাহর দোয়া সবচেয়ে উত্তম দোয়া। এদিন আল্লাহ তায়ালা গর্ব করেন। অধিক পরিমাণে মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। এখানে জোহর আসর কসর করে জমা করুন। দোয়ায় লিপ্ত থাকুন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া করতে থাকুন। এরপর শান্তভাবে মুজদালিফার দিকে রওনা হোন। সেখানে পৌঁছে মাগরিব, এশা এক আজানে দুই ইকামতে আদায় করুন। এরপর জামারায় পাথর নিক্ষেপের জন্য যেতে থাকুন। কোরবানি করুন। মাথা চেঁচে বা ছেটে হালাল হোন। এভাবে হজের কার্যক্রম সমাপ্ত করুন।<br />
<br />
এরপর দোয়ার মাধ্যমে শায়খ খুতবা সমাপ্ত করেন।<br />
<br />
মধ্যখানে শায়খ বলেন, যে মানুষের কৃতজ্ঞতা আদায় করাও আমাদের প্রয়োজন, দীর্ঘ ৩৫ বছর এই মিম্বরে দাঁড়িয়ে শায়খ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ খুতবা দিয়েছেন, মানুষকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, নসিহত করেছেন। অসুস্থতার কারণে তিনি আজ খুতবা দিতে সক্ষম হননি। তাঁর জন্য দোয়া করি। আল্লাহ তায়ালা তাঁর ইলমে, হায়াতে বরকত দান করুন। তাঁকে সুস্থতা দান করুন।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[বিষের ক্ষমতা নেই ক্ষমতা আল্লাহ তায়ালার]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2311</link>
			<pubDate>Fri, 24 Feb 2017 03:09:08 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2311</guid>
			<description><![CDATA[বিষের ক্ষমতা নেই ক্ষমতা আল্লাহ তায়ালার<br />
<br />
,<br />
<br />
,<br />
<br />
আমরা একটি সুন্দর ঘটনা সম্পর্কে জানবো যেটা সাহাবী হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা) এর জীবনে ঘটেছিলো। যেটা সম্পূর্ন ঈমানদীপ্ত জযবায় ভরপুর। <br />
<br />
,<br />
<br />
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা) এর হাতে জনৈক কয়েদী ধৃত হল। তিনি তাকে সামনে হাজির করলেন। তার কাধে একটা থলে ছিল। হযরত খালিদ (রা) থলেটি হাতে নিলেন। দেখলেন তাতে একটি শিশি আছে। জিজ্ঞেস করলেন এটি কি? লোকটি বলল, এটা বিষ। খালিদ (রা) বললেন, এটা কেন সংগে রেখেছ? সে বলল, আমার ইচ্ছা ছিল যদি কোন কারনে আমাকে পরাজিত হতে হয় তাহলে আমি এটা পান করে নিব। খালিদ (রা) বললেন, এ বিষ তোমার কি উপকার করবে? লোকটি বলল, এটা নির্ঘাত প্রান সংহার করবে। খালিদ (রা) বললেন, হায়াত ও মওতের মালিক এক মাত্র আল্লাহ তায়ালা। জীবন কিংবা মরন কোন ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত নয়। এ কথা বলে হযরত খালিদ (রা) বিষের শিশি হাতে নেন এবং তা নিজের মুখে ঢেলে গিলে ফেলেন। উপস্থিত সকলে অস্থির হয়ে গেল। সকলে হায় হায় করে উঠলো। অথচ হযরত খালিদ (রা) খুব শান্ত ভাবে বললেন, হায়াত ও মওতের মালিক মহান আল্লাহ। বিষের কোন শক্তি নেই। বিষ নিজ ইচ্ছায় কোন কিছু করতে সক্ষম নয়। এটিই হল আমাদের ঈমান।<br />
<br />
দেখা গেল হযরত খালিদ (রা) এর কিছুই হল না। তখন কাফের সৈন্যরা বলাবলি করতে লাগলো , হে আরব দল, কোন সন্দেহ নেই, তোমরা যা ইচ্ছা তাই করতে সক্ষম হবে। প্রকৃতি তোমাদের ইচ্ছার অনুকূলে। তোমাদের একজন ও অবশিষ্ট থাকা অবস্থায় কেউ তোমাদের পরাজিত করতে পারবে না।<br />
