<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0" xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/" xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/">
	<channel>
		<title><![CDATA[Forums.Likebd.Com - ভূতের গল্প]]></title>
		<link>http://forums.likebd.com/</link>
		<description><![CDATA[Forums.Likebd.Com - http://forums.likebd.com]]></description>
		<pubDate>Sun, 27 Sep 2026 07:20:30 +0000</pubDate>
		<generator>MyBB</generator>
		<item>
			<title><![CDATA[জানাযার লাশের ঘটনা]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=3281</link>
			<pubDate>Tue, 02 Jan 2018 06:29:37 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=3281</guid>
			<description><![CDATA[প্রত্যেকটা জানাযার নামাজই আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে যায়। আমি প্রায়ই জানাযার নামাজ পড়ি। তবে নামাজ শেষে যখন লাশটার চেহারা দেখানো হয় তখন চলে আসি । কারন লাশের চেহারা দেখলে আমার রাতে ভয়ে ঘুমই হয় না। ছোটবেলায় একবার একটা লাশের মুখ দেখে এক সপ্তাহ রাতে ঘুমাতে পারিনি। তো মসজিদের মাইকে শুনতে পেলাম আজ সকাল ১১ টায় নাকি জানাযার নামাজ আছে। করিম মিয়া মারা গেছেন। যদিও লোকটাকে চিনিনা তাও ওযু করে জানাযার নামাজ পড়তে চলে গেলাম মসজিদে। দেখলাম মাত্র পৌনে ১১ টা বাজে। আরো পনেরো মিনিট পর জানাযা শুরু হবে। সামনে একটা খাটিয়াতে লাশটা রাখা ছিলো। খাটিয়ার পাশে লোকটার আত্মীয়স্বজনরা দাড়িয়ে ছিলো। তো হঠাত আমার পাশে একটা বৃদ্ধ লোক এসে দাড়ালো। পড়নে সাদা জুব্বা, মুখ ভরতি দাড়ি, শ্যাম রঙের চেহারা। এসেই খাটিয়ার দিকে তাকিয়ে আমাকে বলল:<br />
-মৃত্যু কতটা ভয়ংকর তাই না! একদিন আমাদের সবাইকেই এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যেতে হবে। <br />
আমি হঠাত কিছু না বুঝেই বললাম।<br />
-হুম<br />
-আচ্ছা যে লোকটা মারা গেছে, তুমি তাকে চেনো?<br />
-নাহ। তবে নাম শুনেছি করিম মিয়া।<br />
-আমি ওকে চিন্তাম। ও আজ বড় বিপদে পড়েছে।<br />
-উনিতো মারা গেছেন বিপদে পড়বেন কিভাবে! আর শুনেছি উনি নাকি নিয়মিত নামাজ পড়তেন। তাহলেতো কোন বিপদ নেই।<br />
-নাহ। অন্য একটা বিপদ রয়েছে উনার। জানাযার পূর্বে মুরদার সকল ঋন পরিশোধ করতে হয়। তবে লোকটা এখনো ঋনি। বাজারের মোড়ের ঐ চায়ের দোকানদার ওর কাছে ২০ টাকা পাবে। আর ঋণি ব্যাক্তিদের শাস্তি অনেক ভয়ানক হয়।<br />
-হুম। তবে আপনি জানলেন কিভাবে উনি যে বিপদে পড়েছেন আর উনার ঋণের কথা।<br />
-সেটা তুমি পড়ে জানতে পারবে। এখন লোকটার উপকার করো এবং এই ঋনটা সম্পর্কে তার ছেলেকে অবগত করো। ঐ খানে উনার ছেলে দাড়িয়ে আছে।<br />
<br />
আমি আসলে কিছুই বুঝতেছিলাম না। শুধু মনে হচ্ছিলো এই মৃত ব্যাক্তিটাকে সাহায্য করা উচিত। আমি উনার ছেলেকে সব কথা বললাম, উনার ২০ টাকা ঋণের কথা। উনি জানতে চাইলেন:<br />
-আচ্ছা। তুমি জানলে কিভাবে?<br />
-একটা বৃদ্ধ লোক এসে আমায় বলল।<br />
<br />
তখন উনি আমাকে ২০ টাকা দিয়ে অনুরোধ করলেন টাকাটা চাওয়ালাকে দিয়ে শোধ করতে। জানাযার নামাজের আর মাত্র কয়েকমিনিট বাকি ছিলো। আমি দ্রুত গিয়ে সেই চাওয়ালাকে ২০ টাকা দিয়ে আসলাম। চাওয়ালাও বলল।<br />
-হুম। আমিতো টাকার কথা প্রায় ভুলেই গেছিলাম। তবে লোকটা বড় ভালো ছিলোগো।<br />
<br />
আমি আবার মসজিদে ফিরে আসলাম দেখি জানাযার নামাজ শুরু হবে। তবে আশেপাশে সেই দাড়িওয়ালা জুব্বা পড়া লোকটাকে অনেক খুজলাম তবে পেলাম না। তবে এটা ভেবে ভালো লাগলো লোকটার জন্য একটা মৃত ব্যাক্তির ঋনতো শোধ করতে পারলাম। তবে লোকটা এই কথাগুলো কিভাবে জানলো তার আর জানা হলো না। জানাযার শেষে লোকটার লাশের মুখ দেখতে ভীড় করলো সবাই। আমার যথারিতি ভয় শুরু হয়ে গেলো। তবে তাও ভয়ে ভয় লোকটার লাশ দেখতে অগ্রসর হলাম। লাশটার মুখ দেখেতো আমার চোখ কপালে উঠার দশা। এইটাতো সেই লোকটারই লাশ যে একটু আগে আমার কাছে এসে ঋণটা শোধ করার কথা বলেছিলো....!!<br />
<br />
( এই ছিল আমার ঘটনা , ভাল লাগলে সবাই লাইক দেওয়ার চেষ্টা করবেন )]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[প্রত্যেকটা জানাযার নামাজই আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে যায়। আমি প্রায়ই জানাযার নামাজ পড়ি। তবে নামাজ শেষে যখন লাশটার চেহারা দেখানো হয় তখন চলে আসি । কারন লাশের চেহারা দেখলে আমার রাতে ভয়ে ঘুমই হয় না। ছোটবেলায় একবার একটা লাশের মুখ দেখে এক সপ্তাহ রাতে ঘুমাতে পারিনি। তো মসজিদের মাইকে শুনতে পেলাম আজ সকাল ১১ টায় নাকি জানাযার নামাজ আছে। করিম মিয়া মারা গেছেন। যদিও লোকটাকে চিনিনা তাও ওযু করে জানাযার নামাজ পড়তে চলে গেলাম মসজিদে। দেখলাম মাত্র পৌনে ১১ টা বাজে। আরো পনেরো মিনিট পর জানাযা শুরু হবে। সামনে একটা খাটিয়াতে লাশটা রাখা ছিলো। খাটিয়ার পাশে লোকটার আত্মীয়স্বজনরা দাড়িয়ে ছিলো। তো হঠাত আমার পাশে একটা বৃদ্ধ লোক এসে দাড়ালো। পড়নে সাদা জুব্বা, মুখ ভরতি দাড়ি, শ্যাম রঙের চেহারা। এসেই খাটিয়ার দিকে তাকিয়ে আমাকে বলল:<br />
-মৃত্যু কতটা ভয়ংকর তাই না! একদিন আমাদের সবাইকেই এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যেতে হবে। <br />
আমি হঠাত কিছু না বুঝেই বললাম।<br />
-হুম<br />
-আচ্ছা যে লোকটা মারা গেছে, তুমি তাকে চেনো?<br />
-নাহ। তবে নাম শুনেছি করিম মিয়া।<br />
-আমি ওকে চিন্তাম। ও আজ বড় বিপদে পড়েছে।<br />
-উনিতো মারা গেছেন বিপদে পড়বেন কিভাবে! আর শুনেছি উনি নাকি নিয়মিত নামাজ পড়তেন। তাহলেতো কোন বিপদ নেই।<br />
-নাহ। অন্য একটা বিপদ রয়েছে উনার। জানাযার পূর্বে মুরদার সকল ঋন পরিশোধ করতে হয়। তবে লোকটা এখনো ঋনি। বাজারের মোড়ের ঐ চায়ের দোকানদার ওর কাছে ২০ টাকা পাবে। আর ঋণি ব্যাক্তিদের শাস্তি অনেক ভয়ানক হয়।<br />
-হুম। তবে আপনি জানলেন কিভাবে উনি যে বিপদে পড়েছেন আর উনার ঋণের কথা।<br />
-সেটা তুমি পড়ে জানতে পারবে। এখন লোকটার উপকার করো এবং এই ঋনটা সম্পর্কে তার ছেলেকে অবগত করো। ঐ খানে উনার ছেলে দাড়িয়ে আছে।<br />
<br />
আমি আসলে কিছুই বুঝতেছিলাম না। শুধু মনে হচ্ছিলো এই মৃত ব্যাক্তিটাকে সাহায্য করা উচিত। আমি উনার ছেলেকে সব কথা বললাম, উনার ২০ টাকা ঋণের কথা। উনি জানতে চাইলেন:<br />
-আচ্ছা। তুমি জানলে কিভাবে?<br />
-একটা বৃদ্ধ লোক এসে আমায় বলল।<br />
<br />
তখন উনি আমাকে ২০ টাকা দিয়ে অনুরোধ করলেন টাকাটা চাওয়ালাকে দিয়ে শোধ করতে। জানাযার নামাজের আর মাত্র কয়েকমিনিট বাকি ছিলো। আমি দ্রুত গিয়ে সেই চাওয়ালাকে ২০ টাকা দিয়ে আসলাম। চাওয়ালাও বলল।<br />
-হুম। আমিতো টাকার কথা প্রায় ভুলেই গেছিলাম। তবে লোকটা বড় ভালো ছিলোগো।<br />
<br />
আমি আবার মসজিদে ফিরে আসলাম দেখি জানাযার নামাজ শুরু হবে। তবে আশেপাশে সেই দাড়িওয়ালা জুব্বা পড়া লোকটাকে অনেক খুজলাম তবে পেলাম না। তবে এটা ভেবে ভালো লাগলো লোকটার জন্য একটা মৃত ব্যাক্তির ঋনতো শোধ করতে পারলাম। তবে লোকটা এই কথাগুলো কিভাবে জানলো তার আর জানা হলো না। জানাযার শেষে লোকটার লাশের মুখ দেখতে ভীড় করলো সবাই। আমার যথারিতি ভয় শুরু হয়ে গেলো। তবে তাও ভয়ে ভয় লোকটার লাশ দেখতে অগ্রসর হলাম। লাশটার মুখ দেখেতো আমার চোখ কপালে উঠার দশা। এইটাতো সেই লোকটারই লাশ যে একটু আগে আমার কাছে এসে ঋণটা শোধ করার কথা বলেছিলো....!!<br />
<br />
( এই ছিল আমার ঘটনা , ভাল লাগলে সবাই লাইক দেওয়ার চেষ্টা করবেন )]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[ব্যাপারটা যতটা না ভৌতিক তারচেয়ে বেশি রহস্যময়]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=3280</link>
			<pubDate>Tue, 02 Jan 2018 06:29:06 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=3280</guid>
			<description><![CDATA[সম্পূর্ণ সত্য একটি ঘটনা, এবং আমি হুবুহু আমার ভাষায় তুলে ধরলাম । ব্যাপারটা যতটা না ভৌতিক তারচেয়ে বেশি রহস্যময় । আমি নদী । গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে। ছোটবেলা থেকেই ঢাকায় থাকি । গ্রামে খুব একটা যাওয়া হয় না । বাবা অনেক জোর করে ৩ বছর আগে একবার ধরে নিয়ে গিয়েছিলেন গ্রামের বাড়িতে । ঢাকা থেকে লাকসাম কিন্তু বেশি দূরে না, অথচ পড়ালেখা আর ক্লাসের ঝামেলার কারণে এই অল্প দূরত্বই অনেক বেশি হয়ে দাঁড়ায় মাঝে মাঝে । যাই হোক, সেবার গ্রীষ্মের ছুটিতে বাবা, মা, আমি আর আমার ছোট ভাই জয় মিলে দাদা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম । বাবা গাড়ি চালাচ্ছিলেন । কুমিল্লায় আমরা যখন পৌঁছাই তখন বেলা প্রায় শেষের দিকে । রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে আমি আর আম্মু পাশের দোকান থেকে চা বিস্কিট কিনে খেতে লাগলাম আর বাবা গেলো নামাজ পড়তে । আমরা গাড়িতে বসে চা খাচ্ছি, এমন সময় এক বুড়ো মতন লোক হটাত কোত্থেকে যেন উদয় হলো । গাড়ির পিছনের সিটে ছিলাম আমরা । সামনের সিটে জয় ঘুমুচ্ছে । লোকটা এসে দাঁড়িয়ে আমাদের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো । চাহনি দেখে কেমন যেনো করে উঠলো বুকের ভেতর । শীতল চাহনি । অনেকটা মাছের মতো । আম্মু কিছু বলতে চাচ্ছিল কিন্তু তার আগেই লোকটি বলে উঠলো, অনেকদিন পরে গ্রামে আসলি তোরা । অনেকদিন পরে আসলি । সাবধানে থাকবি । সন্ধ্যার পর রাস্তা ভালো না । অনেক খারাপ জিনিস ঘুরে । অনেক সাবধান । অনেক সাবধান । আমি আর আম্মু দুজনেই চা খাওয়া বাদ দিয়ে হা করে তাকিয়ে রইলাম লোকটার দিকে । আম্মুর আগে আমিই স্বাভাবিক হলাম । ঢাকা থাকার সুবাদে এইসব বাটপার লোক অনেক দেখেছি । কড়া গলায় বললাম, মাফ করেন । লোকটি তাচ্ছিল্লের হাসি দিয়ে বলল, আমি তোদের কাছে কিছু চাইতে আসি নি রে, তোদের সাবধান করতে এসেছি । তবে যাবার পথে পারলে পীরের মাজারে কিছু সিন্নি দিয়ে যাস । তোদের ভালো হবে । এই বলে লোকটা যেমন হটাত এসেছিলো তেমনি দ্রুত চলে গেলো । আম্মু খানিকটা ঘাবড়ে গিয়ে বললেন, কি বলল রে লোকটা ? কথাবার্তা কেমন কেমন যেনো । আমি হেসে ব্যাপারটা নরমাল করার চেষ্টা করলাম । আম্মুকে বললাম, বাবাকে কিছু বলো না । অনেকদিন পর এসেছি আমরা, বাবা এসব শুনলে চিন্তায় পড়ে যাবে । যাই হোক, বাবাকে কিছু জানানো হলো না । আমরা পুনরায় যাত্রা করলাম গন্তব্যের দিকে । বাসা থেকে প্রায় ২০ মিনিটের দূরত্বে আবারো থামতে হলো । মাগরিবের নামাজের সময় প্রায় শেষের দিকে । বাবা মসজিদে চলে গেলেন । আমি আর আম্মু গাড়িতে বসে রইলাম । দুপাশেই সুন্দর ঢেউ খেলানো ধানের সারি দেখা যাচ্ছে । মাঝে মাঝে দমকা বাতাস উঠছে খেতের উপর । সুন্দর পরিবেশ । দেখলেই শান্তি লাগে । একমনে তাকিয়ে আছি, এমন সময় হটাত সামনে কিছু একটা নড়ে উঠতে দেখলাম । সন্ধ্যা হয়ে এসেছে, আলোও প্রায় নিভু নিভু । চোখে ভুল দেখলাম নাকি বুঝতে পারলাম না । এবার দৃষ্টি স্থির করে তাকিয়ে রইলাম । এবার স্পষ্ট দেখতে পেলাম সেটা । ধানের খেতের মাঝখানে একটা ছেঁড়া কাপর চোপড় পড়ান কাকতাড়ুয়া দাড় করিয়ে রেখেছিলো কেউ । আমার চোখের সামনে সেটি একটু নড়ে উঠলো । শুধু নড়ে উঠলো না, মনে হলো যেনো জায়গা পরিবর্তন করলো । হতভম্ব হয়ে গেলাম আমি । মুখ দিয়ে বিস্ময়ের একটা আওয়াজ বেরিয়ে এলো। আম্মু লক্ষ করলো ব্যাপারটা । আমাকে ধাক্কা দিয়ে বলল, কিরে কি হয়েছে ? আমি বললাম, ঐখানে একটা কাকতাড়ুয়া দেখতে পাচ্ছো? আম্মু চশমা চোখে লাগিয়ে বলল, হম দেখতে পাচ্ছি । তো কি হয়েছে ? আমি খানিকটা দ্বিধা মাখা কণ্ঠে বললাম, সেই কাকতাড়ুয়াটা খানিক আগে নড়েছে, হেঁটেছে, হেঁটে অন্য জায়গায় গিয়েছে ! আম্মু খানিকক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন, তারপর বললেন, তোকে এতবার নিষেধ করেছি আমার সাথে ফাজলামু করবি না, তারপরও ঠিক হলি না ? আমি কিছুতেই আম্মুকে বুঝাতে পারলাম না ঘটনাটা । বাবা আসার পর আমরা পুনরায় বাড়ির পথে রওনা হলাম । বাড়ি থেকে খানিক সামনে একটা বড় পুকুরের মতো পড়ে । বাবার কাছে শুনেছিলাম পুকুরটা নাকি আমার বড় দাদা অর্থাৎ আমার বাবার দাদা কাটিয়েছিলেন । বিশাল গভীর পুকুর । সামনে অনেকগুলো নারিকেল গাছ । পাকা রাস্তা । মানুষ গাড়ি ঘোড়া কিছুই নেই । তাই বাবা মোটামুটি স্পীডে গাড়ি চালাচ্ছিলেন । সামনের সিটে জয় ঘুম থেকে জেগে উঠে বসে আছে । গভীর মনোযোগে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে । হটাত বাবা আঁতকে উঠলেন । ঠিক সাথে সাথেই জয়ও চিৎকার করে উঠলো । কিছু বুঝে উঠার আগেই আমাদের গাড়িটি গিয়ে বারি খেলো রাস্তার পাশের একটা নারিকেল গাছের সাথে । জয় তারস্বরে চিৎকার করছে । বাবা সাথে সাথে গাড়ির ভেতরের লাইট জালিয়ে দিলেন দেখার জন্য সব ঠিক আছে কিনা । আম্মুকে দেখে বুঝতে পারলাম অসম্ভব ভয় পেয়েছে । বাবা দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে গেলেন । বাইরে গিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কাকে যেনো খুঁজতে লাগলেন । আমি গাড়িতে থাকবো না নামবো ঠিক করতে পারছিলাম না । অবশেষে নামার সিদ্ধান্ত নিলাম । বাবার পাশে চলে গেলাম, গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কি হয়েছে বাবা ? গাড়ি ব্রেকে সমস্যা ? বাবা আমার দিকে তাকিয়ে খানিকটা বিভ্রান্তের মতো বললেন, নারে মা । মনে হলো গাড়ির সামনে দিয়ে একটা মানুষ দৌড় মারল । স্পষ্ট দেখলাম গায়ে একটা ছেঁড়া কাপর পড়া । লোকটার গায়ে ধাক্কা দিবো না বলে গাড়ির নাক ঘুরিয়ে দিয়েছিলাম, কিন্তু শেষ রক্ষা হয় নি । লোকটা মনে হয় বারি খেয়েছে গাড়ির সাথে । আমি, বাবা, আম্মু সবাই মিলে অনেক্ষন খুঁজলাম গাড়ির আসে পাশে। শেষে বাবা বলল বাড়িতে যাওয়া যাক । সেখান থেকে লোক নিয়ে এসে খোঁজা যাবে । সবাই একমত হলাম । বাসায় গিয়ে পৌঁছে যা শুনলাম তাতে আক্কেল গুড়ুম হয়ে গেলো । পুকুরের পাড়ে নাকি আজকাল অনেকেই এমন ঘটনার সম্মুখীন হয় । অনেকেই নাকি ছেঁড়া কাপড় চোপড় পড়া একটা মানুষ আকৃতির মূর্তিতে দেখে । কিন্তু গাড়ি, রিক্সা, বা মোটর সাইকেল থেকে নামার পর আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না । যদিও কেউ এখনো পর্যন্ত ক্ষতির সম্মুখীন হয় নি, তবে রাতে রাস্তা ঘাঁটে মানুষ চলাচল অনেক কমে গেছে<br />
<br />
( ভাল লাগলে লাইক দিবেন )]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[সম্পূর্ণ সত্য একটি ঘটনা, এবং আমি হুবুহু আমার ভাষায় তুলে ধরলাম । ব্যাপারটা যতটা না ভৌতিক তারচেয়ে বেশি রহস্যময় । আমি নদী । গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে। ছোটবেলা থেকেই ঢাকায় থাকি । গ্রামে খুব একটা যাওয়া হয় না । বাবা অনেক জোর করে ৩ বছর আগে একবার ধরে নিয়ে গিয়েছিলেন গ্রামের বাড়িতে । ঢাকা থেকে লাকসাম কিন্তু বেশি দূরে না, অথচ পড়ালেখা আর ক্লাসের ঝামেলার কারণে এই অল্প দূরত্বই অনেক বেশি হয়ে দাঁড়ায় মাঝে মাঝে । যাই হোক, সেবার গ্রীষ্মের ছুটিতে বাবা, মা, আমি আর আমার ছোট ভাই জয় মিলে দাদা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম । বাবা গাড়ি চালাচ্ছিলেন । কুমিল্লায় আমরা যখন পৌঁছাই তখন বেলা প্রায় শেষের দিকে । রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে আমি আর আম্মু পাশের দোকান থেকে চা বিস্কিট কিনে খেতে লাগলাম আর বাবা গেলো নামাজ পড়তে । আমরা গাড়িতে বসে চা খাচ্ছি, এমন সময় এক বুড়ো মতন লোক হটাত কোত্থেকে যেন উদয় হলো । গাড়ির পিছনের সিটে ছিলাম আমরা । সামনের সিটে জয় ঘুমুচ্ছে । লোকটা এসে দাঁড়িয়ে আমাদের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো । চাহনি দেখে কেমন যেনো করে উঠলো বুকের ভেতর । শীতল চাহনি । অনেকটা মাছের মতো । আম্মু কিছু বলতে চাচ্ছিল কিন্তু তার আগেই লোকটি বলে উঠলো, অনেকদিন পরে গ্রামে আসলি তোরা । অনেকদিন পরে আসলি । সাবধানে থাকবি । সন্ধ্যার পর রাস্তা ভালো না । অনেক খারাপ জিনিস ঘুরে । অনেক সাবধান । অনেক সাবধান । আমি আর আম্মু দুজনেই চা খাওয়া বাদ দিয়ে হা করে তাকিয়ে রইলাম লোকটার দিকে । আম্মুর আগে আমিই স্বাভাবিক হলাম । ঢাকা থাকার সুবাদে এইসব বাটপার লোক অনেক দেখেছি । কড়া গলায় বললাম, মাফ করেন । লোকটি তাচ্ছিল্লের হাসি দিয়ে বলল, আমি তোদের কাছে কিছু চাইতে আসি নি রে, তোদের সাবধান করতে এসেছি । তবে যাবার পথে পারলে পীরের মাজারে কিছু সিন্নি দিয়ে যাস । তোদের ভালো হবে । এই বলে লোকটা যেমন হটাত এসেছিলো তেমনি দ্রুত চলে গেলো । আম্মু খানিকটা ঘাবড়ে গিয়ে বললেন, কি বলল রে লোকটা ? কথাবার্তা কেমন কেমন যেনো । আমি হেসে ব্যাপারটা নরমাল করার চেষ্টা করলাম । আম্মুকে বললাম, বাবাকে কিছু বলো না । অনেকদিন পর এসেছি আমরা, বাবা এসব শুনলে চিন্তায় পড়ে যাবে । যাই হোক, বাবাকে কিছু জানানো হলো না । আমরা পুনরায় যাত্রা করলাম গন্তব্যের দিকে । বাসা থেকে প্রায় ২০ মিনিটের দূরত্বে আবারো থামতে হলো । মাগরিবের নামাজের সময় প্রায় শেষের দিকে । বাবা মসজিদে চলে গেলেন । আমি আর আম্মু গাড়িতে বসে রইলাম । দুপাশেই সুন্দর ঢেউ খেলানো ধানের সারি দেখা যাচ্ছে । মাঝে মাঝে দমকা বাতাস উঠছে খেতের উপর । সুন্দর পরিবেশ । দেখলেই শান্তি লাগে । একমনে তাকিয়ে আছি, এমন সময় হটাত সামনে কিছু একটা নড়ে উঠতে দেখলাম । সন্ধ্যা হয়ে এসেছে, আলোও প্রায় নিভু নিভু । চোখে ভুল দেখলাম নাকি বুঝতে পারলাম না । এবার দৃষ্টি স্থির করে তাকিয়ে রইলাম । এবার স্পষ্ট দেখতে পেলাম সেটা । ধানের খেতের মাঝখানে একটা ছেঁড়া কাপর চোপড় পড়ান কাকতাড়ুয়া দাড় করিয়ে রেখেছিলো কেউ । আমার চোখের সামনে সেটি একটু নড়ে উঠলো । শুধু নড়ে উঠলো না, মনে হলো যেনো জায়গা পরিবর্তন করলো । হতভম্ব হয়ে গেলাম আমি । মুখ দিয়ে বিস্ময়ের একটা আওয়াজ বেরিয়ে এলো। আম্মু লক্ষ করলো ব্যাপারটা । আমাকে ধাক্কা দিয়ে বলল, কিরে কি হয়েছে ? আমি বললাম, ঐখানে একটা কাকতাড়ুয়া দেখতে পাচ্ছো? আম্মু চশমা চোখে লাগিয়ে বলল, হম দেখতে পাচ্ছি । তো কি হয়েছে ? আমি খানিকটা দ্বিধা মাখা কণ্ঠে বললাম, সেই কাকতাড়ুয়াটা খানিক আগে নড়েছে, হেঁটেছে, হেঁটে অন্য জায়গায় গিয়েছে ! আম্মু খানিকক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন, তারপর বললেন, তোকে এতবার নিষেধ করেছি আমার সাথে ফাজলামু করবি না, তারপরও ঠিক হলি না ? আমি কিছুতেই আম্মুকে বুঝাতে পারলাম না ঘটনাটা । বাবা আসার পর আমরা পুনরায় বাড়ির পথে রওনা হলাম । বাড়ি থেকে খানিক সামনে একটা বড় পুকুরের মতো পড়ে । বাবার কাছে শুনেছিলাম পুকুরটা নাকি আমার বড় দাদা অর্থাৎ আমার বাবার দাদা কাটিয়েছিলেন । বিশাল গভীর পুকুর । সামনে অনেকগুলো নারিকেল গাছ । পাকা রাস্তা । মানুষ গাড়ি ঘোড়া কিছুই নেই । তাই বাবা মোটামুটি স্পীডে গাড়ি চালাচ্ছিলেন । সামনের সিটে জয় ঘুম থেকে জেগে উঠে বসে আছে । গভীর মনোযোগে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে । হটাত বাবা আঁতকে উঠলেন । ঠিক সাথে সাথেই জয়ও চিৎকার করে উঠলো । কিছু বুঝে উঠার আগেই আমাদের গাড়িটি গিয়ে বারি খেলো রাস্তার পাশের একটা নারিকেল গাছের সাথে । জয় তারস্বরে চিৎকার করছে । বাবা সাথে সাথে গাড়ির ভেতরের লাইট জালিয়ে দিলেন দেখার জন্য সব ঠিক আছে কিনা । আম্মুকে দেখে বুঝতে পারলাম অসম্ভব ভয় পেয়েছে । বাবা দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে গেলেন । বাইরে গিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কাকে যেনো খুঁজতে লাগলেন । আমি গাড়িতে থাকবো না নামবো ঠিক করতে পারছিলাম না । অবশেষে নামার সিদ্ধান্ত নিলাম । বাবার পাশে চলে গেলাম, গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কি হয়েছে বাবা ? গাড়ি ব্রেকে সমস্যা ? বাবা আমার দিকে তাকিয়ে খানিকটা বিভ্রান্তের মতো বললেন, নারে মা । মনে হলো গাড়ির সামনে দিয়ে একটা মানুষ দৌড় মারল । স্পষ্ট দেখলাম গায়ে একটা ছেঁড়া কাপর পড়া । লোকটার গায়ে ধাক্কা দিবো না বলে গাড়ির নাক ঘুরিয়ে দিয়েছিলাম, কিন্তু শেষ রক্ষা হয় নি । লোকটা মনে হয় বারি খেয়েছে গাড়ির সাথে । আমি, বাবা, আম্মু সবাই মিলে অনেক্ষন খুঁজলাম গাড়ির আসে পাশে। শেষে বাবা বলল বাড়িতে যাওয়া যাক । সেখান থেকে লোক নিয়ে এসে খোঁজা যাবে । সবাই একমত হলাম । বাসায় গিয়ে পৌঁছে যা শুনলাম তাতে আক্কেল গুড়ুম হয়ে গেলো । পুকুরের পাড়ে নাকি আজকাল অনেকেই এমন ঘটনার সম্মুখীন হয় । অনেকেই নাকি ছেঁড়া কাপড় চোপড় পড়া একটা মানুষ আকৃতির মূর্তিতে দেখে । কিন্তু গাড়ি, রিক্সা, বা মোটর সাইকেল থেকে নামার পর আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না । যদিও কেউ এখনো পর্যন্ত ক্ষতির সম্মুখীন হয় নি, তবে রাতে রাস্তা ঘাঁটে মানুষ চলাচল অনেক কমে গেছে<br />
<br />
( ভাল লাগলে লাইক দিবেন )]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[ছদ্দবেশ (ভুতের গল্প)]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=3279</link>
			<pubDate>Tue, 02 Jan 2018 06:28:15 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=3279</guid>
			<description><![CDATA[আমার ছোট্ট মেয়েটির বয়স এখন নয় মাস।<br />
ডাক্তাররা বলেন একটি শিশু সাধারণত ৭ থেকে ১২ মাসের মধ্যে প্রথম শব্দটি বলে। আমাদের রিশিতা এখনও কোন কথা বলেনি। তবে লক্ষন দেখে মনে হচ্ছে যেকোনো মুহূর্তে সে তার প্রথম শব্দটি উচ্চারন করবে। আমি আর আমার স্ত্রী তাই সারাক্ষণ অধীর আগ্রহে আমাদের মেয়েটির দিকে তাকিয়ে থাকি।<br />
রিশিতা এখনও কোন অর্থবোধক শব্দ উচ্চারণ করেনি, কিন্তু সে সারাক্ষণই কিছু না কিছু বলছে। মুখের ভেতর বুড়ো আঙুল ঢুকিয়ে সারাক্ষণ হাত –পা ছোঁড়াছুড়ি করে আর মুখ দিয়ে ‘আবুজু গুজু বুজু’ – এই জাতীয় বিচিত্র সব শব্দ উচ্চারণ করে। আমার শাশুড়ি তো প্রায়ই বলেন, “কিরে অনিতা? তোর মেয়ে কি জাপানিজ বলে নাকি চাইনিজ? বাংলা বলে না কেন রে?”<br />
বলবে! বাংলাই বলবে! নয় মাস তো হল। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। যখন তখন বাংলায় কথা বলে উঠবে সে! সেই অপেক্ষাতেই তো আমরা আছি!<br />
আমার স্ত্রী, অনিতার ধারণা রিশিতা সর্বপ্রথম “মা” বলে ডাকবে। অনিতা সারাক্ষণ সেই প্রচেষ্টাতেই লিপ্ত। প্রায়ই সে মেয়েটির কানের কাছে মুখ নিয়ে বলতে থাকে,<br />
“মামনি, ‘মা’ বল তো, কই দেখি? বলো? বলো ‘মা’, কই বললে না?” অনেক্ষন চেষ্টা করেও সে রিশিতার মুখে মা ডাক শুনতে পায় না। শেষে হতাশ হয়ে বলে, “নাহ! এই মেয়ের মায়ের প্রতি কোন টান নেই”।<br />
আমি দূর থেকে তাকিয়ে দেখি আর মুচকি হাসি।<br />
আমার বিশ্বাস, অনিতা যতই চেষ্টা করুক না কেন, কোন লাভ নেই। রিশিতা প্রথমে ‘বাবা’ বলেই ডাকবে। সবাই বলে, ‘রিশিতা ঠিক তার বাবার মত হয়েছে। একই রকম নাক, চোখ, কান আর মাথার গড়ন!’ রিশিতা শুধু যে দেখতে আমার মত হয়েছে, তা নয়! সে তার মায়ের তুলনায় আমার কাছেই বেশি থাকে। রাতের বেলা অনিতা অনেকক্ষণ চেষ্টা করেও মেয়েকে ঘুম পাড়াতে পারে না। কিন্তু আমি একটু কোলে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই টুপ করে ঘুমিয়ে পড়ে। আবার রিশিতা যখন কাঁদে, অনিতা অনেক চেষ্টা করেও তার কান্না থামাতে পারে না। আমি একটু আদর করে দিতেই – চুপ! তাই রিশিতা ‘মা’ বলার আগে ‘বাবা’ বলে ডাকাটাই খুব বেশি স্বাভাবিক। কিন্তু কবে ডাকবে? নয় মাস তো হয়ে গেল!<br />
আজ রিশিতা খিচুড়ি খাবে। সব্জি, ডাল, ডিম দিয়ে নরম করে রান্না করা খিচুড়ি। অনিতা খুব যত্ন করে মেয়ের জন্য খিচুড়ি রান্না করে। রান্না ঘরের গরমে তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে। এক হাতে চামচ দিয়ে নাড়তে থাকে, আর অন্য হাতে আঁচল দিয়ে কপালের ঘাম মোছে। এই সময়টাতে তাকে দেখতে খুব ভাল লাগে আমার।<br />
খুব বেশি দিন হয়নি আমাদের বিয়ে হয়েছে। মাত্র দু’বছর হোল। ছোট খাট একটা চাকরি করি আমি, দুনিয়ায় আপন বলতে কেউ নেই। এদিকে অনিতাও তার বাবা মায়ের এক মাত্র মেয়ে। তাই বিয়ের পর থেকে দুজনে অনিতার বাবার বাড়িতেই থাকছি। একা থাকার চেয়ে মানুষের মাঝে থাকতে আমার বেশি ভালো লাগে। যদিও লোকজন আড়ালে ‘ঘরজামাই’ বলে টিটকারি করে। আমি আমলে নেই না। লোকে যা বলে বলুক, আমার কিছু যায় আসে না। এখানে আমি সত্যিই খুব ভাল আছি।<br />
অনিতা মেয়েকে কোলের উপর বসিয়ে খিচুড়ি খাওয়াচ্ছে। হাতের মুঠোতে ছোট লোকমা বানিয়ে মেয়ের মুখের সামনে তুলে বলছে, “হা কর তো মামনি। এই যে দেখ কত মজা খেতে। খাও খাও”।<br />
রিশিতা খেতে চাচ্ছে না। তার ছোট ছোট হাত ছুঁড়ে অনিতার হাত সরিয়ে দিতে চেষ্টা করছে।<br />
অনিতা প্রায় জোর করে মেয়ের মুখে খিচুড়ির লোকমা ঢুকিয়ে দিল। রিশিতার চেহারা দেখে মনে হচ্ছে যেন চিরতার পানি খাচ্ছে। বহু কষ্টে সে খিচুড়ি গিলছে। তাই দেখে আমার খুব হাসি পেল। ভারী পাজি হয়েছে আমার মেয়েটা! অল্প বয়সে পাকনামো!<br />
আরেক লোকমা হাতে নিয়ে রিশিতার মুখের সামনে ধরল অনিতা। রিশিতা আবার ফিরিয়ে দিচ্ছে হাত। খাবে না আর।<br />
অনিতা জোর করল, “এই যে মামনি। খাও খাও। মুখ হা কর”।<br />
রিশিতা তো কিছুতেই খাবে না! অতটুকুন মেয়ে কি জোরে মাথা নাড়ছে! আহারে!<br />
