Forums.Likebd.Com

Full Version: বহু গুণের অধিকারী আলু সদৃশ এক সুস্বাদু ফল: সফেদা!
You're currently viewing a stripped down version of our content. View the full version with proper formatting.
সফেদা বা ‘সবেদা’ (Sapodilla) এক প্রকার মিষ্টি ফল। সফেদা গাছ বহুবর্ষজীবি, চিরসবুজ বৃক্ষ; এর আদি নিবাস মেক্সিকোর দক্ষিণাংশ, মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চল। পেটেনেস ম্যানগ্রোভ ইকো-অঞ্চলের উপকূলীয় ইউকাতানে এই গাছ প্রাকৃতিকভাবে বিস্তার লাভ করেছে।

স্প্যানিশ উপনিবেশ আমলে এটি ফিলিপাইনে নেয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও মেক্সিকোতে এর ব্যাপক উৎপাদন হয়।
সফেদা গাছ ৩০ মি (৯৮ ফু) কিংবা এর চেয়েও লম্বা হতে পারে। এর কাণ্ডের ব্যাস ১.৫ মি (৪.৯ ফুট) পর্যন্ত হতে পারে। তবে সচরাচর এটি ৯-১৫ মিটার (৩০–৪৯ ফুট) লম্বা হয়; আর এর কাণ্ড ৫০সেমি (২০ ইঞ্চি) এর বেশি মোটা হয় না। এই গাছ ঝড়- বাতাসে টিকে থাকতে পারে। এর ছালে প্রচুর সাদা আঠালো কষ থাকে, যা ‘চিকল’ নামে পরিচিত।
দুধের ন্যায় কষগুলো বেশ আঠালো বিধায় তা একসময় চুইং গাম শিল্পখাতে অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত হতো।
আজটেক সভ্যতায় প্রস্তুতকৃত চুইং গামের কাঁচামাল ছিল এর কষ। এর পাতা সুন্দর, মাঝারি আকারের, সবুজ ও চকচকে।
এগুলো একান্তর, উপবৃত্তাকার বা ডিম্বাকার, ৭-১৫ সে.মি. লম্বা হয়। এর ফুল সাদা, ঘন্টাকৃতির, ছয় খণ্ডবিশিষ্ট পাপড়ি-গুচ্ছে বিন্যস্ত। সফেদা ফল বড় উপবৃত্তাকার ‘বেরি’ জাতীয়। এর ব্যাস ৪-৮ সেমি হয়।
দেখতে অনেকটা মসৃণ আলুর মত। এর ভেতরে ২-৫ টি বীজ থাকে। ভেতরের শাস হালকা হলুদ থেকে মেটে বাদামি রঙের হয়। বীজ কালো। সফেদা ফলে খুব বেশি কষ থাকে। এটি গাছ থেকে না পাড়লে সহজে পাকে না। পেড়ে ঘরে রেখে দিলে পেকে নরম ও খাবার উপযোগী হয়।
সফেদার স্বাদ জানলেও অনেকে এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে পুরোপুরি জ্ঞাত নন।
প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যযোগ্য সফেদায় রয়েছে খাদ্যশক্তি ৮৩ কিলোক্যালরি, শর্করা ১৯.৯৬ গ্রাম, আমিষ ০.৪৪ গ্রাম, ভিটামিন বি২ ০.০২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি৩ ০.২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি৫ ০.২৫২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি৬ ০.০৩৭ মিলিগ্রাম, ফলেট ১৪ আইইউ, ভিটামিন সি ১৪.৭ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ২১ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৮ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১২ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১২ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৯৩ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ১২ মিলিগ্রাম, জিংক ০.১ মিলিগ্রাম।
শুধু স্বাদ আর পুষ্টিগুণেই নয়,সফেদার অনেক উপকারীতাও রয়েছে। চলুন জেনে আসা যাক সফেদার উপকারীতাসমুহঃ
১. সফেদায় থাকা ক্যালসিয়াম,আয়রন ও ফসফরাস আমাদের দেহের হাড়ের গঠন মজবুত করে।
২. সফেদার বীজের নির্যাস কিডনির রোগ সারাতে দারুন কার্যকরী।
৩.সফেদা কাশি উপশমে সাহায্য করে।
৪.শ্বাসকষ্ট দূর করতে সফেদার খুবই কার্যকরী। আমাদের ফুসফুস ভালো রাখতেও এর ভূমিকা অসাধারণ।
৫.সফেদার অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান প্রদাহজনিত সমস্যা সমাধান করে। অর্থাৎ গ্যাসট্রিটিস ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।
৬.সফেদায় থাকা ভিটামিন এ চোখের সুরক্ষায় কাজ করে। রাতকানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমায়।
৭.আধাপাকা সফেদা পানিতে ফুটিয়ে কষ বের করে খেলে ডায়রিয়া ভালো হয়।
৮.সফেদা ওজন কমাতে সাহায্য করে। সফেদা নিয়মিত খেলে স্থুলতা জনিত সমস্যার সমাধান হয়।
৯.সফেদায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে গ্লুকোজ যা আমাদের শক্তি দান করে।
১০.সফেদা গাছের পাতায় রয়েছে ওষুধের গুণ। সফেদা গাছের পাতা ছেঁচে সদ্য ক্ষত হওয়া স্থানে দিলে দ্রুত রক্তপাত বন্ধ হয়।
১১. সফেদা ফল স্নায়ু শান্ত এবং মানসিক চাপ উপশম করে। অনিদ্রা , উদ্বেগ এবং বিষণ্নতা তাড়াতে রিয়মিত সফেদা খেতে পারেন।

সুত্রঃ ইন্টারনেট ও উইকিপিডিয়া।