<br />
,<br />
<br />
সূত্রঃ হায়াতুস সাহাবা।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[বিষের ক্ষমতা নেই ক্ষমতা আল্লাহ তায়ালার<br />
<br />
,<br />
<br />
,<br />
<br />
আমরা একটি সুন্দর ঘটনা সম্পর্কে জানবো যেটা সাহাবী হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা) এর জীবনে ঘটেছিলো। যেটা সম্পূর্ন ঈমানদীপ্ত জযবায় ভরপুর। <br />
<br />
,<br />
<br />
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা) এর হাতে জনৈক কয়েদী ধৃত হল। তিনি তাকে সামনে হাজির করলেন। তার কাধে একটা থলে ছিল। হযরত খালিদ (রা) থলেটি হাতে নিলেন। দেখলেন তাতে একটি শিশি আছে। জিজ্ঞেস করলেন এটি কি? লোকটি বলল, এটা বিষ। খালিদ (রা) বললেন, এটা কেন সংগে রেখেছ? সে বলল, আমার ইচ্ছা ছিল যদি কোন কারনে আমাকে পরাজিত হতে হয় তাহলে আমি এটা পান করে নিব। খালিদ (রা) বললেন, এ বিষ তোমার কি উপকার করবে? লোকটি বলল, এটা নির্ঘাত প্রান সংহার করবে। খালিদ (রা) বললেন, হায়াত ও মওতের মালিক এক মাত্র আল্লাহ তায়ালা। জীবন কিংবা মরন কোন ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত নয়। এ কথা বলে হযরত খালিদ (রা) বিষের শিশি হাতে নেন এবং তা নিজের মুখে ঢেলে গিলে ফেলেন। উপস্থিত সকলে অস্থির হয়ে গেল। সকলে হায় হায় করে উঠলো। অথচ হযরত খালিদ (রা) খুব শান্ত ভাবে বললেন, হায়াত ও মওতের মালিক মহান আল্লাহ। বিষের কোন শক্তি নেই। বিষ নিজ ইচ্ছায় কোন কিছু করতে সক্ষম নয়। এটিই হল আমাদের ঈমান।<br />
<br />
দেখা গেল হযরত খালিদ (রা) এর কিছুই হল না। তখন কাফের সৈন্যরা বলাবলি করতে লাগলো , হে আরব দল, কোন সন্দেহ নেই, তোমরা যা ইচ্ছা তাই করতে সক্ষম হবে। প্রকৃতি তোমাদের ইচ্ছার অনুকূলে। তোমাদের একজন ও অবশিষ্ট থাকা অবস্থায় কেউ তোমাদের পরাজিত করতে পারবে না।<br />
<br />
,<br />
<br />
সূত্রঃ হায়াতুস সাহাবা।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[পবিত্র হজে আরাফাতের খুতবায় যা বললেন খতিব শায়খ ড. আবদুর রহমান সুদাইস।]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2310</link>
			<pubDate>Fri, 24 Feb 2017 03:08:41 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2310</guid>
			<description><![CDATA[সৌদি আরবের মক্কায় ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে<br />
<br />
মসজিদে নামিরায় পবিত্র হজ সম্পন্ন হয়েছে। ধবধবে<br />
<br />
সাদা ইহরাম কাপড় পরা প্রায় ১৫ লাখ মুসল্লি সেখানে<br />
<br />
জোহর ও আসরের নামাজ এক আজানে দুই ইকামতে<br />
<br />
আদায় করেন।<br />
<br />
আজ খুতবা পাঠ করেন নতুন গ্র্যান্ড মুফতি খতিব শায়খ ড.<br />
<br />
আবদুর রহমান সুদাইস। খুতবার বাংলা অনুবাদ করেছেন মদিনা<br />
<br />
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও বাংলা অনুবাদক মহিউদ্দীন<br />
<br />
ফারুকী।<br />
<br />
মহিউদ্দীন ফারুকী বলেন, খতিব শায়খ ড. আবদুর রহমান<br />
<br />
