<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0" xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/" xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/">
	<channel>
		<title><![CDATA[Forums.Likebd.Com - শিক্ষনীয় গল্প]]></title>
		<link>http://forums.likebd.com/</link>
		<description><![CDATA[Forums.Likebd.Com - http://forums.likebd.com]]></description>
		<pubDate>Sun, 27 Sep 2026 07:20:32 +0000</pubDate>
		<generator>MyBB</generator>
		<item>
			<title><![CDATA[পাগলা হিমুর কাহিনি]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=3275</link>
			<pubDate>Tue, 02 Jan 2018 06:14:38 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=3275</guid>
			<description><![CDATA[→ "হিমুর "অপলক তাকিয়ে থাকা দেখে কিছুটা লজ্জাবোধ করছিল সদ্য নিয়োগ পাওয়া পুলিশ অফিসার "রিতার"মাঝে।<br />
কি অদ্ভুত কয়েদীরে বাবা!<br />
যেখানে পুলিশ অফিসার দেখে ভয়ে কাঠ হয়ে থাকার কথা সেখানে কিনা সে ভাব নিয়ে অপলক তাকিয়ে থাকে!!<br />
নাকি আমাকে নতুন দেখে সে ভয় পাচ্ছেনা! ধুরু সেকি জানে নাকি আমি নতুন নাকি পুরান? হিহিহি। কি আজেবাজে চিন্তা! এসব কথা গুলো নিজে নিজেই ভাবতে ভাবতে মুচকি হেসে লকাপের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো রিতা।<br />
→ এক্সকিউজমি!!<br />
হ্যাঁ বলুন।<br />
আপনার কাছ থেকে কিছু জানার ছিল।<br />
হাহাহা!! পাগলের কাছ থেকে কেউ কিছু জানতে চায় নাকি?<br />
আরে আজিব তো!<br />
হ্যাঁ ঠিক বলেছেন আমি আজিব, জীব না!!<br />
আপনি পাগল কে বলছে?<br />
যার সাথে একবার কথা হয় সেই ই বলে<br />
হাহাহা!!<br />
অদ্ভুত তো!!<br />
তার উপরে কিছু থাকলে সেটা ও।<br />
হিমুর উটকো অদ্ভুত আচারণে কিছুটা রাগও কৌতূহল জন্ম দেয় রিতার মাঝে<br />
-দেখুন ঠিক করে কথা বলুন,,, না হয়!<br />
না হয় কি ম্যাডাম?<br />
পিটিয়ে হাড্ডিগুড্ডি গুড়ো করে ফেলব।কথাটা বলেই ঠোঁটের কোণের হাসিটাও গোপন রাখতে পারেনি পুলিশ অফিসার রিতা।<br />
হাহাহা! হাহাহা!! তবে তাই করুন ম্যাডাম,,<br />
আমার গুড়ো হাড় গুলো ও তবে অন্তত কোন না কোন কাজে লাগবে।<br />
কি মুশকিল রে বাবা! আপনি কি এমনিতে অকেজো নাকি?<br />
হ্যাঁ আমি এক্কেবারে অকেজো আর আগাছা, আজীব!<br />
হাহাহা হাহাহা!!<br />
এখন সত্যি সত্যি পাগল মনে হচ্ছে তাকে।কিন্তু তার গুছিয়ে কথা বলা সুদর্শন চেহারা আর পোশাকে( জিন্সের সাথে হলুদ পাঞ্জাবি পড়া) আর অঙ্গভঙ্গি তে মোটেও তাকে সেরকম মনে হচ্ছে না।<br />
আচ্ছা আপনি লকাপে কেন?<br />
পাগল তাই।হেহেহে।<br />
পাগল কি হাজতে থাকে নাকি? পাগল তো থাকে পাবনা! হিহিহি।<br />
না ম্যাডাম,মাঝেমধ্যে অদ্ভুত পাগল হাজতেও থাকে আর তাদের ধরে নিয়ে আসে ভাবের পাগলেরা।হাহাহা!!<br />
এক্সকিউজমি!" আপনি কিন্তু পুলিশ কে অপমানিত করছেন!<br />
নানা,,, ম্যাডাম পুলিশকে অপমান করব কেন?<br />
পাগল!<br />
আমি তো তাই বলেছি।<br />
শাটাপ!<br />
আগেই বলেছিলাম।<br />
এবার কিছুটা রেগে গিয়ে হনহন করে ভেতরে চলে গেল রিতা।<br />
পান্তা প্রিয় পান্তা প্রিয়?<br />
জ্বী ম্যাডাম আমি এখানে।<br />
পান্তা প্রিয় নাম শোনে হিমু কিছুটা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে।পুলিশ অফিসার রিতা পান্তা প্রিয় বলে ডাকলো আর মানুষটাএসে বলল আমি এখানে।কি অদ্ভুত নাম রে বাবা!! আগে তো বহুবার এই প্যাঁচাইল্লা পুলিশসাহেব আমাকে জেরার মুখে ফেলেছে ওসি সাহেবদের ডেকে।তার এই অদ্ভুত নাম তো শুনিনা আর তার নেমপ্লেটে তো অন্যনাম শোভা পাচ্ছে।পান্তা প্রিয় কেন? তার কি আর কোন নাম খোঁজে পায়নি।আচ্ছা সুযোগ হলে জেনে নেওয়া যাবে, তার পান্তাপ্রিয় নামের কারণ।<br />
রিতা- পান্তাপ্রিয়?<br />
পান্তাপ্রিয়- জ্বি ম্যাডাম<br />
এই লোকটাকে এখানে ধরে আনছে কে? জ্বি ম্যাডাম আমরা ই তাকে শপিংমল এর সামনে পাগলামি করতে দেখে নিয়ে আসছি।<br />
কেন?<br />
আর বলবেন না ম্যাডাম!<br />
ওর নাম হিমু।পুরো নাম জানিনা।<br />
লোকে তাকে পাগলা হিমু নামেই ডাকে।<br />
তবে সে কিন্তু সত্যি সত্যি পাগল না।<br />
তবে?<br />
তবে সে আধাপাগল।<br />
হাহাহা!!<br />
থামুন।<br />
জ্বি ম্যাডাম<br />
এতো স্মার্ট আর হ্যান্ডসাম একটা ছেলের এই অবস্থা কেন?<br />
খোলে বলুন তার বৃত্তান্ত আপনি কি জানেন।<br />
জ্বি ম্যাডাম আমি যতদূর জানতে পেরেছি।<br />
ছেলেটা অত্যান্ত শিক্ষিত,মেধাবী ও চঞ্চল টাইপের।যদিও পাগলামি করে কিন্তু প্রায়শই মানুষের উপকারে নিজেকে বিলিয়ে দেয়।একবার এই রাস্তায় তো আরেকবার শপিংমলে, একবার রেলস্টেশন তো অন্যবার লঞ্চঘাট। অনেক সময় অদ্ভুত কিছু করে মানুষের পিলে লাগিয়ে দেয় এবং সমাজের অনেক সম্মানী ও মান্যগণ্য মানুষ ভড়কে দেওয়ার মত অভিনব কৌশল জ্ঞান সম্পন্ন! আপনি সহজে বুঝতেই পারবেনা তার কথার আগাগোড়া। একবার কথা বললে ওকে পাগল ই মনে হবে।কিন্তু পরে আবার কথা বলতে বলতে ওর ভেতরে মিশে গেলে তা আর মনে হবেনা।ফোটে উঠবে তার মেধাজ্ঞানের পরিচয়! মাঝেমধ্যে অলৌকিক কিছু কান্ড করে বসে এবং যদিও তা কাকতালীয় ভাবেই বাস্তব হয়ে যায়।দীর্ঘ ৬ মাস থেকে তাকে এখানে দেখা যাচ্ছে।এই ছয়মাসে ১২ বার ওকে লকাপে ঢুকিয়েছি।কিন্তু তার অদ্ভুত আর অলৌকিক কাণ্ডকারখানার ফলে বড় সাহেবরা তাকে ছেড়ে দেন।<br />
-রিতা ভাবনায় পড়ে যায় হিমুর জনক হুমায়ুন স্যারের হিমুদের রাজ্যে! সত্যি কি তবে হিমুদের অস্তিত্ব আছে বাস্তবতার সাথে? নাকি হিমু সিরিজ পড়ে,,, কয়দিন ভবঘুরে হয়ে আইকিউ স্কেলের জোরে মানুষ কে ভড়কে দেওয়ার মত কিছু কাকতালীয় কারসাজি করে পাঞ্জাবি পড়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে পপুলারিটির জন্য সমালোচনায় আসতে হিমু সাজে এরা?<br />
হতেও পারে হিমুর সাজে সেজে কোন কালোবাজারের এজেন্ডা এরা! নানা রকম চিন্তায় পড়ে যায় রিতা।<br />
না,,,এভাবে শুধু হিমুদের উৎপত্তি বাড়তে দেওয়া যায়না।খতিয়ে দেখতে হবে হিমু হবার আসল কাহিনী!<br />
রিতা-পান্তাপ্রিয়?<br />
জ্বি ম্যাডাম,,<br />
তাকে বের করে এখানে নিয়ে আসেন।<br />
জ্বি আচ্ছা মেডাম।<br />
হিমু আর রিতা মুখোমুখি বসে আছে।<br />
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অদ্ভুত নামের পান্তাপ্রিয়এর দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে হিমু।পান্তাপ্রিয়ের গলা শুকিয়ে আসছে,,সে অনুধাবন করতে পারছে হিমু এবার তাকে বিপাকে ফেলতে যাচ্ছে।কারণ এর আগে যতবার ওকে লকাপে ঢুকানো হয়েছিল কিংবা রাস্তায় জেরা করা হয়েছিল ততবার সে কাউকে না কাউকে ভড়কে দিয়েছিল।শেষবার তো ওসি সাহেব প্রায় ঠাডাপড়া মানুষের মত হয়েগিয়েছিল।ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া মুখটা দেখতে বেশ ভালই লাগছিল হিমুর কাছে! পান্তাপ্রিয় সাহেব?<br />
হিমুর ডাকে প্রায় পেট মুচড় দিয়েই উঠে পান্তাপ্রিয়র।তোতলাতে তোতলাতে উত্তর দিল,,<br />
জিজ্জজ্জজি হিম্মম্মমু ভায়ায়ায়াই,,<br />
এই অফিসার ম্যাডাম তো এখানে নতুন এসেই আবার নেত্রকোনার মদনপুরে চলে যাবেন,,আপনি কি উনার সাথেই যাবেন? লোকটি কিছুটা ভেবাচেকা হয়ে গেলেও,,<br />
রিতার প্রচণ্ড রকমের বিরক্তি লাগছিল।<br />
সে সিরিয়াসলি না নিয়ে। হিমুর দিকে তাকিয়ে বললো<br />
আপনার আজগুবি কথা বাদ দিন।<br />
এখন আমি যা প্রশ্ন করব তার ঠিকঠাক উত্তর দিবেন,,,ওকে??<br />
আমি যদি ঠিকঠাক উত্তর না দেই আপনি কি বুঝতে পারবেন?<br />
পারি না পারি আপনি ঠিক উত্তর দিবেন।<br />
আচ্ছা আমি ভুল উত্তর দিলে আপনি সেকেন্ড টাইম আস্ক করবেন না।আরে আজীব তো!!,,সেটা আগেই বলেছিলাম।<br />
এই পান্তাপ্রিয়,,,এরে বাহিরে ছেড়ে দিয়ে আসেন।<br />
শহরের উঁচুউঁচু দালান আর ব্যস্ত রাস্তা ছেড়ে প্রত্যন্ত গ্রামের মেঠো পথে হিমু।বিচিত্র রকমের কোলাহল আর ব্যস্ত রাস্তার বদলে দেখা মিলে সাড়িসাড়ি গাছপালার আর মাঠে কৃষকের নিরবে দেশ গড়ার কাজের চিত্র।দেখা মিলে গ্রামের সহজ সরল মানুষের।এদের সরল মনের অকৃত্রিম ভালবাসা টা একদম বিনে পয়সায় আদায় করা যায় মাত্র কয়েক সেকেন্ডে! এখানে ইটটপাথরের গড়া দালানের মত মানুষের মন পাথর নয়।দৃষ্টিযতদূর যায় দেখা যায় মনভোলানো সব প্রাকৃতিক অপরূপ রূপের।<br />
কেমন যেন অন্যরকম একটা অনুভূতি কাজ করছে হিমুর ভেতর।হৃদয়ে কিছু<br />
টান টান অনুভূতি! সামনে একটা গ্রামের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া সরু নদীর পাকা ব্রিজ।ব্রিজের শানপাথরে খুঁদাই করে লেখা,,রামপুর ভবানি সেতু।<br />
নিচে আরো অনেক কিছুই লেখা<br />
হ্যাঁ নাড়িরটান! প্রত্যন্ত এই গ্রামটাতেই হিমুর বাবার মায়ের জন্ম! তাই জন্মভূমিতে পা রাখতেই ভেতরের অনুভূতিরা জেগে উঠলো।আর এইগ্রামে ই বেড়ে ওঠা রেশমার সাথে<br />
কলেজ জীবন থেকে শুরু করে বি সি এস করার সময়টা অব্ধি দুজনে মিলেমিশে চলে,, এক সময় কিছুটা মনের লেনদেন হয় হিমুর মাঝে।জন্মের পরে ছোটকালে দুবার আসলেও বড় হয়ে আর আসা হয়নি এই গ্রামটাতে।আজ আবার হিমুর বেশে পাগল হয়ে গন্তব্যহীন পথের পথিক হয়ে ফিরে এলো হিমু!! হিমু হবার দেশে!!<br />
হ্যাঁ বলা যেতে পারে এই গ্রামের কিংবা এখানে জন্ম নেওয়া মা-বাবা এবং রেশমার জন্যই আজ,হিমাদ্রি হাবিব হিমু থেকে সে শুধু হিমু কিংবা পাগলা হিমুতে।<br />
ভার্সিটি জীবনে বাবা-মায়ের রিলেশন এবং সেই সুত্র থেকে কর্ম জীবনে গিয়ে বিয়ে করে ইটপাথরের শহর ঢাকা শহরে গিয়ে ঘরবাঁধেন তারা।বাবা প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মচারী আর ডাক্তার মায়ের ঘর আলোকিত করে জন্ম এই হিমদ্রি হাবিব হিমুর।না খুব বেশিদিন আলোকপাত হয়নি তাদের জীবন।ইটপাথরের শহরে এসে মন নামের বস্তুটাকেও ইট পাথরের ন্যায় করে নেয় সবাই।হিমুর বাবাও তাদের দলের একজন।রোগীদের সেবা দিয়ে বাড়ি ফিরতে অনেক সময় রাত অনেক হয়ে যাওয়া নিয়ে সন্দেহ থেকে খুনসুটি, খুনসুটি থেকে ঝগড়া, এক সময় ঝগড়া থেকে বিচ্ছেদ ঘটে তাদের এবং বিচ্ছেদ জ্বালা সইতে না পেরে লজ্জায় ক্ষোভে আকাশের তারা হয়ে যান হিমুর মা।কিছুদিন পর বাবা ঘরে তোলে নতুন মা,,হিমাদ্রির জীবনে এসে ভর করে হিমু হবার মন্ত্র!তারপর শত প্রতিকূলতার মাঝে নিজেকে গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা হিমুর।কিন্তু তাও আর হয়ে ওঠলোনা।জীবনের প্রতিটা বাঁকেবাঁকে যখন হিমু থেমে যেতে চাইতো ঠিক তখনি রেশমা ই তাকে শক্তি সাহস চঞ্চার করে অনুপ্রেরিত করে চলার মন্ত্র দিতো! স্বপ্ন দেখাতো। আজ সেই রেশমা ও উড়াল দিয়ে পালিয়ে গেছে, জীবন থেকে!! মা তো বহু আগেই আকাশের তারা হয়ে গেছে!<br />
কি আর আছে হিমুর জীবনে?<br />
তাই হিমাদ্রি নয় হিমুতে নিজেকে আবিষ্করণ করে।অতীতের কথা মনে পড়তেই গগনবিদারী আর্তনাদ বুকভরা হাহাকারে ক্লিষ্ট করে হিমুর হৃদয়।নাহ,,,<br />
আর সামনে পা বাড়াবো না,অভিশপ্ত এই গ্রামে নিজেকে প্রকাশ করতে চাইনা।ঘুরেহাটা ধরতেই পেছন থেকে<br />
পিপ,, পিপ,, পিপ!!<br />
গাড়ির হর্ণ শোনে মাথা নিচু করে রাস্তার সাইডে চলে গিয়ে দাঁড়াতেই এবার নিজেই ভড়কে যায় সেই ইটপাথরের শহরের কাওরান বাজার থানার পুলিশ অফিসার রিতা!আরে আরে এইতো সেই হিমু।<br />
পান্তাপ্রিয়?<br />
জ্বি ম্যাডাম?<br />
এটা সেই হিমু না?<br />
জ্বি ম্যাডাম।<br />
এই এই হিমু?<br />
পুলিশের গাড়ি দেখে হিমু হাটা ধরে,,<br />
না দাঁড়িয়ে,এমনিতে মনের আকাশে ঝড় উঠে আছে,তারউপর উটকো ঝামেলা মোটেও তার ভাল লাগবেনা।<br />
হিমু,,,হিমু,,ডেকেও সাড়া না পেয়ে গাড়িয়ে নিয়ে হিমুর সামনে দাঁড়ালো রিতা।।<br />
এই হিমু ডাকছি তুমি দাঁড়াচ্ছোনা কেন?<br />
এমনি,,,<br />
আর তুমি এখানে কেন?<br />
আমি কোথায় থাকব?<br />
কেন সব সময় যেখানে থাকো<br />
না হিমুরা সব সময় এক জায়গায় থাকেনা।আপনি পড়েন নি হুমায়ুন স্যারের হিমু? হিমুদের সারাদুনিয়ায় রাজত্ব?<br />
হ্যাঁ পড়েছি তো,<br />
তো তুমি কি হিমুর গল্প পড়েই হিমু সেজেছো?<br />
ম্যাডাম আজ মনটা ভীষণ খারাপ,,<br />
আমি বেশি কথা বলতে চাচ্ছিনা।<br />
হিমুরা প্রাকৃতিক ভাবেই হিমুতে রুপান্তরিত হয়।বেশভূষা কাউকে হিমু বানায় না।বাই,,,,<br />
আরে আরে দাঁড়াও!"আমি মজা করছি।<br />
কি বলবেন তাড়াতাড়ি বলেন।।<br />
তুমি না বলেছিলে আমি নেত্রকোনা মদনপুরে চলে যেতে হবে? সাথে পান্তাপ্রিয়? হু<br />
সত্যি তুমি প্রাকৃতিক রিয়েল হিমু।<br />
তোমার কথাই সত্য হয়েছে।আমার মদন পুরেই বদলি হয়েছে।কিন্তু কেন জানো?<br />
এই হিমুর খোঁজেই হিমুর দেশে আমায় পাঠানো হয়েছে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হিমু হবার রহস্য উন্মোচন করার।<br />
আর হিমুকে হিমু থেকে হিমাদ্রি বানিয়ে একজন বি সি এস ক্যাডারের যোগ্যতার মূল্যায়ন করার কাজে সরকারকে ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তার সহযোগীতা করার।<br />
দেখো হিমু।।আমি তোমার সব খোঁজ নিয়েছি।হিমু হবার পেছনের গল্প ও জেনেছি,,আর দায়িত্ব পাবার পর ই তোমাকে খুঁজছি।যাক অবশেষ তোমার দেখা পেলাম।আমার দায়িত্ব আমি পালন করতে পারব।তোমাকে পাগলা হিমু থেকে হিমাদ্রি হাবিব হিমু হতে হবে।আমি সাকসেস হতে চাই ।এসো হিমু আমার সাথে।।<br />
না ম্যাডাম আপনি সাকসেস হতে পারবেন না।।আপনি আমায় নিয়ে যেতে রাস্তায় নেমেছেন ঠিক।কিন্তু হিমুদের যে বন্ধি করে রাখা যায়না সেই মন্ত্র পড়েননি,, আর ধরে নেওয়ার জন্য সাথে নিয়ে ঘুরেন পান্তাপ্রিয় ভাইকে,, যিনি কিছুক্ষণ আগে শ্বশুর বাড়ি থেকে সাপ্লাই দেওয়া বিরিয়ানি খেয়ে এখন পেটের যন্ত্রণায় কাবু হয়ে আছে।আগে উনারে হসপিটাল নিন।<br />
,,দেখো হিমু একদম পাগলামি করবেনা<br />
হাহাহা ম্যাডাম আমি যে পাগলা হিমু।।<br />
ব্রিজ থেকে নদির পানিতে হিমুর ঝাপ!! অফিসার রিতা পান্তাপ্রিয়র দিকে তাকিয়ে তার অবস্থা বুঝতে মোটেও বাকি নেই।কি অদ্ভুত আচানক কান্ডরে বাবা!! কি করবেন তিনি,<br />
পানিতে ঝাপ দিবেন নাকি পান্তাপ্রিয়কে নিয়ে হসপিটাল যাবেন।<br />
মেজাজ খুব বিগড়ে গেল।এই পান্তাপ্রিয় তুমি বাসায় অফিসেও পান্তাভাত খেতে খেতে নামটাই পান্তাপ্রিয়তে নিয়ে এসে আজকে কেন বিরিয়ানি খেতে গেলে? যেটা তোমার পেটে সয়না!??<br />
আস্তে আস্তে ডুব দিয়ে আবার সাঁতার কেটে রিতার সামনে থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলো হিমু।<br />
সত্যি সে পাগল।হিমুরা পাগলাটেই হয়<br />
কিন্তু এই পাগলা হিমুর মত হয়না!<br />
না পারেনি রিতা হিমুকে হিমাদ্রিতে ফিরিয়ে আনতে,পারেনি তার পাগলাটে জীবন থেকে একজন যোগ্য অফিসারের বেশে দেখতে খুব ইচ্ছে ছিল এই পাগলাটাকে অফিসার বানিয়ে নিজেকে পাগলার রেশমার জন্য বরাদ্ধকৃত ভালবাসায় ভাগ বসিয়ে নিজেকে পাগলার পাগলী বানাতে।।নাহ,,,হলোনা হিমুর সাথী হবার সুযোগ। হিমুরা এভাবেই কুয়াশার মত হয়,দেখা যায়,ছোঁয়াযায়না।ছুঁতে গেলে হারিয়ে যায়।<br />
হয়তো আবারো দেখাযাবে তাকে কোন প্রত্যন্ত পর্বত,মেঠোপথ কিংবা ব্যস্ত রাস্তায়।<br />
না,,,হিমুরা পাগলা হয়,হিমুদের পাগলী হয়না।।।<br />
শুভকামনা সকল পাগলা হিমুদের জন্য।।<br />
লেখায়ঃমাহবুব আলম বাবু।।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[→ "হিমুর "অপলক তাকিয়ে থাকা দেখে কিছুটা লজ্জাবোধ করছিল সদ্য নিয়োগ পাওয়া পুলিশ অফিসার "রিতার"মাঝে।<br />
কি অদ্ভুত কয়েদীরে বাবা!<br />
যেখানে পুলিশ অফিসার দেখে ভয়ে কাঠ হয়ে থাকার কথা সেখানে কিনা সে ভাব নিয়ে অপলক তাকিয়ে থাকে!!<br />
নাকি আমাকে নতুন দেখে সে ভয় পাচ্ছেনা! ধুরু সেকি জানে নাকি আমি নতুন নাকি পুরান? হিহিহি। কি আজেবাজে চিন্তা! এসব কথা গুলো নিজে নিজেই ভাবতে ভাবতে মুচকি হেসে লকাপের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো রিতা।<br />
→ এক্সকিউজমি!!<br />
হ্যাঁ বলুন।<br />
আপনার কাছ থেকে কিছু জানার ছিল।<br />
হাহাহা!! পাগলের কাছ থেকে কেউ কিছু জানতে চায় নাকি?<br />
আরে আজিব তো!<br />
হ্যাঁ ঠিক বলেছেন আমি আজিব, জীব না!!<br />
আপনি পাগল কে বলছে?<br />
যার সাথে একবার কথা হয় সেই ই বলে<br />
হাহাহা!!<br />
অদ্ভুত তো!!<br />
তার উপরে কিছু থাকলে সেটা ও।<br />
হিমুর উটকো অদ্ভুত আচারণে কিছুটা রাগও কৌতূহল জন্ম দেয় রিতার মাঝে<br />
-দেখুন ঠিক করে কথা বলুন,,, না হয়!<br />
না হয় কি ম্যাডাম?<br />
পিটিয়ে হাড্ডিগুড্ডি গুড়ো করে ফেলব।কথাটা বলেই ঠোঁটের কোণের হাসিটাও গোপন রাখতে পারেনি পুলিশ অফিসার রিতা।<br />
হাহাহা! হাহাহা!! তবে তাই করুন ম্যাডাম,,<br />
আমার গুড়ো হাড় গুলো ও তবে অন্তত কোন না কোন কাজে লাগবে।<br />
কি মুশকিল রে বাবা! আপনি কি এমনিতে অকেজো নাকি?<br />
হ্যাঁ আমি এক্কেবারে অকেজো আর আগাছা, আজীব!<br />
হাহাহা হাহাহা!!<br />
এখন সত্যি সত্যি পাগল মনে হচ্ছে তাকে।কিন্তু তার গুছিয়ে কথা বলা সুদর্শন চেহারা আর পোশাকে( জিন্সের সাথে হলুদ পাঞ্জাবি পড়া) আর অঙ্গভঙ্গি তে মোটেও তাকে সেরকম মনে হচ্ছে না।<br />
আচ্ছা আপনি লকাপে কেন?<br />
পাগল তাই।হেহেহে।<br />
পাগল কি হাজতে থাকে নাকি? পাগল তো থাকে পাবনা! হিহিহি।<br />
না ম্যাডাম,মাঝেমধ্যে অদ্ভুত পাগল হাজতেও থাকে আর তাদের ধরে নিয়ে আসে ভাবের পাগলেরা।হাহাহা!!<br />
এক্সকিউজমি!" আপনি কিন্তু পুলিশ কে অপমানিত করছেন!<br />
নানা,,, ম্যাডাম পুলিশকে অপমান করব কেন?<br />
পাগল!<br />
আমি তো তাই বলেছি।<br />
শাটাপ!<br />
আগেই বলেছিলাম।<br />
এবার কিছুটা রেগে গিয়ে হনহন করে ভেতরে চলে গেল রিতা।<br />
পান্তা প্রিয় পান্তা প্রিয়?<br />
জ্বী ম্যাডাম আমি এখানে।<br />
পান্তা প্রিয় নাম শোনে হিমু কিছুটা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে।পুলিশ অফিসার রিতা পান্তা প্রিয় বলে ডাকলো আর মানুষটাএসে বলল আমি এখানে।কি অদ্ভুত নাম রে বাবা!! আগে তো বহুবার এই প্যাঁচাইল্লা পুলিশসাহেব আমাকে জেরার মুখে ফেলেছে ওসি সাহেবদের ডেকে।তার এই অদ্ভুত নাম তো শুনিনা আর তার নেমপ্লেটে তো অন্যনাম শোভা পাচ্ছে।পান্তা প্রিয় কেন? তার কি আর কোন নাম খোঁজে পায়নি।আচ্ছা সুযোগ হলে জেনে নেওয়া যাবে, তার পান্তাপ্রিয় নামের কারণ।<br />
রিতা- পান্তাপ্রিয়?<br />
পান্তাপ্রিয়- জ্বি ম্যাডাম<br />
এই লোকটাকে এখানে ধরে আনছে কে? জ্বি ম্যাডাম আমরা ই তাকে শপিংমল এর সামনে পাগলামি করতে দেখে নিয়ে আসছি।<br />
কেন?<br />
আর বলবেন না ম্যাডাম!<br />
ওর নাম হিমু।পুরো নাম জানিনা।<br />
লোকে তাকে পাগলা হিমু নামেই ডাকে।<br />
তবে সে কিন্তু সত্যি সত্যি পাগল না।<br />
তবে?<br />
তবে সে আধাপাগল।<br />
হাহাহা!!<br />
থামুন।<br />
জ্বি ম্যাডাম<br />
এতো স্মার্ট আর হ্যান্ডসাম একটা ছেলের এই অবস্থা কেন?<br />
খোলে বলুন তার বৃত্তান্ত আপনি কি জানেন।<br />
জ্বি ম্যাডাম আমি যতদূর জানতে পেরেছি।<br />
ছেলেটা অত্যান্ত শিক্ষিত,মেধাবী ও চঞ্চল টাইপের।যদিও পাগলামি করে কিন্তু প্রায়শই মানুষের উপকারে নিজেকে বিলিয়ে দেয়।একবার এই রাস্তায় তো আরেকবার শপিংমলে, একবার রেলস্টেশন তো অন্যবার লঞ্চঘাট। অনেক সময় অদ্ভুত কিছু করে মানুষের পিলে লাগিয়ে দেয় এবং সমাজের অনেক সম্মানী ও মান্যগণ্য মানুষ ভড়কে দেওয়ার মত অভিনব কৌশল জ্ঞান সম্পন্ন! আপনি সহজে বুঝতেই পারবেনা তার কথার আগাগোড়া। একবার কথা বললে ওকে পাগল ই মনে হবে।কিন্তু পরে আবার কথা বলতে বলতে ওর ভেতরে মিশে গেলে তা আর মনে হবেনা।ফোটে উঠবে তার মেধাজ্ঞানের পরিচয়! মাঝেমধ্যে অলৌকিক কিছু কান্ড করে বসে এবং যদিও তা কাকতালীয় ভাবেই বাস্তব হয়ে যায়।দীর্ঘ ৬ মাস থেকে তাকে এখানে দেখা যাচ্ছে।এই ছয়মাসে ১২ বার ওকে লকাপে ঢুকিয়েছি।কিন্তু তার অদ্ভুত আর অলৌকিক কাণ্ডকারখানার ফলে বড় সাহেবরা তাকে ছেড়ে দেন।<br />
