<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0" xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/" xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/">
	<channel>
		<title><![CDATA[Forums.Likebd.Com - রূপকথার গল্প]]></title>
		<link>http://forums.likebd.com/</link>
		<description><![CDATA[Forums.Likebd.Com - http://forums.likebd.com]]></description>
		<pubDate>Sun, 27 Sep 2026 07:20:29 +0000</pubDate>
		<generator>MyBB</generator>
		<item>
			<title><![CDATA[এক জনদরদী রাজা]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=235</link>
			<pubDate>Tue, 10 Jan 2017 08:49:06 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=235</guid>
			<description><![CDATA[এক দেশে ছিল এক জনদরদী রাজা, নাম ছিল হায়দার আলী। শ্যামলীই ছিল তাঁর এক মাত্র কণ্যা। সে অনেক দিন আগের কথা। তখনকার মানুষ খুব ভাল ছিল। কিন্তু রাজা-রাণীর মনে খুব আক্ষেপ ছিল একটি পুত্র সন্তান না হওয়ার জন্য, তবে সে কারণে আল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের কোন অভিযোগ ছিল না। বরং তাঁরা মনে প্রাণেই বিশ্বাস করতেন যে, আল্লাহ যা করেন বান্দার ভালর জন্যেই করেন।<br />
<br />
<br />
<br />
রাজা হায়দার আলী দেশের মানুষের কাছে প্রজা বান্ধব একজন প্রিয় মানুষ। রাজ্যের সীমানার মাঝে কোন অশান্তি নেই, নেই কোন অভাব অভিযোগের বিন্দু মাত্র অজুহাত। সুখের বন্যা খেলে যায় সারাটি দিনমান উৎসবের আমেজে। রাখালী বাঁশির সুরে গাছে গাছে পাখী ডাকে। মাঠে মাঠে শষ্য কণা দোলে দখিনা হাওয়ায়। মৌসুমী আনন্দের ঢেউ যেন আছড়ে পড়ে মানুষের হৃদয় মনে সারাটি বছরই বৈকালিক মিষ্টি রোদের কাব্যিক মমতায়। <br />
<br />
<br />
<br />
রাজা হায়দার আলীর প্রহর কাটে প্রজাদের মঙ্গল চিন্তায়। ভাল সময় গুলো নির্ভাবনায় কাটে বলে রাজার মনেও ছিল অফুরন্ত প্রশান্তি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে শ্যামলী মায়ের বয়স যে হাঁটি হাঁটি পা পা করে ভরা মৌসুমে পৌঁছে গেছে রাজার সে দিকে কোন খেয়ালই নেই! অথচ শ্যামলীর রূপ-গুনের আকর্ষণে বিকশিত হতে থাকে দেশ-বিদেশের ভ্রমর কূলের হৃদয় কানন!<br />
<br />
<br />
<br />
অবশ্য শ্যামলীর মাঝে ভরা বর্ষার জোয়ার থাকলেও, সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ থাকলেও তার ভয়ঙ্কর প্রকাশ নেই! দীঘির জলের মতই শান্ত, আর এখানেই তার আকর্ষনের রহস্য! সে জন্যই সে আলোচিত, আকর্ষিত এবং সর্বজন স্নেহধন্য! বাবার মতই প্রজাকূলের আস্থাভাজন, নয়নের মনি। পূর্ণিমার চাঁদের মতই আবেদন তার সকলের আঙিনায়! সুখের নহরে যেন দধির প্লাবণ!<br />
<br />
<br />
<br />
শ্যামলীর জননীও তো রাজমাতা, তাই তাঁর বিবেচনাও যুক্তি গ্রাহ্য। তিনি সবিনয়ে রাজাকে শ্যামলী মায়ের জন্য সু-পাত্রের সন্ধ্যানে মনোনিবেশ করার তাগিদ দেন। রাজা সানন্দে সম্মতি জানালেন বটে, কিন্তু সাথে সাথে প্রজাকূল ও দেশের ভবিষ্যৎ চিন্তায় ভেতরে ভেতরে মনোবেদনায় আহতও হলেন। যেহেতু তাঁর কোন পুত্র সন্তান নেই তাই তাঁর আসন্ন বার্ধক্য এবং জীবনাবসানের চিরন্তন সত্যকে উপেক্ষা না করার মানসিকতাই তাঁকে আরও সচেতন ও সতর্ক সিদ্ধান্তের প্রতি মনোযোগী করে তুলল।<br />
<br />
<br />
<br />
এতদিনে সম্মানিত সভাষদ ও শুভাকাঙ্খী পারিষদবর্গ এই প্রথম লক্ষ্য করলেন রাজাকে ক্ষণিক চিন্তার রেখা যুক্ত কাতরতা নিয়ে দরবারে আসতে! সবার মাঝেই একটা অজানা আশংকা দানা বাধায় শীতলতার আস্তরনে পরিবেশ যেন আচমকাই নিরবতার গভীরে নিমজ্জিত হ’লো। রাজা লক্ষ্য করলেন, বুঝলেন এবং একটু সময় নিয়ে সবার উদ্দেশ্যে রাজদুহিতা শ্যামলী মায়ের জন্য একজন সু-পাত্র সন্ধ্যানের আহবান জানালেন। এতক্ষণে সবাই যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন এবং ঈষৎ আনন্দের ঘ্রাণ যেন তরঙ্গে ভেসে ভেসে সবাইকে ছুঁয়ে দিয়ে পুলকিত করে গেল। গভীর গুঞ্জরণে উজ্জীবিত দরবার রাজাকে আশাবাদী করে তুলল। ভাল লাগা প্রহর গুলো সব সময়েই দ্রুত লয়ে গত হয়!<br />
<br />
<br />
<br />
রাজদুহিতার পানি গ্রহণের বাসনা জাগে অনেকেরই মনে । এমনকি সীমানার ওপারে দিগন্ত রেখায়ও জাগে প্রেমিক প্রবর ! রাজা হায়দার আলীর কাছে পৌঁছে যায় প্রতিবেশী দেশের মহারাজার পুত্রবধু বানাবার সাধের আভাস ! হায়দার আলীর চিন্তার রেখা গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকে। রাজমাতার ব্যাকুলতার মাত্রাও বাড়তে থাকে বিস্তৃত আকারে। অবশ্য নানান সুত্রে রাজার কাছে আরও সু-পাত্রের খবরাখবর আসতে থাকে, কিন্তু রাজার মনে অশান্তির আগুন ধিক্ ধিক্ করে জ্বলতে থাকে। কারণ অনুসন্ধ্যানে ব্যস্ত পারিষদবর্গ। রাজা পরিস্থিতি অনুধাবন করে সিদ্ধান্ত নিলেন বিষয়টা খোলাসা করার। কিন্তু দৈবাৎ বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত সীমান্তবাসীদের উপর দুরবর্তী অঞ্চলের অরণ্যাশ্রিত দস্যুদের সশস্ত্র আক্রমনে উদ্বিগ্ন রাজা হায়দার আলী সৈন্যদের উপর দস্যু দমনের নির্দেশ দানের সাথে সাথে প্রতিবেশী রাজ্যের রাজপুত্রের নেতৃত্বে অন্য একটা সেনা দল এসে সহযোগিতা করে দস্যুদের পরাজিত করায় দেশে পূণরায় শান্তির সুবাতাস বইতে থাকে।<br />
<br />
<br />
<br />
রাজা হায়দার আলী প্রতিবেশী রাজ্যের মহারাজার প্রতি যথারীতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সত্য, কিন্তু তাঁর সুদুর প্রসারী চিন্তার রেখাচিত্রে ধরা পড়ে একটা নীল নক্সার আগ্রাসী আয়োজন! তাই তো তিনি প্রতিবেশী মহারাজার পক্ষ্ থেকে কোন প্রকার প্রস্তাব আসার আগেই শ্যামলীর জন্য পাত্র নির্বাচনের সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করতে মনস্থির করলেন।<br />
<br />
<br />
<br />
ইতোমধ্যে রাজা পাত্রদের যে তালিকা প্রস্তুত করেছেন তার শীর্ষে যে দুজন পাত্রের অবস্থান, তাদের কেউই শৌর্যে-বীর্যে, জ্ঞান-গরিমায়, বংশ লতিকায় কারো চেয়ে কম নয়। রাজমাতা, পারিষদবর্গ এবং রাজা নিজেও দু’জনেরই আচার-আচরণেও মুগ্ধ। তাই রাজা চাইছিলেন শ্যামলী মায়ের ইচ্ছাকেই চুড়ান্ত রূপ দিতে কিন্তু শ্যামলীও চায় সবার পছন্দকেই সম্মান জানাতে। ফলে বিষয়টা একদিকে যেমন জানাজানি হয়ে গেল তেমনি সৃষ্টি হলো দীর্ঘ সুত্রিতার।<br />
<br />
<br />
<br />