সুদাইস হামদ ও সানা এবং দরুদ পাঠের পর বলেন, ‘আমি<br />
<br />
সবাইকে তাকওয়া অর্জনের অসিয়ত করছি। হে মুসলিম<br />
<br />
জাতি, আল্লাহ তায়ালা সারা বিশ্ববাসীর জন্য অসংখ্য নবী<br />
<br />
পাঠিয়েছেন। তাঁরা মানুষকে সঠিক সরল পথ<br />
<br />
দেখিয়েছেন। সর্বশেষে আমাদের নবী মুহাম্মদ<br />
<br />
(সা.)-কে পাঠিয়েছেন। তিনি আল্লাহর নির্দেশে<br />
<br />
মানুষকে হেদায়েতের পথ দেখিয়েছেন।’<br />
<br />
খুতবায় বলা হয়, সম্মানিত হাজি সাহেবগণ, এই মাঠেই<br />
<br />
আমাদের নবী দাঁড়িয়েছেন। ইসলামের মূল<br />
<br />
বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। জাহিলিয়াতের<br />
<br />
সব খারাপ বিষয়গুলোকে মিটিয়ে দিয়েছেন। মানবাধিকার<br />
<br />
নিয়ে কথা বলেছেন। মানুষকে অন্ধকার ও অজ্ঞতা<br />
<br />
থেকে আলো ও জ্ঞানের দিকে আহ্বান<br />
<br />
জানিয়েছেন। নারীর প্রতি সহানুভূতি এবং তাদের সব<br />
<br />
অধিকারের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে বলেছেন। এ<br />
<br />
ক্ষেত্রে সবাইকেই সতর্ক থাকতে বলেছেন।<br />
<br />
হে মুসলিম নেতৃবৃন্দ, সারা বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের<br />
<br />
সামগ্রিক বিষয় নিয়ে একটু সচেতন হতে হবে। বিশেষ<br />
<br />
করে ফিলিস্তিনের বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। এ বিষয়<br />
<br />
নিয়ে প্রয়োজনে আলোচনায় বসতে হবে।<br />
<br />
মসজিদে আকসাকে মুক্ত করতে হবে।<br />
<br />
হে মুসলিম তরুণ, বর্তমানে সারা বিশ্বে যে বিষয়টি নিয়ে<br />
<br />
সবচেয়ে বেশি সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, তা হলো<br />
<br />
সন্ত্রাসবাদ। অনেক তরুণ ইসলামের মূল শিক্ষা ভুলে ভিন্ন<br />
<br />
স্থান থেকে ইসলাম শিখছে। বিভিন্নভাবে বিভীষিকা ও<br />
<br />
উগ্রবাদ ছড়াচ্ছে। অযথাই মানুষকে কাফের বলে<br />
<br />
দিচ্ছে।<br />
<br />
হে তরুণ, তোমরাই জাতির মেরুদণ্ড। অতএব, তোমরা<br />
<br />
সতর্ক হও। অন্যকে যেকোনো কিছুতেই কাফের<br />
<br />
বলা থেকে বিরত থাকো। যে কোনো বিষয়<br />
<br />
তোমরা আলেমদের কাছ থেকে গ্রহণ করো।<br />
<br />
তোমাদের কাছে অনেক প্রত্যাশা। তোমরা সুন্দর<br />
<br />
আদর্শ গ্রহণ করো। নিজেকে বিনির্মাণ করো।<br />
<br />
হে অভিভাবক ও মুরুব্বিগণ, চরিত্র প্রধান এক সম্পদ। ইসলাম<br />
<br />
এ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। পরিবারের সবার<br />
<br />
চরিত্র বিনির্মাণের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। বিশেষত<br />
<br />
বর্তমানে যে চারিত্রিক যুদ্ধ সে ব্যাপারে সচেতন<br />
<br />
হতে হবে। প্রত্যেক সদস্যের প্রতি সজাগ দৃষ্টি<br />
<br />
রাখতে হবে।<br />
<br />
হে ওলামায়ে কেরাম, আপনারা সবাই রাসুলের উত্তরসূরি।<br />
<br />
আপনারা মানুষকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত না করে<br />
<br />
কোরআন সুন্নাহর প্রতি উদ্বুদ্ধ করুন। মানুষকে সঠিক<br />
<br />
বিষয়টি শিক্ষা দিন।<br />