অনিতা আবারো জোর করে তার মুখে খিচুড়ির লোকমা ঢুকিয়ে দিল।<br />
তারপর যা ঘটে গেল তার জন্য আমরা কেউ প্রস্তুত ছিলাম না!<br />
রিশিতা “থু” করে মুখ থেকে খিচুড়ি ফেলে দিলো।<br />
তারপর চিৎকার করে বলল, “রক্ত... রক্ত খাব...”<br />
এক মুহূর্তের জন্য পাথর হয়ে গেল অনিতা। এটা ছিলো রিশিতার মুখের প্রথম শব্দ- ‘মা’ নয়, ‘বাবা’ নয়! “রক্ত”!<br />
হাত থেকে খিচুড়ির প্লেট ফেলে দিল অনিতা। আতংকে মনে হচ্ছে তার চোখদুটো কোটর ছেড়ে বেরিয়ে আসবে! মেয়েকে এক পাশে ঝটকা দিয়ে ফেলে উঠে দাঁড়ালো সে। চিৎকার করে ডাকলো, “মাআআআআ! ও মাআআআ!”<br />
পাশের ঘর থেকে হন্ত দন্ত হয়ে ছুটে এলেন আমার শাশুড়ি। “কিরে? কি হয়েছে?”<br />
অনিতা ভয়ার্ত গলায় বলল, “তোমার নাতনি কি বলছে!<br />
সে নাকি রক্ত খাবে! এ কোন পিশাচ জন্ম দিলাম আমি?”<br />
শাশুড়ি হতবাক চোখে রিশিতার দিকে তাকালেন। রিশিতা আপন মনে হাতের পুতুল নিয়ে খেলছে। তিনি বললেন, “পাগল হয়েছিস তুই? দুধের শিশু! কথাই বলতে পারে না! সে খেতে চাইবে রক্ত?”<br />
“বিশ্বাস কর মা। আমি নিজ কানে শুনেছি এই মাত্র”।<br />
“তুই শুনতে ভুল করেছিস”<br />
অনিতা আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “এই তুমি কিছু বলছো না কেন? তুমি শুনেছো না রিশিতা কি বলেছে?”<br />
আমি কিছু বলছি না। কপালে দুশ্চিন্তার ভাজ! সবার ধারণাই ঠিক- রিশিতা আসলেই পুরোপুরি তার বাবার মত হয়েছে!<br />
মেয়েকে নিয়ে আজ রাতেই বাড়ি ছেড়ে পালাতে হবে। নাহ! মানুষের ছদ্মবেশে আর থাকা গেলো না....!!]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[আমার ছোট্ট মেয়েটির বয়স এখন নয় মাস।<br />
ডাক্তাররা বলেন একটি শিশু সাধারণত ৭ থেকে ১২ মাসের মধ্যে প্রথম শব্দটি বলে। আমাদের রিশিতা এখনও কোন কথা বলেনি। তবে লক্ষন দেখে মনে হচ্ছে যেকোনো মুহূর্তে সে তার প্রথম শব্দটি উচ্চারন করবে। আমি আর আমার স্ত্রী তাই সারাক্ষণ অধীর আগ্রহে আমাদের মেয়েটির দিকে তাকিয়ে থাকি।<br />
রিশিতা এখনও কোন অর্থবোধক শব্দ উচ্চারণ করেনি, কিন্তু সে সারাক্ষণই কিছু না কিছু বলছে। মুখের ভেতর বুড়ো আঙুল ঢুকিয়ে সারাক্ষণ হাত –পা ছোঁড়াছুড়ি করে আর মুখ দিয়ে ‘আবুজু গুজু বুজু’ – এই জাতীয় বিচিত্র সব শব্দ উচ্চারণ করে। আমার শাশুড়ি তো প্রায়ই বলেন, “কিরে অনিতা? তোর মেয়ে কি জাপানিজ বলে নাকি চাইনিজ? বাংলা বলে না কেন রে?”<br />
বলবে! বাংলাই বলবে! নয় মাস তো হল। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। যখন তখন বাংলায় কথা বলে উঠবে সে! সেই অপেক্ষাতেই তো আমরা আছি!<br />
আমার স্ত্রী, অনিতার ধারণা রিশিতা সর্বপ্রথম “মা” বলে ডাকবে। অনিতা সারাক্ষণ সেই প্রচেষ্টাতেই লিপ্ত। প্রায়ই সে মেয়েটির কানের কাছে মুখ নিয়ে বলতে থাকে,<br />
“মামনি, ‘মা’ বল তো, কই দেখি? বলো? বলো ‘মা’, কই বললে না?” অনেক্ষন চেষ্টা করেও সে রিশিতার মুখে মা ডাক শুনতে পায় না। শেষে হতাশ হয়ে বলে, “নাহ! এই মেয়ের মায়ের প্রতি কোন টান নেই”।<br />
আমি দূর থেকে তাকিয়ে দেখি আর মুচকি হাসি।<br />
আমার বিশ্বাস, অনিতা যতই চেষ্টা করুক না কেন, কোন লাভ নেই। রিশিতা প্রথমে ‘বাবা’ বলেই ডাকবে। সবাই বলে, ‘রিশিতা ঠিক তার বাবার মত হয়েছে। একই রকম নাক, চোখ, কান আর মাথার গড়ন!’ রিশিতা শুধু যে দেখতে আমার মত হয়েছে, তা নয়! সে তার মায়ের তুলনায় আমার কাছেই বেশি থাকে। রাতের বেলা অনিতা অনেকক্ষণ চেষ্টা করেও মেয়েকে ঘুম পাড়াতে পারে না। কিন্তু আমি একটু কোলে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই টুপ করে ঘুমিয়ে পড়ে। আবার রিশিতা যখন কাঁদে, অনিতা অনেক চেষ্টা করেও তার কান্না থামাতে পারে না। আমি একটু আদর করে দিতেই – চুপ! তাই রিশিতা ‘মা’ বলার আগে ‘বাবা’ বলে ডাকাটাই খুব বেশি স্বাভাবিক। কিন্তু কবে ডাকবে? নয় মাস তো হয়ে গেল!<br />
আজ রিশিতা খিচুড়ি খাবে। সব্জি, ডাল, ডিম দিয়ে নরম করে রান্না করা খিচুড়ি। অনিতা খুব যত্ন করে মেয়ের জন্য খিচুড়ি রান্না করে। রান্না ঘরের গরমে তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে। এক হাতে চামচ দিয়ে নাড়তে থাকে, আর অন্য হাতে আঁচল দিয়ে কপালের ঘাম মোছে। এই সময়টাতে তাকে দেখতে খুব ভাল লাগে আমার।<br />
খুব বেশি দিন হয়নি আমাদের বিয়ে হয়েছে। মাত্র দু’বছর হোল। ছোট খাট একটা চাকরি করি আমি, দুনিয়ায় আপন বলতে কেউ নেই। এদিকে অনিতাও তার বাবা মায়ের এক মাত্র মেয়ে। তাই বিয়ের পর থেকে দুজনে অনিতার বাবার বাড়িতেই থাকছি। একা থাকার চেয়ে মানুষের মাঝে থাকতে আমার বেশি ভালো লাগে। যদিও লোকজন আড়ালে ‘ঘরজামাই’ বলে টিটকারি করে। আমি আমলে নেই না। লোকে যা বলে বলুক, আমার কিছু যায় আসে না। এখানে আমি সত্যিই খুব ভাল আছি।<br />
অনিতা মেয়েকে কোলের উপর বসিয়ে খিচুড়ি খাওয়াচ্ছে। হাতের মুঠোতে ছোট লোকমা বানিয়ে মেয়ের মুখের সামনে তুলে বলছে, “হা কর তো মামনি। এই যে দেখ কত মজা খেতে। খাও খাও”।<br />
রিশিতা খেতে চাচ্ছে না। তার ছোট ছোট হাত ছুঁড়ে অনিতার হাত সরিয়ে দিতে চেষ্টা করছে।<br />
অনিতা প্রায় জোর করে মেয়ের মুখে খিচুড়ির লোকমা ঢুকিয়ে দিল। রিশিতার চেহারা দেখে মনে হচ্ছে যেন চিরতার পানি খাচ্ছে। বহু কষ্টে সে খিচুড়ি গিলছে। তাই দেখে আমার খুব হাসি পেল। ভারী পাজি হয়েছে আমার মেয়েটা! অল্প বয়সে পাকনামো!<br />
আরেক লোকমা হাতে নিয়ে রিশিতার মুখের সামনে ধরল অনিতা। রিশিতা আবার ফিরিয়ে দিচ্ছে হাত। খাবে না আর।<br />
অনিতা জোর করল, “এই যে মামনি। খাও খাও। মুখ হা কর”।<br />
রিশিতা তো কিছুতেই খাবে না! অতটুকুন মেয়ে কি জোরে মাথা নাড়ছে! আহারে!<br />
অনিতা আবারো জোর করে তার মুখে খিচুড়ির লোকমা ঢুকিয়ে দিল।<br />
তারপর যা ঘটে গেল তার জন্য আমরা কেউ প্রস্তুত ছিলাম না!<br />
রিশিতা “থু” করে মুখ থেকে খিচুড়ি ফেলে দিলো।<br />
তারপর চিৎকার করে বলল, “রক্ত... রক্ত খাব...”<br />
এক মুহূর্তের জন্য পাথর হয়ে গেল অনিতা। এটা ছিলো রিশিতার মুখের প্রথম শব্দ- ‘মা’ নয়, ‘বাবা’ নয়! “রক্ত”!<br />
হাত থেকে খিচুড়ির প্লেট ফেলে দিল অনিতা। আতংকে মনে হচ্ছে তার চোখদুটো কোটর ছেড়ে বেরিয়ে আসবে! মেয়েকে এক পাশে ঝটকা দিয়ে ফেলে উঠে দাঁড়ালো সে। চিৎকার করে ডাকলো, “মাআআআআ! ও মাআআআ!”<br />
পাশের ঘর থেকে হন্ত দন্ত হয়ে ছুটে এলেন আমার শাশুড়ি। “কিরে? কি হয়েছে?”<br />
অনিতা ভয়ার্ত গলায় বলল, “তোমার নাতনি কি বলছে!<br />
সে নাকি রক্ত খাবে! এ কোন পিশাচ জন্ম দিলাম আমি?”<br />
শাশুড়ি হতবাক চোখে রিশিতার দিকে তাকালেন। রিশিতা আপন মনে হাতের পুতুল নিয়ে খেলছে। তিনি বললেন, “পাগল হয়েছিস তুই? দুধের শিশু! কথাই বলতে পারে না! সে খেতে চাইবে রক্ত?”<br />
“বিশ্বাস কর মা। আমি নিজ কানে শুনেছি এই মাত্র”।<br />
“তুই শুনতে ভুল করেছিস”<br />
অনিতা আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “এই তুমি কিছু বলছো না কেন? তুমি শুনেছো না রিশিতা কি বলেছে?”<br />
আমি কিছু বলছি না। কপালে দুশ্চিন্তার ভাজ! সবার ধারণাই ঠিক- রিশিতা আসলেই পুরোপুরি তার বাবার মত হয়েছে!<br />
মেয়েকে নিয়ে আজ রাতেই বাড়ি ছেড়ে পালাতে হবে। নাহ! মানুষের ছদ্মবেশে আর থাকা গেলো না....!!]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[ভৌতিক কিছু গুরুত্বপূর্ন তথ্য দিলাম]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=3278</link>
			<pubDate>Tue, 02 Jan 2018 06:26:25 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=3278</guid>
			<description><![CDATA[১। রাতে একা একা হাটলে যদি বুঝতে<br />
পারেন পিছে কেউ আছে, তাইলে শুধু<br />
ঘাড় ঘুরাবেন না। পুরো শরীর ঘুরিয়ে<br />
দেখবেন। ঘাড়<br />
ঘুরালে মটকে দেবার সম্ভাবনা<br />
আছে।<br />
<br />
২। বিছানার ওপর সাপ দেখতে পেলে<br />
আগেই মারবেন না, আপনার ক্ষতি<br />
হতে পারে। আগে চলে যেতে বলবেন।<br />
কারন জিন সাপের রুপ ধারন করে।<br />
মারামারি করতে গিয়ে আপনি<br />
মারাও যেতে পারেন, কারন এক<br />
সাহাবি এই সাপের রুপ ওয়ালা<br />
জিনের সাথে মারামারি করতে<br />
গিয়ে মারা গিয়েছিল। আর যদি চলে<br />
না যায়, তবে বুঝবেন আসলেই ওটা<br />
সাপ, তখন মারবেন বা তাড়িয়ে<br />
দিবেন।<br />
<br />
৩। যদি রাতে দেখেন গাছের কোন<br />
ডাল বা বাঁশ ঝুকিয়ে পরেছে তবে<br />
তার ওপর দিয়ে যাবেন না।<br />
আয়াতুল কুরসি পড়বেন। তাইলে<br />
দেখবেন আবার ঠিক হয়ে গেছে, তখন<br />
যাবেন।<br />
<br />
৪। শুধু গভির রাতে যদি যেকেউ<br />
বাহির থেকে আপনার নাম ধরে<br />
ডাকলে সাড়া দিবেন না। ৩ বার<br />
ডাকার পর সাড়া দিবেন।<br />
<br />
৫। গাছে যদি কিছু বসা দেখতে<br />
পারেন তাইলে তার দিকে তাকিয়ে<br />
থাকবেন না। চুপ করে মাটির দিকে<br />
তাকিয়ে চলে যাবেন।<br />
<br />
৬। যদি একা রাতে আপনার রুমে এসে<br />
দেখেন আপনিই রুমে বসে আছেন।<br />
মানে নিজেকে নিজেই দেখতে<br />
পারেন, তাইলে ভয় পাবেন না। ওটা<br />
আপনার সাথে থাকা জিন। (কারিন<br />
জিন)। শুধু চোখ বন্ধ করে আয়াতুল<br />
কুরসি পড়বেন ও তারপর চোখ খুলবেন।<br />
<br />
৭। রাতে কখনো চিত হয়ে ঘুমাবেন<br />
না। আর যদি ভয়ের স্বপ্ন দেখেন,<br />
তাইলে উঠে বুকের বাম পাশে আস্তে<br />
আস্তে করে ৩ বার থুতু দিবেন। -<br />
বুখারি শরিফ<br />
<br />
৮। পুকুরে গোছল করলে যদি বুঝতে<br />
পারেন কেউ আপনার পা ধরে<br />
টানিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তবে প্রথমে<br />
চিৎকার দিবেন। ও সাথে সাথে<br />
দোয়া ইউনুস পড়া শুরু করবেন। কারন<br />
পুকুরে বা নদী তে জিন থাকে।<br />
<br />
৯। যদি রাতের বেলা একা একা<br />
দেখতে পারেন কুকুর আপনার কাছে<br />
আক্রমণ করতে আসছে আর কুকুর টা কে<br />
যদি অস্বাভাবিক মনে হয়, তাইলে<br />
যথাক্রমে মাটিতে একটা সারকেল<br />
আঁকাবেন ও ওই সারকেলের ভিতর<br />
দাঁড়িয়ে আয়াতুল কুরসি পড়বেন।<br />
<br />
১০। যদি দেখেন আপনি রাতের বেলা<br />
তে পথ ভুলিয়ে যাচ্ছেন বা একই পথে<br />
বার বার ফিরিয়ে আসছেন বা অনেক<br />
দূর যাওয়া পরও গন্তব্যে পৌছাতে<br />
পারছেন না, তবে আজান দিবেন।<br />
তাইলে সব ঠিক হয়ে যাবে। গয়রান<br />
নামক জিন আপনাকে এই ধকায়<br />
ফেলাইছে।<br />
<br />
১১। রাতে ঘুমের মধ্যে যদি বুঝতে<br />
পারেন আপনার বুকে কেউ ভর করে<br />
আছে। তবে চিৎকার দিবেন না।<br />
চিৎকার দিলে কোন লাভ হবে না,<br />
কারন আপনার চিৎকার মুখ দিয়ে বের<br />
হবে না। আপনার যানা যেকোনো<br />
সুরা পাঠ করবেন।<br />
<br />
১২। মরা মানুষের আত্মা যদি দেখতে<br />
পারেন তাইলে ভয় পাবেন না। ওটা<br />
আত্মা নয়। জিন ওই মরা মানুষের রুপ<br />
ধারন করেছে। শুধু সালাম দিয়ে চলে<br />
যাবেন।<br />
<br />
১৩। গভীর রাতে একা রাস্তায়<br />
হাঁটার<br />
সময় যদি দেখেন কালো কুকুর বা<br />
কালো বিড়াল আপনার বামপাশ<br />
থেকে আপনাকে ক্রস করার চেষ্টা<br />
করছে তবে ক্রস করতে দিন। কোন<br />
সমস্যা নেই। এটা সমাজের<br />
কুসংস্কার। তবে তাকে মারবেন না।<br />
<br />
১৪। অনেকেই বলে কবরস্থান একটা<br />
পবিত্র স্থান। কথা টি ঠিক তবে<br />
কবরস্থানে ঘুল নামক জিন থাকে।<br />
তাই পবিত্র স্থান হলেও সর্তকের<br />
সাথে চলবেন।<br />
<br />
১৫। আয়নার মধ্যে জিন প্রবেশ করতে<br />
পারে। তাই গভির রাতে আয়না না<br />
দেখাই ভাল। আর আয়না তে সবসময়<br />
পদ্যা দিয়ে রাখবেন। বাথরুমে আয়না<br />
না রাখাই ভাল কারন বাথরুমে<br />
খান্নাস নামক জিন থাকে, যদিও<br />
দুর্বল জিন। আর আয়নার সামনে গিয়ে<br />
এই দোয়া পাঠ করবেন "আল্লাহুম্মা<br />
হাসানতা খালকি ওয়া আহাসিন<br />
খুলুকি"<br />
<br />
১৬। বাসার ছাদের ওপর জিন বসবাস<br />
করে, তাই গভির রাতে একলা ছাদে<br />
যাইবেন না। গেলে কাউকে সাথে<br />
নিয়ে যাবেন<br />
<br />
১৭। যদি আপনি একা একা কোন<br />
মিস্টি বা পিঠা জাতিও কিছু খেতে<br />
থাকেন ও দেখলেন যে কোন বিড়াল<br />
আপনাকে ডিস্টার্ব করছে তবে<br />
তাকেও খেতে দিন। কখনোই<br />
তাড়িয়ে দিবেন না বা মারবেন না।<br />
কারন কোন সময় জিনও আকৃতি ধারন<br />
করে আসে, ও মিস্টি জাতিও জিনিস<br />
তাদের প্রিয় খাবার।<br />
<br />
১৮। অতিরিক্ত রাগ করবেন না।<br />
আমাদের মাঝে মধ্যে রাগ এতোটাই<br />
বেড়ে যায় যে মুখ দিয়ে কথা আটকে<br />
আটকে যায়। এই রাগের কারনে জিন<br />
আপনার শরিরে প্রবেশ করতে পারে।<br />
তাই রাগ হলে বসে পরবেন, বা বসে<br />
থাকবে দাঁড়িয়ে যাবেন। তাইলে<br />
জিন প্রবেশ করতে পারবে না।<br />
<br />
১৯। মাগরীবের সময়, রাত ২/৩ টা ও<br />
আমাবস্যার সময় জিন দের প্রভাব<br />
বেশি থাকে। তাই এই সময় সর্তক<br />
থাকবেন। ছোট বাচ্চাদের নিরাপদে<br />
রাখবেন ও মাগরীবের সময়<br />
বিসমিল্লা বলে ঘরের দরজা বন্ধ<br />
করে দিবেন।<br />
<br />
২০। প্রতিনিয়ত যদি ভয়ের স্বপ্ন<br />
দেখেন ও প্রতিনিয়ত দেখেন যে ওপর<br />
থেকে নিচে পরে যাচ্ছেন তাইলে<br />
আপনি ব্ল্যাক ম্যাজিকে আক্রান্ত।<br />
<br />
( ভল লাগলে লাইক দিবেন )]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[১। রাতে একা একা হাটলে যদি বুঝতে<br />
পারেন পিছে কেউ আছে, তাইলে শুধু<br />
ঘাড় ঘুরাবেন না। পুরো শরীর ঘুরিয়ে<br />
দেখবেন। ঘাড়<br />
ঘুরালে মটকে দেবার সম্ভাবনা<br />
আছে।<br />
<br />
২। বিছানার ওপর সাপ দেখতে পেলে<br />
আগেই মারবেন না, আপনার ক্ষতি<br />
হতে পারে। আগে চলে যেতে বলবেন।<br />
কারন জিন সাপের রুপ ধারন করে।<br />
মারামারি করতে গিয়ে আপনি<br />
মারাও যেতে পারেন, কারন এক<br />
সাহাবি এই সাপের রুপ ওয়ালা<br />
জিনের সাথে মারামারি করতে<br />
গিয়ে মারা গিয়েছিল। আর যদি চলে<br />
না যায়, তবে বুঝবেন আসলেই ওটা<br />
সাপ, তখন মারবেন বা তাড়িয়ে<br />
দিবেন।<br />
<br />
৩। যদি রাতে দেখেন গাছের কোন<br />
ডাল বা বাঁশ ঝুকিয়ে পরেছে তবে<br />
তার ওপর দিয়ে যাবেন না।<br />
আয়াতুল কুরসি পড়বেন। তাইলে<br />
দেখবেন আবার ঠিক হয়ে গেছে, তখন<br />
যাবেন।<br />
<br />
৪। শুধু গভির রাতে যদি যেকেউ<br />
বাহির থেকে আপনার নাম ধরে<br />
ডাকলে সাড়া দিবেন না। ৩ বার<br />
ডাকার পর সাড়া দিবেন।<br />
<br />
৫। গাছে যদি কিছু বসা দেখতে<br />
পারেন তাইলে তার দিকে তাকিয়ে<br />
থাকবেন না। চুপ করে মাটির দিকে<br />
তাকিয়ে চলে যাবেন।<br />
<br />
৬। যদি একা রাতে আপনার রুমে এসে<br />
দেখেন আপনিই রুমে বসে আছেন।<br />
মানে নিজেকে নিজেই দেখতে<br />
পারেন, তাইলে ভয় পাবেন না। ওটা<br />
আপনার সাথে থাকা জিন। (কারিন<br />
জিন)। শুধু চোখ বন্ধ করে আয়াতুল<br />
কুরসি পড়বেন ও তারপর চোখ খুলবেন।<br />
<br />
৭। রাতে কখনো চিত হয়ে ঘুমাবেন<br />
না। আর যদি ভয়ের স্বপ্ন দেখেন,<br />
তাইলে উঠে বুকের বাম পাশে আস্তে<br />
আস্তে করে ৩ বার থুতু দিবেন। -<br />
বুখারি শরিফ<br />
<br />
৮। পুকুরে গোছল করলে যদি বুঝতে<br />
পারেন কেউ আপনার পা ধরে<br />
টানিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তবে প্রথমে<br />
চিৎকার দিবেন। ও সাথে সাথে<br />
দোয়া ইউনুস পড়া শুরু করবেন। কারন<br />
পুকুরে বা নদী তে জিন থাকে।<br />
<br />
৯। যদি রাতের বেলা একা একা<br />
দেখতে পারেন কুকুর আপনার কাছে<br />
আক্রমণ করতে আসছে আর কুকুর টা কে<br />
যদি অস্বাভাবিক মনে হয়, তাইলে<br />
যথাক্রমে মাটিতে একটা সারকেল<br />
আঁকাবেন ও ওই সারকেলের ভিতর<br />
দাঁড়িয়ে আয়াতুল কুরসি পড়বেন।<br />
<br />
১০। যদি দেখেন আপনি রাতের বেলা<br />
তে পথ ভুলিয়ে যাচ্ছেন বা একই পথে<br />
বার বার ফিরিয়ে আসছেন বা অনেক<br />
দূর যাওয়া পরও গন্তব্যে পৌছাতে<br />
পারছেন না, তবে আজান দিবেন।<br />
তাইলে সব ঠিক হয়ে যাবে। গয়রান<br />
নামক জিন আপনাকে এই ধকায়<br />
ফেলাইছে।<br />
<br />
১১। রাতে ঘুমের মধ্যে যদি বুঝতে<br />
পারেন আপনার বুকে কেউ ভর করে<br />
আছে। তবে চিৎকার দিবেন না।<br />
চিৎকার দিলে কোন লাভ হবে না,<br />
কারন আপনার চিৎকার মুখ দিয়ে বের<br />
হবে না। আপনার যানা যেকোনো<br />
সুরা পাঠ করবেন।<br />
<br />
১২। মরা মানুষের আত্মা যদি দেখতে<br />
পারেন তাইলে ভয় পাবেন না। ওটা<br />
আত্মা নয়। জিন ওই মরা মানুষের রুপ<br />
ধারন করেছে। শুধু সালাম দিয়ে চলে<br />
যাবেন।<br />
<br />
১৩। গভীর রাতে একা রাস্তায়<br />
হাঁটার<br />
সময় যদি দেখেন কালো কুকুর বা<br />
কালো বিড়াল আপনার বামপাশ<br />
থেকে আপনাকে ক্রস করার চেষ্টা<br />
করছে তবে ক্রস করতে দিন। কোন<br />
সমস্যা নেই। এটা সমাজের<br />
কুসংস্কার। তবে তাকে মারবেন না।<br />
<br />
১৪। অনেকেই বলে কবরস্থান একটা<br />
পবিত্র স্থান। কথা টি ঠিক তবে<br />
কবরস্থানে ঘুল নামক জিন থাকে।<br />
তাই পবিত্র স্থান হলেও সর্তকের<br />
সাথে চলবেন।<br />
<br />
১৫। আয়নার মধ্যে জিন প্রবেশ করতে<br />
পারে। তাই গভির রাতে আয়না না<br />
দেখাই ভাল। আর আয়না তে সবসময়<br />
পদ্যা দিয়ে রাখবেন। বাথরুমে আয়না<br />
না রাখাই ভাল কারন বাথরুমে<br />
খান্নাস নামক জিন থাকে, যদিও<br />
দুর্বল জিন। আর আয়নার সামনে গিয়ে<br />
এই দোয়া পাঠ করবেন "আল্লাহুম্মা<br />
হাসানতা খালকি ওয়া আহাসিন<br />
খুলুকি"<br />
<br />
১৬। বাসার ছাদের ওপর জিন বসবাস<br />
করে, তাই গভির রাতে একলা ছাদে<br />
যাইবেন না। গেলে কাউকে সাথে<br />
নিয়ে যাবেন<br />
<br />
১৭। যদি আপনি একা একা কোন<br />
মিস্টি বা পিঠা জাতিও কিছু খেতে<br />
থাকেন ও দেখলেন যে কোন বিড়াল<br />
আপনাকে ডিস্টার্ব করছে তবে<br />
তাকেও খেতে দিন। কখনোই<br />
তাড়িয়ে দিবেন না বা মারবেন না।<br />
কারন কোন সময় জিনও আকৃতি ধারন<br />
করে আসে, ও মিস্টি জাতিও জিনিস<br />
তাদের প্রিয় খাবার।<br />
<br />
১৮। অতিরিক্ত রাগ করবেন না।<br />
আমাদের মাঝে মধ্যে রাগ এতোটাই<br />
বেড়ে যায় যে মুখ দিয়ে কথা আটকে<br />
আটকে যায়। এই রাগের কারনে জিন<br />
আপনার শরিরে প্রবেশ করতে পারে।<br />
তাই রাগ হলে বসে পরবেন, বা বসে<br />
থাকবে দাঁড়িয়ে যাবেন। তাইলে<br />
জিন প্রবেশ করতে পারবে না।<br />
<br />
১৯। মাগরীবের সময়, রাত ২/৩ টা ও<br />
আমাবস্যার সময় জিন দের প্রভাব<br />
বেশি থাকে। তাই এই সময় সর্তক<br />
থাকবেন। ছোট বাচ্চাদের নিরাপদে<br />
রাখবেন ও মাগরীবের সময়<br />
বিসমিল্লা বলে ঘরের দরজা বন্ধ<br />
করে দিবেন।<br />
<br />
২০। প্রতিনিয়ত যদি ভয়ের স্বপ্ন<br />
দেখেন ও প্রতিনিয়ত দেখেন যে ওপর<br />
থেকে নিচে পরে যাচ্ছেন তাইলে<br />
আপনি ব্ল্যাক ম্যাজিকে আক্রান্ত।<br />
<br />
( ভল লাগলে লাইক দিবেন )]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[রক্তখেকো (ভুতের গল্প)]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=3277</link>
			<pubDate>Tue, 02 Jan 2018 06:23:41 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=3277</guid>
			<description><![CDATA[এই মেয়েটা দেখার পরও যখন কালামের পছন্দ হইলোনা। তখন সবাই ধরে নিল এই জীবনে কালামের আর বিয়াই হইবোনা। গ্রামের সবাই কালামকে একটু-আধটু টিপ্পনিও কাটে। কিন্তু একদিন হঠাৎ করে সবাইকে অবাক করে দিয়ে কালাম বিয়ে করে ফেলল। যেমন তেমন মেয়ে নয়, এক অপরুপ সুন্দরী। গ্রামে কালামের বউ নিয়া ব্যাপক আলোচনা। কালামের বউয়ের আবার অনেক গুণ আছে। যেমন শশুর-শাশুরীর যত্ন, ভাল রান্না-বান্না, স্বামী সেবা আরও কত কি? বউ নিয়া কালামের দিন সুখেই কাটছিল।<br />
এরমাঝে একদিন সকালে খবর বের হলো জমিরের ষাড় গরু দুইটির ঘাড়ভাঙ্গা অবস্থায় গোয়াইল ঘরে [গরু রাখার ঘর] পরে আছে। গ্রামের সবলোক জমিরের বাড়িতে হাজির। কেউ কেউ বলতে লাগল ভূত এসে ঘাড় ভেঙ্গে দিয়ে গেছে, কেউবা বলতে লাগল এটা রাক্ষসের ঘটনা। রাক্ষস এসে ঘাড় ভেঙ্গে রক্ত চুষে খেয়েছে। কেউ কেউ ঘটনাটাকে পাত্তা না দিয়ে বলছে ষাড়ে ষাড়ে লড়াই করে মারা গেছে। তাদের যুক্তিও ছিল - দুইটি ষাড়েরই শিং ভাঙ্গা।<br />
কিন্তু পরের দিন যখন একই ভাবে ফিরোজ চাচারও গরু মরে গেল। তখন সবার ভিতর একটা অজানা আশংকা সৃষ্টি হইলো। গ্রামের মুসল্লিরা মসজিদে মসজিদে দোয়া, হিন্দুরা মন্দিরে পূজা শুরু করল। কিন্তু সবকিছু অসার প্রমান করে এবার সুবলের একমাত্র সম্বল গাই-বাছুরেরও একই অবস্থা। সুবলের আহাজারিতে গ্রামের সমস্ত মানুষও কান্দে।<br />
এরমাঝে এক বিশাল ঘটনা ঘটলো আবু মিয়া বাজার থেকে আসার সময় নাকি শশানঘাটের কাছটায় যে তেতুলগাছটা আছে, সেখানে দেখলো এক ইয়া বড় ভূত। কি লম্বা দাঁত। তারদিকেই নাকি তেরে আসছিলো। হাতের ভিতর যে মাছটা ঝোলানো ছিল সেটা নাকি ঐ ভূতের সামনে ছুড়ে মেরে রক্ষা। এইগ্রাম-সেইগ্রাম করে এ ঘটনা প্রায় দশগ্রাম ছড়িয়ে পড়লো।<br />
কালামের বউতো কালামরে একা একা ছাড়তেই চায় না। রাত্রে কালাম বাথরুমেও যেতে চাইলে তার বৌ গিয়া তার পাশে দাড়িয়ে থাকে। আবার তার বৌ যখন বাথরুমে যায় তখন কালামরে বলে তুমি আমার স্বামী, তুমার কিছু হইয়া গেলে আমি বাচুমনা। তুমি শুইয়া থাক, তোমার বাইরে যাওয়া লাগবোনা। কালামের আবার কিছুটা ঘুমরোগ আছে। শুয়ে পড়লেই ঘুমিয়ে যায়। কালামতো বউয়ের ভালবাসা দেখে আল্লাহর কাছে বউয়ের ভালো চেয়ে দোয়া করে।<br />
অনেক পাহারা সত্বেও আশে-পাশের সব গ্রামের গরুকেই একইভাবে মরে যেতে হচ্ছে। গ্রামের বয়ো-বৃদ্ধদের কেউ কেউ কলিযুগের কথাও স্মরণ করতে লাগল। এইদিকে একদিন কালাম মাঝরাত্রে বউকে বিছানায় না দেখে অবাক। ভাবলো হয়তো বাইরে গেছে। কিন্তু আধঘন্টারও বেশী সময়েও যখন বউ ঘরে ফিরলোনা তখন কালাম চুপিসারে গিয়ে বাথরুমের দরজায় দাক্কা দিলো। দেখে কেউ নাই। কালামের মনে গভীর আশংকা সৃষ্টি হলো। কিন্তু ভয়ে বেশীক্ষণ বাইরে না থেকে ঘরে চলে গেল। কিছুক্ষণের মাঝেই তার বউ ঘরে হাজির। কালাম জিজ্ঞাসা করলো কোথায় গেছিলা?তখন তার বউ তাকে জড়িয়ে বললো এইতো একটু বাথরুমে গেছিলাম। পুরান আমাশয়টা খুব ভুগাচ্ছে। কালামের মনের মাঝে সন্দেহ হইলো। পরেররাত্রে সে সাথে মরিচ নিয়া শুইলো। একটু পর পর সে চোখের মাঝে মরিচ দেয় যাতে ঘুম এসে কাবু করতে না পারে। গভীর রাত্রে কালামের বউ বের হয়ে গেলো। ঘন্টা তিনেক পরে সে আবার ঘরে ফিরে আসলো।<br />
আশে-পাশের দশ গেরামের সব গরু শেষ। শুধু কালামদের গরুগুলোর এখনও কিছু হয়নাই। কালাম তার বউকে বললো আমার বন্ধুর মা খুব অসুস্থ আমি আজকে সন্ধায় তাদের বাড়িতে যাবো। কালকে চলে আসবো। যাবার বেলা বউ বলল আমার তুমার জন্য খুব খারাপ লাগবে। সাবধানে থেকো ইত্যাদি।<br />
গভীর রাত। কালামের বউ আস্তে আস্তে দরজাটা খুলে কালামদের গোয়াইল ঘরে ঢুকলো। কিছুক্ষণের মাঝেই তার চেহারাটা একটা রাক্ষসীর রুপ নিলো। ইয়া বড় দাঁত, নখ। কি বিশ্রী চেহারা........ কালাম দেখে ভয় পেয়ে গেলো। তারপরও সে গোয়াইল ঘরের উপরে যে মাচাটা আছে সেখানে চুপ করে বসে থাকলো। কালামের বউ একে একে সব গরুর ঘাড় ভেঙ্গে রক্তচুষে খেয়ে ফেললো। কিছুক্ষণ পর আবার আগের রুপে ঘরে চলে গেল।<br />
কালাম ঐ যায়গা থেকে নেমে গ্রামের সবাইকে এই ঘটনা খুলে বললো। গ্রামের সবাইতো অবাক। এখন কি করা যায়? এই ভেবে সবাই অস্থির। এর মাঝে একবৃদ্ধ বললো বড় একটা কুয়া খুড়তে। তারপর সবাই বলবে যে দেশে অনেকবড় ঘূর্ণিঝড় হবে সবাইকে এই কোয়ায় আশ্রয় নিবে। তারপর কালামরাও ঐ জায়গায় যাবে এবং কালাম তার বৌকে ঐ কোয়ায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিবে। তারপর সবাই মিলে মাটিচাপা দিয়ে দিবে।<br />
দুপুর বেলা পুরো গ্রামে ছড়িয়ে গেলো বিরাট ঘূর্ণিঝড় হবে সবাইকে ঐ কুয়ার কাছে আশ্রয় নিতে হবে। যারা আগে আসবে তারাই ঐ কুয়ায় আশ্রয় নিতে পারবে। এই কথা শুনে কালামের বউ তারাতারি রেডি হয়ে গেলো। কালাম বাসায় আসার সাথে সাথেই তার বউ তাকে সব খুলে বললো এবং তারাতারি যেতে বললো। কালাম তার বউ নিয়া সেই কুয়ার কাছে ছুটলো। এইদিকে কালামের বউ ভাবলো তাকে সবার আগে ঐ কুয়ায় আশ্রয় নিতে হবে।তাই সে সবার আগে ঐ কুয়ায় লাফ দিলো। গ্রামের সবাই মিলে তারাতারি ঐ কুয়া মাটি দিয়া ভরে ফেললো।<br />
এখনো ঐ শান্ত গ্রামে মাঝেই মাঝেই মাটি কেপে উঠে। গ্রামের সবার ধারনা ঐ রাক্ষসীই মাটির নিচ থেকে উঠার জন্য মাঝে মাঝে চেষ্টা করে বলে এভাবে মাটি কেপে উঠে।<br />
<br />
( ভাল লাগলে লাইক দিবেন )]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[এই মেয়েটা দেখার পরও যখন কালামের পছন্দ হইলোনা। তখন সবাই ধরে নিল এই জীবনে কালামের আর বিয়াই হইবোনা। গ্রামের সবাই কালামকে একটু-আধটু টিপ্পনিও কাটে। কিন্তু একদিন হঠাৎ করে সবাইকে অবাক করে দিয়ে কালাম বিয়ে করে ফেলল। যেমন তেমন মেয়ে নয়, এক অপরুপ সুন্দরী। গ্রামে কালামের বউ নিয়া ব্যাপক আলোচনা। কালামের বউয়ের আবার অনেক গুণ আছে। যেমন শশুর-শাশুরীর যত্ন, ভাল রান্না-বান্না, স্বামী সেবা আরও কত কি? বউ নিয়া কালামের দিন সুখেই কাটছিল।<br />