প্রতিবেশী রাজ্যের মহারাজাও যেন এমন একটা সুযোগের অপেক্ষায়ই ছিলেন। তাই তি্নি এই মোক্ষম সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে নিজের খায়েশ পূরণের রাস্তা তৈরীতে অগ্রসর হতে থাকেন। শান্তিপূর্ণ রাজ্যের মধ্যে অনুচর ঢুকিয়ে, তাদের দ্বারা এমন সব অপকর্ম করে করে দুই পাত্রের বিরুদ্ধেই এমন ভাবে অপবাদের বোঝা চাপিয়ে দিতে থাকে যাতে করে দুই পাত্রের বিরুদ্ধেই সবার মনে ঘৃণার সৃষ্টি হয়, সেই সুযোগে মহারাজা স্বীয় পুত্রের পক্ষে যেন রাজা হায়দার আলীর কাছে প্রস্তাব পাঠাতে পারে।<br />
<br />
<br />
<br />
ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! উদ্ভূত পরিস্থিতে রাজা হায়দার আলীর ধারণাকে পাশ কাটিয়ে রাজ্যের সমগ্র প্রজাকে বিভাজিত করে ভাগ করে দিল দুই শিবিরে! শান্তির রাজ্যে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল অশান্তির আগুন। রাজা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে যার পর নাই চাপ সৃষ্টি করলেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর। কিন্তু রাতের আঁধারে ঘটে যাওয়া ঘটনার ক্রীড়নকরা সীমান্তের ওপারে গা ঢাঁকা দেওয়ার কারণে কিছুতেই সকল বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ও তদন্তের কোন কূল কিনারা করতে না পারায় চাকরী ও সম্মান রক্ষার্থে ভুল মানুষকে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে থাকে। ফলে মানুষের মনে আস্থাহীনতাও বাড়তে থাকে দুরন্ত বেগে! ফলে মুহুর্ত্তে ফুঁসে ওঠে শান্তির সুশীতল ছায়া তলে বেড়ে ওঠা একটা ভূ-স্বর্গ সম সুশৃঙ্খল জনপদ!<br />
<br />
<br />
<br />
রাজদুহিতা শ্যামলীর বিয়ে তো দুরের কথা, মানুষের নির্ঘুম রজনীই হয়ে গেল রাজা হায়দার আলীর দুঃশ্চিন্তার মূখ্য কারণ! আর প্রতিবেশী রাজ্যের মহারাজাও প্রহর গুনতে থাকে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[এক দেশে ছিল এক জনদরদী রাজা, নাম ছিল হায়দার আলী। শ্যামলীই ছিল তাঁর এক মাত্র কণ্যা। সে অনেক দিন আগের কথা। তখনকার মানুষ খুব ভাল ছিল। কিন্তু রাজা-রাণীর মনে খুব আক্ষেপ ছিল একটি পুত্র সন্তান না হওয়ার জন্য, তবে সে কারণে আল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের কোন অভিযোগ ছিল না। বরং তাঁরা মনে প্রাণেই বিশ্বাস করতেন যে, আল্লাহ যা করেন বান্দার ভালর জন্যেই করেন।<br />
<br />
<br />
<br />
রাজা হায়দার আলী দেশের মানুষের কাছে প্রজা বান্ধব একজন প্রিয় মানুষ। রাজ্যের সীমানার মাঝে কোন অশান্তি নেই, নেই কোন অভাব অভিযোগের বিন্দু মাত্র অজুহাত। সুখের বন্যা খেলে যায় সারাটি দিনমান উৎসবের আমেজে। রাখালী বাঁশির সুরে গাছে গাছে পাখী ডাকে। মাঠে মাঠে শষ্য কণা দোলে দখিনা হাওয়ায়। মৌসুমী আনন্দের ঢেউ যেন আছড়ে পড়ে মানুষের হৃদয় মনে সারাটি বছরই বৈকালিক মিষ্টি রোদের কাব্যিক মমতায়। <br />
<br />
<br />
<br />
রাজা হায়দার আলীর প্রহর কাটে প্রজাদের মঙ্গল চিন্তায়। ভাল সময় গুলো নির্ভাবনায় কাটে বলে রাজার মনেও ছিল অফুরন্ত প্রশান্তি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে শ্যামলী মায়ের বয়স যে হাঁটি হাঁটি পা পা করে ভরা মৌসুমে পৌঁছে গেছে রাজার সে দিকে কোন খেয়ালই নেই! অথচ শ্যামলীর রূপ-গুনের আকর্ষণে বিকশিত হতে থাকে দেশ-বিদেশের ভ্রমর কূলের হৃদয় কানন!<br />
<br />
<br />
<br />
অবশ্য শ্যামলীর মাঝে ভরা বর্ষার জোয়ার থাকলেও, সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ থাকলেও তার ভয়ঙ্কর প্রকাশ নেই! দীঘির জলের মতই শান্ত, আর এখানেই তার আকর্ষনের রহস্য! সে জন্যই সে আলোচিত, আকর্ষিত এবং সর্বজন স্নেহধন্য! বাবার মতই প্রজাকূলের আস্থাভাজন, নয়নের মনি। পূর্ণিমার চাঁদের মতই আবেদন তার সকলের আঙিনায়! সুখের নহরে যেন দধির প্লাবণ!<br />
<br />
<br />
<br />
শ্যামলীর জননীও তো রাজমাতা, তাই তাঁর বিবেচনাও যুক্তি গ্রাহ্য। তিনি সবিনয়ে রাজাকে শ্যামলী মায়ের জন্য সু-পাত্রের সন্ধ্যানে মনোনিবেশ করার তাগিদ দেন। রাজা সানন্দে সম্মতি জানালেন বটে, কিন্তু সাথে সাথে প্রজাকূল ও দেশের ভবিষ্যৎ চিন্তায় ভেতরে ভেতরে মনোবেদনায় আহতও হলেন। যেহেতু তাঁর কোন পুত্র সন্তান নেই তাই তাঁর আসন্ন বার্ধক্য এবং জীবনাবসানের চিরন্তন সত্যকে উপেক্ষা না করার মানসিকতাই তাঁকে আরও সচেতন ও সতর্ক সিদ্ধান্তের প্রতি মনোযোগী করে তুলল।<br />
<br />
<br />
<br />
এতদিনে সম্মানিত সভাষদ ও শুভাকাঙ্খী পারিষদবর্গ এই প্রথম লক্ষ্য করলেন রাজাকে ক্ষণিক চিন্তার রেখা যুক্ত কাতরতা নিয়ে দরবারে আসতে! সবার মাঝেই একটা অজানা আশংকা দানা বাধায় শীতলতার আস্তরনে পরিবেশ যেন আচমকাই নিরবতার গভীরে নিমজ্জিত হ’লো। রাজা লক্ষ্য করলেন, বুঝলেন এবং একটু সময় নিয়ে সবার উদ্দেশ্যে রাজদুহিতা শ্যামলী মায়ের জন্য একজন সু-পাত্র সন্ধ্যানের আহবান জানালেন। এতক্ষণে সবাই যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন এবং ঈষৎ আনন্দের ঘ্রাণ যেন তরঙ্গে ভেসে ভেসে সবাইকে ছুঁয়ে দিয়ে পুলকিত করে গেল। গভীর গুঞ্জরণে উজ্জীবিত দরবার রাজাকে আশাবাদী করে তুলল। ভাল লাগা প্রহর গুলো সব সময়েই দ্রুত লয়ে গত হয়!<br />
<br />
<br />
<br />
রাজদুহিতার পানি গ্রহণের বাসনা জাগে অনেকেরই মনে । এমনকি সীমানার ওপারে দিগন্ত রেখায়ও জাগে প্রেমিক প্রবর ! রাজা হায়দার আলীর কাছে পৌঁছে যায় প্রতিবেশী দেশের মহারাজার পুত্রবধু বানাবার সাধের আভাস ! হায়দার আলীর চিন্তার রেখা গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকে। রাজমাতার ব্যাকুলতার মাত্রাও বাড়তে থাকে বিস্তৃত আকারে। অবশ্য নানান সুত্রে রাজার কাছে আরও সু-পাত্রের খবরাখবর আসতে থাকে, কিন্তু রাজার মনে অশান্তির আগুন ধিক্ ধিক্ করে জ্বলতে থাকে। কারণ অনুসন্ধ্যানে ব্যস্ত পারিষদবর্গ। রাজা পরিস্থিতি অনুধাবন করে সিদ্ধান্ত নিলেন বিষয়টা খোলাসা করার। কিন্তু দৈবাৎ বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত সীমান্তবাসীদের উপর দুরবর্তী অঞ্চলের অরণ্যাশ্রিত দস্যুদের সশস্ত্র আক্রমনে উদ্বিগ্ন রাজা হায়দার আলী সৈন্যদের উপর দস্যু দমনের নির্দেশ দানের সাথে সাথে প্রতিবেশী রাজ্যের রাজপুত্রের নেতৃত্বে অন্য একটা সেনা দল এসে সহযোগিতা করে দস্যুদের পরাজিত করায় দেশে পূণরায় শান্তির সুবাতাস বইতে থাকে।<br />
<br />
<br />
<br />
রাজা হায়দার আলী প্রতিবেশী রাজ্যের মহারাজার প্রতি যথারীতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সত্য, কিন্তু তাঁর সুদুর প্রসারী চিন্তার রেখাচিত্রে ধরা পড়ে একটা নীল নক্সার আগ্রাসী আয়োজন! তাই তো তিনি প্রতিবেশী মহারাজার পক্ষ্ থেকে কোন প্রকার প্রস্তাব আসার আগেই শ্যামলীর জন্য পাত্র নির্বাচনের সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করতে মনস্থির করলেন।<br />