-রিতা ভাবনায় পড়ে যায় হিমুর জনক হুমায়ুন স্যারের হিমুদের রাজ্যে! সত্যি কি তবে হিমুদের অস্তিত্ব আছে বাস্তবতার সাথে? নাকি হিমু সিরিজ পড়ে,,, কয়দিন ভবঘুরে হয়ে আইকিউ স্কেলের জোরে মানুষ কে ভড়কে দেওয়ার মত কিছু কাকতালীয় কারসাজি করে পাঞ্জাবি পড়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে পপুলারিটির জন্য সমালোচনায় আসতে হিমু সাজে এরা?<br />
হতেও পারে হিমুর সাজে সেজে কোন কালোবাজারের এজেন্ডা এরা! নানা রকম চিন্তায় পড়ে যায় রিতা।<br />
না,,,এভাবে শুধু হিমুদের উৎপত্তি বাড়তে দেওয়া যায়না।খতিয়ে দেখতে হবে হিমু হবার আসল কাহিনী!<br />
রিতা-পান্তাপ্রিয়?<br />
জ্বি ম্যাডাম,,<br />
তাকে বের করে এখানে নিয়ে আসেন।<br />
জ্বি আচ্ছা মেডাম।<br />
হিমু আর রিতা মুখোমুখি বসে আছে।<br />
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অদ্ভুত নামের পান্তাপ্রিয়এর দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে হিমু।পান্তাপ্রিয়ের গলা শুকিয়ে আসছে,,সে অনুধাবন করতে পারছে হিমু এবার তাকে বিপাকে ফেলতে যাচ্ছে।কারণ এর আগে যতবার ওকে লকাপে ঢুকানো হয়েছিল কিংবা রাস্তায় জেরা করা হয়েছিল ততবার সে কাউকে না কাউকে ভড়কে দিয়েছিল।শেষবার তো ওসি সাহেব প্রায় ঠাডাপড়া মানুষের মত হয়েগিয়েছিল।ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া মুখটা দেখতে বেশ ভালই লাগছিল হিমুর কাছে! পান্তাপ্রিয় সাহেব?<br />
হিমুর ডাকে প্রায় পেট মুচড় দিয়েই উঠে পান্তাপ্রিয়র।তোতলাতে তোতলাতে উত্তর দিল,,<br />
জিজ্জজ্জজি হিম্মম্মমু ভায়ায়ায়াই,,<br />
এই অফিসার ম্যাডাম তো এখানে নতুন এসেই আবার নেত্রকোনার মদনপুরে চলে যাবেন,,আপনি কি উনার সাথেই যাবেন? লোকটি কিছুটা ভেবাচেকা হয়ে গেলেও,,<br />
রিতার প্রচণ্ড রকমের বিরক্তি লাগছিল।<br />
সে সিরিয়াসলি না নিয়ে। হিমুর দিকে তাকিয়ে বললো<br />
আপনার আজগুবি কথা বাদ দিন।<br />
এখন আমি যা প্রশ্ন করব তার ঠিকঠাক উত্তর দিবেন,,,ওকে??<br />
আমি যদি ঠিকঠাক উত্তর না দেই আপনি কি বুঝতে পারবেন?<br />
পারি না পারি আপনি ঠিক উত্তর দিবেন।<br />
আচ্ছা আমি ভুল উত্তর দিলে আপনি সেকেন্ড টাইম আস্ক করবেন না।আরে আজীব তো!!,,সেটা আগেই বলেছিলাম।<br />
এই পান্তাপ্রিয়,,,এরে বাহিরে ছেড়ে দিয়ে আসেন।<br />
শহরের উঁচুউঁচু দালান আর ব্যস্ত রাস্তা ছেড়ে প্রত্যন্ত গ্রামের মেঠো পথে হিমু।বিচিত্র রকমের কোলাহল আর ব্যস্ত রাস্তার বদলে দেখা মিলে সাড়িসাড়ি গাছপালার আর মাঠে কৃষকের নিরবে দেশ গড়ার কাজের চিত্র।দেখা মিলে গ্রামের সহজ সরল মানুষের।এদের সরল মনের অকৃত্রিম ভালবাসা টা একদম বিনে পয়সায় আদায় করা যায় মাত্র কয়েক সেকেন্ডে! এখানে ইটটপাথরের গড়া দালানের মত মানুষের মন পাথর নয়।দৃষ্টিযতদূর যায় দেখা যায় মনভোলানো সব প্রাকৃতিক অপরূপ রূপের।<br />
কেমন যেন অন্যরকম একটা অনুভূতি কাজ করছে হিমুর ভেতর।হৃদয়ে কিছু<br />
টান টান অনুভূতি! সামনে একটা গ্রামের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া সরু নদীর পাকা ব্রিজ।ব্রিজের শানপাথরে খুঁদাই করে লেখা,,রামপুর ভবানি সেতু।<br />
নিচে আরো অনেক কিছুই লেখা<br />
হ্যাঁ নাড়িরটান! প্রত্যন্ত এই গ্রামটাতেই হিমুর বাবার মায়ের জন্ম! তাই জন্মভূমিতে পা রাখতেই ভেতরের অনুভূতিরা জেগে উঠলো।আর এইগ্রামে ই বেড়ে ওঠা রেশমার সাথে<br />
কলেজ জীবন থেকে শুরু করে বি সি এস করার সময়টা অব্ধি দুজনে মিলেমিশে চলে,, এক সময় কিছুটা মনের লেনদেন হয় হিমুর মাঝে।জন্মের পরে ছোটকালে দুবার আসলেও বড় হয়ে আর আসা হয়নি এই গ্রামটাতে।আজ আবার হিমুর বেশে পাগল হয়ে গন্তব্যহীন পথের পথিক হয়ে ফিরে এলো হিমু!! হিমু হবার দেশে!!<br />
হ্যাঁ বলা যেতে পারে এই গ্রামের কিংবা এখানে জন্ম নেওয়া মা-বাবা এবং রেশমার জন্যই আজ,হিমাদ্রি হাবিব হিমু থেকে সে শুধু হিমু কিংবা পাগলা হিমুতে।<br />
ভার্সিটি জীবনে বাবা-মায়ের রিলেশন এবং সেই সুত্র থেকে কর্ম জীবনে গিয়ে বিয়ে করে ইটপাথরের শহর ঢাকা শহরে গিয়ে ঘরবাঁধেন তারা।বাবা প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মচারী আর ডাক্তার মায়ের ঘর আলোকিত করে জন্ম এই হিমদ্রি হাবিব হিমুর।না খুব বেশিদিন আলোকপাত হয়নি তাদের জীবন।ইটপাথরের শহরে এসে মন নামের বস্তুটাকেও ইট পাথরের ন্যায় করে নেয় সবাই।হিমুর বাবাও তাদের দলের একজন।রোগীদের সেবা দিয়ে বাড়ি ফিরতে অনেক সময় রাত অনেক হয়ে যাওয়া নিয়ে সন্দেহ থেকে খুনসুটি, খুনসুটি থেকে ঝগড়া, এক সময় ঝগড়া থেকে বিচ্ছেদ ঘটে তাদের এবং বিচ্ছেদ জ্বালা সইতে না পেরে লজ্জায় ক্ষোভে আকাশের তারা হয়ে যান হিমুর মা।কিছুদিন পর বাবা ঘরে তোলে নতুন মা,,হিমাদ্রির জীবনে এসে ভর করে হিমু হবার মন্ত্র!তারপর শত প্রতিকূলতার মাঝে নিজেকে গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা হিমুর।কিন্তু তাও আর হয়ে ওঠলোনা।জীবনের প্রতিটা বাঁকেবাঁকে যখন হিমু থেমে যেতে চাইতো ঠিক তখনি রেশমা ই তাকে শক্তি সাহস চঞ্চার করে অনুপ্রেরিত করে চলার মন্ত্র দিতো! স্বপ্ন দেখাতো। আজ সেই রেশমা ও উড়াল দিয়ে পালিয়ে গেছে, জীবন থেকে!! মা তো বহু আগেই আকাশের তারা হয়ে গেছে!<br />
কি আর আছে হিমুর জীবনে?<br />
তাই হিমাদ্রি নয় হিমুতে নিজেকে আবিষ্করণ করে।অতীতের কথা মনে পড়তেই গগনবিদারী আর্তনাদ বুকভরা হাহাকারে ক্লিষ্ট করে হিমুর হৃদয়।নাহ,,,<br />
আর সামনে পা বাড়াবো না,অভিশপ্ত এই গ্রামে নিজেকে প্রকাশ করতে চাইনা।ঘুরেহাটা ধরতেই পেছন থেকে<br />
পিপ,, পিপ,, পিপ!!<br />
গাড়ির হর্ণ শোনে মাথা নিচু করে রাস্তার সাইডে চলে গিয়ে দাঁড়াতেই এবার নিজেই ভড়কে যায় সেই ইটপাথরের শহরের কাওরান বাজার থানার পুলিশ অফিসার রিতা!আরে আরে এইতো সেই হিমু।<br />
পান্তাপ্রিয়?<br />
জ্বি ম্যাডাম?<br />
এটা সেই হিমু না?<br />
জ্বি ম্যাডাম।<br />
এই এই হিমু?<br />
পুলিশের গাড়ি দেখে হিমু হাটা ধরে,,<br />
না দাঁড়িয়ে,এমনিতে মনের আকাশে ঝড় উঠে আছে,তারউপর উটকো ঝামেলা মোটেও তার ভাল লাগবেনা।<br />
হিমু,,,হিমু,,ডেকেও সাড়া না পেয়ে গাড়িয়ে নিয়ে হিমুর সামনে দাঁড়ালো রিতা।।<br />
এই হিমু ডাকছি তুমি দাঁড়াচ্ছোনা কেন?<br />
এমনি,,,<br />
আর তুমি এখানে কেন?<br />
আমি কোথায় থাকব?<br />
কেন সব সময় যেখানে থাকো<br />
না হিমুরা সব সময় এক জায়গায় থাকেনা।আপনি পড়েন নি হুমায়ুন স্যারের হিমু? হিমুদের সারাদুনিয়ায় রাজত্ব?<br />
হ্যাঁ পড়েছি তো,<br />
তো তুমি কি হিমুর গল্প পড়েই হিমু সেজেছো?<br />
ম্যাডাম আজ মনটা ভীষণ খারাপ,,<br />
আমি বেশি কথা বলতে চাচ্ছিনা।<br />
হিমুরা প্রাকৃতিক ভাবেই হিমুতে রুপান্তরিত হয়।বেশভূষা কাউকে হিমু বানায় না।বাই,,,,<br />
আরে আরে দাঁড়াও!"আমি মজা করছি।<br />
কি বলবেন তাড়াতাড়ি বলেন।।<br />
তুমি না বলেছিলে আমি নেত্রকোনা মদনপুরে চলে যেতে হবে? সাথে পান্তাপ্রিয়? হু<br />
সত্যি তুমি প্রাকৃতিক রিয়েল হিমু।<br />
তোমার কথাই সত্য হয়েছে।আমার মদন পুরেই বদলি হয়েছে।কিন্তু কেন জানো?<br />
এই হিমুর খোঁজেই হিমুর দেশে আমায় পাঠানো হয়েছে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হিমু হবার রহস্য উন্মোচন করার।<br />
আর হিমুকে হিমু থেকে হিমাদ্রি বানিয়ে একজন বি সি এস ক্যাডারের যোগ্যতার মূল্যায়ন করার কাজে সরকারকে ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তার সহযোগীতা করার।<br />
দেখো হিমু।।আমি তোমার সব খোঁজ নিয়েছি।হিমু হবার পেছনের গল্প ও জেনেছি,,আর দায়িত্ব পাবার পর ই তোমাকে খুঁজছি।যাক অবশেষ তোমার দেখা পেলাম।আমার দায়িত্ব আমি পালন করতে পারব।তোমাকে পাগলা হিমু থেকে হিমাদ্রি হাবিব হিমু হতে হবে।আমি সাকসেস হতে চাই ।এসো হিমু আমার সাথে।।<br />
না ম্যাডাম আপনি সাকসেস হতে পারবেন না।।আপনি আমায় নিয়ে যেতে রাস্তায় নেমেছেন ঠিক।কিন্তু হিমুদের যে বন্ধি করে রাখা যায়না সেই মন্ত্র পড়েননি,, আর ধরে নেওয়ার জন্য সাথে নিয়ে ঘুরেন পান্তাপ্রিয় ভাইকে,, যিনি কিছুক্ষণ আগে শ্বশুর বাড়ি থেকে সাপ্লাই দেওয়া বিরিয়ানি খেয়ে এখন পেটের যন্ত্রণায় কাবু হয়ে আছে।আগে উনারে হসপিটাল নিন।<br />
,,দেখো হিমু একদম পাগলামি করবেনা<br />
হাহাহা ম্যাডাম আমি যে পাগলা হিমু।।<br />
ব্রিজ থেকে নদির পানিতে হিমুর ঝাপ!! অফিসার রিতা পান্তাপ্রিয়র দিকে তাকিয়ে তার অবস্থা বুঝতে মোটেও বাকি নেই।কি অদ্ভুত আচানক কান্ডরে বাবা!! কি করবেন তিনি,<br />
পানিতে ঝাপ দিবেন নাকি পান্তাপ্রিয়কে নিয়ে হসপিটাল যাবেন।<br />
মেজাজ খুব বিগড়ে গেল।এই পান্তাপ্রিয় তুমি বাসায় অফিসেও পান্তাভাত খেতে খেতে নামটাই পান্তাপ্রিয়তে নিয়ে এসে আজকে কেন বিরিয়ানি খেতে গেলে? যেটা তোমার পেটে সয়না!??<br />
আস্তে আস্তে ডুব দিয়ে আবার সাঁতার কেটে রিতার সামনে থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলো হিমু।<br />
সত্যি সে পাগল।হিমুরা পাগলাটেই হয়<br />
কিন্তু এই পাগলা হিমুর মত হয়না!<br />
না পারেনি রিতা হিমুকে হিমাদ্রিতে ফিরিয়ে আনতে,পারেনি তার পাগলাটে জীবন থেকে একজন যোগ্য অফিসারের বেশে দেখতে খুব ইচ্ছে ছিল এই পাগলাটাকে অফিসার বানিয়ে নিজেকে পাগলার রেশমার জন্য বরাদ্ধকৃত ভালবাসায় ভাগ বসিয়ে নিজেকে পাগলার পাগলী বানাতে।।নাহ,,,হলোনা হিমুর সাথী হবার সুযোগ। হিমুরা এভাবেই কুয়াশার মত হয়,দেখা যায়,ছোঁয়াযায়না।ছুঁতে গেলে হারিয়ে যায়।<br />
হয়তো আবারো দেখাযাবে তাকে কোন প্রত্যন্ত পর্বত,মেঠোপথ কিংবা ব্যস্ত রাস্তায়।<br />
না,,,হিমুরা পাগলা হয়,হিমুদের পাগলী হয়না।।।<br />
শুভকামনা সকল পাগলা হিমুদের জন্য।।<br />
লেখায়ঃমাহবুব আলম বাবু।।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[গল্প=মোবাইল]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2143</link>
			<pubDate>Tue, 21 Feb 2017 17:17:42 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2143</guid>
			<description><![CDATA[গল্প=মোবাইল<br />
__________________<br />
বোন= আম্মু পাশের বাসার আপু কি সুন্দর একটা মোবাইল কিনছেন।<br />
আমাকে ওইরকম মোবাইল কিনে দিতে হবে বলে দিলাম।<br />
*<br />
*<br />
মা= তোর বাবা কি আমেরিকা থাকে যে তোকে ওইরকম মোবাইল কিনে দিতে হবে।<br />
আইছে কোথায় থেকে মোবাইল আবদার করতে। এমনি রাতে কি রান্না করমু মাথায় আইতাছে না।<br />
আর তাইকে মোবাইল কিনে দিতে হবে।<br />
যা এখান থেকে।<br />
*<br />
*<br />
বোন= হে আমি যামু হই তো।আমাকে কোনো কিছু কোন দিন আমার চাওয়া মতো কিনে দিছ বলতে পারবা মা।<br />
*<br />
*<br />
মা= তাইলে শুনি কে তোমাকে এতো কিছু কিনে দেয়।এতো কাপড়, এতো সাজবার জিনিস, কলেজের পড়ার খরছ কে দেয়।<br />
হে কে দেয়।<br />
*<br />
*<br />
বোন=আমাকে ওইরকম মোবাইল কিনে না দিলে আমি আর কলেজ যামু না।<br />
বলে দিলাম মা।<br />
*<br />
*<br />
মা= ওই তুই আমাকে এসে বলিস কেন।<br />
তোর বাবাকে গিয়ে বল।<br />
আমার কাছে মোবাইল চাইবে না।<br />
*<br />
*<br />
বোন= আব্বুকে তুমি বলিও।<br />
মা= আমি পারব না।<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
আব্বু= কোথায় তোরা রে খেতে আয়।<br />
দেখ আমি কি এনেছি।<br />
তামিম বাবা তুই কোথায়?<br />
মুমু (বোন) তুই কোথায় দেখে যা কি এনেছি আমি তোদের জন্য।<br />
*<br />
*<br />
আম্মু= ও গো তামিম তো বাসায় আসে নি এখনও।<br />
আর মুমু দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েছে।<br />
*<br />
*<br />
আব্বু= এখন কিসের ঘুম।<br />
মাএ ৯ টা বাজে।<br />
*<br />
*<br />
আম্মু= আমি কি জানি তোমার মেয়েকে জিজ্ঞাস কর গিয়ে।<br />
আদরের মেয়ে একটা হয়েছে।<br />
কালি আবদার আর আবদার।<br />
মোবাইল কিনে দিতে হবে তোমার মেয়েকে।<br />
*<br />
*<br />
আব্বু= কেন মুমুর মোবাইল নেই।<br />
*<br />
*<br />
আম্মু= আছে তো।<br />
ঢং আর ঢং।<br />
*<br />
*<br />
আব্বু= কোন মোবাইল কিনে দিতে পারব না।<br />
বলে দিও তোমার মেয়েকে।<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
তামিম= ও আম্মু তুমি কোথায়।<br />
খেতে দেও।<br />
খিদা লাগছে তো।<br />
*<br />
*<br />
আম্মু= বাবা তুই কোথায় ছিলে সারাদিন।<br />
*<br />
*<br />
তামিম= এক বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলাম।<br />
কেন মা?<br />
*<br />
*<br />
আম্মু= আরে বাবা তোর আদরের বোন সারাদিন দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে আছে।<br />
কিছুই খাওয়া দাওয়া করে নি।<br />
*<br />
*<br />
তামিম= কি বল মা এসব।<br />
কেন?<br />
*<br />
*<br />
আম্মু= তাকে মোবাইল কিনে দিতে হবে।<br />
*<br />
*<br />
তামিম=আচ্ছা আম্মু আমি দেখতাছি।<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
তামিম=মুমু আপু এই মুমু আপু দরজা টা খুলেন তো। (আদর করে ডাকলাম) <br />
*<br />
*<br />
মুমু= আমি পারব না।<br />
(কেঁদে কেঁদে) <br />
*<br />
*<br />
তামিম= কেন?<br />
কি হয়েছে?<br />
আর দরজা টা খুল।<br />
*<br />
*<br />
মুমু= আম্মুও আব্বুও আমাকে আদর করেন না।<br />
আমাকে কিছু কিনে দেন না।<br />
আমি দরজা খুলব না।<br />
*<br />
*<br />
তামিম= আচ্ছা বাবা কি হয়েছে?<br />
তা তো দরজা খুলে আমাকে বলবি।<br />
*<br />
*<br />
মুমু= ভাইয়া পাশের বাসার আপু কি সুন্দর মোবাইল ফোন কিনছেন আমাকে ওইরকম মোবাইল কিনে দিতে হবে। (দরজা খুলে এসে)<br />
*<br />
*<br />
তামিম=আচ্ছা ঠিক আছে আমি কিনে দিমু।<br />
তুই এবার খেতে চল।<br />
*<br />
*<br />
মুমু= দিবে তো।<br />
*<br />
*<br />
তামিম= হা দিমু।<br />
এবার খেতে চল।<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
৭ দিন পর<br />
মুমু=এই বাড়িতে আমার কেউ আপন নয়।<br />
আমাকে কেউ আদর করে না।আমার কি লাগে না লাগে কেউ খোঁজখবর রাখে না।<br />
(কেঁদে কেঁদে) <br />
*<br />
*<br />
আম্মু= কি রে কাঁদিস কেন?<br />
কেউ কিছু বলছে?<br />
*<br />
*<br />
মুমু= তুমি আমার সাথে কথা বলবে না<br />
। তোমরা আমার কেউ না।<br />
*<br />
*<br />
তামিম ও বাবা একসাথে = তাইলে আমরা কে রে তোর?<br />
*<br />
*<br />
মুমু=.............(কোন শব্দ না করে চোখের পানি মুছে)<br />
আব্বু = তামিমের মা তামিমের জন্য নতুন একটা নতুন মোবাইল কিনে এনেছি।<br />
দেখতো সুন্দর কিনা?<br />
*<br />
*<br />
আম্মু= আরে খুব সুন্দর তো।<br />
*<br />
*<br />
মুমু= ব্যাএএএ ব্যাএএএ।<br />
আমি এই বাড়ির কেউ না। আমাকে কেউ কিছু কিনে এনে দেয় না।<br />
*<br />
*<br />
তামিম= আরে পাগলি এই টা তোর মোবাইল।<br />
নে তোর মোবাইল।<br />
*<br />
*<br />
মুমু= সত্যি ভাইয়া।<br />
*<br />
*<br />
আব্বু ও আম্মু= হা রে মা তোর মোবাইল।<br />
তুই ওই তো আমাদের সব।<br />
*<br />
*<br />
তামিম=খুশিতো এবার।<br />
*<br />
*<br />
মুমু=হুম।<br />
লেখক ও আইডি= গল্পের লেখক তামিম আহমেদ]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[গল্প=মোবাইল<br />
__________________<br />
বোন= আম্মু পাশের বাসার আপু কি সুন্দর একটা মোবাইল কিনছেন।<br />
আমাকে ওইরকম মোবাইল কিনে দিতে হবে বলে দিলাম।<br />
*<br />
*<br />
মা= তোর বাবা কি আমেরিকা থাকে যে তোকে ওইরকম মোবাইল কিনে দিতে হবে।<br />
আইছে কোথায় থেকে মোবাইল আবদার করতে। এমনি রাতে কি রান্না করমু মাথায় আইতাছে না।<br />
আর তাইকে মোবাইল কিনে দিতে হবে।<br />
যা এখান থেকে।<br />
*<br />
*<br />
বোন= হে আমি যামু হই তো।আমাকে কোনো কিছু কোন দিন আমার চাওয়া মতো কিনে দিছ বলতে পারবা মা।<br />
*<br />
*<br />
মা= তাইলে শুনি কে তোমাকে এতো কিছু কিনে দেয়।এতো কাপড়, এতো সাজবার জিনিস, কলেজের পড়ার খরছ কে দেয়।<br />
হে কে দেয়।<br />
*<br />
*<br />
বোন=আমাকে ওইরকম মোবাইল কিনে না দিলে আমি আর কলেজ যামু না।<br />
বলে দিলাম মা।<br />
*<br />
*<br />
মা= ওই তুই আমাকে এসে বলিস কেন।<br />
তোর বাবাকে গিয়ে বল।<br />
আমার কাছে মোবাইল চাইবে না।<br />
*<br />
*<br />
বোন= আব্বুকে তুমি বলিও।<br />
মা= আমি পারব না।<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
আব্বু= কোথায় তোরা রে খেতে আয়।<br />
দেখ আমি কি এনেছি।<br />
তামিম বাবা তুই কোথায়?<br />
মুমু (বোন) তুই কোথায় দেখে যা কি এনেছি আমি তোদের জন্য।<br />
*<br />
*<br />
আম্মু= ও গো তামিম তো বাসায় আসে নি এখনও।<br />
আর মুমু দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েছে।<br />
*<br />
*<br />
আব্বু= এখন কিসের ঘুম।<br />
মাএ ৯ টা বাজে।<br />
*<br />
*<br />
আম্মু= আমি কি জানি তোমার মেয়েকে জিজ্ঞাস কর গিয়ে।<br />
আদরের মেয়ে একটা হয়েছে।<br />
কালি আবদার আর আবদার।<br />
মোবাইল কিনে দিতে হবে তোমার মেয়েকে।<br />
*<br />
*<br />
আব্বু= কেন মুমুর মোবাইল নেই।<br />
*<br />
*<br />
আম্মু= আছে তো।<br />
ঢং আর ঢং।<br />
*<br />
*<br />
আব্বু= কোন মোবাইল কিনে দিতে পারব না।<br />
বলে দিও তোমার মেয়েকে।<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
তামিম= ও আম্মু তুমি কোথায়।<br />
খেতে দেও।<br />
খিদা লাগছে তো।<br />
*<br />
*<br />
আম্মু= বাবা তুই কোথায় ছিলে সারাদিন।<br />
*<br />
*<br />
তামিম= এক বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলাম।<br />
কেন মা?<br />
*<br />
*<br />
আম্মু= আরে বাবা তোর আদরের বোন সারাদিন দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে আছে।<br />
কিছুই খাওয়া দাওয়া করে নি।<br />
*<br />
*<br />
তামিম= কি বল মা এসব।<br />
কেন?<br />
*<br />
*<br />
আম্মু= তাকে মোবাইল কিনে দিতে হবে।<br />
*<br />
*<br />
তামিম=আচ্ছা আম্মু আমি দেখতাছি।<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
তামিম=মুমু আপু এই মুমু আপু দরজা টা খুলেন তো। (আদর করে ডাকলাম) <br />
*<br />
*<br />
মুমু= আমি পারব না।<br />
(কেঁদে কেঁদে) <br />
*<br />
*<br />
তামিম= কেন?<br />
কি হয়েছে?<br />
আর দরজা টা খুল।<br />
*<br />
*<br />
মুমু= আম্মুও আব্বুও আমাকে আদর করেন না।<br />
আমাকে কিছু কিনে দেন না।<br />
আমি দরজা খুলব না।<br />
*<br />
*<br />
তামিম= আচ্ছা বাবা কি হয়েছে?<br />
তা তো দরজা খুলে আমাকে বলবি।<br />
*<br />
*<br />
মুমু= ভাইয়া পাশের বাসার আপু কি সুন্দর মোবাইল ফোন কিনছেন আমাকে ওইরকম মোবাইল কিনে দিতে হবে। (দরজা খুলে এসে)<br />
*<br />
*<br />
তামিম=আচ্ছা ঠিক আছে আমি কিনে দিমু।<br />
তুই এবার খেতে চল।<br />
*<br />
*<br />
মুমু= দিবে তো।<br />
*<br />
*<br />
তামিম= হা দিমু।<br />
এবার খেতে চল।<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
&lt;&gt;<br />
৭ দিন পর<br />
মুমু=এই বাড়িতে আমার কেউ আপন নয়।<br />
আমাকে কেউ আদর করে না।আমার কি লাগে না লাগে কেউ খোঁজখবর রাখে না।<br />
(কেঁদে কেঁদে) <br />
*<br />
*<br />
আম্মু= কি রে কাঁদিস কেন?<br />
কেউ কিছু বলছে?<br />
*<br />
*<br />
মুমু= তুমি আমার সাথে কথা বলবে না<br />
। তোমরা আমার কেউ না।<br />
*<br />
*<br />
তামিম ও বাবা একসাথে = তাইলে আমরা কে রে তোর?<br />