এরমাঝে একদিন সকালে খবর বের হলো জমিরের ষাড় গরু দুইটির ঘাড়ভাঙ্গা অবস্থায় গোয়াইল ঘরে [গরু রাখার ঘর] পরে আছে। গ্রামের সবলোক জমিরের বাড়িতে হাজির। কেউ কেউ বলতে লাগল ভূত এসে ঘাড় ভেঙ্গে দিয়ে গেছে, কেউবা বলতে লাগল এটা রাক্ষসের ঘটনা। রাক্ষস এসে ঘাড় ভেঙ্গে রক্ত চুষে খেয়েছে। কেউ কেউ ঘটনাটাকে পাত্তা না দিয়ে বলছে ষাড়ে ষাড়ে লড়াই করে মারা গেছে। তাদের যুক্তিও ছিল - দুইটি ষাড়েরই শিং ভাঙ্গা।<br />
কিন্তু পরের দিন যখন একই ভাবে ফিরোজ চাচারও গরু মরে গেল। তখন সবার ভিতর একটা অজানা আশংকা সৃষ্টি হইলো। গ্রামের মুসল্লিরা মসজিদে মসজিদে দোয়া, হিন্দুরা মন্দিরে পূজা শুরু করল। কিন্তু সবকিছু অসার প্রমান করে এবার সুবলের একমাত্র সম্বল গাই-বাছুরেরও একই অবস্থা। সুবলের আহাজারিতে গ্রামের সমস্ত মানুষও কান্দে।<br />
এরমাঝে এক বিশাল ঘটনা ঘটলো আবু মিয়া বাজার থেকে আসার সময় নাকি শশানঘাটের কাছটায় যে তেতুলগাছটা আছে, সেখানে দেখলো এক ইয়া বড় ভূত। কি লম্বা দাঁত। তারদিকেই নাকি তেরে আসছিলো। হাতের ভিতর যে মাছটা ঝোলানো ছিল সেটা নাকি ঐ ভূতের সামনে ছুড়ে মেরে রক্ষা। এইগ্রাম-সেইগ্রাম করে এ ঘটনা প্রায় দশগ্রাম ছড়িয়ে পড়লো।<br />
কালামের বউতো কালামরে একা একা ছাড়তেই চায় না। রাত্রে কালাম বাথরুমেও যেতে চাইলে তার বৌ গিয়া তার পাশে দাড়িয়ে থাকে। আবার তার বৌ যখন বাথরুমে যায় তখন কালামরে বলে তুমি আমার স্বামী, তুমার কিছু হইয়া গেলে আমি বাচুমনা। তুমি শুইয়া থাক, তোমার বাইরে যাওয়া লাগবোনা। কালামের আবার কিছুটা ঘুমরোগ আছে। শুয়ে পড়লেই ঘুমিয়ে যায়। কালামতো বউয়ের ভালবাসা দেখে আল্লাহর কাছে বউয়ের ভালো চেয়ে দোয়া করে।<br />
অনেক পাহারা সত্বেও আশে-পাশের সব গ্রামের গরুকেই একইভাবে মরে যেতে হচ্ছে। গ্রামের বয়ো-বৃদ্ধদের কেউ কেউ কলিযুগের কথাও স্মরণ করতে লাগল। এইদিকে একদিন কালাম মাঝরাত্রে বউকে বিছানায় না দেখে অবাক। ভাবলো হয়তো বাইরে গেছে। কিন্তু আধঘন্টারও বেশী সময়েও যখন বউ ঘরে ফিরলোনা তখন কালাম চুপিসারে গিয়ে বাথরুমের দরজায় দাক্কা দিলো। দেখে কেউ নাই। কালামের মনে গভীর আশংকা সৃষ্টি হলো। কিন্তু ভয়ে বেশীক্ষণ বাইরে না থেকে ঘরে চলে গেল। কিছুক্ষণের মাঝেই তার বউ ঘরে হাজির। কালাম জিজ্ঞাসা করলো কোথায় গেছিলা?তখন তার বউ তাকে জড়িয়ে বললো এইতো একটু বাথরুমে গেছিলাম। পুরান আমাশয়টা খুব ভুগাচ্ছে। কালামের মনের মাঝে সন্দেহ হইলো। পরেররাত্রে সে সাথে মরিচ নিয়া শুইলো। একটু পর পর সে চোখের মাঝে মরিচ দেয় যাতে ঘুম এসে কাবু করতে না পারে। গভীর রাত্রে কালামের বউ বের হয়ে গেলো। ঘন্টা তিনেক পরে সে আবার ঘরে ফিরে আসলো।<br />
আশে-পাশের দশ গেরামের সব গরু শেষ। শুধু কালামদের গরুগুলোর এখনও কিছু হয়নাই। কালাম তার বউকে বললো আমার বন্ধুর মা খুব অসুস্থ আমি আজকে সন্ধায় তাদের বাড়িতে যাবো। কালকে চলে আসবো। যাবার বেলা বউ বলল আমার তুমার জন্য খুব খারাপ লাগবে। সাবধানে থেকো ইত্যাদি।<br />
গভীর রাত। কালামের বউ আস্তে আস্তে দরজাটা খুলে কালামদের গোয়াইল ঘরে ঢুকলো। কিছুক্ষণের মাঝেই তার চেহারাটা একটা রাক্ষসীর রুপ নিলো। ইয়া বড় দাঁত, নখ। কি বিশ্রী চেহারা........ কালাম দেখে ভয় পেয়ে গেলো। তারপরও সে গোয়াইল ঘরের উপরে যে মাচাটা আছে সেখানে চুপ করে বসে থাকলো। কালামের বউ একে একে সব গরুর ঘাড় ভেঙ্গে রক্তচুষে খেয়ে ফেললো। কিছুক্ষণ পর আবার আগের রুপে ঘরে চলে গেল।<br />
কালাম ঐ যায়গা থেকে নেমে গ্রামের সবাইকে এই ঘটনা খুলে বললো। গ্রামের সবাইতো অবাক। এখন কি করা যায়? এই ভেবে সবাই অস্থির। এর মাঝে একবৃদ্ধ বললো বড় একটা কুয়া খুড়তে। তারপর সবাই বলবে যে দেশে অনেকবড় ঘূর্ণিঝড় হবে সবাইকে এই কোয়ায় আশ্রয় নিবে। তারপর কালামরাও ঐ জায়গায় যাবে এবং কালাম তার বৌকে ঐ কোয়ায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিবে। তারপর সবাই মিলে মাটিচাপা দিয়ে দিবে।<br />
দুপুর বেলা পুরো গ্রামে ছড়িয়ে গেলো বিরাট ঘূর্ণিঝড় হবে সবাইকে ঐ কুয়ার কাছে আশ্রয় নিতে হবে। যারা আগে আসবে তারাই ঐ কুয়ায় আশ্রয় নিতে পারবে। এই কথা শুনে কালামের বউ তারাতারি রেডি হয়ে গেলো। কালাম বাসায় আসার সাথে সাথেই তার বউ তাকে সব খুলে বললো এবং তারাতারি যেতে বললো। কালাম তার বউ নিয়া সেই কুয়ার কাছে ছুটলো। এইদিকে কালামের বউ ভাবলো তাকে সবার আগে ঐ কুয়ায় আশ্রয় নিতে হবে।তাই সে সবার আগে ঐ কুয়ায় লাফ দিলো। গ্রামের সবাই মিলে তারাতারি ঐ কুয়া মাটি দিয়া ভরে ফেললো।<br />
এখনো ঐ শান্ত গ্রামে মাঝেই মাঝেই মাটি কেপে উঠে। গ্রামের সবার ধারনা ঐ রাক্ষসীই মাটির নিচ থেকে উঠার জন্য মাঝে মাঝে চেষ্টা করে বলে এভাবে মাটি কেপে উঠে।<br />
<br />
( ভাল লাগলে লাইক দিবেন )]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[ভুতের গল্পঃ নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=3276</link>
			<pubDate>Tue, 02 Jan 2018 06:21:20 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=3276</guid>
			<description><![CDATA[ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার। যেখানে আমার বন্ধু আতিকের বাড়ি। বলতে পারেন স্থানীয় বাড়ি। আর ঘটনাটি গত বছর জানুয়ারি মাসের আতিকের বড় ভাইয়ের বিয়ের সময়ের। সেদিন বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হতে হতে অনেক রাত হয়ে যায়। তাই আতিক আমাকে তার বাড়িতে থাকতে বলে। কিন্তু আমি থাকতে চাচ্ছিলাম না কারণ আগামীকাল আমার ইউনিভার্সিটিতে পরীক্ষা ছিল। এদিকে ততক্ষণে আনুমানিক রাত এগারটাও বেঁজে গেছে। তখন আতিক আমাকে কিছুটা পথ এগিয়ে দিতে চাইলো।<br />
আমি অবশ্য, তাকে বলে ছিলাম..." থাক তোকে আর এত রাতে বাহির হতে হবে না"।<br />
কিন্তু সে নাছোড়বান্দা আমাকে একা ছাড়তে চাচ্ছিলো না।<br />
যাইহোক, পরে আতিকসহ বাসস্টপ পর্যন্ত এগোতে লাগলাম। কিন্তু আনুমানিক দশ মিনিট হাটার পর দেখি রাস্তার পাশে অবস্থিত একটি শিমুল গাছের নিচে এক বৃদ্ধ ব্যক্তি বসে আছে.! আর এটা দেখে আমরা দুজনে কিছুটা অবাক হয়ে যাই কারণ সে একটি ল্যাম্পবাতি জ্বালিয়ে বসে ছিল আর একাই কি জানি বিড়বিড় করে বলতে ছিল.! জামা কাপড়ও ছিল ছিন্ন ভিন্ন.!<br />
কিন্তু যখন তার পাশ অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি এমন সময় সে বললো..."বাবা বিশটা টাকা দেও কিছু কিনে খাব"।<br />
তখন, আমি ও আতিক থমকে দাঁড়ালাম। আর আমি তার দিকে এগিয়ে গেলাম। কিন্তু পকেট থেকে টাকা বাহির করে দিতে যেয়ে দেখি, পকেটে আছেই মাত্র ত্রিশ টাকা.! আর বাস ভাড়ায় তো লাগবে পঁয়ত্রিশ টাকা.!<br />
তখন আতিক বললো..."রাফসান দশ টাকা দিয়ে চলে আয়"।<br />
তারপর ঐ অদ্ভুত বৃদ্ধ ব্যক্তিটিকে দশ টাকা দিলাম কিন্তু সে বিশ টাকার কম নিবে না.!<br />
তখন একটু রাগও উঠে ছিল কিন্তু পরক্ষণেই মায়া হলো আর ভাবলাম আজকালকার দিনে দশ টাকা দিয়ে কিই বা খাবার পাওয়া যায়। পরে বিশ টাকাই দিয়ে হাটা শুরু করলাম।<br />
কিন্তু পরক্ষণেই ঐ বৃদ্ধ ব্যক্তিটি বলে উঠলো..."বাবা আজ বড় বাঁচা বেঁচে গেলি, আল্লাহ তোর ভালো করবে".!<br />
এ কথা শুনার পর আমি কৌতূহল বশত তার দিকে ঘুরে তাকালাম আর মৃদু হাসি দিয়ে পথ চলতে শুরু করলাম।<br />
তারপর বাসস্টপের কাছে এসে একটি চায়ের দোকানে বসলাম।<br />
আতিক বললো..."চা খাবি".?<br />
আমি বললাম..."হ্যাঁ, এককাপ খাওয়া যায়"।<br />
তারপর চা খেতে খেতে বললাম..."আতিক আমাকে পঞ্চাশটা টাকা দে তো, কাল নিস"।<br />
তখন, সে একশো টাকা বাহির করে দিল আর বললো..."তোর কাছে টাকা নেই আগে বলবি না".!<br />
এর কিছুক্ষণ পর, একটি বাস এলো আর আমি বাসে উঠতে গেলাম কিন্তু...আতিক বললো..."রাফসান এত রাতে এরকম খালি বাসে যাওয়াটা ঠিক হবে না একটু পর যা".! আমিও সমস্যাটা বুঝতে পেরে আর উঠলাম না।<br />
তারপর ক্ষাণিকবাদে, আরেকটি বাস এলো আর এই বাসটিতে অনেক যাত্রীও ছিল। তাই আমি তড়িঘড়ি করে বাসে উঠে পরলাম আর আতিককে বিদায় জানালাম। তারপর বাসটি চলতে শুরু করলো।<br />
কিন্তু আনুমানিক দশ থেকে পনেরো মিনিট পর দেখলাম...সামনে রাস্তায় অনেক মানুষ জড় হয়ে আছে.! তখন আমি বাসের জানালা দিয়ে বাহিরে উঁকি দিলাম, আর কি হয়েছে তা দেখতে লাগলাম.?<br />
দেখি... দশ থেকে পনেরো মিনিট আগে যে খালি বাসটিতে আমি উঠতে চেয়ে ছিলাম, সেটি Accident করেছে.! আর রাস্তার পাশে এক খাঁদে পরে আছে.! চারদিকে অনেক কাঁচের টুকরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। আর রক্তে জায়গাটা ভিজে গেছে। এটা দেখার পর, আতঙ্কে আমার বুকের হার্টবিটটা বেড়ে গিয়ে ছিল। আর অনেক ভয় পেয়ে ছিলাম।<br />
যাইহোক, পরে সুস্থ অবস্থায় বাসায় আসি। আর আতিককে ফোন দিয়ে সব কথা খুলে বলি। সব কথা শুনে সেও অনেক ভয় পেয়ে যায়।<br />
পরিশেষে শুধু এতটুকুই বললো যে, সে দিন কি বাঁচাই না বেঁচে গেছি।<br />
<br />
( ভাল লাগলে লাইক দিবেন )]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার। যেখানে আমার বন্ধু আতিকের বাড়ি। বলতে পারেন স্থানীয় বাড়ি। আর ঘটনাটি গত বছর জানুয়ারি মাসের আতিকের বড় ভাইয়ের বিয়ের সময়ের। সেদিন বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হতে হতে অনেক রাত হয়ে যায়। তাই আতিক আমাকে তার বাড়িতে থাকতে বলে। কিন্তু আমি থাকতে চাচ্ছিলাম না কারণ আগামীকাল আমার ইউনিভার্সিটিতে পরীক্ষা ছিল। এদিকে ততক্ষণে আনুমানিক রাত এগারটাও বেঁজে গেছে। তখন আতিক আমাকে কিছুটা পথ এগিয়ে দিতে চাইলো।<br />
আমি অবশ্য, তাকে বলে ছিলাম..." থাক তোকে আর এত রাতে বাহির হতে হবে না"।<br />
কিন্তু সে নাছোড়বান্দা আমাকে একা ছাড়তে চাচ্ছিলো না।<br />
যাইহোক, পরে আতিকসহ বাসস্টপ পর্যন্ত এগোতে লাগলাম। কিন্তু আনুমানিক দশ মিনিট হাটার পর দেখি রাস্তার পাশে অবস্থিত একটি শিমুল গাছের নিচে এক বৃদ্ধ ব্যক্তি বসে আছে.! আর এটা দেখে আমরা দুজনে কিছুটা অবাক হয়ে যাই কারণ সে একটি ল্যাম্পবাতি জ্বালিয়ে বসে ছিল আর একাই কি জানি বিড়বিড় করে বলতে ছিল.! জামা কাপড়ও ছিল ছিন্ন ভিন্ন.!<br />
কিন্তু যখন তার পাশ অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি এমন সময় সে বললো..."বাবা বিশটা টাকা দেও কিছু কিনে খাব"।<br />
তখন, আমি ও আতিক থমকে দাঁড়ালাম। আর আমি তার দিকে এগিয়ে গেলাম। কিন্তু পকেট থেকে টাকা বাহির করে দিতে যেয়ে দেখি, পকেটে আছেই মাত্র ত্রিশ টাকা.! আর বাস ভাড়ায় তো লাগবে পঁয়ত্রিশ টাকা.!<br />
তখন আতিক বললো..."রাফসান দশ টাকা দিয়ে চলে আয়"।<br />
তারপর ঐ অদ্ভুত বৃদ্ধ ব্যক্তিটিকে দশ টাকা দিলাম কিন্তু সে বিশ টাকার কম নিবে না.!<br />
তখন একটু রাগও উঠে ছিল কিন্তু পরক্ষণেই মায়া হলো আর ভাবলাম আজকালকার দিনে দশ টাকা দিয়ে কিই বা খাবার পাওয়া যায়। পরে বিশ টাকাই দিয়ে হাটা শুরু করলাম।<br />
কিন্তু পরক্ষণেই ঐ বৃদ্ধ ব্যক্তিটি বলে উঠলো..."বাবা আজ বড় বাঁচা বেঁচে গেলি, আল্লাহ তোর ভালো করবে".!<br />
এ কথা শুনার পর আমি কৌতূহল বশত তার দিকে ঘুরে তাকালাম আর মৃদু হাসি দিয়ে পথ চলতে শুরু করলাম।<br />
তারপর বাসস্টপের কাছে এসে একটি চায়ের দোকানে বসলাম।<br />
আতিক বললো..."চা খাবি".?<br />
আমি বললাম..."হ্যাঁ, এককাপ খাওয়া যায়"।<br />
তারপর চা খেতে খেতে বললাম..."আতিক আমাকে পঞ্চাশটা টাকা দে তো, কাল নিস"।<br />
তখন, সে একশো টাকা বাহির করে দিল আর বললো..."তোর কাছে টাকা নেই আগে বলবি না".!<br />
এর কিছুক্ষণ পর, একটি বাস এলো আর আমি বাসে উঠতে গেলাম কিন্তু...আতিক বললো..."রাফসান এত রাতে এরকম খালি বাসে যাওয়াটা ঠিক হবে না একটু পর যা".! আমিও সমস্যাটা বুঝতে পেরে আর উঠলাম না।<br />
তারপর ক্ষাণিকবাদে, আরেকটি বাস এলো আর এই বাসটিতে অনেক যাত্রীও ছিল। তাই আমি তড়িঘড়ি করে বাসে উঠে পরলাম আর আতিককে বিদায় জানালাম। তারপর বাসটি চলতে শুরু করলো।<br />
কিন্তু আনুমানিক দশ থেকে পনেরো মিনিট পর দেখলাম...সামনে রাস্তায় অনেক মানুষ জড় হয়ে আছে.! তখন আমি বাসের জানালা দিয়ে বাহিরে উঁকি দিলাম, আর কি হয়েছে তা দেখতে লাগলাম.?<br />
দেখি... দশ থেকে পনেরো মিনিট আগে যে খালি বাসটিতে আমি উঠতে চেয়ে ছিলাম, সেটি Accident করেছে.! আর রাস্তার পাশে এক খাঁদে পরে আছে.! চারদিকে অনেক কাঁচের টুকরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। আর রক্তে জায়গাটা ভিজে গেছে। এটা দেখার পর, আতঙ্কে আমার বুকের হার্টবিটটা বেড়ে গিয়ে ছিল। আর অনেক ভয় পেয়ে ছিলাম।<br />
যাইহোক, পরে সুস্থ অবস্থায় বাসায় আসি। আর আতিককে ফোন দিয়ে সব কথা খুলে বলি। সব কথা শুনে সেও অনেক ভয় পেয়ে যায়।<br />
পরিশেষে শুধু এতটুকুই বললো যে, সে দিন কি বাঁচাই না বেঁচে গেছি।<br />
<br />
( ভাল লাগলে লাইক দিবেন )]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[রহস্যকুঠীর রানী ( পিশাচ কাহিনী) কাহিনী : মানবেন্দ্র পাল]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=1993</link>
			<pubDate>Mon, 20 Feb 2017 09:16:19 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=232">Maghanath Das</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=1993</guid>
			<description><![CDATA[রহস্যকুঠীর রানী ( পিশাচ কাহিনী)<br />
কাহিনী : মানবেন্দ্র পাল<br />
বড়দিনের ছুটিতে ভাইপোকে নিয়ে মধুপুরে বেড়াতে যাব ঠিক<br />
করেছি। মধুপুরে কিছুদিন থেকে দেওঘর আর গিরিডি'ও নিয়ে<br />
যাব, প্ল্যান করেছি। দেওঘরের ত্রিকূট পাহাড়, গিরিডির উশ্রী<br />
প্রপাত - ডাকু আজ পর্যন্ত দেখেনি। এবার ওকে না দেখালেই<br />
নয়। ডাকুর তো আনন্দে রাতে ঘুমই হয় না। খালি জিজ্ঞেস<br />
করে, " কাকু, কবে মধুপুর যাব?"<br />
দিন যেই স্থির হল, তারপর থেকে ডাকু ব্যস্ত হয়ে পড়ল, কি<br />
কি জিনিস সঙ্গে নেবে, তার লিস্ট তৈরি করতে। হোক<br />
দশদিনের জন্য, তবু তো বাইরে যাওয়া।<br />
যাই হোক, শেষপর্যন্ত এক শীতের বিকেলে আমরা মধুপুর<br />
স্টেশনে এসে নামলাম। কিন্তু সমস্যা দেখা দিল হোটেলে<br />
জায়গা পাওয়া নিয়ে। কোনও হোটেলে রুম খালি নেই।<br />
টাঙ্গাওয়ালা আমাদের একটা নামকরা হোটেলের সামনে নিয়ে<br />
এসে ছেড়ে দিল; কিন্তু হায় মন্দভাগ্য! এই হোটেলেও জায়গা<br />
নেই। ম্যানেজার আরও সাঙ্ঘাতিক কথা শোনালেন। তিনি<br />
জানালেন, এইসময় শুধু হোটেল কেন, একটা খালি বাড়িও নাকি<br />
পাবো না। এইসময়টায় নাকি প্রচুর লোক চেঞ্জে আসে, তাই<br />
ভীড়ও বেশি। আমি একটা ঘরের জন্য যখন প্রায় নাছোড়বান্দা<br />
তখন উনি চোখ ছোট ছোট করে বললেন, " একটা বাড়ির<br />
সন্ধান দিতে পারি; কিন্তু টিকতে পারবেন কি?"<br />
বললাম," কেন? ভূতের বাড়ি নাকি?"<br />
ম্যানেজার মাথা দুলিয়ে বললেন, " লোকে তো তাই বলে। এক<br />
রাত্তিরের বেশি কেউ থাকতে পারে না, শুনেছি। "<br />
ডাকু ঐসময় আমার হাতে চাপ দিয়ে ফিসফিস করে বললে, "<br />
ঐবাড়িতেই চলো কাকু, ভূত দেখা যাবে। "<br />
আমি তখন ভালমানুষের মতো মুখ করে ম্যানেজারকে বললাম,<br />
" কি আর করা যাবে? ঠিকানাটা দিন তাহলে। ভূতের বাড়িতেই<br />
ক'দিন কাটাই।"<br />
ম্যানেজার তখন কোথা দিয়ে কোথায় যেতে হবে বুঝিয়ে দিল।<br />
শহরের বাইরে নদীর ধারে একটা কবরখানা। তারই পাশে বিরাট<br />
গম্বুজওয়ালা একটা পুরনো দোতলা বাড়ি। সেই বাড়িতে<br />
একজন মহিলা থাকেন। তিনিই বাড়ির মালিক। তিনি যদি রাজি<br />
থাকেন, তাহলে হয়তো সেই বাড়িতে একখানি ঘর পেতে পারি।<br />
আমি হতাশার সুরে বললাম " যা শুনছি, তাতে মনে হয় উনি<br />
ভাড়া দেবেন।"<br />
ম্যানেজার বললেন, " দেখুন, সে আপনার কপাল। তবে উনি<br />
অনেককেই ভাড়া দিয়েছেন আর কেউই এক রাত্তিরের বেশী<br />
টিকতে পারেনি। তবে হ্যাঁ, পুরো ভাড়াটা অবশ্য উনি আগাম<br />
নিয়ে থাকেন।"<br />
শীতের বেলা তখন শেষ হয়ে এসেছে। টাঙাটা আমাদের এক<br />
জায়গায় নামিয়ে দিল। বলল," কবরখানার রাস্তার দিকে আর<br />
নাকি গাড়ি চলবে না। রাস্তা খারাপ।"<br />
অগত্যা দুজনে হাঁটতে হাঁটতে নদীর ধারে গিয়ে পৌঁছলাম। নদীর<br />
পশ্চিম দিকে একরাশ বুনো ফুলের আড়ালে একটা পুরনো<br />
কবরখানা দেখতে পেলাম। এবার বাড়িটা খুঁজতে হবে। ভাগ্য<br />
ভাল, বাড়িটাও খুঁজে পেতে অসুবিধা হল না। অনেকগুলো সার<br />
সার ইউক্যালিপটাস গাছের আড়ালে বাড়িটা যেন লুকিয়ে ছিল।<br />
আমরা যখন ফটক ঠেলে বাড়ির ভেতর ঢুকলাম তখন চারপাশে<br />
রীতিমতো অন্ধকার। শহরে ইলেক্ট্রিসিটি থাকলেও এই<br />
পল্লীতে বিদ্যুৎ আসেনি। এখানে যে অল্প কয়েক ঘর বসতি<br />
আছে তাদের প্রায় সবাই আদিবাসী খ্রীষ্টান; কিন্তু দেখলেই<br />
বোঝা যায় ওদের জীবনে জাঁকজমক বলে কিছু নেই। সারাদিন<br />
খাটাখাটুনি করে এসে সন্ধ্যে হবার আগে চুপচাপ নিজের ঘরে<br />
ঢুকে খিল বন্ধ করে দিয়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।<br />
কারোর সঙ্গে কারোর কোনও যোগাযোগ নেই। ইলেকট্রিক<br />
আলোর জন্য মাথা কোটাকুটিও করে না।<br />
যাই হোক, আমরা সেই বাড়ির বাইরের ঘরে এসে ঢুকলাম<br />
প্রথমে। কুপকুপে অন্ধকার ঘর।<br />
আমি ডাকলাম, " কেউ আছেন?"<br />
সাড়া নেই।<br />
আবার ডাকলাম, " কেউ কি আছেন?"<br />
এবারও সাড়া নেই।<br />
এবার ব্যাগ থেকে টর্চ বের করে জ্বালালাম। সেই আলোয়<br />
দেখলাম, সামনে আরেকটা দরজা। সেই দরজা দিয়ে ভেতরে<br />
ঢুকলাম। সামনে একটা লম্বা দালান। ওপাশে মনে হল ওপরে<br />
ওঠার সিঁড়ি। আমরা সেই দালানে পা রাখতেই ওপাশের একটা<br />
মস্ত জালে ঢাকা খাঁচা থেকে অনেকগুলো মুরগি যেন ভয়ে পেয়ে<br />
একসঙ্গে কোঁকর-কোঁ-কোঁকর-কোঁ করে ডেকে উঠল।<br />
ডাকু ফিসফিস করে বলল, " এত মুরগি! বাড়িওয়ালী কি মুরগির<br />
ব্যবসা করে না নিজে খায়?"<br />
আমার মাথায় তখন অন্য চিন্তা। সারাদিন ট্রেনজার্নি করে<br />
আসা, এখন যদি একটু থাকার ব্যবস্থা না হয় তাহলে যাব<br />
কোথায়?<br />
তাই এবার একটু জোরে ডাকলাম, " কেউ আছেন?"<br />
হঠাৎ খুব কাছ থেকে একটা অদ্ভুত কন্ঠ শোনা গেল, " বাইরের<br />
ঘরে বসুন।"<br />
গলার স্বরটা না পুরুষের, না মহিলার। কেমন একটা বিশ্রী<br />
খ্যানখেনে গলা। এপাশ ওপাশ তাকিয়েও কাউকে দেখতে পেলাম<br />
না।<br />
যাই হোক, আমরা আবার বাইরের ঘরে এসে দাঁড়ালাম।<br />
দাঁড়িয়েই রইলাম, কেননা বসবার কোন ব্যবস্থাই ছিল না।<br />
টর্চের আলোয় দেখলাম, চারদিকে শুধু ভাঙা আলমারি, ভাঙা<br />
দেরাজ আর কতগুলো ভাঙা চেয়ার মুখ থুবড়ে পড়ে আছে।<br />
মেঝেতে পুরু ধূলোর আস্তরণ। এই ঘরে যে কেউ কোনওদিন<br />
আসে না, সেটা বেশ বুঝতে পারলাম।<br />
একসময় ভেতরের দরজা দিয়ে একচিলতে ঘোলাটে আলো এসে<br />
পড়ল। তারপরই দেখলাম, কালো গাউন পরা একজন মহিলা,<br />
হাতে পেটমোটা একটা সেকেলে সেজবাতি নিয়ে এসে এ'ঘরে<br />
ঢুকলেন। একেবারে আপাদমস্তক কালো গাউনে ঢাকা। গলা<br />
থেকে একটা লম্বা ক্রশ গাউনের ওপর এসে ঝুলছে। মুখটা<br />
অস্বাভাবিক সাদা। গালের হনুদুটো একটু উঁচু আর সেজন্য<br />
গালের বাকি অংশ একটু বসা। মহিলা বেশ লম্বা কিন্তু কত<br />
বয়স তা ঠিক বোঝা যাচ্ছিল না।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[রহস্যকুঠীর রানী ( পিশাচ কাহিনী)<br />
কাহিনী : মানবেন্দ্র পাল<br />
বড়দিনের ছুটিতে ভাইপোকে নিয়ে মধুপুরে বেড়াতে যাব ঠিক<br />
করেছি। মধুপুরে কিছুদিন থেকে দেওঘর আর গিরিডি'ও নিয়ে<br />
যাব, প্ল্যান করেছি। দেওঘরের ত্রিকূট পাহাড়, গিরিডির উশ্রী<br />
প্রপাত - ডাকু আজ পর্যন্ত দেখেনি। এবার ওকে না দেখালেই<br />
নয়। ডাকুর তো আনন্দে রাতে ঘুমই হয় না। খালি জিজ্ঞেস<br />
করে, " কাকু, কবে মধুপুর যাব?"<br />
দিন যেই স্থির হল, তারপর থেকে ডাকু ব্যস্ত হয়ে পড়ল, কি<br />
কি জিনিস সঙ্গে নেবে, তার লিস্ট তৈরি করতে। হোক<br />
দশদিনের জন্য, তবু তো বাইরে যাওয়া।<br />
যাই হোক, শেষপর্যন্ত এক শীতের বিকেলে আমরা মধুপুর<br />
স্টেশনে এসে নামলাম। কিন্তু সমস্যা দেখা দিল হোটেলে<br />
জায়গা পাওয়া নিয়ে। কোনও হোটেলে রুম খালি নেই।<br />
টাঙ্গাওয়ালা আমাদের একটা নামকরা হোটেলের সামনে নিয়ে<br />
এসে ছেড়ে দিল; কিন্তু হায় মন্দভাগ্য! এই হোটেলেও জায়গা<br />
নেই। ম্যানেজার আরও সাঙ্ঘাতিক কথা শোনালেন। তিনি<br />
জানালেন, এইসময় শুধু হোটেল কেন, একটা খালি বাড়িও নাকি<br />
পাবো না। এইসময়টায় নাকি প্রচুর লোক চেঞ্জে আসে, তাই<br />
ভীড়ও বেশি। আমি একটা ঘরের জন্য যখন প্রায় নাছোড়বান্দা<br />
তখন উনি চোখ ছোট ছোট করে বললেন, " একটা বাড়ির<br />
সন্ধান দিতে পারি; কিন্তু টিকতে পারবেন কি?"<br />
বললাম," কেন? ভূতের বাড়ি নাকি?"<br />
ম্যানেজার মাথা দুলিয়ে বললেন, " লোকে তো তাই বলে। এক<br />
রাত্তিরের বেশি কেউ থাকতে পারে না, শুনেছি। "<br />
ডাকু ঐসময় আমার হাতে চাপ দিয়ে ফিসফিস করে বললে, "<br />
ঐবাড়িতেই চলো কাকু, ভূত দেখা যাবে। "<br />
আমি তখন ভালমানুষের মতো মুখ করে ম্যানেজারকে বললাম,<br />
" কি আর করা যাবে? ঠিকানাটা দিন তাহলে। ভূতের বাড়িতেই<br />
ক'দিন কাটাই।"<br />
ম্যানেজার তখন কোথা দিয়ে কোথায় যেতে হবে বুঝিয়ে দিল।<br />
শহরের বাইরে নদীর ধারে একটা কবরখানা। তারই পাশে বিরাট<br />
গম্বুজওয়ালা একটা পুরনো দোতলা বাড়ি। সেই বাড়িতে<br />
একজন মহিলা থাকেন। তিনিই বাড়ির মালিক। তিনি যদি রাজি<br />
থাকেন, তাহলে হয়তো সেই বাড়িতে একখানি ঘর পেতে পারি।<br />
আমি হতাশার সুরে বললাম " যা শুনছি, তাতে মনে হয় উনি<br />
ভাড়া দেবেন।"<br />
ম্যানেজার বললেন, " দেখুন, সে আপনার কপাল। তবে উনি<br />
অনেককেই ভাড়া দিয়েছেন আর কেউই এক রাত্তিরের বেশী<br />
টিকতে পারেনি। তবে হ্যাঁ, পুরো ভাড়াটা অবশ্য উনি আগাম<br />
নিয়ে থাকেন।"<br />
শীতের বেলা তখন শেষ হয়ে এসেছে। টাঙাটা আমাদের এক<br />
জায়গায় নামিয়ে দিল। বলল," কবরখানার রাস্তার দিকে আর<br />
নাকি গাড়ি চলবে না। রাস্তা খারাপ।"<br />
অগত্যা দুজনে হাঁটতে হাঁটতে নদীর ধারে গিয়ে পৌঁছলাম। নদীর<br />
পশ্চিম দিকে একরাশ বুনো ফুলের আড়ালে একটা পুরনো<br />
কবরখানা দেখতে পেলাম। এবার বাড়িটা খুঁজতে হবে। ভাগ্য<br />
ভাল, বাড়িটাও খুঁজে পেতে অসুবিধা হল না। অনেকগুলো সার<br />
সার ইউক্যালিপটাস গাছের আড়ালে বাড়িটা যেন লুকিয়ে ছিল।<br />
আমরা যখন ফটক ঠেলে বাড়ির ভেতর ঢুকলাম তখন চারপাশে<br />
রীতিমতো অন্ধকার। শহরে ইলেক্ট্রিসিটি থাকলেও এই<br />
পল্লীতে বিদ্যুৎ আসেনি। এখানে যে অল্প কয়েক ঘর বসতি<br />
আছে তাদের প্রায় সবাই আদিবাসী খ্রীষ্টান; কিন্তু দেখলেই<br />
বোঝা যায় ওদের জীবনে জাঁকজমক বলে কিছু নেই। সারাদিন<br />
খাটাখাটুনি করে এসে সন্ধ্যে হবার আগে চুপচাপ নিজের ঘরে<br />
ঢুকে খিল বন্ধ করে দিয়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।<br />
কারোর সঙ্গে কারোর কোনও যোগাযোগ নেই। ইলেকট্রিক<br />
আলোর জন্য মাথা কোটাকুটিও করে না।<br />
যাই হোক, আমরা সেই বাড়ির বাইরের ঘরে এসে ঢুকলাম<br />
প্রথমে। কুপকুপে অন্ধকার ঘর।<br />
আমি ডাকলাম, " কেউ আছেন?"<br />
সাড়া নেই।<br />
আবার ডাকলাম, " কেউ কি আছেন?"<br />
এবারও সাড়া নেই।<br />
এবার ব্যাগ থেকে টর্চ বের করে জ্বালালাম। সেই আলোয়<br />
দেখলাম, সামনে আরেকটা দরজা। সেই দরজা দিয়ে ভেতরে<br />
ঢুকলাম। সামনে একটা লম্বা দালান। ওপাশে মনে হল ওপরে<br />
ওঠার সিঁড়ি। আমরা সেই দালানে পা রাখতেই ওপাশের একটা<br />
মস্ত জালে ঢাকা খাঁচা থেকে অনেকগুলো মুরগি যেন ভয়ে পেয়ে<br />
একসঙ্গে কোঁকর-কোঁ-কোঁকর-কোঁ করে ডেকে উঠল।<br />
ডাকু ফিসফিস করে বলল, " এত মুরগি! বাড়িওয়ালী কি মুরগির<br />
ব্যবসা করে না নিজে খায়?"<br />
আমার মাথায় তখন অন্য চিন্তা। সারাদিন ট্রেনজার্নি করে<br />
আসা, এখন যদি একটু থাকার ব্যবস্থা না হয় তাহলে যাব<br />
কোথায়?<br />
তাই এবার একটু জোরে ডাকলাম, " কেউ আছেন?"<br />
হঠাৎ খুব কাছ থেকে একটা অদ্ভুত কন্ঠ শোনা গেল, " বাইরের<br />
ঘরে বসুন।"<br />
গলার স্বরটা না পুরুষের, না মহিলার। কেমন একটা বিশ্রী<br />
খ্যানখেনে গলা। এপাশ ওপাশ তাকিয়েও কাউকে দেখতে পেলাম<br />
না।<br />
যাই হোক, আমরা আবার বাইরের ঘরে এসে দাঁড়ালাম।<br />
দাঁড়িয়েই রইলাম, কেননা বসবার কোন ব্যবস্থাই ছিল না।<br />
টর্চের আলোয় দেখলাম, চারদিকে শুধু ভাঙা আলমারি, ভাঙা<br />
দেরাজ আর কতগুলো ভাঙা চেয়ার মুখ থুবড়ে পড়ে আছে।<br />
মেঝেতে পুরু ধূলোর আস্তরণ। এই ঘরে যে কেউ কোনওদিন<br />
আসে না, সেটা বেশ বুঝতে পারলাম।<br />
একসময় ভেতরের দরজা দিয়ে একচিলতে ঘোলাটে আলো এসে<br />
পড়ল। তারপরই দেখলাম, কালো গাউন পরা একজন মহিলা,<br />
হাতে পেটমোটা একটা সেকেলে সেজবাতি নিয়ে এসে এ'ঘরে<br />
ঢুকলেন। একেবারে আপাদমস্তক কালো গাউনে ঢাকা। গলা<br />
থেকে একটা লম্বা ক্রশ গাউনের ওপর এসে ঝুলছে। মুখটা<br />
অস্বাভাবিক সাদা। গালের হনুদুটো একটু উঁচু আর সেজন্য<br />
গালের বাকি অংশ একটু বসা। মহিলা বেশ লম্বা কিন্তু কত<br />
বয়স তা ঠিক বোঝা যাচ্ছিল না।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[সত্যি কাহিনী অবলম্বনে- হৃদয় নাড়া দেয়ার মত গল্প। পুরোটা পড়ুন- ...]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=1990</link>