<br />
<br />
<br />
ইতোমধ্যে রাজা পাত্রদের যে তালিকা প্রস্তুত করেছেন তার শীর্ষে যে দুজন পাত্রের অবস্থান, তাদের কেউই শৌর্যে-বীর্যে, জ্ঞান-গরিমায়, বংশ লতিকায় কারো চেয়ে কম নয়। রাজমাতা, পারিষদবর্গ এবং রাজা নিজেও দু’জনেরই আচার-আচরণেও মুগ্ধ। তাই রাজা চাইছিলেন শ্যামলী মায়ের ইচ্ছাকেই চুড়ান্ত রূপ দিতে কিন্তু শ্যামলীও চায় সবার পছন্দকেই সম্মান জানাতে। ফলে বিষয়টা একদিকে যেমন জানাজানি হয়ে গেল তেমনি সৃষ্টি হলো দীর্ঘ সুত্রিতার।<br />
<br />
<br />
<br />
প্রতিবেশী রাজ্যের মহারাজাও যেন এমন একটা সুযোগের অপেক্ষায়ই ছিলেন। তাই তি্নি এই মোক্ষম সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে নিজের খায়েশ পূরণের রাস্তা তৈরীতে অগ্রসর হতে থাকেন। শান্তিপূর্ণ রাজ্যের মধ্যে অনুচর ঢুকিয়ে, তাদের দ্বারা এমন সব অপকর্ম করে করে দুই পাত্রের বিরুদ্ধেই এমন ভাবে অপবাদের বোঝা চাপিয়ে দিতে থাকে যাতে করে দুই পাত্রের বিরুদ্ধেই সবার মনে ঘৃণার সৃষ্টি হয়, সেই সুযোগে মহারাজা স্বীয় পুত্রের পক্ষে যেন রাজা হায়দার আলীর কাছে প্রস্তাব পাঠাতে পারে।<br />
<br />
<br />
<br />
ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! উদ্ভূত পরিস্থিতে রাজা হায়দার আলীর ধারণাকে পাশ কাটিয়ে রাজ্যের সমগ্র প্রজাকে বিভাজিত করে ভাগ করে দিল দুই শিবিরে! শান্তির রাজ্যে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল অশান্তির আগুন। রাজা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে যার পর নাই চাপ সৃষ্টি করলেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর। কিন্তু রাতের আঁধারে ঘটে যাওয়া ঘটনার ক্রীড়নকরা সীমান্তের ওপারে গা ঢাঁকা দেওয়ার কারণে কিছুতেই সকল বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ও তদন্তের কোন কূল কিনারা করতে না পারায় চাকরী ও সম্মান রক্ষার্থে ভুল মানুষকে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে থাকে। ফলে মানুষের মনে আস্থাহীনতাও বাড়তে থাকে দুরন্ত বেগে! ফলে মুহুর্ত্তে ফুঁসে ওঠে শান্তির সুশীতল ছায়া তলে বেড়ে ওঠা একটা ভূ-স্বর্গ সম সুশৃঙ্খল জনপদ!<br />
<br />
<br />
<br />
রাজদুহিতা শ্যামলীর বিয়ে তো দুরের কথা, মানুষের নির্ঘুম রজনীই হয়ে গেল রাজা হায়দার আলীর দুঃশ্চিন্তার মূখ্য কারণ! আর প্রতিবেশী রাজ্যের মহারাজাও প্রহর গুনতে থাকে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[গম্ভীর রানীর গল্প]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=234</link>
			<pubDate>Tue, 10 Jan 2017 08:48:48 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=234</guid>
			<description><![CDATA[অনেক দিন আগের কথা, চীন দেশে ছিল এক রাজা। রাজার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘো্ড়া, রাজ্যজুড়ে সুখ আর শান্তি। রাজার প্রজা প্রতিপত্তি সব ছিল। ছিল না শুধু মনে সুখ। রাজার খালি থেকে থেকে বড় একা লাগত। আসলে সেই দেশের রাজার সব ছিল, ছিল না শুধু এক রানী। তাই এই মনের অসুখ। একদিন রাজা ঠিক করলেন যে তাঁর সৈন্য-সামন্তদের নিয়ে যাবেন রানীর সন্ধানে। যেমনটি ভাবা তেমনটি কাজ। রাজা তাঁর সব চেয়ে তেজী ঘোড়াটা আর তাঁর সাতজন সবচেয়ে বিশ্বাসী আর বলিষ্ঠ সৈন্যদের নিয়ে বেরিয়ে পরলেন রানীর সন্ধানে, দেশ থেকে দেশান্তরে। নানান দেশে যান। কত দেশের কত সুন্দরী রাজকন্যে। তাদের নানান গুণ। কিন্তু রাজার মন ভরে না। কোথাই সেই মেয়ে যে রাজার মনে এনে দেবে দু দণ্ডের শান্তি, সেই সুখ। একদিন রাজা তাঁর সৈন্যসামন্তদের নিয়ে এসে পৌঁছলেন এক হ্রদের তীরে। সন্ধ্যা নেমে আসছিল, তাই তিনি ঠিক করলেন রাতটা এখানেই থেকে যাবেন। সৈন্যদের ডেকে তিনি আদেশ দিলেন হ্রদের ধারে তাঁবু খাটাতে। রাত্রে খাবার আয়োজন চলছে, এমন সময় রাজার কানে এল এক অদ্ভুত সুন্দর সুর। রাজা সেই সুরের খোঁজে হ্রদের কাছে এসে দেখলেন একটি মেয়ে চাঁদনী আলোয় হ্রদের মধ্যে ছোটো এক নৌকা বিহার করছে । চাঁদের আলোয় সেই মেয়ের অপূর্ব মায়াবী মুখখানি দেখে রাজার বুকে অচেনা এক ঢেউ চলকে উঠল। যেন এই মেয়েকেই তিনি খুঁজে চলেছিলেন এতদিন। এই মেয়েটিই গাইছে সেই অদ্ভুত মিষ্টি গান। রাজা তাঁর সৈন্যসামন্তদের ডেকে বললেন, মেয়েটিকে ডেকে আনতে।<br />
<br />
<br />
<br />
নৌকাটি তীরে এসে পৌছল। রাজা মেয়েটিকে হাত ধরে নিয়ে এলেন পাড়ে, নিমন্ত্রণ জানালেন তাঁর সাথে নৈশভোজের। মেয়েটি সেই নিমন্ত্রণ গ্রহণ করে রাজার সাথে তাঁর তাঁবুতে এসে বসল। রাজা নানান কথার মাঝে তাকে তাঁর ভাললাগার কথা বললেন। বললেন তাকে তাঁর রানী করে দেশে নিয়ে যেতে চান। মেয়েটি শুনে জিজ্ঞেস করল তিনি তো তাকে আজই প্রথম দেখলেন, তাকে ঠিক মত চেনেনও না, তবে কেন তাকেই রানী করতে চান? সেই শুনে রাজা মেয়েটি কে সব খুলে বললেন। এও বললেন তিনি বহু দিন ধরে তারই মতো কাউকে খুঁজে চলেছিলেন দেশ-বিদেশে। রাজা তাকে আসস্ত্ব করলেন তিনি তাঁর সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে তাকে ভরিয়ে রাখবেন। তার সমস্ত সুখের খেয়াল রাখবেন। সেই শুনে মেয়েটি তাঁর প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে তাঁকে বিয়ে করতে রাজি হল। রাজার আনন্দ আর ধরে না। পরদিন ভোরবেলা তিনি তাঁর সৈন্যসামন্তদের নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন তাঁর রাজধানীর পথে। কিন্তু এতো কথার মাঝে রাজা তো ভুলেই গেছেন মেয়েটির নাম জিজ্ঞেস করতে। রাজা জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার নাম কি?” মেয়েটি জানালো তার নাম জীনা। সে নানান দেশ এ ঘুরে এখানে এসেছে। কিন্তু এর বেশি সে আর কোন কোথাই বলল না। রাজা লক্ষ্য করলেন জীনা চুপচাপ। তেমন কোন কোথাই বলছে না। রাজা তাঁকে তার বিশণ্ণতার কথা জিজ্ঞেস করতে সে বলল “চিন্তার কিছু নেই, সব ঠিক হয়ে যাবে”।<br />
<br />
<br />
<br />
রাজা ফিরে এলেন দেশে। বিয়ে করলেন তাঁর বহু আকাঙ্ক্ষিত সেই মেয়েটিকে। দেশ জুড়ে তিনদিন ধরে চললো আনন্দের উৎসব। সবাই ভীষণ খুশী নতুন রানীকে পেয়ে। নানান রঙে নানান খুশীতে ভরে উঠল রাজার মন। কিন্তু হায়...রানীর মুখে কোথাও হাসির দেখা নাই। রানী তাঁর সব কর্তব্য সব দায়িত্ব নিপুণ হাতে নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। রানীকে পেয়ে রাজ্যের সব প্রজা ভীষণ খুশী। কিন্তু, রানীর মুখে এক অদ্ভুত বিশণ্ণতা। রানীকে রাজা বহুবার জিজ্ঞেস করেছেন, তাঁর কি এই প্রাসাদে কোন অসুবিধা বা মনে কোন দুঃখ আছে কিনা। রানী তাঁর কোন উত্তরই দেন না। চুপ থাকেন। <br />