*<br />
*<br />
মুমু=.............(কোন শব্দ না করে চোখের পানি মুছে)<br />
আব্বু = তামিমের মা তামিমের জন্য নতুন একটা নতুন মোবাইল কিনে এনেছি।<br />
দেখতো সুন্দর কিনা?<br />
*<br />
*<br />
আম্মু= আরে খুব সুন্দর তো।<br />
*<br />
*<br />
মুমু= ব্যাএএএ ব্যাএএএ।<br />
আমি এই বাড়ির কেউ না। আমাকে কেউ কিছু কিনে এনে দেয় না।<br />
*<br />
*<br />
তামিম= আরে পাগলি এই টা তোর মোবাইল।<br />
নে তোর মোবাইল।<br />
*<br />
*<br />
মুমু= সত্যি ভাইয়া।<br />
*<br />
*<br />
আব্বু ও আম্মু= হা রে মা তোর মোবাইল।<br />
তুই ওই তো আমাদের সব।<br />
*<br />
*<br />
তামিম=খুশিতো এবার।<br />
*<br />
*<br />
মুমু=হুম।<br />
লেখক ও আইডি= গল্পের লেখক তামিম আহমেদ]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[র্যাগিং শিক্ষনীয় গল্প]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2142</link>
			<pubDate>Tue, 21 Feb 2017 17:17:19 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2142</guid>
			<description><![CDATA[****রফিকুল ইসলাম ইমরান<br />
- হিমেল বাবা ঘুম থেকে উঠে<br />
তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে।<br />
কলেজের প্রথম দিনেই যদি<br />
দেরি করিস তো কেমন হবে<br />
বলতো।<br />
- ops আমার তো মনে ই নেই যে<br />
আজকে<br />
........<br />
- হুম । টেবিলে নাস্তা আছে।<br />
খেয়ে দেয়ে তাড়াতাড়ি যা।<br />
- আচ্ছা মা।<br />
কলেজের প্রথম দিন তাই একটু<br />
ভাল ভাবে যেতে হবে। নতুন<br />
পরিবেশ ,নতুন মানুষ ,সব নতুন।<br />
মনটা ভাল ই লাগছে।কলেজ<br />
গেটের সামনে এসে আরো ভাল<br />
লাগছে।<br />
কি সুন্দর পরিবেশটা ! ! ! !<br />
প্রথম ১সপ্তাহ হিমেলের কাছে<br />
অনেক ভাল লাগল।<br />
এর মাঝে হিমেলের অল্প কিছু<br />
বন্ধুও হয়েছে।<br />
------<br />
১দিন সে কলেজ গেট দিয়ে<br />
ঢুকছিল এমন সময় পিছন থেকে<br />
ডাক দিল ............<br />
- এই কবুতর,এই লাল কবুতর।<br />
-জ্বি ! আমাকে ভাই ?<br />
- হ .তুই ছাড়া আর কে এখানে<br />
কবুতর।<br />
- জ্বি ভাই বলেন? আর আমার<br />
নাম হিমেল<br />
- তোর নাম জানার জন্য ডাকি<br />
নাই।কিসে পড়স<br />
?<br />
- জ্বি ভাই আমি<br />
.........<br />
- ওহ ভাল।আমি কিন্তু তোর<br />
সিনিয়র বড় ভাই।দেখলে সালাম<br />
দিবি।<br />
- আচ্ছা ভাই।<br />
- ঐ আচ্ছা কি হা ! বাদ দে কি<br />
নাম যেন বললি তোর ?<br />
- জ্বি হিমেল।<br />
- নামটা কেমন যেন খ্যাত -<br />
খ্যাত লাগে।আমরা তোকে লাল<br />
বলে ডাকব।রাগ করবিনাতো আর<br />
করলে ও কিছু হবে না আমাদের।<br />
-<br />
- কেন ?আমার নামতো হিমেল।<br />
- বেশী কথা বললে কিন্তু<br />
থাপ্পড় দিবো ধরে। যা বলছি<br />
তাই বলব " লাল মিয়া " ।<br />
- আচ্ছা<br />
- তোর কি রাগ হচ্ছে না আমার<br />
কথা শুনে ?<br />
- না ভাই<br />
- কেন<br />
?<br />
- জানি না।<br />
ঠাস করে হিমেলের গালে থপ্পড়<br />
দিয়ে<br />
- এইবার রাগ হচ্ছে তো<br />
?<br />
- ..........<br />
- কথা বল !<br />
- ..........<br />
- কি হল<br />
?<br />
- ভাই আমি কি করছি যে আমার<br />
সাথে এমন করছেন<br />
! ?<br />
- আলে বাবু লাগ কলস নাকি।<br />
আচ্ছা আর করবনা।এই তোর কান<br />
ধরে বলছি।<br />
বলে ই ২ কান ধরে টান দিল<br />
- আচ্ছা যা এখন তো ক্লাস শুরু<br />
হয়ে গেছে মোনে হয়।<br />
হিমেল কিছু না বলে হাটা দিল।<br />
আবার ডাক দিল<br />
- এই .....এদিকে আয়<br />
- জ্বি<br />
- এই নে টাকা।সামনের দোকান<br />
থেকে ১টা সিগারেট এনে তোর<br />
ছুটি।<br />
......কিছুক্ষণ পরে<br />
......<br />
- ভাই আপনার সিগারেট<br />
- দে।যা আজকের মত ছুটি।<br />
কলেজ থেকে মন খারাপ করে<br />
বাড়ি ফিরে হিমেল।মা তার<br />
চেহারা দেখে বলে<br />
- কি হয়েছে ! মন খারাপ কেনো<br />
?<br />
- না মা কিছু না।শরীর ভাল<br />
লাগছে না।<br />
- দেখিত<br />
বলে কপালে হাত দিল আর বলল<br />
- কেমন লাগছে বাবা তোর<br />
?<br />
- এখন একটু ভাল।<br />
- আচ্ছা গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে আয়।<br />
খাবার দিচ্ছি।<br />
বলে চলে গেল।আর হিমেল ঘরে<br />
গিয়ে শুয়ে পড়ল।<br />
এরপর কিছুদিন কলেজ গেল না<br />
হিমেল।১সপ্তাহ পর কলেজে গেল।<br />
ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার সময়<br />
পিছন থেকে ডাক দিল<br />
- লাল মিয়া দাড়া<br />
পিছনে ফিরে দেখে আগের জনের<br />
সাথে ২ জন মেয়ে আর ৪ জন ছেলে<br />
তার দিকে আসছে।<br />
- কিরে এতদিন কলেজে আসিস<br />
নাই কেন ?<br />
- শরীর ভাল ছিলনা<br />
- কেন রে এইডস নাকি তোর<br />
কান্না জড়িত কন্ঠে<br />
...<br />
- ভাই আমাকে মাফ করে দেন<br />
ভাই।<br />
- আচ্ছা মাফ করব। তবে ১টা<br />
শর্তে<br />
!<br />
- কি<br />
?<br />
- ঐ যে ১টা মেয়ে আসছে।ওর ওরনা<br />
ধরে টান দিবি।যদি নিয়ে আসতে<br />
পারিস তো মাফ করে দিবো।আর<br />
না পারলে তো .....<br />
- না ভাই আমি এমন ঘৃন কাজ<br />
করতে পারবনে।দয়া করে আমায়<br />
যেতে দিন।<br />
- আচ্ছা অন্য ১টা কাজ দিবো<br />
করবি।<br />
- কি কাজ ভাই<br />
?<br />
দাড়া ভেবে নেই।<br />
এই বলে তারা সবাই কি যেন<br />
পরিকল্পনা করল।<br />
ফিরে এসে<br />
তাদের মাঝের ১টা মেয়ে বলল<br />
- বলতো আমায় দেখতে কেমন ?<br />
- ভাল<br />
- কেমন ভাল<br />
?<br />
- অনেক।<br />
- ঐ কবুতর ঐ ভাবে না। বল অনেক<br />
সেক্সি আর হট<br />
- আমি আপনার পায়ে ধরি আপু<br />
আমাকে মাফ করে দিন।আমি কি<br />
করছি যে যার জন্য এমন করছেন<br />
আপনারা ?<br />
- ঐ বলবি ? নাকি লোক ডেকে<br />
বালব যে তুই জুনিয়র হয়ে<br />
সিনিয়র আপুদের সাথে খারাপ<br />
আচারণ করছিস দেখবি কি হয়<br />
তোর<br />
?<br />
ভয়ার্থ - কান্না মাখা কোনঠে<br />
বলছে।...<br />
- আপু দয়া করে যেতে দেন না<br />
- আগে বল<br />
- ...........<br />
- কি হল বলবি না দিবো ডাক<br />
!<br />
- আ ..আ ..আ ..আ ..আপনাকে অনেক<br />
হট আর সেক্সি লাগছে।<br />
বলার সাথে মেয়েটা হিমেলের<br />
গালে কষিয়ে থাপ্পড় দিল।<br />
অনেকে তাদের দিকে চেয়ে রল।<br />
অনেকে বলল<br />
- কি হয়ছে আপু<br />
- এই ছেলেটা আমার জুনিয়ার।<br />
আর আমায় বলছে আপনাকে<br />
অনেক .......আমি ভাবতে পারি<br />
নাই যে আমার ছোটো কারো<br />
কাছ থেকে এমন কিছু শুনব।<br />
হিমেল লজ্জা আর অপমানে মরে<br />
যেতে চাইছিল।কিন্তু তা<br />
কোরার মত দূর সাহস নেই তার।<br />
বাড়ি ফিরে ঘরের দরোজা বন্ধ<br />
করে খুব কাঁদল।কি এমন ক্ষতি<br />
করছে যে তার সাথে এমন করছে।<br />
যে ছেলেটা আগে অনেক হাসি<br />
খুশি থাকত।কিন্তু এখন সে<br />
নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে।পড়া<br />
লেখায় মন নেই।কলেজে গেলে<br />
মনে ভয় থাকে তার।<br />
প্রথম ২ মাস উত্তক্ত করাটা<br />
ছিল সহনিয় পরযায়ে।কিন্তু<br />
আস্তে আস্তে এর পরিমান<br />
বাড়তে লাগল।<br />
১দিন হিমেল কলেজে যাচ্ছিল।<br />
রাস্তায় তারা ওর পথ রোধ করল।<br />
হিমেল যেন ভয়ে কেদে দেয় এমন<br />
অবস্থা।<br />
- এই তোরা জানিস লাল মিয়ার<br />
কোন রাগ নাই।যা বলব বা করব ও<br />
কিছু মনে করে না।কি তাই না<br />
লাল<br />
?<br />
- ..........<br />
তার বন্ধুরা বলল<br />
- তোরে বলছে রাগ করে না !<br />
- দেখবি তোরা<br />
?<br />
বলে ই হিমেলের শার্টে কলম<br />
দিয়ে দাগ দিল।<br />
- দেখছিস রাগ করে না<br />
- সত্যি ই তো<br />
!<br />
-<br />
- লাল ভাই আপনি ক্লাসে যান<br />
আর ছুটির পরে আমাদের সাথে<br />
দেখা করে যাবেন<br />
?<br />
- হিম<br />
হিমেল চলে গেল।<br />
ক্লাস শেষে হিমেল বাড়ি<br />
যাচ্ছিল তখন পিছন থেকে<br />
- সাহস তো কম না।দেখা করতে<br />
বললাম আর তুই বাড়ী যাচ্ছিস !<br />
বলে কয়েকট থাপ্পড়।<br />
- আচ্ছা শোন।আমরা অন্য গ্রুপের<br />
সাথে বাজি ধরছি যে আমাদের<br />
কলেজের ও পাশের নরদ্মাতে<br />
১টা প্রতিযোগিতা হবে।যে দল<br />
নরদ্মার ১ মাথা থেকে অন্য<br />
মাথায় যাবে তারা হবে নতুন<br />
কলেজ লিডার।আর তাই তুই<br />
আমাদের হয়ে আংশ নিবি<br />
বুঝছিস ?<br />
- ভাই আমি পারব না।আমার<br />
বাড়ি কাজ আছে।<br />
- কাজ পরে।আগে আমাদের কাজ।<br />
- না ভাই পারব না।<br />
- তুই পারবি না তোর বাপ পারবে<br />
শালা হারামজাদা।আমাদের<br />
ইজ্জতের ব্যপার এখানে।আর উনি<br />
বলছে " পালব না ভাই "<br />
সেদিন সবাই মিলে হিমেল ও<br />
আরেক জনকে নরদমা নামায়।<br />
হিমেল কাউকে বলতে পারেনা<br />
ওর কষটের কথা।শুধু মন খারাপ<br />
করে থাকে।<br />
পরের দিন<br />
.......<br />
- লাল বস। তোর জন্য আমরা<br />
জিতছি তাই তোরে মদ খায়াবো<br />
আমরা !<br />
- না ভাই।আমি খাই না<br />
- তো এখন খাবি<br />
বলে টেনে নিয়ে গেল।বারে এসে<br />
হিমেলকে জোর করে পুরা<br />
বোতল অর মুখে পুরে দিল।<br />
এভাবে নির্যাতন করে চলল।<br />
কয়েক বছর পর<br />
.......<br />
যারা হিমেল কে রেগিং করত<br />
তাদের সবার একে একে খুন হতে<br />
শুরু করে।<br />
২ জন মেয়ের গলা কাটা নগ্ন<br />
লাশ পায়া যায়।পিঠে লেখা<br />
"You are so hot and sexy"<br />
আর একজন ছেলের গলার ভিতর<br />
পায় ভাঙ্গা মদের বোতল<br />
একজনের লাশ নরদার ভিতর<br />
গলিত অবস্থায় অন্য জনের<br />
শরীরের চামড়া পুরা আলাদা<br />
আর তাঁতে লেখা "লাল মিয়া "<br />
পুলিশ জানে যে এ সব খুন ১ জনের<br />
করা।সবার লাশের সাথে ১টা<br />
কবুতর বাঁধা পায়।কিন্তু আজো<br />
জানে না কে এই<br />
" কবুতর]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[****রফিকুল ইসলাম ইমরান<br />
- হিমেল বাবা ঘুম থেকে উঠে<br />
তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে।<br />
কলেজের প্রথম দিনেই যদি<br />
দেরি করিস তো কেমন হবে<br />
বলতো।<br />
- ops আমার তো মনে ই নেই যে<br />
আজকে<br />
........<br />
- হুম । টেবিলে নাস্তা আছে।<br />
খেয়ে দেয়ে তাড়াতাড়ি যা।<br />
- আচ্ছা মা।<br />
কলেজের প্রথম দিন তাই একটু<br />
ভাল ভাবে যেতে হবে। নতুন<br />
পরিবেশ ,নতুন মানুষ ,সব নতুন।<br />
মনটা ভাল ই লাগছে।কলেজ<br />
গেটের সামনে এসে আরো ভাল<br />
লাগছে।<br />
কি সুন্দর পরিবেশটা ! ! ! !<br />
প্রথম ১সপ্তাহ হিমেলের কাছে<br />
অনেক ভাল লাগল।<br />
এর মাঝে হিমেলের অল্প কিছু<br />
বন্ধুও হয়েছে।<br />
------<br />
১দিন সে কলেজ গেট দিয়ে<br />
ঢুকছিল এমন সময় পিছন থেকে<br />
ডাক দিল ............<br />
- এই কবুতর,এই লাল কবুতর।<br />
-জ্বি ! আমাকে ভাই ?<br />
- হ .তুই ছাড়া আর কে এখানে<br />
কবুতর।<br />
- জ্বি ভাই বলেন? আর আমার<br />
নাম হিমেল<br />
- তোর নাম জানার জন্য ডাকি<br />
নাই।কিসে পড়স<br />
?<br />
- জ্বি ভাই আমি<br />
.........<br />
- ওহ ভাল।আমি কিন্তু তোর<br />
সিনিয়র বড় ভাই।দেখলে সালাম<br />
দিবি।<br />
- আচ্ছা ভাই।<br />
- ঐ আচ্ছা কি হা ! বাদ দে কি<br />
নাম যেন বললি তোর ?<br />
- জ্বি হিমেল।<br />
- নামটা কেমন যেন খ্যাত -<br />
খ্যাত লাগে।আমরা তোকে লাল<br />
বলে ডাকব।রাগ করবিনাতো আর<br />
করলে ও কিছু হবে না আমাদের।<br />
-<br />
- কেন ?আমার নামতো হিমেল।<br />
- বেশী কথা বললে কিন্তু<br />
থাপ্পড় দিবো ধরে। যা বলছি<br />
তাই বলব " লাল মিয়া " ।<br />
- আচ্ছা<br />
- তোর কি রাগ হচ্ছে না আমার<br />
কথা শুনে ?<br />
- না ভাই<br />
- কেন<br />
?<br />
- জানি না।<br />
ঠাস করে হিমেলের গালে থপ্পড়<br />
দিয়ে<br />
- এইবার রাগ হচ্ছে তো<br />
?<br />
- ..........<br />
- কথা বল !<br />
- ..........<br />
- কি হল<br />
?<br />
- ভাই আমি কি করছি যে আমার<br />
সাথে এমন করছেন<br />
! ?<br />
- আলে বাবু লাগ কলস নাকি।<br />
আচ্ছা আর করবনা।এই তোর কান<br />
ধরে বলছি।<br />
বলে ই ২ কান ধরে টান দিল<br />
- আচ্ছা যা এখন তো ক্লাস শুরু<br />
হয়ে গেছে মোনে হয়।<br />
হিমেল কিছু না বলে হাটা দিল।<br />
আবার ডাক দিল<br />
- এই .....এদিকে আয়<br />
- জ্বি<br />
- এই নে টাকা।সামনের দোকান<br />
থেকে ১টা সিগারেট এনে তোর<br />
ছুটি।<br />
......কিছুক্ষণ পরে<br />
......<br />
- ভাই আপনার সিগারেট<br />
- দে।যা আজকের মত ছুটি।<br />
কলেজ থেকে মন খারাপ করে<br />
বাড়ি ফিরে হিমেল।মা তার<br />
চেহারা দেখে বলে<br />
- কি হয়েছে ! মন খারাপ কেনো<br />
?<br />
- না মা কিছু না।শরীর ভাল<br />
লাগছে না।<br />
- দেখিত<br />
বলে কপালে হাত দিল আর বলল<br />
- কেমন লাগছে বাবা তোর<br />
?<br />
- এখন একটু ভাল।<br />
- আচ্ছা গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে আয়।<br />
খাবার দিচ্ছি।<br />
বলে চলে গেল।আর হিমেল ঘরে<br />
গিয়ে শুয়ে পড়ল।<br />
এরপর কিছুদিন কলেজ গেল না<br />
হিমেল।১সপ্তাহ পর কলেজে গেল।<br />
ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার সময়<br />
পিছন থেকে ডাক দিল<br />
- লাল মিয়া দাড়া<br />
পিছনে ফিরে দেখে আগের জনের<br />
সাথে ২ জন মেয়ে আর ৪ জন ছেলে<br />
তার দিকে আসছে।<br />
- কিরে এতদিন কলেজে আসিস<br />
নাই কেন ?<br />
- শরীর ভাল ছিলনা<br />
- কেন রে এইডস নাকি তোর<br />
কান্না জড়িত কন্ঠে<br />
...<br />
- ভাই আমাকে মাফ করে দেন<br />
ভাই।<br />
- আচ্ছা মাফ করব। তবে ১টা<br />
শর্তে<br />
!<br />
- কি<br />
?<br />
- ঐ যে ১টা মেয়ে আসছে।ওর ওরনা<br />
ধরে টান দিবি।যদি নিয়ে আসতে<br />
পারিস তো মাফ করে দিবো।আর<br />
না পারলে তো .....<br />
- না ভাই আমি এমন ঘৃন কাজ<br />
করতে পারবনে।দয়া করে আমায়<br />
যেতে দিন।<br />
- আচ্ছা অন্য ১টা কাজ দিবো<br />
করবি।<br />
- কি কাজ ভাই<br />
?<br />
দাড়া ভেবে নেই।<br />
এই বলে তারা সবাই কি যেন<br />
পরিকল্পনা করল।<br />
ফিরে এসে<br />
তাদের মাঝের ১টা মেয়ে বলল<br />
- বলতো আমায় দেখতে কেমন ?<br />
- ভাল<br />
- কেমন ভাল<br />
?<br />
- অনেক।<br />
- ঐ কবুতর ঐ ভাবে না। বল অনেক<br />
সেক্সি আর হট<br />
- আমি আপনার পায়ে ধরি আপু<br />
আমাকে মাফ করে দিন।আমি কি<br />
করছি যে যার জন্য এমন করছেন<br />
আপনারা ?<br />
- ঐ বলবি ? নাকি লোক ডেকে<br />
বালব যে তুই জুনিয়র হয়ে<br />
সিনিয়র আপুদের সাথে খারাপ<br />
আচারণ করছিস দেখবি কি হয়<br />
তোর<br />
?<br />
ভয়ার্থ - কান্না মাখা কোনঠে<br />
বলছে।...<br />
- আপু দয়া করে যেতে দেন না<br />
- আগে বল<br />
- ...........<br />
- কি হল বলবি না দিবো ডাক<br />
!<br />
- আ ..আ ..আ ..আ ..আপনাকে অনেক<br />
হট আর সেক্সি লাগছে।<br />
বলার সাথে মেয়েটা হিমেলের<br />
গালে কষিয়ে থাপ্পড় দিল।<br />
অনেকে তাদের দিকে চেয়ে রল।<br />
অনেকে বলল<br />
- কি হয়ছে আপু<br />
- এই ছেলেটা আমার জুনিয়ার।<br />
আর আমায় বলছে আপনাকে<br />
অনেক .......আমি ভাবতে পারি<br />
নাই যে আমার ছোটো কারো<br />
কাছ থেকে এমন কিছু শুনব।<br />
হিমেল লজ্জা আর অপমানে মরে<br />
যেতে চাইছিল।কিন্তু তা<br />
কোরার মত দূর সাহস নেই তার।<br />
বাড়ি ফিরে ঘরের দরোজা বন্ধ<br />
করে খুব কাঁদল।কি এমন ক্ষতি<br />
করছে যে তার সাথে এমন করছে।<br />
যে ছেলেটা আগে অনেক হাসি<br />
খুশি থাকত।কিন্তু এখন সে<br />
নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে।পড়া<br />
লেখায় মন নেই।কলেজে গেলে<br />
মনে ভয় থাকে তার।<br />
প্রথম ২ মাস উত্তক্ত করাটা<br />
ছিল সহনিয় পরযায়ে।কিন্তু<br />
আস্তে আস্তে এর পরিমান<br />
বাড়তে লাগল।<br />
১দিন হিমেল কলেজে যাচ্ছিল।<br />
রাস্তায় তারা ওর পথ রোধ করল।<br />
হিমেল যেন ভয়ে কেদে দেয় এমন<br />
অবস্থা।<br />
- এই তোরা জানিস লাল মিয়ার<br />
কোন রাগ নাই।যা বলব বা করব ও<br />
কিছু মনে করে না।কি তাই না<br />
লাল<br />
?<br />
- ..........<br />
তার বন্ধুরা বলল<br />
- তোরে বলছে রাগ করে না !<br />
- দেখবি তোরা<br />
?<br />
বলে ই হিমেলের শার্টে কলম<br />
দিয়ে দাগ দিল।<br />
- দেখছিস রাগ করে না<br />
- সত্যি ই তো<br />
!<br />
-<br />
- লাল ভাই আপনি ক্লাসে যান<br />
আর ছুটির পরে আমাদের সাথে<br />
দেখা করে যাবেন<br />
?<br />
- হিম<br />
হিমেল চলে গেল।<br />
ক্লাস শেষে হিমেল বাড়ি<br />
যাচ্ছিল তখন পিছন থেকে<br />
- সাহস তো কম না।দেখা করতে<br />
বললাম আর তুই বাড়ী যাচ্ছিস !<br />
বলে কয়েকট থাপ্পড়।<br />
- আচ্ছা শোন।আমরা অন্য গ্রুপের<br />
সাথে বাজি ধরছি যে আমাদের<br />
কলেজের ও পাশের নরদ্মাতে<br />
১টা প্রতিযোগিতা হবে।যে দল<br />
নরদ্মার ১ মাথা থেকে অন্য<br />
মাথায় যাবে তারা হবে নতুন<br />
কলেজ লিডার।আর তাই তুই<br />
আমাদের হয়ে আংশ নিবি<br />
বুঝছিস ?<br />
- ভাই আমি পারব না।আমার<br />
বাড়ি কাজ আছে।<br />
- কাজ পরে।আগে আমাদের কাজ।<br />
- না ভাই পারব না।<br />
- তুই পারবি না তোর বাপ পারবে<br />
শালা হারামজাদা।আমাদের<br />
ইজ্জতের ব্যপার এখানে।আর উনি<br />
বলছে " পালব না ভাই "<br />
সেদিন সবাই মিলে হিমেল ও<br />
আরেক জনকে নরদমা নামায়।<br />
হিমেল কাউকে বলতে পারেনা<br />
ওর কষটের কথা।শুধু মন খারাপ<br />
করে থাকে।<br />
পরের দিন<br />
.......<br />
- লাল বস। তোর জন্য আমরা<br />
জিতছি তাই তোরে মদ খায়াবো<br />
আমরা !<br />
- না ভাই।আমি খাই না<br />
- তো এখন খাবি<br />
বলে টেনে নিয়ে গেল।বারে এসে<br />
হিমেলকে জোর করে পুরা<br />
বোতল অর মুখে পুরে দিল।<br />
এভাবে নির্যাতন করে চলল।<br />
কয়েক বছর পর<br />
.......<br />
যারা হিমেল কে রেগিং করত<br />
তাদের সবার একে একে খুন হতে<br />
শুরু করে।<br />
২ জন মেয়ের গলা কাটা নগ্ন<br />
লাশ পায়া যায়।পিঠে লেখা<br />
"You are so hot and sexy"<br />
আর একজন ছেলের গলার ভিতর<br />
পায় ভাঙ্গা মদের বোতল<br />
একজনের লাশ নরদার ভিতর<br />
গলিত অবস্থায় অন্য জনের<br />
শরীরের চামড়া পুরা আলাদা<br />
আর তাঁতে লেখা "লাল মিয়া "<br />
পুলিশ জানে যে এ সব খুন ১ জনের<br />
করা।সবার লাশের সাথে ১টা<br />
কবুতর বাঁধা পায়।কিন্তু আজো<br />
জানে না কে এই<br />
" কবুতর]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[মানসিকতার পরিবর্তন নিয়ে আসা জরুরি]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2141</link>
			<pubDate>Tue, 21 Feb 2017 17:16:40 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2141</guid>
			<description><![CDATA[মানসিকতার পরিবর্তন নিয়ে আসা জরুরি<br />
.<br />
লিখাঃ Pranto Khaan Saaqib<br />
- রংপুর মেডিকেল কলেজ, রংপুর ।<br />
'<br />
"নারী" নামটা শুনেছেন ? উত্তরঃ জ্বি শুনেছি তোহ !! একটু সময় নিয়ে ভেবে দেখেছেন কখনও ? উত্তরঃ কই না তোহ !!! জ্বি, ঠিক বলছেন ! নারীকে পণ্য বানিয়ে বিক্রি করার ইতিহাস বহু প্রাচীন !!! আপনি হয়তো জেনে থাকবেন, নারীরা নিজেরাই নিজেদের বুঝে উঠতে পারে নি এখন অব্দি। কিন্তু এই "নারী" স্বত্বাটাকে রশিতে ঝুলিয়ে গুষ্টি উদ্ধারের চেষ্টাও কম পুরনো নয় !!<br />
~<br />