<br />
হে ইসলামের দায়ী ও আহ্বায়কগণ, আপনারা মানুষের<br />
<br />
প্রতি সহজ করুন। দলাদলি মুক্ত থাকুন। ইসলামের মূল<br />
<br />
বিষয়গুলোর দিকে ডাকুন। মানুষের প্রতি দয়া করুন, রহমত<br />
<br />
করুন।<br />
<br />
হে মিডিয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, আপনারা সতর্ক হোন।<br />
<br />
মানুষের চারিত্রিক বিষয়ে গুরুত্ব দিন। ইসলামের শিক্ষা ও<br />
<br />
দীক্ষা প্রচার করুন।<br />
<br />
হে হাজি সাহেববৃন্দ, আপনারা শুকরিয়া আদায় করুন। আল্লাহ<br />
<br />
তায়ালা আপনাদেরকে হজের জন্য কবুল করেছেন।<br />
<br />
এই আরাফাত অবস্থানের তওফিক দিয়েছেন। সঙ্গে<br />
<br />
সঙ্গে আপনাদের জন্য যারা এই ব্যবস্থা করেছেন,<br />
<br />
তাদের জন্য দোয়া করুন। বিশেষ করে খাদেমুল হারামাই<br />
<br />
মালিক সালমানের জন্য। এবং যারা সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা<br />
<br />
করেছেন।<br />
<br />
হে বায়তুল্লাহর হাজি সাহেবগণ, আপনারা আরাফায় অধিক<br />
<br />
পরিমাণে দোয়া করুন। আরাফাহর দোয়া সবচেয়ে<br />
<br />
উত্তম দোয়া। এদিন আল্লাহ তায়ালা গর্ব করেন। অধিক<br />
<br />
পরিমাণে মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।<br />
<br />
এখানে জোহর আসর কসর করে জমা করুন। দোয়ায়<br />
<br />
লিপ্ত থাকুন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া করতে থাকুন। এরপর<br />
<br />
শান্তভাবে মুজদালিফার দিকে রওনা হোন। সেখানে<br />
<br />
পৌঁছে মাগরিব, এশা এক আজানে দুই ইকামতে আদায় করুন।<br />
<br />
এরপর জামারায় পাথর নিক্ষেপের জন্য যেতে থাকুন।<br />
<br />
কোরবানি করুন। মাথা চেঁচে বা ছেটে হালাল হোন।<br />
<br />
এভাবে হজের কার্যক্রম সমাপ্ত করুন।<br />
<br />
এরপর দোয়ার মাধ্যমে শায়খ খুতবা সমাপ্ত করেন।<br />
<br />
মধ্যখানে শায়খ বলেন, যে মানুষের কৃতজ্ঞতা আদায়<br />
<br />
করাও আমাদের প্রয়োজন, দীর্ঘ ৩৫ বছর এই<br />
<br />
মিম্বরে দাঁড়িয়ে শায়খ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ খুতবা<br />
<br />
দিয়েছেন, মানুষকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, নসিহত<br />
<br />
করেছেন। অসুস্থতার কারণে তিনি আজ খুতবা দিতে<br />
<br />
সক্ষম হননি। তাঁর জন্য দোয়া করি। আল্লাহ তায়ালা তাঁর<br />
<br />
ইলমে, হায়াতে বরকত দান করুন। তাঁকে সুস্থতা দান করুন।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[সৌদি আরবের মক্কায় ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে<br />
<br />
মসজিদে নামিরায় পবিত্র হজ সম্পন্ন হয়েছে। ধবধবে<br />
<br />
সাদা ইহরাম কাপড় পরা প্রায় ১৫ লাখ মুসল্লি সেখানে<br />
<br />
জোহর ও আসরের নামাজ এক আজানে দুই ইকামতে<br />
<br />
আদায় করেন।<br />
<br />
আজ খুতবা পাঠ করেন নতুন গ্র্যান্ড মুফতি খতিব শায়খ ড.<br />
<br />
আবদুর রহমান সুদাইস। খুতবার বাংলা অনুবাদ করেছেন মদিনা<br />
<br />
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও বাংলা অনুবাদক মহিউদ্দীন<br />