<br />
<br />
<br />
রাজা তাঁর রানীর মুখে হাসি ফোটানোর জন্যে কতকিছু করলেন, কত ভেলকিবাজি কত মশকরা দেখালেন, কিন্তু রানীর মুখে হাসি নেই। রাজার কোন পন্থাই কাজে দিল না রানীর মুখে হাসি ফটাতে। একদিন রাজার মাথায় এক অভিনব পন্থা এল রানীর মুখে হাসি আনার। তিনি তাঁর সবছেয়ে বিস্বস্ত্ব উপদেষ্টাকে ডেকে বললেন সন্ধ্যেবেলা তিনি যখন তাঁর নিজের কক্ষে থাকবেন রানীর সাথে তখন সে যেন এসে বলে বিদেশী সৈন্যরা এসে দরজায় উপস্থিত, তাঁর প্রাসাদ দখল হতে চলেছে।<br />
<br />
<br />
<br />
সেইদিন নৈশভোজের পর রাজা তাঁর রানীকে নিয়ে তাঁর শয়নকক্ষে ছিলেন। রাজা তাঁর পালঙ্কে বসে হস্তাঙ্কন অভ্যাস করছিলেন আর রানী তাঁর এলো চুল আঁচড়াচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁর পারিষদ দৌড়োতে দৌড়াতে এসে বলল –<br />
<br />
“মহারাজ, বিদেশী সৈন্যরা এসে প্রাসাদের দরজায় প্রাসাদ দখল করতে এসেছে, তাড়াতাড়ি চলুন।” এই শুনে রাজা তাড়াহুড়ো করে পালঙ্ক থেকে ঊঠতে গেলে তাঁর দোয়াত ঊল্টে সমস্ত কালি চোখেমুখে লেগে গেল। তাই দেখে রাণী হাসিতে ফেটে পরলেন। রাজা রাণীর এই হাসি দেখে আনন্দে লাফালাফী করতে লাগলেন। অবশেষে তাঁর পন্থা কাজে দিয়েছে। তিনি রাণীকে সব খুলে বললেন যে তিনি তাঁর মূখে হাসি ফোটানোর জন্যে এই কীর্তি করেছেন। সেই শুনে রাণী দ্বিগুণ হাসিতে ফেটে পরলেন। <br />
<br />
<br />
<br />
কিন্তু পরদিন রাণীর মুখে আবার সেই বিষণ্ণতা ফিরে এলো। রাণীর মুখে হাসি আবার কোথাই হারিয়ে গেল। রাজা ভাবলেন রাণীর অতীতে নিশ্চয় কোনো দুঃখর ঘটনা ঘটেছে, তাই তাঁর এই বিষণ্ণতা বারবার ফিরে আসে। এমন সময় রাজার এক দূত ছুটতে ছুটতে এসে খবর দিল – “মহারাজ, বিদেশী সৈন্য এসে সিংহদুয়ার দখল করেছে, আর বেশী দেরী নেই প্রাসাদ দখল করতে।” রাজা ভাবলেন সে বোধহয় রাণীর মুখে হাসি ফেরানোর জন্যে এই কথা বলছে। রাজা বললেন - “এই কথায় রাণী আর হাসবেনা দূত, অন্য ঊপায় ভাব।” কিন্তু হায়! কোন উপায় নাই। দূত বলল - “মহারাজ এবার সত্যই বিদেশী সৈন্য প্রাসাদ আক্রমণ করেছে।। রাজা বাইরে এসে দেখলেন তাঁর প্রাসাদ বিদেশী সৈন্যরা ঘিরে ফেলেছে। কামানের গোলা এসে পড়ছে প্রাসাদের গায়ে।<br />
<br />
<br />
<br />
রাজা চিৎকার করে তাঁর সৈন্যদের ডাকলেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে গেছে। বিদেশী রাজা এসে রাজার সৈন্যসামন্তদের মেরে ফেললেন। রাজাকেও তাঁর হাতে প্রাণ দিতে হলো। বিদেশী রাজা এসে তাঁর রাজ্য, রাজপ্রাসাদ, এমনকি তাঁর রাণীও দখল করে বসল। রাজা তাঁর রাণী জিনার হাসির মাসুল দিলেন।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[অনেক দিন আগের কথা, চীন দেশে ছিল এক রাজা। রাজার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘো্ড়া, রাজ্যজুড়ে সুখ আর শান্তি। রাজার প্রজা প্রতিপত্তি সব ছিল। ছিল না শুধু মনে সুখ। রাজার খালি থেকে থেকে বড় একা লাগত। আসলে সেই দেশের রাজার সব ছিল, ছিল না শুধু এক রানী। তাই এই মনের অসুখ। একদিন রাজা ঠিক করলেন যে তাঁর সৈন্য-সামন্তদের নিয়ে যাবেন রানীর সন্ধানে। যেমনটি ভাবা তেমনটি কাজ। রাজা তাঁর সব চেয়ে তেজী ঘোড়াটা আর তাঁর সাতজন সবচেয়ে বিশ্বাসী আর বলিষ্ঠ সৈন্যদের নিয়ে বেরিয়ে পরলেন রানীর সন্ধানে, দেশ থেকে দেশান্তরে। নানান দেশে যান। কত দেশের কত সুন্দরী রাজকন্যে। তাদের নানান গুণ। কিন্তু রাজার মন ভরে না। কোথাই সেই মেয়ে যে রাজার মনে এনে দেবে দু দণ্ডের শান্তি, সেই সুখ। একদিন রাজা তাঁর সৈন্যসামন্তদের নিয়ে এসে পৌঁছলেন এক হ্রদের তীরে। সন্ধ্যা নেমে আসছিল, তাই তিনি ঠিক করলেন রাতটা এখানেই থেকে যাবেন। সৈন্যদের ডেকে তিনি আদেশ দিলেন হ্রদের ধারে তাঁবু খাটাতে। রাত্রে খাবার আয়োজন চলছে, এমন সময় রাজার কানে এল এক অদ্ভুত সুন্দর সুর। রাজা সেই সুরের খোঁজে হ্রদের কাছে এসে দেখলেন একটি মেয়ে চাঁদনী আলোয় হ্রদের মধ্যে ছোটো এক নৌকা বিহার করছে । চাঁদের আলোয় সেই মেয়ের অপূর্ব মায়াবী মুখখানি দেখে রাজার বুকে অচেনা এক ঢেউ চলকে উঠল। যেন এই মেয়েকেই তিনি খুঁজে চলেছিলেন এতদিন। এই মেয়েটিই গাইছে সেই অদ্ভুত মিষ্টি গান। রাজা তাঁর সৈন্যসামন্তদের ডেকে বললেন, মেয়েটিকে ডেকে আনতে।<br />
<br />
<br />
<br />
নৌকাটি তীরে এসে পৌছল। রাজা মেয়েটিকে হাত ধরে নিয়ে এলেন পাড়ে, নিমন্ত্রণ জানালেন তাঁর সাথে নৈশভোজের। মেয়েটি সেই নিমন্ত্রণ গ্রহণ করে রাজার সাথে তাঁর তাঁবুতে এসে বসল। রাজা নানান কথার মাঝে তাকে তাঁর ভাললাগার কথা বললেন। বললেন তাকে তাঁর রানী করে দেশে নিয়ে যেতে চান। মেয়েটি শুনে জিজ্ঞেস করল তিনি তো তাকে আজই প্রথম দেখলেন, তাকে ঠিক মত চেনেনও না, তবে কেন তাকেই রানী করতে চান? সেই শুনে রাজা মেয়েটি কে সব খুলে বললেন। এও বললেন তিনি বহু দিন ধরে তারই মতো কাউকে খুঁজে চলেছিলেন দেশ-বিদেশে। রাজা তাকে আসস্ত্ব করলেন তিনি তাঁর সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে তাকে ভরিয়ে রাখবেন। তার সমস্ত সুখের খেয়াল রাখবেন। সেই শুনে মেয়েটি তাঁর প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে তাঁকে বিয়ে করতে রাজি হল। রাজার আনন্দ আর ধরে না। পরদিন ভোরবেলা তিনি তাঁর সৈন্যসামন্তদের নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন তাঁর রাজধানীর পথে। কিন্তু এতো কথার মাঝে রাজা তো ভুলেই গেছেন মেয়েটির নাম জিজ্ঞেস করতে। রাজা জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার নাম কি?” মেয়েটি জানালো তার নাম জীনা। সে নানান দেশ এ ঘুরে এখানে এসেছে। কিন্তু এর বেশি সে আর কোন কোথাই বলল না। রাজা লক্ষ্য করলেন জীনা চুপচাপ। তেমন কোন কোথাই বলছে না। রাজা তাঁকে তার বিশণ্ণতার কথা জিজ্ঞেস করতে সে বলল “চিন্তার কিছু নেই, সব ঠিক হয়ে যাবে”।<br />
<br />
<br />
<br />
রাজা ফিরে এলেন দেশে। বিয়ে করলেন তাঁর বহু আকাঙ্ক্ষিত সেই মেয়েটিকে। দেশ জুড়ে তিনদিন ধরে চললো আনন্দের উৎসব। সবাই ভীষণ খুশী নতুন রানীকে পেয়ে। নানান রঙে নানান খুশীতে ভরে উঠল রাজার মন। কিন্তু হায়...রানীর মুখে কোথাও হাসির দেখা নাই। রানী তাঁর সব কর্তব্য সব দায়িত্ব নিপুণ হাতে নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। রানীকে পেয়ে রাজ্যের সব প্রজা ভীষণ খুশী। কিন্তু, রানীর মুখে এক অদ্ভুত বিশণ্ণতা। রানীকে রাজা বহুবার জিজ্ঞেস করেছেন, তাঁর কি এই প্রাসাদে কোন অসুবিধা বা মনে কোন দুঃখ আছে কিনা। রানী তাঁর কোন উত্তরই দেন না। চুপ থাকেন। <br />