রাস্তায় চলতে ফিরতে যখন চোখে পড়ে, এক দল তরুনের দ্বারা স্কুল/কলেজ/ভার্সিটি ফেরত মেয়ে গুলোকে গিলে খাওয়ার মতো অবস্থা, ; এই অবস্হা দেখে অবচেতন মনেই বলতে ইচ্ছা হয় আরে এ তো আজকের culture এ একটা ফ্যাশান মাত্র । বন্ধু-বান্ধবের কাতারে দাড় হলেই শুনতে হয় যে/যিনি যতগুলো ছেলে/মেয়ে গিলে খেয়েছেন/ ছ্যাক দিয়েছেন, সে/তিনি আমাদের বিবেচনায় কেবল একজন অন্যরকম ই নন, সে/তিনি অনেক বেশি cultural ই sound !!!<br />
~<br />
মানুষকে পন্য হিসেবে বিবেচনা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ কিন্তু হুজুগের দেশে মেইনলি নারীকেই কেবল একেবারে আহারের তালিকায় নিয়ে আসা বোধ করি নতুন কিছু নয়। পানের দোকানের বড় ভাই থেকে, vercity/college এর দুই বন্ধুর আলাপ চারিতা তেও উঠে আসে, - "চরম একটা মাল গেলো রে" "মালটা কিন্তু জোসসসস" "মালটা কি foodable না non-foodable" <br />
~<br />
এই কথাগুলো অতি পরিচিত কিছু, বর্তমান জেনারেশনে এমন শব্দ যে শুনে নি, আমি বলব সে এখনও গর্ভে । কিন্তু কথা হচ্ছে এই যে সুন্দর সুন্দর করে বিদেশী ভাষায় আমরা নিজেরাই নিজেদের সস্তা রুচির বিজ্ঞাপন করে বেড়াচ্ছি, কিউরিয়াস মাইন্ড ওয়ান্ট টু নো, তা কি কখনও কারো মগজে এসেছে !!! <br />
হ্যা, মাঝে মাঝেই মনে হয় হয়তো কোথাও ভুল হচ্ছে !! পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজে আমরা হয়ত ধরেই নিয়েছি শ্যাম বরন বালকের গর্ভে আমাদের জন্ম কিন্তু পরোক্ষনেই ধারনা পাল্টে যায়। নাহলে নারীর ঐ সম্মান কে কেনো বড়শির মাথায় লাগিয়ে আফ্রিকান মাগুর শিকার করার ধান্ধায় লিপ্ত হচ্ছি !!! [ কবি এখানে নিরব ]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[মানসিকতার পরিবর্তন নিয়ে আসা জরুরি<br />
.<br />
লিখাঃ Pranto Khaan Saaqib<br />
- রংপুর মেডিকেল কলেজ, রংপুর ।<br />
'<br />
"নারী" নামটা শুনেছেন ? উত্তরঃ জ্বি শুনেছি তোহ !! একটু সময় নিয়ে ভেবে দেখেছেন কখনও ? উত্তরঃ কই না তোহ !!! জ্বি, ঠিক বলছেন ! নারীকে পণ্য বানিয়ে বিক্রি করার ইতিহাস বহু প্রাচীন !!! আপনি হয়তো জেনে থাকবেন, নারীরা নিজেরাই নিজেদের বুঝে উঠতে পারে নি এখন অব্দি। কিন্তু এই "নারী" স্বত্বাটাকে রশিতে ঝুলিয়ে গুষ্টি উদ্ধারের চেষ্টাও কম পুরনো নয় !!<br />
~<br />
রাস্তায় চলতে ফিরতে যখন চোখে পড়ে, এক দল তরুনের দ্বারা স্কুল/কলেজ/ভার্সিটি ফেরত মেয়ে গুলোকে গিলে খাওয়ার মতো অবস্থা, ; এই অবস্হা দেখে অবচেতন মনেই বলতে ইচ্ছা হয় আরে এ তো আজকের culture এ একটা ফ্যাশান মাত্র । বন্ধু-বান্ধবের কাতারে দাড় হলেই শুনতে হয় যে/যিনি যতগুলো ছেলে/মেয়ে গিলে খেয়েছেন/ ছ্যাক দিয়েছেন, সে/তিনি আমাদের বিবেচনায় কেবল একজন অন্যরকম ই নন, সে/তিনি অনেক বেশি cultural ই sound !!!<br />
~<br />
মানুষকে পন্য হিসেবে বিবেচনা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ কিন্তু হুজুগের দেশে মেইনলি নারীকেই কেবল একেবারে আহারের তালিকায় নিয়ে আসা বোধ করি নতুন কিছু নয়। পানের দোকানের বড় ভাই থেকে, vercity/college এর দুই বন্ধুর আলাপ চারিতা তেও উঠে আসে, - "চরম একটা মাল গেলো রে" "মালটা কিন্তু জোসসসস" "মালটা কি foodable না non-foodable" <br />
~<br />
এই কথাগুলো অতি পরিচিত কিছু, বর্তমান জেনারেশনে এমন শব্দ যে শুনে নি, আমি বলব সে এখনও গর্ভে । কিন্তু কথা হচ্ছে এই যে সুন্দর সুন্দর করে বিদেশী ভাষায় আমরা নিজেরাই নিজেদের সস্তা রুচির বিজ্ঞাপন করে বেড়াচ্ছি, কিউরিয়াস মাইন্ড ওয়ান্ট টু নো, তা কি কখনও কারো মগজে এসেছে !!! <br />
হ্যা, মাঝে মাঝেই মনে হয় হয়তো কোথাও ভুল হচ্ছে !! পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজে আমরা হয়ত ধরেই নিয়েছি শ্যাম বরন বালকের গর্ভে আমাদের জন্ম কিন্তু পরোক্ষনেই ধারনা পাল্টে যায়। নাহলে নারীর ঐ সম্মান কে কেনো বড়শির মাথায় লাগিয়ে আফ্রিকান মাগুর শিকার করার ধান্ধায় লিপ্ত হচ্ছি !!! [ কবি এখানে নিরব ]]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[চিৎকার]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2140</link>
			<pubDate>Tue, 21 Feb 2017 17:16:14 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2140</guid>
			<description><![CDATA[আমাদের ভালবাসার নষ্টামির কারনে কেন পৃথিবীর আলো দেখার আগে নিস্পাপ শিশু নার্সিং হোমের বারান্দায় শেষ হয়ে যায় ।এ কেমন ভালবাস । আসলে আজ আমরা কোথায় এসে দাড়িয়েছে । সত্যি এগুলো ভাবতেই লজ্যা লাগে । আমাদের ভালবাসার নামে কেন একটা অবুঝ শিশু পৃথিবীর মুখটা দেখতে পারে না । ভালবাসার অপর নাম কি দেহভোগ । কেন আমরা এমন করছি । ভালবাসাটা একটা পবিত্র জিনিস , যেটা মন থেকে জন্ম নেয় । আমরা সেই পবিত্র ভালবাসাটাকে কেন আজ নষ্টামিতে রুপ দিয়েছি । আমাদের ভুলের কারনে নিষ্পাপ শিশুটা পৃথিবীর মুখ দেখতে পারে না । সে তো কোন অন্যায় করেনি তাহলে তাকে কেন আমরা পৃথিবীর মুখটা দেখার আগে এই নষ্ট করে ফেলি । সবার কাছে অনুরোধ ভালবাসার নামে এই নষ্টামির খেলাটা বন্ধ করুন । আপনার আমার ভুলের কারনে একটা জিবন নষ্ট হয়ে যায় । আর পরে আমরা সেই মেয়েটাকে ফেলে অন্য মেয়ের পিছে ছুটি । তাহলে ঐ মেয়েটার কি অবস্থা হয় ভেবে দেখুন । আপনার বাসায় ও বোন আছে শুধু এটুক এই বলবে । আমাদের সমাজ থেকে এই নষ্টামির খেলাটা দয়া করে বন্ধ করুন । দেহ ভোগ করে মেয়েটাকে ছেড়ে যাওয়ার নাম ভালবাসা না বরং তার সাথে সারাজিবন এক সাথে থাকার নাম ভালবাসা ।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[আমাদের ভালবাসার নষ্টামির কারনে কেন পৃথিবীর আলো দেখার আগে নিস্পাপ শিশু নার্সিং হোমের বারান্দায় শেষ হয়ে যায় ।এ কেমন ভালবাস । আসলে আজ আমরা কোথায় এসে দাড়িয়েছে । সত্যি এগুলো ভাবতেই লজ্যা লাগে । আমাদের ভালবাসার নামে কেন একটা অবুঝ শিশু পৃথিবীর মুখটা দেখতে পারে না । ভালবাসার অপর নাম কি দেহভোগ । কেন আমরা এমন করছি । ভালবাসাটা একটা পবিত্র জিনিস , যেটা মন থেকে জন্ম নেয় । আমরা সেই পবিত্র ভালবাসাটাকে কেন আজ নষ্টামিতে রুপ দিয়েছি । আমাদের ভুলের কারনে নিষ্পাপ শিশুটা পৃথিবীর মুখ দেখতে পারে না । সে তো কোন অন্যায় করেনি তাহলে তাকে কেন আমরা পৃথিবীর মুখটা দেখার আগে এই নষ্ট করে ফেলি । সবার কাছে অনুরোধ ভালবাসার নামে এই নষ্টামির খেলাটা বন্ধ করুন । আপনার আমার ভুলের কারনে একটা জিবন নষ্ট হয়ে যায় । আর পরে আমরা সেই মেয়েটাকে ফেলে অন্য মেয়ের পিছে ছুটি । তাহলে ঐ মেয়েটার কি অবস্থা হয় ভেবে দেখুন । আপনার বাসায় ও বোন আছে শুধু এটুক এই বলবে । আমাদের সমাজ থেকে এই নষ্টামির খেলাটা দয়া করে বন্ধ করুন । দেহ ভোগ করে মেয়েটাকে ছেড়ে যাওয়ার নাম ভালবাসা না বরং তার সাথে সারাজিবন এক সাথে থাকার নাম ভালবাসা ।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[গল্পঃ আজ বসন্ত]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2138</link>
			<pubDate>Tue, 21 Feb 2017 17:15:06 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2138</guid>
			<description><![CDATA[গল্পঃ আজ বসন্ত<br />
.<br />
লিখাঃ Al Farabee (ক্যাপ্টেন ফারাবী)<br />
.<br />
ইরি,কষ্টের রং কেমন?<br />
নীল?<br />
নীল তো আকাশেরও রং আবার সাগর জলেরও।<br />
আকাশ কি কষ্ট পায়?<br />
সাগর কে কি কষ্ট ছুঁয়ে দেয়?<br />
আমি তো নীল না।<br />
তবে আমাকে কেনো তুমি নীল মানুষে রুপান্তরিত করলে?<br />
ইরি, মনে কি পড়ে না রে.....?<br />
সেই ভরদুপুরে বৃষ্টি নামানো দিনের কথা?<br />
রৌদ্রজ্জ্বল দিনেও ভালোবেসে বৃষ্টি নামাতাম আমরা।<br />
কিংবা, সন্ধ্যার আলোছায়ায় আকাশ রাঙ্গানো স্মৃতি কি উঁকি দেয়না তোমার মনে?<br />
সব কি ভুলেই গেলে তুমি?<br />
আহ্ হা.....<br />
এই তুমিই তো ইরি,হ্যাঁ শুধু তুমিই একদিন কুয়াশাভেজা ঘাসের বুক মাড়িয়ে আমার হৃদয় নাড়িয়ে এঁকেছো কত জলছবি!<br />
নদীর মাঝে জেগে উঠা কোনো চরে তখন রোদ হাঁসতো।<br />
আমি তুমি বাতাসে ভিজে রোদের টুকরো কুড়াতাম।<br />
তুমি হুট হাট করেই হেঁসে উঠতে।<br />
আচ্ছা ইরি?<br />
তুমি কি দেখতে পাওনি সেদিনের কাঁশবন?<br />
তোমার হাঁসিতে মুগ্ধ হয়ে ভালোবেসে তারা যে জানিয়েছিলো তোমায় অভিবাদন!<br />
না,দেখো নি তুমি!<br />
তোমার কি আদৌ সে চোখ ছিলো? <br />
নীল আকাশে বাতাসের ঢেউ কিংবা দূর সাগরের ক্ষুধার্ত চিৎকার শুধুই আমার জন্য।<br />
তুমি ওসবের স্রষ্টা,<br />
গ্রহীতা নও।<br />
গ্রহীতা তো আমি!<br />
ভালোবেসে বানিয়েছি ঘর,<br />
হালকা বাতাসেই হলো নড়চড়।<br />
বুকে শূন্য এক বালুচর,<br />
কতদূর তুমি আজ কত পর? <br />
.<br />
এতক্ষন জীবন নামক ডায়েরীর একটা পাতার স্মৃতিচারণ করেছিলাম।<br />
যার কেন্দ্রে ইরি আর ব্যাস আমি।<br />
সেদিন যখন তাকে দেখেছিলাম,<br />
আজও ভুলতে পারিনা সে স্মৃতি।<br />
বিকেলের সোনা রোদে তাকে সোনার মেয়ে মনে হয়েছিলো।<br />
আসন্ন বিকেলে বিষন্ন আমাকে সে নীলারণ্যে পৌঁছে দিয়েছে।<br />
দাড়িয়ে ছিলো ইরি সেদিন আমাদের ছাদে।<br />
কথা হয়নি, দেখেই নিচে চলে এলাম।<br />
বুকটা ধুক ধুক করতে ছিলো।<br />
কে এই মেয়ে?<br />
আমার বাসার কারো রিলেটিভ নাকি ভাড়াটিয়া?<br />
এতো রূপও কারো হয়?<br />
ও রূপ, রূপ গো?<br />
তুই এতো মোহনীয় কেনো রে?<br />
সারাটা সন্ধ্যা সারাটা রাত ঘুমাতে পারিনি।<br />
পরদিন বিকেলে আবার ছাদে গেলাম।<br />
আজও দেখেছি তাকে,<br />
গোধূলি আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।<br />
এগিয়ে গিয়েছিলাম আমি তার পানে,<br />
হালকা মিষ্টি চুলের গন্ধে আমি বিমোহিত।<br />
পেছনে দাড়িয়েই গলা খাঁকাড়ি দিলাম।<br />
.<br />
---- এহেম, এহেম...... (আমি)<br />
---- জ্বী,কে? (ইরি)<br />
---- আমি ফারাবী,আল-ফারাবী।<br />
---- ওহ্,এই বাড়ির বড় ছেলে।<br />
---- চেনেন আমাকে?<br />
---- না চিনিনা, তবে জানি।<br />
---- কি জানেন?<br />
---- আপনি আমেরিকান এয়ারে জব করেন,<br />
চীফ পাইলট।<br />
বেশীরভাগ সময়ই বাইরেই থাকেন।<br />
এখন তিন মাসের ছুঁটি পেয়েছেন, তাই দেশে এসেছেন।<br />
এ্যাম আই রাইট? <br />
---- হুম রাইট,তবে এতো কিছু কি করে জানলেন?<br />
---- আমার আম্মুর কাছে শুনেছি।<br />
---- ওহ্,আপনারা কি আমাদের বাড়িতে উঠেছেন?<br />
---- হুম,<br />
---- আপনার নাম?<br />
---- ইরিত্রা ইরি।<br />
---- সুন্দর নাম।<br />
---- ধন্যবাদ,পরে কথা হবে।<br />
---- ওকে,বাই।<br />
---- বাই।<br />
.<br />
ইরি চলে গেলো ছাদ থেকে।<br />
আমি তার চলে যাওয়া দেখছিলাম।<br />
ঘোর লাগানো চলাফেরা তার।<br />
আমি বিভোর,পুরোদমে বিভোর!<br />
এরকম করে প্রতিদিন বিকেলেই ছাদে দেখা হতো।<br />
আসলে তাকে দেখার জন্যই আমি রোজ বিকেলে ছাদে আসতাম।<br />
একসময় নিজের ভেতর কিছু একটা ফিল করতে থাকলাম।<br />
সেটা যে ভালোবাসা ছিলো,তা বুঝতে পেরেছিলাম আরো কিছুদিন পর।<br />
যখন সে সিক ছিলো,আর আমি ছাদে একাই থাকতাম।<br />
সেদিন আর পারিনি,চলে গিয়েছি তিন তলার ডান ফ্ল্যাটে।<br />
ডোর বেল বাজালাম,ইরির মা দরজা খুললো।<br />
আমাকে সাদর অভ্যর্থনাও জানালো।<br />
আমি বসলাম,ইরি একসময় এসে বসলো আমার সামনে।<br />
আমি ইরির চোখের নীচে দেখেছিলাম কালো দাগ।<br />
অনে শুকিয়ে গিয়েছিলো আমার ইরি।<br />
আমার বুকটা মোচড় দিয়েছিলো সেদিন।<br />
আমি বসা থেকে উঠলাম, ইরির পাশে বসলাম।<br />
ইরির মা রুম থেকে চলে গেলো।<br />
আমি ইরির হাত ধরলাম।<br />
কখনো কোনো নারীর হাত ধরিনি।<br />
ক্রমাগত ঘামতে লাগলাম।<br />
আমার এই অস্বস্তিজনক অবস্থা দেখে ইরি হাসতে লাগলো।<br />
তবে হাত ছাড়িয়ে নিলো না।<br />
আমি ইরির হাতটা আরো জোরে চেপে ধরলাম।<br />
ইরির দিকে তাকালাম,তারপর বললাম-<br />
.<br />
---- কি হয়েছে তোমার ইরি? (আমি)<br />
---- কই? কিছু না তো! (ইরি)<br />
---- ছাদে যাও না কেনো?<br />
---- একটু সিক।<br />
---- মেডিসিন নাও তো?<br />
---- হুম,<br />
---- ঠিক মতো মেডিসান নেবে।<br />
---- কেনো?<br />
---- ছাদে যেতে হবে তো,<br />
তুমি ছাড়া তো আর কথা বলার কেউ নেই।<br />
---- তাই?<br />
---- হুম,<br />
---- ফারাবী,,,,,,<br />
---- বলো।<br />
---- ভালোবাসো কি আমায়? <br />
---- খুব করে বাসি।<br />
---- বাস্তব নাকি আবেগের বশে?<br />
---- তুমি জানো না,একটা দিন তোমাকে কতটা মিস করেছি।<br />
---- আচ্ছা!<br />
---- হুম,প্রবল মিস করেছি।<br />
আর এ মিস করার নাম যদি ভালোবাসা হয়,তবে আমি তোমাকে ভালোবাসি খুব।<br />
---- হুম,<br />
---- হুম কি?<br />
---- ভালোবাসি।<br />
---- রিয়েলি?<br />
---- হুম।<br />
.<br />
সেদিন ছিলো আমার পূর্নতার দিন।<br />
ইরি আস্তে আস্তে সুস্থ হলো।<br />
একসময় পুরোপুরি সুস্হ হলো।<br />
আমি আর ইরি শপিং করতাম,<br />
রেস্টুরেন্টে, পার্কে ঘুরতে যেতাম।<br />
রঙ্গিন ভালোবাসায় রাঙ্গাতাম একে অপরকে।<br />
কি সোনালী রঙ্গিন দিন ছিলো সেসব!<br />
একসময় আমার ছুটি শেষ হলো।<br />
আমাকে ফিরে যেতে হবে সেই আমেরিকা।<br />
হৃদয় তো মানে না বিচ্ছেদের কষ্ট।<br />
কি কষ্ট গো!<br />
তবুও বিদায় নিলাম একে অপরের থেকে।<br />
চোখের জল যে ঝর্ণাধারায় পরিনত হয়, সেটা সেদিনের ইরির চোখ না দেখলে জানতামই না আমি।<br />
যতক্ষন না বিমানে উঠলাম, ততক্ষণ তাকিয়েই ছিলাম ইরির দিকে।<br />
.<br />
আমেরিকা এসে ফ্লাইট নিয়ে বিজি আমি।<br />
তবে ফ্লাইট শেষেই ইরিকে কল করে কথা বলি।<br />
সময় গড়াতে থাকে আপন গতিতে,<br />
পেরিয়ে যায় চার মাস।<br />
ইরি একসময় কেমন যেনো হয়ে গেলো।<br />
ইরির বদলে যাওয়া টের পেলাম আমি।<br />
ইরি এখন আমার আমার ফোন কল তেমন রেসপন্স করেনা।<br />
একসময় তাকে বিজি পাই ফোনে,অথবা ওয়েটিং!<br />
আমি বুঝতে পারি ইরির পরিবর্তন।<br />
তবুও কল করতাম, তবে কথা হতো না।<br />
একসময় দিনে একবার,সপ্তাহে একবার, কিবা মাসে একবার যোগাযোগ হতো।<br />
তারপর আর যোগাযোগ হয়নি।<br />
ইরি সিম বদলে ফেললো।<br />
এমনকি বাসাও পরিবর্তন করলো।<br />
কারন দেখালো,আমি নাকি অনেকটা অগোছালো।<br />
অথচ আমি আগের মতোই আছি।<br />
আমি বুঝতে পারি,ইরি আর আমার নেই।<br />
.<br />
হারিয়ে গেছে মহুয়ার ঘ্রান উগ্র হুদয় পোড়া গন্ধে।<br />
সোজন বাদিয়ার ঘাট হারিয়ে গেছে কালের অতলে,<br />
হারিয়ে গেছে ছাতিম - হাড়ভাঙ্গা - কেলিকদম্ব - কুম্ভী - কুর্চি,<br />
হারিয়ে গিয়েছে মায়া - মমতা - মানবিকতা - মননশীলতা - মূল্যবোধ।<br />
হারিয়ে গেছে প্রেম, ভালোবাসা।<br />
হারিয়ে গেছে ইরি,<br />
হেরে গেছি আমি ভালোবাসার কাছে।<br />
ইরি বদলে ফেলেছে মানুষ, আর আমি বদলে ফেলেছি শুষ্ক চোখ জোড়া।<br />
.<br />
কষ্টেরা খেলা করে মনের বারান্দায়, যন্ত্রনা উঠে আসে নিঃশ্বাসে।<br />
স্বপ্নেরা ক্রমাগত বিগত হয়।<br />
অন্ধকারের কৃষ্ণ শূন্যতায় মাঝে মাঝে অব্যক্ত যন্ত্রনায় হাত ছুঁড়ে দেই আমি।<br />
কষ্ট তো কমে না রে,<br />
যন্ত্রনার বিষ সারা শরীরে সংক্রমিত হয়।<br />
মহাকালের স্রোতে জলজপানার মতো ভেসে চলে সময়।<br />
যকন ইরি ছিলো,তখনকার রাত থাকতো পূর্নতার।<br />
আর এখন ইরি নেই,তাই রাতগুলো সব শূন্যতার।<br />
রাত গভীর থেকে গভীরতর হয়।<br />
যন্ত্রনারা চলে আসে বুক বরাবর।<br />
তখন হাতড়ে বেড়াই ঘুমের ট্যাবলেট।<br />
ট্যাবলেটের পাতা শেষ করে পড়ে থাকি বিছানায়।<br />
একটু ঘুম,একটু শান্তি।<br />
আহ্,প্রশান্তি।<br />
.<br />
আবার ছুটি পেলাম।<br />
দেশে আসলাম।<br />
ছাদে গেলেই প্রচন্ড রকম মিস করি ইরিকে।<br />
আমার ইরি নির্ভর হৃদয় এখন বিষাদ বর্বর হয়ে অনুর্বর এক বিদগ্ধ যাযাবরে রূপান্তরিত করেছে আমায়।<br />
গতকালও ছাদে গিয়ে দাড়ালাম।<br />
বিকেলে হলেই আমি ছাদে চলে যাই।<br />
ইরি মাঝে মাঝে যে চেয়ারে বসতো সেটা এখনো আছে ছাদে।<br />
আরেকটা চেয়ার নিয়ে ওই চেয়ারের সামনে বসে আমি ইরিকে কল্পনা করি।<br />
ইরি কল্পনায় আমার সাথে গল্প করে,তার সুখে থাকার গল্প,আমাকে ছেড়ে যাবার গল্প,<br />
হরেক রকম গল্প!<br />
কখনো কখনো মনে হয়, সত্যি সত্যিই ইরি এসে আমার সাথে গল্প করছে।<br />
ঘোর কাটতেই মনে হয়,নাহ্.....<br />
এটাও একটা কল্পনা।<br />
সন্ধ্যা হয়ে গেছে।<br />
ছাদ থেকে নামার জন্য পা বাড়াতেই কে যেনো বলে উঠলো,<br />
"এই ফারাবী,কেমন আছো রে?"<br />
চমকে উঠে আমি পেছন ফিরে তাকাই।<br />
দেখি ইরি দাড়িয়ে আছে।<br />
ইরির দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকাতেই ইরি বলে,<br />
"কি গো? অমন করে তাকিয়ে কি দেখছো? কেমন আছো সেটা বললে না?"<br />
"আমি কেমন আছি ইরি?" ইরিকেই পাল্টা প্রশ্নটা করি আমি।<br />
কিন্ত ইরি সে প্রশ্নের উত্তর দেয় না।<br />
প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারা ছাত্রীর মতই মাথা নীচু করে হেঁটে যায় ইরি।<br />
আমি স্পষ্ট দেখতে পাই,<br />
ইরি হেঁটে যাচ্ছে।<br />
ছাদ পেরিয়ে বাতাসে হাঁটছে,<br />
ভেসে ভেসে হাঁটছে ইরি।<br />
আমাকে আশ্রয়হীন, অবলম্বনহীন করে একসময় হাঁটতে হাঁটতে মিলে যায় ইরি আকাশে।<br />
আমার সমস্ত পৃথিবীটা দুলে উঠে।<br />
মনে হয়,কেউ ছিলো না আমার।<br />
কোনো দিন না,কখনো না।<br />
বুকের মাঝখানে নিঃশব্দে আর্তনাদে সবকিছু কেমন যেনো মনে হয় -<br />
স্থির!<br />
বিবর্ণ!!<br />
মৃত!!!<br />
অথচ ছাদে এসে আজ একটা কথা বলতে চেয়েছিলাম ইরিকে,<br />
"ইরি,আজ বসন্ত!"<br />
.<br />
গল্পঃ আজ বসন্ত<br />
.<br />
লিখাঃ Al Farabee (ক্যাপ্টেন ফারাবী)]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[গল্পঃ আজ বসন্ত<br />
.<br />
লিখাঃ Al Farabee (ক্যাপ্টেন ফারাবী)<br />
.<br />
ইরি,কষ্টের রং কেমন?<br />
নীল?<br />
নীল তো আকাশেরও রং আবার সাগর জলেরও।<br />
আকাশ কি কষ্ট পায়?<br />
সাগর কে কি কষ্ট ছুঁয়ে দেয়?<br />
আমি তো নীল না।<br />
তবে আমাকে কেনো তুমি নীল মানুষে রুপান্তরিত করলে?<br />
ইরি, মনে কি পড়ে না রে.....?<br />
সেই ভরদুপুরে বৃষ্টি নামানো দিনের কথা?<br />
রৌদ্রজ্জ্বল দিনেও ভালোবেসে বৃষ্টি নামাতাম আমরা।<br />
কিংবা, সন্ধ্যার আলোছায়ায় আকাশ রাঙ্গানো স্মৃতি কি উঁকি দেয়না তোমার মনে?<br />
সব কি ভুলেই গেলে তুমি?<br />
আহ্ হা.....<br />
এই তুমিই তো ইরি,হ্যাঁ শুধু তুমিই একদিন কুয়াশাভেজা ঘাসের বুক মাড়িয়ে আমার হৃদয় নাড়িয়ে এঁকেছো কত জলছবি!<br />
নদীর মাঝে জেগে উঠা কোনো চরে তখন রোদ হাঁসতো।<br />
আমি তুমি বাতাসে ভিজে রোদের টুকরো কুড়াতাম।<br />
তুমি হুট হাট করেই হেঁসে উঠতে।<br />
আচ্ছা ইরি?<br />
তুমি কি দেখতে পাওনি সেদিনের কাঁশবন?<br />
তোমার হাঁসিতে মুগ্ধ হয়ে ভালোবেসে তারা যে জানিয়েছিলো তোমায় অভিবাদন!<br />
না,দেখো নি তুমি!<br />
তোমার কি আদৌ সে চোখ ছিলো? <br />
নীল আকাশে বাতাসের ঢেউ কিংবা দূর সাগরের ক্ষুধার্ত চিৎকার শুধুই আমার জন্য।<br />
তুমি ওসবের স্রষ্টা,<br />
গ্রহীতা নও।<br />
গ্রহীতা তো আমি!<br />
ভালোবেসে বানিয়েছি ঘর,<br />
হালকা বাতাসেই হলো নড়চড়।<br />
বুকে শূন্য এক বালুচর,<br />
কতদূর তুমি আজ কত পর? <br />
.<br />
এতক্ষন জীবন নামক ডায়েরীর একটা পাতার স্মৃতিচারণ করেছিলাম।<br />
যার কেন্দ্রে ইরি আর ব্যাস আমি।<br />
সেদিন যখন তাকে দেখেছিলাম,<br />
আজও ভুলতে পারিনা সে স্মৃতি।<br />
বিকেলের সোনা রোদে তাকে সোনার মেয়ে মনে হয়েছিলো।<br />
আসন্ন বিকেলে বিষন্ন আমাকে সে নীলারণ্যে পৌঁছে দিয়েছে।<br />
দাড়িয়ে ছিলো ইরি সেদিন আমাদের ছাদে।<br />