			<pubDate>Mon, 20 Feb 2017 09:13:34 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=232">Maghanath Das</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=1990</guid>
			<description><![CDATA[সত্যি কাহিনী অবলম্বনে- হৃদয় নাড়া দেয়ার মত গল্প।<br />
পুরোটা পড়ুন- ... ... একজন ডাক্তার একটি জরুরী<br />
সার্জারির জন্য তাড়াহুড়ো করে আর একডাক্তারকে<br />
হাসপাতালে ডেকেগতিতে হাসপাতালে পৌঁ হাসপাতালে<br />
ঢুকেই সে নিজেকে দ্রুত প্রস্তুত করে নিল সার্জারির<br />
জন্য।এরপর সার্জারির ব্লক এগিয়ে সে দেখল রোগীর<br />
( একটি ছোট্ট ছেলে ) বাবা ওখানে পায়চারি করছে দ<br />
অপেক্ষায় , ডাক্তার কে দেখামাত্রলোকটি চেঁচিয়ে<br />
উঠল-... আপনার আসতে এত দেরি লাগে? দায়িত্ববোধ<br />
বলতে কিছু আছে আপনার? আপনি জানেন আমার<br />
ছেলেএখানে কতটা শোচনীয়অবস্থায় আছে ????<br />
ডাক্তার ছোট্ট একটা মুচকি হাসি হেসে বলল- "আমি<br />
দুঃখিত,আমি হাসপাতাল এ ছিলাম না, বাসা থেকে<br />
তাড়াহুড়ো করে এলা তাই খানিক দেরি হল,<br />
এখনআপনি যদি একটু শান্ত হন, তবে আমি আমার<br />
কাজ টা শুরু করি ?"লোকটি এবার যেন আরওরেগে<br />
গেলো, ঝাঁঝাঁলো স্বরে বলল-" ঠাণ্ডা হব? আপনার<br />
সন্তান যদি আজএখানে থাকতো? আপনার সন্তান যদি<br />
জীবন মৃত্যুরমাঝে দাঁড়াইয়া থাকতো, তবে আপনি কি<br />
করতেন? শান্ত হয়ে বসে থাকতেন ??"ডাক্তার আবার<br />
হাসলেন আর বললেন"আমি বলব পবিত্র গ্রন্থে বলা<br />
হয়েছে মাটি থেকেআমাদের সৃষ্টি আর মাটিতেই আমরা<br />
মিসে যাব ! ডাক্তার কাউকে দীর্ঘ জীবন দান করতে<br />
পারেন না আপনি আপনার সন্তানের জন্য প্রার্থনা করতে<br />
থাকুনআমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা টা করব<br />
।" লোকটি পুনরায় রাগত স্বরে বলল-"যখন<br />
আপনার টেনশন না থাকে তখন উপদেশ দেয়া সহজ<br />
ই !!" এরপর ডাক্তার সাহেব সার্জারির রুম এ চলে<br />
গেলো, ২ ঘণ্টার মত লাগলো, শেষে হাসি মুখে<br />
ডাক্তাহাসি মুখে বের হয়ে এলেন,"আলহামদুলি ল্লাহ<br />
অপারেশন সফল"এরপর লোকটির উত্তরেরঅপেক্ষা না<br />
করেই ডাক্তার আবার বলে উঠলেন-"আপনার কোন<br />
প্রশ্ন থাকলে নার্স কে জিজ্ঞেস করুন", বলে তিনি চলে<br />
গেলেন ।এরপর লোকটি নার্সকে বললেন- "ডাক্তার এত<br />
ভাব নেন কেন? তিনি কি আর কিছুক্ষণ এখানে দাঁড়াতে<br />
পারতেন না? যাতে আমি ওনাকে আমার সন্তানএর<br />
ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করতাম ।" নার্স কান্নায়<br />
ভেঙ্গে পড়লেন আর জানালেন- ডাক্তার এর ছেলে আজ<br />
সকালে মারা গেছেন রোড এক্সিডেন্ট এ, তিনি আপনার<br />
ফোন পেয়েওনার ছেলের জানাজা থেকে উঠে এসেছেন<br />
, এখন আবার দৌড়ে চলে গেলেন- কবর দিতে । নৈতিক<br />
শিক্ষা :- একজন মানুষ কে কখনো তার বাইরের আচরণ<br />
দেখে যাচাইকরবেন না, কারণআপনি কখনই জানেন না<br />
তিনি কিসেরমাঝে আছেন ।শেয়ার করতে ভুলবেন না ।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[সত্যি কাহিনী অবলম্বনে- হৃদয় নাড়া দেয়ার মত গল্প।<br />
পুরোটা পড়ুন- ... ... একজন ডাক্তার একটি জরুরী<br />
সার্জারির জন্য তাড়াহুড়ো করে আর একডাক্তারকে<br />
হাসপাতালে ডেকেগতিতে হাসপাতালে পৌঁ হাসপাতালে<br />
ঢুকেই সে নিজেকে দ্রুত প্রস্তুত করে নিল সার্জারির<br />
জন্য।এরপর সার্জারির ব্লক এগিয়ে সে দেখল রোগীর<br />
( একটি ছোট্ট ছেলে ) বাবা ওখানে পায়চারি করছে দ<br />
অপেক্ষায় , ডাক্তার কে দেখামাত্রলোকটি চেঁচিয়ে<br />
উঠল-... আপনার আসতে এত দেরি লাগে? দায়িত্ববোধ<br />
বলতে কিছু আছে আপনার? আপনি জানেন আমার<br />
ছেলেএখানে কতটা শোচনীয়অবস্থায় আছে ????<br />
ডাক্তার ছোট্ট একটা মুচকি হাসি হেসে বলল- "আমি<br />
দুঃখিত,আমি হাসপাতাল এ ছিলাম না, বাসা থেকে<br />
তাড়াহুড়ো করে এলা তাই খানিক দেরি হল,<br />
এখনআপনি যদি একটু শান্ত হন, তবে আমি আমার<br />
কাজ টা শুরু করি ?"লোকটি এবার যেন আরওরেগে<br />
গেলো, ঝাঁঝাঁলো স্বরে বলল-" ঠাণ্ডা হব? আপনার<br />
সন্তান যদি আজএখানে থাকতো? আপনার সন্তান যদি<br />
জীবন মৃত্যুরমাঝে দাঁড়াইয়া থাকতো, তবে আপনি কি<br />
করতেন? শান্ত হয়ে বসে থাকতেন ??"ডাক্তার আবার<br />
হাসলেন আর বললেন"আমি বলব পবিত্র গ্রন্থে বলা<br />
হয়েছে মাটি থেকেআমাদের সৃষ্টি আর মাটিতেই আমরা<br />
মিসে যাব ! ডাক্তার কাউকে দীর্ঘ জীবন দান করতে<br />
পারেন না আপনি আপনার সন্তানের জন্য প্রার্থনা করতে<br />
থাকুনআমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা টা করব<br />
।" লোকটি পুনরায় রাগত স্বরে বলল-"যখন<br />
আপনার টেনশন না থাকে তখন উপদেশ দেয়া সহজ<br />
ই !!" এরপর ডাক্তার সাহেব সার্জারির রুম এ চলে<br />
গেলো, ২ ঘণ্টার মত লাগলো, শেষে হাসি মুখে<br />
ডাক্তাহাসি মুখে বের হয়ে এলেন,"আলহামদুলি ল্লাহ<br />
অপারেশন সফল"এরপর লোকটির উত্তরেরঅপেক্ষা না<br />
করেই ডাক্তার আবার বলে উঠলেন-"আপনার কোন<br />
প্রশ্ন থাকলে নার্স কে জিজ্ঞেস করুন", বলে তিনি চলে<br />
গেলেন ।এরপর লোকটি নার্সকে বললেন- "ডাক্তার এত<br />
ভাব নেন কেন? তিনি কি আর কিছুক্ষণ এখানে দাঁড়াতে<br />
পারতেন না? যাতে আমি ওনাকে আমার সন্তানএর<br />
ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করতাম ।" নার্স কান্নায়<br />
ভেঙ্গে পড়লেন আর জানালেন- ডাক্তার এর ছেলে আজ<br />
সকালে মারা গেছেন রোড এক্সিডেন্ট এ, তিনি আপনার<br />
ফোন পেয়েওনার ছেলের জানাজা থেকে উঠে এসেছেন<br />
, এখন আবার দৌড়ে চলে গেলেন- কবর দিতে । নৈতিক<br />
শিক্ষা :- একজন মানুষ কে কখনো তার বাইরের আচরণ<br />
দেখে যাচাইকরবেন না, কারণআপনি কখনই জানেন না<br />
তিনি কিসেরমাঝে আছেন ।শেয়ার করতে ভুলবেন না ।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[একটি সত্য ঘটনা। ভুত/প্রেত/জীন বিশ্বাস না করলে পড়বেন না কেউ।]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=1989</link>
			<pubDate>Mon, 20 Feb 2017 09:12:08 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=232">Maghanath Das</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=1989</guid>
			<description><![CDATA[আমার বাড়ি বরিশাল জেলার কীর্তনখোলা নদীর পাশেই।<br />
ছোটবেলা থেকে গ্রামে গঞ্জে থেকে মানুষ আমি ভূতের ভয়<br />
নেই বললেই চলে । অনেকের মুখে শুনেছি সন্ধ্যার পর<br />
কীর্তনখোলার পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে নাকি অশরীরীর দেখা<br />
পাওয়া যায়। আমি কখনো এসব বিশ্বাস করতাম না। সেবার<br />
মামার বাড়িতে গিয়েছিলাম একটা কাজে। এক পরিচিত চাচার<br />
মোটর নৌকায় গিয়েছিলাম।<br />
বাসায় ফেরার পথে সন্ধ্যা হয়ে যায়। চাচার গঞ্জে কাজ<br />
ছিলো দেখে আমাকে বাড়ি থেকে বেশ খানিকটা দূরে নামিয়ে<br />
দেয়। আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন সমস্যা হবে নাকি। আমি<br />
না করি। চাচাকে বিদায় দিয়ে বাড়ির পথে হাঁটতে লাগলাম।<br />
সন্ধ্যা নেমেছে চারপাশে। খুব দ্রুতই রাতের আঁধারে চারপাশ<br />
ঢেকে যাবে।<br />
আমার সাথে কোনও আলো নেই। তবে বাড়ি খুব একটা দুরের<br />
পথ না। বাকা পথে গেলে ১৫ মিনিট। আর সোজা রাস্তা দিয়ে<br />
গেলে ২৫-৩০ মিনিট লাগবে। সেইদিন বাংলাদেশের সাথে<br />
ইংল্যান্ডের খেলা ছিল। তাই আমি সময় বাঁচানোর জন্য<br />
বাকা পথ যাকে আমরা বলি শর্ট রাস্তা ধরে হাঁটা দিলাম।<br />
হনহন করে হাঁটছি।<br />
সবাই মনে হয় বাংলাদেশের খেলা দেখছে। কাউকেই দেখলাম<br />
না পথে। প্রায় ৪-৫ মিনিট হাঁটার পর আমার পাশের একটা<br />
ঝুপে ধপ করে কি যেন পড়লো। বলতে ভুলে গেছি, শর্ট<br />
রাস্তাটা একটু জঙ্গলা টাইপের এলাকার মধ্য দিয়ে। চারপাশে<br />
ঝি ঝি পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে। আওয়াজটা শুনেই আমি<br />
থেমে গেলাম।<br />
একদম চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম ২০ সেকেন্ড। কান খাঁড়া করে<br />
শোনার চেষ্টা করলাম কিসের আওয়াজ হল। কিন্তু কোনও<br />
শব্দ হল না আর। আমি নাছোড়বান্দা। আস্তে আস্তে পা<br />
টিপে এগিয়ে গেলাম ঝোপের দিকে। অনেকেই ভাববেন হয়তো<br />
মিথ্যা বলছি। কিন্তু ভাই আমি আসলেই অনেক সাহসী<br />
ছিলাম।<br />
একা হাতে গভীর রাতে ২টা চোর একসাথে পিটাইছি। ভয় ডর<br />
খুব কম। যাই হোক, ঝোপের পাশে দাঁড়িয়ে উকি দিলাম।<br />
উকি দিয়েই চমকে উঠলাম। ঐ পাশে দেখলাম একটা সাদা<br />
কাপড় পড়া মহিলা ঝুঁকে আছে কিছু একটার উপর। দেখে মনে<br />
হল কোনও চারপেয়ে জানোয়ার। অন্ধকার হতে যাচ্ছে। দৃষ্টি<br />
পরিষ্কার না।<br />
মহিলার পাশ থেকে গচ গচ শব্দ হচ্ছিলো। হাড় ভাঙার<br />
আওয়াজ কানে এলো। কড়মড় করে কি যেন খাচ্ছে। আমি আর<br />
সহ্য করতে পারলাম না। জোরে চিৎকার দিয়ে বললাম, ঐ<br />
কেডা রে ? কেডা হেইখানে ?<br />
সাথে সাথে পাই করে আমার দিকে ঘুরে গেলো মহিলাটা। ওটার<br />
চেহারা দেখার সাথে সাথে মনে হল কলিজাটা এক লাফে গলায়<br />
উঠে এলো। বহু কষ্টে নিজেকে দাঁড় করে রাখলাম। মহিলার<br />
বয়স বুঝতে পারি নি, তবে সাদা চুল, সাদা কাপড়, এবং সাড়া<br />
মুখে লেগে থাকা রক্ত এবং সামনে পড়ে থাকা একটা মাঝারি<br />
সাইজের গরুর মৃত দেহ দেখে কিছু বুঝতে বাকি রইলো না।<br />
এরপর শুধু এতটুকু মনে আছে যে জ্ঞান হারাবার আগে জোরে<br />
কয়েকবার লা ইলাহা ইলাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবর<br />
বলেছিলাম। মহিলাটা চোখের পলকে মরা গরুটা রেখে আমার<br />
দিকে এগিয়ে এলো। এরপরে আমার কিছু মনে নেই।<br />
জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে আবিষ্কার করি আমাদের বাড়ির<br />
উঠানে। সামনে এলাকার সব মুরুব্বী এবং গঞ্জের বড় হুজুর<br />
বসে আছে। উনাদের কাছে শুনতে পাই রাতে রাস্তা দিয়ে<br />
ফেরার পথে আমাদের বাড়ির ৩ বাড়ির পরের রহমত আলি<br />
চাচা আমাকে দেখতে পান। এরপর আরও মানুষের সাহায্যে<br />
আমাকে বাসায় নিয়ে আসেন।<br />
আশ্চর্যের ব্যাপার যে সেইদিন আমার থেকে একটু দূরে একটা<br />
আধ খাওয়া গরুর মৃত দেহ পাওয়া যায়। গরুটির শরীরের বাকি<br />
অংশ পাওয়া গেলেও মাথা থেকে পেট পর্যন্ত ছিল না।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[আমার বাড়ি বরিশাল জেলার কীর্তনখোলা নদীর পাশেই।<br />
ছোটবেলা থেকে গ্রামে গঞ্জে থেকে মানুষ আমি ভূতের ভয়<br />
নেই বললেই চলে । অনেকের মুখে শুনেছি সন্ধ্যার পর<br />
কীর্তনখোলার পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে নাকি অশরীরীর দেখা<br />
পাওয়া যায়। আমি কখনো এসব বিশ্বাস করতাম না। সেবার<br />
মামার বাড়িতে গিয়েছিলাম একটা কাজে। এক পরিচিত চাচার<br />
মোটর নৌকায় গিয়েছিলাম।<br />
বাসায় ফেরার পথে সন্ধ্যা হয়ে যায়। চাচার গঞ্জে কাজ<br />
ছিলো দেখে আমাকে বাড়ি থেকে বেশ খানিকটা দূরে নামিয়ে<br />
দেয়। আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন সমস্যা হবে নাকি। আমি<br />
না করি। চাচাকে বিদায় দিয়ে বাড়ির পথে হাঁটতে লাগলাম।<br />
সন্ধ্যা নেমেছে চারপাশে। খুব দ্রুতই রাতের আঁধারে চারপাশ<br />
ঢেকে যাবে।<br />
আমার সাথে কোনও আলো নেই। তবে বাড়ি খুব একটা দুরের<br />
পথ না। বাকা পথে গেলে ১৫ মিনিট। আর সোজা রাস্তা দিয়ে<br />
গেলে ২৫-৩০ মিনিট লাগবে। সেইদিন বাংলাদেশের সাথে<br />
ইংল্যান্ডের খেলা ছিল। তাই আমি সময় বাঁচানোর জন্য<br />
বাকা পথ যাকে আমরা বলি শর্ট রাস্তা ধরে হাঁটা দিলাম।<br />
হনহন করে হাঁটছি।<br />
সবাই মনে হয় বাংলাদেশের খেলা দেখছে। কাউকেই দেখলাম<br />
না পথে। প্রায় ৪-৫ মিনিট হাঁটার পর আমার পাশের একটা<br />
ঝুপে ধপ করে কি যেন পড়লো। বলতে ভুলে গেছি, শর্ট<br />
রাস্তাটা একটু জঙ্গলা টাইপের এলাকার মধ্য দিয়ে। চারপাশে<br />
ঝি ঝি পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে। আওয়াজটা শুনেই আমি<br />
থেমে গেলাম।<br />
একদম চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম ২০ সেকেন্ড। কান খাঁড়া করে<br />
শোনার চেষ্টা করলাম কিসের আওয়াজ হল। কিন্তু কোনও<br />
শব্দ হল না আর। আমি নাছোড়বান্দা। আস্তে আস্তে পা<br />
টিপে এগিয়ে গেলাম ঝোপের দিকে। অনেকেই ভাববেন হয়তো<br />
মিথ্যা বলছি। কিন্তু ভাই আমি আসলেই অনেক সাহসী<br />
ছিলাম।<br />
একা হাতে গভীর রাতে ২টা চোর একসাথে পিটাইছি। ভয় ডর<br />
খুব কম। যাই হোক, ঝোপের পাশে দাঁড়িয়ে উকি দিলাম।<br />
উকি দিয়েই চমকে উঠলাম। ঐ পাশে দেখলাম একটা সাদা<br />
কাপড় পড়া মহিলা ঝুঁকে আছে কিছু একটার উপর। দেখে মনে<br />
হল কোনও চারপেয়ে জানোয়ার। অন্ধকার হতে যাচ্ছে। দৃষ্টি<br />
পরিষ্কার না।<br />
মহিলার পাশ থেকে গচ গচ শব্দ হচ্ছিলো। হাড় ভাঙার<br />
আওয়াজ কানে এলো। কড়মড় করে কি যেন খাচ্ছে। আমি আর<br />
সহ্য করতে পারলাম না। জোরে চিৎকার দিয়ে বললাম, ঐ<br />
কেডা রে ? কেডা হেইখানে ?<br />
সাথে সাথে পাই করে আমার দিকে ঘুরে গেলো মহিলাটা। ওটার<br />
চেহারা দেখার সাথে সাথে মনে হল কলিজাটা এক লাফে গলায়<br />
উঠে এলো। বহু কষ্টে নিজেকে দাঁড় করে রাখলাম। মহিলার<br />
বয়স বুঝতে পারি নি, তবে সাদা চুল, সাদা কাপড়, এবং সাড়া<br />
মুখে লেগে থাকা রক্ত এবং সামনে পড়ে থাকা একটা মাঝারি<br />
সাইজের গরুর মৃত দেহ দেখে কিছু বুঝতে বাকি রইলো না।<br />
এরপর শুধু এতটুকু মনে আছে যে জ্ঞান হারাবার আগে জোরে<br />
কয়েকবার লা ইলাহা ইলাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবর<br />
বলেছিলাম। মহিলাটা চোখের পলকে মরা গরুটা রেখে আমার<br />
দিকে এগিয়ে এলো। এরপরে আমার কিছু মনে নেই।<br />
জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে আবিষ্কার করি আমাদের বাড়ির<br />
উঠানে। সামনে এলাকার সব মুরুব্বী এবং গঞ্জের বড় হুজুর<br />
বসে আছে। উনাদের কাছে শুনতে পাই রাতে রাস্তা দিয়ে<br />
ফেরার পথে আমাদের বাড়ির ৩ বাড়ির পরের রহমত আলি<br />
চাচা আমাকে দেখতে পান। এরপর আরও মানুষের সাহায্যে<br />
আমাকে বাসায় নিয়ে আসেন।<br />
আশ্চর্যের ব্যাপার যে সেইদিন আমার থেকে একটু দূরে একটা<br />
আধ খাওয়া গরুর মৃত দেহ পাওয়া যায়। গরুটির শরীরের বাকি<br />
অংশ পাওয়া গেলেও মাথা থেকে পেট পর্যন্ত ছিল না।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[অস্বাভাবিক তথ্য]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=937</link>
			<pubDate>Tue, 17 Jan 2017 13:04:23 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=937</guid>
			<description><![CDATA[পদ্মার পাড়ে স্থায়ী জেলেদের<br />
মুখে শোনা যায় অনেক গা ছমছমে<br />
অভিজ্ঞতার কথা। বিশেষ করে গভীর<br />
রাতে যারা মাছ মারতে যায় তাদের কথা<br />
শুনে পিলে চমকে যায়।<br />
কয়েকজনের সাথে মুখোমুখি<br />
সাক্ষাতে কথা বলে জানতে পারি যে,<br />
ভোর হবার খানিক আগে নাকি নদী<br />
মোহনায় প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। এই<br />
লোভে স্থানীয় অনেক জেলেই<br />
ঐ সময়টা বেছে নেয় মাছ ধরার জন্য।<br />
যারা ঐ সময়ে মাছ ধরতে গিয়েছে<br />
তাদের প্রত্যেকেরই জীবনে<br />
কখনো না কখনো একটা অদ্ভুত ঘটনার<br />
মুখোমুখি হতে হয়েছে। ঘটনা খুবই<br />
সাধারণ। সবার প্রথমে যার সাথে কথা<br />
হলো তার নাম তৈয়ব মাঝি। নিজের<br />
ভাইপো হাসানকে সাথে নিয়ে তিনি এক<br />
রাতে মাছ ধরতে বের হোন। রাত ৩<br />
টার দিকে হঠাত করে নদীতে বাতাস<br />
একেবারে থেমে পরে। উল্লেখ্য,<br />
নদীতে বাতাস পরে যাওয়া মানে<br />
ঝড়ের পূর্বাভাস। তিনি হাসানকে বলেন<br />
হাল ঘুরিয়ে ফিরতি পথ ধরতে । উনারা মাছ<br />
ধরতে ধরতে অনেকটা ভেতরে<br />
চলে গিয়েছিলেন। হঠাত তারা উভয়ই<br />
লক্ষ্য করেন তাদের থেকে প্রায়<br />
মাইলখানেক সামনে দিয়ে একটি যাত্রী<br />
নৌকা যাচ্ছে। নৌকাটা হয়তো চোখে<br />
পড়তো না, কিন্তু অবাক লাগলো কারণ<br />
নৌকার উপরের ছাউনিতে একটা অদ্ভুত<br />
রঙের বাতি দেখা যায়।<br />
অনেকটা নীলচে আভা বের হচ্ছে<br />
সেই বাতি থেকে। মানুষগুলো<br />
হয়তো বিপদে পড়তে পারে ভেবে<br />
তৈয়ব দ্রুত বৈঠা বেয়ে হাসানের সাহায্যে<br />
ঐ নৌকার পাশে চলে যান। নৌকার ভেতর<br />
উঁকি দিয়ে চমকে উঠেন তৈয়ব। নৌকার<br />
কোনো মাঝি নেই। তার চেয়ে<br />
ভয়ঙ্কর হলো নৌকার পাটাতনে পরে<br />
আছে একগাদা লাশ। পুরনো লাশ। পচে<br />
গলে আছে। ছাউনির ভিতর একটা মরচে<br />
পড়া হারিকেনে আগুন জ্বলছে। তৈয়ব<br />
আলীর মুখ দিয়ে চিৎকার বেরিয়ে যায়।<br />
চাচাকে চিৎকার করতে দেখে বৈঠা<br />
ফেলে দ্রুত চাচার পাশে চলে আসে<br />
হাসান। দেখে তার চাচা মাথা ঘুরে পড়ে<br />
যাচ্ছে।<br />
দৌড়ে গিয়ে কোনোমতে চাচার পতন<br />
ঠেকায় সে। সাথে সাথে মাথা উঁচু করে<br />
সামনে তাকিয়ে দেখে সেখানে<br />
কোনো নৌকা দূরের কথা, আসে<br />
পাশে ঘন অন্ধকার ছাড়া কিছুই দেখা<br />
যাচ্ছে না। অথচ সে নিজে ঐ যাত্রী<br />
নৌকায় নৌকা ঠেকিয়ে ছিল। নৌকায় নৌকায়<br />
ধাক্কা খাবার আওয়াজ পর্যন্ত শুনেছে।<br />
ঠিক খানিক বাদেই প্রচণ্ড বাতাসে তাদের<br />
নৌকা ডুবু ডুবু হয়ে পড়ে। হাসান দক্ষ<br />
ছেলে। ছোটবেলা থেকে নৌকা<br />
বেয়ে ওস্তাদ। কোনোমতে<br />
চাচাকে পাটাতনে শুইয়ে দিয়ে নৌকা<br />
টেনে ঘাঁটে লাগায়। তৈয়ব আলী টানা<br />
১সপ্তাহ কথা বলতে পারে নি এরপরে।<br />
এমনকি রাতে মাছ ধরাই ছেড়ে<br />
দিয়েছে।<br />
ঘটনা এখানে শেষ হলে ভালো<br />
হতো।কিন্তু শুধু তৈয়ব আলীই নয়,<br />
আরো অনেক জেলের সাথেই হুবুহু<br />
একই জিনিস ঘটেছে। পদ্মার চরে<br />
মাঝে মাঝেই জেলেরা মাছ ধরতে<br />
গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। প্রায়ই নৌকা<br />
ডুবির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে কোনো<br />
মিল আছে কি?<br />
তথ্যটি ভাল লাগলে লাইক কমেন্ট করুন<br />
এবং শেয়ার করে অন্যকে জানার<br />
সুযোগ করে দিন ॥]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[পদ্মার পাড়ে স্থায়ী জেলেদের<br />
মুখে শোনা যায় অনেক গা ছমছমে<br />
অভিজ্ঞতার কথা। বিশেষ করে গভীর<br />
রাতে যারা মাছ মারতে যায় তাদের কথা<br />
শুনে পিলে চমকে যায়।<br />
কয়েকজনের সাথে মুখোমুখি<br />
সাক্ষাতে কথা বলে জানতে পারি যে,<br />
ভোর হবার খানিক আগে নাকি নদী<br />
মোহনায় প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। এই<br />
লোভে স্থানীয় অনেক জেলেই<br />
ঐ সময়টা বেছে নেয় মাছ ধরার জন্য।<br />
যারা ঐ সময়ে মাছ ধরতে গিয়েছে<br />
তাদের প্রত্যেকেরই জীবনে<br />
কখনো না কখনো একটা অদ্ভুত ঘটনার<br />
মুখোমুখি হতে হয়েছে। ঘটনা খুবই<br />
সাধারণ। সবার প্রথমে যার সাথে কথা<br />
হলো তার নাম তৈয়ব মাঝি। নিজের<br />
ভাইপো হাসানকে সাথে নিয়ে তিনি এক<br />
রাতে মাছ ধরতে বের হোন। রাত ৩<br />
টার দিকে হঠাত করে নদীতে বাতাস<br />
একেবারে থেমে পরে। উল্লেখ্য,<br />
নদীতে বাতাস পরে যাওয়া মানে<br />
ঝড়ের পূর্বাভাস। তিনি হাসানকে বলেন<br />
হাল ঘুরিয়ে ফিরতি পথ ধরতে । উনারা মাছ<br />
ধরতে ধরতে অনেকটা ভেতরে<br />
চলে গিয়েছিলেন। হঠাত তারা উভয়ই<br />
লক্ষ্য করেন তাদের থেকে প্রায়<br />
মাইলখানেক সামনে দিয়ে একটি যাত্রী<br />
নৌকা যাচ্ছে। নৌকাটা হয়তো চোখে<br />
পড়তো না, কিন্তু অবাক লাগলো কারণ<br />
নৌকার উপরের ছাউনিতে একটা অদ্ভুত<br />
রঙের বাতি দেখা যায়।<br />
অনেকটা নীলচে আভা বের হচ্ছে<br />
সেই বাতি থেকে। মানুষগুলো<br />
হয়তো বিপদে পড়তে পারে ভেবে<br />
তৈয়ব দ্রুত বৈঠা বেয়ে হাসানের সাহায্যে<br />
ঐ নৌকার পাশে চলে যান। নৌকার ভেতর<br />
উঁকি দিয়ে চমকে উঠেন তৈয়ব। নৌকার<br />
কোনো মাঝি নেই। তার চেয়ে<br />
ভয়ঙ্কর হলো নৌকার পাটাতনে পরে<br />
আছে একগাদা লাশ। পুরনো লাশ। পচে<br />
গলে আছে। ছাউনির ভিতর একটা মরচে<br />
পড়া হারিকেনে আগুন জ্বলছে। তৈয়ব<br />
আলীর মুখ দিয়ে চিৎকার বেরিয়ে যায়।<br />
চাচাকে চিৎকার করতে দেখে বৈঠা<br />
ফেলে দ্রুত চাচার পাশে চলে আসে<br />
হাসান। দেখে তার চাচা মাথা ঘুরে পড়ে<br />
যাচ্ছে।<br />
দৌড়ে গিয়ে কোনোমতে চাচার পতন<br />
ঠেকায় সে। সাথে সাথে মাথা উঁচু করে<br />
সামনে তাকিয়ে দেখে সেখানে<br />
কোনো নৌকা দূরের কথা, আসে<br />
পাশে ঘন অন্ধকার ছাড়া কিছুই দেখা<br />
যাচ্ছে না। অথচ সে নিজে ঐ যাত্রী<br />
নৌকায় নৌকা ঠেকিয়ে ছিল। নৌকায় নৌকায়<br />
ধাক্কা খাবার আওয়াজ পর্যন্ত শুনেছে।<br />
ঠিক খানিক বাদেই প্রচণ্ড বাতাসে তাদের<br />
নৌকা ডুবু ডুবু হয়ে পড়ে। হাসান দক্ষ<br />
ছেলে। ছোটবেলা থেকে নৌকা<br />
বেয়ে ওস্তাদ। কোনোমতে<br />
চাচাকে পাটাতনে শুইয়ে দিয়ে নৌকা<br />
টেনে ঘাঁটে লাগায়। তৈয়ব আলী টানা<br />
১সপ্তাহ কথা বলতে পারে নি এরপরে।<br />
এমনকি রাতে মাছ ধরাই ছেড়ে<br />
দিয়েছে।<br />
ঘটনা এখানে শেষ হলে ভালো<br />
হতো।কিন্তু শুধু তৈয়ব আলীই নয়,<br />
আরো অনেক জেলের সাথেই হুবুহু<br />
একই জিনিস ঘটেছে। পদ্মার চরে<br />
মাঝে মাঝেই জেলেরা মাছ ধরতে<br />
গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। প্রায়ই নৌকা<br />
ডুবির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে কোনো<br />
মিল আছে কি?<br />
তথ্যটি ভাল লাগলে লাইক কমেন্ট করুন<br />
এবং শেয়ার করে অন্যকে জানার<br />
সুযোগ করে দিন ॥]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[আমার বাবার অসুস্থতা]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=936</link>
			<pubDate>Tue, 17 Jan 2017 13:03:04 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=936</guid>
			<description><![CDATA[আমার জীবনে ঘটে যাওয়া সত্য<br />
ঘটনা????????????<br />
আমি একজন হিন্দু ছেলে।তাই স্বভাবতই<br />
কুসংস্কারে বিশ্বাস করতাম।আমার বাবার<br />
অসুস্থতার কারনে চিকিৎসার জন্য ভারত<br />
যেতে হয়।বাবা অনেক জোর<br />
করলেও যেতে চাই নি।বাসায় আমি আর<br />
আমার বোন।মা চাকরি করেন নরসিংদী।<br />
বোন ছোট বলে পাঠিয়ে দেই<br />
সেখানে।ঘরে আমি একা।দিনের<br />
বেলায় খুব একটা ভয় না করলেও রাতের<br />
বেলায় করত।কারন দিনে বন্ধুদের<br />
সাথে থাকতাম।প্রথম তিনদিন কিছুই হল না।<br />
কাহিনী শুরু ৪ র্থ দিন থেকে।প্রথম ৩<br />
দিন প্রাকৃতিক কর্ম করিনি ভূতের ভয়ে।<br />
৪র্থ দিন কে আটকায়?গেলাম বাইরে।<br />
হঠাত দেখি পাশের বাড়ির দিবা নামের<br />
একটি মেয়ে আমার দিকে এসে<br />
বল্ল""তোর বাবা ইন্ডিয়া থেকে<br />
ফোন করেছে।বলেছে তোর<br />
সাথে থাকতে।"<br />
"আমি তো দেখি হাতে চাঁদ পেয়ে<br />
গেছি।একা বাড়িতে রাতে দুই কিশোর-<br />
কিশোরী।সেই কি যে কামুক ভাব।<br />
ছোট বেলা থেকেই তাকে নিয়ে<br />
স্বপ্ন দেখতাম।সে বল্ল,তোর বাবা<br />
আমাকে তোর সাথে সাথে থাকতে<br />
বলেছে।হঠাত এক কথা শুনতেই আমার<br />
মনে কেমন এক সন্দেহের ছোঁয়া<br />
এল।কারন আমার বাবা একজন<br />
এডভোকেট+সমাজসেবী।তিনি এই<br />
কথা বলবেন আমার জম্মেও জানা ছিল না।<br />
হঠাত বিদ্যুৎ চলে যায়।সে আমাকে<br />
বল্ল,দাড়া,আমি মোম জ্বালিয়ে দেই।<br />
মোম জ্বালাতেই দেখি তার চেহারাটা<br />
অনেক বেশি সাদা দেখাচ্ছে।আমার<br />
মনে ভয় জাগলেও পাত্তা না দিয়ে<br />
বাইরে গেলাম আবার প্রাকৃতিক কর্ম<br />
সারতে।ঘরে এসে দেখি মোম টা<br />
নিভে গেছে।মোম জ্বালিয়ে<br />
দেখলাম সে আমার ঘরে নেই।কম্পিত<br />
হাতে অন্য ঘরে গেলাম।নাহ,পেলাম না<br />
তাকে।বলাই হয় নি যে আমাদের বাসায়<br />
একটি কাজের মেয়েও থাকে।ওর নাম<br />
শিবানী।ও কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধী।<br />
গিয়ে দেখি ওর ঘারের মাংস অর্ধেক<br />
খাওয়া আর নীচের দিকে অর্ধেক<br />
নেই।নেই মানে নেই।দিবা আর দিবা<br />
নেই।<br />
সে হয়ে গেছে মানুষ খেকো।<br />
দিলাম ভো দৌর।বাইরে বেরিয়ে টিংকু<br />
কাকাকে(দিবার বাবা) ও শিশু কাকাকে (দিবার<br />
কাকা) ডাক দিলাম।এলাকার সবাই এসে হাজির।<br />
তখনো আমার সারা শরীর কাপছে।<br />
সবাইকে কাহিনী খুলে বললাম।সবাই<br />
শিবানীদির ঘরে গিয়ে দেখে সে<br />
বসে কাঁদছে।তার নাকি সারা শরীর<br />
যন্ত্রনা করছে।কিন্তু একটিও ক্ষত<br />
নেই।হঠাত পাশের বাসায় কান্নার রোল<br />
পড়ল।গিয়ে যা দেখলাম তা অবিশ্বাস্য।<br />
আমার থেকে ১ বছরের বড় দিবা মারা<br />
গেছে।জট খুলে গেল।<br />
আশ্চর্যকথা এই যে অভিষ্যির দিন<br />
থেকে শিবানীদির শরীরে পচন<br />
ধরে।আর দিবার শ্রাদ্ধের দিন সে মারা<br />
যায়।কিন্তু আমি এখনো জ্বরে ভুগছি।মারা<br />