<br />
<br />
<br />
রাজা তাঁর রানীর মুখে হাসি ফোটানোর জন্যে কতকিছু করলেন, কত ভেলকিবাজি কত মশকরা দেখালেন, কিন্তু রানীর মুখে হাসি নেই। রাজার কোন পন্থাই কাজে দিল না রানীর মুখে হাসি ফটাতে। একদিন রাজার মাথায় এক অভিনব পন্থা এল রানীর মুখে হাসি আনার। তিনি তাঁর সবছেয়ে বিস্বস্ত্ব উপদেষ্টাকে ডেকে বললেন সন্ধ্যেবেলা তিনি যখন তাঁর নিজের কক্ষে থাকবেন রানীর সাথে তখন সে যেন এসে বলে বিদেশী সৈন্যরা এসে দরজায় উপস্থিত, তাঁর প্রাসাদ দখল হতে চলেছে।<br />
<br />
<br />
<br />
সেইদিন নৈশভোজের পর রাজা তাঁর রানীকে নিয়ে তাঁর শয়নকক্ষে ছিলেন। রাজা তাঁর পালঙ্কে বসে হস্তাঙ্কন অভ্যাস করছিলেন আর রানী তাঁর এলো চুল আঁচড়াচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁর পারিষদ দৌড়োতে দৌড়াতে এসে বলল –<br />
<br />
“মহারাজ, বিদেশী সৈন্যরা এসে প্রাসাদের দরজায় প্রাসাদ দখল করতে এসেছে, তাড়াতাড়ি চলুন।” এই শুনে রাজা তাড়াহুড়ো করে পালঙ্ক থেকে ঊঠতে গেলে তাঁর দোয়াত ঊল্টে সমস্ত কালি চোখেমুখে লেগে গেল। তাই দেখে রাণী হাসিতে ফেটে পরলেন। রাজা রাণীর এই হাসি দেখে আনন্দে লাফালাফী করতে লাগলেন। অবশেষে তাঁর পন্থা কাজে দিয়েছে। তিনি রাণীকে সব খুলে বললেন যে তিনি তাঁর মূখে হাসি ফোটানোর জন্যে এই কীর্তি করেছেন। সেই শুনে রাণী দ্বিগুণ হাসিতে ফেটে পরলেন। <br />
<br />
<br />
<br />
কিন্তু পরদিন রাণীর মুখে আবার সেই বিষণ্ণতা ফিরে এলো। রাণীর মুখে হাসি আবার কোথাই হারিয়ে গেল। রাজা ভাবলেন রাণীর অতীতে নিশ্চয় কোনো দুঃখর ঘটনা ঘটেছে, তাই তাঁর এই বিষণ্ণতা বারবার ফিরে আসে। এমন সময় রাজার এক দূত ছুটতে ছুটতে এসে খবর দিল – “মহারাজ, বিদেশী সৈন্য এসে সিংহদুয়ার দখল করেছে, আর বেশী দেরী নেই প্রাসাদ দখল করতে।” রাজা ভাবলেন সে বোধহয় রাণীর মুখে হাসি ফেরানোর জন্যে এই কথা বলছে। রাজা বললেন - “এই কথায় রাণী আর হাসবেনা দূত, অন্য ঊপায় ভাব।” কিন্তু হায়! কোন উপায় নাই। দূত বলল - “মহারাজ এবার সত্যই বিদেশী সৈন্য প্রাসাদ আক্রমণ করেছে।। রাজা বাইরে এসে দেখলেন তাঁর প্রাসাদ বিদেশী সৈন্যরা ঘিরে ফেলেছে। কামানের গোলা এসে পড়ছে প্রাসাদের গায়ে।<br />
<br />
<br />
<br />
রাজা চিৎকার করে তাঁর সৈন্যদের ডাকলেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে গেছে। বিদেশী রাজা এসে রাজার সৈন্যসামন্তদের মেরে ফেললেন। রাজাকেও তাঁর হাতে প্রাণ দিতে হলো। বিদেশী রাজা এসে তাঁর রাজ্য, রাজপ্রাসাদ, এমনকি তাঁর রাণীও দখল করে বসল। রাজা তাঁর রাণী জিনার হাসির মাসুল দিলেন।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[গ্রীম ভাইদের রূপকথা]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=233</link>
			<pubDate>Tue, 10 Jan 2017 08:48:30 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=233</guid>
			<description><![CDATA[সে অনেকদিন আগের কথা৷ এক গ্রামে বাস করতো এক বৃদ্ধ কাঠুরিয়া৷ সে বনে কাঠ কাটতো৷ সারাদিন কাঠ কেটে, তা বাজারে বিক্রি করে যে কয় টাকা পেতো, তা দিয়েই চলতো তার সংসার৷ সংসার বলতে একটি মাত্র ছোট্ট ছেলে৷<br />
<br />
<br />
<br />
সংসার খরচের টাকা থেকে একটু একটু করে বাঁচিয়ে কিছু টাকা জমালো কাঠুরিয়া৷ তারপর এক সকালে সে টাকা ছেলেটির হাতে দিয়ে বললো,<br />
<br />
<br />
<br />
: তোমার জন্য আমি এই কয়েকটি টাকা জমিয়েছি৷ তুমি আমার এক মাত্র সন্তান৷ তোমাকে স্কুলে যেতে হবে৷ চলো তোমাকে স্কুলে ভর্তি করে দিই৷ তোমার পড়া লেখার পর আমি যখন খুব বৃদ্ধ হয়ে যাবো, যখন কাজ করতে পারবো না, তখন তুমি আমাকে সাহায্য করতে পারবে৷ বৃদ্ধ বয়সে তো আর কুঠার চালাতে পারবো না৷ ঘরে আগুনের পাশে বসে থাকা ছাড়া আমার আর কি করার আছে বলো?<br />
<br />
<br />
<br />
ছেলেটি স্কুলে ভর্তি হলো৷ পড়ালেখা করতে থাকলো খুব মনোযোগ দিয়ে৷ স্কুল পাশ করে কলেজে ভর্তি হবার আগে সে গেলো তাদের গ্রামে৷<br />
<br />
<br />
<br />
আহা... তাদের গ্রামটি কত সুন্দর৷ তিন দিকে পাহাড়, একদিকে বন৷ ঘন বন৷ কত গাছ সেখানে৷<br />
<br />
<br />
<br />
ছেলেকে দেখে বাবা বললো<br />
<br />
<br />
<br />
: দেখো আমি তোমার জন্য আর কিছু করতে পারবো না৷ পেট চালাবার জন্য রুটি কেনার জন্য যতটুকু কাজ করা দরকার তার বেশী আমি কাজ করতে পারি না৷<br />
<br />
<br />
<br />
বাবার অবস্থা দেখে ছেলেটি বললো<br />
<br />
<br />
<br />
: দেখো বাবা আমাকে নিয়ে চিন্তিত হবার কিছু নেই৷ খোদা চাইলে আমাদের সবচেয়ে ভালো কিছু হতে পারে৷<br />
<br />
<br />
<br />
বাবা ছেলেটির দিকে তাকালেন৷ এই ক বছরে তার ছেলেটি বেশ বুদ্ধিমান হয়ে উঠেছে৷<br />
<br />
<br />
<br />
পরদিন বাবা যখন কাঠ কাটতে বেরুবে, তখন ছেলেটি বললো<br />
<br />
<br />
<br />
: বাবা আমিও তোমার সঙ্গে যেতে চাই৷ আমিও কাঠ কাটবো৷<br />
<br />
<br />
<br />
: তযতে পারো৷ কিন্তু এ কাজটি তোমার জন্য খুবই কষ্টের হবে৷ তুমি এ ধরনের পরিশ্রমে অভ্যস্ত নও৷ আমাদের বাড়িতে তো আর একটা কুঠার নেই৷ নতুন করে কেনার মত টাকাও নেই৷ ছেলেটি বললো<br />
<br />
<br />
<br />
: এটা কোন সমস্যা নয়৷ আমরা আমাদের প্রতিবেশীর কাছ থেকে একটি কুড়াল ধার করতে পারি৷ আমি জানি কাঠ বিক্রি করে আমরা নতুন একটি কুড়াল কিনতে পারবো৷<br />
<br />
<br />
<br />
বাবা পাশের বাড়ি থেকে কুড়ালটি ধার করে আনলো৷ দুজন মিলে চলে গেলো বনে৷ সেখানে নানা রকম পাখি৷ কিচির মিচির শব্দ৷ কত রকমের গাছ, বুনো নানা জাতের ছোট গাছ মাটিতে, শ্যাওলাও আছে৷ বাবা গাছের ডাল কাটতে শুরু করলো৷ কিন্তু ছেলেটির জন্য এ কাজ মোটেও সহজ ছিল না৷<br />
<br />
<br />
<br />
সূর্য যখন মাথার ঠিক উপরে তখন বৃদ্ধ লোকটি বললো<br />
<br />
<br />
<br />
চলো আমরা একটু বিশ্রাম নিই৷ দুপুরের খাবারও খাওয়া দরকার৷<br />
<br />
<br />
<br />
ছেলেটি বললো<br />
<br />
<br />
<br />
: বাবা তুমি বিশ্রাম নাও৷ আমি বরং এ দিকটা ঘুরে দেখি৷ এখানে বেশ কয়েকটা পাখির বাসা দেখেছি৷<br />
<br />
<br />
<br />
বাবা বললো<br />
<br />
<br />
<br />
: বোকা ছেলে৷ এভাবে ঘুরলে তুমি ক্লান্ত হয়ে যাবে৷ কাজ করতে পারবে না৷ কাজ না করলে নতুন কুঠার কেনাও যাবে না৷<br />
<br />
<br />
<br />
বাবার কথায় একটু হাসি দিয়ে সে বন দেখতে বের হলো৷ একটা পুরোনো ওক গাছে যখন সে উটলো, তখন গম গম আওয়াজ শুনলো৷ আকুতি৷<br />
<br />
<br />
<br />
আমাকে বাচাও, আমাকে উদ্ধার করো৷<br />