কথা হয়নি, দেখেই নিচে চলে এলাম।<br />
বুকটা ধুক ধুক করতে ছিলো।<br />
কে এই মেয়ে?<br />
আমার বাসার কারো রিলেটিভ নাকি ভাড়াটিয়া?<br />
এতো রূপও কারো হয়?<br />
ও রূপ, রূপ গো?<br />
তুই এতো মোহনীয় কেনো রে?<br />
সারাটা সন্ধ্যা সারাটা রাত ঘুমাতে পারিনি।<br />
পরদিন বিকেলে আবার ছাদে গেলাম।<br />
আজও দেখেছি তাকে,<br />
গোধূলি আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।<br />
এগিয়ে গিয়েছিলাম আমি তার পানে,<br />
হালকা মিষ্টি চুলের গন্ধে আমি বিমোহিত।<br />
পেছনে দাড়িয়েই গলা খাঁকাড়ি দিলাম।<br />
.<br />
---- এহেম, এহেম...... (আমি)<br />
---- জ্বী,কে? (ইরি)<br />
---- আমি ফারাবী,আল-ফারাবী।<br />
---- ওহ্,এই বাড়ির বড় ছেলে।<br />
---- চেনেন আমাকে?<br />
---- না চিনিনা, তবে জানি।<br />
---- কি জানেন?<br />
---- আপনি আমেরিকান এয়ারে জব করেন,<br />
চীফ পাইলট।<br />
বেশীরভাগ সময়ই বাইরেই থাকেন।<br />
এখন তিন মাসের ছুঁটি পেয়েছেন, তাই দেশে এসেছেন।<br />
এ্যাম আই রাইট? <br />
---- হুম রাইট,তবে এতো কিছু কি করে জানলেন?<br />
---- আমার আম্মুর কাছে শুনেছি।<br />
---- ওহ্,আপনারা কি আমাদের বাড়িতে উঠেছেন?<br />
---- হুম,<br />
---- আপনার নাম?<br />
---- ইরিত্রা ইরি।<br />
---- সুন্দর নাম।<br />
---- ধন্যবাদ,পরে কথা হবে।<br />
---- ওকে,বাই।<br />
---- বাই।<br />
.<br />
ইরি চলে গেলো ছাদ থেকে।<br />
আমি তার চলে যাওয়া দেখছিলাম।<br />
ঘোর লাগানো চলাফেরা তার।<br />
আমি বিভোর,পুরোদমে বিভোর!<br />
এরকম করে প্রতিদিন বিকেলেই ছাদে দেখা হতো।<br />
আসলে তাকে দেখার জন্যই আমি রোজ বিকেলে ছাদে আসতাম।<br />
একসময় নিজের ভেতর কিছু একটা ফিল করতে থাকলাম।<br />
সেটা যে ভালোবাসা ছিলো,তা বুঝতে পেরেছিলাম আরো কিছুদিন পর।<br />
যখন সে সিক ছিলো,আর আমি ছাদে একাই থাকতাম।<br />
সেদিন আর পারিনি,চলে গিয়েছি তিন তলার ডান ফ্ল্যাটে।<br />
ডোর বেল বাজালাম,ইরির মা দরজা খুললো।<br />
আমাকে সাদর অভ্যর্থনাও জানালো।<br />
আমি বসলাম,ইরি একসময় এসে বসলো আমার সামনে।<br />
আমি ইরির চোখের নীচে দেখেছিলাম কালো দাগ।<br />
অনে শুকিয়ে গিয়েছিলো আমার ইরি।<br />
আমার বুকটা মোচড় দিয়েছিলো সেদিন।<br />
আমি বসা থেকে উঠলাম, ইরির পাশে বসলাম।<br />
ইরির মা রুম থেকে চলে গেলো।<br />
আমি ইরির হাত ধরলাম।<br />
কখনো কোনো নারীর হাত ধরিনি।<br />
ক্রমাগত ঘামতে লাগলাম।<br />
আমার এই অস্বস্তিজনক অবস্থা দেখে ইরি হাসতে লাগলো।<br />
তবে হাত ছাড়িয়ে নিলো না।<br />
আমি ইরির হাতটা আরো জোরে চেপে ধরলাম।<br />
ইরির দিকে তাকালাম,তারপর বললাম-<br />
.<br />
---- কি হয়েছে তোমার ইরি? (আমি)<br />
---- কই? কিছু না তো! (ইরি)<br />
---- ছাদে যাও না কেনো?<br />
---- একটু সিক।<br />
---- মেডিসিন নাও তো?<br />
---- হুম,<br />
---- ঠিক মতো মেডিসান নেবে।<br />
---- কেনো?<br />
---- ছাদে যেতে হবে তো,<br />
তুমি ছাড়া তো আর কথা বলার কেউ নেই।<br />
---- তাই?<br />
---- হুম,<br />
---- ফারাবী,,,,,,<br />
---- বলো।<br />
---- ভালোবাসো কি আমায়? <br />
---- খুব করে বাসি।<br />
---- বাস্তব নাকি আবেগের বশে?<br />
---- তুমি জানো না,একটা দিন তোমাকে কতটা মিস করেছি।<br />
---- আচ্ছা!<br />
---- হুম,প্রবল মিস করেছি।<br />
আর এ মিস করার নাম যদি ভালোবাসা হয়,তবে আমি তোমাকে ভালোবাসি খুব।<br />
---- হুম,<br />
---- হুম কি?<br />
---- ভালোবাসি।<br />
---- রিয়েলি?<br />
---- হুম।<br />
.<br />
সেদিন ছিলো আমার পূর্নতার দিন।<br />
ইরি আস্তে আস্তে সুস্থ হলো।<br />
একসময় পুরোপুরি সুস্হ হলো।<br />
আমি আর ইরি শপিং করতাম,<br />
রেস্টুরেন্টে, পার্কে ঘুরতে যেতাম।<br />
রঙ্গিন ভালোবাসায় রাঙ্গাতাম একে অপরকে।<br />
কি সোনালী রঙ্গিন দিন ছিলো সেসব!<br />
একসময় আমার ছুটি শেষ হলো।<br />
আমাকে ফিরে যেতে হবে সেই আমেরিকা।<br />
হৃদয় তো মানে না বিচ্ছেদের কষ্ট।<br />
কি কষ্ট গো!<br />
তবুও বিদায় নিলাম একে অপরের থেকে।<br />
চোখের জল যে ঝর্ণাধারায় পরিনত হয়, সেটা সেদিনের ইরির চোখ না দেখলে জানতামই না আমি।<br />
যতক্ষন না বিমানে উঠলাম, ততক্ষণ তাকিয়েই ছিলাম ইরির দিকে।<br />
.<br />
আমেরিকা এসে ফ্লাইট নিয়ে বিজি আমি।<br />
তবে ফ্লাইট শেষেই ইরিকে কল করে কথা বলি।<br />
সময় গড়াতে থাকে আপন গতিতে,<br />
পেরিয়ে যায় চার মাস।<br />
ইরি একসময় কেমন যেনো হয়ে গেলো।<br />
ইরির বদলে যাওয়া টের পেলাম আমি।<br />
ইরি এখন আমার আমার ফোন কল তেমন রেসপন্স করেনা।<br />
একসময় তাকে বিজি পাই ফোনে,অথবা ওয়েটিং!<br />
আমি বুঝতে পারি ইরির পরিবর্তন।<br />
তবুও কল করতাম, তবে কথা হতো না।<br />
একসময় দিনে একবার,সপ্তাহে একবার, কিবা মাসে একবার যোগাযোগ হতো।<br />
তারপর আর যোগাযোগ হয়নি।<br />
ইরি সিম বদলে ফেললো।<br />
এমনকি বাসাও পরিবর্তন করলো।<br />
কারন দেখালো,আমি নাকি অনেকটা অগোছালো।<br />
অথচ আমি আগের মতোই আছি।<br />
আমি বুঝতে পারি,ইরি আর আমার নেই।<br />
.<br />
হারিয়ে গেছে মহুয়ার ঘ্রান উগ্র হুদয় পোড়া গন্ধে।<br />
সোজন বাদিয়ার ঘাট হারিয়ে গেছে কালের অতলে,<br />
হারিয়ে গেছে ছাতিম - হাড়ভাঙ্গা - কেলিকদম্ব - কুম্ভী - কুর্চি,<br />
হারিয়ে গিয়েছে মায়া - মমতা - মানবিকতা - মননশীলতা - মূল্যবোধ।<br />
হারিয়ে গেছে প্রেম, ভালোবাসা।<br />
হারিয়ে গেছে ইরি,<br />
হেরে গেছি আমি ভালোবাসার কাছে।<br />
ইরি বদলে ফেলেছে মানুষ, আর আমি বদলে ফেলেছি শুষ্ক চোখ জোড়া।<br />
.<br />
কষ্টেরা খেলা করে মনের বারান্দায়, যন্ত্রনা উঠে আসে নিঃশ্বাসে।<br />
স্বপ্নেরা ক্রমাগত বিগত হয়।<br />
অন্ধকারের কৃষ্ণ শূন্যতায় মাঝে মাঝে অব্যক্ত যন্ত্রনায় হাত ছুঁড়ে দেই আমি।<br />
কষ্ট তো কমে না রে,<br />
যন্ত্রনার বিষ সারা শরীরে সংক্রমিত হয়।<br />
মহাকালের স্রোতে জলজপানার মতো ভেসে চলে সময়।<br />
যকন ইরি ছিলো,তখনকার রাত থাকতো পূর্নতার।<br />
আর এখন ইরি নেই,তাই রাতগুলো সব শূন্যতার।<br />
রাত গভীর থেকে গভীরতর হয়।<br />
যন্ত্রনারা চলে আসে বুক বরাবর।<br />
তখন হাতড়ে বেড়াই ঘুমের ট্যাবলেট।<br />
ট্যাবলেটের পাতা শেষ করে পড়ে থাকি বিছানায়।<br />
একটু ঘুম,একটু শান্তি।<br />
আহ্,প্রশান্তি।<br />
.<br />
আবার ছুটি পেলাম।<br />
দেশে আসলাম।<br />
ছাদে গেলেই প্রচন্ড রকম মিস করি ইরিকে।<br />
আমার ইরি নির্ভর হৃদয় এখন বিষাদ বর্বর হয়ে অনুর্বর এক বিদগ্ধ যাযাবরে রূপান্তরিত করেছে আমায়।<br />
গতকালও ছাদে গিয়ে দাড়ালাম।<br />
বিকেলে হলেই আমি ছাদে চলে যাই।<br />
ইরি মাঝে মাঝে যে চেয়ারে বসতো সেটা এখনো আছে ছাদে।<br />
আরেকটা চেয়ার নিয়ে ওই চেয়ারের সামনে বসে আমি ইরিকে কল্পনা করি।<br />
ইরি কল্পনায় আমার সাথে গল্প করে,তার সুখে থাকার গল্প,আমাকে ছেড়ে যাবার গল্প,<br />
হরেক রকম গল্প!<br />
কখনো কখনো মনে হয়, সত্যি সত্যিই ইরি এসে আমার সাথে গল্প করছে।<br />
ঘোর কাটতেই মনে হয়,নাহ্.....<br />
এটাও একটা কল্পনা।<br />
সন্ধ্যা হয়ে গেছে।<br />
ছাদ থেকে নামার জন্য পা বাড়াতেই কে যেনো বলে উঠলো,<br />
"এই ফারাবী,কেমন আছো রে?"<br />
চমকে উঠে আমি পেছন ফিরে তাকাই।<br />
দেখি ইরি দাড়িয়ে আছে।<br />
ইরির দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকাতেই ইরি বলে,<br />
"কি গো? অমন করে তাকিয়ে কি দেখছো? কেমন আছো সেটা বললে না?"<br />
"আমি কেমন আছি ইরি?" ইরিকেই পাল্টা প্রশ্নটা করি আমি।<br />
কিন্ত ইরি সে প্রশ্নের উত্তর দেয় না।<br />
প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারা ছাত্রীর মতই মাথা নীচু করে হেঁটে যায় ইরি।<br />
আমি স্পষ্ট দেখতে পাই,<br />
ইরি হেঁটে যাচ্ছে।<br />
ছাদ পেরিয়ে বাতাসে হাঁটছে,<br />
ভেসে ভেসে হাঁটছে ইরি।<br />
আমাকে আশ্রয়হীন, অবলম্বনহীন করে একসময় হাঁটতে হাঁটতে মিলে যায় ইরি আকাশে।<br />
আমার সমস্ত পৃথিবীটা দুলে উঠে।<br />
মনে হয়,কেউ ছিলো না আমার।<br />
কোনো দিন না,কখনো না।<br />
বুকের মাঝখানে নিঃশব্দে আর্তনাদে সবকিছু কেমন যেনো মনে হয় -<br />
স্থির!<br />
বিবর্ণ!!<br />
মৃত!!!<br />
অথচ ছাদে এসে আজ একটা কথা বলতে চেয়েছিলাম ইরিকে,<br />
"ইরি,আজ বসন্ত!"<br />
.<br />
গল্পঃ আজ বসন্ত<br />
.<br />
লিখাঃ Al Farabee (ক্যাপ্টেন ফারাবী)]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[অসাধারণ শিক্ষনীয় গল্প : -------------------------------- জানা-শোনা= অশান্তি!]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2073</link>
			<pubDate>Tue, 21 Feb 2017 02:45:10 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=232">Maghanath Das</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2073</guid>
			<description><![CDATA[অসাধারণ শিক্ষনীয় গল্প :<br />
--------------------------------<br />
জানা-শোনা= অশান্তি!<br />
--------------------------------<br />
(এক)<br />
উচ্চ বেতনে চাকুরি করা এক যুবক আরেক গরীব যুবককে প্রশ্ন<br />
করলো,<br />
- তুমি কোথায় চাকুরি করো?<br />
- একটা ম্যাচ ফ্যাক্টরিতে।<br />
- স্যালারি কতো?<br />
- ৫০০০।<br />
- মোটে পাঁচ হাজার? চলো কিভাবে? তোমার মালিক<br />
তোমার প্রতি অবিচার করছে। তোমার যা যোগ্যতা,<br />
হেসেখেলেই তুমি অনেক টাকা বেতন পেতে পারো।<br />
.<br />
যুবকের মেজাজ খাট্টা হয়ে গেলো। নিজের কাজের প্রতি, বসের<br />
প্রতি বেজায় রুষ্ট হয়ে উঠলো। পরদিন গিয়ে সরাসরি বসকে<br />
জুলুমের কথা জানালো। কথা কাটাকাটি হওয়াতে বস তাকে<br />
চাকরিচ্যুত করলো।<br />
এখন যুবকটি বেকার।<br />
.<br />
(দুই)<br />
- তোমার প্রথম সন্তান হলো বুঝি?<br />
- জ্বি।<br />
- তোমার স্বামী এ উপলক্ষ্যে তোমাকে কিছু দেয় নি?<br />
উপহার বা এ জাতীয় কিছু?<br />
- না। কেন দিবে? এ তো আমাদেরই সন্তান! টাকা দিতে হবে<br />
কেন?<br />
- কেন তোমাকে হাত খরচার জন্যেও তো দু’চার পয়সা দিতে<br />
পারে। তার কাছে তোমার কোনও মূল্য নেই? তুমি চাকরানি?<br />
.<br />
স্ত্রীর মনে ধরলো কথাটা। সারাদিন কথাটা ভাবতে ভাবতে<br />
মনটা বিষিয়ে উঠলো। সত্যিই তো! আমাকে একটা টাকাও<br />
কখনো ছোঁয়ায় না! রাতে কর্মক্লান্ত স্বামী ঘরে ফিরলো।<br />
স্ত্রীর মুখ দিয়ে বোমা বিস্ফোরিত হলো। লেগে গেলো<br />
দু’জনে। কথা কাটাকাটি। ঝগড়া। হাতাহাতি। শেষ পর্যন্ত<br />
তালাকে গিয়ে গড়াল।<br />
.<br />
(তিন)<br />
- এই বৃদ্ধ বয়েসে কষ্ট করছেন? ছেলে ঢাকায় থাকে, বড় চাকুরি<br />
করে শুনেছি। বউ-বাচ্চা নিয়ে থাকে। আপনাদের দু’জনকে নিয়ে<br />
যেতে পারে না? আপনাদের দেখতেও তো আসে না!<br />
- না না, ছেলে আমার খুবই ব্যস্ত। টাকা পাঠায় তো। ফোনে<br />
খোঁজ-খবর নেয়। নিয়মিত।<br />
- কী এমন ব্যস্ততা তার শুনি? নিজের জন্মদাতা-দাত্রীকে<br />
দেখতে আসার সময় হয় না?<br />
- সারাদিন অফিস-বাসা করতে করতেই সময় চলে যায়!<br />
- আপনি খোঁজ নিয়েছেন? সে ঢাকায় বাড়ি-গাড়ি হাঁকিয়ে<br />
বেড়াচ্ছে। আর আর আপনারা অজপাড়াগাঁয়ে ধুঁকছেন?<br />
.<br />
বৃদ্ধ বাবা বাসায় এসে স্ত্রীকে খুলে বললো। স্ত্রীও বাধা<br />
দিল,<br />
- আপনি ভুল শুনেছেন। সে আসলেই ব্যস্ত।<br />
- নাহ, খন্দকার সাহেব কি মিথ্যা বলতে পারেন? ...আহা রে!<br />
কাকে বুকের রক্ত পানি করে বড় করলাম?<br />
.<br />
.<br />
কিছু "নিরীহ" প্রশ্ন আমাদের সুখী জীবনকে এক লহমায় দুঃখী<br />
করে দিতে সক্ষম। ছদ্মবেশী দরদীরা নিস্তরঙ্গ শান্ত জীবনে<br />
অশান্তির দাবানল জ্বালিয়ে দেয়...<br />
.<br />
- কেন? সেটা এখনো কিনেন নি?<br />
- আপনাদের এখনো বাচ্চাকাচ্চা হয় নি?<br />
- এই জীবন কিভাবে বহন করে চলেছেন?<br />
- ছেলেকে বিশ্বাস করে বসে আছেন?<br />
- ছেলে তো বউয়ের কেনা গোলামে পরিণত হয়েছে!<br />
.<br />
.<br />
গল্পের নির্যাসঃ<br />
= ফাসাদ সৃস্টিকারী হয়ো না।<br />
= হিংসুকদের ছলনায় পড়ো না।<br />
.<br />
গল্পের হিতোপদেশঃ<br />
= মানুষের ঘরে অন্ধ হয়ে প্রবেশ করো। বোবা হয়ে বের হয়ে<br />
আসো!<br />
.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[অসাধারণ শিক্ষনীয় গল্প :<br />
--------------------------------<br />
জানা-শোনা= অশান্তি!<br />
--------------------------------<br />
(এক)<br />
উচ্চ বেতনে চাকুরি করা এক যুবক আরেক গরীব যুবককে প্রশ্ন<br />
করলো,<br />
- তুমি কোথায় চাকুরি করো?<br />
- একটা ম্যাচ ফ্যাক্টরিতে।<br />
- স্যালারি কতো?<br />
- ৫০০০।<br />
- মোটে পাঁচ হাজার? চলো কিভাবে? তোমার মালিক<br />
তোমার প্রতি অবিচার করছে। তোমার যা যোগ্যতা,<br />
হেসেখেলেই তুমি অনেক টাকা বেতন পেতে পারো।<br />
.<br />
যুবকের মেজাজ খাট্টা হয়ে গেলো। নিজের কাজের প্রতি, বসের<br />
প্রতি বেজায় রুষ্ট হয়ে উঠলো। পরদিন গিয়ে সরাসরি বসকে<br />
জুলুমের কথা জানালো। কথা কাটাকাটি হওয়াতে বস তাকে<br />
চাকরিচ্যুত করলো।<br />
এখন যুবকটি বেকার।<br />
.<br />
(দুই)<br />
- তোমার প্রথম সন্তান হলো বুঝি?<br />
- জ্বি।<br />
- তোমার স্বামী এ উপলক্ষ্যে তোমাকে কিছু দেয় নি?<br />
উপহার বা এ জাতীয় কিছু?<br />
- না। কেন দিবে? এ তো আমাদেরই সন্তান! টাকা দিতে হবে<br />
কেন?<br />
- কেন তোমাকে হাত খরচার জন্যেও তো দু’চার পয়সা দিতে<br />
পারে। তার কাছে তোমার কোনও মূল্য নেই? তুমি চাকরানি?<br />
.<br />
স্ত্রীর মনে ধরলো কথাটা। সারাদিন কথাটা ভাবতে ভাবতে<br />
মনটা বিষিয়ে উঠলো। সত্যিই তো! আমাকে একটা টাকাও<br />
কখনো ছোঁয়ায় না! রাতে কর্মক্লান্ত স্বামী ঘরে ফিরলো।<br />
স্ত্রীর মুখ দিয়ে বোমা বিস্ফোরিত হলো। লেগে গেলো<br />
দু’জনে। কথা কাটাকাটি। ঝগড়া। হাতাহাতি। শেষ পর্যন্ত<br />
তালাকে গিয়ে গড়াল।<br />
.<br />
(তিন)<br />
- এই বৃদ্ধ বয়েসে কষ্ট করছেন? ছেলে ঢাকায় থাকে, বড় চাকুরি<br />
করে শুনেছি। বউ-বাচ্চা নিয়ে থাকে। আপনাদের দু’জনকে নিয়ে<br />
যেতে পারে না? আপনাদের দেখতেও তো আসে না!<br />
- না না, ছেলে আমার খুবই ব্যস্ত। টাকা পাঠায় তো। ফোনে<br />
খোঁজ-খবর নেয়। নিয়মিত।<br />
- কী এমন ব্যস্ততা তার শুনি? নিজের জন্মদাতা-দাত্রীকে<br />
দেখতে আসার সময় হয় না?<br />
- সারাদিন অফিস-বাসা করতে করতেই সময় চলে যায়!<br />
- আপনি খোঁজ নিয়েছেন? সে ঢাকায় বাড়ি-গাড়ি হাঁকিয়ে<br />
বেড়াচ্ছে। আর আর আপনারা অজপাড়াগাঁয়ে ধুঁকছেন?<br />
.<br />
বৃদ্ধ বাবা বাসায় এসে স্ত্রীকে খুলে বললো। স্ত্রীও বাধা<br />
দিল,<br />
- আপনি ভুল শুনেছেন। সে আসলেই ব্যস্ত।<br />
- নাহ, খন্দকার সাহেব কি মিথ্যা বলতে পারেন? ...আহা রে!<br />
কাকে বুকের রক্ত পানি করে বড় করলাম?<br />
.<br />
.<br />
কিছু "নিরীহ" প্রশ্ন আমাদের সুখী জীবনকে এক লহমায় দুঃখী<br />
করে দিতে সক্ষম। ছদ্মবেশী দরদীরা নিস্তরঙ্গ শান্ত জীবনে<br />
অশান্তির দাবানল জ্বালিয়ে দেয়...<br />
.<br />
- কেন? সেটা এখনো কিনেন নি?<br />
- আপনাদের এখনো বাচ্চাকাচ্চা হয় নি?<br />
- এই জীবন কিভাবে বহন করে চলেছেন?<br />
- ছেলেকে বিশ্বাস করে বসে আছেন?<br />
- ছেলে তো বউয়ের কেনা গোলামে পরিণত হয়েছে!<br />
.<br />
.<br />
গল্পের নির্যাসঃ<br />
= ফাসাদ সৃস্টিকারী হয়ো না।<br />
= হিংসুকদের ছলনায় পড়ো না।<br />
.<br />
গল্পের হিতোপদেশঃ<br />
= মানুষের ঘরে অন্ধ হয়ে প্রবেশ করো। বোবা হয়ে বের হয়ে<br />
আসো!<br />
.]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[বন্ধুত্ব ও ভালবাসা]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2072</link>
			<pubDate>Tue, 21 Feb 2017 02:44:04 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=232">Maghanath Das</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2072</guid>
			<description><![CDATA[বন্ধুত্ব ও ভালবাসায় অনেক তফাৎ আছে, কিন্তু ঝট্ করিয়া সে<br />
তফাৎ ধরা যায় না। বন্ধুত্ব আটপৌরে, ভালবাসা পোশাকী।<br />
বন্ধুত্বের আটপৌরে কাপড়ের দুই-এক জায়গায় ছেঁড়া থাকিলেও<br />
চলে, ঈষৎ ময়লা হইলেও হানি নাই, হাঁটুর নীচে না পৌঁছিলেও<br />
পরিতে বারণ নাই। গায়ে দিয়া আরাম পাইলেই হইল। কিন্তু<br />
ভালবাসার পোশাক একটু ছেঁড়া থাকিবে না, ময়লা হইবে না,<br />
পরিপাটি হইবে। বন্ধুত্ব নাড়াচাড়া টানাছেঁড়া তোলাপাড়া সয়,<br />
কিন্তু ভালবাসা তাহা সয় না। আমাদের ভালবাসার পাত্রহীন<br />
প্রমোদে লিপ্ত হইলে আমাদের প্রাণে বাজে, কিন্তু বন্ধুর<br />
সম্বন্ধে তাহা খাটে না; এমন-কি, আমরা যখন বিলাসপ্রমোদে<br />
মত্ত হইয়াছি তখন আমরা চাই যে, আমাদের বন্ধুও তাহাতে<br />
যোগ দিক! প্রেমের পাত্র আমাদের সৌন্দর্য্যের আদর্শ<br />
হইয়া থাক্ এই আমাদের ইচ্ছা—আর, বন্ধু আমাদেরই মত<br />
দোষে গুণে জড়িত মর্ত্ত্যের মানুষ হইয়া থাক্ এই আমাদের<br />
আবশ্যক। আমাদের ডান হাতে বাম হাতে বন্ধুত্ব। আমরা<br />
বন্ধুর নিকট হইতে মমতা চাই, সমবেদনা চাই, সাহায্য চাই ও<br />
সেই জন্যই বন্ধুকে চাই। কিন্তু ভালবাসার স্থলে আমরা<br />
সর্ব্বপ্রথমে ভালবাসার পাত্রকেই চাই ও তাহাকে<br />
সর্ব্বতোভাবে পাইতে চাই বলিয়াই তাহার নিকট হইতে মমতা<br />
চাই, সমবেদনা চাই, সঙ্গ চাই। কিছুই না পাই যদি, তবুও<br />
তাহাকে ভালবাসি। ভালবাসায় তাহাকেই আমি চাই, বন্ধুত্বে<br />
তাহার কিয়দংশ চাই। বন্ধুত্ব বলিতে তিনটি পদার্থ বুঝায়। দুই<br />
জন ব্যক্তি ও একটি জগৎ। অর্থাৎ দুই জনে সহযোগী হইয়া<br />
জগতের কাজ সম্পন্ন করা। আর, প্রেম বলিলে দুই জন ব্যক্তি<br />
মাত্র বুঝায়, আর জগৎ নাই। দুই জনেই দুই জনের জগৎ।<br />
অতএব বন্ধুত্ব অর্থে দুই এবং তিন, প্রেম অর্থে এক এবং দুই।<br />
অনেকে বলিয়া থাকেন বন্ধুত্ব ক্রমশঃ পরিবর্ত্তিত হইয়া<br />
ভালবাসায় উপনীত হইতে পারে, কিন্তু ভালবাসা নামিয়া<br />
অবশেষে বন্ধুত্বে আসিয়া ঠেকিতে পারে না। একবার যাহাকে<br />
ভালবাসিয়াছি, হয় তাহাকে ভালবাসিব নয় ভালবাসিব না;<br />
কিন্তু একবার যাহার সঙ্গে বন্ধুত্ব হইয়াছে, ক্রমে তাহার<br />
সঙ্গে ভালবাসার সম্পর্ক স্থাপিত হইতে আটক নাই। অর্থাৎ<br />
বন্ধুত্বের উঠিবার নামিবার স্থান আছে। কারণ, সে সমস্ত<br />
স্থান আটক করিয়া থাকে না। কিন্তু ভালবাসার উন্নতি<br />
অবনতির স্থান নাই। যখন সে থাকে তখন সে সমস্ত স্থান<br />
জুড়িয়া থাকে, নয় সে থাকে না। যখন সে দেখে তাহার অধিকার<br />
হ্রাস হইয়া আসিতেছে তখন সে বন্ধুত্বের ক্ষুদ্র স্থানটুকু<br />
অধিকার করিয়া থাকিতে চায় না। যে রাজা ছিল সে ফকির হইতে<br />
রাজি আছে, কিন্তু করদ জায়গীরদার হইয়া থাকিবে কিরূপে? হয়<br />
রাজত্ব নয় ফকিরী, ইহার মধ্যে তাহার দাঁড়াইবার স্থান নাই।<br />
ইহা ছাড়া আর একটা কথা আছে—প্রেম মন্দির ও বন্ধুত্ব<br />
বাসস্থান। মন্দির হইতে যখন দেবতা চলিয়া যায় তখন সে আর<br />
বাসস্থানের কাজে লাগিতে পারে না, কিন্তু বাসস্থানে দেবতা<br />
প্রতিষ্ঠা করা যায়।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[বন্ধুত্ব ও ভালবাসায় অনেক তফাৎ আছে, কিন্তু ঝট্ করিয়া সে<br />
তফাৎ ধরা যায় না। বন্ধুত্ব আটপৌরে, ভালবাসা পোশাকী।<br />
বন্ধুত্বের আটপৌরে কাপড়ের দুই-এক জায়গায় ছেঁড়া থাকিলেও<br />