যাব কিনা কে জানে।<br />
এটা আমার জীবনের সত্য কাহিনী।<br />
কষ্ট করে লিখলাম।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[আমার জীবনে ঘটে যাওয়া সত্য<br />
ঘটনা????????????<br />
আমি একজন হিন্দু ছেলে।তাই স্বভাবতই<br />
কুসংস্কারে বিশ্বাস করতাম।আমার বাবার<br />
অসুস্থতার কারনে চিকিৎসার জন্য ভারত<br />
যেতে হয়।বাবা অনেক জোর<br />
করলেও যেতে চাই নি।বাসায় আমি আর<br />
আমার বোন।মা চাকরি করেন নরসিংদী।<br />
বোন ছোট বলে পাঠিয়ে দেই<br />
সেখানে।ঘরে আমি একা।দিনের<br />
বেলায় খুব একটা ভয় না করলেও রাতের<br />
বেলায় করত।কারন দিনে বন্ধুদের<br />
সাথে থাকতাম।প্রথম তিনদিন কিছুই হল না।<br />
কাহিনী শুরু ৪ র্থ দিন থেকে।প্রথম ৩<br />
দিন প্রাকৃতিক কর্ম করিনি ভূতের ভয়ে।<br />
৪র্থ দিন কে আটকায়?গেলাম বাইরে।<br />
হঠাত দেখি পাশের বাড়ির দিবা নামের<br />
একটি মেয়ে আমার দিকে এসে<br />
বল্ল""তোর বাবা ইন্ডিয়া থেকে<br />
ফোন করেছে।বলেছে তোর<br />
সাথে থাকতে।"<br />
"আমি তো দেখি হাতে চাঁদ পেয়ে<br />
গেছি।একা বাড়িতে রাতে দুই কিশোর-<br />
কিশোরী।সেই কি যে কামুক ভাব।<br />
ছোট বেলা থেকেই তাকে নিয়ে<br />
স্বপ্ন দেখতাম।সে বল্ল,তোর বাবা<br />
আমাকে তোর সাথে সাথে থাকতে<br />
বলেছে।হঠাত এক কথা শুনতেই আমার<br />
মনে কেমন এক সন্দেহের ছোঁয়া<br />
এল।কারন আমার বাবা একজন<br />
এডভোকেট+সমাজসেবী।তিনি এই<br />
কথা বলবেন আমার জম্মেও জানা ছিল না।<br />
হঠাত বিদ্যুৎ চলে যায়।সে আমাকে<br />
বল্ল,দাড়া,আমি মোম জ্বালিয়ে দেই।<br />
মোম জ্বালাতেই দেখি তার চেহারাটা<br />
অনেক বেশি সাদা দেখাচ্ছে।আমার<br />
মনে ভয় জাগলেও পাত্তা না দিয়ে<br />
বাইরে গেলাম আবার প্রাকৃতিক কর্ম<br />
সারতে।ঘরে এসে দেখি মোম টা<br />
নিভে গেছে।মোম জ্বালিয়ে<br />
দেখলাম সে আমার ঘরে নেই।কম্পিত<br />
হাতে অন্য ঘরে গেলাম।নাহ,পেলাম না<br />
তাকে।বলাই হয় নি যে আমাদের বাসায়<br />
একটি কাজের মেয়েও থাকে।ওর নাম<br />
শিবানী।ও কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধী।<br />
গিয়ে দেখি ওর ঘারের মাংস অর্ধেক<br />
খাওয়া আর নীচের দিকে অর্ধেক<br />
নেই।নেই মানে নেই।দিবা আর দিবা<br />
নেই।<br />
সে হয়ে গেছে মানুষ খেকো।<br />
দিলাম ভো দৌর।বাইরে বেরিয়ে টিংকু<br />
কাকাকে(দিবার বাবা) ও শিশু কাকাকে (দিবার<br />
কাকা) ডাক দিলাম।এলাকার সবাই এসে হাজির।<br />
তখনো আমার সারা শরীর কাপছে।<br />
সবাইকে কাহিনী খুলে বললাম।সবাই<br />
শিবানীদির ঘরে গিয়ে দেখে সে<br />
বসে কাঁদছে।তার নাকি সারা শরীর<br />
যন্ত্রনা করছে।কিন্তু একটিও ক্ষত<br />
নেই।হঠাত পাশের বাসায় কান্নার রোল<br />
পড়ল।গিয়ে যা দেখলাম তা অবিশ্বাস্য।<br />
আমার থেকে ১ বছরের বড় দিবা মারা<br />
গেছে।জট খুলে গেল।<br />
আশ্চর্যকথা এই যে অভিষ্যির দিন<br />
থেকে শিবানীদির শরীরে পচন<br />
ধরে।আর দিবার শ্রাদ্ধের দিন সে মারা<br />
যায়।কিন্তু আমি এখনো জ্বরে ভুগছি।মারা<br />
যাব কিনা কে জানে।<br />
এটা আমার জীবনের সত্য কাহিনী।<br />
কষ্ট করে লিখলাম।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[পিকট চুক্তির অশুভ ছায়া]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=935</link>
			<pubDate>Tue, 17 Jan 2017 13:02:16 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=935</guid>
			<description><![CDATA[আজ থেকে প্রায় ৯৫ বছর আগে<br />
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে উসমানীয়<br />
সাম্রাজ্যের পরাজয়ের পর<br />
মধ্যপ্রাচ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্রিটেন<br />
ও ফ্যান্সের মধ্যে একটি গোপন<br />
চুক্তি হয়। সরকারিভাবে এটি ‘এশিয়া মাইনর’<br />
চুক্তি নামে পরিচিত হলেও ‘সাইকস-পিকট’<br />
চুক্তি নামেই তা বেশি পরিচিত। মাত্র এক<br />
বছর স্থায়ী ওই চুক্তির কথা মানুষ ভুলে<br />
গেলেও বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি<br />
ওই গোপন চুক্তির কথাই আবার<br />
বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দিচ্ছে।<br />
১৯১৫ সালের নভেম্বর থেকে ১৯১৬<br />
সালের মে মাসে এটি একটি উপসংহারে<br />
পৌঁছায়। এই গোপন চুক্তি ব্রিটেন ও<br />
ফ্রান্সের মধ্যে হলেও এতে<br />
রাশিয়ারও সম্মতি ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের<br />
নিয়ন্ত্রণ কুক্ষিগত করার জন্য<br />
ত্রিপক্ষীয় আঁতাতই ছিল এই চুক্তির মূল<br />
লক্ষ্য। চুক্তির আওতায় তৎকালীন<br />
উসমানীয় সাম্রাজ্যের অধীন আরব<br />
প্রদেশগুলোর ভবিষ্যৎ ব্রিটিশ ও ফরাসি<br />
নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলে বিভক্ত হয়।<br />
ব্রিটেনকে দেয়া হয় জর্ডান, দক্ষিণ<br />
ইরাক, হাইফা ও এক্রের বন্দরসহ আরো<br />
কিছু এলাকা যাতে তারা ভূমধ্যসাগর নিয়ন্ত্রণ<br />
করতে পারে। অন্য দিকে ফ্রান্সকে<br />
দক্ষিণপূর্ব তুরস্ক, উত্তর ইরাক, সিরিয়া ও<br />
লেবাননের বরাদ্দ দেয়া হয়। আর<br />
রাশিয়ার পাওয়ার কথা ছিল তুরস্কের<br />
ইস্তাম্বুল, আর্মেনিয়া ও বিলায়েভ<br />
অঞ্চল।<br />
ফরাসি পক্ষে কূটনীতিক ফ্রাঙ্কোস<br />
জর্জ পিকট ও ব্রিটেনের পক্ষে স্যার<br />
মার্ক সাইকস নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে<br />
সই করেন বলে এটির নামকরণ করা হয়<br />
সাইকস-পিকট চুক্তি। চুক্তিতে রাশিয়ার<br />
জারপন্থী সরকারের ভূমিকা ছিল<br />
অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী<br />
সময়ে ১৯১৭ সালের অক্টোবরে<br />
রুশ বিপ্লবের পর বলশেভিকরা চুক্তিটি<br />
প্রকাশ করে দেয়। এতে ব্রিটিশ ও<br />
ফরাসিরা বিব্রত হয়। অন্য দিকে আরবরা<br />
ইউরোপিয়ানদের গোপন আঁতাতের<br />
খবরে হয়ে পড়ে আতঙ্কিত আর<br />
তুর্কিরা হয় আনন্দিত।<br />
মাত্র এক বছর স্থায়ী শতবর্ষ প্রাচীন<br />
ওই চুক্তির কম্পন আজ আবার<br />
মধ্যপ্রাচ্যে অনুভূত হচ্ছে। সিরিয়ায় রুশ<br />
বিমান হামলা, ইরানের সাথে<br />
পরাশক্তিগুলোর পরমাণু চুক্তি, তুরস্কের<br />
সাথে রাশিয়ার অবনতিশীল সম্পর্কÑ<br />
এসব কিছুই যেন মধ্যপ্রাচ্যে<br />
ইউরোপের নতুন আধিপত্য বিস্তারের<br />
পটভূমি সৃষ্টি করছে। তবে প্রায় এক শ’<br />
বছর আগে ইউরোপ যে ভুল<br />
করেছিল এবার আর তা করবে না বলেই<br />
মনে হয়। সে সময় তারা নিজেদের<br />
চিবানোর ক্ষমতার বেশি মুখে পুরে<br />
ফেলেছিল বলে তা গিলতে পারেনি।<br />
তাই এবার সুযোগ পেলে আর সে ভুল<br />
করবে না।<br />
মধ্যপ্রাচ্যের ওপর ইউরোপ-<br />
আমেরিকার লোলুপদৃষ্টি নতুন<br />
কোনো বিষয় নয়। বহু আগে<br />
থেকেই তারা ওই অঞ্চলের সম্পদ<br />
কুক্ষিগত করার পাঁয়তারা করে চলেছে।<br />
আগে তারা গোটা অঞ্চল দখল করে<br />
নিতে চাইত। এখন কৌশল পাল্টিয়ে সামরিক<br />
অভিযান, অর্থনৈতিক অবরোধ বা কথিত<br />
চুক্তির নামে তারা মধ্যপ্রাচ্যের সম্পদ<br />
নিজেদের দখলে রাখতে চাইছে।<br />
প্রায় শত বছর আগে সাইকস-পিকট চুক্তির<br />
মাধ্যমে ব্রিটেন-ফ্রান্স ও রাশিয়া<br />
মধ্যপ্রাচ্যকে ভাগ করে নেয়ার<br />
চক্রান্ত করেছিল। কিন্তু সে সময় তা<br />
সফল হয়নি। কামাল আতাতুর্কের<br />
নেতৃত্বে তুরস্ক সে সময়<br />
দখলদারদের বিরুদ্ধে জোরালো<br />
ভূমিকা রেখেছিল।<br />
শতবর্ষ পরে এসে এখন<br />
দখলদারিত্বের ধরন পাল্টে গেছে।<br />
ইরানের কথাই ধরা যাক। সম্পদ ও<br />
শক্তিতে বিশ্বের অন্যতম একটি দেশ।<br />
হুমকি-ধমকি দিয়ে একে বশে আনতে<br />
না পেরে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর<br />
অবরোধ আরোপ করে। ইরাক বা<br />
আফগানিস্তানের মতো সামরিক অভিযান<br />
চালিয়ে ইরানকে ‘শিক্ষা’ দিতে গেলে<br />
খরচের ধকল সামাল দেয়া কঠিন হবে।<br />
তাই ‘পরমাণু চুক্তি’র জন্য ইরানকে চাপ<br />
দিতে থাকে ইউরোপ ও আমেরিকা,<br />
ছলে বলে কৌশলে শেষ পর্যন্ত<br />
ইরানকে একটি চুক্তিতে রাজি করায় তারা।<br />
কয়েক মাস আগে সই হয় পরমাণু<br />
নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি।<br />
ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তেহরানের<br />
কাছে মজুদ ইউরেনিয়াম অন্যত্র সরিয়ে<br />
নিতে হবে। তার বদলে ইরানের ওপর<br />
থেকে তুলে নেয়া হবে প্রায় এক<br />
দশক ধরে জারি থাকা অর্থনৈতিক<br />
নিষেধাজ্ঞা। এতে করে ইরান তার<br />
ইচ্ছামতো বিশ্বের যেকোনো<br />
দেশে তেল বিক্রি করতে পারবে।<br />
চুক্তি অনুযায়ী ইরান তেল বিক্রি করতে<br />
পারছে ঠিকই কিন্তু দাম অস্বাভাবিক কমে<br />
যাওয়ায় লাভ পাচ্ছে না। অন্য দিকে তুলনায়<br />
কম শক্তিশালী হলেও ইরানের কাছে<br />
যে ইউরেনিয়ামের মজুদ ছিল তার মূল্য<br />
প্রায় ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। চুক্তি<br />
অনুযায়ী এর সবটুকুই এখন বলতে<br />
গেলে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে।<br />
সম্প্রতি একটি রুশ জাহাজে করে ওই<br />
ইউরেনিয়াম অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে<br />
নিয়েছে আমেরিকা। ফলে অদূর<br />
ভবিষ্যতে ইরানের পক্ষে আর পরমাণু<br />
অস্ত্র বানানো সম্ভব হবে না। অর্থাৎ<br />
রাশিয়া আর আমেরিকা মিলে ইরানকে<br />
‘খোঁড়া’ করে দিলো, ভেঙে দিলো<br />
ইরানের ‘বিষদাঁত’।<br />
আর এই কাজটা যে সফলভাবেই করা<br />
গেছে গত সপ্তাহে তার ঘোষণা<br />
দিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন<br />
কেরি। তার ভাষায়, ‘প্রতিশ্রুতি রাখতে ইরান<br />
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি<br />
সম্পন্ন করেছে।’ আর যাদের<br />
জাহাজে করে ওই ইউরেনিয়াম তেহরান<br />
থেকে তুলে নেয়া হয়েছে সেই<br />
রুশ পরমাণু সংস্থা ‘রোসাটম’-এর একজন<br />
মুখপাত্র পরে ওই মার্কিন ঘোষণার<br />
সত্যতা স্বীকার করেছেন। সাত বছর<br />
ধরে ইরানকে বাগে আনতে চেষ্টা<br />
চালিয়েছে ইউরোপ ও আমেরিকা।<br />
অবশেষে তারা সফল হয়েছে।<br />
আমেরিকার আগামী প্রেসিডেন্ট<br />
নির্বাচনের এক বছর আগে ইরানকে<br />
পারমাণবিকভাবে দুর্বল করে দেয়াটা<br />
ওবামা প্রশাসনের বিদেশনীতির একটি<br />
বড় সাফল্য বলে মনে করছেন<br />
কূটনীতিকেরা।<br />
এবার আসা যাক মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি<br />
গুরুত্বপূর্ণ দেশ সিরিয়ার কথায়।<br />
দেশটিকে কব্জা করতে যেন<br />
উঠেপড়ে লেগেছে পশ্চিমারা। রাশিয়া<br />
চাইছে ক্ষমতাসীন আসাদ সরকারকে<br />
বহাল রেখে সিরিয়ার সম্পদ হাতিয়ে<br />
নিতে। এ জন্য তারা সেখানে সরাসরি<br />
সামরিক অভিযানের মতো কঠিন ও<br />
ব্যয়বহুল পথে পা বাড়াতেও পিছপা হয়নি।<br />
সিরিয়ায় আইএস ঘাঁটিতে অভিযানের নামে<br />
রাশিয়া যে সেখানে<br />
সরকারবিরোধীদের দমন করছে তা<br />
এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। রাশিয়ার<br />
উদ্দেশ্য আসাদ সরকারকে রক্ষা<br />
করতে পারলে পরবর্তীকালে তার<br />
কাছ থেকে সব রকমের সুযোগ-<br />
সুবিধা আদায় করা যাবে। অন্য দিকে<br />
যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, ন্যাটোও সিরিয়ায়<br />
আইএস দমনের কথা বলছে।<br />
কিন্তু এই কথিত এই আইএস জঙ্গি কারা?<br />
প্রচার করা হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ<br />
থেকে নাকি সদস্য সংগ্রহ করছে<br />
আইএস। এসব সদস্যের মধ্যে বেশির<br />
ভাগই সাধারণ তরুণ, ছাত্র। এমনকি মহিলারাও<br />
নাকি যোগ দিচ্ছে আইএসে। প্রশ্ন<br />
দেখা দিয়েছে, এসব সাধারণ তরুণ ও<br />
মহিলারা কিভাবে আমেরিকা-রাশিয়ার<br />
মদদপুষ্ট সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে<br />
সমানতালে লড়াই করছে? কোথায়<br />
তাদের অস্ত্রের উৎস, কোথায়<br />
তাদের শক্তির ভাণ্ডার? অনেকে<br />
ইতোমধ্যে বলতে শুরু করেছে<br />
আইএস আসলে ইসরাইল ও আমেরিকারই<br />
সৃষ্টি। তাদের অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যকে<br />
খণ্ড-বিখণ্ড করে এর সব সম্পদ<br />
কুক্ষিগত করার জন্য তারা ওই অঞ্চলে<br />
আইএসের বীজ বপন করেছে।<br />
এখন আইএস দমনের নামে চালাচ্ছে<br />
মধ্যপ্রাচ্য দখলের পাঁয়তারা।<br />
কে জানে এ জন্য পশ্চিমারা ভুলে যাওয়া<br />
সাইকস-পিকট চুক্তির মতো নতুন<br />
কোনো গোপন চুক্তির খসড়া তৈরি<br />
করছে কি না?]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[আজ থেকে প্রায় ৯৫ বছর আগে<br />
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে উসমানীয়<br />
সাম্রাজ্যের পরাজয়ের পর<br />
মধ্যপ্রাচ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্রিটেন<br />
ও ফ্যান্সের মধ্যে একটি গোপন<br />
চুক্তি হয়। সরকারিভাবে এটি ‘এশিয়া মাইনর’<br />
চুক্তি নামে পরিচিত হলেও ‘সাইকস-পিকট’<br />
চুক্তি নামেই তা বেশি পরিচিত। মাত্র এক<br />
বছর স্থায়ী ওই চুক্তির কথা মানুষ ভুলে<br />
গেলেও বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি<br />
ওই গোপন চুক্তির কথাই আবার<br />
বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দিচ্ছে।<br />
১৯১৫ সালের নভেম্বর থেকে ১৯১৬<br />
সালের মে মাসে এটি একটি উপসংহারে<br />
পৌঁছায়। এই গোপন চুক্তি ব্রিটেন ও<br />
ফ্রান্সের মধ্যে হলেও এতে<br />
রাশিয়ারও সম্মতি ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের<br />
নিয়ন্ত্রণ কুক্ষিগত করার জন্য<br />
ত্রিপক্ষীয় আঁতাতই ছিল এই চুক্তির মূল<br />
লক্ষ্য। চুক্তির আওতায় তৎকালীন<br />
উসমানীয় সাম্রাজ্যের অধীন আরব<br />
প্রদেশগুলোর ভবিষ্যৎ ব্রিটিশ ও ফরাসি<br />
নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলে বিভক্ত হয়।<br />
ব্রিটেনকে দেয়া হয় জর্ডান, দক্ষিণ<br />
ইরাক, হাইফা ও এক্রের বন্দরসহ আরো<br />
কিছু এলাকা যাতে তারা ভূমধ্যসাগর নিয়ন্ত্রণ<br />
করতে পারে। অন্য দিকে ফ্রান্সকে<br />
দক্ষিণপূর্ব তুরস্ক, উত্তর ইরাক, সিরিয়া ও<br />
লেবাননের বরাদ্দ দেয়া হয়। আর<br />
রাশিয়ার পাওয়ার কথা ছিল তুরস্কের<br />
ইস্তাম্বুল, আর্মেনিয়া ও বিলায়েভ<br />
অঞ্চল।<br />
ফরাসি পক্ষে কূটনীতিক ফ্রাঙ্কোস<br />
জর্জ পিকট ও ব্রিটেনের পক্ষে স্যার<br />
মার্ক সাইকস নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে<br />
সই করেন বলে এটির নামকরণ করা হয়<br />
সাইকস-পিকট চুক্তি। চুক্তিতে রাশিয়ার<br />
জারপন্থী সরকারের ভূমিকা ছিল<br />
অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী<br />
সময়ে ১৯১৭ সালের অক্টোবরে<br />
রুশ বিপ্লবের পর বলশেভিকরা চুক্তিটি<br />
প্রকাশ করে দেয়। এতে ব্রিটিশ ও<br />
ফরাসিরা বিব্রত হয়। অন্য দিকে আরবরা<br />
ইউরোপিয়ানদের গোপন আঁতাতের<br />
খবরে হয়ে পড়ে আতঙ্কিত আর<br />
তুর্কিরা হয় আনন্দিত।<br />
মাত্র এক বছর স্থায়ী শতবর্ষ প্রাচীন<br />
ওই চুক্তির কম্পন আজ আবার<br />
মধ্যপ্রাচ্যে অনুভূত হচ্ছে। সিরিয়ায় রুশ<br />
বিমান হামলা, ইরানের সাথে<br />
পরাশক্তিগুলোর পরমাণু চুক্তি, তুরস্কের<br />
সাথে রাশিয়ার অবনতিশীল সম্পর্কÑ<br />
এসব কিছুই যেন মধ্যপ্রাচ্যে<br />
ইউরোপের নতুন আধিপত্য বিস্তারের<br />
পটভূমি সৃষ্টি করছে। তবে প্রায় এক শ’<br />
বছর আগে ইউরোপ যে ভুল<br />
করেছিল এবার আর তা করবে না বলেই<br />
মনে হয়। সে সময় তারা নিজেদের<br />
চিবানোর ক্ষমতার বেশি মুখে পুরে<br />
ফেলেছিল বলে তা গিলতে পারেনি।<br />
তাই এবার সুযোগ পেলে আর সে ভুল<br />
করবে না।<br />
মধ্যপ্রাচ্যের ওপর ইউরোপ-<br />
আমেরিকার লোলুপদৃষ্টি নতুন<br />
কোনো বিষয় নয়। বহু আগে<br />
থেকেই তারা ওই অঞ্চলের সম্পদ<br />
কুক্ষিগত করার পাঁয়তারা করে চলেছে।<br />
আগে তারা গোটা অঞ্চল দখল করে<br />
নিতে চাইত। এখন কৌশল পাল্টিয়ে সামরিক<br />
অভিযান, অর্থনৈতিক অবরোধ বা কথিত<br />
চুক্তির নামে তারা মধ্যপ্রাচ্যের সম্পদ<br />
নিজেদের দখলে রাখতে চাইছে।<br />
প্রায় শত বছর আগে সাইকস-পিকট চুক্তির<br />
মাধ্যমে ব্রিটেন-ফ্রান্স ও রাশিয়া<br />
মধ্যপ্রাচ্যকে ভাগ করে নেয়ার<br />
চক্রান্ত করেছিল। কিন্তু সে সময় তা<br />
সফল হয়নি। কামাল আতাতুর্কের<br />
নেতৃত্বে তুরস্ক সে সময়<br />
দখলদারদের বিরুদ্ধে জোরালো<br />
ভূমিকা রেখেছিল।<br />
শতবর্ষ পরে এসে এখন<br />
দখলদারিত্বের ধরন পাল্টে গেছে।<br />
ইরানের কথাই ধরা যাক। সম্পদ ও<br />
শক্তিতে বিশ্বের অন্যতম একটি দেশ।<br />
হুমকি-ধমকি দিয়ে একে বশে আনতে<br />
না পেরে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর<br />
অবরোধ আরোপ করে। ইরাক বা<br />
আফগানিস্তানের মতো সামরিক অভিযান<br />
চালিয়ে ইরানকে ‘শিক্ষা’ দিতে গেলে<br />
খরচের ধকল সামাল দেয়া কঠিন হবে।<br />
তাই ‘পরমাণু চুক্তি’র জন্য ইরানকে চাপ<br />
দিতে থাকে ইউরোপ ও আমেরিকা,<br />
ছলে বলে কৌশলে শেষ পর্যন্ত<br />
ইরানকে একটি চুক্তিতে রাজি করায় তারা।<br />
কয়েক মাস আগে সই হয় পরমাণু<br />
নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি।<br />
ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তেহরানের<br />
কাছে মজুদ ইউরেনিয়াম অন্যত্র সরিয়ে<br />
নিতে হবে। তার বদলে ইরানের ওপর<br />
থেকে তুলে নেয়া হবে প্রায় এক<br />
দশক ধরে জারি থাকা অর্থনৈতিক<br />
নিষেধাজ্ঞা। এতে করে ইরান তার<br />
ইচ্ছামতো বিশ্বের যেকোনো<br />
দেশে তেল বিক্রি করতে পারবে।<br />
চুক্তি অনুযায়ী ইরান তেল বিক্রি করতে<br />
পারছে ঠিকই কিন্তু দাম অস্বাভাবিক কমে<br />
যাওয়ায় লাভ পাচ্ছে না। অন্য দিকে তুলনায়<br />
কম শক্তিশালী হলেও ইরানের কাছে<br />
যে ইউরেনিয়ামের মজুদ ছিল তার মূল্য<br />
প্রায় ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। চুক্তি<br />
অনুযায়ী এর সবটুকুই এখন বলতে<br />
গেলে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে।<br />
সম্প্রতি একটি রুশ জাহাজে করে ওই<br />
ইউরেনিয়াম অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে<br />
নিয়েছে আমেরিকা। ফলে অদূর<br />
ভবিষ্যতে ইরানের পক্ষে আর পরমাণু<br />
অস্ত্র বানানো সম্ভব হবে না। অর্থাৎ<br />
রাশিয়া আর আমেরিকা মিলে ইরানকে<br />
‘খোঁড়া’ করে দিলো, ভেঙে দিলো<br />
ইরানের ‘বিষদাঁত’।<br />
আর এই কাজটা যে সফলভাবেই করা<br />
গেছে গত সপ্তাহে তার ঘোষণা<br />
দিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন<br />
কেরি। তার ভাষায়, ‘প্রতিশ্রুতি রাখতে ইরান<br />
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি<br />
সম্পন্ন করেছে।’ আর যাদের<br />
জাহাজে করে ওই ইউরেনিয়াম তেহরান<br />
থেকে তুলে নেয়া হয়েছে সেই<br />
রুশ পরমাণু সংস্থা ‘রোসাটম’-এর একজন<br />
মুখপাত্র পরে ওই মার্কিন ঘোষণার<br />
সত্যতা স্বীকার করেছেন। সাত বছর<br />
ধরে ইরানকে বাগে আনতে চেষ্টা<br />
চালিয়েছে ইউরোপ ও আমেরিকা।<br />
অবশেষে তারা সফল হয়েছে।<br />
আমেরিকার আগামী প্রেসিডেন্ট<br />
নির্বাচনের এক বছর আগে ইরানকে<br />
পারমাণবিকভাবে দুর্বল করে দেয়াটা<br />
ওবামা প্রশাসনের বিদেশনীতির একটি<br />
বড় সাফল্য বলে মনে করছেন<br />
কূটনীতিকেরা।<br />
এবার আসা যাক মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি<br />
গুরুত্বপূর্ণ দেশ সিরিয়ার কথায়।<br />
দেশটিকে কব্জা করতে যেন<br />
উঠেপড়ে লেগেছে পশ্চিমারা। রাশিয়া<br />
চাইছে ক্ষমতাসীন আসাদ সরকারকে<br />
বহাল রেখে সিরিয়ার সম্পদ হাতিয়ে<br />
নিতে। এ জন্য তারা সেখানে সরাসরি<br />
সামরিক অভিযানের মতো কঠিন ও<br />
ব্যয়বহুল পথে পা বাড়াতেও পিছপা হয়নি।<br />
সিরিয়ায় আইএস ঘাঁটিতে অভিযানের নামে<br />
রাশিয়া যে সেখানে<br />
সরকারবিরোধীদের দমন করছে তা<br />
এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। রাশিয়ার<br />
উদ্দেশ্য আসাদ সরকারকে রক্ষা<br />
করতে পারলে পরবর্তীকালে তার<br />
কাছ থেকে সব রকমের সুযোগ-<br />
সুবিধা আদায় করা যাবে। অন্য দিকে<br />
যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, ন্যাটোও সিরিয়ায়<br />
আইএস দমনের কথা বলছে।<br />
কিন্তু এই কথিত এই আইএস জঙ্গি কারা?<br />
প্রচার করা হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ<br />
থেকে নাকি সদস্য সংগ্রহ করছে<br />
আইএস। এসব সদস্যের মধ্যে বেশির<br />
ভাগই সাধারণ তরুণ, ছাত্র। এমনকি মহিলারাও<br />
নাকি যোগ দিচ্ছে আইএসে। প্রশ্ন<br />
দেখা দিয়েছে, এসব সাধারণ তরুণ ও<br />
মহিলারা কিভাবে আমেরিকা-রাশিয়ার<br />
মদদপুষ্ট সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে<br />
সমানতালে লড়াই করছে? কোথায়<br />
তাদের অস্ত্রের উৎস, কোথায়<br />
তাদের শক্তির ভাণ্ডার? অনেকে<br />
ইতোমধ্যে বলতে শুরু করেছে<br />
আইএস আসলে ইসরাইল ও আমেরিকারই<br />
সৃষ্টি। তাদের অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যকে<br />
খণ্ড-বিখণ্ড করে এর সব সম্পদ<br />
কুক্ষিগত করার জন্য তারা ওই অঞ্চলে<br />
আইএসের বীজ বপন করেছে।<br />
এখন আইএস দমনের নামে চালাচ্ছে<br />
মধ্যপ্রাচ্য দখলের পাঁয়তারা।<br />
কে জানে এ জন্য পশ্চিমারা ভুলে যাওয়া<br />
সাইকস-পিকট চুক্তির মতো নতুন<br />
কোনো গোপন চুক্তির খসড়া তৈরি<br />
করছে কি না?]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[যাক নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নিতে পারব]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=934</link>
			<pubDate>Tue, 17 Jan 2017 13:01:01 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=934</guid>
			<description><![CDATA[আমার নাম রহমান। জুয়েল রহমান। পেশায়<br />
ডাক্তার। থাকি ঢাকায়। আমি ভূত বিশ্বাস করি না।<br />
ভূত কেন আমিতো ঈশ্বরকেও বিশ্বাস<br />
করিনা। যে সময় মানুষ চাঁদে যাচ্ছে,<br />
মঙ্গলগ্রহ জয় করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ,<br />
সেই যুগে আমি ভূত নামক মানুষ সৃষ্ট<br />
একটা ভ্রান্ত ধারণাকে মনে ঠাঁই দিতে<br />
পারিনা। আমার বন্ধুরা আমকে নাস্তিক<br />
বলে। বলুক। আমার তাতে কিছু যায়<br />
আসে না। আমি আমার বিশ্বাসে অটল।<br />
কেউ টিটকারি দিয়ে আমকে আমার<br />
বিশ্বাস থেকে একটুও নড়াতে<br />
পারবেনা। আমি নাস্তিক। একজন নাস্তিক<br />
মানুষ। 6 জুলাই, 2006। রাতে ডিনার করে<br />
ইজিচেয়ারে বসে একটা বই পড়ছিলাম।<br />
এসময় বিকট শব্দে বেজে উঠল আমার<br />
পুরনো আমলের টেলিফোন<br />
সেটটা। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে<br />
শুনতে পেলাম আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু<br />
আবিরের কন্ঠস্বর। কাজ করে করে<br />
একেবারে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম।<br />
আবিরকে বলেছিলাম কক্সবাজারের<br />
একটা টিকিট কনফার্ম করে রাখতে।<br />
একারনেই ফোন করেছে ও।<br />
পরশুদিন বিকাল 5 টায় ফ্লাইট। খুশি হয়ে<br />
উঠল মনটা। যাক কয়েকটা দিনতো<br />
অন্তত নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নিতে পারব। 8,<br />
জুলাই।<br />
যথাসময়ে রওনা দিলাম আমি। চট্টগ্রাম<br />
পৌঁছতে সন্ধ্যা 7টা বেজে গেল।<br />
ট্যাক্সির খোঁজে এদিক ওদিক তাকাতেই<br />
একটা ট্যাক্সি এসে আমার সামনে<br />
দাঁড়ালো। ট্যাক্সির ড্রাইভারের বয়স<br />
বড়জোর 26 কি 27 হবে। কক্সবাজার<br />
যাবে কিনা জিজ্ঞাসা করলাম। যাবে। উঠে<br />
বসতেই ট্যাক্সি ছাড়ল ও কক্সবাজারের<br />
উদ্দেশ্যে। বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ<br />
বসে থাকলাম। কিন্তু কতক্ষণ আর চুপচাপ<br />
বসে থাকা যায়? তাই ঠিক করলাম ড্রাইভার<br />
ছেলেটার সাথেই আলাপ জমাবো।<br />
“নাম কি তোমার?“ আলাপ জমানোর<br />
প্রথম পদক্ষেপ হল প্রথমে<br />
অন্যজনের নাম জিজ্ঞাসা করা, তাই নাম<br />
দিয়েই আলাপ শুরু করলাম আমি। “জনি,“<br />
একটু হেসে উত্তর দিল সে। ওর কাছ<br />
থেকে জানলাম ও গ্রাজুয়েশন<br />
করেছে। কিন্তু কোনও চাকরি না<br />
পেয়ে শেষে ট্যাক্সি চালানো শুরু<br />
করেছে। আলাপ করতে করতেই<br />
চারদিকের অন্ধকারাচছন্ন দৃশ্য দেখতে<br />
লাগলাম আমি। এক ঘন্টা হয়ে গেছে<br />
প্রায়। সিটে হেলান দিয়ে ঝিমাতে<br />
লাগলাম আমি। হঠাৎ একটা ঝাঁকুনিতে উঠে<br />
বসলাম। “কি ব্যাপার, জনি?“ জিজ্ঞাসা করলাম<br />
আমি। “টায়ার পাংচার হয়ে গেছে, স্যার।<br />
গাড়িতে এক্সট্রা কোন টায়ারও নাই,“<br />
বিব্রত ভঙ্গিতে উত্তর দিল জনি।<br />
“সেকি? এখন কি করব?“ কিছুটা রাগতো<br />
স্বরে বললাম আমি। “একটা ফোন করা<br />
লাগবে, স্যার“। “ ফোন এখানে<br />
কোথায় পাব। নির্জন রাস্তা ছাড়া কোনও<br />