<br />
<br />
<br />
কে বলছে এ কথা প্রথমে বেশ ভয় পেয়ে গেলো ছেলেটি৷ বললো<br />
<br />
<br />
<br />
: কোথায় তুমি?<br />
<br />
<br />
<br />
: আমি ওক গাছের নীচে৷ শিকঁড়ের কাছে৷<br />
<br />
<br />
<br />
ছেলেটি মাটি খুড়তে লাগলো৷ ওক গাছের বড় একটি শিকঁড়ের নীচে পেয়ে গেলো একটি নীল বোতল৷ সেখান থেকেই আসছে শব্দ৷ একটু কথাবার্তা বলে বোতলের ছিপি খুলে দিলো৷ তখনি ধোয়া বের হতে থাকলো৷ আর সেই ধোয়া এক সময় বিশাল দৈত্যর আকার ধারণ করলো৷ কালো কুচকুচে দৈত্য বের হয়েই সে বললো<br />
<br />
<br />
<br />
: আমি মুক্তি পেয়েছি৷ এবার আমি তোমার ঘাড় মটকাবো৷<br />
<br />
<br />
<br />
ভয় পেলো না ছেলেটি৷ বুদ্ধি করে বললো<br />
<br />
<br />
<br />
: আমি তোমার কথা বিশ্বাস করি না৷ তুমি এত বড় কিন্তু এই ছোট্ট বোতলের মধ্যে ঢুকলে কি করে৷ আমাকে দেখাবে৷ দৈত্যটি আবার যেই ঐ বোতলের মধ্যে ঢুকে বসলো ঠিক তখনি ছেলেটি বোতলের ছিপি বন্ধ করে ফেললো৷ ..........তারপর কি হলো তখন?]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[সে অনেকদিন আগের কথা৷ এক গ্রামে বাস করতো এক বৃদ্ধ কাঠুরিয়া৷ সে বনে কাঠ কাটতো৷ সারাদিন কাঠ কেটে, তা বাজারে বিক্রি করে যে কয় টাকা পেতো, তা দিয়েই চলতো তার সংসার৷ সংসার বলতে একটি মাত্র ছোট্ট ছেলে৷<br />
<br />
<br />
<br />
সংসার খরচের টাকা থেকে একটু একটু করে বাঁচিয়ে কিছু টাকা জমালো কাঠুরিয়া৷ তারপর এক সকালে সে টাকা ছেলেটির হাতে দিয়ে বললো,<br />
<br />
<br />
<br />
: তোমার জন্য আমি এই কয়েকটি টাকা জমিয়েছি৷ তুমি আমার এক মাত্র সন্তান৷ তোমাকে স্কুলে যেতে হবে৷ চলো তোমাকে স্কুলে ভর্তি করে দিই৷ তোমার পড়া লেখার পর আমি যখন খুব বৃদ্ধ হয়ে যাবো, যখন কাজ করতে পারবো না, তখন তুমি আমাকে সাহায্য করতে পারবে৷ বৃদ্ধ বয়সে তো আর কুঠার চালাতে পারবো না৷ ঘরে আগুনের পাশে বসে থাকা ছাড়া আমার আর কি করার আছে বলো?<br />
<br />
<br />
<br />
ছেলেটি স্কুলে ভর্তি হলো৷ পড়ালেখা করতে থাকলো খুব মনোযোগ দিয়ে৷ স্কুল পাশ করে কলেজে ভর্তি হবার আগে সে গেলো তাদের গ্রামে৷<br />
<br />
<br />
<br />
আহা... তাদের গ্রামটি কত সুন্দর৷ তিন দিকে পাহাড়, একদিকে বন৷ ঘন বন৷ কত গাছ সেখানে৷<br />
<br />
<br />
<br />
ছেলেকে দেখে বাবা বললো<br />
<br />
<br />
<br />
: দেখো আমি তোমার জন্য আর কিছু করতে পারবো না৷ পেট চালাবার জন্য রুটি কেনার জন্য যতটুকু কাজ করা দরকার তার বেশী আমি কাজ করতে পারি না৷<br />
<br />
<br />
<br />
বাবার অবস্থা দেখে ছেলেটি বললো<br />
<br />
<br />
<br />
: দেখো বাবা আমাকে নিয়ে চিন্তিত হবার কিছু নেই৷ খোদা চাইলে আমাদের সবচেয়ে ভালো কিছু হতে পারে৷<br />
<br />
<br />
<br />
বাবা ছেলেটির দিকে তাকালেন৷ এই ক বছরে তার ছেলেটি বেশ বুদ্ধিমান হয়ে উঠেছে৷<br />
<br />
<br />
<br />
পরদিন বাবা যখন কাঠ কাটতে বেরুবে, তখন ছেলেটি বললো<br />
<br />
<br />
<br />
: বাবা আমিও তোমার সঙ্গে যেতে চাই৷ আমিও কাঠ কাটবো৷<br />
<br />
<br />
<br />
: তযতে পারো৷ কিন্তু এ কাজটি তোমার জন্য খুবই কষ্টের হবে৷ তুমি এ ধরনের পরিশ্রমে অভ্যস্ত নও৷ আমাদের বাড়িতে তো আর একটা কুঠার নেই৷ নতুন করে কেনার মত টাকাও নেই৷ ছেলেটি বললো<br />
<br />
<br />
<br />
: এটা কোন সমস্যা নয়৷ আমরা আমাদের প্রতিবেশীর কাছ থেকে একটি কুড়াল ধার করতে পারি৷ আমি জানি কাঠ বিক্রি করে আমরা নতুন একটি কুড়াল কিনতে পারবো৷<br />
<br />
<br />
<br />
বাবা পাশের বাড়ি থেকে কুড়ালটি ধার করে আনলো৷ দুজন মিলে চলে গেলো বনে৷ সেখানে নানা রকম পাখি৷ কিচির মিচির শব্দ৷ কত রকমের গাছ, বুনো নানা জাতের ছোট গাছ মাটিতে, শ্যাওলাও আছে৷ বাবা গাছের ডাল কাটতে শুরু করলো৷ কিন্তু ছেলেটির জন্য এ কাজ মোটেও সহজ ছিল না৷<br />
<br />
<br />
<br />
সূর্য যখন মাথার ঠিক উপরে তখন বৃদ্ধ লোকটি বললো<br />
<br />
<br />
<br />
চলো আমরা একটু বিশ্রাম নিই৷ দুপুরের খাবারও খাওয়া দরকার৷<br />
<br />
<br />
<br />
ছেলেটি বললো<br />
<br />
<br />
<br />
: বাবা তুমি বিশ্রাম নাও৷ আমি বরং এ দিকটা ঘুরে দেখি৷ এখানে বেশ কয়েকটা পাখির বাসা দেখেছি৷<br />
<br />
<br />
<br />
বাবা বললো<br />
<br />
<br />
<br />
: বোকা ছেলে৷ এভাবে ঘুরলে তুমি ক্লান্ত হয়ে যাবে৷ কাজ করতে পারবে না৷ কাজ না করলে নতুন কুঠার কেনাও যাবে না৷<br />
<br />
<br />
<br />
বাবার কথায় একটু হাসি দিয়ে সে বন দেখতে বের হলো৷ একটা পুরোনো ওক গাছে যখন সে উটলো, তখন গম গম আওয়াজ শুনলো৷ আকুতি৷<br />
<br />
<br />
<br />
আমাকে বাচাও, আমাকে উদ্ধার করো৷<br />
<br />
<br />
<br />
কে বলছে এ কথা প্রথমে বেশ ভয় পেয়ে গেলো ছেলেটি৷ বললো<br />
<br />
<br />
<br />
: কোথায় তুমি?<br />
<br />
<br />
<br />
: আমি ওক গাছের নীচে৷ শিকঁড়ের কাছে৷<br />
<br />
<br />
<br />
ছেলেটি মাটি খুড়তে লাগলো৷ ওক গাছের বড় একটি শিকঁড়ের নীচে পেয়ে গেলো একটি নীল বোতল৷ সেখান থেকেই আসছে শব্দ৷ একটু কথাবার্তা বলে বোতলের ছিপি খুলে দিলো৷ তখনি ধোয়া বের হতে থাকলো৷ আর সেই ধোয়া এক সময় বিশাল দৈত্যর আকার ধারণ করলো৷ কালো কুচকুচে দৈত্য বের হয়েই সে বললো<br />
<br />
<br />
<br />
: আমি মুক্তি পেয়েছি৷ এবার আমি তোমার ঘাড় মটকাবো৷<br />
<br />
<br />
<br />
ভয় পেলো না ছেলেটি৷ বুদ্ধি করে বললো<br />
<br />
<br />
<br />
: আমি তোমার কথা বিশ্বাস করি না৷ তুমি এত বড় কিন্তু এই ছোট্ট বোতলের মধ্যে ঢুকলে কি করে৷ আমাকে দেখাবে৷ দৈত্যটি আবার যেই ঐ বোতলের মধ্যে ঢুকে বসলো ঠিক তখনি ছেলেটি বোতলের ছিপি বন্ধ করে ফেললো৷ ..........তারপর কি হলো তখন?]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[ছায়াবৃক্ষের রাজকন্যা]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=232</link>
			<pubDate>Tue, 10 Jan 2017 08:48:06 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=232</guid>
			<description><![CDATA[অনেক দিন আগের কথা....<br />
<br />
<br />
<br />
এক ছিল রাজকন্যা। তার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল। সে চাইলেই প্রকৃতির যেকোনো জীবকে তার বশে আনতে পারতো। কিন্তু সে নিজেও জানতো না যে তার এত ক্ষমতা!এ কথা যেন রাজ্যের বাইরে না যেতে পারে,সেদিকে সবার সজাগ দৃষ্টি ছিল। আর তাই,তাকে রাজ্যের বাইরে যেতে দিত না। কিন্তু সে তাতে অসন্তুষ্ট ছিল।সে মনে মনে ভাবতো কি করে সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে রাজ্যের বাইরে যাওয়া যায়! তার রাজ্যের বাইরের জগতটাকে স্বচক্ষে দেখার ভীষন ইচ্ছা।<br />