চলে, ঈষৎ ময়লা হইলেও হানি নাই, হাঁটুর নীচে না পৌঁছিলেও<br />
পরিতে বারণ নাই। গায়ে দিয়া আরাম পাইলেই হইল। কিন্তু<br />
ভালবাসার পোশাক একটু ছেঁড়া থাকিবে না, ময়লা হইবে না,<br />
পরিপাটি হইবে। বন্ধুত্ব নাড়াচাড়া টানাছেঁড়া তোলাপাড়া সয়,<br />
কিন্তু ভালবাসা তাহা সয় না। আমাদের ভালবাসার পাত্রহীন<br />
প্রমোদে লিপ্ত হইলে আমাদের প্রাণে বাজে, কিন্তু বন্ধুর<br />
সম্বন্ধে তাহা খাটে না; এমন-কি, আমরা যখন বিলাসপ্রমোদে<br />
মত্ত হইয়াছি তখন আমরা চাই যে, আমাদের বন্ধুও তাহাতে<br />
যোগ দিক! প্রেমের পাত্র আমাদের সৌন্দর্য্যের আদর্শ<br />
হইয়া থাক্ এই আমাদের ইচ্ছা—আর, বন্ধু আমাদেরই মত<br />
দোষে গুণে জড়িত মর্ত্ত্যের মানুষ হইয়া থাক্ এই আমাদের<br />
আবশ্যক। আমাদের ডান হাতে বাম হাতে বন্ধুত্ব। আমরা<br />
বন্ধুর নিকট হইতে মমতা চাই, সমবেদনা চাই, সাহায্য চাই ও<br />
সেই জন্যই বন্ধুকে চাই। কিন্তু ভালবাসার স্থলে আমরা<br />
সর্ব্বপ্রথমে ভালবাসার পাত্রকেই চাই ও তাহাকে<br />
সর্ব্বতোভাবে পাইতে চাই বলিয়াই তাহার নিকট হইতে মমতা<br />
চাই, সমবেদনা চাই, সঙ্গ চাই। কিছুই না পাই যদি, তবুও<br />
তাহাকে ভালবাসি। ভালবাসায় তাহাকেই আমি চাই, বন্ধুত্বে<br />
তাহার কিয়দংশ চাই। বন্ধুত্ব বলিতে তিনটি পদার্থ বুঝায়। দুই<br />
জন ব্যক্তি ও একটি জগৎ। অর্থাৎ দুই জনে সহযোগী হইয়া<br />
জগতের কাজ সম্পন্ন করা। আর, প্রেম বলিলে দুই জন ব্যক্তি<br />
মাত্র বুঝায়, আর জগৎ নাই। দুই জনেই দুই জনের জগৎ।<br />
অতএব বন্ধুত্ব অর্থে দুই এবং তিন, প্রেম অর্থে এক এবং দুই।<br />
অনেকে বলিয়া থাকেন বন্ধুত্ব ক্রমশঃ পরিবর্ত্তিত হইয়া<br />
ভালবাসায় উপনীত হইতে পারে, কিন্তু ভালবাসা নামিয়া<br />
অবশেষে বন্ধুত্বে আসিয়া ঠেকিতে পারে না। একবার যাহাকে<br />
ভালবাসিয়াছি, হয় তাহাকে ভালবাসিব নয় ভালবাসিব না;<br />
কিন্তু একবার যাহার সঙ্গে বন্ধুত্ব হইয়াছে, ক্রমে তাহার<br />
সঙ্গে ভালবাসার সম্পর্ক স্থাপিত হইতে আটক নাই। অর্থাৎ<br />
বন্ধুত্বের উঠিবার নামিবার স্থান আছে। কারণ, সে সমস্ত<br />
স্থান আটক করিয়া থাকে না। কিন্তু ভালবাসার উন্নতি<br />
অবনতির স্থান নাই। যখন সে থাকে তখন সে সমস্ত স্থান<br />
জুড়িয়া থাকে, নয় সে থাকে না। যখন সে দেখে তাহার অধিকার<br />
হ্রাস হইয়া আসিতেছে তখন সে বন্ধুত্বের ক্ষুদ্র স্থানটুকু<br />
অধিকার করিয়া থাকিতে চায় না। যে রাজা ছিল সে ফকির হইতে<br />
রাজি আছে, কিন্তু করদ জায়গীরদার হইয়া থাকিবে কিরূপে? হয়<br />
রাজত্ব নয় ফকিরী, ইহার মধ্যে তাহার দাঁড়াইবার স্থান নাই।<br />
ইহা ছাড়া আর একটা কথা আছে—প্রেম মন্দির ও বন্ধুত্ব<br />
বাসস্থান। মন্দির হইতে যখন দেবতা চলিয়া যায় তখন সে আর<br />
বাসস্থানের কাজে লাগিতে পারে না, কিন্তু বাসস্থানে দেবতা<br />
প্রতিষ্ঠা করা যায়।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[৫টি গল্প যা আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেবে!]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2071</link>
			<pubDate>Tue, 21 Feb 2017 02:42:33 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=232">Maghanath Das</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2071</guid>
			<description><![CDATA[৫টি গল্প যা আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেবে!<br />
গল্প-১<br />
বাবা গোসলে, মা রান্না ঘরে আর ছেলে টিভি দেখছিল। এমন<br />
সময় দরজায় ঘণ্টা বাজল। ছেলে দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে<br />
দেখল, পাশের বাসার করিম সাহেব দাঁড়িয়ে। ছেলে কিছু বলার<br />
আগেই করিম সাহেব বললেন, ‘আমি তোমাকে ৫০০ টাকা দেব,<br />
যদি তুমি ১০ বার কান ধরে উঠবস কর।’ বুদ্ধিমান ছেলে অল্প<br />
কিছুক্ষণ চিন্তা করেই কান ধরে উঠবস শুরু করল, প্রতিবার<br />
উঠবসে ৫০ টাকা বলে কথা। শেষ হতেই করিম সাহেব ৫০০<br />
টাকার নোট ছেলের হাতে ধরিয়ে দিয়ে চলে গেলেন। বাবা বাথরুম<br />
থেকে বের হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কে ছিল দরজায়?’ ‘পাশের<br />
বাসার করিম সাহেব’, উত্তর দিল ছেলে। ‘ও’, বললেন বাবা,<br />
‘আমার ৫০০ টাকা কি দিয়ে গেছেন?’<br />
শিক্ষণীয় বিষয়<br />
আপনার ধারদেনার তথ্য শেয়ারহোল্ডারদের থেকে গোপন<br />
করবেন না। এতে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে রক্ষা<br />
পাবেন।<br />
গল্প-২<br />
সেলসম্যান, অফিস ক্লার্ক ও ম্যানেজার দুপুরে খেতে<br />
যাচ্ছিলেন। পথে তাঁরা একটি পুরোনো প্রদীপ পেলেন। তাঁরা<br />
ওটাতে ঘষা দিতেই দৈত্য বের হয়ে এল। দৈত্য বলল, ‘আমি<br />
তোমাদের একটি করে ইচ্ছা পূরণ করব।’ ‘আমি আগে! আমি<br />
আগে!’ বললেন অফিস ক্লার্ক, ‘আমি বাহামা সমুদ্রপারে যেতে<br />
চাই, যেখানে অন্য কোনো ভাবনা থাকবে না, কাজ থাকবে<br />
না।’ ‘ফুঃ...!!’ তিনি চলে গেলেন। ‘এরপর আমি! এরপর আমি!’<br />
বললেন সেলসম্যান, ‘আমি মায়ামি বিচে যেতে চাই যেখানে শুধু<br />
আরাম করব।’ ‘ফুঃ...!!’ তিনিও চলে গেলেন। ‘এখন তোমার<br />
পালা’, দৈত্য ম্যানেজারকে বলল। ম্যানেজার বললেন, ‘আমি<br />
ওই দুজনকে আমার অফিসে দেখতে চাই।’<br />
শিক্ষণীয় বিষয়<br />
সব সময় বসকে আগে কথা বলতে দেবেন। তা না হলে নিজের<br />
কথার কোন মূল্য থাকবে না।<br />
গল্প-৩<br />
একটি ইগল গাছের ডালে বসে আরাম করছিল। এমন সময় একটি<br />
ছোট খরগোশ ইগলটিকে দেখে জিজ্ঞেস করল, ‘আমিও কি<br />
তোমার মতো কিছু না করে এভাবে বসে আরাম করতে পারি?’<br />
ইগল উত্তর দিল, ‘অবশ্যই, কেন পারবে না।’ তারপর<br />
খরগোশটি মাটিতে এক জায়গায় বসে আরাম করতে থাকল।<br />
হঠাত্ একটি শিয়াল এসে হাজির, আর লাফ দিয়ে খরগোশকে<br />
ধরে খেয়ে ফেলল।<br />
শিক্ষণীয় বিষয়<br />
যদি কোনো কাজ না করে বসে বসে আরাম করতে চান, তাহলে<br />
আপনাকে অনেক ওপরে থাকতে হবে।<br />
গল্প-৪<br />
একটি মুরগি ও একটি ষাঁড় আলাপ করছিল। ‘আমার খুব শখ ওই<br />
গাছের আগায় উঠব, কিন্তু আমার এত শক্তি নেই’, মুরগিটি<br />
আফসোস করল। 'উত্তরে ষাঁড়টি বলল, ‘আচ্ছা, তুমি আমার<br />
গোবর খেয়ে দেখতে পার, এতে অনেক পুষ্টি আছে।’ কথামতো<br />
মুরগি পেট পুরে গোবর খেয়ে নিল এবং আসলেই দেখল সে বেশ<br />
শক্তি পাচ্ছে। চেষ্টা করে সে গাছের নিচের শাখায় উঠে পড়ল।।<br />
দ্বিতীয় দিন আবার খেল, সে তখন এর ওপরের শাখায় উঠে<br />
গেল। অবশেষে চার দিন পর মুরগিটি গাছের আগায় উঠতে<br />
সক্ষম হলো। কিন্তু খামারের মালিক যখন দেখলেন মুরগি<br />
গাছের আগায়, সঙ্গে সঙ্গে তিনি গুলি করে তাকে গাছ থেকে<br />
নামালেন।<br />
শিক্ষণীয় বিষয়<br />
ফাঁকা বুলি (বুল শিট) হয়তো আপনাকে অনেক ওপরে নিয়ে<br />
যেতে পারে, কিন্তু আপনি বেশিক্ষণ ওখানে টিকে থাকতে<br />
পারবেন না।<br />
গল্প-৫<br />
একটি পাখি শীতের জন্য দক্ষিণ দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু এত<br />
ঠান্ডা ছিল যে পাখিটি শীতে জমে যাচ্ছিল এবং সে একটি বড়<br />
মাঠে এসে পড়ল। যখন সে মাঠে পড়ে ছিল, একটি গরু তার<br />
অবস্থা দেখে তাকে গোবর দিয়ে ঢেকে দিল। কিছুক্ষণ পর<br />
পাখিটি বেশ উষ্ণ অনুভব করল। যখন গোবরের গরমে সে খুব<br />
ঝরঝরে হয়ে উঠল, আনন্দে গান গেয়ে উঠল। এমন সময় একটি<br />
বিড়াল পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, পাখির গান শুনে খুঁজতে লাগল<br />
কোথা থেকে শব্দ আসে। একটু পরই সে গোবরের কাছে আসে<br />
এবং সঙ্গে সঙ্গে গোবর খুঁড়ে পাখিটিকে বের করে তার আহার<br />
সারে।<br />
শিক্ষণীয় বিষয়<br />
১. যারা আপনার ওপর কাদা ছোড়ে, তারা সবাই-ই আপনার<br />
শত্রু নয়।<br />
২. যারা আপনাকে পঙ্কিলতা থেকে বের করে আনে, তারা<br />
সবাই-ই আপনার বন্ধু নয়।<br />
৩. এবং যখন আপনি গভীর পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত, তখন মুখ<br />
বেশি না খোলাই শ্রেয়।<br />
(সংগ্রহীত)]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[৫টি গল্প যা আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেবে!<br />
গল্প-১<br />
বাবা গোসলে, মা রান্না ঘরে আর ছেলে টিভি দেখছিল। এমন<br />
সময় দরজায় ঘণ্টা বাজল। ছেলে দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে<br />
দেখল, পাশের বাসার করিম সাহেব দাঁড়িয়ে। ছেলে কিছু বলার<br />
আগেই করিম সাহেব বললেন, ‘আমি তোমাকে ৫০০ টাকা দেব,<br />
যদি তুমি ১০ বার কান ধরে উঠবস কর।’ বুদ্ধিমান ছেলে অল্প<br />
কিছুক্ষণ চিন্তা করেই কান ধরে উঠবস শুরু করল, প্রতিবার<br />
উঠবসে ৫০ টাকা বলে কথা। শেষ হতেই করিম সাহেব ৫০০<br />
টাকার নোট ছেলের হাতে ধরিয়ে দিয়ে চলে গেলেন। বাবা বাথরুম<br />
থেকে বের হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কে ছিল দরজায়?’ ‘পাশের<br />
বাসার করিম সাহেব’, উত্তর দিল ছেলে। ‘ও’, বললেন বাবা,<br />
‘আমার ৫০০ টাকা কি দিয়ে গেছেন?’<br />
শিক্ষণীয় বিষয়<br />
আপনার ধারদেনার তথ্য শেয়ারহোল্ডারদের থেকে গোপন<br />
করবেন না। এতে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে রক্ষা<br />
পাবেন।<br />
গল্প-২<br />
সেলসম্যান, অফিস ক্লার্ক ও ম্যানেজার দুপুরে খেতে<br />
যাচ্ছিলেন। পথে তাঁরা একটি পুরোনো প্রদীপ পেলেন। তাঁরা<br />
ওটাতে ঘষা দিতেই দৈত্য বের হয়ে এল। দৈত্য বলল, ‘আমি<br />
তোমাদের একটি করে ইচ্ছা পূরণ করব।’ ‘আমি আগে! আমি<br />
আগে!’ বললেন অফিস ক্লার্ক, ‘আমি বাহামা সমুদ্রপারে যেতে<br />
চাই, যেখানে অন্য কোনো ভাবনা থাকবে না, কাজ থাকবে<br />
না।’ ‘ফুঃ...!!’ তিনি চলে গেলেন। ‘এরপর আমি! এরপর আমি!’<br />
বললেন সেলসম্যান, ‘আমি মায়ামি বিচে যেতে চাই যেখানে শুধু<br />
আরাম করব।’ ‘ফুঃ...!!’ তিনিও চলে গেলেন। ‘এখন তোমার<br />
পালা’, দৈত্য ম্যানেজারকে বলল। ম্যানেজার বললেন, ‘আমি<br />
ওই দুজনকে আমার অফিসে দেখতে চাই।’<br />
শিক্ষণীয় বিষয়<br />
সব সময় বসকে আগে কথা বলতে দেবেন। তা না হলে নিজের<br />
কথার কোন মূল্য থাকবে না।<br />
গল্প-৩<br />
একটি ইগল গাছের ডালে বসে আরাম করছিল। এমন সময় একটি<br />
ছোট খরগোশ ইগলটিকে দেখে জিজ্ঞেস করল, ‘আমিও কি<br />
তোমার মতো কিছু না করে এভাবে বসে আরাম করতে পারি?’<br />
ইগল উত্তর দিল, ‘অবশ্যই, কেন পারবে না।’ তারপর<br />
খরগোশটি মাটিতে এক জায়গায় বসে আরাম করতে থাকল।<br />
হঠাত্ একটি শিয়াল এসে হাজির, আর লাফ দিয়ে খরগোশকে<br />
ধরে খেয়ে ফেলল।<br />
শিক্ষণীয় বিষয়<br />
যদি কোনো কাজ না করে বসে বসে আরাম করতে চান, তাহলে<br />
আপনাকে অনেক ওপরে থাকতে হবে।<br />
গল্প-৪<br />
একটি মুরগি ও একটি ষাঁড় আলাপ করছিল। ‘আমার খুব শখ ওই<br />
গাছের আগায় উঠব, কিন্তু আমার এত শক্তি নেই’, মুরগিটি<br />
আফসোস করল। 'উত্তরে ষাঁড়টি বলল, ‘আচ্ছা, তুমি আমার<br />
গোবর খেয়ে দেখতে পার, এতে অনেক পুষ্টি আছে।’ কথামতো<br />
মুরগি পেট পুরে গোবর খেয়ে নিল এবং আসলেই দেখল সে বেশ<br />
শক্তি পাচ্ছে। চেষ্টা করে সে গাছের নিচের শাখায় উঠে পড়ল।।<br />
দ্বিতীয় দিন আবার খেল, সে তখন এর ওপরের শাখায় উঠে<br />
গেল। অবশেষে চার দিন পর মুরগিটি গাছের আগায় উঠতে<br />
সক্ষম হলো। কিন্তু খামারের মালিক যখন দেখলেন মুরগি<br />
গাছের আগায়, সঙ্গে সঙ্গে তিনি গুলি করে তাকে গাছ থেকে<br />
নামালেন।<br />
শিক্ষণীয় বিষয়<br />
ফাঁকা বুলি (বুল শিট) হয়তো আপনাকে অনেক ওপরে নিয়ে<br />
যেতে পারে, কিন্তু আপনি বেশিক্ষণ ওখানে টিকে থাকতে<br />
পারবেন না।<br />
গল্প-৫<br />
একটি পাখি শীতের জন্য দক্ষিণ দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু এত<br />
ঠান্ডা ছিল যে পাখিটি শীতে জমে যাচ্ছিল এবং সে একটি বড়<br />
মাঠে এসে পড়ল। যখন সে মাঠে পড়ে ছিল, একটি গরু তার<br />
অবস্থা দেখে তাকে গোবর দিয়ে ঢেকে দিল। কিছুক্ষণ পর<br />
পাখিটি বেশ উষ্ণ অনুভব করল। যখন গোবরের গরমে সে খুব<br />
ঝরঝরে হয়ে উঠল, আনন্দে গান গেয়ে উঠল। এমন সময় একটি<br />
বিড়াল পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, পাখির গান শুনে খুঁজতে লাগল<br />
কোথা থেকে শব্দ আসে। একটু পরই সে গোবরের কাছে আসে<br />
এবং সঙ্গে সঙ্গে গোবর খুঁড়ে পাখিটিকে বের করে তার আহার<br />
সারে।<br />
শিক্ষণীয় বিষয়<br />
১. যারা আপনার ওপর কাদা ছোড়ে, তারা সবাই-ই আপনার<br />
শত্রু নয়।<br />
২. যারা আপনাকে পঙ্কিলতা থেকে বের করে আনে, তারা<br />
সবাই-ই আপনার বন্ধু নয়।<br />
৩. এবং যখন আপনি গভীর পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত, তখন মুখ<br />
বেশি না খোলাই শ্রেয়।<br />
(সংগ্রহীত)]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[এক দ্বীনদার বউ আর এক আধুনিকা বউয়ের কাহিনী।]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2070</link>
			<pubDate>Tue, 21 Feb 2017 02:40:58 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=232">Maghanath Das</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2070</guid>
			<description><![CDATA[ঘটনা-- ১<br />
২০১০ সালে সেপ্টেম্বর মাস। বিয়ে করেছি মাত্র ৬ মাস আগে।<br />
তাই ঘরে নতুন বউ। তখনো একে-অপরকে চেনা বাকী। কিন্তু<br />
হঠাৎ ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা তাকে আমার অন্তরের আরো<br />
কাছাকাছি এনে দিল।<br />
সে সময় প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলাম। সাথে ছিল খুব কাশি। ৩<br />
দিন পর শুরু হলো ভীষণ ডায়রিয়া। সে অবস্থায় এক রাতে<br />
কাঁথা গায়ে দিয়ে শুয়ে ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ প্রচণ্ড বমি আসল।<br />
বাথরুমে আর যেতে পারলাম না। ঘরেই বমি করে দিলাম। বমির<br />
চাপে পায়খানাও করে দিলাম কাপড়েই।<br />
বউ দৌড়ে এসে আমাকে ধরলো। হাত ধরে বাথরুমে নিয়ে<br />
নিজের হাতে কাপড় বদলে দিয়ে শরীর মুছে দিল। অপরিষ্কার<br />
লুঙ্গি আমি নিজে ধুতে চাইলে বউ আমাকে কড়া ভাষায় বলল<br />
"হয়েছে। এখন ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়। আমি পরে এগুলো ধুয়ে<br />
দিব।" রুমে আসার পর বউ নিজের হাতে মেঝে পরিষ্কার করল।<br />
কিছুই বললাম না শুধু মুগ্ধ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে<br />
থাকলাম।<br />
ঘটনা-- ২<br />
আমার দূর সম্পর্কের এক মামার ব্রেইন স্ট্রোক করে একপাশ<br />
প্যারালাইজড হয়ে গেল। তাকে দেখতে হাসপাতালে গেলাম<br />
রাতে। গিয়ে দেখি মামী (আধুনিকা) মামাকে হাসপাতালে রেখে<br />
বাসায় যাবার জন্য অস্থির হয়ে পড়েছে। দেখে খুব খারাপ<br />
লাগল।<br />
কয়েকদিন পর মামা কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেন। তখনো<br />
পুরোপুরি সুস্থ নন। হাঁটতে-চলতে কষ্ট হয়। সঠিক সেবা ও<br />
নিয়মিত ব্যায়াম করালে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে যাবেন।<br />
কিন্তু মামী মামার এরকম নাজুক অবস্থাতেও তাকে বাসায়<br />
একলা ফেলে বাপের বাড়ি থাকা শুরু করল। তার অযুহাত যে সে<br />
এরকম অসুস্থ মানুষের সাথে থাকতে পারবে না।<br />
.<br />
এই হলো আজকের সমাজের অবস্থা। আমার স্ত্রী ধর্মকে<br />
অন্তরে লালন করে। তাই সে তার স্বামীর প্রতি ভালোবাসা<br />
ও কর্তব্য পালনে নিষ্ঠাবান। অপরদিকে মামী ঠিক তার<br />
বিপরীত। তিনি সারাদিন টিভি-মুভি আর মার্কেটিং-এ ব্যস্ত<br />
থাকেন।<br />
স্বামী ও স্ত্রী একে অপরের পরিপূরক। একজনের উপর আর<br />
একজনের রয়েছে দায়িত্ব। আর ইসলাম মানুষকে যার যার<br />
অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল করে তোলে।<br />
.<br />
তাই পাত্র বা পাত্রী নির্বাচনে সবার আগে তার দ্বীনকে<br />
প্রাধান্য দিতে হবে। নইলে দিল্লীকা লাড্ডু খাবার পর সারা<br />
জীবন পস্তাতেই হবে।<br />
Collected]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[ঘটনা-- ১<br />
২০১০ সালে সেপ্টেম্বর মাস। বিয়ে করেছি মাত্র ৬ মাস আগে।<br />
তাই ঘরে নতুন বউ। তখনো একে-অপরকে চেনা বাকী। কিন্তু<br />
হঠাৎ ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা তাকে আমার অন্তরের আরো<br />
কাছাকাছি এনে দিল।<br />
সে সময় প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলাম। সাথে ছিল খুব কাশি। ৩<br />
দিন পর শুরু হলো ভীষণ ডায়রিয়া। সে অবস্থায় এক রাতে<br />
কাঁথা গায়ে দিয়ে শুয়ে ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ প্রচণ্ড বমি আসল।<br />
বাথরুমে আর যেতে পারলাম না। ঘরেই বমি করে দিলাম। বমির<br />
চাপে পায়খানাও করে দিলাম কাপড়েই।<br />
বউ দৌড়ে এসে আমাকে ধরলো। হাত ধরে বাথরুমে নিয়ে<br />
নিজের হাতে কাপড় বদলে দিয়ে শরীর মুছে দিল। অপরিষ্কার<br />
লুঙ্গি আমি নিজে ধুতে চাইলে বউ আমাকে কড়া ভাষায় বলল<br />
"হয়েছে। এখন ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়। আমি পরে এগুলো ধুয়ে<br />
দিব।" রুমে আসার পর বউ নিজের হাতে মেঝে পরিষ্কার করল।<br />
কিছুই বললাম না শুধু মুগ্ধ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে<br />
থাকলাম।<br />
ঘটনা-- ২<br />
আমার দূর সম্পর্কের এক মামার ব্রেইন স্ট্রোক করে একপাশ<br />
প্যারালাইজড হয়ে গেল। তাকে দেখতে হাসপাতালে গেলাম<br />
রাতে। গিয়ে দেখি মামী (আধুনিকা) মামাকে হাসপাতালে রেখে<br />
বাসায় যাবার জন্য অস্থির হয়ে পড়েছে। দেখে খুব খারাপ<br />
লাগল।<br />
কয়েকদিন পর মামা কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেন। তখনো<br />
পুরোপুরি সুস্থ নন। হাঁটতে-চলতে কষ্ট হয়। সঠিক সেবা ও<br />
নিয়মিত ব্যায়াম করালে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে যাবেন।<br />
কিন্তু মামী মামার এরকম নাজুক অবস্থাতেও তাকে বাসায়<br />
একলা ফেলে বাপের বাড়ি থাকা শুরু করল। তার অযুহাত যে সে<br />
এরকম অসুস্থ মানুষের সাথে থাকতে পারবে না।<br />
.<br />
এই হলো আজকের সমাজের অবস্থা। আমার স্ত্রী ধর্মকে<br />
অন্তরে লালন করে। তাই সে তার স্বামীর প্রতি ভালোবাসা<br />
ও কর্তব্য পালনে নিষ্ঠাবান। অপরদিকে মামী ঠিক তার<br />
বিপরীত। তিনি সারাদিন টিভি-মুভি আর মার্কেটিং-এ ব্যস্ত<br />
থাকেন।<br />
স্বামী ও স্ত্রী একে অপরের পরিপূরক। একজনের উপর আর<br />
একজনের রয়েছে দায়িত্ব। আর ইসলাম মানুষকে যার যার<br />
অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল করে তোলে।<br />
.<br />
তাই পাত্র বা পাত্রী নির্বাচনে সবার আগে তার দ্বীনকে<br />
প্রাধান্য দিতে হবে। নইলে দিল্লীকা লাড্ডু খাবার পর সারা<br />
জীবন পস্তাতেই হবে।<br />
Collected]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[গল্প থেকে শিক্ষা: শিকারি ও বুদ্ধিমান পাখি]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2069</link>
			<pubDate>Tue, 21 Feb 2017 02:39:39 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=232">Maghanath Das</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2069</guid>
			<description><![CDATA[একবার এক শিকারি ছোট্ট একটি পাখি ধরে ফেলল।<br />
পাখিটি খুব বুদ্ধিমান ছিল। পাখিটি শিকারির খুব প্রশংসা<br />