বাড়িঘর বা দোকানপাটতো চোখে<br />
পড়ছেনা।“ বললাম আমি। হঠাৎ একদিকে<br />
আঙুল তুললো জনি “ঐ দেখেন স্যার<br />
একটা বাড়ি“। ওর নির্দেশিত দিকে তাকালাম<br />
আমি। সত্যিই তো একটা বাড়ি দেখা<br />
যাচ্ছে। “জনি চলতো দেখি ওই বাড়িতে<br />
টেলিফোন পাওয়া যায় কিনা?“ বললাম আমি।<br />
বেশী দূরে না বাড়িটা। তবে আমদের<br />
অবস্থান থেকে বাড়িটা পর্যন্ত ঘন<br />
ঝোপঝারে ভরা। বাড়িটাতে পৌঁছে<br />
চারদিকে তাকালাম দরজার খোঁজে।<br />
পেয়েও গেলাম দরজাটা।<br />
ডোরবেলের খোঁজ করলাম দরজার<br />
আশেপাশে, কিন্তু পেলাম না। “চুলোয়<br />
যাক ডোরবেল,“ বলে দরজায় নক<br />
করল জনি। ভেতর থেকে কোনও<br />
সাড়াশব্দ পেলাম না। এবার জোরে<br />
জোরে দরজায় বাড়ি দিতে লাগল ও।<br />
একটু পর ভিতর থেকে মৃদু পায়ের<br />
আওয়াজ পেলাম। ভীত মুখে বয়স<br />
তিরিশেক একজন মহিলা দরজা খুলে দিল।<br />
সন্দেহ ভরা দৃষ্টি নিয়ে আমদের<br />
দুজনকে দেখল। “কে আপনারা?“<br />
ভীত কন্ঠে জিজ্ঞাসা করলেন তিনি।<br />
আমি আমাদের সব সমস্যার কথা খুলে<br />
বলতেই ভিতরে ডাকলেন আমাদের।<br />
তারপর জনকে দেখিয়ে দিলেন<br />
কোন ঘরে টেলিফোন আছে।<br />
জন চলে গেল টেলিফোন করতে।<br />
ভদ্রমহিলা আমাকে সোফায় বসতে<br />
বললেন। বসে থেকে ঘরের<br />
চারদিকে চোখ বুলাতে লাগলাম আমি।<br />
দেয়ালে দেখলাম ঐ ভদ্রমহিলা এবং এক<br />
ভদ্রলোকের ছবি। আমাকে ছবির<br />
দিকে তাকাতে দেখে মহিলা নিজেই<br />
বললেন “উনি আমার স্বামী, গত বছর<br />
সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।” “ওহ! আমি<br />
দুঃখিত।” উঁনাকে এই বিষয়ে আর কোন<br />
প্রশ্ন করে বিব্রত করতে চাইলামনা। “<br />
আপনারা বসুন, আমি চা নিয়ে আসি,”<br />
আমাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে<br />
উনি দ্রুত রান্নাঘরের দিকে চলে<br />
গেলেন। জনি এখনও আসেনি। চুপচাপ<br />
বসে আছি। এমন সময় সামনের ঘরের<br />
দরজা খুলে গেল।<br />
ভেতর থেকে বের হয়ে আসলো<br />
একজন লোক। তাকে দেখেই<br />
চমকে উঠলাম আমি। চট করে ছবির<br />
দিকে তাকালাম, না কোনও সন্দেহ<br />
নেই। ছবির ঐ ভদ্রলোক। ভদ্রলোক<br />
আমাকে দেখে অবাক হলেন। “কে<br />
আপনি, আমার বাসায় ঢুকলেন<br />
কীভাবে?”এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস<br />
করলেন তিনি। “আপনি,” ওনার প্রশ্নের<br />
উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করলাম,<br />
“আপনি জীবিত আছেন? কিন্তু উনি যে<br />
বললেন.........” “আমি জীবিত আছি<br />
মানে? কি বলতে চাইছেন আপনি,”<br />
বিস্ময় ফুটে উঠল তার চেহারায়।<br />
“আপনার স্ত্রী বললেন আপনি মারা<br />
গেছেন,” বললাম আমি। রাগ ফুটে উঠল<br />
তার চেহারায়,“ইয়ারকি করছেন আপনি<br />
আমার সাথে? কি যাতা বলছেন আমার মৃতা<br />
স্ত্রী সম্পর্কে?” “মৃতা স্ত্রী,”<br />
বোমা ফাটল যেন আমার কানের<br />
পাশে,“কি সব উল্টো পাল্টা কথা<br />
বলছেন আপনি, আপনার স্ত্রী তো<br />
বেঁচে আছেন। চা বানাতে গেছেন<br />
আমাদের জন্য,“ চেঁচিয়ে উঠলাম আমি।<br />
“দেখুন যথেষ্ট হয়েছে,<br />
একেতো বিনা অনুমতিতে আমার<br />
বাড়িতে ঢুকেছেন, আবার আমার মৃতা<br />
স্ত্রী সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলছেন।<br />
আমি..........।” কথা শেষ করতে<br />
পারলেননা উনি কারণ জনি এসে<br />
দাঁড়িয়েছে দরজার সামনে। অবাক হয়ে<br />
জনির দিকে তাকালেন তিনি। “তুমি কে,”<br />
তার কন্ঠে স্পষ্ট বিরক্তি “ কেউ কি<br />
আমকে বলবে কি হচেছ এখনে?”<br />
“দেখুন মিস্টার....... ,” “আমান, আমি আমান<br />
চৌধুরি,” ধরিয়ে দিলেন তিনি। “ওকে,<br />
মিস্টার আমান চৌধুরি, দেখুন আমদের<br />
গাড়ির টায়ার আপনার বাড়ির সামনে এসে<br />
পাংচার হয়ে যায়, আমরা আপনার দরজা নক<br />
করতে আপনার স্ত্রী দরজা খুলে<br />
দেয় আর আমকে এখানে বসায়ে<br />
রেখে উনি চা বানাতে গেছেন, দয়া<br />
করে রান্নাঘরে যেয়ে উনাকে<br />
জিজ্ঞাসা করুন।”<br />
“আমি জানিনা আপনি কি বলছেন, কিন্তু<br />
আমার স্ত্রী গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায়<br />
মারা গেছেন,” বললেন আমান চৌধুরি।<br />
“What the hell you are talking about,”<br />
প্রায় চেঁচিয়ে উঠলাম আমি, “আমরা একটু<br />
আগে উনার সাথে কথা বলেছি, জনি তুমিই<br />
বল।” “ আমি জানিনা আপনারা নেশা<br />
করেছেন কিনা কিন্তু আমার স্ত্রী<br />
গতবছরই মারা গেছে।” “Please trust<br />
me, MR. Aman, আমরা দুজন একসাথে<br />
ভুল দেখতে পারিনা।” “তাহলে আপনারা<br />
নিশ্চয়ই ওর আত্মাকে দেখেছেন,”<br />
রাগ সরে গিয়ে হাসি হাসি হয়ে উঠল তার<br />
মুখটা। “আত্মা! কি বলছেন আপনি?” “ঠিকই<br />
বলছি, কারণ এখন আমি ওর আত্মাকে<br />
আপনাদের পিছনে দেখতে পাচ্ছি।”<br />
পিছনে ঘুরেই চমকে গেলাম আমরা, ঐ<br />
মহিলাই হাস্যজ্বল মুখে দাঁড়িয়ে আছেন।<br />
“সরি মিস্টার..... , ওহ আপনার নামটাই তো<br />
জানা হয়নি, যাইহোক আমি পলি চৌধুরী,<br />
আমানের স্ত্রী।” হাসিমুখে বললেন<br />
উনি। “ আমরা সত্যিই দুঃখিত মিস্টার.......”<br />
জিজ্ঞাসার ভঙ্গিতে আমান চৌধুরি তাকালেন<br />
আমার দিকে। “রহমান, আমি জুয়েল<br />
রহমান।” নাম বললাম আমি। “ওকে, মিস্টার<br />
জুয়েল রহমান, আমরা সত্যিই দুঃখিত, জাস্ট<br />
একটু ফান করলাম আপনাদের সাথে।”<br />
“ফান?” বুঝতে না পেরে জিজ্ঞাসা<br />
করলাম আমি।<br />
“হ্যা, ফান। আসলে আমরা দুজন<br />
লোকালয় থেকে অনেক দূরে থাকি।<br />
দুজনের সংসার। জরুরী কাজ ছাড়া শহরে<br />
যাওয়া হয় না খুব একটা। মানুষের সাথে খুব<br />
বেশী মেশাও হয় না। একেবারে<br />
রসকষহীন জীবনযাপন করি। তাই জানালা<br />
দিয়ে আপনাদের আসতে দেখে<br />
ভাবলাম একটু ফান করা যাক। তাই দুজনে<br />
একটু ভূতের অভিনয় করলাম। যাইহোক<br />
ভাই, কিছু মনে করেন না।” হাসলেন<br />
আমান চৌধুরি। হাসলাম আমিও। এতক্ষণে সব<br />
বুঝতে পারলাম। জনির মুখটা ভয়ে<br />
ফ্যাকাশে হয়ে গেছিল এইসব কাণ্ড<br />
কারখানা দেখে। এবার সব কিছু বুঝতে<br />
পেরে শান্ত হয়ে আমার পাশে এসে<br />
বসল। মিসেস আমান আমাদের চা নাশতা<br />
পরিবেশন করলেন। একটু পর দরজায়<br />
শব্দ হল। মেকানিক এসে গেছে। দশ<br />
মিনিটও লাগলনা টায়ার পাল্টাতে। মিস্টার এবং<br />
মিসেস আমানকে বিদায় জানায়ে আমি<br />
আর জনি আবার রওনা হলাম। ঘড়ির দিকে<br />
তাকিয়ে দেখলাম সাড়ে দশটা বেজে<br />
গেছে। “স্যার, খুব ভয় পেয়েছিলেন<br />
বুঝি,” জনি জিজ্ঞেস করল। “ভয়?<br />
হেসে উঠলাম আমি। “এই জুয়েল রহমান<br />
কখনও ভয় পায়না, জনি।<br />
আমি যদি পৃথিবীতে কিছু অবিশ্বাস করি তা<br />
হল ভূত আর ঈশ্বর।” জনি অবাক হয়ে<br />
আমার দিকে তাকাল। তাকাক। সবাই তাকায়।<br />
আমার এতে কিছু যায় আসে না। “স্যার,<br />
ভূতও আছে, ঈশ্বরও আছে। আপনি এটা<br />
অস্বীকার করতে পারেননা।” জনির<br />
কথার ধরন দেখে অবাক হলাম। “আচ্ছা?<br />
তুমি এত নিশ্চিত হচ্ছ কীভাবে?<br />
কীভাবে তুমি এত জোর গলায় বলছ<br />
যে ভূত আছে?” হঠাৎ গাড়ি একটা<br />
জোরে ঝাঁকি খেয়ে থেমে<br />
গেল। আমার দিকে ঘুরলো জনি। ধ্বক<br />
করে উঠল আমার<br />
বুকটা। দেখলাম যেখানে জনির<br />
চোখজোড়া ছিল সেখানে এখন শুধু<br />
শুন্য কোটর ভয়ংকর ভাবে আমার দিকে<br />
তাকিয়ে আছে। “আমি এত জোর দিয়ে<br />
বলছি কারণ আমি নিজেই ভূত, স্যার।”<br />
ঘড়ঘড়ে কন্ঠে বলল জনি। হঠাৎ<br />
দেখলাম জনির চামড়া আস্তে আস্তে<br />
খসে পরতে লাগল। ঠোঁট দুটো<br />
খসে গিয়ে সেখানে উঁকি দিল ভয়ংকর<br />
কাল দাঁতসহ কুৎসিত লাল মাড়ি।<br />
পচা মাংসের তীব্র গন্ধে ভরে গেল<br />
গাড়ির ভিতরটা। কিছুক্ষণ পরে ওর দেহে<br />
আর মাংস বা চামড়া বলে কিছু থাকল না। শুধু<br />
একটা ভয়ংকর কঙ্কাল বিদঘুটে ভাবে<br />
আমার দিকে চেয়ে থাকল। অজান্তেই<br />
তীব্র চিৎকার বেরিয়ে আসল আমার<br />
গলা থেকে। কিন্তু এই নির্জন জায়গায়<br />
আমার চিৎকার শোনার কেউ নাই। গাড়ির<br />
দরজা খোলার চেষ্টা করলাম কিন্তু<br />
হাতদুটো যেন অসাড় হয়ে গেছে,<br />
যেন কেউ সম্মোহিত করে<br />
রেখেছে আমকে। আবার কুৎসিত<br />
কঙ্কালটার দিকে তাকালাম। দেখলাম<br />
ধীরে ধীরে ওটা একটা কুৎসিত হাত<br />
বাড়িয়ে দিচ্ছে আমার দিকে। 9 জুলাই।<br />
সন্ধ্যা 7 টা বাজছে প্রায়। আমি চট্টগ্রাম<br />
এয়ারপোর্টের সামনে ট্যাক্সির ভিতর<br />
বসে আছি। অপেক্ষা করছি একজন<br />
প্যাসেঞ্জারের জন্য। শুধু আমি না<br />
আমার মত আরও অনেক ভূত অপেক্ষা<br />
করছে ট্যাক্সি নিয়ে।<br />
একজন প্যাসেঞ্জার পেলেই তাকে<br />
নিয়ে রওয়ানা হয়ে যাব। চট্টগ্রাম<br />
হাইওয়ে থেকে বেশ কিছুটা দূরে<br />
একটা নির্জন জায়গায় নিয়ে তাকে খুন<br />
করব যেভাবে জনি কাল আমকে খুন<br />
করেছিল। আস্তেআস্তে প্রচুর ভূত<br />
বাড়াতে হবে আমাদের দলে।<br />
আফটারঅল কিছুদিন পরে পৃথিবীর সব<br />
মানুষ খুন করে আমরা ভূতেরাই তো<br />
পৃথিবীর উপর রাজত্ব করব। এখন আমি<br />
ঈশ্বরে বিশ্বাস করি। এখন আমি আস্তিক।<br />
একজন আস্তিক ভূত।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[আমার নাম রহমান। জুয়েল রহমান। পেশায়<br />
ডাক্তার। থাকি ঢাকায়। আমি ভূত বিশ্বাস করি না।<br />
ভূত কেন আমিতো ঈশ্বরকেও বিশ্বাস<br />
করিনা। যে সময় মানুষ চাঁদে যাচ্ছে,<br />
মঙ্গলগ্রহ জয় করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ,<br />
সেই যুগে আমি ভূত নামক মানুষ সৃষ্ট<br />
একটা ভ্রান্ত ধারণাকে মনে ঠাঁই দিতে<br />
পারিনা। আমার বন্ধুরা আমকে নাস্তিক<br />
বলে। বলুক। আমার তাতে কিছু যায়<br />
আসে না। আমি আমার বিশ্বাসে অটল।<br />
কেউ টিটকারি দিয়ে আমকে আমার<br />
বিশ্বাস থেকে একটুও নড়াতে<br />
পারবেনা। আমি নাস্তিক। একজন নাস্তিক<br />
মানুষ। 6 জুলাই, 2006। রাতে ডিনার করে<br />
ইজিচেয়ারে বসে একটা বই পড়ছিলাম।<br />
এসময় বিকট শব্দে বেজে উঠল আমার<br />
পুরনো আমলের টেলিফোন<br />
সেটটা। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে<br />
শুনতে পেলাম আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু<br />
আবিরের কন্ঠস্বর। কাজ করে করে<br />
একেবারে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম।<br />
আবিরকে বলেছিলাম কক্সবাজারের<br />
একটা টিকিট কনফার্ম করে রাখতে।<br />
একারনেই ফোন করেছে ও।<br />
পরশুদিন বিকাল 5 টায় ফ্লাইট। খুশি হয়ে<br />
উঠল মনটা। যাক কয়েকটা দিনতো<br />
অন্তত নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নিতে পারব। 8,<br />
জুলাই।<br />
যথাসময়ে রওনা দিলাম আমি। চট্টগ্রাম<br />
পৌঁছতে সন্ধ্যা 7টা বেজে গেল।<br />
ট্যাক্সির খোঁজে এদিক ওদিক তাকাতেই<br />
একটা ট্যাক্সি এসে আমার সামনে<br />
দাঁড়ালো। ট্যাক্সির ড্রাইভারের বয়স<br />
বড়জোর 26 কি 27 হবে। কক্সবাজার<br />
যাবে কিনা জিজ্ঞাসা করলাম। যাবে। উঠে<br />
বসতেই ট্যাক্সি ছাড়ল ও কক্সবাজারের<br />
উদ্দেশ্যে। বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ<br />
বসে থাকলাম। কিন্তু কতক্ষণ আর চুপচাপ<br />
বসে থাকা যায়? তাই ঠিক করলাম ড্রাইভার<br />
ছেলেটার সাথেই আলাপ জমাবো।<br />
“নাম কি তোমার?“ আলাপ জমানোর<br />
প্রথম পদক্ষেপ হল প্রথমে<br />
অন্যজনের নাম জিজ্ঞাসা করা, তাই নাম<br />
দিয়েই আলাপ শুরু করলাম আমি। “জনি,“<br />
একটু হেসে উত্তর দিল সে। ওর কাছ<br />
থেকে জানলাম ও গ্রাজুয়েশন<br />
করেছে। কিন্তু কোনও চাকরি না<br />
পেয়ে শেষে ট্যাক্সি চালানো শুরু<br />
করেছে। আলাপ করতে করতেই<br />
চারদিকের অন্ধকারাচছন্ন দৃশ্য দেখতে<br />
লাগলাম আমি। এক ঘন্টা হয়ে গেছে<br />
প্রায়। সিটে হেলান দিয়ে ঝিমাতে<br />
লাগলাম আমি। হঠাৎ একটা ঝাঁকুনিতে উঠে<br />
বসলাম। “কি ব্যাপার, জনি?“ জিজ্ঞাসা করলাম<br />
আমি। “টায়ার পাংচার হয়ে গেছে, স্যার।<br />
গাড়িতে এক্সট্রা কোন টায়ারও নাই,“<br />
বিব্রত ভঙ্গিতে উত্তর দিল জনি।<br />
“সেকি? এখন কি করব?“ কিছুটা রাগতো<br />
স্বরে বললাম আমি। “একটা ফোন করা<br />
লাগবে, স্যার“। “ ফোন এখানে<br />
কোথায় পাব। নির্জন রাস্তা ছাড়া কোনও<br />
বাড়িঘর বা দোকানপাটতো চোখে<br />
পড়ছেনা।“ বললাম আমি। হঠাৎ একদিকে<br />
আঙুল তুললো জনি “ঐ দেখেন স্যার<br />
একটা বাড়ি“। ওর নির্দেশিত দিকে তাকালাম<br />
আমি। সত্যিই তো একটা বাড়ি দেখা<br />
যাচ্ছে। “জনি চলতো দেখি ওই বাড়িতে<br />
টেলিফোন পাওয়া যায় কিনা?“ বললাম আমি।<br />
বেশী দূরে না বাড়িটা। তবে আমদের<br />
অবস্থান থেকে বাড়িটা পর্যন্ত ঘন<br />
ঝোপঝারে ভরা। বাড়িটাতে পৌঁছে<br />
চারদিকে তাকালাম দরজার খোঁজে।<br />
পেয়েও গেলাম দরজাটা।<br />
ডোরবেলের খোঁজ করলাম দরজার<br />
আশেপাশে, কিন্তু পেলাম না। “চুলোয়<br />
যাক ডোরবেল,“ বলে দরজায় নক<br />
করল জনি। ভেতর থেকে কোনও<br />
সাড়াশব্দ পেলাম না। এবার জোরে<br />
জোরে দরজায় বাড়ি দিতে লাগল ও।<br />
একটু পর ভিতর থেকে মৃদু পায়ের<br />
আওয়াজ পেলাম। ভীত মুখে বয়স<br />
তিরিশেক একজন মহিলা দরজা খুলে দিল।<br />
সন্দেহ ভরা দৃষ্টি নিয়ে আমদের<br />
দুজনকে দেখল। “কে আপনারা?“<br />
ভীত কন্ঠে জিজ্ঞাসা করলেন তিনি।<br />
আমি আমাদের সব সমস্যার কথা খুলে<br />
বলতেই ভিতরে ডাকলেন আমাদের।<br />
তারপর জনকে দেখিয়ে দিলেন<br />
কোন ঘরে টেলিফোন আছে।<br />
জন চলে গেল টেলিফোন করতে।<br />
ভদ্রমহিলা আমাকে সোফায় বসতে<br />
বললেন। বসে থেকে ঘরের<br />
চারদিকে চোখ বুলাতে লাগলাম আমি।<br />
দেয়ালে দেখলাম ঐ ভদ্রমহিলা এবং এক<br />
ভদ্রলোকের ছবি। আমাকে ছবির<br />
দিকে তাকাতে দেখে মহিলা নিজেই<br />
বললেন “উনি আমার স্বামী, গত বছর<br />
সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।” “ওহ! আমি<br />
দুঃখিত।” উঁনাকে এই বিষয়ে আর কোন<br />
প্রশ্ন করে বিব্রত করতে চাইলামনা। “<br />
আপনারা বসুন, আমি চা নিয়ে আসি,”<br />
আমাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে<br />
উনি দ্রুত রান্নাঘরের দিকে চলে<br />
গেলেন। জনি এখনও আসেনি। চুপচাপ<br />
বসে আছি। এমন সময় সামনের ঘরের<br />
দরজা খুলে গেল।<br />
ভেতর থেকে বের হয়ে আসলো<br />
একজন লোক। তাকে দেখেই<br />
চমকে উঠলাম আমি। চট করে ছবির<br />
দিকে তাকালাম, না কোনও সন্দেহ<br />
নেই। ছবির ঐ ভদ্রলোক। ভদ্রলোক<br />
আমাকে দেখে অবাক হলেন। “কে<br />
আপনি, আমার বাসায় ঢুকলেন<br />
কীভাবে?”এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস<br />
করলেন তিনি। “আপনি,” ওনার প্রশ্নের<br />
উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করলাম,<br />
“আপনি জীবিত আছেন? কিন্তু উনি যে<br />
বললেন.........” “আমি জীবিত আছি<br />
মানে? কি বলতে চাইছেন আপনি,”<br />
বিস্ময় ফুটে উঠল তার চেহারায়।<br />
“আপনার স্ত্রী বললেন আপনি মারা<br />
গেছেন,” বললাম আমি। রাগ ফুটে উঠল<br />
তার চেহারায়,“ইয়ারকি করছেন আপনি<br />
আমার সাথে? কি যাতা বলছেন আমার মৃতা<br />
স্ত্রী সম্পর্কে?” “মৃতা স্ত্রী,”<br />
বোমা ফাটল যেন আমার কানের<br />
পাশে,“কি সব উল্টো পাল্টা কথা<br />
বলছেন আপনি, আপনার স্ত্রী তো<br />
বেঁচে আছেন। চা বানাতে গেছেন<br />
আমাদের জন্য,“ চেঁচিয়ে উঠলাম আমি।<br />
“দেখুন যথেষ্ট হয়েছে,<br />
একেতো বিনা অনুমতিতে আমার<br />
বাড়িতে ঢুকেছেন, আবার আমার মৃতা<br />
স্ত্রী সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলছেন।<br />
আমি..........।” কথা শেষ করতে<br />
পারলেননা উনি কারণ জনি এসে<br />
দাঁড়িয়েছে দরজার সামনে। অবাক হয়ে<br />
জনির দিকে তাকালেন তিনি। “তুমি কে,”<br />
তার কন্ঠে স্পষ্ট বিরক্তি “ কেউ কি<br />
আমকে বলবে কি হচেছ এখনে?”<br />
“দেখুন মিস্টার....... ,” “আমান, আমি আমান<br />
চৌধুরি,” ধরিয়ে দিলেন তিনি। “ওকে,<br />
মিস্টার আমান চৌধুরি, দেখুন আমদের<br />
গাড়ির টায়ার আপনার বাড়ির সামনে এসে<br />
পাংচার হয়ে যায়, আমরা আপনার দরজা নক<br />
করতে আপনার স্ত্রী দরজা খুলে<br />
দেয় আর আমকে এখানে বসায়ে<br />
রেখে উনি চা বানাতে গেছেন, দয়া<br />
করে রান্নাঘরে যেয়ে উনাকে<br />
জিজ্ঞাসা করুন।”<br />
“আমি জানিনা আপনি কি বলছেন, কিন্তু<br />
আমার স্ত্রী গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায়<br />
মারা গেছেন,” বললেন আমান চৌধুরি।<br />
“What the hell you are talking about,”<br />
প্রায় চেঁচিয়ে উঠলাম আমি, “আমরা একটু<br />
আগে উনার সাথে কথা বলেছি, জনি তুমিই<br />
বল।” “ আমি জানিনা আপনারা নেশা<br />
করেছেন কিনা কিন্তু আমার স্ত্রী<br />
গতবছরই মারা গেছে।” “Please trust<br />
me, MR. Aman, আমরা দুজন একসাথে<br />
ভুল দেখতে পারিনা।” “তাহলে আপনারা<br />
নিশ্চয়ই ওর আত্মাকে দেখেছেন,”<br />
রাগ সরে গিয়ে হাসি হাসি হয়ে উঠল তার<br />
মুখটা। “আত্মা! কি বলছেন আপনি?” “ঠিকই<br />
বলছি, কারণ এখন আমি ওর আত্মাকে<br />
আপনাদের পিছনে দেখতে পাচ্ছি।”<br />
পিছনে ঘুরেই চমকে গেলাম আমরা, ঐ<br />
মহিলাই হাস্যজ্বল মুখে দাঁড়িয়ে আছেন।<br />
“সরি মিস্টার..... , ওহ আপনার নামটাই তো<br />
জানা হয়নি, যাইহোক আমি পলি চৌধুরী,<br />
আমানের স্ত্রী।” হাসিমুখে বললেন<br />
উনি। “ আমরা সত্যিই দুঃখিত মিস্টার.......”<br />
জিজ্ঞাসার ভঙ্গিতে আমান চৌধুরি তাকালেন<br />
আমার দিকে। “রহমান, আমি জুয়েল<br />
রহমান।” নাম বললাম আমি। “ওকে, মিস্টার<br />
জুয়েল রহমান, আমরা সত্যিই দুঃখিত, জাস্ট<br />
একটু ফান করলাম আপনাদের সাথে।”<br />
“ফান?” বুঝতে না পেরে জিজ্ঞাসা<br />
করলাম আমি।<br />
“হ্যা, ফান। আসলে আমরা দুজন<br />
লোকালয় থেকে অনেক দূরে থাকি।<br />
দুজনের সংসার। জরুরী কাজ ছাড়া শহরে<br />
যাওয়া হয় না খুব একটা। মানুষের সাথে খুব<br />
বেশী মেশাও হয় না। একেবারে<br />
রসকষহীন জীবনযাপন করি। তাই জানালা<br />
দিয়ে আপনাদের আসতে দেখে<br />
ভাবলাম একটু ফান করা যাক। তাই দুজনে<br />
একটু ভূতের অভিনয় করলাম। যাইহোক<br />
ভাই, কিছু মনে করেন না।” হাসলেন<br />
আমান চৌধুরি। হাসলাম আমিও। এতক্ষণে সব<br />
বুঝতে পারলাম। জনির মুখটা ভয়ে<br />
ফ্যাকাশে হয়ে গেছিল এইসব কাণ্ড<br />
কারখানা দেখে। এবার সব কিছু বুঝতে<br />
পেরে শান্ত হয়ে আমার পাশে এসে<br />
বসল। মিসেস আমান আমাদের চা নাশতা<br />
পরিবেশন করলেন। একটু পর দরজায়<br />
শব্দ হল। মেকানিক এসে গেছে। দশ<br />
মিনিটও লাগলনা টায়ার পাল্টাতে। মিস্টার এবং<br />
মিসেস আমানকে বিদায় জানায়ে আমি<br />
আর জনি আবার রওনা হলাম। ঘড়ির দিকে<br />
তাকিয়ে দেখলাম সাড়ে দশটা বেজে<br />
গেছে। “স্যার, খুব ভয় পেয়েছিলেন<br />
বুঝি,” জনি জিজ্ঞেস করল। “ভয়?<br />
হেসে উঠলাম আমি। “এই জুয়েল রহমান<br />
কখনও ভয় পায়না, জনি।<br />
আমি যদি পৃথিবীতে কিছু অবিশ্বাস করি তা<br />
হল ভূত আর ঈশ্বর।” জনি অবাক হয়ে<br />
আমার দিকে তাকাল। তাকাক। সবাই তাকায়।<br />
আমার এতে কিছু যায় আসে না। “স্যার,<br />
ভূতও আছে, ঈশ্বরও আছে। আপনি এটা<br />
অস্বীকার করতে পারেননা।” জনির<br />
কথার ধরন দেখে অবাক হলাম। “আচ্ছা?<br />
তুমি এত নিশ্চিত হচ্ছ কীভাবে?<br />
কীভাবে তুমি এত জোর গলায় বলছ<br />
যে ভূত আছে?” হঠাৎ গাড়ি একটা<br />
জোরে ঝাঁকি খেয়ে থেমে<br />
গেল। আমার দিকে ঘুরলো জনি। ধ্বক<br />
করে উঠল আমার<br />
বুকটা। দেখলাম যেখানে জনির<br />
চোখজোড়া ছিল সেখানে এখন শুধু<br />
শুন্য কোটর ভয়ংকর ভাবে আমার দিকে<br />
তাকিয়ে আছে। “আমি এত জোর দিয়ে<br />
বলছি কারণ আমি নিজেই ভূত, স্যার।”<br />
ঘড়ঘড়ে কন্ঠে বলল জনি। হঠাৎ<br />
দেখলাম জনির চামড়া আস্তে আস্তে<br />
খসে পরতে লাগল। ঠোঁট দুটো<br />
খসে গিয়ে সেখানে উঁকি দিল ভয়ংকর<br />
কাল দাঁতসহ কুৎসিত লাল মাড়ি।<br />
পচা মাংসের তীব্র গন্ধে ভরে গেল<br />
গাড়ির ভিতরটা। কিছুক্ষণ পরে ওর দেহে<br />
আর মাংস বা চামড়া বলে কিছু থাকল না। শুধু<br />
একটা ভয়ংকর কঙ্কাল বিদঘুটে ভাবে<br />
আমার দিকে চেয়ে থাকল। অজান্তেই<br />
তীব্র চিৎকার বেরিয়ে আসল আমার<br />
গলা থেকে। কিন্তু এই নির্জন জায়গায়<br />
আমার চিৎকার শোনার কেউ নাই। গাড়ির<br />
দরজা খোলার চেষ্টা করলাম কিন্তু<br />
হাতদুটো যেন অসাড় হয়ে গেছে,<br />
যেন কেউ সম্মোহিত করে<br />
রেখেছে আমকে। আবার কুৎসিত<br />
কঙ্কালটার দিকে তাকালাম। দেখলাম<br />
ধীরে ধীরে ওটা একটা কুৎসিত হাত<br />
বাড়িয়ে দিচ্ছে আমার দিকে। 9 জুলাই।<br />
সন্ধ্যা 7 টা বাজছে প্রায়। আমি চট্টগ্রাম<br />
এয়ারপোর্টের সামনে ট্যাক্সির ভিতর<br />
বসে আছি। অপেক্ষা করছি একজন<br />
প্যাসেঞ্জারের জন্য। শুধু আমি না<br />
আমার মত আরও অনেক ভূত অপেক্ষা<br />
করছে ট্যাক্সি নিয়ে।<br />
একজন প্যাসেঞ্জার পেলেই তাকে<br />
নিয়ে রওয়ানা হয়ে যাব। চট্টগ্রাম<br />
হাইওয়ে থেকে বেশ কিছুটা দূরে<br />
একটা নির্জন জায়গায় নিয়ে তাকে খুন<br />
করব যেভাবে জনি কাল আমকে খুন<br />
করেছিল। আস্তেআস্তে প্রচুর ভূত<br />
বাড়াতে হবে আমাদের দলে।<br />
আফটারঅল কিছুদিন পরে পৃথিবীর সব<br />
মানুষ খুন করে আমরা ভূতেরাই তো<br />
পৃথিবীর উপর রাজত্ব করব। এখন আমি<br />
ঈশ্বরে বিশ্বাস করি। এখন আমি আস্তিক।<br />
একজন আস্তিক ভূত।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[শেষ রাতের ট্রেন]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=933</link>
			<pubDate>Tue, 17 Jan 2017 12:59:37 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=933</guid>
			<description><![CDATA["এই চা গরম -চা গরম " - চিকন একটা গলায়<br />
চিৎকার করে চলেছে মিশকালো একটা<br />
লোক- হাতে এক বিশাল চায়ের ফ্লাক্স-<br />
চিল্লাতে চিল্লাতে রাজু সাহেবের<br />
সামনে মিনিট তিনেক ধরে ঘুর ঘুর<br />
করছে। যত বার রাজু সাহেবের সামনে<br />
যাচ্ছে ততবার রাজু সাহেব বিরক্ত<br />
হচ্ছেন- কিন্তু চা ওয়ালার কোন<br />
ভ্রুক্ষেপ নাই। লাকসামের<br />
রেলস্টেশনের ওয়েটিং এ রাজু<br />
সাহেব আজ রাত্রের গুটি কয়েক<br />
যাত্রির মাঝে একজন। স্যুট বুট পড়া বলে<br />
রাজু সাহেবের দিকে বার বার এগিয়ে<br />
আসছে একের পর এক হকার। তিনি সবাই<br />
কে ফিরিয়ে দিয়েছেন।<br />
উনার মা উনাকে ভরপেট খাইয়ে<br />
দিয়েছে। আর পই পই করে বলে<br />
দিয়েছে যেন তিনি কোন রাস্তার খাবার<br />
না খান। আর মায়ের কথা তিনি কোনদিন<br />
ফেলতে পারেন না। "এই ডিম- ডিম ডিম-<br />
সিদ্ধ ডিম"- বলে একটা ছোট বাচ্চা<br />
এসে ডিমের ঝুড়িটা রাজু সাহেবের<br />
সামনে রেখে বলল- "স্যার একটা ডিম<br />
নেন- অনেক ভাল লাগবো- খাইবেন?<br />
দিমু? ছুইলা?" বলেই একটা ডিম নিয়ে<br />
ছোলা শুরু করে দিল। রাজু সাহেব ভ্রু<br />
কুচকে তাকিয়ে আছেন ডিম ওয়ালা<br />
ছেলেটার দিকে। তারপর গলাটা একটু<br />
চড়িয়ে বললেন- "তোমাকে আমি কি<br />
ডিম ভাংতে বলসি? তুমি ডিম ভাংলা কেন?"<br />
হলদে দাঁত বের করে ছেলেটা<br />
একগাল হেসে বলল- "স্যার সবাইরে<br />
আট ট্যাহা কইরা দেই- আপনেরে<br />
ছয়টাহায় দিমু- নেন খাইয়া দেহেন-<br />
কেমুন মজা।" বলে ডিমটা একটা কাগজে<br />
নিয়ে চামচ দিয়ে দুই ভাগ করে নুন<br />
ছিটিয়ে দিল রাজু সাহেবের হাতে। রাগে<br />
মাথা জ্বলতে শুরু করল উনার। কিন্তু একটু<br />
পড়েই নিজেকে সামলে নিয়ে<br />
বললেন- না আমি খাব না।<br />
তুমি টাকা নিয়ে বিদায় হও। বলেই মানিব্যাগ<br />
থেকে দশ টাকার একটা নোট দিলেন<br />
ছেলেটাকে। ছেলেটা নোট টা<br />
নিয়ে ডিম টা রাজু সাহেবের পাশে<br />
ব্যাঞ্চে রেখে চলে গেল হন হন<br />
করে। সেই ছেলেটার চলে যাওয়া<br />
দেখে উনার মাথার ভেতর রাগে<br />
জ্বলতে শুরু করল। কিন্তু তিনি মনে<br />
মনে বিড় বিড় করে কি যেন একটা<br />
বলে আবার মনযোগ দিলেন ট্রেন<br />
লাইনের দিকে তাকিয়ে থাকা কে। রাজু<br />
সাহেব থাকেন ঢাকায়। একা একটা ফ্লাট<br />
ভাড়া করে। উনি ঢাকা হাইকোর্টের<br />
একজন ঊকিল। মা থাকেন লাকসামের<br />
ফুল্গ্রামে। উনি অনেক চেয়েছেন<br />
মাকে সাথে করে ঢাকায় নিয়ে<br />
আসতে- কিন্তু উনার বাব্র কবর ছেড়ে<br />
উনার মা আসতে কখনোই রাজি হননি। উনি<br />
উনার স্বামীর কবর ছেড়ে কোথাও<br />
যান না। তাই আজ রাজু সাহেবের সাথে ও<br />
তিনি যাচ্ছেন না। উনাকে যাওয়াত দেয়া<br />
হয়েছে সুনামগঞ্জে প্রফেসর<br />
আকমল সাহেবের বাসায়। প্রফেসর<br />
আকমল এর মেয়ের সাথে রাজু<br />
সাহেবের বিয়ের কথা চলছে দুই<br />
সপ্তাহ ধরে। শেষে মেয়ে দেখার<br />
জন্য আকমল সাহেব রাজু সাহেবের<br />
পরিবার কে ডেকে পাঠান। কিন্তু রাজু<br />
সাহেবের মা যেতে রাজি হননি। তাই<br />
শেষ পর্যন্ত বিয়ে করার জন্য<br />