<br />
<br />
<br />
একদিন সে শুনতে পেল,কদিন পরেই পূর্ণিমা।আর এ ও শুনতে পেল যে,এই রাতে তাকে যেন আরো চোখে-চোখে রাখা হয়।সে এসব শুনে আর নিজেকে বোঝাতে পারছিল না,কেন তার সাথে এমন হচ্ছে,কেবল কি সে রাজকন্যা বলে,নাকি অন্য কোনো কারন আছে এর পেছনে? সে জানতো পূর্ণিমা রাতের সৌন্দর্যের কথা। তাই তা দেখার আগ্রহ সে হারাতেই পারছিল না।পূর্ণিমার আগের দিন পর্যন্ত অনেক ভেবে সে ঠিক করলো,এই রাতেই সে রাজ্যের বাইরে যাবে এবং অবশ্যই সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে,আবার ফিরেও আসবে কেউ জানার আগেই।<br />
<br />
<br />
<br />
অবশেষে সেই পূর্ণিমা রাত;রাজকন্যা তার পূর্ব প্রস্তুতিমূলক সবার চোখে ধূলা দিয়ে সফলভাবেই রাজ্য থেকে বের হল। কিন্তু সে রাজ্যের বাইরের কিছুই চিনতো না।তাই সে অনেক ভেবে মনে করার চেষ্টা করলো,রাজ্যের দক্ষিণ দিকে বিস্তৃত এক সমুদ্র আছে,যেটা সে রাজ্যের অঙ্কিতচিত্রে দেখেছিল। আর সেখানে ফিবছর এ সময়েই ভিনদেশীয়দের বাণিজ্য বসে।<br />
<br />
<br />
<br />
অতঃপর,সে হাঁটতে-হাঁটতে রাজ্যের দক্ষিণে সেই সমুদ্রের দিকে গেল এবং দেখলো সেখানে সত্যিই বাণিজ্য বসেছে। সৃষ্টিকর্তা তাকে এমন জ্ঞান ই দান করেছেন,সে আসার আগেই তার রাজকন্যার সাজটা পাল্টে এক সাধারন মেয়ের সাজে নিজেকে সাজিয়ে নিয়েছিল।ফলে এ ভরা জনতার মাঝে কেউ তাকে চিনতেই পারেনি! সে অনেক দোকান ঘুরে দেখলো এবং কিছু খাবার কিনলো।যেতে-যেতে বাণিজ্যের শেষ প্রান্তে পৌঁছলো,দেখতে পেল ঐ দূর সমুদ্রে একটা বিশাল থালা আকৃতির কি যেন বেশ আলো ছড়াচ্ছে।তার আর বুঝতে দেরী হল না যে,সেটাই পূর্ণিমার চাঁদ! তার খুব ইচ্ছে হল,সেই চাঁদটা আরো কাছ থেকে দেখার।সে দেখলো পারে অনেক বাণিজ্যিক জাহাজ আর ছোট-ছোট ডিঙি বাঁধা। সাহস করে সে একটা ছোট ডিঙিতে চড়ে বসলো। কিন্তু সে জানেনা কি করে এটা ঐ চাঁদের কাছে যাবে! অনেক্ষন পর খেয়াল করলো,সে পার ছেড়ে অনেকটা দূরে চলে এসেছে।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[অনেক দিন আগের কথা....<br />
<br />
<br />
<br />
এক ছিল রাজকন্যা। তার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল। সে চাইলেই প্রকৃতির যেকোনো জীবকে তার বশে আনতে পারতো। কিন্তু সে নিজেও জানতো না যে তার এত ক্ষমতা!এ কথা যেন রাজ্যের বাইরে না যেতে পারে,সেদিকে সবার সজাগ দৃষ্টি ছিল। আর তাই,তাকে রাজ্যের বাইরে যেতে দিত না। কিন্তু সে তাতে অসন্তুষ্ট ছিল।সে মনে মনে ভাবতো কি করে সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে রাজ্যের বাইরে যাওয়া যায়! তার রাজ্যের বাইরের জগতটাকে স্বচক্ষে দেখার ভীষন ইচ্ছা।<br />
<br />
<br />
<br />
একদিন সে শুনতে পেল,কদিন পরেই পূর্ণিমা।আর এ ও শুনতে পেল যে,এই রাতে তাকে যেন আরো চোখে-চোখে রাখা হয়।সে এসব শুনে আর নিজেকে বোঝাতে পারছিল না,কেন তার সাথে এমন হচ্ছে,কেবল কি সে রাজকন্যা বলে,নাকি অন্য কোনো কারন আছে এর পেছনে? সে জানতো পূর্ণিমা রাতের সৌন্দর্যের কথা। তাই তা দেখার আগ্রহ সে হারাতেই পারছিল না।পূর্ণিমার আগের দিন পর্যন্ত অনেক ভেবে সে ঠিক করলো,এই রাতেই সে রাজ্যের বাইরে যাবে এবং অবশ্যই সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে,আবার ফিরেও আসবে কেউ জানার আগেই।<br />
<br />
<br />
<br />
অবশেষে সেই পূর্ণিমা রাত;রাজকন্যা তার পূর্ব প্রস্তুতিমূলক সবার চোখে ধূলা দিয়ে সফলভাবেই রাজ্য থেকে বের হল। কিন্তু সে রাজ্যের বাইরের কিছুই চিনতো না।তাই সে অনেক ভেবে মনে করার চেষ্টা করলো,রাজ্যের দক্ষিণ দিকে বিস্তৃত এক সমুদ্র আছে,যেটা সে রাজ্যের অঙ্কিতচিত্রে দেখেছিল। আর সেখানে ফিবছর এ সময়েই ভিনদেশীয়দের বাণিজ্য বসে।<br />
<br />
<br />
<br />
অতঃপর,সে হাঁটতে-হাঁটতে রাজ্যের দক্ষিণে সেই সমুদ্রের দিকে গেল এবং দেখলো সেখানে সত্যিই বাণিজ্য বসেছে। সৃষ্টিকর্তা তাকে এমন জ্ঞান ই দান করেছেন,সে আসার আগেই তার রাজকন্যার সাজটা পাল্টে এক সাধারন মেয়ের সাজে নিজেকে সাজিয়ে নিয়েছিল।ফলে এ ভরা জনতার মাঝে কেউ তাকে চিনতেই পারেনি! সে অনেক দোকান ঘুরে দেখলো এবং কিছু খাবার কিনলো।যেতে-যেতে বাণিজ্যের শেষ প্রান্তে পৌঁছলো,দেখতে পেল ঐ দূর সমুদ্রে একটা বিশাল থালা আকৃতির কি যেন বেশ আলো ছড়াচ্ছে।তার আর বুঝতে দেরী হল না যে,সেটাই পূর্ণিমার চাঁদ! তার খুব ইচ্ছে হল,সেই চাঁদটা আরো কাছ থেকে দেখার।সে দেখলো পারে অনেক বাণিজ্যিক জাহাজ আর ছোট-ছোট ডিঙি বাঁধা। সাহস করে সে একটা ছোট ডিঙিতে চড়ে বসলো। কিন্তু সে জানেনা কি করে এটা ঐ চাঁদের কাছে যাবে! অনেক্ষন পর খেয়াল করলো,সে পার ছেড়ে অনেকটা দূরে চলে এসেছে।]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[লাল জুতা]]></title>
			<link>http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=231</link>
			<pubDate>Tue, 10 Jan 2017 08:47:47 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="http://forums.likebd.com/member.php?action=profile&uid=1">Hasan</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">http://forums.likebd.com/showthread.php?tid=231</guid>
			<description><![CDATA[ক্যারেন খুব গরিব একটি মেয়ে। তার জুতা নেই, সে খালি পায়ে হাঁটে। একদিন এক মহিলা তাকে রাস্তায় অসহায়ের মতো পড়ে থাকতে দেখে। ক্যারেনকে দেখে তার খুব মায়া হলো। তিনি ক্যারেনকে দত্তক নিয়ে নিলেন। তারপর তাকে সুন্দর একজোড়া লাল জুতা কিনে দিলেন।<br />
<br />
<br />
<br />
আরো একটু বড় হলে ক্যারেন তার প্রিয় লাল জুতাজোড়া পরে গির্জায় যেতে চায়।<br />
<br />
<br />
<br />
গির্জায় গিয়ে উপাসনার সময় ক্যারেন শুধু তার লাল জুতা নিয়েই ভাবে। উপাসনা শেষে পালক মহিলাটি তখন ক্যারেনকে ধমকের স্বরে বলেন যে, ক্যারেন একজন উঠতি বয়সী খ্রিস্টান, গির্জায় জুতা পরে যাওয়া তার ঠিক নয়।<br />
<br />
<br />
<br />
পরবর্তী রোববারেও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ক্যারেন তার লাল জুতা পরে নেয়। এবারো উপাসনাকালীন পুরো সময়টা ক্যারেন তাকে দেখতে কেমন লাগে শুধু সেসব নিয়েই ভাবে। তারপর গির্জা থেকে বের হয়ে আসার সময় তার জুতাগুলো যেন নিজেরাই নাচতে শুরু করে দিল ।<br />
<br />
<br />
<br />