করতে লাগল যে, তুমি এতবড় শিকারি! জীবনে অনেক বাঘ<br />
মেরেছ, অনেক ভাল্লুক মেরেছ, এই করেছ, সেই করেছ। আমি<br />
একটা ছোট্ট পাখি, আমার ওজন ১০০ গ্রামও না, আমাকে খেয়ে<br />
তুমি কী করবে? আমাকে খেলে তো তোমার পেটের একটা<br />
কোনাও ভরবে না। তার চেয়ে বরং আমাকে ছেড়ে দাও।<br />
তোমাকে এমন তিনটি মূল্যবান বাণী শোনাব যা তোমার<br />
সারাজীবন কাজে লাগবে।<br />
.<br />
এমনভাবে সে কথাবার্তা বলছিল যে শিকারির মন গলে গেল।<br />
কারণ তেল পেতে সবাই পছন্দ করে। আরেকজনকে গলানোর<br />
সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে তেল। সে ভেবে দেখল, ঠিকই তো।<br />
এত ছোট পাখি খেয়ে কোনো লাভ নেই। তার চেয়ে শুনি,<br />
পাখিটা কী বলতে চায়। হয়তো এতে আমার লাভ বেশি হবে।<br />
.<br />
শিকারি রাজি হওয়ায় পাখিটি বলল, আমি প্রথম বাক্যটি বলব<br />
তোমার হাতের ওপর বসে, দ্বিতীয় বাক্যটি বলব এই গাছের<br />
ডালে বসে, তৃতীয় বাক্যটি বলবো গাছের মগডালে বসে।<br />
শিকারি বললো, ঠিক আছে।<br />
.<br />
পাখি বলল, ‘কখনো অলীক কল্পনা কর না, যা অবাস্তব সেটা<br />
কখনো বিশ্বাস কর না’। শিকারি বলল, খুব ঠিক কথা।<br />
সত্যিই তাই। কখনো অবাস্তব কথায় বিশ্বাস করতে নেই।<br />
পাখি বলল, এবার আমাকে গাছের ডালে যেতে দাও। আমি<br />
দ্বিতীয় বাক্যটি বলব। শিকারি ছেড়ে দিল। গাছের ডালে উঠে<br />
পাখি বলল, ‘যা হাতছাড়া হয়ে গেল তা নিয়ে কখনো আফসোস<br />
কর না।’ শিকারি বললো, এটাও ঠিক। যা আর আমার নেই, তা<br />
নিয়ে আফসোস করা তো বোকামি। পাখি এবার মগডালে<br />
উঠল।<br />
শিকারি বলল, এবার তৃতীয় উপদেশটি বল। পাখি বলল, তৃতীয়টি<br />
বলার আগে দেখে নিই, আগের দুটি উপদেশের শিক্ষা তোমার<br />
জীবনে কাজে লাগিয়েছ কি না।<br />
.<br />
পাখিটি বলল, আমার পেটে আছে ২০০ গ্রাম ওজনের একটি<br />
মুক্তো। শুনে শিকারি খুব আফসোস শুরু করলো। হায় হায়!<br />
এ কী করলাম আমি! এভাবে হাতছাড়া করলাম ধনী হওয়ার এত<br />
সহজ সুযোগ! বলেই পাখিকে ধরার ব্যর্থ চেষ্টায় ওপরের দিকে<br />
লাফাতে লাগল।<br />
.<br />
কিন্তু পাখি তো তখন মগডালে। সে হাসল। বলল, দেখ, আমি<br />
আগেই বলেছিলাম, অবাস্তব কথা কখনো বিশ্বাস কর না।<br />
আমার ওজনই ১০০ গ্রাম। আমার ভেতরে ২০০ গ্রামের মুক্তো<br />
থাকবে কীভাবে? বলেছিলাম, যা হাতছাড়া হয়ে গেল তা নিয়ে<br />
কখনো আফসোস কর না। কিন্তু তুমি তা-ই করছ।<br />
.<br />
তোমাকে আর কোনো উপদেশ দেয়া অর্থহীন। কারণ<br />
অধিকাংশ মানুষের মতো তুমিও উপদেশ কান দিয়ে শুনেছ।<br />
কিন্তু তা থেকে শিক্ষা নাও নি। তোমার মতো বোকা ও<br />
লোভীদের কারণেই প্রতারকরা প্রতারণা করার সুযোগ পায়।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[একবার এক শিকারি ছোট্ট একটি পাখি ধরে ফেলল।<br />
পাখিটি খুব বুদ্ধিমান ছিল। পাখিটি শিকারির খুব প্রশংসা<br />
করতে লাগল যে, তুমি এতবড় শিকারি! জীবনে অনেক বাঘ<br />
মেরেছ, অনেক ভাল্লুক মেরেছ, এই করেছ, সেই করেছ। আমি<br />
একটা ছোট্ট পাখি, আমার ওজন ১০০ গ্রামও না, আমাকে খেয়ে<br />
তুমি কী করবে? আমাকে খেলে তো তোমার পেটের একটা<br />
কোনাও ভরবে না। তার চেয়ে বরং আমাকে ছেড়ে দাও।<br />
তোমাকে এমন তিনটি মূল্যবান বাণী শোনাব যা তোমার<br />
সারাজীবন কাজে লাগবে।<br />
.<br />
এমনভাবে সে কথাবার্তা বলছিল যে শিকারির মন গলে গেল।<br />
কারণ তেল পেতে সবাই পছন্দ করে। আরেকজনকে গলানোর<br />
সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে তেল। সে ভেবে দেখল, ঠিকই তো।<br />
এত ছোট পাখি খেয়ে কোনো লাভ নেই। তার চেয়ে শুনি,<br />
পাখিটা কী বলতে চায়। হয়তো এতে আমার লাভ বেশি হবে।<br />
.<br />
শিকারি রাজি হওয়ায় পাখিটি বলল, আমি প্রথম বাক্যটি বলব<br />
তোমার হাতের ওপর বসে, দ্বিতীয় বাক্যটি বলব এই গাছের<br />
ডালে বসে, তৃতীয় বাক্যটি বলবো গাছের মগডালে বসে।<br />
শিকারি বললো, ঠিক আছে।<br />
.<br />
পাখি বলল, ‘কখনো অলীক কল্পনা কর না, যা অবাস্তব সেটা<br />
কখনো বিশ্বাস কর না’। শিকারি বলল, খুব ঠিক কথা।<br />
সত্যিই তাই। কখনো অবাস্তব কথায় বিশ্বাস করতে নেই।<br />
পাখি বলল, এবার আমাকে গাছের ডালে যেতে দাও। আমি<br />
দ্বিতীয় বাক্যটি বলব। শিকারি ছেড়ে দিল। গাছের ডালে উঠে<br />
পাখি বলল, ‘যা হাতছাড়া হয়ে গেল তা নিয়ে কখনো আফসোস<br />
কর না।’ শিকারি বললো, এটাও ঠিক। যা আর আমার নেই, তা<br />
নিয়ে আফসোস করা তো বোকামি। পাখি এবার মগডালে<br />
উঠল।<br />
শিকারি বলল, এবার তৃতীয় উপদেশটি বল। পাখি বলল, তৃতীয়টি<br />
বলার আগে দেখে নিই, আগের দুটি উপদেশের শিক্ষা তোমার<br />
জীবনে কাজে লাগিয়েছ কি না।<br />
.<br />
পাখিটি বলল, আমার পেটে আছে ২০০ গ্রাম ওজনের একটি<br />
মুক্তো। শুনে শিকারি খুব আফসোস শুরু করলো। হায় হায়!<br />
এ কী করলাম আমি! এভাবে হাতছাড়া করলাম ধনী হওয়ার এত<br />
সহজ সুযোগ! বলেই পাখিকে ধরার ব্যর্থ চেষ্টায় ওপরের দিকে<br />
লাফাতে লাগল।<br />
.<br />
কিন্তু পাখি তো তখন মগডালে। সে হাসল। বলল, দেখ, আমি<br />
আগেই বলেছিলাম, অবাস্তব কথা কখনো বিশ্বাস কর না।<br />
আমার ওজনই ১০০ গ্রাম। আমার ভেতরে ২০০ গ্রামের মুক্তো<br />
থাকবে কীভাবে? বলেছিলাম, যা হাতছাড়া হয়ে গেল তা নিয়ে<br />
কখনো আফসোস কর না। কিন্তু তুমি তা-ই করছ।<br />
.<br />
তোমাকে আর কোনো উপদেশ দেয়া অর্থহীন। কারণ<br />
অধিকাংশ মানুষের মতো তুমিও উপদেশ কান দিয়ে শুনেছ।<br />
কিন্তু তা থেকে শিক্ষা নাও নি। তোমার মতো বোকা ও<br />
লোভীদের কারণেই প্রতারকরা প্রতারণা করার সুযোগ পায়।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[ভাই বোনের ভালোবাসা]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2068</link>
			<pubDate>Tue, 21 Feb 2017 02:38:01 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=232">Maghanath Das</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2068</guid>
			<description><![CDATA[ভাই বোনের ভালোবাসা ...<br />
~<br />
- আপু পঞ্চাশটা টাকা দেতো ।<br />
- কি !!টাকা কি গাছে ধরে নাকি<br />
- তুইনা কাল<br />
টিউশনির টাকা পেলি, ঐখান থেকে দেনা<br />
আপু ।<br />
- কানের কাছে ঘেনর ঘেনর<br />
করিস নাতো, ভাগ এখান থেকে<br />
- আমাকে টাকা দিলেই তো চলে যাই । আচ্ছা পঞ্চাশ টাকা<br />
না চল্লিশ টাকা দে ।<br />
- ইস্ তোর জ্বালায় আর পারা গেল<br />
না । এই নে বিশ টাকা ভাগ এখন থেকে ।<br />
- মাত্র বিশ টাকা দিলি । ok সমস্যা<br />
নাই চটপটি এনে তোকে দেখিয়ে দেখিয়ে<br />
খাব । তখন কিন্তু আবার নজর দিস না<br />
- কি !! চটপটি খাবি তুই । এইনে আরো<br />
বিশ টাকা আমার জন্যে আনিস । মোট<br />
চল্লিশ টাকা নিয়ে রাজু দরজার<br />
সামনে গিয়ে বলতে লাগলো । আমি কি<br />
তোর মত মেয়ে মানুষ নাকি যে চটপটি<br />
খাব । আমার টাকাটা দরকার ছিল তাই<br />
তোকে বোকা বানিয়ে নিয়ে গেলাম ।<br />
তবেরে পাজি তোর একদিন কি আমার<br />
একদিন । খবরদার আমার টাকা দিয়ে<br />
যা, না হয় বাসায় ডুকতে দিব না ।<br />
কে<br />
পায় আর রাজুর নাগাল । সে<br />
চমপট । রাজুর বড় বোন রিনা । রাজু যাওয়ার কিছুক্ষণ<br />
পরেই চটপটি রান্না করেছে কিন্তু<br />
খায়নি । মনস্থির করেছে রাজু<br />
আসলে তাকে দিখিয়ে দেখিয়ে খাবে ।<br />
একফোঁটাও দিবে না তাকে । রাত<br />
আটটায় বাড়ি ফিরেছে রাজু ।<br />
রাজু ভেবে রেখেছে আপু অবশ্যই<br />
তাকে বকা দিবে কিন্তু না কোন টু শব্দ<br />
পর্যন্ত করলো না । রাজু ড্রয়িং<br />
রুমে বসে টিভি দেখছে । কিছুক্ষণ পর রিনা একটি প্লেটে করে<br />
কি যেন এনে<br />
খেতে শুরু করলো ।<br />
- কি খাস আপু<br />
- মধু খাই মধু । এই মধুর নাম চটপটি,খাবি.....?<br />
- দেনা আপু একটু খাই ।<br />
- ভাগ এখান থেকে । বিকালে আমার থেকে<br />
চটপটির কথা বলে টাকা নিয়েছিস মনে<br />
আছে । এখন আমি খাই তুই চেয়ে চেয়ে<br />
দেখ ।<br />
রাজু গুমরা মুখে বসে আছে<br />
আর রিনা চটপটি খাচ্ছে আর<br />
মিটমিট করে হাসছে ।<br />
- রাজু .<br />
–বল<br />
- ফ্রিজে, প্লেটে চটপটিপ রাখা<br />
আছে নিয়ে খা । আবার না দিলে তো<br />
আমার পেট খারাপ হবে ।<br />
মূহুর্তেই রাজু চেহারা উজ্জ্বল হয়ে গেল ।<br />
- লক্ষ্মী আপু আমার, এই কথা বলে<br />
চটপটি আনতে ফ্রিজের দিকে অগ্রসর<br />
হয় রাজু ।<br />
//<br />
আজ রাজুদের বাড়ি<br />
আলোক উজ্জ্বল । নিয়ন বাতি গুলো<br />
জ্বলছে আর নিভছে । রিনার আজ<br />
বিয়ে । কিন্তু রাজুর বুক ফেটে<br />
কান্না পাচ্ছে । আপু চলে গেলে কার<br />
সাথে সে খুনসুটি করবে । কে তাকে<br />
চটপটি বানিয়ে খাওয়াবে ।বিয়ে পরানো<br />
শেষ এখন বর যাত্রী রিনা কে নিয়ে<br />
চলে যাবে কিন্তু রাজু কিছুতেই<br />
মানতে পারছে না তার আপু আর এই<br />
বাড়িতে থাকবে না দুই ভাই বোন একে<br />
অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে ।<br />
- রাজু কথা দে ভাই একবার করে<br />
হলেও আমার সাথে ঐ বাড়িতে গিয়ে<br />
দেখা করবি । কথা দিলাম প্রতিদিন<br />
তোকে আমি চটপটি বানিয়ে খাওয়াবো ।<br />
রাজুর মুখ দিয়ে কথা বের হয়<br />
না, শুধুই নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে<br />
তার আপুর দিকে । মাথা নাড়িয়ে<br />
সম্মতি জানায় । তার চোখের কোন<br />
বেয়ে অশ্রু ধারা নামে বোন উপস্হিত<br />
থাকায় সে বুঝতে পারেনি বোনের<br />
ভালোবাসাটা । আজ বোনের<br />
ভালোবাসাটা শুধুই স্মৃতি । সেই স্মৃতিতে<br />
হাতরিয়ে বোনের ভালোবাসাটা উপলব্ধি<br />
করে রাজু ।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[ভাই বোনের ভালোবাসা ...<br />
~<br />
- আপু পঞ্চাশটা টাকা দেতো ।<br />
- কি !!টাকা কি গাছে ধরে নাকি<br />
- তুইনা কাল<br />
টিউশনির টাকা পেলি, ঐখান থেকে দেনা<br />
আপু ।<br />
- কানের কাছে ঘেনর ঘেনর<br />
করিস নাতো, ভাগ এখান থেকে<br />
- আমাকে টাকা দিলেই তো চলে যাই । আচ্ছা পঞ্চাশ টাকা<br />
না চল্লিশ টাকা দে ।<br />
- ইস্ তোর জ্বালায় আর পারা গেল<br />
না । এই নে বিশ টাকা ভাগ এখন থেকে ।<br />
- মাত্র বিশ টাকা দিলি । ok সমস্যা<br />
নাই চটপটি এনে তোকে দেখিয়ে দেখিয়ে<br />
খাব । তখন কিন্তু আবার নজর দিস না<br />
- কি !! চটপটি খাবি তুই । এইনে আরো<br />
বিশ টাকা আমার জন্যে আনিস । মোট<br />
চল্লিশ টাকা নিয়ে রাজু দরজার<br />
সামনে গিয়ে বলতে লাগলো । আমি কি<br />
তোর মত মেয়ে মানুষ নাকি যে চটপটি<br />
খাব । আমার টাকাটা দরকার ছিল তাই<br />
তোকে বোকা বানিয়ে নিয়ে গেলাম ।<br />
তবেরে পাজি তোর একদিন কি আমার<br />
একদিন । খবরদার আমার টাকা দিয়ে<br />
যা, না হয় বাসায় ডুকতে দিব না ।<br />
কে<br />
পায় আর রাজুর নাগাল । সে<br />
চমপট । রাজুর বড় বোন রিনা । রাজু যাওয়ার কিছুক্ষণ<br />
পরেই চটপটি রান্না করেছে কিন্তু<br />
খায়নি । মনস্থির করেছে রাজু<br />
আসলে তাকে দিখিয়ে দেখিয়ে খাবে ।<br />
একফোঁটাও দিবে না তাকে । রাত<br />
আটটায় বাড়ি ফিরেছে রাজু ।<br />
রাজু ভেবে রেখেছে আপু অবশ্যই<br />
তাকে বকা দিবে কিন্তু না কোন টু শব্দ<br />
পর্যন্ত করলো না । রাজু ড্রয়িং<br />
রুমে বসে টিভি দেখছে । কিছুক্ষণ পর রিনা একটি প্লেটে করে<br />
কি যেন এনে<br />
খেতে শুরু করলো ।<br />
- কি খাস আপু<br />
- মধু খাই মধু । এই মধুর নাম চটপটি,খাবি.....?<br />
- দেনা আপু একটু খাই ।<br />
- ভাগ এখান থেকে । বিকালে আমার থেকে<br />
চটপটির কথা বলে টাকা নিয়েছিস মনে<br />
আছে । এখন আমি খাই তুই চেয়ে চেয়ে<br />
দেখ ।<br />
রাজু গুমরা মুখে বসে আছে<br />
আর রিনা চটপটি খাচ্ছে আর<br />
মিটমিট করে হাসছে ।<br />
- রাজু .<br />
–বল<br />
- ফ্রিজে, প্লেটে চটপটিপ রাখা<br />
আছে নিয়ে খা । আবার না দিলে তো<br />
আমার পেট খারাপ হবে ।<br />
মূহুর্তেই রাজু চেহারা উজ্জ্বল হয়ে গেল ।<br />
- লক্ষ্মী আপু আমার, এই কথা বলে<br />
চটপটি আনতে ফ্রিজের দিকে অগ্রসর<br />
হয় রাজু ।<br />
//<br />
আজ রাজুদের বাড়ি<br />
আলোক উজ্জ্বল । নিয়ন বাতি গুলো<br />
জ্বলছে আর নিভছে । রিনার আজ<br />
বিয়ে । কিন্তু রাজুর বুক ফেটে<br />
কান্না পাচ্ছে । আপু চলে গেলে কার<br />
সাথে সে খুনসুটি করবে । কে তাকে<br />
চটপটি বানিয়ে খাওয়াবে ।বিয়ে পরানো<br />
শেষ এখন বর যাত্রী রিনা কে নিয়ে<br />
চলে যাবে কিন্তু রাজু কিছুতেই<br />
মানতে পারছে না তার আপু আর এই<br />
বাড়িতে থাকবে না দুই ভাই বোন একে<br />
অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে ।<br />
- রাজু কথা দে ভাই একবার করে<br />
হলেও আমার সাথে ঐ বাড়িতে গিয়ে<br />
দেখা করবি । কথা দিলাম প্রতিদিন<br />
তোকে আমি চটপটি বানিয়ে খাওয়াবো ।<br />
রাজুর মুখ দিয়ে কথা বের হয়<br />
না, শুধুই নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে<br />
তার আপুর দিকে । মাথা নাড়িয়ে<br />
সম্মতি জানায় । তার চোখের কোন<br />
বেয়ে অশ্রু ধারা নামে বোন উপস্হিত<br />
থাকায় সে বুঝতে পারেনি বোনের<br />
ভালোবাসাটা । আজ বোনের<br />
ভালোবাসাটা শুধুই স্মৃতি । সেই স্মৃতিতে<br />
হাতরিয়ে বোনের ভালোবাসাটা উপলব্ধি<br />
করে রাজু ।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[বিবাহিত পুরুষদের জন্য :]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2067</link>
			<pubDate>Tue, 21 Feb 2017 02:36:43 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=232">Maghanath Das</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2067</guid>
			<description><![CDATA[বিবাহিত পুরুষদের জন্য :<br />
---------------------------------<br />
বাসর রাতে বউকে তুই বলে ডেকেছিলাম। বলেছিলাম তুই<br />
আমাকে আপনি করে ডাকবি। কাছে ঘেষার চেষ্টা করবিনা<br />
কখনো। কারণ বউছিলো পুরাই কয়লার ড্রাম। কুচকুচে কালো<br />
তার গায়ের রং। বাসর ঘরে ঢুকে বিছানায় তাকিয়ে দেখি যেন<br />
ঠিক একটা কালো কুকুর বসে আছে লাল ঘোমটা দিয়ে। ঠোঁটে<br />
লাল লিপস্টিক, কপালে ঢ্যামা একটা টিপ। ওয়াক থু, কি<br />
বিচ্ছিরি সাজ। লাল কালোয় কি এক অগোছালো সাজ। বাতি<br />
বন্ধ করতেই বুঝলাম যেন একটা আধার নিয়ে শুয়ে আছি। নেহাৎ<br />
যৌনতার দায় সারা হয়েছিল সে রাতে। তারপর বিছানা থেকে<br />
তুলে দিয়েছিলাম তাকে।<br />
.<br />
যৌতুক বিরোধী ছিলাম আমরা। তাই বাবার বক্তব্য ছিলো<br />
বিনা যৌতুকে নিজের আত্মীয়ের কারো মেয়েকে পুত্রবধু করে<br />
আনবেন। তাই হল। হাজারো অনিচ্ছা স্বত্তেও বাবার গরিব<br />
বন্ধুর কালো মেয়েকে বিয়ে করতে হল আমায়। কলেজের সেলফি<br />
বয়ের এমন একট বউ জুটলো, যে জীবনে বউকে নিয়ে আর<br />
সেলফি তোলা যাবেনা। বন্ধুরা অনুরোধ করত বউ নিয়ে<br />
বেড়াতে আসতে। কিন্তু আমি তাকে নিতামনা। লজ্জা আছে<br />
তো নাকি। রাতে বাড়ি ফিরতাম দেরি করে। তখনো সে জেগে<br />
থাকত। খাবার বেড়ে দিত। কথা বলতাম না আমি। কিভাবে বলি,<br />
বারে, ডিস্কোতে সুন্দরী মেয়ে দেখে বাড়িতে কি অমন<br />
আলকাতরা ভালো লাগে? ওর কি প্রয়োজন সেটা কোনদিন<br />
জিজ্ঞেস করিনি। বাড়িতে সবার কাপড় কেনাহত, খাবার তো<br />
আছেই। আর কি চাই? এভাবেই কেটে গেল কয়েকমাস।<br />
.<br />
সেদিন একবন্ধু তার গার্লফ্রেন্ডকে গিফট দেয়ার জন্য কিছু<br />
কিনেছিল। সেটা আমাকেই পৌছে দিতে হবে। অনেকরাত গিফট<br />
বক্স নিয়ে বাড়ি ফিরলাম আমি। দেখলাম সে সোফায় ঘুমিয়ে<br />
গেছে। ভাবলাম খেয়েছে তো? আমি না আসা পর্যন্ত আবার<br />
ওকে খেতে দেখিনি কোনদিন। শুয়ে পরলাম। কিন্তু মনটা বড়<br />
খচখচ করছে। ডেকে তুলে বললাম, খেয়ে তারপর শুবি। পরদিন<br />
সকালে গিফট বক্স খুজে দেখি ওটা আর আস্তনেই। ও ওটা খুলে<br />
ভিতরে যা ছিল ব্যবহার করা শুরু করে দিয়েছে। ওর খুশি মুখ<br />
দেখে কিছু বললামনা। বেচারী। কালো বলে কি সাজতে নেই?<br />
নিজেই হেসেছিলাম সেদিন। তারপর নতুন করে গিফট সাজিয়ে<br />
পৌছে দিলাম আমি। তারপর একদিন ও বমি করলে বুঝলাম ও<br />
মা হতে চলেছে।<br />
.<br />
এক শীতের বিকেলে বাবা মা বেড়াতে গেলেন গ্রামে। বাসায়<br />
রইলাম আমি আর সে। সে রাতে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরলাম।<br />
কারণ বাড়ি পুরো একা। গ্রাম্য মেয়ে। বলা যায়না ভুতের ভয়টয়<br />
পায় নাকি। বাসায় ফিরে শুনলাম রান্না হয়নি। কারণ জানতে<br />
চাইলে ও বলল, ভেবেছিলাম আপনি বন্ধুদের সাথে খাবেন।<br />
দুপুরের কিছু ভাত ছিল। আমার হয়েযাবে। তাই, ফ্রিজ খুলে<br />
দেখলাম। সামান্যই ভাত। বললাম চল, কাপড় পরে নে। হোটেলে<br />
খাবি। ও যেতে চাইলনা। আমিও রেখে যেতে পারছিনা একা বাড়ি<br />
বলে। অবশেষে দুজনে বাহির হলাম। রাতের শহর ও যেন হা হয়ে<br />
দেখছিল। বললাম হাত ধর, নাহলে ভীড়ে আবার হারিয়ে যাবি।<br />
সেদিন প্রথম ও আমার সাথে বেড়িয়েছিলো, প্রথম আমার হাত<br />
ধরেছিল। মন্দ না। আমিও ওর আঙুল ধরেছিলাম যাতে ও<br />
হারিয়ে না যায়! হোটেলে আমাকে আপনি করে বলবিনা, তুমি<br />
করে বলবি আচ্ছা? মাথা নাড়ল ও। কিন্তু হোটেলে খাবার<br />
সময় ও একবারো আমায় ডাকেনি। উল্টো আমিই বলেছিলাম,<br />
তুমি আরো কিছু খাবে!<br />
.<br />
সেদিন দেখি স্নোর টিউব কেটে স্নো বাহির করছে। রেগে<br />
বললাম, স্নো ফুরিয়ে গেছে বলতে পারোনা? সেদিনই সে<br />
প্রথম আমার কাছে শ্যাম্পু চেয়েছিল। আমি সেদিন ওকে নিয়ে<br />
মার্কেটে গেলাম কসমেটিকস কিনতে। বন্ধুরা অনেকেই দেখেছিল<br />
সেদিন কিন্তু সবাই ভাবি বলে যথেষ্ঠ রেসপেক্ট করেছিল।<br />
সবাই তিনদিন পর আড্ডাতে আসার জন্য অনুরোধ করছিলো<br />
ওকে। তিনদিন পর আমিই ওকে নিয়ে গিয়েছিলাম মোটর<br />
সাইকেলে। ওর জীবনের প্রথম লংড্রাইভ আর ড্রাইভার ছিলাম<br />
আমি। আর আমার বউকে নিয়ে প্রথম।<br />
.<br />
জীবনের প্রথম ওরজন্য আজ খোদার দরবারে হাত তুলেছি<br />
আমি। ও যেন সুস্থ থাকে। কারণ আজ ও মা হবে। আমি বাবা<br />
হব। জানিনা কোথা থেকে আজ এতো কান্না আসছিল আমার।<br />
হাসপাতালে ওর কাছে বার বার ছুটে যাচ্ছিলাম। ও হাতধরে<br />
যতবার বলেছিলো ওর খুব ভয় করছে, ততবারই বলেছি ভয়<br />
পেওনা আমি আছি। সেদিন ও কাউকে খুজেনি শুধু আমায়<br />
খুজেছে। আমায় পাশে থাকতে বলেছে বার বার। আর আমি, বার<br />
বার পর্দার ফাকে বার বার ওকে দেখলাম। সিজারে নেওয়া<br />
হয়েছিলো ওকে। সন্তান পেলাম। কিন্তু ওকে পেলাম না। ওর<br />
দেহটা ধরে সেদিন খুব কেঁদেছিলাম। মনে হচ্ছিলো খুব যেন<br />
নিজের কলিজাটা ছিড়ে গেছে। আজো ওর কবরের পাশে ছুটে<br />
যাই। চিৎকার করে বলি, ফিরে এসো তুমি, একটা রাত তোমার<br />
সাথে গল্প করা বাকিছিলো, একটা সেলফি তোমায় নিয়ে<br />
তোলার ছিল। জানি ওকে ভালবাসা দিতে পারিনি। কিন্তু আজ<br />
বুঝছি কেন এখনো বুকের বামপাশটা চিনচিন করে ব্যাথা করে]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[বিবাহিত পুরুষদের জন্য :<br />
---------------------------------<br />
বাসর রাতে বউকে তুই বলে ডেকেছিলাম। বলেছিলাম তুই<br />
আমাকে আপনি করে ডাকবি। কাছে ঘেষার চেষ্টা করবিনা<br />
কখনো। কারণ বউছিলো পুরাই কয়লার ড্রাম। কুচকুচে কালো<br />