<br />
ফারুকী।<br />
<br />
মহিউদ্দীন ফারুকী বলেন, খতিব শায়খ ড. আবদুর রহমান<br />
<br />
সুদাইস হামদ ও সানা এবং দরুদ পাঠের পর বলেন, ‘আমি<br />
<br />
সবাইকে তাকওয়া অর্জনের অসিয়ত করছি। হে মুসলিম<br />
<br />
জাতি, আল্লাহ তায়ালা সারা বিশ্ববাসীর জন্য অসংখ্য নবী<br />
<br />
পাঠিয়েছেন। তাঁরা মানুষকে সঠিক সরল পথ<br />
<br />
দেখিয়েছেন। সর্বশেষে আমাদের নবী মুহাম্মদ<br />
<br />
(সা.)-কে পাঠিয়েছেন। তিনি আল্লাহর নির্দেশে<br />
<br />
মানুষকে হেদায়েতের পথ দেখিয়েছেন।’<br />
<br />
খুতবায় বলা হয়, সম্মানিত হাজি সাহেবগণ, এই মাঠেই<br />
<br />
আমাদের নবী দাঁড়িয়েছেন। ইসলামের মূল<br />
<br />
বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। জাহিলিয়াতের<br />
<br />
সব খারাপ বিষয়গুলোকে মিটিয়ে দিয়েছেন। মানবাধিকার<br />
<br />
নিয়ে কথা বলেছেন। মানুষকে অন্ধকার ও অজ্ঞতা<br />
<br />
থেকে আলো ও জ্ঞানের দিকে আহ্বান<br />
<br />
জানিয়েছেন। নারীর প্রতি সহানুভূতি এবং তাদের সব<br />
<br />
অধিকারের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে বলেছেন। এ<br />
<br />
ক্ষেত্রে সবাইকেই সতর্ক থাকতে বলেছেন।<br />
<br />
হে মুসলিম নেতৃবৃন্দ, সারা বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের<br />
<br />
সামগ্রিক বিষয় নিয়ে একটু সচেতন হতে হবে। বিশেষ<br />
<br />
করে ফিলিস্তিনের বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। এ বিষয়<br />
<br />
নিয়ে প্রয়োজনে আলোচনায় বসতে হবে।<br />
<br />
মসজিদে আকসাকে মুক্ত করতে হবে।<br />
<br />
হে মুসলিম তরুণ, বর্তমানে সারা বিশ্বে যে বিষয়টি নিয়ে<br />
<br />
সবচেয়ে বেশি সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, তা হলো<br />
<br />
সন্ত্রাসবাদ। অনেক তরুণ ইসলামের মূল শিক্ষা ভুলে ভিন্ন<br />
<br />
স্থান থেকে ইসলাম শিখছে। বিভিন্নভাবে বিভীষিকা ও<br />
<br />
উগ্রবাদ ছড়াচ্ছে। অযথাই মানুষকে কাফের বলে<br />
<br />
দিচ্ছে।<br />
<br />
হে তরুণ, তোমরাই জাতির মেরুদণ্ড। অতএব, তোমরা<br />
<br />
সতর্ক হও। অন্যকে যেকোনো কিছুতেই কাফের<br />
<br />
বলা থেকে বিরত থাকো। যে কোনো বিষয়<br />
<br />
তোমরা আলেমদের কাছ থেকে গ্রহণ করো।<br />
<br />
তোমাদের কাছে অনেক প্রত্যাশা। তোমরা সুন্দর<br />
<br />
আদর্শ গ্রহণ করো। নিজেকে বিনির্মাণ করো।<br />
<br />
হে অভিভাবক ও মুরুব্বিগণ, চরিত্র প্রধান এক সম্পদ। ইসলাম<br />
<br />
এ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। পরিবারের সবার<br />
<br />
চরিত্র বিনির্মাণের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। বিশেষত<br />
<br />
বর্তমানে যে চারিত্রিক যুদ্ধ সে ব্যাপারে সচেতন<br />
<br />
হতে হবে। প্রত্যেক সদস্যের প্রতি সজাগ দৃষ্টি<br />
<br />
রাখতে হবে।<br />
<br />
হে ওলামায়ে কেরাম, আপনারা সবাই রাসুলের উত্তরসূরি।<br />
<br />