নিজেকেই একা যেতে হচ্ছে রাজু<br />
সাহেবের। উনার কোন ভাই বোন ও<br />
নেই যে উনার সাথে যাবেন। তাই একা<br />
এই মাঘের শীতের রাতে তিনি টিকেট<br />
কেটে প্লাটফর্মে অপেক্ষা<br />
করছেন ঢাকা সিলেট গামী ট্রেনের<br />
জন্য।<br />
"স্যার স্যার পেপার নেন পেপার-<br />
পেপার নেন- গরম গরম খবর - মজার<br />
মজার খবর' - বলে উনার সামনে এসে<br />
১৮-১৯ বছরের একটা ছেলে এসে<br />
মাসিক পত্রিকা যাচতে লাগলো। তিনি মুখ<br />
ফিরিয়ে নিলেন। তিনি যাত্রা পথে ঘুমিয়ে<br />
কাটান। এই রংচঙে পত্রিকা কোনদিন<br />
উনাকে টানেনি। উনি বেশির চেয়ে<br />
বেশি দৈনিক পত্রিকা পড়েন। কিন্তু<br />
ছেলেটা নাছোড় বান্দা। উনাকে<br />
পেপার বিক্রি করে ই ছাড়বে। শেষে<br />
বিক্রি করতে না পেরে একটা নগ্ন ছবি<br />
ওয়ালা চটি বই রাজু সাহেবের চোখের<br />
সামনে ধরে নাচাতে নাচাতে বলল- '<br />
"স্যার দেখেন- কত গরম গরম জিনিস-<br />
নেবেন? স্যার আরো ভাল ভাল জিনিস<br />
আছে।" বলে দাঁত বের করে হাস্তে<br />
লাগল। এবার রাজু সাহেব চোখ বড় বড়<br />
করে এমন ভাবে তাকালেন যে<br />
ছেলেটা প্রায় পালিয়ে বাঁচল। উনি এবার<br />
নিজের ব্যাগ থেকে একটা শরত সাহিত্য<br />
সমগ্র বের করে পড়তে শুরু করে<br />
দিলেন। কিছু ক্ষন আগে স্টেশন<br />
মাষ্টার জানিয়েছেন- ট্রেন আসতে<br />
আসতে আরো দুই ঘণ্টা লাগবে।<br />
তাই এই দুই ঘণ্টা কিভাবে কাটাবেন তিনি<br />
বুঝে ঊঠতে পারছেন না। শরত বাবুর<br />
বইয়ে চোখ বুলাতে বুলাতে তিনি<br />
খেয়াল করলেন উনার পাশের হাত<br />
বিশেক দূরে একটা দম্পতি নিজেদের<br />
মাঝে গল্প গুজব করছে। তিনি প্রথমে<br />
ঊঠে গিয়ে উনাদের সাথে ভাব<br />
জমাবেন বলে চিন্তা করেছিলেন-<br />
কিন্তু পরে চিন্তাটা মাথা থেকে<br />
ঝেড়ে ফেললেন। একটু পড়েই ঢাকা<br />
চট্টগ্রাম গামী ট্রেন আসলে উনারা<br />
উঠে চলে গেলেন সেই ট্রেন এ<br />
করে। ভাব দেখে উনাদের নতুন<br />
বিবাহিত বলে মনে হল। মনে মনে<br />
চিন্তা করতে করতে উনি আবার পড়ায়<br />
মনযোগ দিলেন। কিন্তু হটাত করে<br />
খেয়াল করলেন উনার চারপাশ কেমন<br />
যেন শুনশান - কোন সাড়া শব্দ নেই।<br />
বই থেকে মাথা তুলে কান পেটে<br />
শুনতে চেষ্টা করলেন রাজু সাহেব।<br />
কিন্তু তিনি কোন শব্দ শুনতে<br />
পেলেন না। মাথা তুলে দুই পাশ<br />
দেখলেন। হালকা টিমটিমে ৪০ ওয়াটের<br />
বাতি জ্বলছে চারটা - এতে চারপাশের<br />
অন্ধকার আরো গাঢ় বলে মনে হল<br />
উনার। এর মাঝে মাঘ মাসের কুয়াশা ও<br />
আছে। উনি কান পেতে থাকলেন<br />
অনেকক্ষন। নাহ তিনি কোন ঝিঁঝিঁ<br />
পোকার ডাক ও শুনতে পেলেন না।<br />
এমনিতে তিনি তুখোড় উকিল হলেও<br />
একাকীত্ব কিছুটা ভয় পান। তাই বেঞ্চ<br />
থেকে উঠে গিয়ে স্টেশন<br />
মাষ্টারের রুমের দিকে এগিয়ে<br />
গেলেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে ও তিনি<br />
হতাশ হলেন- সেখানে একটা পাগলি ছাড়া<br />
কেউ নেই। স্টেশন মাষ্টার কোন<br />
ফাঁকে চলে গেছে নিজের বাড়িতে<br />
এটা উনি টের ই পেলেন না। স্টেশন<br />
মাষ্টারের বেধে দেয়া সময় এর বাকি<br />
আছে মাত্র দশ মিনিট আছে। তিনি ঘড়ি<br />
দেখতে দেখতে এসে বসলেন<br />
উনার আগের সিটে। এবং বসতে গিয়ে<br />
হটাত দেখলেন উনার পাশে এক বৃদ্ধা<br />
মহিলা বসে আছেন। উনি গলা খাকড়ি দিয়ে<br />
গিয়ে বসে পড়লেন মহিলার পাশে। এই<br />
ঠান্ডায় মহিলা অনেকটা কুকড়ে আছেন।<br />
শাদা শাড়ি পড়ে আছেন তিনি। মুখ অনেক<br />
তা ঢাকা ঘোমটার আড়ালে। রাজু সাহেব<br />
ভাবতে লাগলেন এই শুনশান রাতে মহিলা<br />
বসে আছেন কেন – কে তিনি ?<br />
কেন এলেন এখানে? এমন টা ভাবতে<br />
ভাবতেই মহিলা নিজে নিজেই বললেন-<br />
“ ভাবছেন তো কেন আমি এখানে?”<br />
শুনেই রাজু সাহেব বেশ চমকে<br />
উঠলেন। মহিলার গলার আওয়াজ অনেক<br />
ভাঙ্গা- শুনে মনে হচ্ছে উনি অনেক<br />
কষ্ট করে কথা বলছেন। কথা টা বলেই<br />
তিনি রাজু সাহেবের দিকে তাকালেন।<br />
রাজু সাহেব সেই দৃষ্টির দিকে বেশি<br />
ক্ষন তাকিয়ে থাকতে পারলেন না।<br />
ভয়ে শরীরের ভেতর টা ঘেমে<br />
ঊঠল উনার এই শীতের মাঝে। তিনি<br />
ভেবেছিলেন কোন এক ভুত উনার<br />
পাশে বসে থাকবে। আস্ত মানুষ<br />
দেখে কিছুটা স্বস্তি পেলেও মহিলার<br />
চোখ দুটি দেখে উনি ভয় পেয়ে<br />
গেলেন। “আমি সুনামগঞ্জ যাব বাবা-<br />
সেখানে আমার ছেলের কাছে যাব-<br />
শুনেছি ট্রেন আসতে অনেক ক্ষন<br />
বাকি তাই আমি ঘর থেকে বের হয়েছি<br />
দেরিতে। এখন আসলাম- ঘরের পাশেই<br />
মাস্টার সাহেব থাকেন। তিনি আমাকে<br />
বললেন- পাঁচ মিনিট পরেই ট্রেন<br />
আসবে। তাই আমি চলে আসলাম। আপনার<br />
কোন অসুবিধা নেই তো এখানে<br />
বসলে? বলেই জ্বলজ্বল চোখে<br />
তাকালেন বৃদ্ধা রাজু সাহেবের দিকে।<br />
রাজু সাহেবের বেশ অস্বস্থি হল এই<br />
প্রশ্ন শুনে- তিনি মনে মনে অনেক<br />
কিছু চিন্তা করলেও ভদ্রতার খাতিরে<br />
বললেন- “না না কোন সমস্যা নেই<br />
আপনি বসলে- আমি তো এখানে বসার<br />
সিট দখল করে রাখতে আসিনি” বলে<br />
বইটা খুলে পড়তে শুরু করে দিলেন।<br />
আর মিনিট খানেক পড়েই ট্রেন আসল।<br />
তিনি ‘ট’ বগির সামনের একটা সিটে বসে<br />
ছিলেন। “ট” বগিটা এসে থামল উনার<br />
সামনেই। উনি আসতে করে ঊঠে<br />
পড়লেন ট্রেনে। উনার পিছু পিছু বৃদ্ধা<br />
মহিলা ও ঊঠে পড়লেন। উনাদের সিট<br />
একই বগিতে পড়েছে। এবং যথারিতি<br />
সেই বগিতে আর কোন মানুষ জন<br />
নেই। সিটে বসেই রাজু সাহেব বই টা<br />
ব্যাগে ঢুকিয়ে আসতে করে ঘুমিয়ে<br />
পড়বেন বলে মনস্থির করলেন। তিনি<br />
বই ব্যাগ গুছিয়ে বস্তে যাবেন এমন<br />
সময় স্টেশন মাষ্টারের রুমে বসে<br />
থাকা সেই পাগলি রাজু সাহেবের বগির<br />
বাইরে থেকে জানালা দিয়ে রাজু<br />
সাহেব কে চিৎকার করে বলতে লাগল-<br />
“ঐ তুই যাইসনা এই ট্রেন এ। এই ট্রেন<br />
তোর লাইগা আহেনাই। এটা তোরে<br />
শেষ কইরা দিব। তুই যাইস না- অমঙ্গল<br />
হইব- ঘোর অমঙ্গল” চিৎকার করে<br />
বলতে বলতেই ট্রেন ছেড়ে দিল।<br />
রাজু সাহেব মনে মনে পাগলের প্রলাপ<br />
মনে করে হেসে ব্যাগ টা মাথার উপর<br />
র্যাদকে রেখে হেলান দিয়ে<br />
ঘুমানোর চেষ্টা করলেন। ততক্ষনে<br />
ট্রেনের গতি পেরিয়ে গেল লাকসাম<br />
স্টেশন। কিন্তু একটা গুন গুন শব্দে রাজু<br />
সাহেবের ঘুম ভেঙ্গে গেল। তিনি<br />
গলা বাড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখলেন<br />
উনার বগি থেমে আছে। ট্রেন<br />
চলছে না। চারদিকে প্রচন্ড বাতাসে<br />
শো শো শব্দ হচ্ছে।এই শব্দে<br />
উনার ঘুম ভেঙ্গে গেল। উনি উঠে<br />
বাইরে যাওয়ার গেট এর দিকে<br />
গেলেন।<br />
অনেক কষ্টে সেই গেট খুলে যা<br />
দেখলেন উনার তাতে হার্ট বিট<br />
বেড়ে গেল কয়েকগুণ। দেখলেন<br />
উনার বগির কোন দিকেই কোন বগি<br />
নেই। উনি হয়ত খেয়াল করেন নি- যে<br />
উনি শেষ বগি তে ঊঠেছিলেন। এবং<br />
চলতি পথে কোন ভাবে উনার বগির<br />
সাথে মূল ট্রেনের সংযোগ ছিড়ে<br />
গেছে। ভাবতেই উনি ঘেমে<br />
গেলেন। কেউ নেই চারপাশে।<br />
সুনসান নিরবতা। এমন কি বগিতেও কেই<br />
নেই। চারদিকে ফাঁকা একটা যায়গায় তিনি একা<br />
একটা ট্রেনের বগিতে- চিন্তা করতেই<br />
উনার ঘাড়ের বাম পাশে ব্যাথা করতে<br />
লাগল। উনার কয়েক বছর ধরে হাই<br />
প্রেশার। উনি বুঝতেই পারলেন না উনি<br />
কি করবেন। মাথার উপর আকাশ ছাড়া কিছুই<br />
তিনি ভালভাবে খেয়াল করতে পারছেন<br />
না। বগিতেও বসে থাকতে পারছেন না।<br />
অন্ধকার বগি- বাইরে ঝড়। এবং এমন সময়<br />
হটাত করে ঝড় থেমে গেল।<br />
উনি এবার সত্যি ভয় পেয়ে গেলেন।<br />
এবং ঠিক সেই সময় খুট করে একটা শব্দ<br />
হল। শব্দটা এসেছে বগির পেছন দিক<br />
থেকে। উনি যেখানে দাঁড়িয়ে<br />
আছেন সেখানের বিপরিত দিক<br />
থেকে। তিনি ভালভাবে খেয়াল করতে<br />
চেষ্টা করলেন। দেখলেন সেই<br />
ঘোমটা পড়া বৃদ্ধা এসে সামনে দাঁড়াল<br />
উনার। এবং উনার গলা চেপে ধরল প্রচন্ড<br />
শক্তিতে এক ঝটকায় উনার ঘুম<br />
ভেঙ্গে গেল। উনি এতক্ষন স্বপ্ন<br />
দেখছিলেন। বইটা কোলের উপর<br />
রেখে ই তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। চারপাশে<br />
সেই কোলাহল শুনে শরীরে কিছুটা<br />
শক্তি পেলেন।<br />
তারপর দেখলেন উনার সামনে এসে<br />
দাঁড়িয়েছে সিলেটগামী ট্রেন। উনার<br />
বগি নাম্বার “ট”। উনি দেরি না করে ঊঠে<br />
বসলেন উনার বগিতে। উনার জিনিস পত্র<br />
গুছিয়ে নিতে নিতেই তিনি একটা চিৎকার<br />
শুনতে পেলেন বাইরে।<br />
কোত্থেকে একটা পাগলি এসে<br />
চিৎকার করে বলতে লাগল- “ঐ তুই যাইসনা<br />
এই ট্রেন এ। এই ট্রেন তোর লাইগা<br />
আহেনাই। এটা তোরে শেষ কইরা<br />
দিব। তুই যাইস না- অমঙ্গল হইব- ঘোর<br />
অমঙ্গল” তিনি স্বপ্নের সাথে মিলাতে<br />
মিলাতে ট্রেন ছেড়ে দিল। উঠে<br />
জিজ্ঞাসা করবেন ভাবছিলেন পাগলিকে।<br />
কিন্তু ট্রেন ছেড়ে দেয়ায় তিনি পাগলি<br />
কে কিছু বলতে পারলেন না। তিনি এসে<br />
তার সিটে বসতে গিয়ে ই হটাত খেয়াল<br />
করলেন- পুরো বগি খালি –কিন্তু একদম<br />
শেষে দিকে একটা কাথা মুড়ি দিয়ে<br />
কেউ একজন বসে আছে এবং তিনি সিট<br />
পেয়েছেন একদম শেষ বগিতে।<br />
উনার বগির পরে আর কোন বগি নেই<br />
......]]></description>
			<content:encoded><![CDATA["এই চা গরম -চা গরম " - চিকন একটা গলায়<br />
চিৎকার করে চলেছে মিশকালো একটা<br />
লোক- হাতে এক বিশাল চায়ের ফ্লাক্স-<br />
চিল্লাতে চিল্লাতে রাজু সাহেবের<br />
সামনে মিনিট তিনেক ধরে ঘুর ঘুর<br />
করছে। যত বার রাজু সাহেবের সামনে<br />
যাচ্ছে ততবার রাজু সাহেব বিরক্ত<br />
হচ্ছেন- কিন্তু চা ওয়ালার কোন<br />
ভ্রুক্ষেপ নাই। লাকসামের<br />
রেলস্টেশনের ওয়েটিং এ রাজু<br />
সাহেব আজ রাত্রের গুটি কয়েক<br />
যাত্রির মাঝে একজন। স্যুট বুট পড়া বলে<br />
রাজু সাহেবের দিকে বার বার এগিয়ে<br />
আসছে একের পর এক হকার। তিনি সবাই<br />
কে ফিরিয়ে দিয়েছেন।<br />
উনার মা উনাকে ভরপেট খাইয়ে<br />
দিয়েছে। আর পই পই করে বলে<br />
দিয়েছে যেন তিনি কোন রাস্তার খাবার<br />
না খান। আর মায়ের কথা তিনি কোনদিন<br />
ফেলতে পারেন না। "এই ডিম- ডিম ডিম-<br />
সিদ্ধ ডিম"- বলে একটা ছোট বাচ্চা<br />
এসে ডিমের ঝুড়িটা রাজু সাহেবের<br />
সামনে রেখে বলল- "স্যার একটা ডিম<br />
নেন- অনেক ভাল লাগবো- খাইবেন?<br />
দিমু? ছুইলা?" বলেই একটা ডিম নিয়ে<br />
ছোলা শুরু করে দিল। রাজু সাহেব ভ্রু<br />
কুচকে তাকিয়ে আছেন ডিম ওয়ালা<br />
ছেলেটার দিকে। তারপর গলাটা একটু<br />
চড়িয়ে বললেন- "তোমাকে আমি কি<br />
ডিম ভাংতে বলসি? তুমি ডিম ভাংলা কেন?"<br />
হলদে দাঁত বের করে ছেলেটা<br />
একগাল হেসে বলল- "স্যার সবাইরে<br />
আট ট্যাহা কইরা দেই- আপনেরে<br />
ছয়টাহায় দিমু- নেন খাইয়া দেহেন-<br />
কেমুন মজা।" বলে ডিমটা একটা কাগজে<br />
নিয়ে চামচ দিয়ে দুই ভাগ করে নুন<br />
ছিটিয়ে দিল রাজু সাহেবের হাতে। রাগে<br />
মাথা জ্বলতে শুরু করল উনার। কিন্তু একটু<br />
পড়েই নিজেকে সামলে নিয়ে<br />
বললেন- না আমি খাব না।<br />
তুমি টাকা নিয়ে বিদায় হও। বলেই মানিব্যাগ<br />
থেকে দশ টাকার একটা নোট দিলেন<br />
ছেলেটাকে। ছেলেটা নোট টা<br />
নিয়ে ডিম টা রাজু সাহেবের পাশে<br />
ব্যাঞ্চে রেখে চলে গেল হন হন<br />
করে। সেই ছেলেটার চলে যাওয়া<br />
দেখে উনার মাথার ভেতর রাগে<br />
জ্বলতে শুরু করল। কিন্তু তিনি মনে<br />
মনে বিড় বিড় করে কি যেন একটা<br />
বলে আবার মনযোগ দিলেন ট্রেন<br />
লাইনের দিকে তাকিয়ে থাকা কে। রাজু<br />
সাহেব থাকেন ঢাকায়। একা একটা ফ্লাট<br />
ভাড়া করে। উনি ঢাকা হাইকোর্টের<br />
একজন ঊকিল। মা থাকেন লাকসামের<br />
ফুল্গ্রামে। উনি অনেক চেয়েছেন<br />
মাকে সাথে করে ঢাকায় নিয়ে<br />
আসতে- কিন্তু উনার বাব্র কবর ছেড়ে<br />
উনার মা আসতে কখনোই রাজি হননি। উনি<br />
উনার স্বামীর কবর ছেড়ে কোথাও<br />
যান না। তাই আজ রাজু সাহেবের সাথে ও<br />
তিনি যাচ্ছেন না। উনাকে যাওয়াত দেয়া<br />
হয়েছে সুনামগঞ্জে প্রফেসর<br />
আকমল সাহেবের বাসায়। প্রফেসর<br />
আকমল এর মেয়ের সাথে রাজু<br />
সাহেবের বিয়ের কথা চলছে দুই<br />
সপ্তাহ ধরে। শেষে মেয়ে দেখার<br />
জন্য আকমল সাহেব রাজু সাহেবের<br />
পরিবার কে ডেকে পাঠান। কিন্তু রাজু<br />
সাহেবের মা যেতে রাজি হননি। তাই<br />
শেষ পর্যন্ত বিয়ে করার জন্য<br />
নিজেকেই একা যেতে হচ্ছে রাজু<br />
সাহেবের। উনার কোন ভাই বোন ও<br />
নেই যে উনার সাথে যাবেন। তাই একা<br />
এই মাঘের শীতের রাতে তিনি টিকেট<br />
কেটে প্লাটফর্মে অপেক্ষা<br />
করছেন ঢাকা সিলেট গামী ট্রেনের<br />
জন্য।<br />
"স্যার স্যার পেপার নেন পেপার-<br />
পেপার নেন- গরম গরম খবর - মজার<br />
মজার খবর' - বলে উনার সামনে এসে<br />
১৮-১৯ বছরের একটা ছেলে এসে<br />
মাসিক পত্রিকা যাচতে লাগলো। তিনি মুখ<br />
ফিরিয়ে নিলেন। তিনি যাত্রা পথে ঘুমিয়ে<br />
কাটান। এই রংচঙে পত্রিকা কোনদিন<br />
উনাকে টানেনি। উনি বেশির চেয়ে<br />
বেশি দৈনিক পত্রিকা পড়েন। কিন্তু<br />
ছেলেটা নাছোড় বান্দা। উনাকে<br />
পেপার বিক্রি করে ই ছাড়বে। শেষে<br />
বিক্রি করতে না পেরে একটা নগ্ন ছবি<br />
ওয়ালা চটি বই রাজু সাহেবের চোখের<br />
সামনে ধরে নাচাতে নাচাতে বলল- '<br />
"স্যার দেখেন- কত গরম গরম জিনিস-<br />
নেবেন? স্যার আরো ভাল ভাল জিনিস<br />
আছে।" বলে দাঁত বের করে হাস্তে<br />
লাগল। এবার রাজু সাহেব চোখ বড় বড়<br />
করে এমন ভাবে তাকালেন যে<br />
ছেলেটা প্রায় পালিয়ে বাঁচল। উনি এবার<br />
নিজের ব্যাগ থেকে একটা শরত সাহিত্য<br />
সমগ্র বের করে পড়তে শুরু করে<br />
দিলেন। কিছু ক্ষন আগে স্টেশন<br />
মাষ্টার জানিয়েছেন- ট্রেন আসতে<br />
আসতে আরো দুই ঘণ্টা লাগবে।<br />
তাই এই দুই ঘণ্টা কিভাবে কাটাবেন তিনি<br />
বুঝে ঊঠতে পারছেন না। শরত বাবুর<br />
বইয়ে চোখ বুলাতে বুলাতে তিনি<br />
খেয়াল করলেন উনার পাশের হাত<br />
বিশেক দূরে একটা দম্পতি নিজেদের<br />
মাঝে গল্প গুজব করছে। তিনি প্রথমে<br />
ঊঠে গিয়ে উনাদের সাথে ভাব<br />
জমাবেন বলে চিন্তা করেছিলেন-<br />
কিন্তু পরে চিন্তাটা মাথা থেকে<br />
ঝেড়ে ফেললেন। একটু পড়েই ঢাকা<br />
চট্টগ্রাম গামী ট্রেন আসলে উনারা<br />
উঠে চলে গেলেন সেই ট্রেন এ<br />
করে। ভাব দেখে উনাদের নতুন<br />
বিবাহিত বলে মনে হল। মনে মনে<br />
চিন্তা করতে করতে উনি আবার পড়ায়<br />
মনযোগ দিলেন। কিন্তু হটাত করে<br />
খেয়াল করলেন উনার চারপাশ কেমন<br />
যেন শুনশান - কোন সাড়া শব্দ নেই।<br />
বই থেকে মাথা তুলে কান পেটে<br />
শুনতে চেষ্টা করলেন রাজু সাহেব।<br />
কিন্তু তিনি কোন শব্দ শুনতে<br />
পেলেন না। মাথা তুলে দুই পাশ<br />
দেখলেন। হালকা টিমটিমে ৪০ ওয়াটের<br />
বাতি জ্বলছে চারটা - এতে চারপাশের<br />
অন্ধকার আরো গাঢ় বলে মনে হল<br />
উনার। এর মাঝে মাঘ মাসের কুয়াশা ও<br />
আছে। উনি কান পেতে থাকলেন<br />
অনেকক্ষন। নাহ তিনি কোন ঝিঁঝিঁ<br />
পোকার ডাক ও শুনতে পেলেন না।<br />
এমনিতে তিনি তুখোড় উকিল হলেও<br />
একাকীত্ব কিছুটা ভয় পান। তাই বেঞ্চ<br />
থেকে উঠে গিয়ে স্টেশন<br />
মাষ্টারের রুমের দিকে এগিয়ে<br />
গেলেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে ও তিনি<br />
হতাশ হলেন- সেখানে একটা পাগলি ছাড়া<br />
কেউ নেই। স্টেশন মাষ্টার কোন<br />
ফাঁকে চলে গেছে নিজের বাড়িতে<br />
এটা উনি টের ই পেলেন না। স্টেশন<br />
মাষ্টারের বেধে দেয়া সময় এর বাকি<br />
আছে মাত্র দশ মিনিট আছে। তিনি ঘড়ি<br />
দেখতে দেখতে এসে বসলেন<br />
উনার আগের সিটে। এবং বসতে গিয়ে<br />
হটাত দেখলেন উনার পাশে এক বৃদ্ধা<br />
মহিলা বসে আছেন। উনি গলা খাকড়ি দিয়ে<br />
গিয়ে বসে পড়লেন মহিলার পাশে। এই<br />
ঠান্ডায় মহিলা অনেকটা কুকড়ে আছেন।<br />
শাদা শাড়ি পড়ে আছেন তিনি। মুখ অনেক<br />
তা ঢাকা ঘোমটার আড়ালে। রাজু সাহেব<br />
ভাবতে লাগলেন এই শুনশান রাতে মহিলা<br />
বসে আছেন কেন – কে তিনি ?<br />
কেন এলেন এখানে? এমন টা ভাবতে<br />
ভাবতেই মহিলা নিজে নিজেই বললেন-<br />
“ ভাবছেন তো কেন আমি এখানে?”<br />
শুনেই রাজু সাহেব বেশ চমকে<br />
উঠলেন। মহিলার গলার আওয়াজ অনেক<br />
ভাঙ্গা- শুনে মনে হচ্ছে উনি অনেক<br />
কষ্ট করে কথা বলছেন। কথা টা বলেই<br />
তিনি রাজু সাহেবের দিকে তাকালেন।<br />
রাজু সাহেব সেই দৃষ্টির দিকে বেশি<br />
ক্ষন তাকিয়ে থাকতে পারলেন না।<br />
ভয়ে শরীরের ভেতর টা ঘেমে<br />
ঊঠল উনার এই শীতের মাঝে। তিনি<br />
ভেবেছিলেন কোন এক ভুত উনার<br />
পাশে বসে থাকবে। আস্ত মানুষ<br />
দেখে কিছুটা স্বস্তি পেলেও মহিলার<br />
চোখ দুটি দেখে উনি ভয় পেয়ে<br />
গেলেন। “আমি সুনামগঞ্জ যাব বাবা-<br />
সেখানে আমার ছেলের কাছে যাব-<br />
শুনেছি ট্রেন আসতে অনেক ক্ষন<br />
বাকি তাই আমি ঘর থেকে বের হয়েছি<br />
দেরিতে। এখন আসলাম- ঘরের পাশেই<br />
মাস্টার সাহেব থাকেন। তিনি আমাকে<br />
বললেন- পাঁচ মিনিট পরেই ট্রেন<br />
আসবে। তাই আমি চলে আসলাম। আপনার<br />
কোন অসুবিধা নেই তো এখানে<br />
বসলে? বলেই জ্বলজ্বল চোখে<br />
তাকালেন বৃদ্ধা রাজু সাহেবের দিকে।<br />
রাজু সাহেবের বেশ অস্বস্থি হল এই<br />
প্রশ্ন শুনে- তিনি মনে মনে অনেক<br />
কিছু চিন্তা করলেও ভদ্রতার খাতিরে<br />
বললেন- “না না কোন সমস্যা নেই<br />
আপনি বসলে- আমি তো এখানে বসার<br />
সিট দখল করে রাখতে আসিনি” বলে<br />
বইটা খুলে পড়তে শুরু করে দিলেন।<br />
আর মিনিট খানেক পড়েই ট্রেন আসল।<br />
তিনি ‘ট’ বগির সামনের একটা সিটে বসে<br />
ছিলেন। “ট” বগিটা এসে থামল উনার<br />
সামনেই। উনি আসতে করে ঊঠে<br />
পড়লেন ট্রেনে। উনার পিছু পিছু বৃদ্ধা<br />
মহিলা ও ঊঠে পড়লেন। উনাদের সিট<br />
একই বগিতে পড়েছে। এবং যথারিতি<br />
সেই বগিতে আর কোন মানুষ জন<br />
নেই। সিটে বসেই রাজু সাহেব বই টা<br />
ব্যাগে ঢুকিয়ে আসতে করে ঘুমিয়ে<br />
পড়বেন বলে মনস্থির করলেন। তিনি<br />
বই ব্যাগ গুছিয়ে বস্তে যাবেন এমন<br />
সময় স্টেশন মাষ্টারের রুমে বসে<br />
থাকা সেই পাগলি রাজু সাহেবের বগির<br />
বাইরে থেকে জানালা দিয়ে রাজু<br />
সাহেব কে চিৎকার করে বলতে লাগল-<br />
“ঐ তুই যাইসনা এই ট্রেন এ। এই ট্রেন<br />
তোর লাইগা আহেনাই। এটা তোরে<br />
শেষ কইরা দিব। তুই যাইস না- অমঙ্গল<br />
হইব- ঘোর অমঙ্গল” চিৎকার করে<br />
বলতে বলতেই ট্রেন ছেড়ে দিল।<br />
রাজু সাহেব মনে মনে পাগলের প্রলাপ<br />
মনে করে হেসে ব্যাগ টা মাথার উপর<br />
র্যাদকে রেখে হেলান দিয়ে<br />
ঘুমানোর চেষ্টা করলেন। ততক্ষনে<br />
ট্রেনের গতি পেরিয়ে গেল লাকসাম<br />
স্টেশন। কিন্তু একটা গুন গুন শব্দে রাজু<br />
সাহেবের ঘুম ভেঙ্গে গেল। তিনি<br />
গলা বাড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখলেন<br />
উনার বগি থেমে আছে। ট্রেন<br />
চলছে না। চারদিকে প্রচন্ড বাতাসে<br />
শো শো শব্দ হচ্ছে।এই শব্দে<br />
উনার ঘুম ভেঙ্গে গেল। উনি উঠে<br />
বাইরে যাওয়ার গেট এর দিকে<br />
গেলেন।<br />
অনেক কষ্টে সেই গেট খুলে যা<br />
দেখলেন উনার তাতে হার্ট বিট<br />
বেড়ে গেল কয়েকগুণ। দেখলেন<br />
উনার বগির কোন দিকেই কোন বগি<br />
নেই। উনি হয়ত খেয়াল করেন নি- যে<br />
উনি শেষ বগি তে ঊঠেছিলেন। এবং<br />
চলতি পথে কোন ভাবে উনার বগির<br />
সাথে মূল ট্রেনের সংযোগ ছিড়ে<br />
গেছে। ভাবতেই উনি ঘেমে<br />
গেলেন। কেউ নেই চারপাশে।<br />
সুনসান নিরবতা। এমন কি বগিতেও কেই<br />
নেই। চারদিকে ফাঁকা একটা যায়গায় তিনি একা<br />
একটা ট্রেনের বগিতে- চিন্তা করতেই<br />
উনার ঘাড়ের বাম পাশে ব্যাথা করতে<br />
লাগল। উনার কয়েক বছর ধরে হাই<br />
প্রেশার। উনি বুঝতেই পারলেন না উনি<br />
কি করবেন। মাথার উপর আকাশ ছাড়া কিছুই<br />
তিনি ভালভাবে খেয়াল করতে পারছেন<br />
না। বগিতেও বসে থাকতে পারছেন না।<br />
অন্ধকার বগি- বাইরে ঝড়। এবং এমন সময়<br />
হটাত করে ঝড় থেমে গেল।<br />
উনি এবার সত্যি ভয় পেয়ে গেলেন।<br />
এবং ঠিক সেই সময় খুট করে একটা শব্দ<br />
হল। শব্দটা এসেছে বগির পেছন দিক<br />
থেকে। উনি যেখানে দাঁড়িয়ে<br />
আছেন সেখানের বিপরিত দিক<br />
থেকে। তিনি ভালভাবে খেয়াল করতে<br />
চেষ্টা করলেন। দেখলেন সেই<br />
ঘোমটা পড়া বৃদ্ধা এসে সামনে দাঁড়াল<br />
উনার। এবং উনার গলা চেপে ধরল প্রচন্ড<br />
শক্তিতে এক ঝটকায় উনার ঘুম<br />
ভেঙ্গে গেল। উনি এতক্ষন স্বপ্ন<br />
দেখছিলেন। বইটা কোলের উপর<br />
রেখে ই তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। চারপাশে<br />
সেই কোলাহল শুনে শরীরে কিছুটা<br />
শক্তি পেলেন।<br />
তারপর দেখলেন উনার সামনে এসে<br />
দাঁড়িয়েছে সিলেটগামী ট্রেন। উনার<br />
বগি নাম্বার “ট”। উনি দেরি না করে ঊঠে<br />
বসলেন উনার বগিতে। উনার জিনিস পত্র<br />
গুছিয়ে নিতে নিতেই তিনি একটা চিৎকার<br />
শুনতে পেলেন বাইরে।<br />
কোত্থেকে একটা পাগলি এসে<br />
চিৎকার করে বলতে লাগল- “ঐ তুই যাইসনা<br />
এই ট্রেন এ। এই ট্রেন তোর লাইগা<br />
আহেনাই। এটা তোরে শেষ কইরা<br />
দিব। তুই যাইস না- অমঙ্গল হইব- ঘোর<br />
অমঙ্গল” তিনি স্বপ্নের সাথে মিলাতে<br />
মিলাতে ট্রেন ছেড়ে দিল। উঠে<br />
জিজ্ঞাসা করবেন ভাবছিলেন পাগলিকে।<br />
কিন্তু ট্রেন ছেড়ে দেয়ায় তিনি পাগলি<br />
কে কিছু বলতে পারলেন না। তিনি এসে<br />
তার সিটে বসতে গিয়ে ই হটাত খেয়াল<br />
করলেন- পুরো বগি খালি –কিন্তু একদম<br />
শেষে দিকে একটা কাথা মুড়ি দিয়ে<br />
কেউ একজন বসে আছে এবং তিনি সিট<br />
পেয়েছেন একদম শেষ বগিতে।<br />
উনার বগির পরে আর কোন বগি নেই<br />
......]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[মানসিক হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আসা]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=932</link>
			<pubDate>Tue, 17 Jan 2017 12:58:00 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=932</guid>
			<description><![CDATA[আজ আপনাকে এক অদ্ভুত গল্প<br />
শোনাবো। যদি ও জানি আপনি এর এক<br />
দন্ড ও বিশ্বাস করবেন না। ভাববেন আমি<br />
পাগল কিনবা বদ্ধ উন্মাদ। কিনবা মানসিক<br />
হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আসা কেউ।<br />
কিন্তু বিশ্বাস করেন আমি আজ যে কথা<br />
গুলো বলবো তাতে বিন্দু মাত্র মিথ্যা<br />
লুকানো নেই। আমি লেখক হতে পারি,<br />
বানিয়ে বানিয়ে প্রচুর গল্প লিখতে পারি -<br />
কিন্তু আমি আজ যে জিনিসটা নিয়ে<br />
আপনাদের কাছে লিখছি সেটা আমার<br />
সামনেই আছে। একটা সামান্য সিংহাসন মাত্র<br />
এটা। আমি এটাতে বসেই লিখছি আপনার<br />
কাছে। আমি এটা সম্পর্কে যা যা<br />
লিখবো সব সত্য লিখবো এটা প্রতিজ্ঞা<br />
করেই শুরু করলাম। ঘটনার শুরু যখন আমি<br />
মেসে থাকি- ঢাকায় এক অভিজাত এলাকায়।<br />
বাবার অনেক টাকা থাকায় আমোদ<br />
ফুর্তিতে আমি ছিলাম একেবারেই মত্ত।<br />
আমি পড়তাম এক অভিজাত প্রাইভেট<br />
ইউনিভার্সিটি তে। সারাদিন আড্ডা- নেশা<br />
করা- বিভিন্ন যায়গায় হটাত করে চলে যাওয়া<br />
ছিল আমার নিত্য দিনের অভ্যাস। আমি<br />
কুমিল্লার ধর্ম সাগরে নেশা করে নৈকায়<br />
ঘুরেছি- সমুদ্রে চাঁদের আলোর<br />
নিচে বসে বসে বন্ধুদের মাঝে<br />
বিলিয়েছি ঘুমের মন্ত্র। নীল পাহাড়ে<br />
গিয়েছি একদম ঠান্ডার মাঝে। এসব<br />
করে অভিজ্ঞতা ও আমার কম হয়নি। আমি<br />
সেই অভিজ্ঞতা গুলো জমিয়েই<br />
লিখেছি ১০ টা উপন্যাস। সব গুলোই বই<br />
আকারে আছে। আপনারা হয়ত "নীলাভ<br />
তারার কালচে আলো" উপন্যাস টা<br />
পড়েছেন। এইত কদিন আগে ঈদে<br />
এটা থেকে নাটক হয়ে গেল। জাহিদ<br />
হাসান আর জয়িতা অভিনয় করেছিল। যাই<br />
হোক সেই এক সময় আমি গিয়েছিলাম<br />
সুন্দর বন। সময়টা বেশিদিন আগের না।<br />
মাত্র তিন মাস আগে। প্রথমে<br />
গিয়েছিলাম খুলনা- সেখান থেকে বরগুনা<br />
ঘুরে সুন্দরবন । একসপ্তাহ ছিলাম আমি<br />
সেখানে- সাথে ছিল আমার তিন মেস<br />
মেট। আমরা একসাথেই পড়ি। লেখা পড়া<br />
শেষ হবার উপলক্ষে আমাদের এই<br />
ট্যুরের স্পন্সর আমি। ফেরার আগেই<br />
ছয়দিন আমরা অনেক অনেক আনন্দ<br />
করেছি। টাকা খাইয়ে এক বনবিভাগের<br />
লোক কে আমরা ঢুকে ছিলাম চিত্রা<br />
হরিণ শিকার করতে। আমি নিজেই একটা<br />
মেরেছি। সেটার মাংস পুড়িয়ে<br />
খেয়েছি নদীর পাড়ে। আমি<br />
যেখানেই যাই অঢেল টাকা নিয়ে যাই।<br />
সেবার ও নিয়েছিলাম অনেক টাকা। ইচ্ছা<br />
ছিল সব ঊড়িয়ে খালি হাতে দেশে<br />
ফিরব। কিন্তু হলনা। সুন্দরবন থেকে<br />
ফেরার পথে আমরা খোঁজ পেলাম<br />