তার গায়ের রং। বাসর ঘরে ঢুকে বিছানায় তাকিয়ে দেখি যেন<br />
ঠিক একটা কালো কুকুর বসে আছে লাল ঘোমটা দিয়ে। ঠোঁটে<br />
লাল লিপস্টিক, কপালে ঢ্যামা একটা টিপ। ওয়াক থু, কি<br />
বিচ্ছিরি সাজ। লাল কালোয় কি এক অগোছালো সাজ। বাতি<br />
বন্ধ করতেই বুঝলাম যেন একটা আধার নিয়ে শুয়ে আছি। নেহাৎ<br />
যৌনতার দায় সারা হয়েছিল সে রাতে। তারপর বিছানা থেকে<br />
তুলে দিয়েছিলাম তাকে।<br />
.<br />
যৌতুক বিরোধী ছিলাম আমরা। তাই বাবার বক্তব্য ছিলো<br />
বিনা যৌতুকে নিজের আত্মীয়ের কারো মেয়েকে পুত্রবধু করে<br />
আনবেন। তাই হল। হাজারো অনিচ্ছা স্বত্তেও বাবার গরিব<br />
বন্ধুর কালো মেয়েকে বিয়ে করতে হল আমায়। কলেজের সেলফি<br />
বয়ের এমন একট বউ জুটলো, যে জীবনে বউকে নিয়ে আর<br />
সেলফি তোলা যাবেনা। বন্ধুরা অনুরোধ করত বউ নিয়ে<br />
বেড়াতে আসতে। কিন্তু আমি তাকে নিতামনা। লজ্জা আছে<br />
তো নাকি। রাতে বাড়ি ফিরতাম দেরি করে। তখনো সে জেগে<br />
থাকত। খাবার বেড়ে দিত। কথা বলতাম না আমি। কিভাবে বলি,<br />
বারে, ডিস্কোতে সুন্দরী মেয়ে দেখে বাড়িতে কি অমন<br />
আলকাতরা ভালো লাগে? ওর কি প্রয়োজন সেটা কোনদিন<br />
জিজ্ঞেস করিনি। বাড়িতে সবার কাপড় কেনাহত, খাবার তো<br />
আছেই। আর কি চাই? এভাবেই কেটে গেল কয়েকমাস।<br />
.<br />
সেদিন একবন্ধু তার গার্লফ্রেন্ডকে গিফট দেয়ার জন্য কিছু<br />
কিনেছিল। সেটা আমাকেই পৌছে দিতে হবে। অনেকরাত গিফট<br />
বক্স নিয়ে বাড়ি ফিরলাম আমি। দেখলাম সে সোফায় ঘুমিয়ে<br />
গেছে। ভাবলাম খেয়েছে তো? আমি না আসা পর্যন্ত আবার<br />
ওকে খেতে দেখিনি কোনদিন। শুয়ে পরলাম। কিন্তু মনটা বড়<br />
খচখচ করছে। ডেকে তুলে বললাম, খেয়ে তারপর শুবি। পরদিন<br />
সকালে গিফট বক্স খুজে দেখি ওটা আর আস্তনেই। ও ওটা খুলে<br />
ভিতরে যা ছিল ব্যবহার করা শুরু করে দিয়েছে। ওর খুশি মুখ<br />
দেখে কিছু বললামনা। বেচারী। কালো বলে কি সাজতে নেই?<br />
নিজেই হেসেছিলাম সেদিন। তারপর নতুন করে গিফট সাজিয়ে<br />
পৌছে দিলাম আমি। তারপর একদিন ও বমি করলে বুঝলাম ও<br />
মা হতে চলেছে।<br />
.<br />
এক শীতের বিকেলে বাবা মা বেড়াতে গেলেন গ্রামে। বাসায়<br />
রইলাম আমি আর সে। সে রাতে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরলাম।<br />
কারণ বাড়ি পুরো একা। গ্রাম্য মেয়ে। বলা যায়না ভুতের ভয়টয়<br />
পায় নাকি। বাসায় ফিরে শুনলাম রান্না হয়নি। কারণ জানতে<br />
চাইলে ও বলল, ভেবেছিলাম আপনি বন্ধুদের সাথে খাবেন।<br />
দুপুরের কিছু ভাত ছিল। আমার হয়েযাবে। তাই, ফ্রিজ খুলে<br />
দেখলাম। সামান্যই ভাত। বললাম চল, কাপড় পরে নে। হোটেলে<br />
খাবি। ও যেতে চাইলনা। আমিও রেখে যেতে পারছিনা একা বাড়ি<br />
বলে। অবশেষে দুজনে বাহির হলাম। রাতের শহর ও যেন হা হয়ে<br />
দেখছিল। বললাম হাত ধর, নাহলে ভীড়ে আবার হারিয়ে যাবি।<br />
সেদিন প্রথম ও আমার সাথে বেড়িয়েছিলো, প্রথম আমার হাত<br />
ধরেছিল। মন্দ না। আমিও ওর আঙুল ধরেছিলাম যাতে ও<br />
হারিয়ে না যায়! হোটেলে আমাকে আপনি করে বলবিনা, তুমি<br />
করে বলবি আচ্ছা? মাথা নাড়ল ও। কিন্তু হোটেলে খাবার<br />
সময় ও একবারো আমায় ডাকেনি। উল্টো আমিই বলেছিলাম,<br />
তুমি আরো কিছু খাবে!<br />
.<br />
সেদিন দেখি স্নোর টিউব কেটে স্নো বাহির করছে। রেগে<br />
বললাম, স্নো ফুরিয়ে গেছে বলতে পারোনা? সেদিনই সে<br />
প্রথম আমার কাছে শ্যাম্পু চেয়েছিল। আমি সেদিন ওকে নিয়ে<br />
মার্কেটে গেলাম কসমেটিকস কিনতে। বন্ধুরা অনেকেই দেখেছিল<br />
সেদিন কিন্তু সবাই ভাবি বলে যথেষ্ঠ রেসপেক্ট করেছিল।<br />
সবাই তিনদিন পর আড্ডাতে আসার জন্য অনুরোধ করছিলো<br />
ওকে। তিনদিন পর আমিই ওকে নিয়ে গিয়েছিলাম মোটর<br />
সাইকেলে। ওর জীবনের প্রথম লংড্রাইভ আর ড্রাইভার ছিলাম<br />
আমি। আর আমার বউকে নিয়ে প্রথম।<br />
.<br />
জীবনের প্রথম ওরজন্য আজ খোদার দরবারে হাত তুলেছি<br />
আমি। ও যেন সুস্থ থাকে। কারণ আজ ও মা হবে। আমি বাবা<br />
হব। জানিনা কোথা থেকে আজ এতো কান্না আসছিল আমার।<br />
হাসপাতালে ওর কাছে বার বার ছুটে যাচ্ছিলাম। ও হাতধরে<br />
যতবার বলেছিলো ওর খুব ভয় করছে, ততবারই বলেছি ভয়<br />
পেওনা আমি আছি। সেদিন ও কাউকে খুজেনি শুধু আমায়<br />
খুজেছে। আমায় পাশে থাকতে বলেছে বার বার। আর আমি, বার<br />
বার পর্দার ফাকে বার বার ওকে দেখলাম। সিজারে নেওয়া<br />
হয়েছিলো ওকে। সন্তান পেলাম। কিন্তু ওকে পেলাম না। ওর<br />
দেহটা ধরে সেদিন খুব কেঁদেছিলাম। মনে হচ্ছিলো খুব যেন<br />
নিজের কলিজাটা ছিড়ে গেছে। আজো ওর কবরের পাশে ছুটে<br />
যাই। চিৎকার করে বলি, ফিরে এসো তুমি, একটা রাত তোমার<br />
সাথে গল্প করা বাকিছিলো, একটা সেলফি তোমায় নিয়ে<br />
তোলার ছিল। জানি ওকে ভালবাসা দিতে পারিনি। কিন্তু আজ<br />
বুঝছি কেন এখনো বুকের বামপাশটা চিনচিন করে ব্যাথা করে]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[অনুপ্রেরণা]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2066</link>
			<pubDate>Tue, 21 Feb 2017 02:35:24 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=232">Maghanath Das</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2066</guid>
			<description><![CDATA[একজন সমুচা বিক্রেতা ছিলেন। যার একটা দোকান ছিল অনেক<br />
বড় একটি কোম্পানির সামনেই। তার সমুচা খুব ই জনপ্রিয়<br />
ছিল ঐ এলাকার মানুষের কাছে। ঐ কোম্পানির অনেক<br />
কর্মচারী তার দোকানে আসতো সমুচা খেতে।<br />
একদিন ঐ বড় কোম্পানির একজন ম্যানেজার সমুচার দোকানে<br />
এলো সমুচা খেতে। তিনি এসে দোকানের মালিক কে বললেন "<br />
আপনি আপনার দোকান কত সুন্দর ভাবে পরিচালনা করেন<br />
আর আপনারা managerial skill ও বেশ ভালো তাহলে<br />
আপনি কেন একটি ভালো চাকুরী খুজে নিচ্ছেন না, শুধু শুধু<br />
নিজের মূল্যবান সময় আর মেধা টুকু নষ্ট করছেন। যদি একটি<br />
ভালো কাজ জোগাড় করে নিতেন তাহলে এত দিনে আপনি<br />
আমার মত ম্যানেজার হয়ে জেতেন"।<br />
বেচারা সমুচা ওয়ালা একটি হাসি দিয়ে বললেন " স্যার, আমার<br />
কাজ টা আপনার কাজের উত্তম, কীভাবে? শুনুন তাহলে। ১০<br />
বছর আগে আমি একটি টুকরি তে করে সমুচা বিক্রি করতাম।<br />
আর তখন আপনি এই কোম্পানিতে নতুন জব পেয়েছিলেন।<br />
তখন আমি মাসে ১০০০ টাকা কামাতাম আর আপনি ১০,০০০<br />
টাকা বেতন পেতেন।<br />
এই ১০ বছরের জার্নি তে আমরা দুজন ই খুব ভালো উন্নতি<br />
করেছি।<br />
এখন আপনি ইঙ্কাম করছেন মাসে ১ লাখ আর আমিও আপনার<br />
সমান , মাঝে মাঝ বেশিও হচ্ছে সেটা। তাহলে আমি নিশ্চিত<br />
ভাবে বলতে পারি আমার কাজ টি আপনার কাজের চেয়ে উত্তম।<br />
আচ্ছা আমি একটু ব্যাখ্যা করি তাহলে বুঝতে সুবিধা হবে<br />
আপনার। আমার কথা গুলো একটু মন দিয়ে শুনবেন। আমি<br />
আমার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম খুব অল্প ইঙ্কাম দিয়ে কিন্তু<br />
আমার ছেলে মেয়ে কে সেটা করতে হবে না। একদিন আমার ছেলে<br />
আমার ব্যবসার দায়িত্ব নেবে আর সে অবশ্যই একটি পরিপূর্ণ<br />
ব্যবসা থেকেই তার ক্যারিয়ার শুরু করবে কিন্তু আপনার<br />
ক্ষেত্রে পুরো সুবিধা টাই পেয়ে যাবে আপনার বসের ছেলে<br />
মেয়ে, আপনার ছেলে মেয়ে না।<br />
আপনি কোনদিনও আপনার ছেলে মেয়ে কে আপনার পজিশন টা<br />
দিয়ে যেতে পারবেন না। তাদের শুরু করতে হবে শূন্য থেকেই।<br />
আমরা দুজনই ১০ বছর আগে যেই সমস্যা গুলো মোকাবেলা<br />
করে আমাদের ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম আপনার সন্তান ও<br />
ঠিক একি ভাবে সেই কাজ টাই করবে।<br />
আপনার ছেলে যখন ১০,০০টাকা দিয়ে তার জব স্টার্ট করবে<br />
আমার ছেলে তখন আমাদের ব্যবসা কে আরও বড় করার কাজ<br />
নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। আর আপনার ছেলে যখন ম্যানেজার হবে<br />
তখন আমার ছেলে অনেক দূর পৌঁছে যাবে।<br />
এখন আপনি আমাকে বলুন কে সময় আর মেধা কে নষ্ট করছে,<br />
আপনি নাকি আমি?<br />
ম্যানেজার সমুচা বিক্রেতা কে সমুচার দাম দিয়ে দোকান থেকে<br />
চলে গেলেন, একটা কথাও বললেন না।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[একজন সমুচা বিক্রেতা ছিলেন। যার একটা দোকান ছিল অনেক<br />
বড় একটি কোম্পানির সামনেই। তার সমুচা খুব ই জনপ্রিয়<br />
ছিল ঐ এলাকার মানুষের কাছে। ঐ কোম্পানির অনেক<br />
কর্মচারী তার দোকানে আসতো সমুচা খেতে।<br />
একদিন ঐ বড় কোম্পানির একজন ম্যানেজার সমুচার দোকানে<br />
এলো সমুচা খেতে। তিনি এসে দোকানের মালিক কে বললেন "<br />
আপনি আপনার দোকান কত সুন্দর ভাবে পরিচালনা করেন<br />
আর আপনারা managerial skill ও বেশ ভালো তাহলে<br />
আপনি কেন একটি ভালো চাকুরী খুজে নিচ্ছেন না, শুধু শুধু<br />
নিজের মূল্যবান সময় আর মেধা টুকু নষ্ট করছেন। যদি একটি<br />
ভালো কাজ জোগাড় করে নিতেন তাহলে এত দিনে আপনি<br />
আমার মত ম্যানেজার হয়ে জেতেন"।<br />
বেচারা সমুচা ওয়ালা একটি হাসি দিয়ে বললেন " স্যার, আমার<br />
কাজ টা আপনার কাজের উত্তম, কীভাবে? শুনুন তাহলে। ১০<br />
বছর আগে আমি একটি টুকরি তে করে সমুচা বিক্রি করতাম।<br />
আর তখন আপনি এই কোম্পানিতে নতুন জব পেয়েছিলেন।<br />
তখন আমি মাসে ১০০০ টাকা কামাতাম আর আপনি ১০,০০০<br />
টাকা বেতন পেতেন।<br />
এই ১০ বছরের জার্নি তে আমরা দুজন ই খুব ভালো উন্নতি<br />
করেছি।<br />
এখন আপনি ইঙ্কাম করছেন মাসে ১ লাখ আর আমিও আপনার<br />
সমান , মাঝে মাঝ বেশিও হচ্ছে সেটা। তাহলে আমি নিশ্চিত<br />
ভাবে বলতে পারি আমার কাজ টি আপনার কাজের চেয়ে উত্তম।<br />
আচ্ছা আমি একটু ব্যাখ্যা করি তাহলে বুঝতে সুবিধা হবে<br />
আপনার। আমার কথা গুলো একটু মন দিয়ে শুনবেন। আমি<br />
আমার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম খুব অল্প ইঙ্কাম দিয়ে কিন্তু<br />
আমার ছেলে মেয়ে কে সেটা করতে হবে না। একদিন আমার ছেলে<br />
আমার ব্যবসার দায়িত্ব নেবে আর সে অবশ্যই একটি পরিপূর্ণ<br />
ব্যবসা থেকেই তার ক্যারিয়ার শুরু করবে কিন্তু আপনার<br />
ক্ষেত্রে পুরো সুবিধা টাই পেয়ে যাবে আপনার বসের ছেলে<br />
মেয়ে, আপনার ছেলে মেয়ে না।<br />
আপনি কোনদিনও আপনার ছেলে মেয়ে কে আপনার পজিশন টা<br />
দিয়ে যেতে পারবেন না। তাদের শুরু করতে হবে শূন্য থেকেই।<br />
আমরা দুজনই ১০ বছর আগে যেই সমস্যা গুলো মোকাবেলা<br />
করে আমাদের ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম আপনার সন্তান ও<br />
ঠিক একি ভাবে সেই কাজ টাই করবে।<br />
আপনার ছেলে যখন ১০,০০টাকা দিয়ে তার জব স্টার্ট করবে<br />
আমার ছেলে তখন আমাদের ব্যবসা কে আরও বড় করার কাজ<br />
নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। আর আপনার ছেলে যখন ম্যানেজার হবে<br />
তখন আমার ছেলে অনেক দূর পৌঁছে যাবে।<br />
এখন আপনি আমাকে বলুন কে সময় আর মেধা কে নষ্ট করছে,<br />
আপনি নাকি আমি?<br />
ম্যানেজার সমুচা বিক্রেতা কে সমুচার দাম দিয়ে দোকান থেকে<br />
চলে গেলেন, একটা কথাও বললেন না।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[ভালোবাসার মূল্য কোথায়? এ গল্পটি থেকে উপলব্ধি করুনঃ]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2065</link>
			<pubDate>Tue, 21 Feb 2017 02:33:48 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=232">Maghanath Das</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=2065</guid>
			<description><![CDATA[ভালোবাসার মূল্য<br />
কোথায়?<br />
এ গল্পটি থেকে উপলব্ধি করুনঃ<br />
অনেক অনেক দিন<br />
আগের কথা। একবার পৃথিবীর সব<br />
... অনূভূতি আর আবেগ একটা দ্বিপে বেড়াতে গিয়েছিলো।<br />
তারা তাদের প্রকৃতি অনুযায়ী অনেক সুন্দর সময় কাটাচ্ছিলো।<br />
হঠাত্ দ্বিপটাতে ঝড়ের সম্ভাবনা দেখা দিলো। সবার<br />
মধ্যে একটা আতংক এসে ভর করলো, সবাই যে যার নৌকায়<br />
উঠে গেলো ,তাছাড়া যে সব নৌকা একটু ভাঙ্গা ছিলো ।<br />
সেগুলোও ধ্রুত মেরামত করা হয়ে গেলো । যদিও<br />
"ভালবাসা (LOVE)"এত ধ্রুত সেখান থেকে পালাতে চাইলো না<br />
।কিন্তু যখন আকাশের মেঘগুলো ভীষন কালো আকার ধারন<br />
করলো , তখন সে বুঝতে পারলো যে সেখান থেকে চলে যাওয়ার<br />
সময় এসে গেছে ।<br />
কিন্তু আফসোস !!<br />
তার জন্য কোন নৌকা খালি ছিলো না।<br />
"ভালবাসা (LOVE)" অনেক আশা নিয়ে এদিক সেদিক তাকাতে<br />
লাগলো।ঠিক তখনি সে দেখতে পেলো "উন্নতি(Prosper<br />
ity)"একটা বিলাসবহুল নৌকা নিয়ে যাচ্ছে ।<br />
"ভালবাসা (LOVE)" চিত্কার করে বলল--<br />
"উন্নতি , তুমি কি আমাকে দয়া করে তোমার নৌকায় নিবে ?<br />
"উন্নতি(Prosperity)" জবাব দিলো -<br />
"না ।আমার নৌকা অনেক মূল্যবান সোনা,রূপা দিয়ে ভর্তি।<br />
এখানে তোমার<br />
জায়গা হবে না ।"<br />
একটু পর সেখান দিয়ে "অহংকার(Vanity)" খুব সুন্দর একটা<br />
নৌকা দিয়ে যাচ্ছিলো।"ভালবাসা (LOVE)"<br />
চিত্কার করে বলল--<br />
"অহংকার, তুমি কি আমাকে দয়া করে তোমার নৌকায়<br />
নিবে ?"<br />
"অহংকার(Vanity)"<br />
জবাব দিলো -<br />
"না ।আমি তোমাকে নিতে পারবো না। আমার নৌকা তোমার<br />
কাদা মাখা পায়ের কারনে ময়লা হয়ে যাবে ।"<br />
"দুঃখ(Sorrow)"কিছুক্ষন পর সেখান দিয়ে যাচ্ছিলো।<br />
"ভালবাসা (LOVE)" তার কাছে সাহায্য চাইলো।<br />
"দুঃখ(Sorrow)"বললো --<br />
"না।আমি তোমাকে নিতে পারবো না।আমার মন খারাপ।আমি<br />
একা থাকতে চাই।"<br />
"আনন্দ(Happiness)"যখন যাচ্ছিলো ,<br />
"ভালবাসা (LOVE)" তার কাছে সাহায্য চাইলো।<br />
কিন্তু "আনন্দ(Happiness)" এতটাই খুশি ছিলো যে সে<br />
কোন<br />
দিকে খেয়াল<br />
করলো না।<br />
"ভালবাসা (LOVE)"সব আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলো ।তখন<br />
হঠাত্ কেউ একজন বললো--<br />
এখানে আসো "ভালবাসা (LOVE)" আমি তোমাকে নিবো"<br />
"ভালবাসা (LOVE)"বুঝতে পারো না যে কে তার এতো বড়<br />
উপকার করলো ,কিন্তু সে আর দেরি না করে নৌকায় উঠে<br />
গেলো । সে হাফ ছেড়ে বাচলো এই ভেবে যে অবশেষে সে একটা<br />
নিরাপদ জায়গায় পৌছাতে পারবে।<br />
নৌকায় উঠে "ভালবাসা (LOVE)" পরিচিত হল "জ্ঞান<br />
(Knowledge)"<br />
এর সাথে।<br />
"ভালবাসা (LOVE)"বলল-<br />
"জ্ঞান ,তুমি কি জানো ?কে সেই লোক যে আমাকে এই বিপদ<br />
থেকে উদ্ধার করেছে, যখন কেউ আমাকে সাহায্য করছিলো না<br />
।"<br />
"জ্ঞান(Knowledge)" হেসে বলল ---"ওহ। ও ছিলো সময়<br />
(Time)"<br />
"ভালবাসা (LOVE)"-"তাহলে কেনো সময় থামলো এবং<br />
আমাকে নিরাপদ আশ্রয় দিলো।আমার জানা মতে সময় তো<br />
কখনো থামে না !"<br />
"ভালবাসা (LOVE)" বিস্মিত হল ।<br />
জ্ঞান (Knowledge)হেসে বললো--"কারন শুধু সময়ই জানে<br />
তোমার আসল মহত্ব এবং তোমার সামর্থ । শুধু মাত্র তুমিই<br />
পারো পৃথিবীতে সুখ শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে।"<br />
গল্পটি থেকে যা শিখতে পারা যায়--যখন আমরা উন্নতির চরম<br />
শিখরে থাকি, তখন<br />
আমরা ভালবাসাকে অবহেলা করি।<br />
যখন আমরা গুরুত্বপূর্ন হয়ে উঠি, তখন আমরা ভালবাসাকে<br />
ভুলে যাই।<br />
-এমনকি সুখে দুঃখেও আমরা ভালবাসাকে ভুলে যাই।<br />
-শুধু সময়ের সাথেই আমরা ভালবাসার প্রয়োজনীয়তা<br />
উপলব্ধি করি ।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[ভালোবাসার মূল্য<br />
কোথায়?<br />
এ গল্পটি থেকে উপলব্ধি করুনঃ<br />
অনেক অনেক দিন<br />
আগের কথা। একবার পৃথিবীর সব<br />
... অনূভূতি আর আবেগ একটা দ্বিপে বেড়াতে গিয়েছিলো।<br />
তারা তাদের প্রকৃতি অনুযায়ী অনেক সুন্দর সময় কাটাচ্ছিলো।<br />
হঠাত্ দ্বিপটাতে ঝড়ের সম্ভাবনা দেখা দিলো। সবার<br />
মধ্যে একটা আতংক এসে ভর করলো, সবাই যে যার নৌকায়<br />
উঠে গেলো ,তাছাড়া যে সব নৌকা একটু ভাঙ্গা ছিলো ।<br />
সেগুলোও ধ্রুত মেরামত করা হয়ে গেলো । যদিও<br />
"ভালবাসা (LOVE)"এত ধ্রুত সেখান থেকে পালাতে চাইলো না<br />
।কিন্তু যখন আকাশের মেঘগুলো ভীষন কালো আকার ধারন<br />
করলো , তখন সে বুঝতে পারলো যে সেখান থেকে চলে যাওয়ার<br />
সময় এসে গেছে ।<br />
কিন্তু আফসোস !!<br />
তার জন্য কোন নৌকা খালি ছিলো না।<br />
"ভালবাসা (LOVE)" অনেক আশা নিয়ে এদিক সেদিক তাকাতে<br />
লাগলো।ঠিক তখনি সে দেখতে পেলো "উন্নতি(Prosper<br />
ity)"একটা বিলাসবহুল নৌকা নিয়ে যাচ্ছে ।<br />
"ভালবাসা (LOVE)" চিত্কার করে বলল--<br />
"উন্নতি , তুমি কি আমাকে দয়া করে তোমার নৌকায় নিবে ?<br />
"উন্নতি(Prosperity)" জবাব দিলো -<br />
"না ।আমার নৌকা অনেক মূল্যবান সোনা,রূপা দিয়ে ভর্তি।<br />
এখানে তোমার<br />
জায়গা হবে না ।"<br />
একটু পর সেখান দিয়ে "অহংকার(Vanity)" খুব সুন্দর একটা<br />
নৌকা দিয়ে যাচ্ছিলো।"ভালবাসা (LOVE)"<br />
চিত্কার করে বলল--<br />
"অহংকার, তুমি কি আমাকে দয়া করে তোমার নৌকায়<br />
নিবে ?"<br />
"অহংকার(Vanity)"<br />
জবাব দিলো -<br />
"না ।আমি তোমাকে নিতে পারবো না। আমার নৌকা তোমার<br />
কাদা মাখা পায়ের কারনে ময়লা হয়ে যাবে ।"<br />
"দুঃখ(Sorrow)"কিছুক্ষন পর সেখান দিয়ে যাচ্ছিলো।<br />
"ভালবাসা (LOVE)" তার কাছে সাহায্য চাইলো।<br />
"দুঃখ(Sorrow)"বললো --<br />
"না।আমি তোমাকে নিতে পারবো না।আমার মন খারাপ।আমি<br />
একা থাকতে চাই।"<br />
"আনন্দ(Happiness)"যখন যাচ্ছিলো ,<br />
"ভালবাসা (LOVE)" তার কাছে সাহায্য চাইলো।<br />
কিন্তু "আনন্দ(Happiness)" এতটাই খুশি ছিলো যে সে<br />
কোন<br />
দিকে খেয়াল<br />
করলো না।<br />
"ভালবাসা (LOVE)"সব আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলো ।তখন<br />
হঠাত্ কেউ একজন বললো--<br />
এখানে আসো "ভালবাসা (LOVE)" আমি তোমাকে নিবো"<br />
"ভালবাসা (LOVE)"বুঝতে পারো না যে কে তার এতো বড়<br />
উপকার করলো ,কিন্তু সে আর দেরি না করে নৌকায় উঠে<br />
গেলো । সে হাফ ছেড়ে বাচলো এই ভেবে যে অবশেষে সে একটা<br />
নিরাপদ জায়গায় পৌছাতে পারবে।<br />
নৌকায় উঠে "ভালবাসা (LOVE)" পরিচিত হল "জ্ঞান<br />
(Knowledge)"<br />
এর সাথে।<br />
"ভালবাসা (LOVE)"বলল-<br />
"জ্ঞান ,তুমি কি জানো ?কে সেই লোক যে আমাকে এই বিপদ<br />
থেকে উদ্ধার করেছে, যখন কেউ আমাকে সাহায্য করছিলো না<br />
।"<br />
"জ্ঞান(Knowledge)" হেসে বলল ---"ওহ। ও ছিলো সময়<br />
(Time)"<br />
"ভালবাসা (LOVE)"-"তাহলে কেনো সময় থামলো এবং<br />
আমাকে নিরাপদ আশ্রয় দিলো।আমার জানা মতে সময় তো<br />
কখনো থামে না !"<br />
"ভালবাসা (LOVE)" বিস্মিত হল ।<br />
জ্ঞান (Knowledge)হেসে বললো--"কারন শুধু সময়ই জানে<br />
তোমার আসল মহত্ব এবং তোমার সামর্থ । শুধু মাত্র তুমিই<br />
পারো পৃথিবীতে সুখ শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে।"<br />
গল্পটি থেকে যা শিখতে পারা যায়--যখন আমরা উন্নতির চরম<br />
শিখরে থাকি, তখন<br />
আমরা ভালবাসাকে অবহেলা করি।<br />
যখন আমরা গুরুত্বপূর্ন হয়ে উঠি, তখন আমরা ভালবাসাকে<br />
ভুলে যাই।<br />
-এমনকি সুখে দুঃখেও আমরা ভালবাসাকে ভুলে যাই।<br />
-শুধু সময়ের সাথেই আমরা ভালবাসার প্রয়োজনীয়তা<br />
উপলব্ধি করি ।]]></content:encoded>
		</item>
	</channel>
</rss>