ক্যারেন ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বাড়ি ফিরছিল। গাড়ির ভেতর ক্যারেন একজন বয়স্ক মহিলাকে খুব নির্দয়ভাবে লাথি মারলে গাড়োয়ান তার পা থেকে জুতাজোড়া খুলে ফেলে। বয়স্ক মহিলাটি অসুস্থ হয়ে যায়। তখন অসুস্থ মহিলাটির সেবা করা ক্যারেনেরই দায়িত্ব, কিন্তু সে তা না করে একটি বল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। একজন বয়স্ক রোগীর সেবা করার কথা ভুলে গিয়ে ক্যারেন আবার তার জুতাজোড়া পরে নাচতে চায়। ক্যারেন নাচতে শুরু করলে এবার যেন তার জুতাগুলো আপনাআপনি জীবন্ত হয়ে ওঠে। তারা নাচতে নাচতে ক্যারেনকে একটি অন্ধকার গলিতে নিয়ে যায়। ভয়ে সে তার পা থেকে জুতা খুলে ফেলার চেষ্টা করে কিন্তু জুতাগুলো তার পায়ের সঙ্গে পুরোপুরি আটকে যায়। সে মাঠে ও ঝোপে, বৃষ্টিতে ও রোদে বহুদিন ধরে নাচতে থাকে।<br />
<br />
<br />
<br />
সমাধিক্ষেত্রের ভেতরে নাচার সময় সে একটি পরী দেখতে পায়। পরীটি তাকে বলে যে, মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তাকে নেচে যেতে হবে এবং সে নাচতে থাকবে যখন তার শরীরে শুধু হাড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না তখনো।<br />
<br />
<br />
<br />
ক্যারেন তার পায়ের চামড়া বিদীর্ণ হয়ে রক্তাক্ত না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়, মরুভূমি ও কাটার ঝোপঝাড়ে অবিরাম নেচে যায়।<br />
<br />
<br />
<br />
সে অবশেষে একজন জল্লাদের কাছে এসে তার পা কেটে দেয়ার অনুরোধ জানায়, যেন সে এই নির্মম যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পায়।<br />
<br />
<br />
<br />
জল্লাদ ক্যারেনের ইচ্ছা অনুয়ায়ী কাজটি করল। কিন্তু তার শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন পায়ের সঙ্গে জুতাগুলো তখনো নেচে চলছিল।<br />
<br />
<br />
<br />
ক্যারেন জল্লাদের হাতে চুমু দেয়, যে হাত দিয়ে লোকটি ক্যারেনের পা কেটে দিয়েছিল। লোকটি তাকে কাঠের তৈরি ছোট পা ও একজোড়া ক্রাচ বানিয়ে দিল।<br />
<br />
<br />
<br />
ক্যারেন এখন তার ভুলের অনুতাপ করতে গির্জায় যেতে চায়। কিন্তু যখনই সে গির্জায় যায়, তখনই তার লাল জুতাজোড়া এসে হাজির হয় তার সামনে। তারপর গির্জার দরজার সামনে নাচতে থাকে তারা, যাতে ক্যারেন ভেতরে ঢুকতে না পারে।<br />
<br />
<br />
<br />
ক্যারেন ঘরে এসে কান্নায় চোখ ভাসায়। অবশেষে একদিন পরীটি আবার তার কাছে আসে। সে ক্যারেনের কান্না ও ভুলের অনুতাপ দেখে তার ছোট কক্ষটিকে একটি গির্জা বানিয়ে দেয়, যাতে সে প্রার্থনা করতে পারে। ক্যারেন এতটাই খুশি হয় যে একসময় তার হৃদয় গলে যায়। তারপর সে মারা যায়।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[ক্যারেন খুব গরিব একটি মেয়ে। তার জুতা নেই, সে খালি পায়ে হাঁটে। একদিন এক মহিলা তাকে রাস্তায় অসহায়ের মতো পড়ে থাকতে দেখে। ক্যারেনকে দেখে তার খুব মায়া হলো। তিনি ক্যারেনকে দত্তক নিয়ে নিলেন। তারপর তাকে সুন্দর একজোড়া লাল জুতা কিনে দিলেন।<br />
<br />
<br />
<br />
আরো একটু বড় হলে ক্যারেন তার প্রিয় লাল জুতাজোড়া পরে গির্জায় যেতে চায়।<br />
<br />
<br />
<br />
গির্জায় গিয়ে উপাসনার সময় ক্যারেন শুধু তার লাল জুতা নিয়েই ভাবে। উপাসনা শেষে পালক মহিলাটি তখন ক্যারেনকে ধমকের স্বরে বলেন যে, ক্যারেন একজন উঠতি বয়সী খ্রিস্টান, গির্জায় জুতা পরে যাওয়া তার ঠিক নয়।<br />
<br />
<br />
<br />
পরবর্তী রোববারেও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ক্যারেন তার লাল জুতা পরে নেয়। এবারো উপাসনাকালীন পুরো সময়টা ক্যারেন তাকে দেখতে কেমন লাগে শুধু সেসব নিয়েই ভাবে। তারপর গির্জা থেকে বের হয়ে আসার সময় তার জুতাগুলো যেন নিজেরাই নাচতে শুরু করে দিল ।<br />
<br />
<br />
<br />
ক্যারেন ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বাড়ি ফিরছিল। গাড়ির ভেতর ক্যারেন একজন বয়স্ক মহিলাকে খুব নির্দয়ভাবে লাথি মারলে গাড়োয়ান তার পা থেকে জুতাজোড়া খুলে ফেলে। বয়স্ক মহিলাটি অসুস্থ হয়ে যায়। তখন অসুস্থ মহিলাটির সেবা করা ক্যারেনেরই দায়িত্ব, কিন্তু সে তা না করে একটি বল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। একজন বয়স্ক রোগীর সেবা করার কথা ভুলে গিয়ে ক্যারেন আবার তার জুতাজোড়া পরে নাচতে চায়। ক্যারেন নাচতে শুরু করলে এবার যেন তার জুতাগুলো আপনাআপনি জীবন্ত হয়ে ওঠে। তারা নাচতে নাচতে ক্যারেনকে একটি অন্ধকার গলিতে নিয়ে যায়। ভয়ে সে তার পা থেকে জুতা খুলে ফেলার চেষ্টা করে কিন্তু জুতাগুলো তার পায়ের সঙ্গে পুরোপুরি আটকে যায়। সে মাঠে ও ঝোপে, বৃষ্টিতে ও রোদে বহুদিন ধরে নাচতে থাকে।<br />
<br />
<br />
<br />
সমাধিক্ষেত্রের ভেতরে নাচার সময় সে একটি পরী দেখতে পায়। পরীটি তাকে বলে যে, মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তাকে নেচে যেতে হবে এবং সে নাচতে থাকবে যখন তার শরীরে শুধু হাড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না তখনো।<br />
<br />
<br />
<br />
ক্যারেন তার পায়ের চামড়া বিদীর্ণ হয়ে রক্তাক্ত না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়, মরুভূমি ও কাটার ঝোপঝাড়ে অবিরাম নেচে যায়।<br />
<br />
<br />
<br />
সে অবশেষে একজন জল্লাদের কাছে এসে তার পা কেটে দেয়ার অনুরোধ জানায়, যেন সে এই নির্মম যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পায়।<br />
<br />
<br />
<br />
জল্লাদ ক্যারেনের ইচ্ছা অনুয়ায়ী কাজটি করল। কিন্তু তার শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন পায়ের সঙ্গে জুতাগুলো তখনো নেচে চলছিল।<br />
<br />
<br />
<br />
ক্যারেন জল্লাদের হাতে চুমু দেয়, যে হাত দিয়ে লোকটি ক্যারেনের পা কেটে দিয়েছিল। লোকটি তাকে কাঠের তৈরি ছোট পা ও একজোড়া ক্রাচ বানিয়ে দিল।<br />
<br />
<br />
<br />
ক্যারেন এখন তার ভুলের অনুতাপ করতে গির্জায় যেতে চায়। কিন্তু যখনই সে গির্জায় যায়, তখনই তার লাল জুতাজোড়া এসে হাজির হয় তার সামনে। তারপর গির্জার দরজার সামনে নাচতে থাকে তারা, যাতে ক্যারেন ভেতরে ঢুকতে না পারে।<br />
<br />
<br />
<br />
ক্যারেন ঘরে এসে কান্নায় চোখ ভাসায়। অবশেষে একদিন পরীটি আবার তার কাছে আসে। সে ক্যারেনের কান্না ও ভুলের অনুতাপ দেখে তার ছোট কক্ষটিকে একটি গির্জা বানিয়ে দেয়, যাতে সে প্রার্থনা করতে পারে। ক্যারেন এতটাই খুশি হয় যে একসময় তার হৃদয় গলে যায়। তারপর সে মারা যায়।]]></content:encoded>
		</item>
	</channel>
</rss>