একটা বজরার। এটা এক সৌখিন মানুষ সুজন<br />
মোল্লার। উনার বজরা তে আমরা<br />
ঊঠেছিলাম শুধু মাত্র নৌকা ভ্রমণের<br />
জন্য। কিন্তু সেখানে গিয়েই আমরা<br />
জানতে পারি এই বজরা ছিল কুখ্যাত ডাকাত<br />
করিম মোল্লার। এবং এই সুজন মোল্লা<br />
তার ই সন্তান। শুনে তো আমরা অনেক<br />
ভয় পেয়ে যাই। কিন্তু আমাদের সুজন<br />
মোল্লা অভয় দেয়। সে এখন ডাকাতি<br />
করেনা। তার বাবার রেখে যাওয়া অঢেল<br />
টাকা আছে। সে কোন কাজ করেনা-<br />
পায়ের উপর পা তুলে খায়। এভাবে কথায়<br />
কথায় আমাদের সাথে সুজন মোল্লার<br />
বেশ ভাব হয়। আমরা সেইদিন রাতে<br />
বজরায় একসাথে জোছনা দেখলাম।<br />
পরদিন আমাদের তিনজন কে সুজন<br />
মোল্লা কিছু অদ্ভুত জিনিস দেখালো।<br />
সেগুলো ছিল তার ই বাবার রেখে যাওয়া<br />
ডাকাতির মাল পত্র। এর মাঝে একটা সিংহাসন<br />
দেখলাম আমি। দেখেই আমার খুব ভাল<br />
লেগে গেল। আমি এটার কাহিনী<br />
জানতে চাইলেই উনি বললেন আজ<br />
থেকে প্রায় বছর পঞ্চাশ আগে<br />
একবার ডাকাতি করতে গিয়ে আরেক<br />
ডাকাত এর সাথে লড়াই করে এই সিংহাসন<br />
কেড়ে নেন করিম মোল্লা। সেই<br />
ডাকাত- যে এই সিংহাসন এর মালিক ছিল -<br />
সে এটা পেয়েছিল তার বাবার কাছ<br />
থেকে। তার বাবা ছিল ব্রিটিশ আমলের<br />
কুখ্যাত ডাকাত নিরঞ্জন পালী। তিনি এটা<br />
নিয়ে এসেছিলেন উত্তর বাংলার জমিদার<br />
জ্ঞানদা চরণ মজুমদার এর সভাকক্ষ<br />
থেকে। নিরঞ্জন পালী বেশ হিংস্র<br />
ছিলেন। তিনি যখন এই সিংহাসন কেড়ে<br />
নিতে যান তখন এটাতেই বসা ছিলেন<br />
জ্ঞানদা চরণ। একটা তলোয়ার জ্ঞানদা<br />
চরণের পেটে আমুল বসিয়ে লাশ সহ<br />
সিংহাসন নিয়ে আসেন তার আস্তানায়।<br />
সেখান থেকে হাত ঘুরে এই বজরায়।<br />
এটা পাওয়ার পর প্রায় ১৫০ বছর অতিবাহিত<br />
হয়েছে। কিন্তু এখন ও সিংহাসনটার<br />
অদ্ভুত জেল্লা দেখে আমি অবাক<br />
হলাম।সিংহাসন এর উচ্চতা আনুমানিক চার ফুট।<br />
সবার উপরে একটা ময়ুরের মাথা আর<br />
পালক। সেই পালকে গাথা শ'খানেক<br />
মুক্তা আর নীলা। দুই হাতলে আছে<br />
অদ্ভুত সিংহ খচিত কারুকাজ। হাতলের<br />
শেষে সিংহের মুখ হা করে আছে।<br />
আর চোখ দুটো তে উজ্জ্বল পাথর।<br />
পিঠের নিচে আছে মখমলের নরম<br />
আবরন। পায়া চারটার মাঝে জ্বল জ্বল<br />
করছে সাতটা করে নীলা। কালচে রং<br />
এর কাঠের আবরনে এখন ও কেমন<br />
যেন রাজা মহারাজা আবেশ ছড়িয়ে<br />
আছে। আমি অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে<br />
ছিলাম সিংহাসনটার দিকে। আসলে এই রকম<br />
একটা জিনিস এই ভাঙ্গা বজরাতে থাকতে<br />
পারে সেটা নিজের চোখেই বিশ্বাস<br />
হচ্ছিল না। যাদুঘরে রাখার মত এই সম্পদ<br />
এই আস্তাকুড়ে নৌকায় পড়ে আছে<br />
ভাবতেই মনটাই খারাপ হয়ে গেল। আমার<br />
সাথে এক লাখের মত টাকা ছিল। আমি<br />
সুজন মোল্লা কে তখন ই সিংহাসনটা<br />
কেনার জন্য আবদার করলাম। সুজন<br />
মোল্লা ও না করেনি। আমাদের কে<br />
জিনিস গুলো দেখানো মানেই ছিল<br />
এগুলো আমাদের কাছে বিক্রি করে<br />
তার পেট চালানোর ধান্ধা। কিন্তু সে যা<br />
দাম চাইল তাতেই মাথায় হাত পড়ল আমার।<br />
সেই এই সিংহাসন এর দাম হাঁকল দশ লাখ<br />
টাকা। আমি ঊষ্ণা প্রকাশ করতেই সে<br />
একজন জহুরী ডাকাল। সেই জহুরী<br />
প্রতিটা পাথর আমাদের<br />
সামনে পরীক্ষা করে জানাল প্রতিটি<br />
পাথর ই মহামুল্যবান। সব মিলিয়ে এই সিংহাসন<br />
এর দাম কম করে হলেও কোটি টাকা<br />
ছাড়িয়ে যাবে। আমি সেই দিনেই<br />
আব্বাকে ফোন করে টাকার ব্যাবস্থা<br />
করলাম। উনি সাথে দুইজন লোক ও<br />
পাঠিয়ে দিলেন। ঐ লোকগুলো<br />
সিংহাসনটাকে নিয়ে রওনা দেয় আমার<br />
মেসে এর উদ্দেশ্যে। আমি ঢাকায়<br />
পৌছানোর একদিন পরেই ঢাকায় পৌছায়<br />
আমার সিংহাসনটা। কিন্তু এটা আনার পরদিন ই<br />
এক অদ্ভুত কান্ড ঘটে। রাতে আমি<br />
একটা অ্যাসাইনমেন্ট এর কাজ এ দেরী<br />
করে ঘুমিয়ে ছিলাম। সকালে ঘুম<br />
থেকে ঊঠে দেখি সিংহাসন এর বসার<br />
যায়গায় মরে পড়ে আছে একটা বাচ্চা<br />
ইদুর। আমি কাজের বুয়া কে ইদুরটা<br />
সরাতে বলেই চলে গেলাম ভার্সিটি।<br />
যখন ঘরে ফিরি তখন সন্ধ্যা। আমি কলিং<br />
বেল অনেক বার টিপে ও কেউ<br />
খুলে না দিলে দাড়োয়ান ডেকে দরজা<br />
ভাঙ্গার ব্যাবস্থা করি। এবং দরজা ভেঙ্গে<br />
আমার রুমে গিয়ে যা দেখি তার জন্য<br />
আমি কোনদিন প্রস্তুত ছিলাম না।<br />
দেখলাম সিংহাসন এর উপর কাজের বুয়া<br />
অদ্ভুত ভাবে পড়ে আছে। নাক দিয়ে<br />
রক্তের একটা ধারা। আর কোন<br />
আঘাতের চিহ্ন নেই। দেখে আমি<br />
হতভম্ভ। তাড়াতাড়ি হাসপাতাল নিয়ে যাই।<br />
সেখানে জানায় সে মারা গেছে<br />
অনেক ক্ষন আগে। মস্তিষ্কে<br />
রক্তক্ষরণ জনিত কারনে। ডাক্তার পুলিশ<br />
কেস করতে বলেছিল। আমি টাকা<br />
খাইয়ে ডাক্তার কে ম্যানেজ করি। টাকা<br />
খাইয়ে দাড়োয়ানের মুখ ও বন্ধ করি।<br />
এবং কাজের বুয়ার পরিবার কে দশহাজার<br />
টাকা দিয়ে চুপ থাকতে বলে ছেড়ে<br />
দেই সেই মেস। এবং সিংহাসনটাকে<br />
পাঠিয়ে দেই আমার গ্রামের বাড়িতে।<br />
সেখানে আব্বাই আমাকে সেটা<br />
পাঠিয়ে দিতে বলেন। এবং আমার<br />
দুর্ভাগ্যের শুরু সেখান থেকেই। দুই<br />
সপ্তাহ পর বাসা থেকে জরুরী ফোন<br />
আসল। বলা হল আমার খালা খুব অসুস্থ।<br />
আমি যেন চলে আসি। আমি তড়িঘড়ি<br />
করে গিয়ে দেখি খালা মারা গেছেন।<br />
আমি লাশের মুখ টা দেখতে চাইতেই<br />
দেখলাম খালার নাকের কাছে জমে থাকা<br />
লালচে রক্ত। বুঝতে বাকি থাকল না যে<br />
খালা সেই সিংহাসন এ বসেই মারা<br />
গেছেন। আমি সেইদিন ই জানাজার পর<br />
ফোন করলাম সুজন মোল্লা কে।<br />
সে আমাকে জানাল এই সিংহাসন অভিশপ্ত।<br />
কেউ এটাতে বসলেই সে একটা<br />
ঘোরের মাঝে চলে যায়। তারপর সে<br />
আস্তে আস্তে ঘুমিয়ে পড়ে। সেই<br />
ঘুম কখনো ভাঙ্গে না। এতেই সুজন<br />
মোল্লার বাবা করিম মোল্লা মারা যান।<br />
এটাতেই মারা যায় সুজন মোল্লার<br />
মেয়ে জামাই।এই কথা আমাকে আগে<br />
কেন জানায় নি জানতে চাইতেই ঐ পাশ<br />
থেকে ফোন কেটে দেয় সুজন<br />
মোল্লা। বুঝলাম ডাকাতি না করলে ও<br />
স্বার্থের জন্য করেনা কিছু বাকি নেই<br />
তার। দশ লাখ টাকার জন্য মেরে<br />
ফেলেছে দুজন<br />
মানুষ কে। আমি সেই দিন ই লুকিয়ে<br />
ফেললাম সিংহাসনটাকে। বাড়িটা বিশাল<br />
আমাদের। পুরোনো বাড়ি- অনেক<br />
গুলো রুম। আমি একটা স্টোর রুমে<br />
লুকিয়ে ফেললাম সেটাকে। কিন্তু<br />
থামাতে পারলাম না মৃত্যু। ঠিক দুইদিন পর<br />
খবর আসল আমার বড় ভাই মারা গেছেন।<br />
আমি গেলাম সেখানে। গিয়ে দেখলাম<br />
ভাইয়ার ও একই অবস্থা। নাকের কাছে<br />
এক ফোঁটা রক্ত। বুঝলাম ভাইয়া কোন<br />
একটা কাজে সেই স্টোর রুমে<br />
গিয়েছিলেন। গিয়েই চেয়ারটা দেখে<br />
লোভ সামলাতে না পেরে বসে<br />
পড়ে। আর মারা যায়। আমি প্রায় উন্মাদ<br />
হয়ে গেলাম।ভাইয়ার মৃত্যু কে আমার<br />
আম্মা মেনে নিতে পারেন নি। তিনি<br />
পরদিন স্ট্রোক করে মারা যান। এবং<br />
একে একে আমাদের পরিবারের এগার<br />
জন এই সিংহাসন এ বসে বসে মারা<br />
গেলেন। আমি শুধু দীর্ঘশ্বাস<br />
ফেললাম। কিছু ই করার ছিলনা। কারো<br />
কাছে বিক্রি ও করতে পারছিলাম না<br />
লুকিয়ে ও রাখতে পারলাম না। যেন<br />
একের পর এক মানুষ কে টেনে<br />
নিয়ে মারে ইচ্ছা মত সিংহাসনটা।আমাদের<br />
পারিবারিক গোরস্থানে একটু আগে<br />
আমার আব্বাকে কবর দিয়ে এসে<br />
সিংহাসনটাতে বসেই লিখছি এই সব। বিশ্বাস<br />
করেন এর একবিন্দু ও মিথ্যা না। আমি যা যা<br />
লিখেছি তার সব সত্য। যেমন একটু<br />
আগে থেকে আমি একটা খুব সুন্দর<br />
মেয়েকে দেখতে পাচ্ছি। চমৎকার<br />
একটা শাড়ি পড়ে আছে। হাতে একটা<br />
থালা। তাতে নানা রকম ফল। আমি লেখার<br />
ফাঁকে ফাঁকে মেয়েটাকে<br />
দেখছিলাম। এখন মেয়েটা আস্তে<br />
আস্তে সামনে এসে আমাকে ফল<br />
খাওয়ালো। আমি ও খেলাম।কি ফল জানিনা।<br />
কোনদিন<br />
খাইনি। কিন্তু আশ্চর্য স্বাদ। মেয়েটা<br />
এরপর থালাটা মাটিতে রেখে নাচ শুরু<br />
করল। আমি ঊঠে মেয়েটার সাথে<br />
নাচতে চাইলাম। কিন্তু আমাকে জোর<br />
করে বসিয়ে দিল আরো দুই জন হটাত<br />
করে উদয় হওয়া মেয়ে। তারপর<br />
আমাকে একজন একটা হাত পাখা দিয়ে<br />
বাতাস করতে লাগল। আরেকজন একটা<br />
রুপার পাত্রে ঢেলে দিল মদ। আমি মদ<br />
খেয়ে মাতাল হতে শুরু করেছি। তাই<br />
লিখতে পারছিনা। হয়ত এটাই আমার<br />
জীবনের শেষ ক্ষন। কারন একটু<br />
আগেই নাকের কাছে একটা সরু<br />
রক্তের ধারা টের পেয়েছি। কিন্তু<br />
কিছুই করার নেই। আমি ঊঠতে পারছি না<br />
সিংহাসন ছেড়ে। মেয়েটার নাচের তাল<br />
বেড়েই চলল। কেউ একজন হাতের<br />
তালি দিয়ে তবলার বোল দিচ্ছে।<br />
মেয়েটা নেচে চলেছে। তা ধিন ধিন<br />
ধা তা ধিন ধিন ধা- না তিন তিন না- তেটে ধিন<br />
ধিন ধা- ধা- আহ মাথার চার পাশ কেমন যেন<br />
হালকা হয়ে আসছে। এখন সামনে শুধু<br />
মেয়েটা নাচছে। আর কিছু শুনতে<br />
পারছিনা। খুব ঘুম পাচ্ছে। প্রচন্ড ঘুম। আমি<br />
ঘুমালাম- জীবনের শেষ ঘুম। আপনি এই<br />
সিংহাসন টাকে ধবংস করে দেবেন।<br />
ভুলেও লোভে পড়ে এতে<br />
বসবেন না। বসলেই নিশ্চিত মৃত্যু<br />
................ ইতি রাওসিভ হাসান.।.। দুই মাস পর<br />
বর্ষা যাদুঘরে এসেছে ওর মা বাবার<br />
সাথে।ওর খুব শখ পুরাত্ন জিনিস পত্র<br />
দেখার। তাই প্রতিমাসে সে আসে<br />
জাতীয় যাদুঘরে। দেশের প্রায়<br />
প্রতিটি যাদুঘরে ও ঘুরে ঘুরে সব<br />
মুখস্থ করে ফেলেছে। কিন্তু সে<br />
এখন তিন তলার ডান পাশের রুমে নতুন<br />
যে সিংহাসন টার সামনে দাঁড়িয়ে আছে<br />
সেটা সে আগের বার আসার সময়<br />
দেখেনি। তাই মন যোগ দিয়ে সিংহাসন<br />
এর সামনে লেখা বর্ণনা পড়তে লাগল।<br />
তাতে লেখা- " পশ্চিম বাংলার জমিদার<br />
জ্ঞানদা চরণ এর হারিয়ে যাওয়া সিংহাসন এটা।<br />
পাওয়া গেছে গাজিপুরের হাসান<br />
পরিবারে। সিংহাসনটা জ্ঞানদা চরণ নিজে<br />
বসার জন্য বানায় নি।<br />
সেটা বানিয়ে ছিলেন তার ভাই রুক্ষদা<br />
চরণের জন্য। এটা ছিল একটা মরন ফাঁদ।<br />
এই সিংহাসন এর সব খানেই মেশানো<br />
আছে একধরনের অজানা বিষ। এই সিংহাসন<br />
এ বসলেই এই বিষ প্রবেশ করে বসা<br />
ব্যাক্তির উপর। তারপর আস্তে আস্তে<br />
ঐ ব্যাক্তির মৃত্যু হয়। জ্ঞানদা চরণ তার<br />
ভাইকে মারার জন্য এটা বানালে ও কুখ্যাত<br />
ডাকাত নিরঞ্জন পালী এটাকে হস্তগত<br />
করে। এর পর প্রায় ২০০ বছর এটার<br />
অস্তিত্ব অজানা ছিল। একমাস আগে হাসান<br />
ফ্যামিলির রাওসিব হাসানের মৃতদেহ<br />
আবিষ্কারের মাধ্যমে এটা ঊঠে আসে<br />
সভ্যতার সামনে। নিরীহ দর্শন এই সিংহাসন<br />
হত্যা করেছে প্রায় ৪০ জনের মত<br />
নিরীহ মানুষ কে। তাই এটা থেকে<br />
দূরে থাকুন ................ লেখাটা পড়েই<br />
বর্ষা খুব ভয় পেল। তারপর দৌড়ে চলে<br />
গেল ওর বাবার কাছে ...........]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[আজ আপনাকে এক অদ্ভুত গল্প<br />
শোনাবো। যদি ও জানি আপনি এর এক<br />
দন্ড ও বিশ্বাস করবেন না। ভাববেন আমি<br />
পাগল কিনবা বদ্ধ উন্মাদ। কিনবা মানসিক<br />
হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আসা কেউ।<br />
কিন্তু বিশ্বাস করেন আমি আজ যে কথা<br />
গুলো বলবো তাতে বিন্দু মাত্র মিথ্যা<br />
লুকানো নেই। আমি লেখক হতে পারি,<br />
বানিয়ে বানিয়ে প্রচুর গল্প লিখতে পারি -<br />
কিন্তু আমি আজ যে জিনিসটা নিয়ে<br />
আপনাদের কাছে লিখছি সেটা আমার<br />
সামনেই আছে। একটা সামান্য সিংহাসন মাত্র<br />
এটা। আমি এটাতে বসেই লিখছি আপনার<br />
কাছে। আমি এটা সম্পর্কে যা যা<br />
লিখবো সব সত্য লিখবো এটা প্রতিজ্ঞা<br />
করেই শুরু করলাম। ঘটনার শুরু যখন আমি<br />
মেসে থাকি- ঢাকায় এক অভিজাত এলাকায়।<br />
বাবার অনেক টাকা থাকায় আমোদ<br />
ফুর্তিতে আমি ছিলাম একেবারেই মত্ত।<br />
আমি পড়তাম এক অভিজাত প্রাইভেট<br />
ইউনিভার্সিটি তে। সারাদিন আড্ডা- নেশা<br />
করা- বিভিন্ন যায়গায় হটাত করে চলে যাওয়া<br />
ছিল আমার নিত্য দিনের অভ্যাস। আমি<br />
কুমিল্লার ধর্ম সাগরে নেশা করে নৈকায়<br />
ঘুরেছি- সমুদ্রে চাঁদের আলোর<br />
নিচে বসে বসে বন্ধুদের মাঝে<br />
বিলিয়েছি ঘুমের মন্ত্র। নীল পাহাড়ে<br />
গিয়েছি একদম ঠান্ডার মাঝে। এসব<br />
করে অভিজ্ঞতা ও আমার কম হয়নি। আমি<br />
সেই অভিজ্ঞতা গুলো জমিয়েই<br />
লিখেছি ১০ টা উপন্যাস। সব গুলোই বই<br />
আকারে আছে। আপনারা হয়ত "নীলাভ<br />
তারার কালচে আলো" উপন্যাস টা<br />
পড়েছেন। এইত কদিন আগে ঈদে<br />
এটা থেকে নাটক হয়ে গেল। জাহিদ<br />
হাসান আর জয়িতা অভিনয় করেছিল। যাই<br />
হোক সেই এক সময় আমি গিয়েছিলাম<br />
সুন্দর বন। সময়টা বেশিদিন আগের না।<br />
মাত্র তিন মাস আগে। প্রথমে<br />
গিয়েছিলাম খুলনা- সেখান থেকে বরগুনা<br />
ঘুরে সুন্দরবন । একসপ্তাহ ছিলাম আমি<br />
সেখানে- সাথে ছিল আমার তিন মেস<br />
মেট। আমরা একসাথেই পড়ি। লেখা পড়া<br />
শেষ হবার উপলক্ষে আমাদের এই<br />
ট্যুরের স্পন্সর আমি। ফেরার আগেই<br />
ছয়দিন আমরা অনেক অনেক আনন্দ<br />
করেছি। টাকা খাইয়ে এক বনবিভাগের<br />
লোক কে আমরা ঢুকে ছিলাম চিত্রা<br />
হরিণ শিকার করতে। আমি নিজেই একটা<br />
মেরেছি। সেটার মাংস পুড়িয়ে<br />
খেয়েছি নদীর পাড়ে। আমি<br />
যেখানেই যাই অঢেল টাকা নিয়ে যাই।<br />
সেবার ও নিয়েছিলাম অনেক টাকা। ইচ্ছা<br />
ছিল সব ঊড়িয়ে খালি হাতে দেশে<br />
ফিরব। কিন্তু হলনা। সুন্দরবন থেকে<br />
ফেরার পথে আমরা খোঁজ পেলাম<br />
একটা বজরার। এটা এক সৌখিন মানুষ সুজন<br />
মোল্লার। উনার বজরা তে আমরা<br />
ঊঠেছিলাম শুধু মাত্র নৌকা ভ্রমণের<br />
জন্য। কিন্তু সেখানে গিয়েই আমরা<br />
জানতে পারি এই বজরা ছিল কুখ্যাত ডাকাত<br />
করিম মোল্লার। এবং এই সুজন মোল্লা<br />
তার ই সন্তান। শুনে তো আমরা অনেক<br />
ভয় পেয়ে যাই। কিন্তু আমাদের সুজন<br />
মোল্লা অভয় দেয়। সে এখন ডাকাতি<br />
করেনা। তার বাবার রেখে যাওয়া অঢেল<br />
টাকা আছে। সে কোন কাজ করেনা-<br />
পায়ের উপর পা তুলে খায়। এভাবে কথায়<br />
কথায় আমাদের সাথে সুজন মোল্লার<br />
বেশ ভাব হয়। আমরা সেইদিন রাতে<br />
বজরায় একসাথে জোছনা দেখলাম।<br />
পরদিন আমাদের তিনজন কে সুজন<br />
মোল্লা কিছু অদ্ভুত জিনিস দেখালো।<br />
সেগুলো ছিল তার ই বাবার রেখে যাওয়া<br />
ডাকাতির মাল পত্র। এর মাঝে একটা সিংহাসন<br />
দেখলাম আমি। দেখেই আমার খুব ভাল<br />
লেগে গেল। আমি এটার কাহিনী<br />
জানতে চাইলেই উনি বললেন আজ<br />
থেকে প্রায় বছর পঞ্চাশ আগে<br />
একবার ডাকাতি করতে গিয়ে আরেক<br />
ডাকাত এর সাথে লড়াই করে এই সিংহাসন<br />
কেড়ে নেন করিম মোল্লা। সেই<br />
ডাকাত- যে এই সিংহাসন এর মালিক ছিল -<br />
সে এটা পেয়েছিল তার বাবার কাছ<br />
থেকে। তার বাবা ছিল ব্রিটিশ আমলের<br />
কুখ্যাত ডাকাত নিরঞ্জন পালী। তিনি এটা<br />
নিয়ে এসেছিলেন উত্তর বাংলার জমিদার<br />
জ্ঞানদা চরণ মজুমদার এর সভাকক্ষ<br />
থেকে। নিরঞ্জন পালী বেশ হিংস্র<br />
ছিলেন। তিনি যখন এই সিংহাসন কেড়ে<br />
নিতে যান তখন এটাতেই বসা ছিলেন<br />
জ্ঞানদা চরণ। একটা তলোয়ার জ্ঞানদা<br />
চরণের পেটে আমুল বসিয়ে লাশ সহ<br />
সিংহাসন নিয়ে আসেন তার আস্তানায়।<br />
সেখান থেকে হাত ঘুরে এই বজরায়।<br />
এটা পাওয়ার পর প্রায় ১৫০ বছর অতিবাহিত<br />
হয়েছে। কিন্তু এখন ও সিংহাসনটার<br />
অদ্ভুত জেল্লা দেখে আমি অবাক<br />
হলাম।সিংহাসন এর উচ্চতা আনুমানিক চার ফুট।<br />
সবার উপরে একটা ময়ুরের মাথা আর<br />
পালক। সেই পালকে গাথা শ'খানেক<br />
মুক্তা আর নীলা। দুই হাতলে আছে<br />
অদ্ভুত সিংহ খচিত কারুকাজ। হাতলের<br />
শেষে সিংহের মুখ হা করে আছে।<br />
আর চোখ দুটো তে উজ্জ্বল পাথর।<br />
পিঠের নিচে আছে মখমলের নরম<br />
আবরন। পায়া চারটার মাঝে জ্বল জ্বল<br />
করছে সাতটা করে নীলা। কালচে রং<br />
এর কাঠের আবরনে এখন ও কেমন<br />
যেন রাজা মহারাজা আবেশ ছড়িয়ে<br />
আছে। আমি অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে<br />
ছিলাম সিংহাসনটার দিকে। আসলে এই রকম<br />
একটা জিনিস এই ভাঙ্গা বজরাতে থাকতে<br />
পারে সেটা নিজের চোখেই বিশ্বাস<br />
হচ্ছিল না। যাদুঘরে রাখার মত এই সম্পদ<br />
এই আস্তাকুড়ে নৌকায় পড়ে আছে<br />
ভাবতেই মনটাই খারাপ হয়ে গেল। আমার<br />
সাথে এক লাখের মত টাকা ছিল। আমি<br />
সুজন মোল্লা কে তখন ই সিংহাসনটা<br />
কেনার জন্য আবদার করলাম। সুজন<br />
মোল্লা ও না করেনি। আমাদের কে<br />
জিনিস গুলো দেখানো মানেই ছিল<br />
এগুলো আমাদের কাছে বিক্রি করে<br />
তার পেট চালানোর ধান্ধা। কিন্তু সে যা<br />
দাম চাইল তাতেই মাথায় হাত পড়ল আমার।<br />
সেই এই সিংহাসন এর দাম হাঁকল দশ লাখ<br />
টাকা। আমি ঊষ্ণা প্রকাশ করতেই সে<br />
একজন জহুরী ডাকাল। সেই জহুরী<br />
প্রতিটা পাথর আমাদের<br />
সামনে পরীক্ষা করে জানাল প্রতিটি<br />
পাথর ই মহামুল্যবান। সব মিলিয়ে এই সিংহাসন<br />
এর দাম কম করে হলেও কোটি টাকা<br />
ছাড়িয়ে যাবে। আমি সেই দিনেই<br />
আব্বাকে ফোন করে টাকার ব্যাবস্থা<br />
করলাম। উনি সাথে দুইজন লোক ও<br />
পাঠিয়ে দিলেন। ঐ লোকগুলো<br />
সিংহাসনটাকে নিয়ে রওনা দেয় আমার<br />
মেসে এর উদ্দেশ্যে। আমি ঢাকায়<br />
পৌছানোর একদিন পরেই ঢাকায় পৌছায়<br />
আমার সিংহাসনটা। কিন্তু এটা আনার পরদিন ই<br />
এক অদ্ভুত কান্ড ঘটে। রাতে আমি<br />
একটা অ্যাসাইনমেন্ট এর কাজ এ দেরী<br />
করে ঘুমিয়ে ছিলাম। সকালে ঘুম<br />
থেকে ঊঠে দেখি সিংহাসন এর বসার<br />
যায়গায় মরে পড়ে আছে একটা বাচ্চা<br />
ইদুর। আমি কাজের বুয়া কে ইদুরটা<br />
সরাতে বলেই চলে গেলাম ভার্সিটি।<br />
যখন ঘরে ফিরি তখন সন্ধ্যা। আমি কলিং<br />
বেল অনেক বার টিপে ও কেউ<br />
খুলে না দিলে দাড়োয়ান ডেকে দরজা<br />
ভাঙ্গার ব্যাবস্থা করি। এবং দরজা ভেঙ্গে<br />
আমার রুমে গিয়ে যা দেখি তার জন্য<br />
আমি কোনদিন প্রস্তুত ছিলাম না।<br />
দেখলাম সিংহাসন এর উপর কাজের বুয়া<br />
অদ্ভুত ভাবে পড়ে আছে। নাক দিয়ে<br />
রক্তের একটা ধারা। আর কোন<br />
আঘাতের চিহ্ন নেই। দেখে আমি<br />
হতভম্ভ। তাড়াতাড়ি হাসপাতাল নিয়ে যাই।<br />
সেখানে জানায় সে মারা গেছে<br />
অনেক ক্ষন আগে। মস্তিষ্কে<br />
রক্তক্ষরণ জনিত কারনে। ডাক্তার পুলিশ<br />
কেস করতে বলেছিল। আমি টাকা<br />
খাইয়ে ডাক্তার কে ম্যানেজ করি। টাকা<br />
খাইয়ে দাড়োয়ানের মুখ ও বন্ধ করি।<br />
এবং কাজের বুয়ার পরিবার কে দশহাজার<br />
টাকা দিয়ে চুপ থাকতে বলে ছেড়ে<br />
দেই সেই মেস। এবং সিংহাসনটাকে<br />
পাঠিয়ে দেই আমার গ্রামের বাড়িতে।<br />
সেখানে আব্বাই আমাকে সেটা<br />
পাঠিয়ে দিতে বলেন। এবং আমার<br />
দুর্ভাগ্যের শুরু সেখান থেকেই। দুই<br />
সপ্তাহ পর বাসা থেকে জরুরী ফোন<br />
আসল। বলা হল আমার খালা খুব অসুস্থ।<br />
আমি যেন চলে আসি। আমি তড়িঘড়ি<br />
করে গিয়ে দেখি খালা মারা গেছেন।<br />
আমি লাশের মুখ টা দেখতে চাইতেই<br />
দেখলাম খালার নাকের কাছে জমে থাকা<br />
লালচে রক্ত। বুঝতে বাকি থাকল না যে<br />
খালা সেই সিংহাসন এ বসেই মারা<br />
গেছেন। আমি সেইদিন ই জানাজার পর<br />
ফোন করলাম সুজন মোল্লা কে।<br />
সে আমাকে জানাল এই সিংহাসন অভিশপ্ত।<br />
কেউ এটাতে বসলেই সে একটা<br />
ঘোরের মাঝে চলে যায়। তারপর সে<br />
আস্তে আস্তে ঘুমিয়ে পড়ে। সেই<br />
ঘুম কখনো ভাঙ্গে না। এতেই সুজন<br />
মোল্লার বাবা করিম মোল্লা মারা যান।<br />
এটাতেই মারা যায় সুজন মোল্লার<br />
মেয়ে জামাই।এই কথা আমাকে আগে<br />
কেন জানায় নি জানতে চাইতেই ঐ পাশ<br />
থেকে ফোন কেটে দেয় সুজন<br />
মোল্লা। বুঝলাম ডাকাতি না করলে ও<br />
স্বার্থের জন্য করেনা কিছু বাকি নেই<br />
তার। দশ লাখ টাকার জন্য মেরে<br />
ফেলেছে দুজন<br />
মানুষ কে। আমি সেই দিন ই লুকিয়ে<br />
ফেললাম সিংহাসনটাকে। বাড়িটা বিশাল<br />
আমাদের। পুরোনো বাড়ি- অনেক<br />
গুলো রুম। আমি একটা স্টোর রুমে<br />
লুকিয়ে ফেললাম সেটাকে। কিন্তু<br />
থামাতে পারলাম না মৃত্যু। ঠিক দুইদিন পর<br />
খবর আসল আমার বড় ভাই মারা গেছেন।<br />
আমি গেলাম সেখানে। গিয়ে দেখলাম<br />
ভাইয়ার ও একই অবস্থা। নাকের কাছে<br />
এক ফোঁটা রক্ত। বুঝলাম ভাইয়া কোন<br />
একটা কাজে সেই স্টোর রুমে<br />
গিয়েছিলেন। গিয়েই চেয়ারটা দেখে<br />
লোভ সামলাতে না পেরে বসে<br />
পড়ে। আর মারা যায়। আমি প্রায় উন্মাদ<br />
হয়ে গেলাম।ভাইয়ার মৃত্যু কে আমার<br />
আম্মা মেনে নিতে পারেন নি। তিনি<br />
পরদিন স্ট্রোক করে মারা যান। এবং<br />
একে একে আমাদের পরিবারের এগার<br />
জন এই সিংহাসন এ বসে বসে মারা<br />
গেলেন। আমি শুধু দীর্ঘশ্বাস<br />
ফেললাম। কিছু ই করার ছিলনা। কারো<br />
কাছে বিক্রি ও করতে পারছিলাম না<br />
লুকিয়ে ও রাখতে পারলাম না। যেন<br />
একের পর এক মানুষ কে টেনে<br />
নিয়ে মারে ইচ্ছা মত সিংহাসনটা।আমাদের<br />
পারিবারিক গোরস্থানে একটু আগে<br />
আমার আব্বাকে কবর দিয়ে এসে<br />
সিংহাসনটাতে বসেই লিখছি এই সব। বিশ্বাস<br />
করেন এর একবিন্দু ও মিথ্যা না। আমি যা যা<br />
লিখেছি তার সব সত্য। যেমন একটু<br />
আগে থেকে আমি একটা খুব সুন্দর<br />
মেয়েকে দেখতে পাচ্ছি। চমৎকার<br />
একটা শাড়ি পড়ে আছে। হাতে একটা<br />
থালা। তাতে নানা রকম ফল। আমি লেখার<br />
ফাঁকে ফাঁকে মেয়েটাকে<br />
দেখছিলাম। এখন মেয়েটা আস্তে<br />
আস্তে সামনে এসে আমাকে ফল<br />
খাওয়ালো। আমি ও খেলাম।কি ফল জানিনা।<br />
কোনদিন<br />
খাইনি। কিন্তু আশ্চর্য স্বাদ। মেয়েটা<br />
এরপর থালাটা মাটিতে রেখে নাচ শুরু<br />
করল। আমি ঊঠে মেয়েটার সাথে<br />
নাচতে চাইলাম। কিন্তু আমাকে জোর<br />
করে বসিয়ে দিল আরো দুই জন হটাত<br />
করে উদয় হওয়া মেয়ে। তারপর<br />
আমাকে একজন একটা হাত পাখা দিয়ে<br />
বাতাস করতে লাগল। আরেকজন একটা<br />
রুপার পাত্রে ঢেলে দিল মদ। আমি মদ<br />
খেয়ে মাতাল হতে শুরু করেছি। তাই<br />
লিখতে পারছিনা। হয়ত এটাই আমার<br />
জীবনের শেষ ক্ষন। কারন একটু<br />
আগেই নাকের কাছে একটা সরু<br />
রক্তের ধারা টের পেয়েছি। কিন্তু<br />
কিছুই করার নেই। আমি ঊঠতে পারছি না<br />
সিংহাসন ছেড়ে। মেয়েটার নাচের তাল<br />
বেড়েই চলল। কেউ একজন হাতের<br />
তালি দিয়ে তবলার বোল দিচ্ছে।<br />
মেয়েটা নেচে চলেছে। তা ধিন ধিন<br />
ধা তা ধিন ধিন ধা- না তিন তিন না- তেটে ধিন<br />
ধিন ধা- ধা- আহ মাথার চার পাশ কেমন যেন<br />
হালকা হয়ে আসছে। এখন সামনে শুধু<br />
মেয়েটা নাচছে। আর কিছু শুনতে<br />
পারছিনা। খুব ঘুম পাচ্ছে। প্রচন্ড ঘুম। আমি<br />
ঘুমালাম- জীবনের শেষ ঘুম। আপনি এই<br />
সিংহাসন টাকে ধবংস করে দেবেন।<br />
ভুলেও লোভে পড়ে এতে<br />
বসবেন না। বসলেই নিশ্চিত মৃত্যু<br />
................ ইতি রাওসিভ হাসান.।.। দুই মাস পর<br />
বর্ষা যাদুঘরে এসেছে ওর মা বাবার<br />
সাথে।ওর খুব শখ পুরাত্ন জিনিস পত্র<br />
দেখার। তাই প্রতিমাসে সে আসে<br />
জাতীয় যাদুঘরে। দেশের প্রায়<br />
প্রতিটি যাদুঘরে ও ঘুরে ঘুরে সব<br />
মুখস্থ করে ফেলেছে। কিন্তু সে<br />
এখন তিন তলার ডান পাশের রুমে নতুন<br />
যে সিংহাসন টার সামনে দাঁড়িয়ে আছে<br />
সেটা সে আগের বার আসার সময়<br />
দেখেনি। তাই মন যোগ দিয়ে সিংহাসন<br />
এর সামনে লেখা বর্ণনা পড়তে লাগল।<br />
তাতে লেখা- " পশ্চিম বাংলার জমিদার<br />
জ্ঞানদা চরণ এর হারিয়ে যাওয়া সিংহাসন এটা।<br />
পাওয়া গেছে গাজিপুরের হাসান<br />
পরিবারে। সিংহাসনটা জ্ঞানদা চরণ নিজে<br />
বসার জন্য বানায় নি।<br />
সেটা বানিয়ে ছিলেন তার ভাই রুক্ষদা<br />
চরণের জন্য। এটা ছিল একটা মরন ফাঁদ।<br />
এই সিংহাসন এর সব খানেই মেশানো<br />
আছে একধরনের অজানা বিষ। এই সিংহাসন<br />
এ বসলেই এই বিষ প্রবেশ করে বসা<br />
ব্যাক্তির উপর। তারপর আস্তে আস্তে<br />
ঐ ব্যাক্তির মৃত্যু হয়। জ্ঞানদা চরণ তার<br />
ভাইকে মারার জন্য এটা বানালে ও কুখ্যাত<br />
ডাকাত নিরঞ্জন পালী এটাকে হস্তগত<br />
করে। এর পর প্রায় ২০০ বছর এটার<br />
অস্তিত্ব অজানা ছিল। একমাস আগে হাসান<br />
ফ্যামিলির রাওসিব হাসানের মৃতদেহ<br />
আবিষ্কারের মাধ্যমে এটা ঊঠে আসে<br />
সভ্যতার সামনে। নিরীহ দর্শন এই সিংহাসন<br />
হত্যা করেছে প্রায় ৪০ জনের মত<br />
নিরীহ মানুষ কে। তাই এটা থেকে<br />
দূরে থাকুন ................ লেখাটা পড়েই<br />
বর্ষা খুব ভয় পেল। তারপর দৌড়ে চলে<br />
গেল ওর বাবার কাছে ...........]]></content:encoded>
		</item>
	</channel>
</rss>