আপনারা মানুষকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত না করে<br />
<br />
কোরআন সুন্নাহর প্রতি উদ্বুদ্ধ করুন। মানুষকে সঠিক<br />
<br />
বিষয়টি শিক্ষা দিন।<br />
<br />
হে ইসলামের দায়ী ও আহ্বায়কগণ, আপনারা মানুষের<br />
<br />
প্রতি সহজ করুন। দলাদলি মুক্ত থাকুন। ইসলামের মূল<br />
<br />
বিষয়গুলোর দিকে ডাকুন। মানুষের প্রতি দয়া করুন, রহমত<br />
<br />
করুন।<br />
<br />
হে মিডিয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, আপনারা সতর্ক হোন।<br />
<br />
মানুষের চারিত্রিক বিষয়ে গুরুত্ব দিন। ইসলামের শিক্ষা ও<br />
<br />
দীক্ষা প্রচার করুন।<br />
<br />
হে হাজি সাহেববৃন্দ, আপনারা শুকরিয়া আদায় করুন। আল্লাহ<br />
<br />
তায়ালা আপনাদেরকে হজের জন্য কবুল করেছেন।<br />
<br />
এই আরাফাত অবস্থানের তওফিক দিয়েছেন। সঙ্গে<br />
<br />
সঙ্গে আপনাদের জন্য যারা এই ব্যবস্থা করেছেন,<br />
<br />
তাদের জন্য দোয়া করুন। বিশেষ করে খাদেমুল হারামাই<br />
<br />
মালিক সালমানের জন্য। এবং যারা সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা<br />
<br />
করেছেন।<br />
<br />
হে বায়তুল্লাহর হাজি সাহেবগণ, আপনারা আরাফায় অধিক<br />
<br />
পরিমাণে দোয়া করুন। আরাফাহর দোয়া সবচেয়ে<br />
<br />
উত্তম দোয়া। এদিন আল্লাহ তায়ালা গর্ব করেন। অধিক<br />
<br />
পরিমাণে মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।<br />
<br />
এখানে জোহর আসর কসর করে জমা করুন। দোয়ায়<br />
<br />
লিপ্ত থাকুন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া করতে থাকুন। এরপর<br />
<br />
শান্তভাবে মুজদালিফার দিকে রওনা হোন। সেখানে<br />
<br />
পৌঁছে মাগরিব, এশা এক আজানে দুই ইকামতে আদায় করুন।<br />
<br />
এরপর জামারায় পাথর নিক্ষেপের জন্য যেতে থাকুন।<br />
<br />
কোরবানি করুন। মাথা চেঁচে বা ছেটে হালাল হোন।<br />
<br />
এভাবে হজের কার্যক্রম সমাপ্ত করুন।<br />
<br />
এরপর দোয়ার মাধ্যমে শায়খ খুতবা সমাপ্ত করেন।<br />
<br />
মধ্যখানে শায়খ বলেন, যে মানুষের কৃতজ্ঞতা আদায়<br />
<br />
করাও আমাদের প্রয়োজন, দীর্ঘ ৩৫ বছর এই<br />
<br />
মিম্বরে দাঁড়িয়ে শায়খ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ খুতবা<br />
<br />
দিয়েছেন, মানুষকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, নসিহত<br />
<br />
করেছেন। অসুস্থতার কারণে তিনি আজ খুতবা দিতে<br />
<br />
সক্ষম হননি। তাঁর জন্য দোয়া করি। আল্লাহ তায়ালা তাঁর<br />
<br />
ইলমে, হায়াতে বরকত দান করুন। তাঁকে সুস্থতা দান করুন।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[মৃতব্যক্তির পক্ষে বা তার নামে কোরবানি করার বিধান]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2309</link>
			<pubDate>Fri, 24 Feb 2017 03:08:17 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2309</guid>
			<description><![CDATA[একাধিক মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে উট বা মহিষ কোরবানি<br />
<br />
করলে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আলাদা আলাদা অংশ থাকা<br />
<br />
আবশ্যক। একাধিক মৃত ব্যক্তির জন্য এক অংশ কোরবানি<br />
<br />
করা জায়েজ নয়। তবে নিজের পক্ষ থেকে নফল<br />
<br />
কোরবানি করে তার সওয়াব জীবিত বা মৃত এক বা একাধিক<br />
<br />
ব্যক্তির উদ্দেশে দান করা জায়েজ আছে। রাসূল (সা.)<br />
<br />
তার জীবদ্দশায় একটি কোরবানির সওয়াব<br />
<br />
তার সমগ্র উম্মতের জন্য দান করেছিলেন। (সহিহ<br />
<br />
বোখারি)।<br />
<br />
যদি মৃত ব্যক্তি কোরবানি করার অসিয়ত করে যায় এবং<br />
<br />
অসিয়ত অনুযায়ী কোরবানি করা হয় তবে সেই<br />
<br />
কোরবানির গোশত গরিব মিসকিনদের মধ্যে বণ্টন<br />
<br />
করে দেয়া ওয়াজিব। এ গোশত ধনী এবং সৈয়দ বংশের<br />
<br />
লোকদের দেয়া জায়েজ নয়। (ফিকহুস সুন্নাহ।)<br />
<br />
যদি মৃত ব্যক্তির সম্পদ থেকে কোরবানি না করে<br />
<br />
কোনো ব্যক্তি মৃতের পক্ষে নিজ সম্পদ থেকে<br />
<br />
কোরবানি করে, এক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তি অসিয়ত করে<br />
<br />
যাক বা না যাক এরকম কোরবানির গোশতের বিধান<br />
<br />
নিজের সম্পদ থেকে কোরবানি করার মতোই। এর<br />
<br />
গোশত নিজেও খেতে পারবে এবং ধনী ও<br />
<br />
সৈয়দদেরও খাওয়াতে পারবে। (ফাতাওয়ায়ে রহীমীয়া,<br />
<br />
ইমদাদুল ফাতাওয়া।)-প্রিয়]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[একাধিক মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে উট বা মহিষ কোরবানি<br />
<br />
করলে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আলাদা আলাদা অংশ থাকা<br />
<br />
আবশ্যক। একাধিক মৃত ব্যক্তির জন্য এক অংশ কোরবানি<br />
<br />
করা জায়েজ নয়। তবে নিজের পক্ষ থেকে নফল<br />
<br />
কোরবানি করে তার সওয়াব জীবিত বা মৃত এক বা একাধিক<br />
<br />
ব্যক্তির উদ্দেশে দান করা জায়েজ আছে। রাসূল (সা.)<br />
<br />
তার জীবদ্দশায় একটি কোরবানির সওয়াব<br />
<br />
তার সমগ্র উম্মতের জন্য দান করেছিলেন। (সহিহ<br />
<br />
বোখারি)।<br />
<br />
যদি মৃত ব্যক্তি কোরবানি করার অসিয়ত করে যায় এবং<br />
<br />
অসিয়ত অনুযায়ী কোরবানি করা হয় তবে সেই<br />
<br />
কোরবানির গোশত গরিব মিসকিনদের মধ্যে বণ্টন<br />
<br />
করে দেয়া ওয়াজিব। এ গোশত ধনী এবং সৈয়দ বংশের<br />
<br />
লোকদের দেয়া জায়েজ নয়। (ফিকহুস সুন্নাহ।)<br />
<br />
যদি মৃত ব্যক্তির সম্পদ থেকে কোরবানি না করে<br />
<br />
কোনো ব্যক্তি মৃতের পক্ষে নিজ সম্পদ থেকে<br />
<br />
কোরবানি করে, এক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তি অসিয়ত করে<br />
<br />
যাক বা না যাক এরকম কোরবানির গোশতের বিধান<br />
<br />
নিজের সম্পদ থেকে কোরবানি করার মতোই। এর<br />
<br />
গোশত নিজেও খেতে পারবে এবং ধনী ও<br />
<br />
সৈয়দদেরও খাওয়াতে পারবে। (ফাতাওয়ায়ে রহীমীয়া,<br />
<br />
ইমদাদুল ফাতাওয়া।)-প্রিয়]]></content:encoded>
		</item>
	</channel>
</rss>